রাত ৪:০১, বৃহস্পতিবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ বিশেষ প্রতিবেদন

আনোয়ারুল হক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) :  কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বেশ কিছু সেতু এক একটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জান মালের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে সেতুগুলো দিয়ে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের দুধকুমার নদের উপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত  প্রায় ১৩৫ বছরের পুরানা পাটেশ্বরী রেল সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। নড়বড়ে সেতুটি যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে ঘটতে পাড়ে বড় রকমের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সোনাহাট স্থল বন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম। পাথরডুবী ইউনিয়নের ফুলকুমার নদের উপর নির্মিত থানাঘাট সেতু নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা নির্মিত হওয়ায় মেয়াদ ঊত্তীর্ণ হওয়ার আগেই তিন খন্ডে খন্ডিত হয়ে কোন মতে দাড়িয়ে আছে।

এক খন্ডের সাথে অন্য খন্ডকে লোহার রড দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রায় মাস আগে ভাঙ্গা সেতুর পাশে অপর একটি সেতু নির্মাণ শুরু হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে বর্তমান সেতুটির নিমাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে লোহার রডে বাঁধা সেতুই তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা। একই ইউনিয়নের বাঁশজানি গ্রামের নাউডোর সেতুটি এবারের বন্যায় পুরোপুরি ভেঙে গেলে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার জনসাধারণ। বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। শিলখূঁড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গায় গদাধর নদের উপর নির্মিত শালঝোড় সেতু ঠিকঠাক দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য এলাকাবাসী বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করেছে প্রায় পনের ফুট লম্বা সংযোগ সড়ক।

নদী দ্বারা বিছিন্ন সীমান্তবর্তী শালঝোড়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে বাঁশের সাঁকোর উপরেই নির্ভর করছেন এলাকাবাসী। বলদিয়া ইউনিয়নের বলদিয়া স্কুল এন্ড কলেজের পিছন দিকের রাস্তার উপর নির্মিত সেতুর দুইপাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন ওই এলাকার জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা। একই ইউনিয়নের বলদিয়া মরা নদীর (ছড়া) উপর নির্মিত সেতুর পশ্চিম দিকে এ্যাপ্রোচসহ সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন যাবত ভাঙ্গা থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে ওই এলাকার জনসাধারণকে। বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া গ্রামের সড়কের উপর নির্মিত সেতুর এক প্রান্তের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। সেতুগুলো সর্ম্পকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্থ সেতুগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, বরাদ্দ প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ধুনটে সুবিধা বঞ্চিত প্রতিবন্ধীদের মাঝে আলোর ছটা

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) : কেউ বাক, কেউ দৃষ্টি, কেউ শারীরিক আবার কেউবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। দারিদ্র্য আর অসচেতনতায় এসব প্রতিবন্ধীর অক্ষরজ্ঞান লাভের সুযোগ পূর্বে হয়নি কখনো। তারাই বর্তমানে একসঙ্গে বসে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অক্ষর জ্ঞান শিখছে। ওদের মত করে প্রতিবন্ধীদের অক্ষরজ্ঞান শেখান মোর্শেদা হক নামে এক এনজিও কর্মী। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি গ্রামে সুবিধা বঞ্চিত প্রতিবন্ধীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে গড়ে তোলেন উজ্জীবিত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ক্লাব। এই ক্লাবের আওতায় বৈকালিক পাঠাশালায় সে¦চ্ছায় স্বাক্ষরজ্ঞান শেখানোসহ প্রতিবন্ধীদের পরিবেশ, পুষ্টি, খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও নৈতিক শিক্ষায় সচেতন করেন। প্রতিবন্ধীরা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে শেখানো হচ্ছে এমন কর্মমুখী শিক্ষা। বৈকালিক পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা মোর্শেদা হক ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামে বেসরকারি সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা (সোস্যাল)।

তিনি এ উপজেলার স্বাস্থ্য বিষয় নিয়ে কাজ করেন। মানবসেবার ব্রত নিয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করে এই সংস্থায় চাকরি নেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে কাজের পরিকল্পনা করেন। সংস্থার কাজে তিনি চৌকিবাড়ি গ্রামে যান। সেখানে দেখা মেলে নানা বয়সী ৪০ জন প্রতিবন্ধী। এরা সবাই একই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের নিয়ে ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ কাজ শুরু করেন। চাকরির কাজ শেষ করে তিনি প্রতিবন্ধীদের পাঠাশালা পরিচালনা করেন। বিন্যামূল্যে তাদের শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। প্রত্যেক শনি, সোম ও বুধবার বিকেলে একঘন্টা করে শিক্ষা দেন। মানবসেবার ব্রতের সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধকতা জয় করার স্বপ্নে নিরন্তর কাজ করছেন। সরেজমিন দেখা যায়, চৌকিবাড়ি গ্রামের জনৈক ব্যক্তি টিনের তৈরি একটি ঘরের ব্যবস্থা করেছেন। ওই ঘরের মেঝেতে প্রতিবন্ধীরা বসে। এটাই ওদের পাঠশালা।

ইশারা আর ইঙ্গিতে চলে ওদের অভিব্যক্তি বিনিময়। ঘরের মেঝেতে বসে আছেন মোর্শেদা হক। কেউ আসছে বাবার হাত ধরে, কেউবা মা ও দাদি-নানির কোলে পিঠে চড়ে। সেখানে ৪০ জন প্রতিবন্ধীর পাঠদান চলছে। এর মাঝে কেউ খেলাধুলা করছে। কেউ মনের মাধুরী মিশিয়ে ছবি আঁকায় ব্যস্ত। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে খেলাধুলা, বনভোজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাংকনসহ নানা কর্মকান্ড করেন তিনি। এই পাঠশালায় বর্ণমালা লিখন শিখেছে আপন (৭), তানিয়া খাতুন (১০) ও জাকির হোসেনসহ (৮) অনেকে। তানিয়ার মা হাওয়া বেগম বলেন, আমার বেটি এহানে আইসা নেহা শিখছে। ইশারাত কতাও কইবার পায়। জাহেনারা খাতুন বলেন, প্রায় আধা মাইল পথ মেয়েকে কোলে নিয়ে ইস্কুলোত আসি। পড়াল্যাখা শিখা যদিল মেয়েট্যার কোনো উপকার হয়, তাতেই আমি খুশি। শাহীন আলম ও আসফুল খাতুন তাদের ছেলেমেয়েদের কোলে নিয়ে এখানে আসেন। তারাও একই আকাক্সক্ষার কথা জানান। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবন্ধীদের মাঝে আলো ছড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত পাঠাশালাটি। নিজস্ব ঘর নেই, শিক্ষা-উপকরণ ও আসবাবপত্রের অভাব, প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতে যানবাহন প্রয়োজন। নানা সমস্যা-সংকটের কারণে অনেকের ইচ্ছা থাকলেও সন্তানকে পাঠশালায় নিতে পারেন না। পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা মোর্শেদা হক বলেন, প্রথমে নিজের উদ্যোগে কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে টিএমএসএস এই পাঠশালার প্রতিবন্ধীদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এখানে সব ধরনের প্রতিবন্ধীরা অক্ষর জ্ঞানসহ নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। নিরক্ষর বা অর্ধশিক্ষিত পরিবারের যে প্রতিবন্ধীদের একসময় বোঝা হিসেবে দেখা হতো তারা এখন আলোর পথের যাত্রী।

 

লড়াই হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির জনপ্রিয়তা যাচাই ও উন্নয়নের

মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী : তিনটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রাজশাহী – ৬ আসন (চারঘাট-বাঘা)। সীমান্ত সংলগ্ন এই আসনটি বরাবরই বিএনপির দখলে। তবে ২০০৮ সালে বিএনপি দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনটিতে প্রয়াত বিএনপি নেতা আজিজুর রহমানকে পরাজিত করে দখলে নেয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহরিয়ার আলম। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এতে মনোবল ভাঙেনি বিএনপির। সব মিলিয়ে হারানো মসনদ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। আর কব্জায় থাকা আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। তবে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নিজ দলের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। তারা নিয়মিত চারঘাট-বাঘার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। কিছু কিছু এলাকায় গণসংযোগ ও বৈঠক করেছেন।

১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির দখলে ছিল এ আসনটি। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির দুই বারের সংসদ সদস্য ও প্রয়াত বিএনপি নেতা আজিজুর রহমানকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের নতুন মুখ শাহরিয়ার আলম জয়ী হন। ২০১৪ সালে ফাঁকা মাঠে আসনটি পুনরায় নিজেদের দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি আগামী নির্বাচনেও নিজেদের কব্জায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সামনে এখন আসনটি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। আর বিএনপির চ্যালেঞ্জ হারানো আসন পুনরুদ্ধারের।  

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চারঘাট-বাঘা আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও এই আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহরিয়ার আলম, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ রায়হানুল হক, বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রমজান আলী।

আর বিএনপি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দুই বারের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, বাঘা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দেবশীষ রায় মধু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন।
তবে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় চারঘাট-বাঘা আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম। ২০০৮ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় থাকার কারণে চারঘাট-বাঘায় রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা ও মন্দির থেকে শুরু করে সবখানেই লেগেছে শাহরিয়ার আলমের উন্নয়নের ছোঁয়া। তাই এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে শাহরিয়ার আলম রয়েছেন সবার আগে। তবে বাকিরাও হাল ছাড়েননি। মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এ আসনে শাহরিয়ার আলম আবারো মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন জানিয়ে চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম বলেন, শাহরিয়ার আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চারঘাট-বাঘায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের হৃদয়ে শাহরিয়ার আলম শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন। তাই আগামী নির্বাচনে শাহরিয়ার আলমের বিকল্প কোন প্রার্থীই এ আসনে নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন বলে মনে হয় না। তাছাড়া তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীই শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্বে একত্রিত আছেন। দলের ভিতরে নেই কোন বিভেদ।  

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ রায়হানুল হক রায়হান বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি তা দল ভালোভাবেই জানে। তারপর একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে আছি। ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে আছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আশা করি জয়ী হব ইনশাল্লাহ।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, চারঘাট-বাঘা আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম ও বিএনপি নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ দুজনেই জনপ্রিয়। তবে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এই আসনটি বিএনপির পূনরুদ্ধার করতে যেমন আবু সাঈদ চাঁদের দরকার, তেমনি কব্জায় রাখতে আওয়ামী লীগের শাহরিয়ার আলমের বিকল্প নেই।
এদিকে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনটিতে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা: আলাউদ্দিন। তিনি বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে দল বদল করে বিএনপির থেকে মনোনয়ন পান ডা: আলাউদ্দিন। ওই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আনিছুর রহমানকে পরাজিত করেন দল বদলকারী ডা: আলাউদ্দিন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান তৎকালীন চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ রায়হানুল হক রায়হান। আর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান এড. কবীর হোসেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রায়হানুল হক রায়হানকে পরাজিত করেন বিএনপির প্রার্থী এড. কবীর হোসেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হারায় বিএনপি। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটি আবারাও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় বেশ কয়েকজন নেতা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, এর আগে দু’বার বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু নানা কারণে পাইনি। আশা করি এবার পাব। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে সিলেট-১)।

 

 

 

দলীয় প্রার্থী চায় আওয়ামী লীগ মিনুতেই ভরসা বিএনপির

মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী : পদ্মা ঘেঁষা শিক্ষানগরী বিভাগীয় শহর রাজশাহী। জাতীয় সংসদের ৫৩ নম্বর আসন। আর জেলা শহর হিসেবে ২ নম্বর নির্বাচনী এলাকা। সদর ও পবা উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-২ আসনটির পুনর্বিন্যাস হয় ২০০৮ সালে। নবম সংসদ নির্বাচনে শুধু সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। দশম সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন।

তবে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অসহযোগিতা করায় তার সাথে দুরুত্ব বেড়েছে। তাই এবার দলীয় প্রার্থী চায় আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন বেশ কয়েকজন নেতা।

অন্যদিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে যেমন তার জনপ্রিয়তা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নগরবাসীর কাছেও।

জোটগত নির্বাচন হলে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে এবারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি এ আসন থেকে টানা দুবারের সংসদ সদস্য। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও ফজলে হোসনে বাদশার সাথে বোঝাপড়ায় মেলেনি আওয়ামী লীগের। বিষয়টি এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নানাভাবে উত্থাপনও করা হয়েছে। সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা সম্পর্কেও কেন্দ্রে নানা ধরনের অভিযোগ করেছেন এখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে নানাভাবে মাঠে নেমে পড়েছেন দলটির বেশ কয়েকজন নেতা। নেতারা যাচ্ছেন মানুষের বাড়ি বাড়ি, নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনও সাঁটাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আব্দুল খালেক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মীর ইকবাল।
তবে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে যদি জাতীয় নির্বাচন হয়, তাহলে এই আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে যার নাম প্রথমে আসে তিনি হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার ছেলে। এরই মধ্যে মেয়র পদেই লিটনকে প্রার্থী হওয়ার জন্য কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তাই খায়রুজ্জামান লিটন যে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না, এটি প্রায় নিশ্চিত হয়েছে।

এদিকে ভোটারদের মতে, সংসদ সদস্য হিসেবে ফজলে হোসনে বাদশা রাজশাহী নগরীর সাধারণ মানুষের মনে তেমন দাগ কাটতে পারেননি। রাজশাহী নগরী উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। নগর উন্নয়নের রূপকার ধরা হয় সাবেক সিটি মেয়র বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুকে। এরপর সেই উন্নয়নের ধারা বেগবান করেন আরেক সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা এএইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। কিন্তু এরপরও বিভাগীয় এই শহরে তেমন কলকারখানা গড়ে না ওঠায় উন্নয়নের দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিলেও জোট রক্ষা করতে হলে শরিকদল ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে মনোনয়ন দিতেই হবে। এরই মধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন ফজলে হোসেন বাদশা। তাকে বিজয়ী হতে নিজ দলের সামান্য ভোটে নয়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপরই আস্থা রাখতে হবে। তবে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ফজলে হোসেন বাদশা স্থানীয় আওয়ামী লীগের আস্থা অর্জন করে বিজয়ী হওয়ার পরিস্থতি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, দল যাকেই নৌকা প্রতীক দিয়ে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার জন্যই কাজ করবো। তিনি বলেন, গত দুইবার রাজশাহী সদর আসনে জোটের প্রার্থী দেয়ায় সংগঠনের ক্ষতি হয়েছে। নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন। সংসদ সদস্যের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কার্যালয় করার জন্যও সহযোগিতা পায়নি নেতাকর্মীরা। সংসদ সদস্য হিসেবে নগরীর তেমন কোন উন্নয়নও করতে পারেননি তিনি। এতে আওয়ামী লীগের ক্ষতি হয়েছে। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে সদর আসনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে কেন্দ্রের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি। তবে এর মানে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যাব না। দল যাকে মনোনয়ন দেবেন, আগামী নির্বাচনে আমরা তার হয়েই কাজ করব।

ডাবুল সরকার বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি মাঠে কাজ করছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে উঠান বৈঠকসহ, নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে যা যা করা দরকার, তাই করছেন তিনি। ফলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখন উজ্জীবিত। আমি জনগণের রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। তাই আগামীতে সুযোগ পেলে এই নগরবাসীর জন্য কিছু করতে চাই বলে জানিয়েছেন ডাবলু সরকার। তবে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, জোট রক্ষা করতে হলে, জোটের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে তাকেই মনোনয়ন দিতে হবে। তারা জোট ভাঙতে চাইলে বিএনপি-জামায়াতের স্বার্থ রক্ষা করবে। আমি যে উন্নয়ন করেছি, তা আওয়ামী লীগের উন্নয়ন, এতে শেখ হাসিনার ইমেজ বেড়েছে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ জোটে ভাঙন সৃষ্টি করতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারাই আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের সাথে তার যোগাযোগ আছে। এসব নেতাকর্মীরা তার সাথে আছেন।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। দলীয় নেতাকর্মীসহ নগরবাসীর কাছেও জনপ্রিয় নেতা। যদিও বর্তমানে মহানগর বিএনপি গ্রুপে বিভক্ত। তবুও জাতীয় নির্বাচনে মিনু প্রার্থী হলে দলে বিভক্তি থাকবে না। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থেই নেতাকর্মীরা মিনুর জন্য এক হয়ে মাঠে নামবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে রাজশাহী সদর আসন থেকে দলের মনোনয়ন চাইব। কেননা এই আসনে দুইবার সংসদ সদস্য ছিলাম। মেয়রও ছিলাম প্রায় ১৭ বছর। এখানকার মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছি। মেয়র বা সংসদ সদস্য কিছুই নেই তবুও এখনও মানুষ আমাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। তাই জনগণের ভালোবাসা নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আমি এখানকার মানুষের সেবা করতে চাই। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে রাজমাহী-৩)।

