রাত ৪:৩৮, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / রাজধানীর বাজারে সবজিসহ নিত্য পণ্যের দাম অস্থিতিশীল
রাজধানীর বাজারে সবজিসহ নিত্য পণ্যের দাম অস্থিতিশীল
অক্টোবর ১৩, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। অধিকাংশ সবজিরই কেজিপ্রতি দাম ৬০ টাকার ওপরে। গতকাল শুক্রবার  কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা ও মূলা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট (২০০/২৫০ গ্রাম) ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ টাকা এবং লাল শাক ও ডাটা শাকের আঁটি ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ৫০ টাকা ও ১০০ গ্রাম ধনেপাতা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আবুল খায়ের বলেন, ‘সব কিছুর দাম বেশি। এতো দাম দিয়ে কি কেনা যায়! পেঁপের দামটাই একটু কম আছে। এজন্য দুই কেজি পেঁপে কিনে নিয়েছি’। সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ মুহসীন বলেন, ‘আমরা যে দামে কিনি, সে অনুসারে বিক্রি করি। আড়তে সবজির পাইকারি দাম বেশি’। এক-দেড় মাসের মধ্যে শীতকালীন শাক-সবজি আসতে শুরু করলে দাম কমে যাবে বলে আশা করেন এ বিক্রেতা। চরা বাজারে মরিচের সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে এবার বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম।

পাইকারি ও খুচরা বাজারে সমানভাবে দাম বেড়েছে এ দুই পণ্যের। কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১৫-২০ টাকা ও আদায় বেড়েছে ২০ টাকা। তরকারির নিত্যসঙ্গী এ দু’টি পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচ পড়ছে ক্রেতার। ডিমের দাম হালিতে তিন টাকা ও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে সামান্য বেড়েছে। তবে চাল, ডাল ও রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।  বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। তবে সেজন্য কয়েকদিন অপো করতেই হবে।

মিরপুর-৬ নম্বরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ কিনতেই মুখ বেজার হচ্ছে ক্রেতাদের।   এ বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, ভারতের পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি আদা ১৬০ টাকা ও ভারতের আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও ভারতের পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে।

পাইকারিতে দাম বাড়ায় প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেওএক সপ্তাহ আগে দেশি আদার কেজি ১৪০ টাকা ও আমদানি করা ভারতের আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়।    ক্রেতা মিরপুরের আনোয়ার হোসেন বলেন, মরিচের দাম বাড়ছে। এখন যদি পেঁয়াজেরও দাম বাড়ে, তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হবে। পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, দেশি রসুনের কেজি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 ভারতের বড় রসুনের কেজি ১৪০ টাকা। এ দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে।অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি মসুর ডাল ১০০ টাকা, মোটা চাল ৫০ টাকা ও চিকন চাল ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে। মুরগি বিক্রেতা স্বপন জানান, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ বধানে বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম।

ছবি: ইসমাইল হোসেন  টাকা, দেশি কক ৩৫০-৪০০ টাকা ও পাকিস্তানি কক ২০০ টাকা। ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে প্রতি সপ্তাহেই এ দাম হেরফের হয়ে থাকে বলেও জানান স্বপন। ব্রয়লার মুরগির সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে ডিমের দামও। ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন জানান, ডিমের হালি ২৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  গরুর মাংস ৪৯০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা ও কাতল মাছ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এ বাজারে।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top