রাত ৪:১৭, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ খেলাধুলা

দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার কথা ছিল শ্রীলঙ্কার পেসার লাসিথ মালিঙ্গার। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় লিগ স্থগিত হয়েছে এক বছর। ওই সময়ই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে বিপিএলের পঞ্চম আসর। সুযোগ থাকায় বিপিএলের অফার লুফে নিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২৩ উইকেটের মালিক মালিঙ্গা চুক্তি করেছেন রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে। রংপুর রাইডার্সের চেয়ারম্যান মোস্তফা আজাদ মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ক্রিস গেইলকে লিগের শুরু থেকেই পাবে রংপুর রাইডার্স। ফলে বিপিএলের জৌলুস আরও বেড়ে যাবে বলে বিশ্বাস তার।
শ্রীলঙ্কাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাদ দেওয়া মালিঙ্গা প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে যাচ্ছেন। বিদেশী লিগগুলোতে নিয়মিত মুখ মালিঙ্গা। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলছেন দীর্ঘদিন। পাশাপাশি ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সে ও জ্যামাইকান তলাওয়াসে, কাউন্টিতে কেন্ট, বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলেছেন মালিঙ্গা। এবারের বিপিএলে তার অন্তর্ভুক্তি জৌলুস বাড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

প্রসঙ্গত, বাজে ফর্মের কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে নেই লাসিথ মালিঙ্গা। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের দাবি, ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নেই মালিঙ্গা। তাই তাকে ওয়ানডে দলে রাখা হচ্ছে না। জুনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর মালিঙ্গা ১৩ ওয়ানডে খেলেছেন। ভারতের বিপক্ষে কিছুদিন আগেই খেলেছেন টি-টোয়েন্টি সিরিজ

ভক্তদের সুখবর দিলেন মেসি

আর্জেন্টিনাকে রাশিয়া বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ তৈরি করে এক প্রকার বিশ্বজয় করেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও চলছে মেসি বন্দনা।

দারুণ এক হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের টিকিট দেওয়ার পর বার্সেলোনার জার্সিতে নিজেকে রাঙাতে পারেননি মেসি। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে লা লিগায় ম্যাচ ড্র করে মেসিরা। সুয়ারেজের শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়ায় বার্সেলোনা। তবে ম্যাচের ফলাফলে বার্সেলোনা সন্তুষ্ট। কারণ ২২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে এখনও শীর্ষে। দুইয়ে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে তারা।


বার্সেলোনাকে জয় উপহার দিতে না পারলেও ভক্তদের দারুণ এক সুখবর দিয়েছেন ফুটবল জাদুকর। তৃতীয় সন্তানের বাবা হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেসি জানিয়েছেন তার স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো অন্তঃসত্ত্বা।

আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো ইন্সটাগ্রামে লিখেছেন,‘পাঁচজনের পরিবার।’ ২৫ বছরের প্রেমের পর চলতি বছরের ৩০ জুন বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মেসি ও রোকুজ্জো। রোজারিওর একটি বিলাসবহুল হোটেলে ঘটা করেই বিয়ের এই অনুষ্ঠান সারেন মেসি। তাদের বিয়ে ‘শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিয়ে’ খেতাব অর্জন করে। বিয়ের পিড়িতে বসার আগেই এই জুটি ২০০৮ সাল থেকে একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। তাদের ঘরে আছে দুই ছেলে, থিয়াগো ও মাতেও। থিয়াগোর বয়স চার বছর। মাতেও সেপ্টেম্বরে দুই বছর পূর্ণ করেছে। বিয়ের চার মাসের মধ্যেই নতুন সন্তান আগমণের বার্তা দিয়েছেন মেসি ও রোকুজ্জো।

তাই বলে এতটা অসহায় আত্মসমর্পণ

কিম্বার্লির উইকেট আর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ বিবেচনায় ২৭৮ মোটেই নিরাপদ স্কোর নয়। এই পুঁজি নিয়ে জিততে হলে বাংলাদেশের বোলারদের অসাধারণ কিছুই করে দেখাতে হতো। কিন্তু বোলাররা এতটাই অসহায় আত্মসমর্পণ করল যে, পরাজয়ের ব্যবধানটাও কমানো গেল না। দক্ষিণ আফ্রিকা যে ম্যাচ জিতেছে ১০ উইকেটে!

