রাত ৪:৩৫, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বাড়ছে খেলাপি ঋণ
বাড়ছে খেলাপি ঋণ
মার্চ ৯, ২০১৭

জনগণের আমানত গ্রহণ করলেও তার সুরক্ষা দিতে পারছে না ব্যাংক। ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করায় ব্যাংকগুলোতে প্রতিনিয়ত খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমানত ও সুদের হারে। দুর্বল হয়ে পড়ছে ব্যাংকগুলোর স্বাস্থ্য। ২০১৬ সাল শেষে দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।

 অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। এটা বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রের খবর। এর বাইরে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে এসব মন্দ ঋণ আর্থিক প্রতিবেদন থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঋণ হিসাবে এলে খেলাপি ঋণ হতো ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বছরের শেষে আর্থিক হিসাব ভালো রাখতে ব্যাংকগুলো ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে। মূলত শেয়ারধারীদের বেশি হারে লভ্যাংশ দিতেই খেলাপি কমানো হয়েছে। এ কারণে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পায়নি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলে থাকেন আন্তর্জাতিক মান দন্ডের আলোকে নতুন ঋণ শ্রেণি বিন্যাস ও প্রভিশনিং নীতিমালার কারণে সম্প্রতি খেলাপি ঋণ আদায় করার ব্যাপারেও আন্তর্জাতিক নিয়ম কানুন মেনে চলায় ব্যাংকিং খাতকে মনোযোগী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে সরকার এবং বিশেষভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায় বেশি। কারণ খেলাপি ঋণের সিংহভাগ রয়েছে সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকে এবং এগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সুবিদিত।

 ব্যাংকগুলো ভালোভাবে চললে এর আওতা সম্প্রসারিত হবে এবং তাতে লাভবান হবে অর্থনীতি। ব্যাংকের দিক থেকে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপুর্ণ খেলাপি ঋণের আকার কিন্তু এ ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্রই তুলে ধরে। একদল লোক ঋণ নিয়ে সুদ-আসল সময়মতো পরিশোধ করছে এবং আরেক দল তা করছে না এটা আসলেই মন্দ প্রথা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top