ভোর ৫:১৯, শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

সর্বশেষ খবর
বাবার কবরের পাশে শেষ শয্যায় মহিউদ্দিন চৌধুরী
আজ জাতির অহংকারের দিন
বিএনপির ষড়যন্ত্রের ফাঁদে বাংলার মানুষ পা দিবে না : আনিসুল হক
মহিউদ্দিনের হৃদয়-অন্তর জুড়ে শুধুই চট্টগ্রাম: কাদের
কল্যাণপুরে স্যুটকেসের ভিতর থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার
মহাখালীতে বৃদ্ধাকে জবাই করে হত্যা
রংপুরে ক্ষমতাসীনদের বিধিভঙ্গে হিড়িক দেখেও ইসি নির্বিকার : রিজভী
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট
বিজয়ের গল্প
তিতলীর ১৬ই ডিসেম্বর
সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে স্পিকারের শোক
নন্দীগ্রামের বধ্যভূমি অযত্ন অবহেলায়
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ : ফখরুল
ঈশ্বরদী-পাবনা রেলপথে প্রথম পরীক্ষামুলক ট্রেন চলাচল

করতোয়া ডেস্ক : চট্টগ্রামের ষোলশহর চশমা হিল মসজিদ কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীরা চোখের জলে বিদায় জানালেন তাদের প্রিয় এই নেতাকে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন জানান, শুক্রবার আসরের পর নগরীর লালদীঘি মাঠে লাখো মানুষ মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় অংশ নেয়। তার আগে এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি জানানো হয় রাষ্ট্রীয় সম্মান।

সন্ধ্যায় চশমা হিলে আরেক দফা জানাজার পর দাফন করা হয় এই রাজনীতিবিদকে। চট্টগ্রামের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বন্দর রক্ষা     আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া মহিউদ্দিন চৌধুরী হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ষাটের দশকের ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর পালিয়ে প্রায় তিন বছর তাকে কলকাতায় থাকতে হয়। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর টানা তিন মেয়াদে তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব তিনি পালন করে আসছিলেন প্রায় এক যুগ ধরে। তার মৃত্যুর খবরে সকালে তার চশমা হিলের বাড়িতে ভিড় করেন বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

 সেখান থেকে দুপুরে কফিন নিয়ে যাওয়া হয় দারুল ফজল মার্কেটে দলীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাকে শেষ বিদায় জানায়। মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে। বাবা রেল কর্মকর্তা হোসেন আহমদ চৌধুরী এবং মা বেদুরা বেগম। বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য সারাদেশে পরিচিতি পেলেও মহিউদ্দিন সব সময় নিজেকে ধরে রেখেছেন চট্টগ্রামের রাজনীতির গি তেই। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে দুই বার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও কখনও এমপি নির্বাচিত হতে পারেননি। তার ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা ২০০৮ সালের ১৭ অক্টোবর ক্যান্সারে মারা যান। বাকি তিন মেয়ের মধ্যে জেবুন্নেসা চৌধুরী লিজা গৃহিনী। যমজ বোন নুসরাত শারমিন পিয়া ও ইসরাত শারমিন পাপিয়া মালয়েশিয়ায় এমবিএ করেছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে মুহিবুল হাসান নওফেল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক; আর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন একজন ব্যবসায়ী।

 হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত মহিউদ্দিনকে গতমাসে সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। অবস্থার একটু উন্নতি হলে ঢাকা থেকে দুদিন আগে তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল চট্টগ্রামে। কিন্তু সেই উন্নতি স্থায়ী হয়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় বলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী জানান। নওফেল ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর রাত ৩টার পর তার বাবার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানানো হয়। হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের নওফেল বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষের প্রিয় মানুষ ছিলেন আমার বাবা।

ঢাকায় একটু সুস্থ হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রামে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। সে কারণেই নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল হাসপাতালে আনার পর তার কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। প্রথমে আইসিইউতে নিলেও পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এক পর্যায়ে তার আর কোনো সাড়া না পাওয়ায় সবার সঙ্গে আলোচনা করে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছে।’ মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর খবরে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। হাসপাতালে অনেককেই চোখ মুছতে দেখা যায়। এই আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন হাসপাতালে। সকালে মহিউদ্দিনের মরদেহ নগরীর ষোলশহর এলাকায় তার চশমা হিলের বাসায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও নেতাকর্মীরা ভিড় করেন শেষবার তাকে দেখতে। নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল সেখানে  বলেন, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি। চট্টগ্রাম হারিয়েছে তার অভিভাবককে।’