দিনে কাঠফাটা রোদ আর রাতে শীতের দাপট বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় : দিনে চৈত্রের প্রখর রোদ আর রাতে হেমন্তের শীতল পরশ। পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এমনই আবহাওয়া বিরাজ করছে গত কয়েকদিন ধরে। দিন আর রাতের তাপমাত্রায় হয়েছে বিস্তর ফারাক। দিনের তাপমাত্রার চেয়ে রাতের তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে অর্ধেকে। যা এই সময়টাতে হওয়ার কথা নয়। অনেকে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত মৌসুমের মত এবারও শীতের স্থায়ীত্বকাল অনেক কম হবে। প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণের প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। বাড়ি বাড়ি শ্বাসকষ্ট, জ্বর আর সর্দিকাশিতে ভুগছে হাজার হাজার শিশু ও বয়স্ক মানুষ। সরকারি হাসপাতালগুলো তাদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

চলছে হেমন্তের মধ্যকাল। শীতকাল আসবে আরও এক মাসেরও বেশি সময় পর। আবহাওয়াগত কারণে হিমালয় বিধৌত সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোতে হেমন্তের শুরু থেকেই পুরো শীতের আমেজ শুরু হয়ে যায়। আর মধ্য হেমন্তে এসে জুড়ে বসে পুরো শীত। রাতের বেলা হেমন্তের পুরো রূপ ফিরে এলেও দিনের রুক্ষ আবহাওয়া দেখে মনে হয় এবার বুঝি শীত আসতে আরও দেরি হবে। কুয়াশা ভেজা সকালে সূর্যোদয়ের পরই শুরু হয় প্রখর রোদের হাতছানি। দুপুরের কড়া রোদে কারও াঁড়িয়ে থাকার যেন জো নেই। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সূর্যের তেজ থাকছে অবিরামভাবে। বিকেল থেকে সামান্য শীতল বাতাস অনুভূত হলেও সন্ধ্যার পরই শুরু হয় হেমন্তের আসল রূপ। হালকা থেকে ভারী কুয়াশার সাথে হিমেল হাওয়া স্মরণ করে দেয় জমপেশ শীত আসছে। লেপ-কাঁথা-কম্বল নিয়ে বিছানায় যেতে হয় এই অঞ্চলের মানুষদের। অন্যান্য বছরের মত এই সময়টাতে দিনের তাপমাত্রা ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার কথা। কিন্তু তাপমাত্রা সময়ের সাথে ঠিক থাকলেও দিনের তাপমাত্রা এখনও ৩০’র নিচে নামছেই না।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গত তিনদিন ধরে পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হচ্ছে।  

প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণের শিকার হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এই অঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িতেই এখন রোগী আছে। এমন বাড়িও দেখা গেছে যেখানে পরিবারের সবাই সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভুগছে কয়েকদিন ধরে।

পঞ্চগড় পৌর এলাকার কামাতপাড়া মহল্লার মো. ইমরান জানান, তার পরিবারের ৮ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু আমাদের পরিবারই নয়, আশপাশের সব পরিবারেই এখন এমন অবস্থা।

এ ব্যাপারে কথা হয় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. এস আই এম রাজিউল করিমের সাথে। তিনি বলেন, সাধারণত শীতের শুরুতে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়। দিন ও রাতের তাপমাত্রা অনেক কমবেশি হওয়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বয়স্কদের শ্বাসনালীর সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। হাঁপানী জাতীয় সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। ছোট বাচ্চাদের সর্দি কাঁশিজনিত শ্বাসকষ্টসহ জ্বর, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালমুখী হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের বহির্বিভাগে যে সমস্ত রোগী আসছে সবারই কম বেশি একই সমস্যা। আমরা তাদের ওষুধ দিচ্ছি। এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তিনি এই সময়টাতে শিশুদের অধিক যতœ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাতের বেলা তাদের যেন কোনভাবে শীত না লাগে সেদিকে নজর দেয়ার জন্য আমরা অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

এদিকে পুরোপুরি শীত না জমলেও জমে উঠেছে মৌসুমী পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলো। অনেকেই এসব দোকান থেকে আগাম শীতের কাপড় কিনে রাখছেন। সরব হয়ে উঠেছে লেপ-তোষক-বালিশ তৈরির দোকানগুলো। পঞ্চগড় জেলা শহরের কদমতলা রোডের তুলার দোকানগুলোতে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। তুলা ব্যবসায়ী কেরামত আলী জানান, আশ্বিনের শেষ থেকে পঞ্চগড়ে শীত অনুভূত হয়। এরপর থেকেই ক্রমাগতভাবে শীত বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে অনেকে লেপ তৈরি করে নিয়ে গেছেন। তিনি জানান, তুলা ও কাপড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার লেপের দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও উচ্চ এবং  মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন আগেভাগেই লেপ সেলাই করছেন।
 

ঈশ্বরদীর কার্তিক ঘোষের দই ও ঘিয়ের চাহিদা ব্যাপক

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি :পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার নুর মহল্ল¬¬ার স্থায়ী বাসিন্দা কার্তিক ঘোষ দীর্ঘদিন থেকে মজাদার স্বাদের দই তৈরি করে আসছেন। তিনি দইয়ের পাশাপাশি ঘিও তৈরি করেন থাকেন। দুধ, চিনি এবং মিছরি দিয়ে মূলত দই তৈরি করা হয়। প্রথমে দুধ দীর্ঘ ৬-৭ ঘন্টা চুলার উপরে বড় হাড়িতে জ্বাল দিতে হয়। এরপর জ্বাল দেওয়া ওই দুধ মাটি অথবা প্ল¬াস্টিকের পাত্রে ভরে রাখা হয়। কিছু সময় রাখার পর দই জমতে থাকে। দই তৈরিতে পুরানো দইয়ের বীজের প্রয়োজন হয়।

কার্তিক ঘোষ বলেন, অনেক দই কারখানার মালিক দুধের ক্রিম তুলে নিয়ে সেই দুধ দিয়ে দই বানিয়ে থাকেন। ক্রিম তুলে নেওয়া দইয়ের স্বাদ নেই এবং কার্যকরিতা খুবই কম। এসব অসাধু দই ব্যবসায়ীদের জন্য সকলের বদনাম হয়ে থাকে। তিনি বলেন, এখানে বগুড়ার অভিজ্ঞ কারিগর দ্বারা দই তৈরি করা হয়। আমার স্বর্ণা দই কারখানায় কোন প্রকার দুধের ক্রিম উত্তোলন করা হয় না। তাই এই দইয়ের স্বাদ এবং কার্যকরিতা অনেক বেশি। আমার কারখানার দই যদি কেউ ভেজাল প্রমাণিত করতে পারে তাকে নগদ দশ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা একটি সম্মানজনক পেশা। খরিদ্দার হচ্ছে লক্ষী তাই তাদের কথা মাথায় রেখে এখানে উন্নত মানের দই তৈরি করা হয়। দই খেলে হজম শক্তি বেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, পৈতৃক সূত্রে তাদের দইয়ের এই ব্যবসা, এই কারখানায় উৎকৃষ্ট মানের দই তৈরি করা হয়। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তাদের বাপ-দাদা এবং তারা দই তৈরি করে আসছেন। দই এবং ঘি তৈরি করার কারণে তার অনেক পরিচিতি। ঈশ্বরদী ও আশপাশের অনেকেই তাকে এক নামে চিনে এবং জানে। বাজারে কার্তিক ঘোষের দইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অর্ডার মোতাবেক দই সাপ্ল¬¬াই করা হয় বলে এ কথা তিনি জানান।    
 

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন মুখের আশায় আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী চায় বিএনপি

শাহীন রহমান, পাবনা/এসএম ফজলুর রহমান, ঈশ্বরদী : ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ সংসদীয় আসন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান ও জামায়াতের মাওলানা নাসির উদ্দিনকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার।

১৯৯৬ সালে আসনটি দখল করেন আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। সেবার বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার ও জামায়াতের মাওলানা নাসির উদ্দিনকে পরাজিত করেন তিনি। এরপর একাধারে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ নির্বাচিত হন বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ। ২০১৪ সালে অবশ্য বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমি মন্ত্রণায়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

ঈশ্বরদী রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় প্রবীণ মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শামসুর রহমান শরীফ ডিলু যে চারবার সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তার জন্য দায়ী ‘বিএনপির গ্রুপ রাজনীতি’।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী তুখোড় ছাত্রনেতা ও ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব যোগ দেন বিএনপিতে। হাবিবের যোগদানের পর থেকে হাবিব-সিরাজ দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে যায় বিএনপি। ২০০১ সালে সিরাজ সরদার মনোনয়ন পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হন হাবিব। সেইবার হাবিব-সিরাজের দ্বন্দ্বে গোল দেন আওয়ামী লীগের শরীফ ডিলু। ২০০৮ সালেও দল থেকে মনোনয়ন পান সিরাজ। এবার হাবিব মাঠে বিদ্রোহী না হলেও ভোটে বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়ান সিরাজের বিরুদ্ধে। তাতেই বাজিমাত ডিলু’র। তবে বর্তমানে সিরাজের চাইতে হাবিব এলাকায় নিজের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রমাণ করার চেষ্টায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে।

এ আসন থেকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে দাবি করছেন তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, মনোনয়ন চাওয়া ও জয়ী হওয়ার মতো শক্ত কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই তার। তবে এ বিষয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী নেতাকর্মিরা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রী হবার পর ঈশ্বরদীতে নিজ দলের মধ্যে বিভক্তি তৈরির পেছনে তার  ভূমিকা রয়েছে। পরিবার কেন্দ্রীক রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন, দলের নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করতে পারেননি। সর্বশেষ নিজ জামাতা ও ছেলের মধ্যে বিভাজন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ওঠে নিজ দলের মধ্যেই। এছাড়া তার বয়স হয়েছে। শারীরিকভাবে অনেক সময় অসুস্থ থাকেন তিনি। তাই এবারের নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায় ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষ। এই সুযোগ পেতে নৌকার প্রার্থী হতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবিউল আলম বুদু, মন্ত্রীর জামাই ও ঈশ্বরদী পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। এদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস গণসংযোগে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছেন।

অপরদিকে এবার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার। কিন্তু নেতাকর্মিরা তার ওপর হতাশ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাঠের বাইরে আছেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে কিছুটা পিছিয়ে তিনি। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের দাবি, এবার মনোনয়ন পাবেন তিনি। এ ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছেন বলে তারা দাবি করছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মিরা জানালেন, হাবিব মনোনয়ন পেলে বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারে। এছাড়া ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি আকরাম আলী খান সঞ্জু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও বিএনপি নারী নেত্রী ললিতা গুলশান মিতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

অপরদিকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জামায়াতের মাওলানা নাসির উদ্দিন। পরবর্তী ২০০১ ও ২০০৮ সালে জোটকে ছাড় দিয়ে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। জামায়াতের দাবি, জয়ী হওয়ার মতো ভোটব্যাংক থাকতেও জোটের স্বার্থে দুইবার আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপিকে। কিন্তু বিএনপির ঘরোয়া দ্বন্দ্বে মাসুল গুণতে হয়েছে জামায়াত ও জোটকে। তাই এবার আসনটি ফিরে চায় তারা। সেই লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত। মাঠ পর্যায় ভালো পরিচিতি ও জনপ্রিয় থাকায় এখানে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল প্রার্থী হতে চাইবেন।

সর্বশেষ বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানের পদে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। এছাড়া এ আসনের অপর উপজেলা আটঘরিয়ায় চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছিল জামায়াত। অন্যদিকে উপজলো জাতীয় পার্টির সভাপতি হায়দার আলীর নাম শোনা যাচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন বা যাকে মনোনয়ন দেবেন আমি তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে আমার প্রত্যাশা দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও কর্মকান্ড বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। কারণ, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে আমি রাজপথে সরব ছিলাম। জেলও খেটেছি। এখনও আমার নামে একাধিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা রয়েছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এই আসনে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে পারবো। ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এবং বেগম খালেদা জিয়া নিজে আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুজ্জামান প্রমাণিক বলেন, জোট গঠনের পূর্বে সব নির্বাচনেই আমরা এককভাবে নির্বাচন করেছি এবং সেই সকল নির্বাচনে আমরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। শুধু জোটের কারণে আমরা ২০০১ ও ০৮ সালে আসনটি ছেড়ে দিয়ে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে জিততে পারেনি। আগামী নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষেই জামায়াত ইসলামী কাজ করবে।

পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস বলেন, নানা কারণে বর্তমান সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। আমি শোডাউনের রাজনীতি করি না, এলাকার মানুষ আমাকে চেনে জানে। শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচারের জন্য গ্রামে গ্রামে কাজ করছি। বর্তমান সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু বলেন, মানুষ এখন উন্নয়নে বিশ^াসী, আর আওয়ামী লীগ সেই উন্নয়নেরই রাজনীতি করে। আমার নির্বাচনী এলাকায় আমাদের ক্ষমতাকালীন যে উন্নয়ন হয়েছে আশা করি ভোটারদের তা মনে আছে। আওয়ামী লীগ একটা অনেক বড় দল, সেক্ষেত্রে মতভেদ থাকতেই পারে, আর তাছাড়া নির্বাচন এলে অনেক যোগ্য নেতা আছেন তারা তো প্রার্থী হতেই চাইবেন, এদের মধ্যে দল যাকে যোগ্য বলে মনে করবে তিনিই মনোনয়ন পাবেন। ঈশ^রদীতে আওয়ামী লীগে কোন গ্রুপিং নেই। ঈশ^রদী- আটঘরিয়ার মানুষ শেখ হাসিনার পাশে আছে এবং সব সময় থাকবে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে পাবনা-৫)।

 

আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠে

আব্দুল মান্নান পলাশ, চাটমোহর / বিকাশ চন্দ, ভাঙ্গুড়া/ মির্জা বাসিত, ফরিদপুর (পাবনা) : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয় শহর-গ্রাম-গঞ্জের বিশাল বিশাল ডিজিটাল ব্যানার, পোস্টারে ছেয়ে গেছে। গ্রামসভা-উঠোনসভা, সমাবেশ চলছে বেশুমার। নির্বাচনের অনেক দেরি থাকেলেও এলাকায় এখনই ভোটের আমেজ বিরাজ করছে। পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নবীন-প্রবীণ মিলে এখন পর্যন্ত ২৩ নেতা নির্বাচনী মাঠে বেশ তৎপর রয়েছেন। দলীয় প্রতীক পেতেই তারা মাঠে রয়েছেন নেতাকর্মীদের কাছে টানতে। এসব  নেতৃবৃন্দের ছবি সংবলিত  পোস্টার-বিলবের্ডে নির্বাচনী এলাকার দর্শনীয় স্থানগুলোতে শোভা পাচ্ছে। এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি মনোনয়ন বাগাতে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে। চলছে ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ। আওয়ামী লীগ চাইছে এই বিশাল আসনটি নিজেদের কব্জায় ধরে রাখতে। আর বিএনপি চাইছে তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে আসনটিতে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। অন্যদিকে দলীয় কোন্দল-বিভাজন ততই দৃশ্যমান হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই আসনে আওয়ামী লীগের ১৩ এবং বিএনপির ১০ জন  নেতা দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখের অধিক। তাই এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যাও অনেক। পাবনার পাঁচটি আসনের মধ্যে এই আসনেই সবচেয়ে বেশি প্রচার প্রচারণা চলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় দুই ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকদের সাথে পরিচিতি ও কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে সব থেকে বেশি এগিয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন এলাকা ও গ্রাম-গঞ্জে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি প্রকাশ করছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত নিজের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা ব্যানার, ফেস্টুন টানিয়ে দিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে ও বিভিন্ন জন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।

আসনটির সরকার দলীয় সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ মো: মকবুল হোসেন ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ এলাকায় মোটা দাগে বেশকিছু উন্নয়ন করেছেন। বিশেষ করে তার নিজ এলাকা ভাঙ্গুড়াতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছেন। ফলে তৃতীয়বারের মতো এমপি হতে নৌকার পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে সচেষ্ট রয়েছেন তিনি।

