ভোর ৫:৩২, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বিপন্ন দেশীয় মাছ
বিপন্ন দেশীয় মাছ
মার্চ ১৬, ২০১৭

মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত ধ্বংস, কৃষি জমিতে যথেচ্ছ সার, কীটনাশক ব্যবহার, শিল্পায়ন ও মানুষের অসচেতনতা এবং দায়িত্বহীনতার জন্য পানি দূষণ, জনসংখ্যার বাড়তি চাহিদার মুখে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা নানাবিধ কারণে সুস্বাদু দেশি মাছ প্রায় দুর্লভ হয়ে উঠছে। দেশের খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর ডোবা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। প্রাকৃতিক উৎসে জন্মানো কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, চাপিলা, টাকি, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, রিটা, পাঙ্গাস, বোয়াল, খৈলসার মতো সুস্বাদু মাছগুলো আর দেখা যায় না বললেই চলে।

 বিশেষজ্ঞরা বলেন দেশীয় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে থেকে ২০-২২ বছরের ব্যবধানে ৬৫ প্রজাতির মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দেশীয় আরও শতাধিক প্রজাতির মাছের অস্তিত্বও এখন বিপন্ন প্রায়। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, বিদেশি মাত্র ২৪ প্রজাতির হাইব্রিড মাছ চাষের ব্যাপকতায় দেশি আড়াই শতাধিক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে। কৃষি জমিতে অবাধ কীটনাশক ও মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে তার ধোয়ানি পড়ছে নদী-নালা, খাল-বিলে। ফলে বিল-ঝিলের স্বচ্ছ পানিও মুহূর্তে বিষাক্ত হয়ে পড়ে, পরিণত হয় তরল ময়লা বর্জ্যরে আধার।

 সেসব বিষাক্ত পানির কারণে দেশি মাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। মৎস্যজীবীরা বলছেন, অধিক মুনাফার আশায় হাইব্রিড মাছের চাষ করতে গিয়ে জলাশয়গুলো থেকে দেশি মাছের বিলুপ্তি ঘটেছে। খাল-বিল-নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণেও দেশি মাছের আকাল শুরু হয়েছে। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। দেশের নদী, খাল-বিলের পানিকে দুষণমুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। জমিতে রাসায়নিক সারের বদলে অধিক পরিমাণে পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top