রাষ্ট্রপতির শোক: প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শুক্রবার এক শোকবার্তায় তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর শোক: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার এক শোক বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। গণমানুষের অন্তরে এই বর্ষীয়ান জননেতা চিরদিন বেঁচে থাকবেন।’ প্রধানমন্ত্রী তার শোক বার্তায় বলেন, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখেন। তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন কিন্তু কখনও আপস করেননি।’ সরকারপ্রধান প্রয়াত এই আওয়ামী লীগ নেতার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের শোক  
তার মৃত্যুতে পৃথক শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ‘এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আজীবন গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী একজন ত্যাগী নেতা। তার মৃত্যু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’ ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এবং প্রধান হুইপ আসম ফিরোজও পৃথক বার্তায় মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আজ জাতির অহংকারের দিন

স্টাফ রিপোর্টার : আজ মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম গৌরব ও অহংকারের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। হানাদার পাকিস্তানি সেনারা যে অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে এ জাতির বুকে, হাতের সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে একাত্তর সালের এই দিনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর নেতাদের সামনে। আজ সেই রক্তনদী পেরিয়ে আসা আনন্দ-বেদনায় মিশ্র বিজয় দিবসের ৪৬তম বার্ষিকী। বিজয়ের গৌরবের বাঁধভাঙা আনন্দের দিন। একই সঙ্গে আজ লাখো স্বজন হারানোর শোকে বেদনা-বিহ্বল হওয়ারও দিন।

জাতি আজ শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা  বাঙালির স্বাধীন স্বদেশের এ দিশা দিয়ে তিনি ঘুম জাগানিয়া গান শুনিয়ে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন সমগ্র জাতিকে। সুদীর্ঘ দুই যুগের নিরবচ্ছিন্ন স্বাধিকার আন্দোলনের মাহেন্দ্রক্ষণে শুনিয়েছিলেন মুক্তির গান, এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি হানাদাররা ২৫ মার্চ রাতে ঘুমন্ত নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মানব ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যায় মেতে ওঠে। জাতির বীর সন্তানরা বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সামান্য অস্ত্র আর বুকভরা সাহস নিয়ে পৃথিবীর দুর্ধর্ষ বাহিনীর হামলা ঠেকাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে।

নয় মাসের মুক্তি সংগ্রামে ত্রিশ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগ আর তিন লাখ মা বোনের সম্ভ্রমসহ কোটি কোটি বাঙালির ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একাত্তর সালের এ দিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধশেষে জাতি মুক্তির সংগ্রামে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। কৃতজ্ঞ জাতি আজ দিনভর বর্ণাঢ্য আয়োজনে সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে একাত্তর সালে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। নতচিত্তে স্মরণ করবে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া শহীদদের। পাশাপাশি ঘৃণা প্রকাশ করবে একাত্তরের নরঘাতক ও তাদের এদেশীয় দোসরদের প্রতি।বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ আলাদা বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বাণী দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

স্বাধীন বাংলাদেশের সুদীর্ঘ ৪৬ বছরের পথপরিক্রমায় অর্থনৈতিক, সামাজিকখাতসহ সামগ্রিকভাবেই দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন ‘জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি’ অর্জনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত আমরা। বঙ্গবন্ধু দেশকে ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন করেছেন আর তারই সুযোগ্যে কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উদীয়মান অর্থনীতির, সমৃদ্ধির দেশ। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর হবে দেশ। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্য মুক্ত হবে দেশ।

আজ ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে সব স্তরের জনতার ঢল নামবে। শ্রদ্ধার সঙ্গে তারা শহীদদের উদ্দেশে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় করা হয়েছে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, কারাগার এবং এতিমখানাগুলোয় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে এবং বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।

আজ বিজয় দিবস সরকারি ছুটির দিন। আজ প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তববক অর্পণের মাধ্যমে একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন।  এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর আমন্ত্রিত সদস্যগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সকাল ১০ টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে  সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

 এ উপলক্ষে  বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে এবং এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

 দেশের সকল শিশু পার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ,  বিএনপি, জাতীয় পার্টি , জাসদ , সিপিবি , ওয়াকার্সপার্টি , গনফোরাম সহ   বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়, বাংলা একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ রাজধানীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান  বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করবে। এর মধ্যে আছে সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিজয় দিবসে ঢাবির কর্মসূচি
মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য ভবনসহ প্রধান প্রধান ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টা ৩০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত এবং সকাল ৬টা ৩৫মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিকাল ৪টা ১০মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছায়ানটের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সঙ্গীতানুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া, বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হল মসজিদ ও উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য দোয়া।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : আজ শনিবার সূর্যোদয় ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬:৩৪ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন (মহামান্য  রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয়  কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ)। সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। বিজয় র‌্যালী: ঢাকা মহানগরীর অন্তর্গত সকল থানা শাখার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ এলাকা থেকে বিজয় শোভাযাত্রা সহকারে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হবেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক ক্ষণ বিকেল ৩টায় শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর অভিমুখে বিজয় র‌্যালী শুরু হবে।

টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচি: আজ সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের ঐতিহাসিক টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, খালিদ মাহ্্মুদ চৌধুরী এমপি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোঃ আমিরুল আলম মিলনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। আলোচনা সভা কাল: আগামীকাল রোববার বিকাল ৩ টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীগণ। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করবে দেশের বরেণ্য শিল্পীবৃন্দ।

 গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে সারাদেশে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।বিএনপির কর্মসূচি : মহান বিজয় দিবসে আজ শনিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরেও পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন তিনি।

 এছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আগামী ১৯ ডিসেম্বর বিকেলে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভা, ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকায় বিজয় শোভাযাত্রা এবং ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি থাকবেন। এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে প্রত্যেকটি জেলায় জাতীয় পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা ও পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানও করবে বিএনপি। এছাড়া নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের জেলা কার্যালয়গুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জা করা হবে।



বিশেষ প্রতিবেদন

সোনাতলায় যমুনার বিশাল চরজুড়ে মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলন

বদিউদ-জ্জামান মুকুল (সোনাতলা) বগুড়া : বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙালী নদীর চরে এবার শত শত একর জমিতে মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলার তেকানীচুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে যমুনা ও বাঙালী নদীর চরাঞ্চল। এ এলাকার কৃষকরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মাসকালাই বপণ করেছে। আর এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কৃষক তাদের বপণকৃত মাসকালাই ঘরে তুলতে সক্ষম হবে। চলতি বছর দু’দফা বন্যার কারণে এবার মাসকালাই ঘরে উঠতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে ওই এলাকার কৃষকরা জানান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সোনাতলা উপজেলার যমুনা ও বাঙালী নদীর চরাঞ্চলসহ একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে  রেকর্ড পরিমাণ জমিতে কৃষক মাসকালাই বপণ করেছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। উপজেলার হাটেবাজারে এই কালাইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নদীকূলীয় মানুষগুলো শীত মৌসুমে খাদ্য তালিকার মাসকালাই বাধ্যতামূলক রাখেন। প্রতি কেজি মাসকালাই হাটে বাজারে ৬৫-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। সংশ্লিষ্ট  সূত্রে জানা গেছে, যমুনা ও বাঙালী নদীকূলীয় মানুষগুলো তাদের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানের হাট বাজার সহ মার্কেটগুলোতে আমদানি করে।

তেকানী এলাকার জাহিদুল ইসলাম জানান, এবার তিনি ৩/৪ বিঘা জমি জুড়ে মাসকালাই বপন করেছেন। ফলন হয়েছে বেশ ভালো। পাকুল্যা খাটিয়ামারী এলাকার এনামুল হক জানান, এবার তিনি ৬/৭ বিঘা জমিতে মাসকালাই বপন করেছেন। ফসলও হয়েছে বেশ ভালো। এই ফসল চাষে উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি।    গ্রামগঞ্জে এই কালায়ের চাহিদা বেশ ভালো। চলাঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক চরের বিশাল মাঠ জুড়ে মাস কালাই বপন করেছে।

এ ব্যাপারে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মখছেদুল আলম জানান, এটি একটি প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। যা মানব দেহে আমিষের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও খাদ্য হজমে সহায়তা করে। এ জাতীয় ডাল মানব দেহের কোন ক্ষতি সাধন করে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন সরদার জানান, মাসকালাই একটি ডাল জাতীয় শস্য। মাসকালাই যে কোন জায়গায় বপণ করা যায়। মাস কালাই বপণের ৮৫-৯০ দিনের মধ্যে গাছে ফলন আসে। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে কৃষক মাসকালাই বপণ করে। এমনকি মাসকালাই রাস্তার পাশে বপন করলেও ফলন পাওয়া যায়। মাসকালাই চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। আগাছা পরিষ্কার করতে হয় না। পোকামাকড় কম হয়। ফলে উৎপাদন খরচ খুবই কম।


