রাত ৪:৩৯, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত
দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত
অক্টোবর ১৮, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ তিন মাস পর গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। এর আগে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫০মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন বেগম জিয়া। সেখানে দলের     সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ হাজারো নেতাকর্মী তাঁকে বিদায় জানান। পথে দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতি করেন তিনি। খালেদা জিয়া চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসা নিতে গত ১৫ জুলাই লন্ডন গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ছিলেন তিনি।
এদিকে, খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা বিমান বন্দর এলাকায় অবস্থান নেয়ায় বিমানবন্দর সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দরে বিএনপির চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা হাজির হন। জানা গেছে, খালেদা জিয়া আজ বৃহস্পতিবার সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন।
তীব্র যানজটের সৃষ্টি
খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দলীয় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দুপুরের পর থেকেই বিমানবন্দর সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ফলে দুপুরের পর থেকেই বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে বিভিন্ন যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। ওই সড়কের দুই পাশেই যানজটের একই চিত্র দেখা যায়। যানজটের কারণে অনেককেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়। বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে ফুটপাথেও ছিল হাজারো মানুষের ভিড়। এছাড়া বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, কাওলা এলাকায় রাস্তার ওপরেই অবস্থান নিতে দেখা যায়। অনেকেই সড়কের মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সড়কে মোটর সাইকেল শোভাযাত্রাও করেছে। অন্যদিকে, সৃষ্ট যানজট বিমানবন্দর থেকে টঙ্গী-আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবদুল আলীম চৌধুরী বলেন, আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেছি, তারা যেন রাস্তার মাঝখানে অবস্থান না নেন। কিন্তু তারা এ কথা আমলে নেয়নি।
যানজটে খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টা ৩৭মিনিটে গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে প্রধান সড়কে আসলে তাঁর গাড়ি জ্যামে পড়ে। বিমানবন্দর সড়কে প্রচন্ড যানজটে দীর্ঘ সময় তাঁকে আটকে থাকতে হয়েছে। বিমানবন্দর সড়কে আগে থেকেই যানজট ছিল। এর ওপর খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তার ওপর অবস্থান নেওয়ায় এ যানজট সৃষ্টি হয়। এদিকে, খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় যাওয়ার পথে দলীয় নেতাকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত হন। বনানী-বিমানবন্দর সড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে, অবস্থান নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। বেগম জিয়াও গাড়ির ভেতর থেকে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
নেতাকর্মীরা ছিল উৎকণ্ঠায়
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় দেশে ফেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় কিনা, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা ছিল। তবে এ বিষয়টি সেভাবে আমলে নেয়নি তারা। কারণ, এই পরোয়ানা জারির পেছনে সরকারের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ও অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করেন তারা। দলের নীতি-নির্ধারকদের বেশিরভাগই মনে করেন, সরকার নানা ইস্যুতে বেকায়দায় আছে। সে কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও সরকার এই মুহূর্তে বেগম জিয়াকে গ্রেফতারের ঝুঁকি নেবে না। মানসিকভাবে চেয়ারপারসনসহ নেতাকর্মীদের চাপে রাখতেই সরকার তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বিমানবন্দরে মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করিয়েছে। কিন্তু তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানাকে ভয় পান না। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শিগগিরই জামিনের জন্য তিনি আদালতে হাজির হবেন।
বিমানবন্দরে যেতে বাধার অভিযোগ
খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরগামী নেতাকর্মীদের পদে পদে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বিকেলে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশনেত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নেতা-কর্মীদের আসতে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে তাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আমাদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। রাস্তায় নেতা-কর্মীদের হাঁটতে দেওয়া হচ্ছে না। সমস্ত রাস্তা ফাঁকা করা হয়েছে। একসঙ্গে কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। আব্বাস আরো বলেন, আজকে ঢাকা শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে আসতে না পারে। তারপরও দলের নেতাকর্মীদের থামিয়ে রাখা যায়নি। তারা প্রিয় নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে, সংবর্ধনা দিতে দলে দলে বিমান বন্দরের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top