এছাড়াও আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আরও ১২ আওয়ামী লীগ নেতা মাঠে রয়েছেন। এরা হলেন-আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি পাবনা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুল হামিদ মাস্টার, চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট শাহ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরামের পাবনা জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম আব্দুর রহিম পাকন, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক ভিপি আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আশরাফুল কবীর এবং বিএমএ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা ডাক্তার গোলজার হোসেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ আব্দুল হামিদ মাস্টার নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিতে পাবনা থেকে চাটমোহরে এসে বসবাস শুরু করেছেন। চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো তিনি দলের হয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবারই তিনি তিনি মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকেন। পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট শাহ আলম এলাকায় পরিচিত মুখ। দলীয় মনোনয়নের আশায় মাঠে রয়েছেন তিনি। জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বাকি বিল্লাহ তার কর্মী বাহিনী নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম আব্দুর রহিম পাকন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে তার কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে মাঠে নেমেছেন। ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীর ইতিবাচক পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের স্লোগান নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছেন।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) ফখরুল আযম রনি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস এডভোকেট মাসুদ খোন্দকার, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আন্তর্জাতিক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা, তার বড় ভাই সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলহাজ হাসানুল ইসলাম রাজা, তার ছোট বোন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা শিল্পপতি আলহাজ রাজিউল হাসান বাবু, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রবিউল করিম। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খাইরুল আলম এবং জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে এডভোকেট আব্দুস ছাত্তার।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এ আসন থেকে দু’বার এমপি নির্বাচিত হন। চাটমোহর উপজেলা পরিষদের দুই দফায় চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকায় তার জনসমর্থনের একটি পুরনো লেয়ার রয়েছে। সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) ফখরুল আযম রনি দলীয় মনোনয়ন চাইলেও তিনি এলাকায় না এসে ঢাকায় বসে নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট মাসুদ খোন্দকার দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। আইন পেশায় জড়িত থাকার সুবাদে নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়ে চলছেন।

ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বকুল জাগদল থেকে এখন পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে দলের পক্ষে কাজ করে চলেছেন। চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসাদুল ইসলাম হীরা এলাকায় দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করে চলেছেন। ক্ষমতাসীনদের সাথে আপস না করায় তাকে জেল খাটতে হয়েছে। একাধিকবার বরখাস্ত হতে হয় উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে। দেশের বৃহত্তম এ সংসদীয় আসনটিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলেই রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। বিশেষ করে ক্ষমতার ভাগাভাগির লড়াইয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোন্দল রয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বিএনপির নবীন-প্রবীণ গ্রুপের মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্য বিভাজন। তারা দলীয় কর্মসূচি এখনও পৃথক পৃথক পালন করে থাকেন। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে পাবনা-৪)।

বরেন্দ্রের মাঠজুড়ে চলছে আমন কাটা মাড়াই

এ কে তোতা গোদাগাড়ী (রাজশাহী) : বরেন্দ্র এলাকার মাঠজুড়ে চলছে আমন কাটামাড়াই। ভাল ফলন ও দাম পেয়ে খুশি কৃষক। প্রতি বিঘায় ১৫ মণ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত ধানের উৎপাদন হচ্ছে। আর হাটবাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায়।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৭ মণ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রি-৪৯, ব্রি-৫১, ব্রি-৫৬, বিনা-৭, স্বর্ণা ও ভারতীয় জাত হুটরা ধান চাষ হয়েছে বেশি। এর মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাষ হয়েছে ১৭ হাজার হেক্টর। উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের হাতিবান্ধার কৃষক জাকির হোসেন ১৫ বিঘা জমিতে ব্রি-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় হয়েছে লিজ মানিসহ ৯ হাজার টাকা। কৃষক জাকির হোসেন ৫ বিঘা জমির ধান কাটা মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয়েছে ১৮ মণ। বাজারে বিক্রি করেছে ৯০০ টাকায়।

কৃষক জাকির জানান, প্রতি বিঘায় উৎপাদিত ধান ও খড়  (আউড়) বিক্রি করে আয় হয়েছে ২৪ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ ধান চাষ করে ১ বিঘায় লাভ হয়েছে ১৫ হাজার ৬০০ টাকা। উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের মাল কামড়ার কৃষক  আব্দুল্লাহ ৩৫ বিঘা জমিতে স্বর্ণা ও ব্রি-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। ১০ বিঘা জমির ব্রি-৪৯ ধান কাটামাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয়েছে ১৭ মণ।

উপজেলার গোদাগাড়ী ইউনিয়নের নবগ্রামের কৃষক আব্দুস সুকুর ১৫ বিঘা জমিতে ব্রি-৪৯ জাতের ধান চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছেন। পণ ধান ৮৫০ টাকায় বিক্রি করেছে। ধান কাটা মাড়াই শেষে জমিতে সরিষা ও গমের চাষ করবেন বলে কৃষক জানান। গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, ব্রি-৪৯ জাতের ধানের জীবনকাল ১৩৫ দিন হলেও ২৫ দিন আগেই ধানের উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জাতের ধান জীবন কালের চেয়ে আগাম ধান পেকে যাওয়ায় ভাল ফলন হচ্ছে। ব্রি-৪৯ ফলন হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ মণ, ব্রি-৫১ ফলন হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ মণ, ব্রি-৫৬ ফলন হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ মণ, বিনা-৭ ফলন হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ মণ, স্বর্ণা- ১৫ থেকে ১৭ মণ এবং ভারতীয় জাত হুটরার ফলন হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ মণ। এই সব জাতের চাল সুস্বাদু ও চিকন হওয়ায় হাটবাজারে চাহিদা রয়েছে।

কৃষকেরা জানান, ধানে বাদামী ফড়িং আক্রমণের সাথে সাথে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক স্প্রে করে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রতি বিঘায় ২ থেকে ৩ মণ ধান উৎপাদন কম হচ্ছে। গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন,  অধিকাংশ জমিরই ৮০ ভাগ আমন ধান পেকে গেছে। এই সব ধান এখনই কাটামাড়াই করতে হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মত সেচ-সার জমিতে দেয়ায় পোকা ও রোগ বালাই কম হয়েছে। এতে করে ধানের ফলন ভাল হচ্ছে।

 

প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে

শেখ তৌফিক হাসান, সুজানগর (পাবনা) : পাবনা-২ আসনটি সুজানগর উপজেলার দশটি এবং বেড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে চলতি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এই আসন থেকে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার বিএনপি এবং একবার জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে আসনটি থেকে একবার জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও বিগত নির্বাচনের ফলাফল তথা নির্বাচনী মাঠের বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী মূলত আসনটিতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। সেকারণে এলাকার সচেতন মহল মনে করছে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীর মধ্যে। ইতিমধ্যে ওই নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনটি দখলে নিতে উভয় দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করার পাশাপাশি পোস্টার এবং বিলবোর্ড টানিয়ে তাদের প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারা নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা হলেন- পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবির, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা জলিল, বর্তমান এমপি খোন্দকার আজিজুল হক আরজু, রাকসুর সাবেক জিএস খোন্দকার জাহাঙ্গীর কবির রানা ও ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান।

অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারা নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি দলের হাইকমান্ডের সাথে লবিং করছেন তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি আব্দুল হালিম সাজ্জাদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মকবুল হোসেন সন্টু এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন, আমার প্রয়াত বাবা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আহমেদ তফিজ উদ্দিন মাস্টার এ আসন থেকে তিন দফা এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাছাড়া এ আসনে একমাত্র তিনিই আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করেছেন। আমি নিজেও সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দল ও দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য কাজ করেছি এবং বর্তমানেও করছি। সুতরাং আমি আশা করি দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবে।

বর্তমান এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজু বলেন, আমি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন করার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই আমি মনে করি দল আমাকেই দ্বিতীয় দফা মনোনয়ন দেবে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একেএম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, আমি বিএনপির হাল ধরার পর দলকে উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড তথা গ্রাম পর্যায়ে সংগঠিত করেছি। তাছাড়া আমি এমপি থাকাকালে নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ মাদ্রাসা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে উন্নয়ন করেছি। পাশাপাশি সব সময়ই দলের দুর্দিনে মাঠে আছি। সুতরাং আমি শতভাগ আশাবাদী দলের নীতি নির্ধারকরা আমাকে মনোনয়ন দেবেন। বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল হালিম সাজ্জাদ বলেন, আমি সব সময়ই দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে আছি। সেই সাথে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করতে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সুতরাং আমি মনে করি দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবে। তবে উভয় দলের সচেতন নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মনে করেন আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে যে সকল প্রার্থীর জনসমর্থন নেই এমন প্রার্থীদের দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার পক্ষে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জ হবে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে পাবনা- ৩)।

জয়-পরাজয়ের নির্ভর করছে প্রার্থী নির্বাচনের ওপর

আবুল কাশেম,সাঁথিয়া/মাহমুদুল হাসান ঝিনুক, বেড়া (পাবনা) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনে। জাতীয় সংসদে এ আসনটি অনেক গুরুত্ব বহন করে। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনের প্রায় সংসদ সদস্যরা মন্ত্রিত্বের স্বাদ গ্রহণ করে চলেছেন।

এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার, ফেসবুক এর মাধ্যমে প্রার্থিতার বার্তা দিয়ে এলাকাবাসীকে সজাগ করে তুলেছেন। এ কারণে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। ভোটারদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে অনেক এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর কর্মকান্ড দেখা হয়েছে। এবার যোগ্য ব্যক্তিকে তাদের মুল্যবান ভোট প্রয়োগ করবেন তারা। কোন দলের পক্ষে কারা কারা মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং কে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। তবে জয়-পরাজয়ের অনেকটাই নির্ভর করছে প্রার্থী নির্বাচনের ওপর। তাই এ নির্বাচন উভয় জোটের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।

ভোটের দিক থেকে বেড়া সাঁথিয়ার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ হলেও এলাকার উন্নয়নসহ নানা বৈষ্যম্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাঁথিয়া-বেড়ার মধ্যে স্মায়ুবিক শ্রেণিকরণ বা দ্বন্দ্ব চলে আসায় এবার তা প্রকাশ্যে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত। সাঁথিয়ার প্রবেশদ্বার এবং সবচেয়ে বড় হাট সিএন্ডবি চতুর হাট প্রথমে ছলে বলে কৌশলে নিজের করে নেয়ায় সাঁথিয়াবাসীর মনে বঞ্চনাসহ নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ সব বিভিন্ন কারণে সাঁথিয়া উপজেলাকে একক নির্বাচনী এলাকা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে সাঁথিয়া একক নির্বাচনী এলাকার জন্য বিশাল মানববন্ধন করেছেন সাঁথিয়াবাসী।

এ নির্বাচনী এলাকা হতে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক জিএস ও বর্তমান সংসদ সদস্য এড. শামসুল হক টুকু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়ন পেয়ে জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন এবং সরকারের বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। এরপর তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট,স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা ভবন নির্মাণসহ  নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড করায় এবারও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বঙ্গবন্ধুর সহোচর ও সংবিধান প্রণেতা কমিটির সদস্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এ আসনে ১৯৭০ ও ১৯৯৬ সালে বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর  রহমানের সাথে সাক্ষাতের পর থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পরেন। এ নির্বাচনী এলাকায় তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, মুজিব বাঁধ নির্মাণ, রাস্তা-ঘাটসহ নানামুখী উন্নয়নসহ নেতা-কর্মীদের মুল্যায়ন করায় এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের তিনবার নির্বাচিত চেয়াম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন।

এ আসন হতে জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০ দলীয় জোটের সবচেয়ে বড় শরিক দল জামায়াতের সম্মান দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এ আসনটি ছেড়ে দেবেন বলে জনশ্রুতি থাকলেও প্রার্থীর ব্যাপারে জামায়াত এখনও সম্পুর্ণ নিশ্চুপ। নিজামী পরিবারের কেউ নির্বাচন না করলে বেড়া জামায়াতের উপজেলা আমীর ডা. আব্দুল বাসেত খান জাায়াতের পক্ষে মনোনয়ন পাবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি মুঠোফোনে বলেন, কেন্দ্রীয় সংগঠন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে যোগ্যতম ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিয়ে থাকে।

কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সহ-সভাপতি ও পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব ইউনুস আলী এলাকায় নিজ উদ্যোগে একটি এতিমখানা ও হাজী কিসমত আলী ফ্রি ফ্রাইডে চিকিৎসা চালু, বিভিন্ন মসজিদ ও গরিব মানুষের মেয়ের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে নেতা-কর্মীসহ এলাকায় জনপ্রিয়তা আর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আসছে নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির মামলা তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি, ধোপাদহ ইউনিয়ন পরিষদে পর পর দুইবার নির্বাচিত চেয়াম্যান সালাহ উদ্দীন খান পিপিএম এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর মঞ্জুর কাদের এর নাম শোনা যাচ্ছে।

এদিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় তাঁতী কমিটির সভাপতি সরদার শাহজাহান জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে শোনা যাচ্ছে।   

প্রবাদে আছে, রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। ইতিহাস কথা বলে। সময় বড় বেরসিক। কাউকে হাসায়, কাউকে কাঁদায়।  দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কোন দলের রাজমুকুট কার মাথায় শোভা পায়। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে পাবনা-২)।                       

 

লাইসেন্সবিহীন কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করতে পারবে না

রাজকুমার নন্দী : কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি অর্থায়ন, মানি লন্ডারিং এবং আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের মতো অবৈধ পণ্য বা নিষিদ্ধ বস্তু পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে কুরিয়ারের মাধ্যমে নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধে সরকার এবং কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পৃথকভাবে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সম্প্রতি সকল মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, লাইসেন্সবিহীন কোনো কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা করতে পারবে না। এদিকে, কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও জরুরি সভা করে সংগঠনের সব সদস্যকে মালামাল বুকিং ও ডেলিভারি করার ক্ষেত্রে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়ে তা প্রতিপালন করতে বলেছে। অন্যদিকে, যানজট কমানো এবং পণ্য ও মালামাল পরিবহন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে রাস্তায় ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের কাগজপত্র পরীক্ষা না করতে সম্প্রতি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক।

জানা যায়, গত ১ নভেম্বর সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগভুক্ত মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস বিধিমালা-২০১৩’র ১১ (১) বিধি মোতাবেক ‘লাইসেন্স ব্যতীত কোনো মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান মেইলিং ও কুরিয়ার ব্যবসা পরিচালনা করিতে পারিবে না’। এছাড়া ১৯ (২) বিধি অনুযায়ী, ‘এই বিধিমালার অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স ও অনুমতিপত্রের মেয়াদ হইবে উহা ইস্যুর তারিখ হইতে তিন বৎসর এবং উহা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তফসিল ৭ এ নির্ধারিত ফিস পরিশোধ সাপেক্ষে নবায়নযোগ্য হইবে।’ লাইসেন্স বা লাইসেন্স নবায়ন সনদপত্র ব্যতীত মেইলিং ও কুরিয়ার ব্যবসা পরিচালনা করা আইনসম্মত নয়। বিজ্ঞপ্তিতে যে সকল মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ব্যতিরেকে এখনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বা যারা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নবায়নপূর্বক লাইসেন্স নবায়ন সনদপত্র অদ্যাবধি গ্রহণ করেননি, তাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে লাইসেন্স/লাইসেন্স নবায়ন সনদপত্র গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে, গত ৪ নভেম্বর ঢাকায় কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমান পুলক এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় জানানো হয়, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি অর্থায়ন, মানি লন্ডারিং এবং আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের মতো অবৈধ পণ্য বা নিষিদ্ধ বস্তু পরিবহনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাই কুরিয়ারের মাধ্যমে এ ধরণের কার্যক্রম রোধে সভায় গৃহীত ছয় দফা নির্দেশনা মেনে মালামাল পার্শ্বেল/ডকুমেন্ট, নন-ডকুমেন্ট বুকিং ও ডেলিভারি করার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সদস্যদের অনুরোধ জানানো হয়। নির্দেশনাবলী হচ্ছে-ডকুমেন্ট, নন-ডকুমেন্ট/মালামাল পার্শ্বেল বুকিং এর ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রাপক ও প্রেরকের পূর্ণ ঠিকানা লিখিত থাকতে হবে। ডকুমেন্ট, নন-ডকুমেন্ট/মালামাল পার্শ্বেল বুকিং এর ক্ষেত্রে প্রাপক ও প্রেরকের সঠিক মোবাইল নম্বর অবশ্যই লিখিত থাকতে হবে এবং বুকিংকৃত চিঠিপত্র/মালামাল পার্শ্বেল ডেলিভারি দেয়ার সময় প্রাপকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে ডেলিভারি দিতে হবে। ডকুমেন্ট, নন-ডকুমেন্ট/মালামাল পার্শ্বেল বুকিং এর ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ডের ফটোকপি অবশ্যই রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে এনআইডি কার্ডের মূলকপি দেখতে হবে। অবৈধ পণ্য বা নিষিদ্ধ বস্তু যেমন আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক ও কাউকে হুমকি দিয়ে লেখা পত্র থাকতে পারে এমন সন্দেহ হলে প্রেরকের সামনে তা খুলে দেখতে হবে।