রাজশাহী বিভাগ

নন্দীগ্রামের বধ্যভূমি অযত্ন অবহেলায়

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : অবহেলা ও অযতেœ পড়ে আছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বামন গ্রামের বধ্যভূমি। বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, তবুও বামন গ্রামের যুদ্ধকালীন সময়ের নির্মম হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নেয়া হয়নি  কোনো পদক্ষেপ। সংরক্ষণের অভাবে অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে বধ্যভূমি। মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে বামন গ্রামের বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার কোনও লেশ চোখে পড়ে না বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা সদর থেকে কালিগঞ্জ সড়কের সিমলা বাজার পেরিয়েই বামন গ্রাম। উপজেলার একটি মাত্র এই গ্রামের বধ্যভূমি সংস্কার না করায় এলাকার লোকজন খড়ের পালা দিয়ে ঘিরে রেখেছে চারপাশ। সেখানে বাঁধা রয়েছে গরু-ছাগল। গড়ে উঠেছে জঙ্গল। বধ্যভূমির পাশেই সাধারন মানুষের চলাচলের মেঠো পথ। এ কারণে সেখানকার বধ্যভুমির স্মৃতি প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেকেই ভূলে গেছেন এই বধ্যভূমির কথা। সরকারিভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করা না হলে, মুছে যাবে বধ্যভূমির স্মৃতি- এমন মন্তব্য করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন ও মোজাম্মেল হক।

বধ্যভূমির গাছের সাথে অস্পষ্ট একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে, ওই সাইনর্বোড এর তথ্য থেকে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল গভীর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর সদস্যরা বামন গ্রামে হানা দেয়। তারা বাড়ি বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বামন গ্রামের সুখ দুঃখ পুকুর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়জনকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মির্জাপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন ভোরে কোলাহল শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি অনেক লোকজনের রক্ত মাখা লাশ গর্তের মধ্যে পড়ে আছে। মর্মান্তিক ঘটনার খবর শুনে বামন গ্রামের সুখ-দুখ পুকুরপাড়ে ছুটে আসেন আশপাশ এলাকার শতশত মানুষ। এই দৃশ্য দেখে প্রায় সকলেরই হৃদয় কেঁপে ওঠে, সকলের চোখের মায়াভরা পানি ঝরে পড়েছিল। একই রাতে উপজেলার হাটকড়ই হিন্দুপাড়ায় হানা দিয়ে সুরেশ চন্দ্র, বুজেশ্বর চন্দ্র, সুরেস প্রামানিক ও অধির চন্দ্রকে হাটকড়ই হাইস্কুল মাঠে গুলি করে হত্যা করে পাক-বাহিনী। পরে তাদের স্থানীয় মহাশ্মশানেই সমাধি করা হয়। সেই জায়গাটি বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

 

মহিউদ্দিনের হৃদয়-অন্তর জুড়ে শুধুই চট্টগ্রাম: কাদের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সদ্য প্রয়াত সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে শেষ বারের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলোশহরের চশমা হিলের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সেতুমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে বের হয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হৃদয়জুড়ে, অন্তরজুড়ে শুধুই চট্টগ্রাম, এই মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতেন।

আজকে চট্টগ্রামে যে বাঁধভাঙা শোককাতুর মানুষ দেখছি, সেটা থেকেই বোঝা যায় তার প্রতি মানুষে ভালোবাসা কতটা প্রকট। চট্টগ্রাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মন্ত্রী হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। আমাদের নেত্রী তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। তিনি বলতেন, আমার স্বপ্ন, আমার ধ্যান, আমার প্রাণ, আমার সবকিছুই

 

টি-টেন ক্রিকেটে খেলা হচ্ছে না মুস্তাফিজের

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু হচ্ছে টি-টেন ক্রিকেট। টি-টেন ক্রিকেটে বাংলাদেশ থেকে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল খেললেও মুস্তাফিজুর রহমানের খেলা হচ্ছে না। চার দিনের এই প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য বাঁহাতি পেসারকে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেয়নি বিসিবি।

টি-টেন ক্রিকেটে খেলতে বুধবার আরব আমিরাতে গেছেন সাকিব। একই দিন তামিম, মুস্তাফিজেরও যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু তামিম যেতে পারেনি বিসিবির শুনানির মুখোমুখি হওয়ার কারণে। বিপিএল চলাকালে মিরপুরের উইকেট নিয়ে সমালোচনা করায় তামিমকে কারণ-দর্শানোর চিঠি দিয়েছিল বিসিবি।

আজ তামিমকে শুনানিতে ডেকেছিল বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি। শুনানি শেষে বিসিবির পরিচালক মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘তামিমকে আজ আমরা শুনানিতে ডেকেছিলাম। ও ওর বক্তব্য দিয়েছে। সেদিন তামিম যেটা বলেছে, তার জন্য সে দুঃখ প্রকাশ করেছে।’

