সকাল ৮:১৩, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

সর্বশেষ খবর
খালেদা জিয়া আসছেন আজ পরোয়ানা দিয়ে মনোবলকে দুর্বল করা যাবে না : রিজভী
মিয়ানমার সফর রোহিঙ্গা ও সীমান্ত সংকট নিয়ে আলোচনা হবে : স্বরাষ্টমন্ত্রী
বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত
চৌহালীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় ১২ জেলের কারাদন্ড, কারেন্ট জালজব্দ
বড়াইগ্রামে ৯৪৫ পিস ইয়াবাসহ বাসযাত্রী আটক
চূড়ান্ত প্রতিবেদন মালদ্বীপের মডেল কন্যা রাওধা আত্মহত্যা করেছেন
রাজশাহীতে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু
ঝালকাঠিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তরুণ নিহত
আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি স্পিকারের
বিএনপির প্রস্তাব নির্বাচনী ‘রোড ব্লক’ করার: তথ্যমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দাতাদের কাছে এক হাজার কোটি টাকা চায় আইওএম
৩৬তম বিসিএস ক্যাডার পাচ্ছেন ২৩২৩ জন
ইইউ মিয়ানমারকে চাপে রাখবে, আশা রাষ্ট্রপতির
নভেম্বরে মিয়ানমার যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কক্সবাজারে ধর্ষণ মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

করতোয়া ডেস্ক: চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের শিকড় মিয়ানমারে তুলে ধরে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ইকোসক চে¤॥^ারে ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট ও বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে’ এক ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান স্পিকার। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক্ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্ক লোকক্ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাস্ত্যুচ্যুত রোহিঙ্গাদের উদারভাবে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই মানবিক আশ্রয়দানে অনন্য সাহসিকতা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন। অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্পিকার নিজের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের ভিত্তিতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অমানবিক অবস্থার বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

শিরীন শারমিন বলেন, ‘আমরা এই সমস্যার জরুরি সমাধান চাই, যাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিরাপদে ও সম্মানের সাথে তাদের ঘরে ফিরতে পারে এবং প্রতিবেশীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অর্থপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে। এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব।’ সহিংসতা ও জাতিগতভাবে রোহিঙ্গা নির্মূলের প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন প্রেরণ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেইফ জোন তৈরি, জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা মানুষদের নিজ ভূমিতে স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।’ ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআর, আইওএম, ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট এর প্রতিনিধিরা ছাড়াও কুয়েত, তুরস্ক, সৌদি আরব, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং ইইউর রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

কফি আনানের সঙ্গে বৈঠক
পরে সন্ধ্যায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও অ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেটের চেয়ারম্যান কফি আনানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠককালে তিনি একটি সুদূরপ্রসারী ও গঠনমূলক প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য কফি আনানকে ধন্যবাদ জানান। কফি আনান চলমান পরিস্থিতিতে মানবিক ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের জন্য স্পিকারকে অনুরোধ করেন। তিনি মিয়ানমারের অব্যাহত অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এখন পর্যন্ত সঙ্কট চলমান থাকার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেন। কফি আনান অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং রাখাইন প্রদেশের উপদ্রুত এলাকাগুলোতে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা এবং গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। এসব ধারণা ও সুপারিশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য কফি আনানকে অনুরোধ জানান স্পিকার শিরীন শারমিন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণের আলোকে জাতিসংঘের সাবেক এই মহাসচিবকে সুবিধাজনক দ্রুত সময়ে বাংলাদেশ সফরের অনুরোধ জানান স্পিকার।

আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দিশেহারা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পয়েছে। পোকা দমনে বাজারে প্রয়োজনীয় কীটনাশক না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, সময়মতো কারেন্ট পোকা দমন করতে না পারলে আমনের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।  তারা জানান, কয়েকদিন ধরে জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ বেড়ে গেছে। বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত সদর উপজেলার ঝিলিম, বালিয়াডাঙ্গা ও গোবরাতলা, নাচোলের নেজামপুর, ফতেপুর, কসবা, গোমস্তাপুরের পার্বতীপুর, রাধানগর, নন্দীপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে কারেন্ট পোকার উপদ্রব শুরু হয়েছে। এতেকরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে কৃষকদের মাঝে।

