সকাল ৮:১২, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী
বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী
অক্টোবর ১২, ২০১৭

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর এখনও নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতা চলছে। এ কারণে রাখাইন থেকে এখনও রোহিঙ্গারা দল বেঁধে আসছে। তবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ যুদ্ধের মতো আত্মহননের পথ বেছে নেবে না। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী। দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান চায়। গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ২৮টি দেশের কূটনীতিকদের সামনে রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরেছেন। এ ছাড়াও গত মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন মিয়ানমার সরকারের দেওয়া প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এড়ানোর কৌশল। প্রত্যাবাসনের নামে মিয়ানমার আসলে দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।

 রোহিঙ্গা সংকট এখন আর দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, এটি আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আমরাও মনে করি রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজ বিশ্ব সমাজের অভিন্ন দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে কোনো কোনো দেশ প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও তারাও চায় এ সমস্যার সমাধান হোক। সমস্যার সমাধানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন ঠেকাতে সে দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহবান জানিয়েছে।

 শুধু রোহিঙ্গা নয়, সে দেশের শতাধিক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিটিই জাতিগত নিপীড়নের শিকার। এটা বন্ধ করতে হলে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জরুরি। রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের নিজস্ব এবং একে বাঙালি ইস্যু বলে বর্মি শাসকরা নিজেদের দায় এড়াতে পারেন না। সভ্য দুনিয়ার কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ সংকট সমাধানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগিয়ে আসতে হবে। মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ ছাড়া এ সংকট সমাধান সম্ভব নয়।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top