বুকিং এর ক্ষেত্রে মালামাল মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কোম্পানির নিজম্ব পলিব্যাগ ও কার্টুনে যেকোনো মালামাল বুকিং এর ক্ষেত্রে বুকিং অফিসার নিজে চেকিং করে প্যাকেট প্রস্তুত করবেন, কোনো গ্রাহককে পলিব্যাগ বা কার্টুন দেওয়া যাবে না। সভায় অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সতর্ক করে বলা হয়, নির্দেশনাবলীর আলোকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হলে অথবা এরপরও যদি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কোনো কুরিয়ার ব্যবহার করে নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তি/শাখা/এজেন্সি অফিস তার সকল দায়-দায়িত্ব বহন করতে বাধ্য থাকবে।

এ প্রসঙ্গে কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক দৈনিক করতোয়াকে বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যেকোনো ধরণের নাশকতামূলক এবং রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে আমরা বদ্ধপরিকর। এ ধরণের কার্যক্রম রোধে আমরা কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যরা অত্যন্ত সচেতন। এর অংশ হিসেবে আমরা সম্প্রতি মিটিং করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আশা করি, অ্যাসোসিয়েশনের সকল সদস্য তা মেনে মালামাল পার্শ্বেল/ডকুমেন্ট, নন-ডকুমেন্ট বুকিং ও ডেলিভারি করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এদিকে, যানজট কমানো এবং পণ্য ও মালামাল পরিবহন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে রাস্তায় ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের কাগজপত্র পরীক্ষা না করে যাত্রা শুরু ও শেষ টার্মিনালে পরীক্ষার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। গত শনিবার পুলিশ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন আইজিপি। এছাড়া কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মহাসড়কে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চলছে মহাকর্মযজ্ঞ

শাহীন রহমান, পাবনা : এক সময় যা ছিল অধরা স্বপ্ন, তাই যেন আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা। পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প’ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা থাকলেও, সফলভাবে শেষ হয়েছে প্রথম ধাপের কাজ। চলতি মাসের যে কোন দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ    উদ্বোধন করবেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে ঘিরে পাবনা জেলার রূপপুর পদ্মার পাড়ে চলছে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রসাটমের) নেতৃত্বে চলছে মহাকর্মযজ্ঞ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে ৫ হাজার ৮৭ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় বা শেষ পর্যায়ের কাজও। এরই অংশ হিসেবে নভেম্বরে উদ্বোধন হতে পারে বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল স্থাপনার ‘রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং (উৎপাদন কেন্দ্র)’ নির্মাণ কাজ। এ লক্ষ্যে পুরোদমে চলছে স্থাপনাটির ফাউন্ডেশনের (‘ফার্স্ট কংক্রিট পোরিং ডেট বা এফসিডি) সার্বিক কার্যক্রম। দুই পর্যায় মিলে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৮০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ ২০১৩ সালে শুরু হয়েছে। প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। দুই ইউনিটের এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ইউরিক মিখাউল খোসলেভ জানান, ২০১৭ সালটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং তৈরির প্রস্তুতি হিসেবে সাব বেইজ তৈরি করা হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে মূল প্রকল্পের ভিত্তি। অবকাঠামো ছাড়াও অনেক কাজ চলছে। যেমন রড, ল্যাবরেটরি, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি সব কাজই হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই। মূল স্থাপনার কাজ শুরু হলে তার পরের ৬৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশী কর্মী মিলে প্রায় ১ হাজারের বেশি কর্মী দিন-রাত কাজ করছেন। এ প্রকল্পের জন্য থ্রি প্লাস রিঅ্যাক্টর বসবে। যেটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তির। যা শুধু রাশিয়ার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রয়েছে। আর বাংলাদেশের রূপপুরেই হবে দ্বিতীয় ব্যবহার। এখানে মালিক (সরকার), সাব-কন্ট্রাক্টর ও আমরা সবাই এক কমান্ডেই কাজ করছি। কোনো সমস্যা নেই। নিরাপত্তা নিয়েও কোনো শঙ্কা নেই। ২০২০ সালের মধ্যেই রিঅ্যাক্টর ভেসেলসহ সব যন্ত্রপাতিই রাশিয়া থেকে চলে আসবে। তারপর এখানে অ্যাসেম্বলিং করা হবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর জানান, প্রথম পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য প্রকল্পের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৮১২ কোটি ৯ লাখ টাকা। এ পর্যায়ের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৮৭ কোটি ৯ লাখ টাকা।  দ্বিতীয় পর্যায়ে মূল প্রকল্পে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। এ পর্যায়ের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। প্রকৌশল চুক্তি ও নির্মাণ সিডিউল অনুযায়ীই পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে চলছে।

আসলেই কি সম্পূর্ণ নিরাপদ এ বিদ্যুৎ প্রকল্প? এ প্রশ্নের উত্তরে শওকত আকবর বলেন, রূপপুর প্রকল্পে রিঅ্যাক্টর ঘিরে রয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়। এর পাশাপাশি রাশিয়ান ফেডারেশনের নির্মিত প্রযুক্তির অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ সেফটি সিস্টেমের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এরপরও যদি অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেও, এর তেজস্ক্রিয়তা জনগণের নাগালের মধ্যে যাবে না। কাজেই এ বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্তই বলা যায়।

সরেজমিন নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে মূল স্থাপনার জন্য সয়েল স্টাবলিস্টমেন্টের কাজ পুরোদমেই চলছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মাটি তুলনামূলক নরম হওয়ায় যন্ত্রের সাহায্যে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত সিমেন্ট মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে ১৭ হাজার ৪৫০ কিউবিক মিটার কংক্রিটিং এর কাজ চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার কিউবিক মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারির মধ্যেই পুরোটা শেষ হবে। মূল স্থাপনার দৈর্ঘ ও প্রস্থ হবে ৭০ মিটার করে, আর ফাউন্ডেশনের থিকনেস হবে ৩ মিটার। এছাড়া আনুষঙ্গিক অনেক কাজই দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের মাধ্যমেই পাওনিয়ার বেইজ ও ইরেকশন বেইজের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া চলছে প্রোটেকশন ড্যাম (বাঁধ) তৈরির কাজ। ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার লম্বা এবং ১৩ মিটার প্রস্থ এ বাঁধের কাজও এগিয়েছে অনেক দূর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা ছিল। কিন্তু সেটি পর্যাপ্ত না হওয়ায় ইতিমধ্যেই ৮০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২১৯ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। নতুনভাবে অধিগ্রহণ করা পদ্মার বিশাল চরে চলছে মাটি ভরাটের কাজ।

অন্যদিকে মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী নির্মাণের কাজ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে। পাবনা গণপূর্ত অধিতদফতর এগুলো বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যেই তিনটি সুউচ্চ বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এ এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ তলা ১১টি বিল্ডিং এবং ১৬ তলা ৮টি বিল্ডিংয়ের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। ২২টি সুউচ্চ বিল্ডিং তৈরি হবে এ চত্বরে। এছাড়া থাকবে মাল্টিপারপাস হল, মসজিদ ও স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ব্যয়ের প্রকল্প হচ্ছে এ রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভিভিইআর-১২০০ (এইএস-২০০৬) রিঅ্যাক্টরের দুটি বিদ্যুৎ ইউনিটের (ইউনিট-১ ও ২) সমন্বয়ে ২ হাজার ৪শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। সেই সাথে এটি পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভৌত অবকাঠামো তৈরি, বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কার্বনমুক্ত ও বেইসলোড বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ১৯৬০ সালে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য ১৯৬০, ১৯৭৭-৭৮ এবং ১৯৮৮-৮৯ সালে কারিগরি ও অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। সরকারের বিদ্যুৎ খাতের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং গাইডলাইন অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। গত জুলাই মাসে এ প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানো। এ সময় পারমণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আইএইএ প্রদত্ত শর্তাবলী সফলতার সাথে বাংলাদেশ পূরণ করেছে বলেও মত দেন তিনি।

 

প্রধান দুই দলে প্রার্থী একাধিক সবাই যোগ্যতার দাবিদার

সাগর বসাক, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জ-৬, (শাহজাদপুর) আসনে অতীতের তুলনায় এখন সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী আওয়ামী লীগ। সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৬ আসন। ঐতিহ্যবাহী মর্যাদাপূর্ণ এ আসনের দিকে বিশেষভাবে তাকিয়ে আছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তাঁত সমৃদ্ধ ও গো-সম্পদ এলাকা বলে খ্যাত শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে একটি ব্যতিক্রম উপজেলা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এই আসনে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ ও বাসদ এর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

আওয়ামী লীগ থেকে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- বতর্মান সংসদ সদস্য আলহাজ হাসিবুর রহমান স্বপন, সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম, বাংলাদেশ মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান ও স্পেশাল পিপি শেখ আব্দুল হামিদ লাভলু এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক  ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য কামরুউদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ সরোয়ার। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকার নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ড. এমএ মুহিত নিজেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জোর গণসংযোগ শুরু করেছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত হোসাইন শহিদ মাহমুদ গ্যাদনও প্রচারণা চালাচ্ছেন। ৭০’র নির্বাচন থেকে শুরু করে বেশ কয়েকবার নির্বাচন করেছেন বর্তমান এই বিএনপি নেতা। অপরদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট গার্র্র্মেন্টস ব্যবসায়ী কেএম তরিকুল ইসলাম আরিফ দীর্ঘদিন যাবৎ দলীয় পৃষ্ঠপোষকতাসহ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, সাবেক ছাত্রনেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা গোলাম সরোয়ার, সাবেক ছাত্রনেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা বিশিষ্ট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মনির ও শফিকুল ইসলাম ছালাম।

অন্যদিকে মহাজোটের শরিক দলের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন উপজেলা জাসদের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুজ্জামান শফি। কেন্দ্রের নির্দেশে তিনিও এলাকায় সাধ্যমতো গণসংযোগ করছেন। অপরদিকে বামমোর্চার আরেক প্রার্থী রয়েছেন বাসদ (খালেকুজ্জামান) উপজেলা আইনজাবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আনোয়োর হোসেন।

বর্তমানে এই আসনের সংসদ সদস্য শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ হাসিবুর রহমান স্বপন। তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন। এরপর এ আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সংসদ সদস্যের কর্মী সমর্থকরা দাবি করেন হাসিবুর রহমান স্বপন বিগত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি কর্মী সমর্থক নিয়ে সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। এ কারণে ভোটারদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়েছে। সুতরাং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন।

সংসদ সদস্য আলহাজ হাসিবুর রহমান স্বপন জানান, তিনি আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে শতভাগ আশাবাদী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি দলের সভাপতি ও এমপি হিসেবে শাহজাদপুরের জনসাধারণকে যেমন রেখেছি নিরাপদ, তেমনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গ্রামেগঞ্জে অন্য সময়ের চেয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছি। যার প্রমাণ বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে নৌকা মার্কার বিজয়। সেই সাথে উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে যা অন্য সকল এমপির চেয়ে বেশি এবং প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে শাহজাদপুরে আমার প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা হয়েছে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’। যে কারণে যে কোন তদন্ত সংস্থা ও রিপোর্টে সাংগঠনিকভাবে আমি থাকবো সবার শীর্ষে। অন্যদিকে তিনি আরও বলেন, প্রার্থী আমরা যেই হই না কেন দলের সভাপতি হিসেবে শপথ করে বলছি শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করতে দরকার হলে প্রাণ দিয়েও নৌকাকে বিজয়ী করবো এই আসনে।

অপরদিকে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চয়ন ইসলাম এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার সমর্থরা বলেন, চয়ন ইসলাম হলেন ভোটের জাদুকর। বিগত দিনের তার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন। সংস্কৃতিমনা চয়ন ইসলামের শাহজাদপুরে ১৩টি ইউনিয়নে রয়েছে আলাদা জনপ্রিয়তা। তার দাবি দল থেকে মনোনয়ন পেলে এ আসন নৌকারই থেকে যাবে।

অন্যদিকে শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মিল্কভিটার ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট শেখ আব্দুল হামিদ লাভলু এই উপজেলাকে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে চলেছেন। তার সমর্থকদের দাবি শাহজাদপুরের মানুষ তাকে সৎ ও ন্যায় নিষ্ঠার প্রতীক বলে জানে। তার বড় ভাই একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। এ কারণে তিনি মনোনয়ন পেলে অবশ্যই নির্বাচিত হবেন বলে তার সমর্থকরা মত ব্যক্ত করেন। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন আগামী নির্বাচনে একজন শক্ত প্রার্থী হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। তার বাবা আব্দুল মতিন মোহন ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একাধিকবার নির্বাচিত পোতাজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান। এ কারণে তার আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ সারোয়ার জানান, স্বাধীনতার পর শাহজাদপুরের এ আসন থেকে যে কয়েকজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তার মধ্যে আমিও একজন। তবে সবার চেয়ে তিনিই বেশি শাহজাদপুরের উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। আসন্ন নির্বাচনে আবারও বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এ আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এমন আশা তার। মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে বিশ্বাস করেন। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে পাবনা-১)।

আওয়ামী লীগ মরিয়া আসন ধরে রাখতে, বিএনপি ব্যস্ত পুনরুদ্ধারে

গাজী সাইদুর রহমান/নারায়ণ মালাকার, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ডজন খানেক নবীন প্রবীণ প্রার্থী রয়েছেন মনোনয়ন দৌড় প্রতিযোগিতায়। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। এর পূর্বে এই আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। সুতরাং আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মরিয়া তাদের বর্তমান আসনটি ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে। অন্যদিকে বিএনপি ব্যস্ত তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে।

এদিকে দুই দলেরই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের বিয়েসাদি, দলীয় বর্ধিতসভা, পথসভা-সমাবেশ, ধর্মীয়-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অসুস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে ভুল করছেন না। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান আর নেতা নেত্রীদের ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন সাঁটিয়ে এবং ভুঁড়িভোজের আয়োজন করে জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় বসে নেই জামায়াত। তারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নিতে সব রকম প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে সবদলই যেন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, দায়িত্বশীলতা, সততা, ত্যাগ, শিক্ষিত ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বিষয়টি গুরুতের সাথে বিবেচনা করে চূড়ান্ত প্রার্থিতা ঘোষণা করে এমন প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনটি তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ বেলকুচি ও যমুনা বিধ্বস্ত চৌহালী উপজেলা মিলে মোট ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। বেলকুচির মোট ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭২ ও চৌহালীর মোট ভোটার ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬।  

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন তারাই দেশ পরিচালনা করেছেন। তাই এ আসনটির দিকে সব দলেরই বিশেষ একটি নজর থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন-  বর্তমান সংসদ সদস্য, মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মন্ডল। তিনি একজন সজ্জন ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও রাজনীতির মাঠে তিনি নতুন। দলীয় বিভিন্ন কৌশলে তিনি খুব বেশি সফল না হতে পারায় অনেক নেতাকর্মীই তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছেন। তিনি তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার মনোনয়ন চাইবেন না বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তার ছেলে মন্ডল গ্রুপের পরিচালক আব্দুল মমিন মন্ডল মনোনয়ন চাইবেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাকে নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জনসভা ও উন্নয়নমূলক কাজের অনুষ্ঠানে এরকম ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান এমপি ও তার সমর্থকেরা।

