ভোর ৫:৩৩, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / প্রস্তুতি না থাকায় অশোভন বলছে বিএনপি: কাদের
প্রস্তুতি না থাকায় অশোভন বলছে বিএনপি: কাদের
ডিসেম্বর ৫, ২০১৭

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র সদ্য প্রয়াত আনিসুল হকের শূন্যস্থান পূরণের নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের প্রস্তুতি না থাকায় বিএনপি নেতারা নানা ধরনের কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রয়াত আনিসুল হকের লাশ দাফন হতে না হতেই ঢাকা উত্তর সিটিতে নির্বাচনের কথা বলাকে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী ‘অশোভন’ আখ্যায়িত করার পরদিন  মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে তার বক্তব্যের এ প্রতিক্রিয়া দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্বাচন শুরু করে দেওয়ার জন্য উত্তর সিটি নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তোড়জোড় এখানে নেই। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কেউ অযোগ্য ঘোষণা হলে বা কেউ মারা গেলে সে অবস্থায় তার আসন শূন্য ঘোষণা করতে হয়। এটার একটা নিয়ম নীতি আছে। নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা করেছে; এখানে আওয়ামী লীগ বা সরকারতো কোনো প্রকার ইন্টারফেয়ারিং করছে না। এখানে সরকারের কিছু নেই। আর সরকারের এত তাড়াহুড়ো করারও দরকার নেই। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী চলবে। আমার মনে হয়, বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই, সে কারণে তারা একথা বলছে। যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ নভেম্বর মারা যাওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ দেশে আসার পর গত ২ ডিসেম্বর তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মেয়র পদে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটের উদ্যোগ দেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হওয়ার মধ্যে সোমবার তার পদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেটও প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেটের প্রক্রিয়া চলা মধ্যে সোমবার সকালে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এত তাড়াতাড়ি নির্বাচনের কথা বলাকে ‘অশোভন’ আখ্যা দেন। রিজভী বলেন, ‘উনাকে (প্রয়াত আনিসুল হক) কেবল সমাহিত করা হয়েছে। এটা আমি মনে করি যে, এই মুহূর্তে তার লাশ দাফনের সাথে সাথে নির্বাচন…, কে কি করবেন- এটা আমি খুব একটা শোভন মনে করছি না।’ এরপর মঙ্গলবার সকালে জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতালে ইডেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের অসুস্থ ছাত্রী আঁখি মনিকে দেখতে গিয়ে রিজভীর বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু একটা আদায় করা যায় কিনা- এটা দেখার জন্যই বিএনপি নানা কথা বলছে বলে ভাষ্য ক্ষমতাসীন দলের এই নেতার। তবে উত্তর সিটিতে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ‘উইনেবল ক্যান্ডিডেট দেবে’ বলে জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক। সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতি বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আসলে কখন যে কি বলে, এটা কেবল তারাই জানে। কেউ বলে যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা নির্বাচনে যাবে। আবার বেগম জিয়ার যদি সাজা হয় তবে নির্বাচনে যাবে না- এমন কথাও তাদের কোনো কোনো নেতা বলে থাকে। আমার প্রশ্ন, জনগণের প্রশ্ন- কোন কথাটা সঠিক? যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাবে, না বেগম জিয়ার সাজা হলে যাবে না।

সাজা হলে তো আদালত দিবে, আর এই মামলা তো ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকারের সময়। এই মামলা করার সাথে তো আমাদের কোন সম্পর্ক নেই, এই সরকারের কোন সম্পর্ক নেই। দুর্নীতির বিচারাধীন দুই মামলায় বারবার সময় নেওয়ার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন আদালতে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ এনে সেতুমন্ত্রী বলেন, ঠিক আছে এটা আদালত যদি তাকে সুযোগ দেয়, আমাদের কিছু বলার নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে যেরকম নির্বাচন হয়েছে তা আওয়ামী লীগও চায়নি মন্তব্য করে কাদের বলেন, আজকে এটা শুনতে হয় যে, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এত জন, এটাতো আমরা চাইনি।

যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, সেজন্য সেখানে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন কমিশন তাদেরকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে; এটা নিয়ম, আইন অনুযায়ী সঠিক। এটাতো আমরা ইচ্ছে করে করিনি। নির্বাচনের ট্রেন এবারও বিএনপির জন্য থেমে থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে আমাদের নেত্রী গণভবনে পর্যন্ত ডিনারে আমন্ত্রণ করেছিলেন, তিনি আসেন নি। তিনি হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলে দিয়েছেন, এটা তার দোষ। আর তিনি নির্বাচনে না এলে নির্বাচনের ট্রেন তো বন্ধ থাকবে না। গণতন্ত্রও থেমে থাকবে না। এতে গণতন্ত্রের কি দোষ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় স্থানীয় জনগণের থেকে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। এ কারণে স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েছে, প্রাকৃতিক ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার মন্তব্য করে তিনি বলেন,  প্রত্যাবাসনের বিষয়টা যতই বিলম্বিত হচ্ছে, স্থানীয় জনগণ ততই ধৈর্য্য হারা হচ্ছে। জনগণ আর ধৈর্য্য ধরতে পারছে না। তাদের ট্রলারেবল লেভেল অতিক্রম করে যাচ্ছে। সে কারণে আমরা বিকল্প কিছু কিছু ব্যবস্থা করে রাখছি। ইডেন কলেজের ছাত্রী আঁখি মনিকে দেখতে গিয়ে তার চিকিৎসার সকল দায় দায়িত্বও নেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top