সকাল ৬:০১, শুক্রবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী / পাবনার অধিকাংশ চাতাল বন্ধ ফায়দা লুটছে অসাধু মজুতদার
পাবনার অধিকাংশ চাতাল বন্ধ ফায়দা লুটছে অসাধু মজুতদার
অক্টোবর ১২, ২০১৭

পাবনা প্রতিনিধি : ধান সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সংকটে পড়েছে পাবনার চালকলগুলোতে চাল উৎপাদন। একদিকে বেড়েছে চালের দাম, কমেছে বেচাকেনা। অপরদিকে বাজারের অস্থিরতায় বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ চাতালকল। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে ভোক্তা সাধারণের ওপর। চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ পড়েছে মহাবিপাকে। আর ফায়দা লুটছে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি সংশ্লিষ্টদের।

চাল নিয়ে কথা চালাচালিতে যখন সারাদেশ সরগরম, ঠিক সে সময়ে অনেকটাই নিস্তব্ধ উত্তরের জেলা পাবনার ঈশ^রদী উপজেলার জয়নগর চালের মোকাম। মোটা চাল সরবরাহকারী দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মোকাম এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। দফায় দফায় চালের মূল্য বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে এ সট। গত এক মাসে পাবনার মোকামগুলোতে প্রকারভেদে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা। নজিরবিহীন এ মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নি¤œআয়ের মানুষ। জয়নগরে কথা হলো কয়েকজন রিক্সাচালক ও দিনমজুরের সাথে। আলাপকালে তারা বললেন, রিক্সা চালিয়ে কামলা খাইটে যে কয় টেকা পাই তাতে চাল কিনতিই টেকা শেষ হয়া যায়। এবা কইরে কয়দিন চলবো। সরকার এক টেকা দাম বাড়ালি, মিল মালিক বা ব্যবসায়ীরা বাড়ায় দশ টেকা। কিন্তু দাম কুমার সময় আর দশ টেকা কমে না। দশ টেকা দাম বাড়ায়া, এক-দুই টেকা দাম কমালি কি হিসাব মেলে। যা কষ্ট সব ওই আমাগোরে কামলা মানুষের। বড়লোকের তো কোনো সমস্যা নাই।

ঈশ^রদী উপজেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি ফজলুর রহমান মালিথা বলেন, ঈশ^রদীর মোকামে ছোট বড় মিলিয়ে চাতাল কলের সংখ্যা ৬৫০টি। অথচ ধান সংকটের কারণে এ মৌসুমে সচল রয়েছে মাত্র ৮০টি। সরকারি গুদামে যে আপতকালীন মজুদ সেটার অবস্থা খুবই নাজুক। মজুত সরকারের হাতে তেমন নেই বললেই চলে। সেই সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বা মিল মালিকরা। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ধান সংগ্রহে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কব্জা করেছে কয়েকটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। কখনো গুজব রটিয়ে, কখনো বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে স্বার্থসিদ্ধি করে নিয়েছে তারা। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ অটো রাইসমিল মালিকরা। এজন্য সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি তাদের।

ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, এখন ধান কিনে চাল তৈরির পর তা বিক্রি করতে গেলে লাভের বদলে ট্রাকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। ধান সংকট তো আছেই। যে কারণে চালের মোকামে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চাতাল মালিকরা জানান, ইতিমধ্যে ঈশ্বরদী মোকামে ক্রেতাশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চালু চাতালগুলোতে যা চাল উৎপাদন হচ্ছে, তাও বিক্রি হচ্ছে না বললেই চলে। চাল ক্রেতার অভাবে বেশিরভাগ চালই অবিক্রীত পড়ে থাকছে বলে জানান চাল ব্যবসায়ীরা। চালের বাজার বেড়ে যাওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানান উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ খায়রুল ইসলাম। উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী মিনিকেট, বিআর-২৮, বিআর-২৯, পারিজা, নতুন গুটি স্বর্ণা, বিনা-৭ ও বিআর-৩৯ চালসহ এই মোকামে উৎপাদিত সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা জানান, বাজারে ধানের দামের সঙ্গে চালের বাজার মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় ঈশ্বরদী মোকামে উৎপাদিত চালের মূল্য বাড়ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঈশ্বরদী মোকামের মিলগুলো বন্ধ থাকায় বিভিন্ন চালের আড়তে থাকা চালগুলো বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাফিউল ইসলাম বলেন, বাজারে ধান বা চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে সেই মজুতদার বা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। আমরা কোনো ব্যবসায়ীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি সরকারের ইমেজ নষ্টের অপচেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top