সকাল ৯:০৯, শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অনুভব না করলে সুনাগরিক হওয়া যাবে না’
‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অনুভব না করলে সুনাগরিক হওয়া যাবে না’
নভেম্বর ১৮, ২০১৭

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। আমাদের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু আমাদের দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যে শুনেনি ও অনুভব করতে পারেনি সে কখনো দেশের সুনাগরিক হতে পারবে না। এ ভাষণ পৃর্থীবির শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ থেকে আমাদের স্বাধীনতা ঘোষণা এসেছে। আমি ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানাই, তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছে।  

দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিলো মহাকাব্য। ১৮ মিনিটের ভাষণে কোন তৎসম শব্দ ছিলো না। বঙ্গবন্ধু চলিত সহজ সরল ভাষায় পুরো বক্তব্য দিয়েছেন। আমি খুব কাছ থেকে  সেই বক্তব্য শুনেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটা নিয়ে কোনো আপস করা যাবে না। ষড়যন্ত্র চলছে, যেকোনো ভাবে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর যখন ৭ মার্চের ভাষণের সময়ের শুত্রুরা আজ নেই। কিন্তু এখন নতুন শুত্রু আছে, তাদের মোকাবেলা করতে হবে। কলম সৈনিককে কলম দিয়ে, শিল্পীকে গান দিয়ে, শুত্রুদের মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই ৫০ থেকে ৬০জন ছাত্র  আমার সামনে থাকে । সেখানে  শ্লোগান দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও দিতে পারি না। আজকে আমি সুযোগ পেয়েছি, তাই আমি শ্লোগান দিচ্ছি। আপনারাও  আমার সাথে শ্লোগান দেন। এসময় তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানটি দিলে উপস্থিত সবাই তার সাথে গলা মেলান।

জাফর ইকবাল বলেন, আজকে আমার জীবনটা ভরে গেলো, এ ঋণ শোধ করতে পারবো না। পৃথিবীতে খুব কম দেশেই আছে যেখানে দেশ ও একজন নেতা সমার্থক। আমরা সেই সৌভাগ্যবান জাতি, যেখানে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক। আমাদের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু আমাদের দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করতে হবে। না হলে কেউ সুনাগরিক হতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ শুনেনি ও অনুভব করতে পারেনি সেই কখনো দেশের সুনাগরিক হতে পারবে না। এ ভাষণ পৃর্থীবির শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।

শহীদজায়া শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ২০১২ সাল থেকে ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। ১৮ মিনিটের এ ভাষণ পড়াতে ৬ টি ক্লাস নিতে হয় আমাদের। এ ভাষণ বুকে ধারণ করলে কেউ আর বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলার সাহস করবে না। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য সেই দিন আমরা খুব কাছ থেকে শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল। এ ভাষণ পৃর্থীবির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ভাষণ। ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালীর স্বাধীনতা ঘোষণা হয়েছিল।

সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে ধন্যবাদ ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টরের হাতে স্মারক তুলে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সমাবেশে ধন্যবাদ স্মারকটি পড়ে শুনান। এর আগে নির্মলেন্দু গুণ-স্বাধীনতা- এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো এ কবিতাটি মঞ্চে পড়েন। শাহীন সামাদ তোরা সব জয়ের ধ্বনি ধর এ নজরুল সঙ্গীত আবৃত্তি করেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সব্যসাচী লেখক শামসুল হকের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা আমার পরিচয় কবিতাটি পাঠ করেন। কণ্ঠশিল্পী মমতাজ  বেগম অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা যতদিন রবে পদ্ম-যমুনা-গৌরী-মেঘনা বহমান ততদিন রবে কীর্তি তোমার, শেখ মজিবুর রহমান এই গান পরিবেশন করেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন রামেন্দ্র মজুমদার ও নজুহাত চৌধুরী। এর বাহিরে ইউনেস্কোর বাংলাদেশের কান্টি পরিচালক বিট্রটিস কালগুন বক্তব্য রাখেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top