রাত ৪:৩৯, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ Top News / নাটোর সদর আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া
জাতীয় সংসদ নির্বাচন : নাটোর – ২
নাটোর সদর আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া
জুলাই ৩০, ২০১৭

জুলফিকার হায়দার জোসেফ, নাটোর : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও প্রায় এক বছর বাকী। তবুও সারাদেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এর ব্যতিক্রম নেই নাটোরেও। নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম। বড় দুই দলের মনোনয়নকে পাচ্ছেন তা নিয়ে এখনও নেই কেন্দ্রের কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা। তবে সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, ভোটাররা তাদের বিবেচনায় এ আসনে কারা পেতে পারেন বড় দুই দলের মনোনয়ন তার হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন ইতোমধ্যে। বিএনপির নির্বাচনে যাবার সিদ্ধান্ত এখনও না হওয়ায় এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে বা কারা হচ্ছেন, তা নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ নেই তেমন।

তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে আওয়ামী লীগে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে তোড়জোড় শুরু করেছেন। নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-২ আসনে বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নৌকার মাঝি হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন অন্তত এক ডজন আওয়ামী লীগ নেতা।

তারা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম শিমুল, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সাজেদুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি, নাটোর জজকোর্টের পিপি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, জেলা কমিটির আরেক সহসভাপতি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যন এডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শরিফুল ইসলাম রমজান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী শেখের সহোদর ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মালেক শেখ, জেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চিত্তরঞ্জন সাহা, জেলা কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক প্রসাদ কুমার তালুকদার বাচ্চা, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রতœা আহমেদ এবং জেলা যুবলীগ সভাপতি বাসিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়া।

অপরদিকে এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী একের অধিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। নাটোরে বিএনপির কান্ডারী হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন এটা নিশ্চিত। একই সাথে তিনি নাটোরের একাধিক আসনে এবার প্রার্থী হতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার কোন কারণে প্রার্থী হতে না পারলে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি এবারও বিএনপির প্রার্থী হবেন।
এই আসনে প্রার্থিতা নিয়ে জাতীয় পার্টিতেও কোন বিরোধ নেই। এবারও প্রার্থী হবেন ৮৬-৮৮’র সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সেন্টু।

বাম দলগুলো থেকে প্রার্থিতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত কোন ঘোষণা আসেনি এখনও। আর জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে কোন আলোচনাই নেই। তারা পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সময় হলেই ঘোষণা আসতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর সদর আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহকুমা সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাসদ কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মাহবুবুল ইসলাম। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চারজন প্রার্থী। এদের মধ্যে মুসলিম লীগ মহকুমা সভাপতি আব্দুস সাত্তার খান চৌধুরী (মধু মিয়া) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের ৭ই মে’র নির্বাচনে এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি জেলা সভাপতি মজিবুর রহমান সেন্টু ৩৩ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে এ আসনটি তার দখলে নেন।

এরপর ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ আসনে পুনরায় নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি মজিবুর রহমান সেন্টু। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্র“য়ারির নির্বাচনে সদর আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে প্রয়াত জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শংকর গোবিন্দ চৌধুরী ৩৪ হাজার ৮৮২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি সে সময় অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল জাতীয়ভাবে বর্জন করলে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। পরে একই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসনটি থেকে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ৫৮ হাজার ৫০০ ভোট পেয়ে আসনটি পুনরায় তার দখলে নেন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আবারও এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আহাদ আলী সরকার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ছবিকে পরাজিত করেন। দশম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। সেসময় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই নির্বাচনটি বর্জন করলে জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top