তামিম জানিয়েছেন, মিরপুরের উইকেট নিয়ে যে সমালোচনা তিনি করেছেন, সেটায় আরো মার্জিত ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন।

তামিমের টি-টেন ক্রিকেটে খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। আজই তিনি আরব আমিরাতে উড়াল দেবেন। তবে আগে যেখানে তার তিনটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল, এখন একটি কম খেলবেন। কারণ আজই তামিমের দল পাখতুনের একটি ম্যাচ আছে।

আজ রাতে ম্যাচ আছে সাকিবের দল কেরালা কিংসেরও। এই দলের বিপক্ষেই আজ বেঙ্গল টাইগার্সের হয়ে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজের। কিন্তু এনওসি না পাওয়ায় যেতে পারছেন না ‘দ্য ফিজ’।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গোড়ালির চোটে পড়েছিলেন মুস্তাফিজ। ফলে বিপিএলে রাজশাহী কিংসের হয়ে প্রথম দুই লেগ খেলতে পারেননি। শেষ দিকে চার ম্যাচে খেলেছেন। সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি। টি-টেন ক্রিকেটে মুস্তাফিজকে খেলার অনুমতি দিয়ে তাই ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি।

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

মালেক আফসারী বললেন মৌমিতাকে নিয়ে আলোচনা হবে

বিনোদন প্রতিবেদক : এরইমধ্যে মালেক আফসারী পরিচালিম মুক্তি প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘অন্তর জ্বালা’র সংবাদ সম্মেলন হয়েগেলো। সংবাদ সম্মেলনে জায়েদ খান ও পরীমণির অভিনয়ের প্রশংসা করার পাশাপাশি মালেক আফসারী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৌমিতা মৌকে নিয়ে। মালেক আফসারী বলেন,‘ অন্তরজ্বালা চলচ্চিত্রে মৌমিতা মৌ’কে দর্শক মুটকি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখবেন।

এই চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য মৌমতিাকে আমি বেশি বেশি বার্গার খেতে বলেছিলাম যাতে সে মোটা হয়। মুটকি চরিত্রটি যেন তাকে যথাযথই লাগে এ কারণেই তাকে বার্গার খেয়ে মোটা হতে বলেছিলাম। মৌমিতা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে তার চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে এবং আমার বিশ্বাস অন্তরজ্বালা মুক্তির পর দর্শক মৌমিতাকে নিয়ে আলোচনা করবেন। মৌমিতা মৌ বলেন, ‘ চলচ্চিত্র মুক্তির আগে অনেকেই আলোচনায় আসে। কিন্তু মুক্তির পর অনেক ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো হয়। এতে করে সমালোচনায় পড়তে হয়।

 আমি মনে করি, আমার ক্ষেত্রে এটা হবে না। ‘অন্তর জ্বালা’ মুক্তির পর আমাকে নিয়ে আলোচনা হবে। আর এটাই হবে আমার স্বার্থকতা, আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট।’ মৌমিতা আরো বলেন, ‘ আফসারী স্যারের সঙ্গে কাজ করা না হলে চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমার অনেক কিছুই অজানা থেকে যেতো। তার নির্দেশনায় কাজ করে অনেক কিছু জেনেছি, শিখেছি। ‘অন্তর জ্বালা’ চলচ্চিত্রটি আমার ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা একটি কাজ হবে বলে মনে করি। আমি সত্যিই বলছি, পরিচালক মালেক আফসারীর সান্নিধ্যে কাজ করাটা ভাগ্যের ব্যাপার।

 চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের সময় অনেক কষ্ট করেছি। আমার বিশ্বাস আমাদের সে কষ্ট বৃথা যাবেনা।’ নায়ক মান্নার অন্ধ ভক্তের কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘অন্তর জ্বালা’। এরইর মধ্যে নানা কারণে চলচ্চিত্রটি এসেছে আলোচনায়। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে চিত্রনায়ক জায়েদ খান নিজেই। পরিবেশনা করছে কৃতাঞ্জলি কথাচিত্র। উল্লেখ্য মৌমিতা মৌ বর্তমানে চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে ‘পুলিশ বাব’ু, ‘রাগী’, ‘গোপন সংকেত’ ও ‘রক্তাক্ত সুলতানা’। আগামী বছর যদি চলচ্চিত্রগুলো ঠিকঠাকভাবে শেষ হয় তবে আগামী বছরই চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পাবে। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top