ওয়ানডে ক্রিকেটে কোনো উইকেট না হারিয়ে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটিই। গত বছর বার্মিংহামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৫৫ রান তাড়ায় জেসন রয় ও অ্যালেক্স হেলসের ব্যাটে চড়ে ১০ উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলার ২৮২ রানের জুটি গড়ল নতুন রেকর্ড। বাংলাদেশ আর কিছু রান করলে ওয়ানডেতে উদ্বোধনী জুটির বিশ্ব রেকর্ডটাও হয়ে যেত! সেটা না হওয়ায় সনাৎ জয়াসুরিয়া ও উপুল থারাঙ্গার ২৮৬ রানের উদ্বোধনী জুটির বিশ্ব রেকর্ডটা অক্ষুণ্ণ রয়ে গেল।

তারপরও ডি কক-আমলার ২৮২ রানের জুটির কম রেকর্ড হয়নি। যেকোনো উইকেটেই এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০১৫ সালে হ্যামিল্টনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনি জুটির ২৫৬ ছিল আগের সর্বোচ্চ। একই বছর জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমলা ও রাইলি রুশোর ২৪৭ রান ছিল উদ্বোধনী জুটির আগের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের বিপক্ষেও সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড এখন ডি কক-আমলার। তারা দুজন ছাড়িয়ে গেছেন ১৯৯৭ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার দিপক চুদাসামা ও কেনেডি ওটিয়েনোর ২২৫ রানের জুটিকে।

রেকর্ড জুটির পথে ডি কক ১৪৫ বলে ২১ চার ও ২ ছক্কায় করেছেন ১৬৮ রান। ১১২ বলে ৮ চারে ১১০ রান আমলার। সাত বোলার ব্যবহার করেও এই জুটি ভাঙতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। উল্টো সবাই রান দিয়েছেন মুক্ত হস্তে! অভিষিক্ত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তো ৫ ওভারেই দিয়েছেন ৪৬ রান! শেষ দিকে তবুও জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু নাসির হোসেন বাউন্ডারিতে ডি ককের ক্যাচ ফেলায় সেটাও হয়নি। সেটা হলে ১০ উইকেটের হারটা অন্তত এড়ানো যেত!

এমন হারে মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিটাও ম্লান হয়ে গেল। টেস্ট সিরিজে তিনি সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হয়েছিলেন বারবার। রঙিন পোশাকে জ্বলে উঠলেন প্রথম ম্যাচেই। করলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। যেটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেকোনো ফরম্যাটেই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানদের প্রথম সেঞ্চুরি। মুশফিকসহ প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই উইকেটে থিতু হয়েছিলেন। কিন্তু মুশফিক ছাড়া আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের সংগ্রহটাও তিনশ পেরোয়নি।

কিম্বার্লির ডায়মন্ড ওভালে রোববার টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন মাশরাফি। মুস্তাফিজুর রহমান চোট নিয়ে ছিটকে গেছেন ম্যাচের আগেই। টসের সময় জানা যায়, প্রথম ম্যাচে খেলছেন না তামিম ইকবালও। বাদ পড়েন সৌম্যর সরকার। ওয়ানডে অভিষেক হয় সাইফউদ্দিনের।

ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন লিটন দাস। দুজন শুরুটা করেছিলেন সতর্ক। দারুণ কয়েকটা চার হাঁকান লিটন। এর মধ্যে কাগিসো রাবাদাকে পুল করে মারা চারটা চোখে লেগে থাকার মতো। তবে ইনিংস বড় করতে পরেননি লিটন। ওই রাবাদার বলেই স্লিপে ফাফ ডু প্লেসির দারুণ ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ২৯ বলে করেন ২১ রান।

৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর উইকেটে আসেন সাকিব আল হাসান। অন্য প্রান্তে ইমরুল এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি। ডুয়ান প্রিটোরিয়াসের বলে উইকেটকিপার কুইন্টন ডি কককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৪৩ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ইমরুল করেন ৩১ রান।

তৃতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন মুশফিক ও সাকিব। দুজন দলকে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন। সাকিব ১৭ রানে পৌঁছে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন। সেই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম পাঁচ হাজার রান ও দুইশ উইকেটের ‘ডাবল’ স্পর্শ করেন। এর আগে সবচেয়ে দ্রুততম ২২১ ম্যাচে এই ডাবল ছুঁয়েছিলেন প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। সাকিবের লাগল মাত্র ১৭৮ ম্যাচ!

