ভোর ৫:৩০, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি দেশব্যাপী আনন্দ শোভাযাত্রা সবাইকে অংশ নিতে অনুরোধ
যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি দেশব্যাপী আনন্দ শোভাযাত্রা সবাইকে অংশ নিতে অনুরোধ
নভেম্বর ২৪, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করায় দেশব্যাপী আজ শনিবার আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সবাইকে অংশ নিতে সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে আজ বেলা ১২টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের পর শোভাযাত্রা শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকার বাইরে সব জেলা ও উপজেলায়ও আনন্দ শোভাযাত্রা ও সভা হবে। জাতির জনকের ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স¦ীকৃতিতে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই কর্মসূচিতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখো মানুষের     পদচারণায় জনসমুদ্রে রূপ নেবে বলে আশা করছে সরকার। সফল করতে ইতিমধ্যেই সরকারি-বেসরকারীভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা এসে মিলবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আনন্দ সমাবেশে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আনন্দ র‌্যালির উদ্যোগ নেবে।  
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গতকাল শুক্রবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি ও বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন। শফিউল আলম বলেন, শনিবার বেলা ১২টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শোভাযাত্রা শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি কলাবাগান-সায়েন্সল্যাব হয়ে শাহবাগ গেইট দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করবে। শোভাযাত্রায় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিশু-কিশোর, ক্রীড়া সংগঠক ও খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ, সাংস্কৃতিককর্মী ও সংগঠক, শিল্পকলা একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, এনজিও, স্কাউটস ও রোভার, পুলিশের সুসজ্জিত ঘোড়া, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুসজ্জিত বাদকদল, সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেবেন। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংগঠন নিজ নিজ উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দীতে মিলিত হবেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। শোভাযাত্রার পর সভায় যোগ দিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সবগুলো অর্থাৎ পাঁচটি গেইটই খোলা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আর্চওয়ে পার হয়ে সবাইকে উদ্যানে প্রবেশ করতে হবে। আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে প্রাণচাঞ্চল্যমুখর করা হবে। সবাই প্রায় একই সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে রওনা হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসবেন।

 ঢাকার বাইরে সব জেলা ও উপজেলায় একই ধরনের আনন্দ শোভাযাত্রা হবে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জেলা-উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু হবে। সুবিধাজনক সময়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করতে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শোভাযাত্রা সহকারে উপজেলা পর্যায়ে সবাই মিলিত হবেন। জেলা শহরে বিভিন্ন স্থান থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে এক জায়গায় মিলিত হয়ে অনুষ্ঠান হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সভায় বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, স্বাগত বক্তব্যের পর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ভাষণটি বাজানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লেজার শোর মাধ্যমে শেষ হবে আনন্দ শোভাযাত্রা পরবর্তী সভা। আনন্দ শোভাযাত্রা ও সভা আয়োজন নিয়ে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, তাদের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে, ভিডিও কনফারেন্স করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। আশা করছি জেলা ও উপজেলার অনুষ্ঠানগুলো আরও কালারফুল হবে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনেও সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করে একই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

 তিনি বলেন, জেলা, উপজেলাসহ ঢাকা মহানগরে কেন্দ্রীয়ভাবে যে প্রোগ্রাম হচ্ছে তাতে সবাইকে অংশগ্রহণ করার জন্য আমরা আম দাওয়াতের মত দাওয়াত দিচ্ছি, সবাই আসতে পারেন এখানে। অংশগ্রহণ করার জন্য সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। সরকারিভাবে কেন এই আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত কি না- এমন প্রশ্নে শফিউল বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যখন ঘোষণা করা হয়েছিল তখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান করেছি, একইভাবে এটা করা হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বিশাল বড় অর্জন, জাতির জন্য। দলমত নির্বিশেষে সবার জন্যই অর্জন। এখানো কোনো রাজনৈতিক বিষয় নেই, এটা বাংলাদেশের অর্জন। শোভাযাত্রা ও সভা আয়োজনে জননিরাপত্তা বিভাগ সব ধরনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। শনিবারের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রায় দেশের সব সরকারি চাকরিজীবীকে অংশ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। গত মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 সরকারী এ কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র সাঈদ খোকন বৃহস্পতিবার (ডিসিসি) সকল ওয়ার্ডের কাউন্সিল, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর ও কর্মকতা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করেন। বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে করপোরেশেনের সকল কাউন্সিলরকে শনিবারের আনন্দ শোভাযাত্রায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিতের নির্দেশনা দেয়া হয়। কাউন্সিলররা জানান, শনিবারের আনন্দ র‌্যালীতে প্রত্যেক কাউন্সিলরকে করপোরেশন থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদের ১৫ হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন শাহবাগসহ ঢাকা শহরের ৩/৪টি জনবহুল এলাকায় ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ডকুমেন্টরি প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া, দেশের প্রত্যেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে সরকার ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 এজন্য এসব জনপ্রতিনিধিদেরও নির্দিষ্ট অংকের বরাদ্দও দেয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের ৩৩নং ওয়ার্ড কমিশনার আবদুল আওয়াল জানান, মেয়র মহোদয়ের নির্দেশনা পেয়েছি, সেই মোতাবেক অন্যান্য কাউন্সিলরদের থেকে বেশি লোকজন নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত থাকবো। তবে টাকার বিষয়টি তিনি বলতে রাজী হননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দলীয়ভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে যোগদান বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই। কারন অনুষ্ঠানটির আওয়ামী লীগের নয়। তবে মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষ এই সমাবেশে উপস্থিত হবে। দলের নেতাকর্মীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে যোগ দিতে পারে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ মো. শাহে আলম মুরাদ বলেন, কর্মসূচিটি সরকারী হলেও মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উৎসাহ ও আনন্দের সাথে অংশ গ্রহণ করবে। তবে সমাবেশে ষড়যন্ত্রকারিরা যাতে কোনো নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হবে বলে জানান ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সাদেক খান।

একাত্তরের ৭ মার্চ যে ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেই ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত হয়েছে। ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতাকামী সাত কোটি মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top