অপরদিকে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস একজন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে হয়েছিলেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী। তার সময়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে সমাদৃত হয়েছেন ।
এদিকে বর্তমান এমপি আব্দুল মজিদ মন্ডল ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ এখন অনেকটাই প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। করছেন একে অন্যের কঠোর সমালোচনা। তারা নিজ নিজ সমর্থক নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালনসহ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা।

অপরদিকে সাবেক ছাত্রনেতা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত মীর মোশারফ হোসেন মনোনয়ন দৌড়ে সরব রয়েছেন। তিনি ঢাকার বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেলকুচির বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া প্রয়াত ও অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় নেতাকর্মীদের আর্থিক ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে খোঁজখবর রাখছেন। এলাকায় নির্বাচনী সভা সমাবেশে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে সমর্থক, কর্মী ও ভোটার বৃদ্ধিতে গণসংযোগ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তার সু-সম্পর্ক থাকায় হাইকমান্ডের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন জোর লবিং। মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

এছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সম্প্রতি নিজ এলাকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা ও প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মুসফিকুর রহমান মোহন। তিনি ইতোমধ্যে বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যানার ফেস্টুন ও বিলবোর্ড লাগিয়ে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন। এলাকার উন্নয়নে নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

এদিকে চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য গাজী মো: শফিকুল ইসলাম তালুকদার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও জনসাধারণের নিয়ে উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করেছেন। মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।
এদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক এমপি মেজর (অব:) মুঞ্জুর কাদের নিরবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। তিনি এ আসন থেকে ২০০৮ সালে মাত্র চারদিন আগে মনোনয়নপত্র নিয়ে এসে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের কাছে ২৫২ ভোটে হেরে যান। এরপর থেকে দলীয় কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ এলাকায় নেতাকর্মীর সাথে তার কোন দেখা সাক্ষাৎ নেই, রাখেন না কোন খোঁজখবর। তবে ক্ষমতাসীন দল ও সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে তাকেই হেবিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া ওরিয়েন্টাল গ্রুপের পরিচালক রকিবুল করিম খান পাপ্পু বিএনপি মনোনয়ন পেতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি অল্প দিনের ব্যবধানে তার কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের কারণে জেলা বিএনপির সদস্য থেকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। জেলজুলুমে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীসহ এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা করে ইতোমধ্যে বেলকুচি, চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুর থানা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মীকে তার পাশে পেয়েছেন। এছাড়া নেতাকর্মীদের নিয়ে গণভোজ ও গণসংযোগ সবার দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি  জেলা বিএনপি ও স্থানীয় বিএনপির দুঃসময়ে পাশে থাকায় কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সাথে রয়েছে নিয়মিত যোগাযোগ। এসব কারণে বেগম খালেদা জিয়া তাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

অপরদিকে ধানের শীষ প্রত্যাশী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছেন ঘরোয়া বৈঠক ও বিভিন্ন কর্মসূচির পালনের মধ্যে দিয়ে প্রচারণা। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির নতুন কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। জেলজুলুমে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ এনে নির্বাচনী এলাকায় তার সমর্থিত ছাত্রদল ও যুবদলের একটি বৃহৎ অংশ তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সখ্যতা থাকায় কেন্দ্রেীয় নেতাদের সাথে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

অপরদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে বসে নেই জামায়াত। তারা কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনায় দলের প্রার্থী হিসেবে বেলকুচি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আলী আলমকে নিয়ে অনেকটা কৌশলে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে বেলকুচি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম সোহেল সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বেলকুচি ডিগ্রি কলেজসহ একাধিক বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম কোরাইশ খানের ছেলে ও সাবেক এমপি শহিদুল্লাহ খানের ভাতিজা গোলাম মওলা খান বাবলু নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং মনোনয়ন পেতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এবং মেজর (অব:) মুঞ্জুর কাদের ২০০৮ সালে এমপি প্রার্থী মনোনীত হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধে ম্ঞ্জুুর কাদেরকে ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তারপর থেকে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ও দলের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

এছাড়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আনসার আলী সিদ্দিকীর ছেলে, চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব:) আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে সিরাজগঞ্জ-৬)।

 

 

পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল যোগাযোগের তোরণদ্বারখ্যাত বালাসী ঘাটের দুরবস্থা

আমিনুল হক, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) : বাংলাদেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল যোগাযোগের তোরণ দ্বার হিসেবে খ্যাত গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাট এখন বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। মেরিন বিভাগ পরিচালিত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাট যাত্রী পারাপার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বিশাল জনগোষ্ঠী যেমন রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তেমনি ঘাট দু‘টিকে অবলম্বন করে বেঁচে থাকা অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ বহুদিন থেকে বেকার হয়ে আছে। বালাসীতে বছরের পর বছর অযতœ-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট এবং চুরি হয়ে যাচ্ছে রেলপাতসহ বেশ কয়েকটি জাহাজের মূল্যবান যন্ত্রাংশ।উনিশ শতকের প্রথমার্ধে রেলওয়ে মেরিন বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে থাকে যমুনা নদী দিয়ে রেলযাত্রী ও পণ্যবাহী ওয়াগন পারাপার।     
]
তৎকালীন তিস্তামুখ ঘাট, বাহাদুরাবাদ ঘাট, জগন্নাথগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ ঘাটের মধ্যে যাত্রী পারাপার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মেরিন বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। লর্ড বারিংটন নামক এক ইংরেজ কর্মকর্তা মেরিন বিভাগের ১ম সুপারিনটেডেন্ট নিযুক্ত হন এবং ওই ইংরেজ কর্মকর্তার দক্ষ পরিচালনায় রেলওয়ের মেরিন বিভাগের সার্বিক সমৃদ্ধিসহ যাত্রী ও ওয়াগান পারাপার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নতি ঘটে। কয়লার ইঞ্চিন চালিত স্টিমার দরবার ও প্রিন্সেস মেরীসহ কয়েকটি জলযান দিয়ে যমুনায় যাত্রী ও ওয়াগন পারাপার শুরু হলেও পাকিস্তান আমলে এর আধুনিকায়ন ঘটে। কয়লার ইঞ্জিন চালিত স্টিমারের পরিবর্তে যমুনায় নামানো হয় ডিজেল চালিত যাত্রীবাহী স্টিমার ও ওয়াগানবাহী টাগ। ডিজেল চালিত যাত্রীবাহী দু‘টি ওয়াগানবাহী টাগগুলোর নাম দেওয়া হয় বাহাদুর শাহ্, মীর জুমলা, ঈসা খাঁ, তিতুমীর এবং বৈরাম খাঁ।

উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর তিস্তামুখঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট এবং সিরাজগঞ্জ-জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ও পণ্য পারাপার সুবিধা ভোগের পাশাপাশি ঘাট কেন্দ্রিক অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের রোজগারের পথকে সুগম করে মেরিন বিভাগ তাদের কার্যক্রমও সফলভাবে এগিয়ে নিতে থাকলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মেরিন বিভাগটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর ব্রিটিশ আমলের সেই পুরানো কয়লার ইঞ্জিল চালিত স্টিমার দরবার ও প্রিন্সেস মেরী দিয়ে যাত্রী পারাপারের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়। অল্পদিনের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে ৩টি অত্যাধুনিক ডিজেল চালিত যাত্রীবাহী স্টিমার আমদানি করে মেরিন বিভাগকে পূর্ব অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। আমদানিকৃত অত্যাধুনিক ৩টি দ্বিতল স্টিমারের নামকরণ করা হয় এমভি শেরে বাংলা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও এমভি সোনার গাঁ।

৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় তিস্তামুখ ঘাট থেকে ফেরি স্থানান্তর করা হয় ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসী নামক স্থানে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানান্তরিত বালাসী ঘাট চালুর পরপরই নির্মিত হয় বঙ্গবন্ধু সেতু। সেতু নির্মাণের পর মেরিন বিভাগ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ নতুন চিন্তা ভাবনায় মেতে উঠে এবং এর কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথমে এ রুটে চলাচলকারী একতা এক্সপ্রেস ও নর্থ বেঙ্গল মেইলের সংযোগ বন্ধ করে স্টিমার সার্ভিসকে সংকুচিত করে শুধুমাত্র তিস্তা এক্সপ্রেসের স্টিমার সংযোগ বহাল রাখে। সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করে যাত্রী পারাপার ব্যবস্থার চূড়ান্ত ইতিটানা হলে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামীর ও যমুনার পূর্বপাড়ের জামালপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুরের বিশাল জনগোষ্ঠী রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।
]
বালাসী ঘাটে বেশ কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সমস্যা নাব্যতা। ৬ মিটার গভীরতা সম্পন্ন যাত্রী ও ওয়াগানবাহী ফেরি বা জাহাজ এ ঘাটে আসতে পারে। তাও পল্টুন পর্যন্ত নয়, মাঝে মধ্যেই নোঙ্গর করে যাত্রী নৌকায় পার ও মালামাল খালাস করতে হয়। ঘাটের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারণে ঘাট থেকে প্রতি বছর রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। অথচ বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাটের বিভিন্ন শাখায় প্রায় ২ শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীকে বসে থেকে প্রতি মাসে সরকার বেতন দিচ্ছে ১০ লক্ষাধিক টাকা।

রেলকর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মেরিন বিভাগের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি শুরু করেছে। যাত্রীবাহী স্টিমার সোনার গাঁ, সোহরাওয়ার্দী এবং কয়েকটি বার্জ ও পন্টুন নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। অবশিষ্ট যাত্রী ও ওয়াগানবাহী জাহাজ গুলোসহ অন্যান্য জলযান বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে রেলযোগাযোগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে সভা সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও তা অরণ্য রোদনে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বালাসী থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত রেল সেতু নির্মাণ ও নৌবন্দরের উন্নয়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে ফুলছড়ি উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন সঠিক না হলে আসন হারাতে হবে

সুব্রত কুমার ঘোষ তাপস, মেহেরুল ইসলাম ও কোরবান আলী রায়গঞ্জ/ তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ, সলঙ্গা) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সুকৌশলে মাঠে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঈদ, পূজা, দলীয় সভা-সমাবেশে যোগদান করছেন।
এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ এলাকাসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে ও দোয়া কামনা করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সংসদীয় এই আসনে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এবং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মান্নান তালুকদার নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত আলহাজ ইসহাক হোসেন তালুকদার নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি সফলতার সাথে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ইসহাক হোসেন তালুকদারকে মনোনয়ন দেন। নির্বাচনে কোন প্রার্থী না থাকায় অনায়াসে তিনি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর দুই বছর পার হতে না হতেই ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফলে এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

এ সময় এ আসনে ১৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলনকে মনোনয়ন দেন। ওই পদে আর কোন প্রার্থী না থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলহাজ গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন নির্বাচিত হন। সেই থেকে আসনটি এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রায় দেড়ডজন ও বিএনপির ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একই মন্তব্য, দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা তাকেই সমর্থন করে নির্বাচনী মাঠে কাজ করব। তবে মনোনয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে না পারলে আসনটি বিএনপি প্রার্থীর জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে পারে বলে এলাকার প্রবীণদের অভিমত। তাই এই আসনে আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিলে আসনটি বিএনপির দখল করবে এটা এলাকার ভোটাররা মনে করেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও অনেক সময় বাকি। তবে থেমে নেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগ। সুকৗশলে নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন তারা। হাটবাজার, হোটেল রেস্তোরাঁয় নানা বিষয়ে আলাপ আলোচনার ফাঁকে চলছে নির্বাচন বিষয়ে বাড়তি আলোচনা সমালোচনা। কোন দল থেকে কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন, কাকে মনোনয়ন দিলে দল জিতবে আর কাকে মনোনয়ন দিলে দল হারবে, কোন প্রার্থীর কতটুকু দোষ-গুণ এ বিষয়গুলোও উঠে আসছে এসব আলোচনা-সমালোচনায়। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রকাশ্যে মাঠে না নামলেও সুকৌশলে তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পোস্টার, ফেস্টুন, ডিজিটাল ব্যানার ইত্যাদি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানা দিচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পাকাপোক্ত করতে দলের হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মান্নান তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এটিএম লুৎফর রহমান দিলু,  কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং চান্দাইকোনা অনার্স কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: রেজাউল করিম তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ইসহাক হোসেন তালুকদারের কনিষ্ঠ পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট ইমরুল হোসেন তালুকদার ইমন, বৃহত্তর দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের ট্রাস্টি ও রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ আব্দুুল হান্নান খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম শিশির, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আয়নুল হক, তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আব্দুল হাদি আলমাজি জিন্নাহ, তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তাড়াশ উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হক, ঢাকা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল আলম শরিফ, বিএনপি নেতা এডভোকেট গোলাম মোস্তফা মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো: আব্দুল হালিম খান দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো: আবুল কালাম আজাদ হৃদয়, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সিহাব, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম। অন্য কোন দলের মনোয়ন প্রত্যাশীদের নাম এখনও শোনা যায়নি। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে সিরাজগঞ্জ-৪)।

 

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে

হেলাল আহমেদ, সিরাজগঞ্জ অফিস : সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ উপজেলা সমন্বয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-২ আসন। জেলা সদরের রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রস্থল এই আসন থেকেই জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। এই আসনটি ধরে রাখার জন্য ক্ষমতসীন দল আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে থাকে। প্রধান দুটি দলের হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না সভা সমাবেশ, এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। সপ্তাহে কমপক্ষে ৩/৪ দিন তিনি সিরাজগঞ্জে অবস্থান করছেন। শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তবে বাহ্যিকভাবে দলে কোন কোন্দল না থাকলেও অভ্যন্তরীণ দ¦ন্দ¦ রয়েছে। তার বিভিন্ন সভা সমাবেশে দলের বেশ কিছু প্রবীণ নেতার উপস্থিতি দেখা যায় না। নবগঠিত অওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন কমিটি গঠনকে ঘিরেও এই দুই গ্রুপের বিভেদ স্পষ্ট হয়ে রয়েছে। এছাড়া এই সব কমিটি নিয়েও নেতা কর্মীদের রয়েছে ক্ষোভ। দুই বছর আগে সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের নির্বাচন হলেও এ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন হয়নি।

মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পর দলের বেশ কিছু সক্রিয় এবং নিবেদিত নেতা-কর্মী এখন দল বিমুখ হয়ে পড়েছেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নারী নেত্রী জান্নাত আরা হেনরী নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৪ সালে ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না মনোনয়ন পান এবং বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ ডা. মিল্লাতের উপর রয়েছে বলে সকলের ধারণা।

তবে গুঞ্জন রয়েছে নারী নেত্রী জান্নাত আরা হেনরী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ঐতিহ্যবাহী সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুটমিল (সাবেক কওমী জুটমিল) এর সাবেক নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী প্রবীণ রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম খান মনোনয়ন চাইবেন। তার তৃণমূল পর্যায়ে বেশ পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। সে কারণে দলের মধ্যে তার অবস্থানও দৃঢ়। অপর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান পৌর মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা এবার নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তারও দলের এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

এদিকে জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর থেকে দলটি নতুন রূপ পেয়েছে। বর্তমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু। কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে প্রথম দিকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থাকলেও তা কেটে উঠেছে। এছাড়াও ঘোষিত এই কমিটি নিয়ে দলের প্রবীণ নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা থাকলেও তা কেটে উঠছে। দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকা অন্তত ৮-১০ জন প্রবীণ নেতাকে দলে অন্তর্ভুক্ত না করা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনাও রয়েছে। যা নির্বাচনের পূর্বে ভোটের রাজনীতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মন্তব্য করেছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক জানান, খুব শিগগিরই জেলা বিএনপির চাকা ঘুরে উঠবে। দলের কর্মকান্ডে সক্রিয় হবে সকল নেতাকর্মী। নতুন কমিটিতে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদ সভাপতি পদে রয়েছেন।  

এ আসনটি জেলা সদরের ৬টি ও কামারখন্দের ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। জেলার সকল রাজনীতি জেলা সদর থেকে পরিচালিত হওয়ায় জেলা সদরের এই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনটি কব্জা করতে প্রতিটি নির্বাচনে বড় দুটি দল মরিয়া হয়ে মাঠে নামে। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান প্রায় সমানে সমান।

১৯৯১ সালে বিএনপি প্রার্থী মির্জা মোরাদুজ্জামান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম, ২০০১ সালে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ২০০৮ সালে টুকু নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদ বিজয়ী হন।

এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারমম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মনোনয়ন নিশ্চিত বলে দাবি তার সমর্থকদের। তবে কোন কারণে তিনি নির্বাচন করতে না পারলে তার স্ত্রী জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়াও মনোনয়ন চাইতে পারেন দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক এমপি মির্জা মোরাদুজ্জামানের ছেলে মির্জা মোস্তফা জামান, কেন্দ্রীয় সদস্য মেজর (অব:) মোহাম্মদ হানিফ ও সাবেক পৌর মেয়র টিএম নুর-এ আলম হেলাল। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মির্জা মোস্তফা জামান তারও দলের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। যুবক সম্প্রদায়ের মধ্যে তার ব্যাপক পরিচিতি ও আলোচনা রয়েছে। তার পিতা একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন বিধায় সেই জনপ্রিয়তাকে তিনি কাজে লাগাবেন বলে আলোচনায় রয়েছে।
অপরদিকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, বাসদের নব কুমার কর্মকার ও সিপিবির ইসমাইল হোসেন প্রার্থী হতে পারেন।

জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঝন্টু ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হন। জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তাসহ মহাজোটের জনপ্রিয়তাকে তিনি কাজে লাগাতে চান। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে সিরাজগঞ্জ-৩)।

 

এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়!

