রাত ৪:৩৯, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ Top News / বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে তরুণ নেতারা
সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি অনেকের
বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে তরুণ নেতারা
সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭

রাজকুমার নন্দী : আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ধরে নিয়েই দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ নেতারা এখন মাঠে রয়েছেন। দলের টিকিট পাওয়ার আশায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন তারা। উদীয়মান এসব তরুণ নেতারা এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ঢাকা ও লন্ডনে সমানতালে যোগাযোগ রাখছেন তারা। জানা গেছে, বিএনপিও আগামী নির্বাচনে তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার কথা ভাবছে। দলের হাইকমান্ডের এমন মনোভাব বুঝে সংসদ নির্বাচন করার জন্য সারাদেশে প্রায় শ’খানেক তরুণ নেতা মাঠে নেমেছেন, যাদের অধিকাংশই বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর বাইরে আছেন বেশকিছু তরুণ ব্যবসায়ী নেতাও। এদের কারো কারো দাবি, দলের হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে ইতোমধ্যে তারা এলাকায় কাজ শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কথিত সংস্কারপন্থী, শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের অনেকে এবার মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ নেতাদের আশা, সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা যেখানে মনোনয়নবঞ্চিত হবেন, সেসব আসনে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের অনেকেই মনোনয়ন পাবেন।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে আসছে বিএনপি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫ জনের মতো তরুণ নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এদের মধ্যে বেশিরভাগই এমপি হন, মন্ত্রীও হন কয়েকজন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। দলের চরম দুর্দিনেও নবম সংসদ নির্বাচনে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবুল খায়ের ভূঁইয়ার মতো তরুণ নেতারা এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আগামী নির্বাচনেও তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার কথা ভাবছে বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমরা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে যেতে চাই। বিএনপি যদি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনে যে প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে, তাকেই ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। সেই প্রার্থী দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তরুণ নেতা কিংবা প্রবাসী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী নেতাও হতে পারেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে তরুণ এবং ক্লিন ইমেজের নেতাদের মধ্যে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাংবাদিক মামুন চৌধুরী স্ট্যালিন নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ওই আসনে বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম মোতাহার হোসেন চৌধুরীর ছেলে। জানতে চাইলে মামুন স্ট্যালিন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হই। দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। আমার বাবা মরহুম মোতাহার হোসেন চৌধুরী নওগাঁ-৬ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। আমিও বাবার দেখানো পথ অনুযায়ী সবসময় এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চাই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী সাধ্যমতো বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছি, সবসময় তাদের খোঁজ-খবর নিয়েছি। আশা করি, রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে এবং এলাকার জনগণের চিন্তা-চেতনাকে বিবেচনায় নিয়ে দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবেন। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার যৌথ ব্যবসায়ী বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান। তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং ঈদে অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

এদিকে, বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল খুলনা-৪, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক ঢাকা-১৬, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল ফরিদপুর-২, আবদুস সালাম আজাদ মুন্সিগঞ্জ-২, সেলিমুজ্জামান সেলিম গোপালগঞ্জ-১, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১, মুনির হোসেন পটুয়াখালী-২, সহ-সম্পাদক সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী চট্টগ্রাম-২, আমিরুজ্জামান খান শিমুল ঝিনাইদহ-৩, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন মাদারীপুর-৩, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম-সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি ঢাকা-১০, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবদুল লতিফ জনি ফেনি-৩, হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩, শেখ মোহাম্মদ শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, আবদুল মতিন নওগাঁ-৪, আবু বকর সিদ্দিক রাজশাহী-৫, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধা-৪, ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়-২, রমেশ দত্ত রাজশাহী-৬ আসন থেকে মনোনয়নের প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মধ্যে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনা-৩, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ঢাকা-১২, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-২, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু কুমিল্লা-৮, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান ঢাকা-১৫, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪, সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল বরিশাল-১, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুর-৪, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান যশোর-৬ (কেশবপুর), সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল নরসিংদী-৪, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী লক্ষ্মীপুর-১, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ঝিনাইদহ-৪, সাবেক দফতর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ময়মনসিংহ-১০, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান বরিশাল-৪, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান নরসিংদী-৩, সহ-সভাপতি তারেক-উজ্জামান তারেক ঝিনাইদহ-৩, যুগ্ম-সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য মাদারীপুর-২, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ ইমরান নেত্রকোনা-৫, সাবেক দফতর সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক চাঁদপুর-৫, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ঢাকা-৯, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ঢাকা-২০ এবং তাঁতী দলের সহ-সভাপতি সাবেক ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু চাঁদপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করার টার্গেটে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এছাড়া নেত্রকোনা-২ থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক, মাদারীপুর-১ থেকে শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম গাইবান্ধা-৩, দিনাজপুর-১ থেকে কাহারোল উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান সুমন, বাগেরহাট-৪ থেকে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নওগাঁ-৩ থেকে বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল এবং বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) থেকে জেলা বিএনপির সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি মোশারফ হোসেন মনোনয়নের প্রত্যাশায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জানতে চাইলে মোশারফ হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সামনে নির্বাচন। সবসময় এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি, তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বন্যায় দূর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছি, ঈদে এলাকার অসহায় মানুষদের সাধ্যমতো সহায়তা করেছি। আশা করি, দল আমার কাজের মূল্যায়ন করে কাহালু-নন্দীগ্রাম আসন থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবে।

 

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top