সকাল ৬:০২, শুক্রবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / প্রধান বিচারপতির দায় নেবে না সংখ্যালঘু সম্প্রদায়: ঐক্য পরিষদ
প্রধান বিচারপতির দায় নেবে না সংখ্যালঘু সম্প্রদায়: ঐক্য পরিষদ
অক্টোবর ১২, ২০১৭

ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে সরকারের টানাপোড়নের ইস্যুকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক বিভেদ, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টিতে একটি পক্ষ ব্যাপকভাবে তৎপর বলে অভিযোগ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ‘সরকারের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল মহলবিশেষ’ সক্রিয় উল্লেখ করে তারা বলেছে, প্রধান বিচারপতি সংক্রান্ত কোন দায়ভার কোনভাবেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বহন করবে না।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত এসব জানান। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যা হচ্ছে বা রায় নিয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। প্রধান বিচারপতির কী হলো সেটা নিয়েও আমাদের কোন বক্তব্য নেই। কিন্তু প্রধান বিচারপতির দায়ভার এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কোনভাবেই বহন করতে পারে না। ‘প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতিই। তার ধর্মবিশ্বাস থাকতে পারে কিন্তু বিচারপতি হিসেবে তার একমাত্র পরিচয় তিনি প্রধান বিচারপতি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা আদিবাসী নন।

কিন্তু যখন তার ধর্মীয় পরিচয় সামনে রেখে প্রশ্ন তোলা হয়, তা সম্প্রদায় হিসেবে আমাদের আহত করে। এ পর্যন্ত অসংখ্য বিচারপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ হয়েছেন, কখনও এমনভাবে তাদের ধর্মীয় পরিচয় তুলে, সম্প্রদায়কে সামনে রেখে কটাক্ষ হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।’ প্রধান বিচারপতির ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তার সংখ্যালুঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন: পত্র পত্রিকার সংবাদে জানা গেছে, সাম্প্রতিককালে প্রধান বিচারপতির রায়কে পুঁজি করে সরকারের অভ্যন্তরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল মহলবিশেষ তার ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে নিয়ে এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, উন্নততর পদায়ন ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করার সর্বনাশা প্রক্রিয়া আগের মতই আবারও শুরু হয়েছে।

এর ফলে মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থাকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দারুণ হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতিতে পূর্বেকার মতোই আবারও বঞ্চনা-বৈষম্যের ধারাটি এগিয়ে আসছে কিনা তা ভেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় শঙ্কিত। পরিষদের অন্যতম সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক ড. নীল চন্দ্র ভৌমিক, কাজল দেবনাথ, সুব্রত চৌধুরী, জয়ন্ত সেন দিপ্ত, মিলন কান্তি দত্ত, সাংবাদিক মনোজ কান্তি রায়, সঞ্জীব দ্রং, সত্য রঞ্জন বাড়ৈ প্রমুখ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top