রাত ৪:৩৬, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / খালেদা জিয়ার ফেরার খবরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত
ব্যপক শোডাইনের প্রস্তুতি
খালেদা জিয়ার ফেরার খবরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত
অক্টোবর ১৬, ২০১৭

রাজকুমার নন্দী : চিকিৎসা শেষে আগামীকাল বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনটি মামলায় পরোয়ানা থাকলেও বেগম জিয়ার দেশে ফেরার খবরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় তিন মাস অবস্থানকালে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সুতরাং খালেদা জিয়া দেশে ফিরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেবেন। তাদের প্রত্যাশা, বেগম জিয়া ফিরলে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আংশিক কমিটিগুলো দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ হবে। ছাত্রদল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দলসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর নতুন কমিটিও শিগগিরই ঘোষিত হবে। এছাড়া পূরণ হবে দলের একাধিক শূন্য পদ, বাস্তবায়িত হবে ‘এক নেতার এক পদ’র বিধান, সম্পন্ন হবে তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও। এর মধ্য দিয়ে স্থবির হয়ে পড়া সাংগঠনিক কর্মকান্ডে গতি আসবে, যা বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে যান খালেদা জিয়া।

গত ৯ অক্টোবর কুমিল্লা ও ১২ অক্টোবর ঢাকার আদালতে পৃথক তিনটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বেগম জিয়া দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় তা মোকাবেলা করবেন বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এদিকে, চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলেও এই সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলেছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। কারণ, বিএনপি প্রধানের এই সফরের মাধ্যমে আসতে পারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া দেশে ফিরে উপযুক্ত সময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। তারা বলছেন, এই রূপরেখা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে শেষপর্যন্ত তাদেরকে রাজপথের আন্দোলনেও যেতে হতে পারে। সেজন্য ওই ইস্যুতে জনমত তৈরিতে খালেদা জিয়া বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন জেলা সফরে যেতে পারেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খালেদা জিয়া দেশে এসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য বিরোধী দলের রাজনীতিতে যা যা করা দরকার তিনি তা-ই করবেন।

গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণ দুইভাগে ভাগ করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও কোনো কমিটিই এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। নেতাকর্মীদের আশা, খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে দুই কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হবে। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান দৈনিক করতোয়াকে জানান, কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) দেশে ফিরলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। উত্তরের অধীন থানাগুলোর কমিটি গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর অধীন ২৬টি থানা কমিটিও ঘোষণা করা হবে। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারও জানান, মহানগর দক্ষিণের কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দক্ষিণের অধীন থানা ও ওয়ার্ড কমিটিও ঘোষণা করা হবে। এদিকে, গত ১৭ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং সাত সদস্যবিশিষ্ট মহানগর দক্ষিণের আংশিক কমিটিও ঘোষিত হয়। জানতে চাইলে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব দৈনিক করতোয়াকে বলেন, যুবদলের কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলে ২৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাত সদস্যবিশিষ্ট নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া গত ১ মে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষিত হয়। জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, কমিটি প্রায় চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলে স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এদিকে, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর মহিলা দলের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিনটি কমিটিই পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে এসব কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে বলে নেতাকর্মীদের আশা।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ঘোষণা করা হয় ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ অক্টোবর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর গত ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণের এক বছর পূর্ণ করেছে। অন্যদিকে, দেড় যুগ আগের কমিটি দিয়ে চলছে কৃষক দল। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ১৬ মে তৃতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কৃষক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে মৎস্যজীবী দলের তিন সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওই কমিটিই এখনো বহাল রয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে তাঁতী দলও। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশা, দলীয় চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে দ্রুততম সময়ে এসব কমিটি ঘোষিত হবে। এদিকে, দল পুনর্গঠনেও কিছু সিদ্ধান্ত এখনো বাকি রয়েছে বিএনপির। স্থায়ী কমিটির তিনটি শূন্য পদসহ দুইটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদকের পদও এখনো খালি রয়েছে। এছাড়া দলাদলি ও কোন্দলের কারণে গত দেড় বছরের বেশি সময়েও সম্পন্ন হয়নি তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫০টির মতো জেলার কমিটি গঠিত হয়েছে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে এই শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন বিমানবন্দর থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসভবন পর্যন্ত জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা করছে দলটি। এ লক্ষ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইতোমধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার দলীয় নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকও করেছেন। এছাড়া ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের নিয়েও বৈঠক করেন।

জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে গেলে এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসলে যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়, দলের নেতাকর্মীরা এবারো বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন। আমরা বরাবরই এভাবে করে থাকি। এজন্য আলাদাভাবে কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। খালেদা জিয়া দেশে এলে তাঁকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হবে বলে জানান শামসুজ্জামান দুদু।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top