নাচোলের নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের জানান, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আমন চাষ শুরু হয়। কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেয় নভেম্বরের মাঝামাঝিতে। কিন্তু এবার অনেক আগেই কারেন্ট পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। এতে করে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ফতেপুর ইউনিয়নের সিংরইল গ্রামের কৃষক দুরুল হোদা বলেন, কারেন্ট পোকা দমনের প্রয়োজনীয় কীটনাশক বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে হাজারো কৃষক চরম বিপদে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, সময়মতো পোকা দমন করতে না পারলে এবার ধান উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।  

নেজামপুর বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী ইয়াহিয়া খালেদ জানান, প্রতিদিন শত শত কৃষক তার দোকানে আসছেন কারেন্ট পোকা দমনের কীটনাশক কিনতে। কিন্তু কোম্পানিগুলোর সরবারহ না থাকায় প্রয়োজনীয় কীটনাশক না পেয়ে অনেক কৃষকই ফেরত যাচ্ছেন।

নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সত্যেন কুমার জানান, ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা হয়েছে। কারেন্ট পোকা দমনে ধান ক্ষেতে আলোক ফাঁদ তৈরির জন্য কৃষকদের বলা হচ্ছে। তবে কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা। তিনি বলেন, এখনো আতংকিত হওয়ার মত কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

 



বিশেষ প্রতিবেদন

খালেদা জিয়ার ফেরার খবরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত

রাজকুমার নন্দী : চিকিৎসা শেষে আগামীকাল বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনটি মামলায় পরোয়ানা থাকলেও বেগম জিয়ার দেশে ফেরার খবরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় তিন মাস অবস্থানকালে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সুতরাং খালেদা জিয়া দেশে ফিরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেবেন। তাদের প্রত্যাশা, বেগম জিয়া ফিরলে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আংশিক কমিটিগুলো দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ হবে। ছাত্রদল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দলসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর নতুন কমিটিও শিগগিরই ঘোষিত হবে। এছাড়া পূরণ হবে দলের একাধিক শূন্য পদ, বাস্তবায়িত হবে ‘এক নেতার এক পদ’র বিধান, সম্পন্ন হবে তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও। এর মধ্য দিয়ে স্থবির হয়ে পড়া সাংগঠনিক কর্মকান্ডে গতি আসবে, যা বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে যান খালেদা জিয়া।

গত ৯ অক্টোবর কুমিল্লা ও ১২ অক্টোবর ঢাকার আদালতে পৃথক তিনটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বেগম জিয়া দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় তা মোকাবেলা করবেন বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এদিকে, চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলেও এই সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলেছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। কারণ, বিএনপি প্রধানের এই সফরের মাধ্যমে আসতে পারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া দেশে ফিরে উপযুক্ত সময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। তারা বলছেন, এই রূপরেখা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে শেষপর্যন্ত তাদেরকে রাজপথের আন্দোলনেও যেতে হতে পারে। সেজন্য ওই ইস্যুতে জনমত তৈরিতে খালেদা জিয়া বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন জেলা সফরে যেতে পারেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খালেদা জিয়া দেশে এসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য বিরোধী দলের রাজনীতিতে যা যা করা দরকার তিনি তা-ই করবেন।

গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণ দুইভাগে ভাগ করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও কোনো কমিটিই এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। নেতাকর্মীদের আশা, খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে দুই কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হবে। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান দৈনিক করতোয়াকে জানান, কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) দেশে ফিরলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। উত্তরের অধীন থানাগুলোর কমিটি গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর অধীন ২৬টি থানা কমিটিও ঘোষণা করা হবে। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারও জানান, মহানগর দক্ষিণের কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দক্ষিণের অধীন থানা ও ওয়ার্ড কমিটিও ঘোষণা করা হবে। এদিকে, গত ১৭ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং সাত সদস্যবিশিষ্ট মহানগর দক্ষিণের আংশিক কমিটিও ঘোষিত হয়। জানতে চাইলে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব দৈনিক করতোয়াকে বলেন, যুবদলের কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলে ২৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাত সদস্যবিশিষ্ট নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া গত ১ মে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষিত হয়। জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, কমিটি প্রায় চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলে স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এদিকে, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর মহিলা দলের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিনটি কমিটিই পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে এসব কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে বলে নেতাকর্মীদের আশা।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ঘোষণা করা হয় ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ অক্টোবর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর গত ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণের এক বছর পূর্ণ করেছে। অন্যদিকে, দেড় যুগ আগের কমিটি দিয়ে চলছে কৃষক দল। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ১৬ মে তৃতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কৃষক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে মৎস্যজীবী দলের তিন সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওই কমিটিই এখনো বহাল রয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে তাঁতী দলও। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশা, দলীয় চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে দ্রুততম সময়ে এসব কমিটি ঘোষিত হবে। এদিকে, দল পুনর্গঠনেও কিছু সিদ্ধান্ত এখনো বাকি রয়েছে বিএনপির। স্থায়ী কমিটির তিনটি শূন্য পদসহ দুইটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদকের পদও এখনো খালি রয়েছে। এছাড়া দলাদলি ও কোন্দলের কারণে গত দেড় বছরের বেশি সময়েও সম্পন্ন হয়নি তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫০টির মতো জেলার কমিটি গঠিত হয়েছে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে এই শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন বিমানবন্দর থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসভবন পর্যন্ত জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা করছে দলটি। এ লক্ষ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইতোমধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার দলীয় নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকও করেছেন। এছাড়া ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের নিয়েও বৈঠক করেন।

জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে গেলে এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসলে যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়, দলের নেতাকর্মীরা এবারো বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন। আমরা বরাবরই এভাবে করে থাকি। এজন্য আলাদাভাবে কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। খালেদা জিয়া দেশে এলে তাঁকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হবে বলে জানান শামসুজ্জামান দুদু।

 


রাজশাহী বিভাগ

বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত

 বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : বড়াইগ্রামে দুই কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে আব্দুস সোবহান (৩৮) নামে একজন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বনপাড়া-হাটিকুমরুল-ঢাকা মহাসড়কের রয়না ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সোবহান টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার ডোলকাম গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে ও দুর্ঘটনা কবলিত ওয়াল্টন কোম্পানীর গাড়ির হেলপার।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই ননী গোপাল জানান, মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাট থেকে গাজীপুরগামী ওয়াল্টন কোম্পানীর মালামাল পরিবহনের কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ঢ ৬২-০০৬২) কে রয়না ফিলিং স্টেশন থেকে মহাসড়কে উঠার সময় প্রাণ আরএফএল কোম্পানীর অপর একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো উ ১১-৩৬৮৩) ধাক্কা দেয়। এতে ওয়াল্টন কোম্পানীর কাভার্ড ভ্যানের হেলপার আব্দুস সোবহান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত

 বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : বড়াইগ্রামে দুই কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে আব্দুস সোবহান (৩৮) নামে একজন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বনপাড়া-হাটিকুমরুল-ঢাকা মহাসড়কের রয়না ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সোবহান টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার ডোলকাম গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে ও দুর্ঘটনা কবলিত ওয়াল্টন কোম্পানীর গাড়ির হেলপার।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই ননী গোপাল জানান, মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাট থেকে গাজীপুরগামী ওয়াল্টন কোম্পানীর মালামাল পরিবহনের কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ঢ ৬২-০০৬২) কে রয়না ফিলিং স্টেশন থেকে মহাসড়কে উঠার সময় প্রাণ আরএফএল কোম্পানীর অপর একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো উ ১১-৩৬৮৩) ধাক্কা দেয়। এতে ওয়াল্টন কোম্পানীর কাভার্ড ভ্যানের হেলপার আব্দুস সোবহান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

শেষ দল হিসেবে সুপার ফোরে দক্ষিণ কোরিয়া

সর্বশেষ দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার দশম এশিয়া কাপ হকি শুরু হয়েছিল ওমানকে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। তবে চ্যাম্পিয়নের মতো শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই কোরিয়ানরা হেরে বসে মালয়েশিয়ার কাছে। যে হারটি চ্যাম্পিয়নদের সুপার ফোর নিশ্চিত করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে গ্রুপ পর্বের শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

সোমবার সন্ধ্যায় মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চারবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়া ৪-১ গোলে চীনকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে নাম লেখায় সুপার ফোরে।

গ্রুপ পর্ব শেষ। একদিন বিরতি দিয়ে বুধবার শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় পর্ব। যেখানে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ৪ দল খেলবে সুপার ফোরে এবং শেষ ৪ দল খেলবে পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ।

সুপার ফোরের খেলা শুরু হবে মালয়েশিয়া-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে বুধবার বিকেল ৩ টায়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ভারত খেলবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে। রাত ৮টায় স্থাননির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে জাপান-ওমান।