তবে সাকিবও ইনিংস বড় করতে পারেননি। প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহিরের বলে হাশিম আমলাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাকিব। ২৯ বলে ২ চারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করেন ৪৫। তার বিদায়ে ভাঙে ৫৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।

অন্য প্রান্তে মুশফিক খেলেছেন তার মতোই। সাকিবের বিদায়ের পরপরই অভিষিক্ত ডেন প্যাটারসনকে ছক্কা হাঁকিয়ে মুশফিক ফিফটি পূর্ণ করেন ৫২ বলে। তার নতুন সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। রাবাদার ১৪০ কিলোমিটার গতির একটি বলে হাঁকান দারুণ ছক্কা। তবে তিনিও ইনিংস বড় করতে পারেননি। প্রিটোরিয়াসের স্লোয়ারে ডেভিড মিলারের হাতে ক্যাচ দেওয়া মাহমুদউল্লাহ ২৭ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় করেন ২৬।

বাংলাদেশ দুইশ ছুঁয়েছিল ৩৯ ওভার ২ বলে। রান বাড়ানোর তাড়নায় ২১ বলে ১৯ রান করে রাবাদার বলে ফেরেন সাব্বির রহমান। পরের বলেই ২ রান নিয়ে মুশফিক পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করলেন মুশফিক। ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারের ৯০ ছিল আগের সর্বোচ্চ। ১০৮ বলে সেঞ্চুরি করতে ১০টি চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা হাঁকান মুশফিক। তার এটি পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, ২০১৫ সালের নভেম্বরের পর প্রথম।

দলে ফেরা নাসির হোসেন দুই চার হাঁকিয়েই ৮ বলে ১১ করে ফেরেন। সেঞ্চুরি পর মুশফিকও ৮ বলে একটি চারের বেশি বাউন্ডারি মারতে পারেননি। শেষ ওভারে অভিষিক্ত সাইফউদ্দিনের একটি করে চার ও ছক্কায় বাংলাদেশ পায় ২৭৮ রানের সংগ্রহ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ২০০৭ বিশ্বকাপে গায়ানায় ৮ উইকেট হারিয়ে করা ২৫১ ছিল আগের সর্বোচ্চ। ১০ বছর আগের সেই ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছিল। আর এবার হারল লজ্জার রেকর্ড গড়ে! 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৮/৭ (মুশফিক ১১৬*, ইমরুল ৩১, সাকিব ২৯, মাহমুদউল্লাহ ২৬, লিটন ২১, সাব্বির ১৯; রাবাদা ৪/৪৩, প্রিটোরিয়াস ২/৪৮, তাহির ১/৪৫)।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪২.৫ ওভারে ২৮২/০ (ডি কক ১৬৮*, আমলা ১১০*)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কুইন্টন ডি কক।

নেপালে প্রথম জুরখানে কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ রানার্স আপ

নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডুতে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো প্রথম জুরখানে কুস্তি পালোয়ানি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৭। সাফ রিজিওনাল এ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দল ২টি স্বর্ণসহ মোট ৯টি পদক জিতে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আফগানিস্তান, তৃতীয় হয়েছে স্বাগতিক নেপাল এবং ৪র্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কা।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের শরৎ চন্দ্র ব্যক্তিগত কাবাডে ইভেন্টে আট দেশের খেলোয়াড়কে হারিয়ে স্বর্ণ পদক জয় করেন। প্রথম হওয়ার জন্য তিনি প্রাইজমানি পান ১০০ ডলার। ব্যক্তিগত ইভেন্টে মাইনাস ৭০ কেজি ওজন শেণিতে পাঁচ দেশের খেলোয়াড়কে হারিয়ে স্বর্ণ জয় করেন সিরাজুল ইসলাম। তিনিও প্রাইজমানি পান ১০০ ডলার।

এদিকে, দলীয় ডিসপ্লে ইভেন্টে আফগানিস্তানের কাছে পরাজিত হওয়ার ফলে রৌপ্য পায় বাংলাদেশ। দলীয়ভাবে ২০০ ডলার প্রাইজমানি পায় বাংলাদেশের কুস্তিগিররা। কুস্তি ইভেন্টে মাইনাস ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে ভারতকে হারিয়ে এবং আফগানিস্তানের কাছে হেরে রৌপ্য পদক পায় রঞ্জু আহমেদ। কুস্তিতে মাইনাস ৯০ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ পদক পান মিজানুর রহমান।

