সকাল ৯:২২, শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ Top News / বাজারে দাম বেশি সত্ত্বেও খাদ্য বিভাগের আশা, আমন সংগ্রহ অভিযান সফল হবে
বাজারে দাম বেশি সত্ত্বেও খাদ্য বিভাগের আশা, আমন সংগ্রহ অভিযান সফল হবে
ডিসেম্বর ৬, ২০১৭

বগুড়ায় এ বছর ৩২ হাজার ৩০৮ মে.টন আমন চাল সংগ্রহ করা হবে। এ বছর দফায় দফায় বন্যাসহ ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমন আবাদের ক্ষতি হলেও গতবারের তুলনায় এবার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। এদিকে মৌসুমের শুরুতেই হাট বাজারে আমন চালের দামের উর্ধমূখি হওয়ায় এই সংগ্রহ অভিযান সফল হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও খাদ্য বিভাগ আশা করছে এবারও তাদের আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।  

প্রকাশ থাকে যে সরকার এবার গতবারের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে এ বছর ৩৯ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য  থেকেই খাদ্য বিভাগের সঙ্গে মিলারদের চাল সরবরাহের চুক্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা চলবে। এ ছাড়া এই সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  

এবছর সরকার সারা দেশ থেকে ৩ লাখ মে.টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে বগুড়া থেকে সংগ্রহ করা হবে ৩২ হাজার ৩০৮ মে.টন। গতবছর প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৬৯৬ মে.টন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অর্জিত হওয়ায় তখন আরও চাল সংগ্রহের জন্য মিলারদের বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হলে তারা আরও ২২ হাজার ৫৭২ মে.টন চাল সরবরাহ করে। ফলে গত বছর বগুড়া থেকে মোট ৪৪ হাজার ৬৩২ মে.টন চাল সংগৃহীত হয়।
এদিকে উদ্বৃত্ত এলাকা হিসেবে বগুড়ায় প্রতিবছরই আমন আবাদের সাথে সাথে সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়তে থাকে। এ কারণে বগুড়া জেলা এ বছর ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে আমন চাষ হয়। কিন্তু দু’দফা বন্যাসহ দীর্ঘস্থায়ী বর্ষণের কারণে আমানের আবাদ দারুণভাবে মার খায়। এ কারণে শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ হেক্টর জমির আমন ফসল রক্ষা পায়। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ৮০শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এতে গড় ফলনে দেখা যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর কম জমিতে আমন চাষ হলেও উৎপাদনের  প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

এদিকে জাতীয়ভাবে ৩ ডিসেম্বর থেকে আমন সংগ্রহ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়া হলেও বগুড়ায় আজ থেকে এই অভিযান শুরু হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী সকাল ৯টায় শহরের চক সুত্রাপুরস্থ খাদ্য গুদামে চলতি মৌসুমের সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে  সকালে তার সভাপতিত্বে জেলা সংগ্রহ কমিটির (খাদ্য) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগ্রহ অভিযান শুরু ও তা সফল করার জন্য বেশ কিছু কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রকাশ থাকে যে, যেসব মিলার গত বোরা মৌসুমে সরকারকে চাল সরবরাহ করেনি তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকার তাদের কাছ থেকে দুই সংগ্রহ মৌসুমে চাল নেবেন। এই সিদ্ধান্তের কারণে বগুড়ার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মিলার যারা, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হননি বা চাল সরবরাহ করেননি, তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য বগুড়ার এক হাজার ৯২৭জন মিলারের মধ্যে ৭০৭জন মিলার চুক্তিবদ্ধ হয়ে সরবারকে বোরো চাল সরবরাহ করেছেন। তাই বাকি ১ হাজার ২২০ ডিলার কালো তালিকাভুক্ত হওয়ায় তারা এবার আমন সংগ্রহ অভিযানে অংশ নিতে পাচ্ছেন না।

এদিকে আমন চাল উঠতে না উঠতেই বাজারে এর তেজিভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত বছর যেখানে সংগ্রহ অভিযান শুরুর প্রাক্কালে হাট বাজার গলোতে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হয়েছে। সেখানে এবার এখন সাড়ে ৯শ’ থেকে ১২ শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিনই এর বাড়ছে। এ অবস্থায় তাই চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি এটিএম আমিনুল ইসলাম সরাসরি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করে বলেছেন বাজারে যেভাবে ধান-চালের দাম বাড়ছে, তাতে ৩৯ টাকা কেজি দরে চাল দিলেও মিলারদের লোকসানের আশংকা থেকেই যাচ্ছে। তিনি বলেন, খাদ্য পরিধারণ কমিটির সভার আগে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবারের চালের সংগ্রহমূল্য ৪১ টাকা ৮৬ পয়সা করার প্রস্তাব করেছিলেন। যদিও ওই সমিতির সভাপতি লায়েক উদ্দিন খাদ্য পরিধারণ কমিটির সভার একদিন আগে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চালের সংগ্রহ মূল্য ন্যূনতম ৩৯ টাকা করা উচিত বলে মনে করেছিলেন।

এদিকে চালকল মালিক সমিতির নেতা আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, আজ বগুড়ায় এই সংগ্রহ অভিযান ব্যাপারে সকল উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সভা হবে। সেখানেই আদ্য ভিাগের সঙ্গে চুক্তিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

অপরদিকে এরপরও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাঈন উদ্দিন বলেছেন যেসব মিলার বোরো সংগ্রহ অভিযানে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন, তারা আমন সংগ্রহ অভিযানেও সহযোগিতা করবেন। বগুড়া সদর খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ ওমর ফারুক বলেন সংগ্রহ অভিযানের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বিপুল পিরমাণে চাল আমদানি হচ্ছে। তিনি জানান, প্রায় ১৩ লাখ টন চাল আমদানির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও এমওইউ হয়েছে। ইতোমধ্যে তা আসতেও শুরু করেছে। তাছাড়া বেসরকারি উদ্যোগেও আমদানিকারকারা আমদানি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিও চলছে। খোলাবাজারে চাল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুরও কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারি চালের মজুদ আরও বাড়লে এবং সরকারের উল্লেখিত কর্মসূচি পুরোপুরি চালু হতে বাজারে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা আশা করছেন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top