চোখ বুলানো যাক শেষ হওয়া গ্রুপ পর্বে। ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত ও ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মালয়েশিয়া আছে অপরাজিত। সব ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ ও ওমান। তিন ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১৭ গোল খেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের জালে সবচেয়ে কম গোলও (১টি) দিয়েছে স্বাগতিকরা। সবচেয়ে বেশি ১৬ গোল মালয়েশিয়ার, তারপর ভারত ১৫ গোল।

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

বিশ বছরের পূর্ণতায় পপির কৃতজ্ঞতা

অভি মঈনুদ্দীন : তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নাংিকা পপি এরইমধ্যে চলচ্চিত্রে বিশ বছর পূর্ণ করেছেন। ১৯৯৭ সালের ১৬ মে মুক্তি পায় পপি অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’। প্রথম চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে ছিলেন সেই সময়ের তুমুল ব্যস্ত নায়ক ওমরসানী। মনতাজুর রহমান আকবর এবং ্ওমরসানীর সহযোগিতায় কুলি নিজের অভিনয় দক্ষতা পর্দায় উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন বলে প্রথম চলচ্চিত্রেই পপি দর্শকের মন জয় করে নেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজো পপি দর্শকের মন জয় করে চলেছেন।দেখতে দেখতে চলচ্চিত্রের পথচলায় বিশ বছর পূর্ণ করে এগিয়ে চলেছেন আগামীর পথে। চলচ্চিত্র জীবনের দীর্ঘদিনের এই পথচলা প্রসঙ্গে পপি বলেন,‘ মহান আল্লাহর কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা।

সেই সাথে আমার বাবা মা, আমার প্রথম স্টিল ফটোগ্রাফির ক্যামেরাম্যান চঞ্চল মাহমুদ ভাই, প্রথম সিনেমার পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর ভাই, প্রথম সিনেমার নায়ক ওমরসানী ভাই, সাপ্তাহিক আনন্দ বিচিত্রা’র সম্পাদক প্রয়াত শাহাদত চৌধুরী ভাই, প্রথম সিনেমার প্রযোজক সিদ্দিকুর রহমান ভাই, নায়ক ফারুক ভাই, আলমগীর ভাই, ববিতা ম্যাডাম, নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল ভাই,গুণী বরেণ্য পরিচালক মালেক আফসারী, বাদল খন্দকার , নারগিস আক্তার , সামিয়া জামান, সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়ম-’সহ সাংবাদিক ইমরুল শাহেদ’সহ আমার আরো বহু সুপারহিট চলচ্চিত্রের পরিচালকদের প্রতি। সবাই যার যার অবস্থানে থেকে আমাকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন। সর্বোপরি র্দশকের কাছে আমি অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। কারণ তারাই আমাকে তাদের ভালোবাসা দিয়ে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।’  পপি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ২০০৩ সালে সাংবাদিক ইমরুল শাহেদ’র প্রযোজনা সংস্থা ‘তন্নি তন্ময় কথাচিত্র’ প্রযোজিত কালাম কায়সার পরিচালিত ‘কারাগার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য।

এরপর তিনি নারগিস আক্তারের ‘মেঘের কোলে রোদ’ এবং সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়ম-ের ‘গঙ্গাযাত্রা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৯৫ সালে  খুলনার শিববাড়ির ইব্রাহিম মিয়া রোডের জমিদার বাড়ির কন্যা সাদিকা পারভীন পপি ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে গিনি শহীদুল হক খানের নির্দেশনায় ‘নায়ক’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেন।  পপি প্রসঙ্গে মনতাজুর রহমান আকবর বলেন,‘ পপিকে আমার মেয়ের মতোই মনেকরি। একজন বাবা যখন মেয়েক বিয়ে দিয়ে দেয় তখন তাকে নিয়ে চিন্তা আরো বেড়ে যায়। সে কেমন আছে, সবার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারছে কী না,এমন আরো অনেক ভাবনা। পপিকে নিয়েও আমার চিন্তা ঠিক তেমনি। সে যেখানেই থাকুক, যার চলচ্চিত্রেই কাজ করুক যেন ভালো করে, ভালো থাকে এই দোয়াই আমার আজীবন থাকবে।’

পপির প্রথম সিনেমার নায়ক ওমরসানী বলেন,‘ দূর থেকে ওর জন্য শুধু দোয়া করি ও যেন ভালো থাকে। ’ পপির নিজের অভিনীত প্রিয় চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘কুলি’, ‘কারাগার’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘লাল বাদশা’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘ও আমার ছেলে’, ‘রানী কুঠির বাকী ইতিহাস’, ‘কী যাদু করিলা’ ইত্যাদি। ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top