জুরখানে ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের সিরাজুল ইসলাম ও রঞ্জু আহমেদ দুজনই পান রৌপ্য পদক। এছাড়া, হেভী মিলবাজি ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক পায় মগনু মারমা। মিলবাজি ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পান দিপু চন্দ্র। ট্রফি ও মেডেলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইজমানি হিসেবে পায় ৪০০ ডলার, রানার্স আপ ২০০ ডলার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী পায় ১০০ ডলার।

উল্লেখ্য, প্রথম জুরখানে কুস্তি পালোয়ানি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশসহ স্বাগতিক নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও ভারত অংশগ্রহণ করে। চ্যাম্পিয়নশিপে কোচসহ মোট ৯ সদস্যের বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করেছিল।

এমন হারের পর মাশরাফি যা বললেন

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করেছিল প্রিয় ফরম্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। কিন্তু সেটা আর হয়নি। অন্তত প্রথম ওয়ানডেতে। রেকর্ড গড়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি ১০ উইকেটের ব্যবধানে জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক ১৬৮ ও হাশিম আমলা ১১০ রানে অপরাজিত থেকে রেকর্ড গড়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এমন লজ্জাজনক হারের পর মাশরাফি জানিয়েছেন বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার উপর চাপ তৈরি করতে পারেনি। রান নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। মুশফিকের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন। কৃতিত্ব দিয়েছেন কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলাকে। তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি অনুভব করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের সফল ওয়ানডে অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু ক্রিকেটে নয়, সব ধরণের খেলাধুলায়ই এমনটা ঘটে।

ম্যাচ শেষে মাশরাফি বলেন, ‘আমি মনে করি মুশফিক খুব ভালো ব্যাট করেছে। ব্যাটসম্যানদের পক্ষ থেকে ভালো প্রচেষ্টা ছিল। উইকেট বেশ ভালো ছিল। আমাদের আরো রক্ষণাত্মক বোলিং করা উচিত ছিল। যেহেতু এটি ভালো উইকেট ছিল, সেহেতু আমরা জানতাম যে আমাদের উইকেট নিতে হবে। কিন্তু আমরা শুরুতে কোনো উইকেট নিতে পারিনি। কোনো ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে আপনি যদি দুই প্রান্ত থেকেই রান আটকাতে পারেন, চাপ তৈরি করতে পারেন, তাহলে উইকেট আসবে। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি।’

ডি কক ও হাশিম আমলাকে কৃতিত্ব দিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘সমস্ত কৃতিত্ব দিতে হবে হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কককে। আমরা ভেবেছিলাম তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র কোনো ব্যাটসম্যান টপ অর্ডারে ভালো খেলবে। মুশফিক সত্যিই দারুণ ব্যাটিং করেছে। তবে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ক্রিকেটে এমনটা ঘটে। সব খেলাধুলায়ই এমনটা হয়। আশা করছি পরের ম্যাচে তামিমকে আমরা পাব।



অন্যান্য খেলা

নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডুতে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো প্রথম জুরখানে কুস্তি পালোয়ানি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৭। সাফ রিজিওনাল এ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দল ২টি স্বর্ণসহ মোট ৯টি পদক জিতে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আফগানিস্তান, তৃতীয় হয়েছে স্বাগতিক নেপাল এবং ৪র্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কা।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের শরৎ চন্দ্র ব্যক্তিগত কাবাডে ইভেন্টে আট দেশের খেলোয়াড়কে হারিয়ে স্বর্ণ পদক জয় করেন। প্রথম হওয়ার জন্য তিনি প্রাইজমানি পান ১০০ ডলার। ব্যক্তিগত ইভেন্টে মাইনাস ৭০ কেজি ওজন শেণিতে পাঁচ দেশের খেলোয়াড়কে হারিয়ে স্বর্ণ জয় করেন সিরাজুল ইসলাম। তিনিও প্রাইজমানি পান ১০০ ডলার।

এদিকে, দলীয় ডিসপ্লে ইভেন্টে আফগানিস্তানের কাছে পরাজিত হওয়ার ফলে রৌপ্য পায় বাংলাদেশ। দলীয়ভাবে ২০০ ডলার প্রাইজমানি পায় বাংলাদেশের কুস্তিগিররা। কুস্তি ইভেন্টে মাইনাস ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে ভারতকে হারিয়ে এবং আফগানিস্তানের কাছে হেরে রৌপ্য পদক পায় রঞ্জু আহমেদ। কুস্তিতে মাইনাস ৯০ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ পদক পান মিজানুর রহমান।