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ড্রেনের উপর বাঁশের টার (সাঁকো) দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবেই যাতায়াত করছে এলাকাবাসী। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিনেও ড্রেনের উপর ব্রিজ নির্মিত না হওয়ায় এলাকার মানুষ চরম দুভোর্গের শিকার হচ্ছে। তাই ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।  এলাকাবাসী জানান, উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের হরিশ^র তালুক গ্রামের উপর দিয়ে একটি ড্রেন বয়ে গেছে। এলাকার পূর্বপাড়ার আবুল শিকদারের বাড়ির থেকে দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত দেউলিয়া দুধখাওয়া ড্রেনের উপর ব্রিজ নির্মিত না হওয়ায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ বাঁশের খুঁটির উপর দু’টি লম্বা বাঁশ ফেলে টার (সাঁকো) তৈরি করে যাতায়াত করছে।

ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ও যানবাহন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবেই পারাপার হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ওই এলাকার মানুষজন ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের টারের উপর দিয়ে চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার সুলতান, দুলাল, শেখসাদী, আঃ লতিফ মোল্লা, জামাল শিকদার, মহিলা বেগমসহ অনেকে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক জানান, বাঁশের টারের পরিবর্তে ব্রিজ নির্মাণের জন্য বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী জিকেএম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।

ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার চেষ্টা, ২ বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ

রাজকুমার নন্দী, খালেদা জিয়ার বহর থেকে : রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে ঢাকা ফেরার পথে ফেনিতে ফের হামলার চেষ্টা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে। গাড়ি বহর মহিপালে পৌঁছালে বহরের বিপরীত পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা দুইটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে বহরের কোন গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মঙ্গলবার বিকেলে ফেনি সার্কিট হাউজের পাশে মহীপাল ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর বিকেল চারটা ৪০ মিনিটের দিকে ফেনির মহিপাল অতিক্রম করছিল। বেগম জিয়াকে বহনকারী গাড়ির পেছনে তার নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়িগুলো যখন মহিপাল ফিলিং স্টেশন পার হচ্ছিল ঠিক তখনই রাস্তার উল্টোপাশে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। পরমুহূর্তে ফিলিং স্টেশনের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা দুইটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই গাড়ি দুটিতে আগুন ধরে যায়। তবে বাস দুটিতে কেউ ছিল না বলে জানা গেছে।

এ সময় পাশেই ছিল পুলিশের অবস্থান। তবে তাদের ভূমিকা ছিল নীরব। এদিকে, ঘটনার পর রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হামলাকারীদের ধাওয়া দেয়। এতে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেয়া দেয়। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেনী নদী পার হলে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা শতাধিক মোটরসাইকেলের স্কোয়াড দিয়ে ফেনি-কুমিল্লা সীমান্তের মোহাম্মদ আলী বাজার পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। কক্সবাজার যাওযার পথে গত শনিবার ফেনিতে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনার কারণে মহিপাল থেকে মোহাম্মদআলী বাজার পর্যন্ত কিছুদূর পরপর অবস্থান নিয়ে ছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে ফেনীর ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই চারদিনের এ সফর সম্পন্ন করেছেন খালেদা জিয়া। বহরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ির পেছনেই ছিল দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর গাড়ি। হামলার ব্যাপারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা আলমগীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাওয়ার পথে যারা গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছিল তারাই আজকে (মঙ্গলবার) আবার হামলার চেষ্টা চালিয়েছে।

 তিনি হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে ফেনিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়েছিল। তার মধ্যেই আজ মঙ্গলবার ফের হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। গাড়ি পোড়ানো আওয়ামী লীগের পুরোনো সংস্কৃতি। ঢাকার পথে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, নির্বাহী সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু ও আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসানের গাড়ি রয়েছে। এর আগে, দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপারসন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান ও চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন দলীয় চেয়ারপারসনকে বিদায় জানান।

ভবিষ্যতে ভালো ফল নিশ্চয়ই পাবেন
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে গত সোমবার বিকালে সার্কিট হাউসে কক্সবাজার জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। পরে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়েন তিনি। খালেদা জিয়া সার্কিট হাউস ছেড়ে যাবার সময় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা খালেদা জিয়ার কাছে প্রশ্ন রেখে জানতে চান- ‘আপনি কেমন আছেন?’ জবাবে তিনি বলেন, আমি ভালো আছি। পাল্টা প্রশ্ন করেন- আপনারা কেমন আছেন? এ সময় খালেদা জিয়া স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা অনেক কষ্ট করছেন, অনেক ভালো করেছেন। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকব। সবাই মিলে কাজ করব। এখানে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ জাহান চৌধুরী, লুৎফর রহমান কাজল ও হাসিনা আহমেদ আছেন। আপনারা তাদের সহযোগিতা করবেন। আপনারা যে ভালো কাজ করছেন ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই এর ভালো ফল পাবেন। এদিকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর চট্টগ্রাম ফেরার পথে লোহাগাড়া স্টেশনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নেত্রীকে বিদায় জানায় লোহাগাড়া বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাস্টার শাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী, এম এ রহিম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সেলিম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু, সাব্বির আহমেদ, যুবদল সাধারণ সম্পাদক এমএ শুকুর, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ফৌজুল কবির ফজলুসহ বিএনপি নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম পরেসার্কিট হাউসে এসে পৌঁছালে তাঁকে নেতাকর্মীরা স্বাগত জানান। পরে সেখানে রাতযাপন করেন বেগম জিয়া।

ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করুন
ঢাকা ফেরার আগে মঙ্গলবার সকালে সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর-দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে নেতারা চট্টগ্রাম বিএনপির সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে চেয়ারপারসনকে অবহিত করেন। এ সময় চেয়ারপারসন সবাইকে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন। তিনি নেতাদের কিছু নির্দেশনাও দেন। এছাড়া ব্যাপক উপস্থিতির মাধ্যমে সফরকে সফল করায় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে ও তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশে গত শনিবার সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে রওয়া হন  খালেদা জিয়া।

 

 

বিএনপি শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগে কোন্দল

বেলাল হোসেন, লালমনিরহাট : লালমনিরহাট সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লালমিনরহাট-৩ সংসদীয় আসন। এ আসনে ক্ষমতার মসনদে থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল থাকার পরও দলটি রয়েছে শক্ত অবস্থানে। আর বিগত নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থাও বেশ সুসংগঠিত। এ আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবাই কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর অনুসারী।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতার মসনদে থেকে শক্তিমত্তার পরিচয়ের পাশাপাশি তারা যেন বেশ আত্মতুষ্টিতেই আছে। এদিকে নির্বাচন বিচ্ছিন্ন বিএনপি তাদের নিজেদের অবস্থান পরিশুদ্ধের পাশাপাশি নিজেদের আগাম নির্বাচনমুখী করে তুলছে। যে কারণে ওই দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে গণসংযোগে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টিও আছে নির্বাচনী প্রচারণায়। সেদিক থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ছোট ভাই পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বর্তমানে ঘন ঘন লালমনিরহাট সফরে আসছেন। এ আসনে বিএনপিতে কোনো কোন্দল না থাকলেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিতে দলীয় কোন্দল রয়েছে। লালমনিরহাটে সরকারি দল আওয়ামী লীগের দৌড়ঝাঁপ দেখে বসে নেই বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। আর অন্য ছোট দলগুলো বড় দলের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদের নির্বাচনী মহড়ায় ব্যস্ত রেখেছে।

লালমনিরহাট-৩ সদর আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. মতিয়ার রহমান, নারী এমপি এড. সফুরা বেগম রুমি, আওয়ামী লীগ নেতা ও গোকুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনের নাম প্রার্থী তালিকায় শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। জাতীয় পার্টিতে এরশাদের ছোট ভাই সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম মিঠুও প্রার্থী হতে পারেন। জিএম কাদেরের পাশাপাশি মিঠুও আছেন দলীয় কর্মীদের নিয়ে মাঠে। তবে সাধারণ ভোটারদের মতে ভোটের রাজনীতির মাঠে জাপাকে দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি অস্বীকার করে দলটির নীতি নির্ধারকরা বলেন, ভোটের মাঠে জাপা ঠিকই আছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগ স্থানীয়ভাবে বিভক্ত হওয়ায় সাংগঠনিকভাবে তারা কিছুটা দুর্বল। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. মতিয়ার রহমান প্রতিনিয়ত দলের কোনো না কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ তৈরিতে কাজ করছেন। তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে গোটা জেলায় একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। যার ফলে গোটা জেলায় তার একটা নাম ডাক উঠেছে। পাশাপাশি তিনি জেলায় দলকে পরিচালনা ও সুসংগঠিত করতেও কাজ করে চলেছেন। যে কারণেই এই আসনে নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জনে অনেকটাই যেন সফল এড. মতিয়ার রহমান। বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের অভিমত দল মনোনয়নের ক্ষেত্রে মতিয়ার রহমানকে মূল্যায়ন করবে। তাদের মতে তিনি মনোনয়ন পেলে বিএনপির দুর্গ ভেঙে আওয়ামী লীগের জয় অনেকটা সহজতর হবে।

এদিকে দলের আরেক শক্তিশালী প্রার্থী আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলাল। যিনি এ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর মন্ত্রিত্ব থাকা অবস্থায় সদর উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনিও দলকে সুসংগঠিত করতে ছুটে বেড়াচ্ছেন পথ থেকে পথে। তার ব্যতিক্রমী সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তিনি ব্যক্তি হিসেবে ফ্যাক্টর বটে।

ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলাল লালমনিরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও জাতীয় পরিষদ সদস্য জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের জামাতা। তিনি এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথম বারের মত এ আসনে দলের মনোনয়ন পান। সেবার তিনি দলীয় নেতাদের ষড়যন্ত্রের কারণে পরাজিত হলেও সেসময় তিনি সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি দলকে গোছাতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে বেশ সফলকামও হন। আবার ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত বিএনপি জয়লাভের পর তাদের হামলার শিকার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের পাশে থেকে তাদের মামলার খরচসহ      বিভিন্নভাবে অর্থ সহায়তা দিয়ে তিনি দলকে নাজুক পরিস্থিতির মুখ থেকে সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী পর্যায়ে নিয়ে আসেন। ২০০৮ সালে সাঈদ দুলাল আবারও দলের মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত জোটগত কারণে দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। আর ২০১৪ সালে আবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে দলের এমপি নির্বাচিত হন। সেবার তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেন এবং তার বেতনের টাকা তিনি অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য ব্যবহার করতেন। সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার দিক থেকে বরাবরই তিনি আছেন ক্লিন ইমেজে। সেদিক থেকে এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন সাংবাদিকদের এমনই ইঙ্গিত দেন খোদ দলের সাধারণ কর্মীবৃন্দ।

দলের আরেক নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনও দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়ে বলেন, মূল্যায়নের দিক থেকেই দলীয় নেত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। নির্বাচনে অংশ নেবেন এমন ইচ্ছে থেকে স্বপন অনেক আগে থেকেই মাঠে কাজ করছেন বলে জানান তারই অনুসারী দলীয় লোকজন। এই আসনে মশাল প্রতীক নিয়ে এবারও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলা জাসদ এর সভাপতি এম খোরশেদ আলম।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. মতিয়ার রহমান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আগামী দিনে এ জেলার মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের সাথেই থাকবেন।

আর কথা হলে লালমনিরহাট সদর আসনে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে এমপি সাঈদ দুলাল বলেন, উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়তে আগামীতেও এলাকার মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম মিঠু বলেন, আমাদের দল আগের চেয়ে এ জেলায় অনেক বেশি শক্তিশালী। আগামীতে আমরা জেলায় আমাদের হারানো আসনগুলো উদ্ধারে চেষ্টা করব।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাব্বি দুলু বলেন, লালমনিরহাট জেলার মানুষ আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ। তাই আগামী নির্বাচনে তারা বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নেবেন। সেই সাথে এই জেলার তিন আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে সিরাজগঞ্জ-১)।

 

পঞ্চগড়সহ উত্তরের কয়েকটি জেলায় শীতের কাঁপন শুরু

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় : কয়েকদিনের হালকা থেকে ভারী কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল পঞ্চগড়সহ উত্তরের কয়েকটি জেলার অধিকাংশ এলাকা। দিনের বেলা কড়া রোদের কারণে শীত তেমন একটা অনুভূত হয়নি। তবে রাতের বেলা ফ্যানের সুইচ অফ রেখে গায়ে কাঁথা কম্বল জড়াতে হচ্ছিল গত দশ দিন আগে থেকেই। অন্যান্য বছরের চেয়ে প্রায় এক মাস দেরীতে হলেও প্রকৃতি জানান দিচ্ছিল শীত আসছে। আর পুরো শীতের কাঁপন শুরু হয়েছে  সোমবার থেকে। ভোররাত থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। সকালে কয়েক ঘন্টার জন্য সূর্যের মুখ দেখা গেলেও দুপুরের দিকে আকাশ ভারী হয়ে শুরু হয় ঝিরঝিরে বৃষ্টি।

পঞ্চগড়সহ পার্শ্ববর্তী     জেলা ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারীতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। আর বৃষ্টির তালে তালে শুরু হয় হিমালয় থেকে আসা ঠান্ডা হাওয়া। সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকলেও আকাশে মেঘের সাথে শীতল বাতাস অব্যাহত ছিল। সন্ধ্যার আগ থেকেই অনেককে শীতের কাপড় পরে বাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে।

প্রতি বছর মধ্য আশ্বিনের পর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের কারণে কম বেশী সারাদেশে বৃষ্টিপাত হয়। আর এই বৃষ্টির পরই পঞ্চগড়সহ উত্তরের কয়েকটি জেলায় শীত শুরু হয়ে যায়। এবার এ সময়টাতে একাধিকবার নি¤œচাপের কারণে কয়েক দফা বৃষ্টি হলেও শীত তেমনভাবে শুরু হয়নি। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কার্তিকের শুরু থেকে এই অঞ্চলে মাঝারী থেকে ভারী কুয়াশা পড়তে শুরু করে। কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় মাঠ-ঘাট-কান্দর। সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। রাত বাড়ার সাথে সাথে নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ গোটা এলাকা কুয়াশায় ঢেকে যায়। আর আকাশে মেঘের কারণে সকাল হওয়ার অনেক পরে সূর্যের দেখা পাওয়া যায়। এর আগ পর্যন্ত কুয়াশা অব্যাহত থাকে।

