রাত ১১:৪১, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / বখাটেপনার শিকার
বখাটেপনার শিকার
অক্টোবর ১২, ২০১৭

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বখাটেদের অত্যাচারে আত্মহননের পথ বেছে নিল আরও এক স্কুল ছাত্রী। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিলি খাতুন। এর আগে গত রোববার দুপুরে এরই পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা করে মোস্তফাপুর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের জিয়ানগর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী রাজিফা আকতার সাথী। ইভটিজিং এর নোংরা প্রবণতার শিকার, সাথী ও মিলি। স্কুলে যেতে বখাটেদের উৎপাত, পাড়া মহল্লায় হয়রানিসহ সম্প্রতি কিশোরীদের প্রতি যৌন ঘটনা অস্বাভাবিক বেড়েছে। বারবার পরিবারগুলো বিচারের দাবি করে আসলেও মিলছে না প্রতিকার যা অন্যায়কারীর শাস্তি।

 আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে- এসব ক্ষেত্রে তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয়, প্রভাবশালীরা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়। অন্যায়কারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার ফলে অপরাধের পাল্লা দিন দিন ভারী হয়। দীর্ঘদিন ধরে বখাটে ইয়াসিন জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া সাথীকে উত্ত্যক্ত করছিল। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করার পরও ক্ষান্ত হয়নি ওই বখাটে যুবক। সালিসও হয়েছিল। পরিবার প্রভাবশালী, তাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সালিসও বখাটেপনা থেকে ফেরাতে পারেনি।

 আত্মহত্যায় প্ররোচনাদের অভিযোগে ইয়াসিনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের ওপর বখাটের সহযোগী ও আত্মীয় স্বজন হামলা চালায়। বখাটেদের উৎপাতে প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক স্কুল ছাত্রী ও তরুণী আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এসব প্রতিকারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অতি প্রয়োজনীয়। দেশে নারী নির্যাতন আইনকে দ্রুত বিচার আইনের প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। দ্রুত অপরাধীকে চিহ্নিত করে বিচারাধীন করার জন্যই এটা করা। কিন্তু এসব অপরাধ বিচার প্রক্রিয়া পর্যন্ত আসতেই নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এসব বাধা দূর করার ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয়ে যতœবান হবেন।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top