জুরখানে ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের সিরাজুল ইসলাম ও রঞ্জু আহমেদ দুজনই পান রৌপ্য পদক। এছাড়া, হেভী মিলবাজি ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক পায় মগনু মারমা। মিলবাজি ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পান দিপু চন্দ্র। ট্রফি ও মেডেলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইজমানি হিসেবে পায় ৪০০ ডলার, রানার্স আপ ২০০ ডলার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী পায় ১০০ ডলার।

উল্লেখ্য, প্রথম জুরখানে কুস্তি পালোয়ানি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশসহ স্বাগতিক নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও ভারত অংশগ্রহণ করে। চ্যাম্পিয়নশিপে কোচসহ মোট ৯ সদস্যের বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করেছিল।

প্রথম বিভাগ কাবাডিতে সানশাইন স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন

বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং এ্যাডটাচ স্পোর্টস এন্ড লাইভ ইভেন্ট এর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম বিভাগ কাবাডি লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সানশাইন স্পোর্টিং ক্লাব।

আজ রোববার ফাইনালে সানশাইন স্পোটিং ক্লাব ৪৭-৪৫ পয়েন্টে স্টার স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

চ্যাম্পিয়ন দল ৩০ হাজার,  রানার্স আপ দল ২০ হাজার টাকা এবং সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ২টি দলকে ১০ হাজার টাকা করে প্রাইজমানি দেওয়া হয় ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও বিজিত দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন একেএম শহীদুল হক, বিপিএম, পিপিএম, ইন্সপেক্টর জেনারেল ও বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সভাপতিত্ব করেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও উপ-পুলিশ কমিশনার, আইএডি মো. আলমগীর কবীর ।

বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার) পিপিএম, অতিরিক্ত ডিআইজি (সংস্থাপন) বাংলাদেশ পুলিশ উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার ক্রীড়া সাংবাদিক ও উপস্থিত ক্রীড়ামোদি দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

বর্ষসেরা অ্যাথলেটের তালিকায় নেই বোল্ট

আটবারের অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১১টি স্বর্ণজয়ী, এখনও ১০০ এবং ২০০ মিটার স্প্রিন্টের বিশ্বরেকর্ডের মালিক উসাইন বোল্টের কি না নাম নেই বর্ষসেরা অ্যাথলেটের তালিকায়? শুনতে অবিশ্বাস্য ঠেকলেও এমনটাই হয়েছে। এর আগে ছয়বার জিতলেও এবার আইএএএফ বর্ষসেরা অ্যাথলেটের মনোনয়ন তালিকায় জায়গা পাননি জ্যামাইকান এই গতিতারকা।

২০১৭ সালের লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর স্প্রিন্টকে বিদায় বলেছেন বোল্ট। সারাজীবন প্রথম হওয়া এই গতিতারকা জীবনের শেষ স্প্রিন্টে হয়েছিলেন তৃতীয়! বর্ষসেরা অ্যাথলেটের তালিকায় জায়গা পাননি তার স্বদেশী স্প্রিন্ট তারকা জাস্টিন গ্যাটলিনও।

 

তবে অনুমিতভাবেই এই তালিকায় পুরুষ দৌড়বিদদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটেনের ১০ হাজার মিটার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মো ফারাহ। জায়গা পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ৪০০ মিটারজয়ী দৌড়বিদ ওয়েড ফন নিকার্কও।

এশিয়ান ইনডোর দাবায় রাজীব পঞ্চম

এশিয়ান ইনডোর অ্যান্ড মার্শাল আর্টস গেমস দাবার এককে পঞ্চম হয়েছেন বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব। তুর্কমেনিস্তানের আশগাবাদে চলমান গেমস দাবায় রাজীবসহ ৪ জন ৭ খেলায় ৫ পয়েন্ট করে নিয়ে ব্রোঞ্জ মেডেলের জন্য টাই করেন। টাইব্রেকিংয়ে ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার কৃষ্ণান শশীকিরণ তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। কিরগিজস্তানের গ্র্যান্ডমাস্টার মারকভ মিখাইল চতুর্থ, রাজীব পঞ্চম এবং ইরানের গ্র্যান্ডমাস্টার ইদানি পোয়া ষষ্ঠ হয়েছেন।

বাংলাদেশের আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার মোল্লা আব্দুল্লাহ আল রাকিব ৪ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছেন ১৭তম। মহিলা বিভাগে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা ৭ খেলায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৪তম এবং মহিলা ফিদে মাস্টার শারমীন সুলতানা শিরিন ৩ পয়েন্ট নিয়ে ২৬তম হয়েছেন।