এরপর থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। মধ্য কার্তিকে এসে বৃষ্টির পরই শুরু হয়েছে শীতের কাঁপন। সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা নেমে আসে ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে।এদিকে শীত শুরু হয়ে যাওয়ায় মৌসুমী শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীরা তাদের পুরাতন কাপড়ের পসরা সাজাতে শুরু করেছে। অনেক ব্যবসায়ী পুরাতন কাপড়ের গাঁট আনার জন্য রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছে। আর দিন পনের পরই শুরু হয়ে যাবে তাদের জমজমাট ব্যবসা। আর লেপ-তোষক কারিগররা তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন সমানতালে। জেলা শহরের কদমতলা রোডের লেপ-তোষক ব্যবসায়ী কেরামত আলী জানান, আমাদের কারিগরেরা এখন খুব ব্যস্ত। প্রতিদিন তাদের ২০/২৫টি করে লেপ-তোষক তৈরি করতে হচ্ছে।
এদিকে রংপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, রংপুরে ভোর বেলার দিকে কুয়াশা পড়ছে। এছাড়াও দিনে গরম থাকলেও রাতের দিকে ঠা া অনুভব হচ্ছে। শীতকাল কি এবার আগেই এসে পড়ল। দিনে-রাতে তিন রকম আবহাওয়া। ভোরে কুয়াশা, দিনে গরম আর রাতের বেলা ঠান্ডা। কয়েকদিন আগেও ফ্যান না চালিয়ে রাতে ঘুমানো যেত না কিন্তু এখন ফ্যান না চালিয়েই ভালো ঘুম হয়। রংপুরের শালবন এলাকার বাসিন্দা আকতার  সোমবার ভোরে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে নিত্যদিনের হাঁটার সঙ্গী মোতালেব মিয়াকে উদ্দেশ্য করে এ কথাগুলো বলছিলেন।

আবহাওয়ার রকমফের নিয়ে এমন আলোচনা এখন নগরবাসীর মুখে মুখে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, রংপুরাঞ্চলে শীত আসতে সবার আগে। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীত শুরু হবে। তবে বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যেই শীত শুরু হয়েছে। এছাড়াও  নগরীতে সারাদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ঠা া আরও জেকে বসেছে।

রংপুর আবহাওয়া অধিদফতরের অফিসার রুহুল আমিন বলেন, সকালে কুয়াশা পড়লেও দিনের বেলা তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর থাকছে। ফলে দিনের বেলা বেশ গরম লাগে। কিন্তু রাতের বেলা তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। বর্তমানে রাতের তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় এ সময়টায় ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সাধারণত তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে শীত পড়েছে বলা ধরা হয়। রংপুরে এখনও শীত না পড়লেও ভোরে শ্রমজীবী মানুষদের অনেককেই চাদর ও শাল গায়ে দিচ্ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জানান, রংপুরে  সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৭ ডিগ্রী ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এর মধ্যে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।  রংপুরে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৪ মিলিমিটার।

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান

রাজকুমার নন্দী, খালেদা জিয়ার বহর থেকে : রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলকে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের উপর জুলুম, নির্যাতন, নিধনযজ্ঞ বন্ধ এবং নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার ময়নারঘোনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে এ আহ্বান জানান বেগম জিয়া। এ সময় রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারের যেভাবে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিলো, সেভাবে তারা দাঁড়াতে পারেনি। বরং যারা কাজ করতে চায় তাদেরও নানাভাবে বাঁধার সৃষ্টি করছে। জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমি বলব, আপনারা অবিলম্বে এই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ান। সরকারকে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে বলব। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এই দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে অতিদ্রুত রোহিঙ্গারা তাদের নিজের দেশে ফিরে যেতে পারে এবং নির্ভয়ে-নির্দ্বিধায় বসবাস করতে পারে। মিয়ানমার সরকারকে বলব, আপনারা মানবতার খাতিরে অতিদ্রুত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে নিজের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করুন। তাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা অমানবিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারটিও খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ ধনী নয় গরিব, কিন্তু ভালোবাসা আছে। সেজন্য গরিব হয়েও যে যেভাবে পেরেছে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন এই ভার বহন করার সম্ভব নয়। সেজন্য অতিদ্রুত তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সরকার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ত্রাণ তৎপরতায় সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি পর্যন্ত নয়। বিএনপি প্রথম থেকেই রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে এ সময় ত্রাণ তৎপরতাসহ বিএনপির বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন বেগম জিয়া। অতীতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে বিএনপি সরকারের সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন দলটির চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে একবার এমন হয়েছিলো। তখন মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। ’৯৩ সালেও আবার এসেছিলো আমার সরকারের আমলে। তখনও মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার করে তাদের দেশে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। সেনা মোতায়েনে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ তৎপরতায় শৃঙ্খলা এসেছে জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এই প্রক্রিয়ায় সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা বাহিনীকে এখানে রাখতে হবে। দেশি ও আন্তর্জাতিক যেসব সংস্থা ত্রাণ নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের ধন্যবাদ জানান বিএনপি প্রধান। নিজের ত্রাণ দেয়ার সফরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, কারা এই হামলা চালিয়েছে সরকার তা জানে এবং সেটা মিডিয়াতেও দেখা গেছে। সরকারকে অবশ্যই এগুলো বন্ধ করতে হবে। এগুলো করে কোনো লাভ হবে না। বরং এগুলো করে মানুষের কাছ থেকে আপনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং আহতদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে দুপুর ১টার দিকে খালেদা জিয়া যখন ময়নারগোনা ক্যাম্পে পৌঁছান তার আগে থেকে সেখানে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিল হাজারো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। বিএনপি নেত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পে তখন নেতাকর্মী, স্থানীয় মানুষ আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিলে সমাবেশস্থলে রূপ নেয়। এ সময় বিএনপির শীর্ষ নেতারা বেগম জিয়ার পাশে ছিলেন।

নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগাপ্লুত খালেদা জিয়া  
ময়নার ঘোনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়ে এক নারীর মুখে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বর্ণনা শুনে কিছুক্ষণের জন্য আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। ত্রাণ দেয়ার এক পর্যায়ে এক রোহিঙ্গা নারী মোবারকের মা মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের বর্ণনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। খালেদা জিয়া সেই কাহিনী শুনে কিছুক্ষণের জন্য আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। বিএনপি প্রধান তাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন এবং আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দেন। এ সময় তিন-চার মাস বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুকে কাছে টেনে কোলে তুলে আদর করেন বেগম জিয়া।

ময়নারঘোনা ক্যাম্প থেকে হাকিমপাড়া ক্যাম্পে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে ত্রাণ বিতরণ করে তিনি যান বালুখালী-২ নম্বর ক্যাম্পে। সবশেষে খালেদা জিয়া যান বালুখালীর পানবাজারে। সেখানে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবÑ স্থাপিত একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পের কয়েকটি নতুন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের জন্য বিএনপির ত্রাণ
মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ১১০টন চাল ত্রাণ হিসেবে দিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন। এছাড়া ৫ হাজার প্যাকেট শিশুখাদ্য ও প্রসূতি মায়েদের জন্য ৫ হাজার প্যাকেট ত্রাণ দেয় বিএনপি। পুরো ত্রাণের সামান্য কিছু নিজ হাতে বিতরণ করেন খালেদা জিয়া। বাকি ত্রাণগুলো  সকালেই উখিয়ায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ত্রাণ সমন্বয় কেন্দ্রে জমা দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। সকাল সোয়া ১০টার দিকে ৪৩টি ট্রাকে করে এসব ত্রাণ সেনাবাহিনীর ত্রাণ সমন্বয় কেন্দ্রে জমা দেন। এর মধ্য থেকে ৯ ট্রাক সফরসঙ্গী সিনিয়র নেতাদের নিয়ে খালেদা জিয়া বিতরণ করেন। মোট ১১ হাজার পরিবারের জন্য এ ত্রাণের ব্যবস্থা করে বিএনপি। খালেদা জিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে অংশ নেনÑ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, সদর আসনের সাবেক এমপি লুৎফর রহমান কাজল, হাসিনা আহমেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, কাজী আলাউদ্দিন, কাজী আবুল বাশারসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। উখিয়ায় ত্রাণ বিতরণের পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে ফিরেন খালেদা জিয়া। সেখানে কয়েকঘণ্টা বিশ্রাম শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়েন তিনি। সেখানে রাত্রীযাপন করে আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস ছেড়ে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

 

 

শক্ত অবস্থানে জাতীয় পার্টি, মাঠে নেই আওয়ামী লীগ- বিএনপি

বেলাল হোসেন, লালমনিরহাট : লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ-আদিতমারী দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে লালমনিরাহট-২ আসন গঠিত। এ আসন জেলার ভৌগোলিকভাবে মধ্যবর্তী উপজেলা। এ দুই উপজেলার বাতাসে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে নির্বাচনী গন্ধ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রাজনীতির মাঠে কেবল নির্বাচনী ডামাডোল। সাধারণ মানুষকেও আগাম রাজনীতির পুরো হিসেব কষতে দেখা যাচ্ছে। এ অঞ্চলের জনপ্রিয় জাতীয় পার্টি কোন জোটে গিয়ে নির্বাচন করবে সেটাও দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতির মাঠে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে আলাদা একটা উৎফুল্লতা বিরাজ করছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কর্মকান্ডের নানা বিষয় উঠে আসছে মানুষের কথোপকথনে। ভোটাররা অপেক্ষা করছেন পছন্দের নৌকা, ধানের শীষ কিংবা লাঙ্গল প্রতীকে সিল মেরে নিজেদের সুষ্ঠু চেতনার বাস্তবায়ন ঘটাতে।

লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নুরুজ্জামান আহম্মেদ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য নিবার্চিত হন। প্রথমে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী ও পরে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় কার্যক্রমে আগের মত তাকে তেমন দেখা যাচ্ছে না। ফলে এ আসনে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অনেকটা থেমে গেছে। আর এ কারণে নুরুজ্জামান আহম্মেদের সাথে মাঠের নেতা-কর্মীদের সম্পর্কের কিছুটা দূরত্ব বেড়ে গেছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান খোদ দলেরই অনেকে। ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান আগের মত নেই। তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ নুরুজ্জামান আহম্মেদ। তার মতে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার কারণে কিছুটা ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে যতই ব্যস্ততায় থাকি না কেন দলের কার্যক্রমের প্রতি আমার নজরদারি ঠিকই আছে।
সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ রাজনৈতিক ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। স্বাধীনতার পর থেকে তাদের পরিবারকে ঘিরে ওই দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে। তার পিতা করিম উদ্দিন আহমেদ প্রাক্তন এমএলএ ছিলেন। তার ছোট ভাই মাহবুবুজ্জামান আহমেদ কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। যার কারণে তাদের পরিবারে রাজনৈতিকভাবে ঐতিহ্য রয়েছে বলে জনশশ্র“তি রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ তার পিতার হাত ধরে ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। কালীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা উন্নয়নে ওই পরিবারের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ফলে সেদিক থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ এগিয়ে রয়েছেন।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি সালেউদ্দিন আহম্মেদ হেলাল, সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলমের নাম শোনা গেলেও ভোটের অবস্থানে বিএনপির অবস্থান আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির চেয়ে অনেক নিচে।

এ আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল প্রতিনিয়ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ আসনটি বরাবরই জাতীয় পার্টির দখলে। ১৯৮৬ সাল থেকে এ আসনে প্রতিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুযারির নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মজিবুর রহমান অংশ না নেয়ায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ এমপি নির্বাচিত হন। এ আসনে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি ব্যক্তি হিসেবে রোকন উদ্দিন বাবুল ক্লিন ইমেজের হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে তিনি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এদিক থেকে দলীয় লোকজনের কথা এ আসনে তিনিই এমপি হবেন।

কথা হলে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ এমপি বলেন, যে তত কথাই বলুক লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দুর্গ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাটে আমার হাতে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। আগামী দিনে এলাকার মানুষ উন্নয়নের মার্কা নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের সাথেই থাকবেন এটা  আমার বিশ্বাস।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে এ জেলায় অনেক শক্তিশালী। লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ ও আদিতমারী) থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় পাটির প্রার্থী পর পর ৬ বার এমপি নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ না নেয়ায় বিনা ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমপি হয়েছেন।  

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সালেউদ্দিন আহম্মেদ হেলাল বলেন, এ আসনে বিএনপি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আগামী নির্বাচনে লোকজন বিএনপিকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের জবাব দেবে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে লালমনিরহাট-৩)।

 

 

 

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পথে পথে নেতাকর্মীদের ঢল

রাজকুমার নন্দী, খালেদা জিয়ার গাড়িবহর থেকে : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মহাসড়কের দু’পাশে বিপুল উপস্থিতি, বর্ণিল সাজ-সজ্জ্বা ও স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানিয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারবাসী। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে যাবার পথে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক এবং উৎসব মুখর। প্রিয় নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে নেতারা রাস্তায় এনেছেন হাতি, সাজিয়েছেন ব্রিজ আর ছিটিয়েছেন ফুলের পাপড়ি। খালেদা জিয়াকে এক নজর দেখতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ধানের শীর্ষ ও ব্যানার হাতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেছেন রাস্তার পাশে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুইপাশে ও পাশের ভবনগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের বিপুল ভীড়ের কারণে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মাত্র ১৫৫ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে ৮ ঘন্টা সময় লাগে গাড়িবহরের। যাত্রাপথের পরিবেশ দেখে মনেই হয়নি গত শনিবার ফেনীতে এই গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মানুষের এমন বিপুল উপস্থিতিকে অভূতপূর্ব বলছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, মানুষের এ ভালোবাসা ও নেতাকর্মীদের এমন সমর্থনে উজ্জীবিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। যাত্রাপথে গাড়ির গ্লাস নামিয়ে এবং হাত নাড়িয়ে অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। চলতি পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঠাকুরদীঘি এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে বহনকারী গাড়ির চাকায় পেরেক ঢুকলে বহর থামিয়ে চাকা পরিবর্তন করা হয়। তবে এতে কোন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে প্রিয় নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে  রোববার সকালেই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সার্কিট হাউজ থেকে দুপুর ১২টার সময় কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মী মুহুর্মূহু স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। নগরীর কাজির দেউরি, জুবলী রোড, নিউমার্কেট, ফিরিঙ্গিবাজার ও কর্ণফুলী সেতুর উত্তরপ্রান্ত পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে ব্যানার ফেসটুনসহ দাঁড়িয়ে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়াকে বরণ করতে ধানের শীষ হাতে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর উপর অবস্থান নেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের ভীড়ের কারণে কর্ণফুলী সেতু পার হতেই গাড়িবহরের কেটে যায় আধা ঘন্টার বেশি সময়। কর্ণফুলী ব্রিজের দক্ষিণপ্রান্ত থেকে মইজ্জার টেক হয়ে ত্রিমুনা রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রতিযোগিতা করে শোডাউন দেন সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর সমর্থক নেতাকর্মীরা। পটিয়ার ভেল্লাপাড়া ব্রিজের দৃশ্যটি ছিল অন্যরকম।

হাতি, বান্ডপার্টি ও হলুদ শাড়ি পরে নারীরা কুলো থেকে ফুল ছিটিয়ে খালেদা জিয়ার বহরকে বরণ করেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এনামুল হকের আয়োজনে পুরো ব্রিজটি সাজানো হয জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিশাল আকারের ছবি, কাচাফুলের মালা দিয়ে। পটিয়ার শান্তির হাটে সাবেক এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েল, মনসার টেকে সাবেক মন্ত্রী মোরশেদ খান, এরশাদ উল্লাহর অনুসারী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিপুল উপস্থিতির মাধ্যমে গাড়িবহরকে স্বাগত জানায়। পটিয়া পৌরসভায় সাবেক এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েল ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, চন্দনাইশের রওশনহাটে ডা. মহসিন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা ব্যানার, প্লেকার্ড ও ধানের শীষ নিয়ে নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

চন্দনাইশের গাছবাড়িয়ায় অবস্থান নিয়ে জোটনেত্রীকে স্বাগত জানান শরিক দল এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের অনুসারীরা। দোহাজারি শঙ্খনদী ব্রিজের দুইপারে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে শোডাউন দেন ডা. মহসিন জিল্লুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম রাহী। সাতকানিয়ার কেরানীহাটে বান্দরবান জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু জেরি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিএনপি নেতা প্রফেসর শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মজিবুর রহমান, লোহাগাড়া বাসস্টেশনে নাজমুল মোস্তফা আমিন ও ফৌজুল কবির ফজলুর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক মানুষ খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান।

আজিজনগর শিল্পাঞ্চলে বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি ম্যা মা চিং, আজিজনগর ব্রিকফিল্ড, হারবাং, বানিয়ারছড়া ও চিরিঙ্গা পৌরসভায় বিপুল শোডাউনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানান ভারতে অবস্থানরত দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। ঈদগাঁও স্টেশন থেকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে শতাধিক মোটর সাইকেলের স্কোযাড করে নিরাপদে কক্সবাজার পৌছে দেন সাবেক এমপি লুৎফর রহমান কাজলের অনুসারী নেতাকর্মীরা। পথে জোয়ারিয়ানালা, পানিছড়া, রামু বিশ্বরোড, খরুলিয়া, লিংক রোড, কলাতলী ডলফিন মোড় ও সার্কিট হাউসে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।