রোববার সপ্তম বা শেষ রাউন্ডে রাজীব ভিয়েতনামের গ্র্যান্ডমাস্টার দাও দিয়েন হাইকে পরাজিত করেন এবং রাকিব কাজাকস্তানের গ্র্যান্ডমাস্টার যুমায়েভ রিনাতের সাথে ড্র করেন। মহিলা বিভাগে লিজা ইন্দোনেশিয়ার মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার আওলিয়া মাদিনা ওয়ারদার কাছে ও শিরিন তুর্কমেনিস্তানের ফিদে মাস্টার হালায়েভা বাহারের কাছে হেরে যান।

ইউএস ওপেন নাদালের

বছরটায় আগুনে ফর্মে রয়েছেন রাফায়েল নাদাল। গত জুনে জিতেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেন।  এবার ২০১৩ সালের পর আরেকটি শূন্যতা পূরণ করলেন। জিতলেন বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম। দক্ষিণ আফ্রিকার কেভিন অ্যান্ডারসনকে হারিয়ে ঘরে তুলেছেন এবার ইউএস ওপেনের শিরোপা।

 

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর তারকা বলেই জয়টা ছিল একপেশে। ৬-৩, ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন অ্যান্ডারসনকে।

এই জয় দিয়ে শিরোপার দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। ১৯টি গ্র্যান্ড স্লাম নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন রজার ফেদেরার। ১৬টি নিয়ে পরেই রয়েছেন নাদাল। ১৪টি নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পিট সাম্প্রাস।

বছরে যখন দুটি শিরোপা তুলেছেন তাই আবেগটা ভিন্নভাবেই প্রকাশ করলেন ৩১ বছর বয়সী তারকা, ‘এ বছরে যা হলো তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’বেশ কয়েক বছর ইনজুরিতে ভুগেছেন। যার প্রভাব পড়েছিল পারফরম্যান্সেও, ‘অনেক বছরই ইনজুরি, নানা ঝক্কি ঝামেলায় ভালো খেলতে পারিনি। তাই মৌসুমের শুরু থেকে আমি খুবই আবেগপ্রবণ ছিলাম।’

এই বিভাগের আরো খবর

নাদালের ‘সুইট সিক্সটিন’

কেভিন অ্যান্ডারসনের সামনে ছিল ইতিহাসের হাতছানি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার এই টেনিস খেলোয়াড় গড়তে পারলেন না প্রতিদ্বন্দ্বিতাই। তাকে সরাসরি সেটে উড়িয়ে দিয়ে ইউএস ওপেন শিরোপা জিতেছেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল।

নাম্বার ওয়ান নাদাল নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিংমিডোতে রোববারের ফাইনালে ২ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের লড়াইয়ে ম্যাচ জিতেছেন ৬-৩, ৬-৩, ৬-৪ গেমে।

৩১ বছর বয়সি নাদালের এটি তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা। আর ক্যারিয়ারের ১৬তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। ১৯ গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা নিয়ে তার ওপরে আছেন কেবল সুইস কিংবদন্তি রজার ফেদেরার।

এই নিয়ে চতুর্থবার বছরের চারটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপাই ভাগ করে নিলেন নাদাল ও ফেদেরার। প্রথমবার এমনটা হয়েছিল ১১ বছর আগে, ২০০৬ সালে। অন্য দুবার ২০০৭ ও ২০১০ সালে।

২০১৩ সালের পর এই প্রথম একই বছরে দুটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতলেন নাদাল। গত জুনে জিতেছিলেন ফ্রেঞ্চ ওপেন। এ বছরের অন্য দুটি গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতা অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডন জিতেছেন ফেদেরার।

অথচ চোট নাদালের ক্যারিয়ারটাই এক পর্যায়ে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। সেখান থেকে কী দুর্দান্তভাবেই না ফিরেছেন। একের পর এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে চলেছেন। গত মাসে ২০১৪ সালের পর প্রথমবার উঠেছেন র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে।

এ বছরটাকে তাই তো ‘অবিশ্বাস্য’ বলছেন নাদাল, ‘অবশ্যই আমার জন্য বিশেষ দুটি সপ্তাহ কাটল। কয়েক বছর বিভিন্ন ঝামেলা, চোট, ভালো না খেলার পর এ বছরে যা কিছু হলো; এটা অবিশ্বাস্য। মৌসুমের শুরু থেকে এটা ছিল খুবই আবেগঘন।’

চাচা এবং দীর্ঘদিনের কোচ টনির পাশে নাদালের একসঙ্গে কাজ করা শেষ গ্র্যান্ড স্লাম ছিল এই ইউএস ওপেন। নাদালের এই নাদাল হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় অবদান তার চাচার। তাই তো চাচার প্রতি স্প্যানিশ তারকার বিনয়, ‘আমার জন্য তিনি যা কিছু করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ যথেষ্ট নয়। সম্ভবত তাকে ছাড়া আমি টেনিসই খেলতে পারতাম না। এটা দারুণ যে তার মতো কেউ একজন ছিল, যিনি সব সময় আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। অবশ্যই তিনি আমার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন।’

অ্যান্ডারসন এবারই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো টেনিস খেলোয়াড় গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি জিততে পারেনি। অ্যান্ডারসনের সামনে ছিল তাই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। নাদালের সঙ্গে মুখোমুখি আগের চারবারের দেখায় প্রতিবারই তিনি হেরেছিলেন। হারলেন আরেকবার, বাধা হতে পারলেন না নাদালের ‘সুইট সিক্সটিন’-এর পথে।
 

এই বিভাগের আরো খবর

স্টেফেন্সের ইউএস ওপেন জয়

ছয় সপ্তাহ আগেও র‌্যাংকিংয়ে ৯৫৭ নম্বরে ছিলেন স্লোন স্টেফেন্স। পায়ের চোট তাকে নামিয়ে দিয়েছিল অনেক নিচে। ১১ মাস পর ফিরেছিলেন উইম্বলডনে। প্রথম রাউন্ডেই নিয়েছিলেন বিদায়। কিন্তু দুই মাসে অনেক কিছু বদলে গেছে তার। ১৬ ম্যাচের ১৪টি জিতে অবাছাই এ আমেরিকান উঠলেন প্রথম কোনও গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে। জিতলেন ইউএস ওপেন শিরোপা।

আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়ামে শনিবার গ্যালারি মুখরিত ছিল আমেরিকানদের উৎসাহ-উদ্দীপনায়। কারণ তারা নিশ্চিত ছিল তাদের ঘরেই থাকছে ইউএস ওপেন শিরোপা। প্রতিপক্ষ দুজনই যে আমেরিকার। স্টেফেন্সের মতো তার স্বদেশী ম্যাডিসন কিসেরও এটি প্রথম ফাইনাল। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বও বেশ। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পর পেশাদারিত্ব হয়ে উঠলো তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২৪ বছর বয়সী স্টেফেন্স ১৫তম বাছাই কিসকে হারিয়েছেন ৬-৩, ৬-০ গেমে। উন্মুক্ত যুগে মেয়েদের এককে পঞ্চম অবাছাই হিসেবে কোনও গ্র্যান্ড স্লামে চ্যাম্পিয়ন হলেন র‌্যাংকিংয়ের ৮৩ নম্বরে থাকা এ তরুণী।

২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে জেনিফার ক্যাপ্রিয়াতির পর উইলিয়ামস পরিবারের বাইরে প্রথম কোনও আমেরিকান মেয়ে গ্র্যান্ড স্লামে চ্যাম্পিয়ন হলো।

২.৮৪ মিলিয়ন পাউন্ড জয়ের পর বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাঝে দুলছিলেন স্টেফেন্স। তবে ছোটবেলার বন্ধুকে হারানোর পর উচ্ছ্বাসের লাগাম টেনে ধরেছেন তিনি, ‘জানুয়ারিতে অস্ত্রোপচার হয়েছিল আমার। তখন যদি কেউ বলতো আমি ইউএস ওপেন জিতব, সঙ্গে সঙ্গে বলতাম অসম্ভব। এ পথচলা দারুণ। আর এ প্রতিযোগিতায় ম্যাডিসন ছিল আমার অন্যতম সেরা বন্ধু। আমি তাকে বলেছিলাম ম্যাচটা যদি ড্র হতো।’

এই বিভাগের আরো খবর

চোট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করলেন বোল্ট

মৌসুমটা তার নিজের ছিল না। যার প্রমাণ আগেই পাওয়া গিয়েছিল বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটারে। যদিও তাতে চোটে আক্রান্ত হওয়ার মতো কিছুই ছিল না। কিন্তু ৪x১০০ মিটার রিলেতে একেবারে চোট নিয়েই ক্যারিয়ার শেষ করতে হয়েছে জ্যামাইকান গতি দানবকে!