এদিকে মিয়ানমার থেকে নির্যাতনে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণে আজ সোমবার উখিয়ার বালুখালী, বোয়ালমারা ও জামতলী যাবেন খালেদা জিয়া। বিএনপির মহাসচিব জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া তার এই সফরে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে ত্রাণ দেবেন। তারপর সন্ধ্যায় কক্সবাজার ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েই ফিরতি পথ ধরবেন বেগম জিয়া। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাত্রীযাপন শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা ফিরবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

 

সিইসির বক্তব্যের হেতু খুঁজছে আওয়ামী লীগ

মাহফুজ সাদি : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক’ বলার পর বিতর্কের মধ্যে তা ধারণ করার দৃঢ়তা জানিয়ে পুনঃব্যক্ত করার প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদার বক্তব্য গুরুত্বের সাথে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে তার এমন বক্তব্যের হেতু খুঁজছে দলটি। তবে এই ইস্যুতে ক্ষোভ থাকলেও তা প্রকাশ্যে ব্যক্ত না করার পরামর্শ দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এই তথ্য জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধান বিচারপিত ইস্যুর মতো সিইসি ইস্যু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হোক তা চান না দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কোনোভাবেই সিইসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় না দলটি। তাই এই ইস্যুতে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে বক্তব্যের নেপথ্যের কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন তিনি হঠাৎ করে এমন বিষয়ের অবতারণা করেছেন, তা এখনো পরিষ্কার নয় শাসক দলের কাছে। দলের শীর্ষ নেতারা আগে এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে চান। এরপর প্রয়োজন হলে মুখ খুলবেন।

সূত্র জানায়, সিইসি যেদিন তার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন সেদিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে কথা না বলতে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি দলের সভাপতির বরাত দিয়ে এই নিষেধজ্ঞা আরোপ করেন। এই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানান, অনির্ধারিত এই সভায় সিইসির বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সিইসির বক্তব্য নিয়ে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ অক্টোবর ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক বলার বিষয়ে সিইসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট।  কিন্তু এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, আমার কাছে এই বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি। সিইসির এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের অনির্ধারিত বৈঠকে দলের সম্পাদকমন্ডলীর দুই সদস্য বলেন, ইস্যুটি নিয়ে সিইসি বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। এ ব্যাপারে অন্তত তার সাথে কথা বলার দাবি তোলেন তারা। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দরকার নেই। তবে কেন, কোন প্রেক্ষাপটে সিইসি এ কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন, আওয়ামী লীগ তার হেতু খোঁজার চেষ্টা করছে বলেও এই নেতারা  জানান। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য নিয়ে কথা বলতে চাই না। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কথা বলতে হলে দলের সাধারণ সম্পাদক বলবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি কোনো কথা বলব না।

 

আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি

বেলাল হোসেন/কাজী আলতাব হোসেন, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) : উওরের সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা ২টি উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে লালমনিরাহাট-১ আসন গঠিত। এ আসনে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারী এবং তিনবিঘা করিডর পেরিয়ে দহগ্রাম ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৬নং সেক্টর প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।

এ আসনে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর আবেদ আলী সংসদ সদস্য হলেও পরবর্তীতে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যায়। জাতীয় পার্টি আসনটি দখল করে নেয়। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙে এ আসনটি আবারও আওয়ামী লীগের দখলে আনেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন। দুই উপজেলার মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলায় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন সংসদ সদস্য মোহাতার হোসেন, অপর অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল। তবে হাতীবান্ধা উপজেলায় আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় কোন্দল নেই। বলতে গেলে এ উপজেলায় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের অনুসারী সবাই।

বিএনপিতে পাটগ্রাম উপজেলায় কোনো দলীয় কোন্দল নেই। উপজেলা বিএনপির সবাই কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানের অনুসারী। তবে হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপি একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ উপজেলার বড় একটি গ্র“প নিয়ন্ত্রণ করেন ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান। অপর একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন সাবেক সংসদ জয়নুল আবেদীন সরকার ও হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশারফ হোসেন। জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসাবে পরিচিত এ আসনে এখন জাতীয় পার্টির অবস্থান একেবারে নড়বড়ে। এ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। সরকারের জামায়াত নিধন মনোভাবের কারণে এবং মামলায় জর্জরিত হয়ে এ আসনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। ফলে তাদের দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায় না। যে কারণে দলটি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেকেই জামায়াত ত্যাগ করে অন্য দলে চলে গেছেন।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি, পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে পরপর ৩ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন মনোনয়নের দৌড়ে ও জনপ্রিয়তায় অনেকটা এগিয়ে আছেন। তারপরও আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল হোসেন পিছিয়ে নেই। আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় তিনি সর্বদাই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। মোতাহার হোসেন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর গত ১৭ বছরে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়ক ও রেলপথ সংস্কার, পাটগ্রামে ধরলা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ ও ২য় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণে তার ভূমিকা উল্লেখ করার মত। যে কারণে এ আসনে দলের পাশাপাশি ব্যক্তি হিসাবে সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন একটা বড় ফ্যাক্টর। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর একজন সফল সংগঠক হিসাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি দল মত সকলের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসাবে নিজের ক্লিন ইমেজ তৈরি করেছেন।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদীন সরকার, তার ছেলে সায়েদুজ্জামান কোয়েল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা সাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জল, হাতীবান্ধা বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহীন আকন্দ’র নাম শোনা যাচ্ছে। তবে জনপ্রিয়তায় অনেকটা এগিয়ে ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান। তিনি লালমনিরহাট জেলার মামলায় জর্জরিত ৫ হাজার নেতা-কর্মীর আইন সহায়তার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত পারিবারিক খোঁজখবর নিয়ে ক্লিন ইমেজ তৈরি করে কর্মী জনপ্রিয়তায় নিজের অবস্থান মজবুত করে নিয়েছেন। এদিকে বয়সের ভারে ন্যূব্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদীন সরকার দলীয় কার্যক্রমে আগের মত চোখে পড়ছেন না। জয়নুল আবেদীন সরকারের বড় ছেলে সায়েদুজ্জামান কোয়েল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহীন আকন্দকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মাঝে মধ্যে গণসংযোগে দেখা যায়।

জাতীয় পার্টি থেকে গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এমজি মোস্তফা। এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, এরশাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মেজর (অব) খালিদ আক্তারের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ নিজেও প্রার্থী হতে পারেন।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামের জনপ্রতিনিধি হিসাবে জাতীয় সংসদে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার হাত ধরে এ জেলায় উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দিয়েছি। মহাসড়ক ও রেলপথ সংস্কার করা হয়েছে। ধরলা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তিস্তা নদীতে ২য় সড়ক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলা পবিষদ ভবন ও থানা ভবন কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা হয়েছে। তার মতে দুই উপজেলার সকল বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। আগামী দিনে এ জেলার মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকেই উন্নয়ন করতে সহোযোগিতা করবেন বলে তিনি আশাবাদী।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য এমজি মোস্তফা বলেন, জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে এ জেলায় অনেক শক্তিশালী। আগামীতে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া আসনগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করব। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম আসনে জাতীয় পার্টির অবস্থান অনেক শক্তিশালী।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, আগামী নির্বাচনে লালমনিরহাট জেলার মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে লালমনিরহাট-২)।

 

বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের এলাকায় তৎপরতা শুরু

এমএ আযম, কুড়িগ্রাম/শাহিনুর রহমান শাহীন, ফুলবাড়ী/প্রহল্লাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী উপজেলা ও কুড়িগ্রাম পৌরসভা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-২ সংসদীয় আসন। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সদর উপজেলার ৮, রাজারহাট উপজেলার ৭, ফুলবাড়ী উপজেলার ৬টিসহ ২১টি ইউনিয়ন এবং কুড়িগ্রাম পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ভোটের হিসাব-নিকাশ যা-ই হোক না কেন, আলোচিত তিন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বসে নেই। তারা নির্বাচনকে ঘিরে তৎপরতা শুরু করেছেন। নিজেদের পক্ষে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদেরও সমর্থন আদায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। কুড়িগ্রাম-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ। দলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে তাজুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে শক্ত দাবিদার হলেও নানা কারণে অন্য কাউকে প্রার্থী করা যায় কি না, এমন ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য পুরনো-নতুন     মিলিয়ে বেশ কয়েকজন চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তবে দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তারা সংশয়ে আছেন। কেন না জোটগত নির্বাচন হলে এবারও হয়তো জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দিতে হতে পারে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নাম সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি এখানে নির্বাচন না করলে স্থানীয় তিন নেতার মধ্যে কেউ মনোনয়ন পাবেন বলে আলোচনা রয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জাফর আলীর নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আ আমিন, ঢাকার পঙ্গ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. হামিদুল হক খন্দকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মন্ডল, সহসভাপতি চাষী করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, চলচ্চিত্র পরিচালক আবু সুফিয়ানের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের অনেকেই নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এবং বিলবোর্ড ও পোস্টার লাগিয়ে পরিচিতি অর্জনের চেষ্টাও করছেন।

বিগত নির্বাচনে দলের জনপ্রিয় নেতা মো: জাফর আলী মনোনয়ন পেলেও জাতীয় পার্টির সাথে ‘সমঝোতার’ কারণে আসনটি ওই দলের প্রার্থী তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে ছেড়ে দিতে হয়। এবারও জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছাড়তে হয় কি না, তা নিয়ে দলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। নেতাকর্মীরা এবার নিজেদের প্রার্থী দেয়ার দাবি করছেন।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে দলটির সংসদ সদস্য নেই। তাই দলের নেতাকর্মীদের মনোবল সুসংহত রাখতে জাফর আলীকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংবর্ধনাও পান তিনি। পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিও সেরে নিয়েছেন তিনি। অবশ্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কারণে সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে কি না, সেটা নীতি নির্ধারকদের ব্যাপার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে ঘিরে জাফর আলীর কর্মতৎপরতা সবার নজর কাড়ে। দলের বেশির ভাগ নেতাই প্রধানমন্ত্রী ও জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জানিয়েছেন, সদর আসনটি আবার জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে দলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। জাফর আলীকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে তাদের জোর সুপারিশও রয়েছে।

 জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলী বলেন, বিগত কয়েক বছরে জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী এ অঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। ফলে ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত। এপরও দলীয় নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার জন্য কাজ করবে।
এদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি প্রার্থী হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নাম সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে। ২০০৬ সালে বাতিল ঘোষিত নির্বাচনে তিনি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। কুড়িগ্রাম শহরের চামড়াগোলা এলাকায় তার বাড়ি রয়েছে। বর্তমানে এ আসনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তার অবস্থান নমনীয় বলে জানিয়েছেন জেলার শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন।

এছাড়া এই আসনে প্রার্থী হিসেবে দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিকের নাম শোনা যাচ্ছে। জনপ্রিয়তা ও মাঠে কর্মতৎপরতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আসনটি বিএনপির ঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে বলে বিএনপির কয়েকজন নেতা দাবি করেন।
সোহেল হোসনাইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনসংযোগ করে পার্টির জনভিত্তি দাঁড় করিয়েছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চান আমি নির্বাচন করি। তাই মনোনয়ন চাইব। কেন্দ্র যা ভালো মনে করবে, তা-ই মেনে নেব।

অপরদিকে কুড়িগ্রাম-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার নির্বাচিত হন। জিয়া ও এরশাদ আমলে তিনি মন্ত্রীও ছিলেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টিতে (পিডিপি) যোগ দেন। পরে আবার জাতীয় পার্টিতে ফেরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির টিকিট নিয়ে ২০০৮ সালে নির্বাচন করেন। কিন্তু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে হেরে যান তাজুল ইসলাম। পরে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো: জাফর আলীর কাছেও হারেন তিনি। জাতীয় পার্টিতে ফিরে ২০১৪ সালে দলের টিকিটে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন তাজুল ইসলাম।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমনিতেই নির্বাচনী এলাকায় কম আসেন। তার ওপর বেশ কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ। বন্যার সময় চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, এ নিয়ে দলের ভেতর আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনিই প্রার্থিতার শক্ত দাবিদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-২ নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই দুর্বল। জেলা ও উপজেলায় পাল্টাপাল্টি কমিটির কারণে সাংগঠনিক কোনো তৎপরতা নেই। ভিড় নেই পার্টির কার্যালয়েও। সংসদ সদস্য পছন্দের কয়েকজনকে দিয়ে তাঁর কর্মকান্ড চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।
অবশ্য আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশন থাকায় এলাকায় আসতে না পারলেও সব নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ রাখছি।

জাতীয় পার্টির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ বিমানের সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) আব্দুস সালামের নাম আলোচিত হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন এলাকায় বিলবোর্ড লাগিয়ে জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মাঝেমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করেন মেজর সালাম। এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষকে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।

মেজর সালাম জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালার কারণে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় বিগত নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তবে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।

জাতীয় পার্টির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম চৌধুরী মনোনয়ন না পেলে মেজর সালাম অথবা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেই প্রার্থী হতে পারেন এ আসনে। এছাড়া দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কুড়িপ্রাম সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পনির উদ্দিন আহমদের নামও শোনা যাচ্ছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়া পনির উদ্দিন জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে ধারণা করছে তার অনুসারীরা।

বাম দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় নেতা জাহিদুল হক মিলু প্রার্থী হতে পারেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। তবে এই দল থেকে কে প্রার্থী হবেন, তা এখনও ঠিক হয়নি। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে কুড়িগ্রাম-৩)।

 

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে মরিয়া

লিটন চৌধুরী, নাগেশ্বরী ও আনোয়ারুল হক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানা কৌশলে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ঈদ,পূজাসহ নানা উৎসবে তাদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। মোটামুটি ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্বাচনের এখনও এক বছর বাকী। দীর্ঘদিন মাঠে না থাকলেও গত ঈদের পূর্ব থেকে সব দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানা কর্মসূচি নিয়ে গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। তারা কখনও নিজেদের নামে চালাচ্ছেন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট, হা-ডু-ডু, যাচ্ছেন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিচ্ছেন আর্থিক সহায়তা। তাদের অভিনন্দন ও ব্যানার ফেস্টুন ভরে এলাকায় শোভা পাচ্ছে।
সংসদীয় এ আসনটি এক সময় আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও আলোচিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া ১৯৮২ সালের পর থেকে এটি দখলে নেয় জাতীয় পার্র্টি। মাঠে ভোট থাকলেও জোটের রাজনীতিতে নিজস্ব প্রার্থী না থাকায় বার বার সম্ভাবনা মার খাওয়ায় আসনটিকে পুনরায় নিজেদের দখলে নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। আবার একবার খুব কাছে গিয়েও তীরে ভিড়তে পারেনি বিএনপি।

এক সময় এ আসনে জাতীয় পার্টির ভোটের আধিক্য থাকলেও এখন তা ম্লান হয়ে এসেছে। এ আসনে জোট-মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে পরপর ৪ বার নির্বাচিত হয়ে আসনটি দখলে রেখেছেন জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমান। এবার এ আসনটি দখলে নিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা যেমন মরিয়া তেমনি জোরেসোরে মাঠে নেমেছেন বিএনপির একক প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা।
জাতীয় পার্টি ও বিএনপিতে একক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা অনেক দীর্ঘ। অনেক আগে থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে আছেন দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আছলাম হোসেন সওদাগর। তারা দু’জন নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যায়ক্রমে দলীয় মনোনয়ন পান। পরে মহাজোট এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে তারা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এবারও তারা মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

এছাড়াও নতুন প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরন্নবী চৌধুরী খোকন। বেশ কিছুদিন ধরে পোষ্টার ও বিলবোর্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় নাম লিখিয়ে আসছেন ষাটের দশকের ছাত্রনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান মন্ডল। এবারই প্রথম মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন ব্লুমীং নীটওয়ার লিমিটেডের পরিচালক সম্ভাবনাময় তরুণ শিল্পপতি সাবেক ছাত্রনেতা নাগেশ্বরী উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম মাজু। আবার নতুন করে নাম শোনা যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রিয় কমান্ড কাউন্সিলের সহ-সাংগাঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গণির। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে কুড়িগ্রাম-২)।

 



Go Top