লন্ডন স্টেডিয়ামে সবার শেষে ব্যাটনটা হাতে ঠিকই দৌড় দিয়েছিলেন জ্যামাইকান গতিদানব। দৌড়ও শুরু করেছিলেন ক্ষিপ্র গতিতে। কিন্তু শুরুর কিছুক্ষণ পরই লাফিয়ে-খুঁড়িয়ে জানান দিলেন-হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন তিনি! শেষ পর্যন্ত দৌড় আর শেষ করা হয়নি তার। তার জায়গায় স্বর্ণ জিতে নেয় গ্রেট ব্রিটেন। ৩৭.৪৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে তারা।  এরপরেই ৩৭.৫২ সেকেন্ড সময় নিয়ে রৌপ্য জেতে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ জেতে জাপান।
দীর্ঘদিন বিশ্ব কাঁপানো এই দৌড়বিদ ঘোষণা দিয়েছিলেন এই আসরেই ১০০ মিটার ও রিলেতে দৌড়ে শেষ করবেন ক্যারিয়ার। হয়তো লক্ষ্য ছিল রাঙানোর। শেষ পর্যন্ত হতাশাকে সঙ্গী করেই বিদায় নিলেন তিনি!

এই বিভাগের আরো খবর

দেরি হওয়ায় ইনজুরিতে বোল্ট!

লন্ডনে অনেক আশা নিয়ে ৪x১০০ মিটার রিলের শেষ ল্যাপে ব্যাটন হাতে নিয়েছিলেন বোল্ট। লক্ষ্য ছিল সবার আগে পৌঁছে রঙিন এক ক্যারিয়ার শেষ করার দিকে।  ভাগ্যদেবী হয়তো সহায় ছিলেন না। ক্ষিপ্র গতিতে দৌড় শুরুর পরই পেশিতে টান লেগে পড়ে যান মাটিতে। দৌড় শেষ না করে সতীর্থদের সহায়তায় ট্র্যাক ছেড়ে যেতে হয় জ্যামাইকান তারকাকে। সেই সতীর্থরাই বোল্টের ইনজুরির দায় চাপাচ্ছেন কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে! সতীর্থ ইয়োহান ব্লেকের দাবি , ‘দৌড় ১০ মিনিট দেরিতে শুরু হয়েছিল। আমরা প্রায় ৪০ মিনিটের মতো ছিলাম। আমাদের অনেকক্ষণ রেখে দিয়েছিল।’

 

এর আগে ১০০ মিটারেও স্বর্ণ জিততে পারেননি বোল্ট। গতি দিয়ে দীর্ঘদিন মোহাচ্ছন্ন করে রাখা বোল্ট সেই জায়গায় জিতেছেন ব্রোঞ্জ! তাই রিলেতে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর ইচ্ছা থাকলেও শেষটায় সঙ্গী হয়েছে হতাশা। তার আক্ষেপটা এভাবেই প্রকাশ করেছেন ১০০ মিটারের সাবেক এই চ্যাম্পিয়ন, ‘এটা আসলেই আঘাত করে। যখন একজন কিংবদন্তিতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।’

এক নজরে বোল্টের কীর্তি

২০০৭ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-রৌপ্য (২০০ মিটার), রৌপ্য (৪x১০০ মিটার)

২০০৮ অলিম্পিক-স্বর্ণ (১০০ মিটার), স্বর্ণ (২০০ মিটার)

২০০৯ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-স্বর্ণ (১০০ মিটার), স্বর্ণ (২০০ মিটার), স্বর্ণ (৪x১০০ মিটার)

২০১১ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-স্বর্ণ (২০০ মিটার), স্বর্ণ (৪x১০০ মিটার)

২০১২ অলিম্পিক- স্বর্ণ (১০০ মিটার), স্বর্ণ (২০০ মিটার), স্বর্ণ (৪x১০০ মিটার)

২০১৩ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-স্বর্ণ (১০০ মিটার), স্বর্ণ (২০০ মিটার), স্বর্ণ (৪x১০০ মিটার)

২০১৫ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ-স্বর্ণ (১০০ মিটার), স্বর্ণ (২০০ মিটার), স্বর্ণ (৪x১০০ মিটার)

২০১৬ অলিম্পিক- স্বর্ণ (১০০ মিটার), স্বর্ণ (২০০ মিটার), স্বর্ণ (৪x১০০ মিটার)

২০১৭ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ- ব্রোঞ্জ (১০০ মিটার)

এই বিভাগের আরো খবর

Go Top