মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
১৯ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:০৭:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+
ভূমিকম্পেরও পূর্বাভাস জানা যাবে!
পৃথিবীতে যেসব প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হচ্ছে ভূমিকম্প। কারণ এটি এমন একটি দুর্যোগ, যা আঘাত হানার আগে কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না।

 

আর এ পূর্বাভাস জানাও সম্ভব নয়- এমনটিই ভাবা হয়েছে এত দিন। কিন্তু বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন এই ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। আর তা ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা আগেই পাওয়া যেতে পারে।

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকায় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

 

চলতি মাসে এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বে চারবার বড় ধরনের ভূকম্পন হয়েছে- কখনো কাঁপল ভারতীয় উপমহাদেশ, কখনো কেঁপে উঠল পৃথিবীর পূর্বতম সেই প্রান্ত, যেখানে সূর্যোদয় হয় সবার আগে। কখনো কাঁপল সুদূর লাতিন আমেরিকা।

 

উপর্যুপরি এত কম্পন কি অশনিসংকেত? বিজ্ঞান বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পৃথিবীর প্লেটগুলো খুব অল্প সময়ে পর পর কয়েকবার নড়াচড়া করে ফেলেছে বটে, কিন্তু নীল গ্রহের গর্ভে অস্বাভাবিক কিছু ঘটার লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি। বরং অনেক আগে থেকেই আজকাল বুঝে নেওয়া যাচ্ছে, পৃথিবীর ঠিক কোন অংশ কখন কাঁপতে চলেছে।

 

 

আয়নোস্ফেরিক সায়েন্স হলো সেই বিজ্ঞান, যা প্রায় নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারে, কোন অঞ্চলে ভূকম্পন হতে চলেছে। কম্পনের অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে সেই আভাস দিতে পারেন আয়নোস্ফেরিক সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা।

 

ঠিক কীভাবে পাওয়া যায় এই আভাস? সত্যেন্দ্রনাথ বসু জাতীয় মৌল বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র প্রফেসর সন্দীপ চক্রবর্তী বললেন, ‘বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে একটা বিশেষ অস্বাভাবিকতা থেকে বোঝা যায়, ভূমিকম্প আসতে চলেছে।’ কী সেই অস্বাভাবিকতা? অধ্যাপক চক্রবর্তী জানালেন, আয়নোস্ফিয়ারের সবচেয়ে নিচের স্তরে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলেই বোঝা যায়, কম্পন হবে। উপযুক্ত পরিকাঠামো ব্যবহার করলে এটাও বোঝা যায় যে পৃথিবীর ঠিক কোন অঞ্চল কাঁপতে চলেছে।

 

 

আয়নোস্ফেরিক সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলের আয়ন স্তরে যেসব গ্যাস রয়েছে, সেগুলো আয়নীয় অবস্থায় থাকে। কারণ, প্রচণ্ড তাপের কারণে অণুগুলো থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে যায়। সূর্যরশ্মিতে যে অতিবেগুনি রশ্মি এবং অবলোহিত রশ্মি থাকে, তা আয়নোস্ফিয়ারের তাপ অনেক বাড়িয়ে দেয়। তার জেরেই গ্যাসের অণু থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে প্রচুর আয়ন তৈরি হয়। এর পাশাপাশি প্রচুর ইলেকট্রন সেখানে মুক্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকে।

 

স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর যে অংশে যখন দিন, সেই অংশের ওপরের আয়নোস্ফিয়ারে তখন মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি হয়। যে অংশে রাত, সেখানে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা কম হয়। শুধু তাই নয়, আয়নোস্ফিয়ারের ওপরের অংশ বেশি তপ্ত হওয়ায় সেখানে মুক্ত ইলেকট্রন যে সংখ্যায় থাকে, তলার দিকের স্তরে তার চেয়ে ওই সংখ্যা অনেক কম থাকে। আয়নোস্ফেরিক সায়েন্স বায়ুমণ্ডলের এই তলার স্তর বা ডি রিজিয়নের ইলেকট্রন সংখ্যা দেখেই বলে দিতে পারে, ভূকম্পের আশঙ্কা রয়েছে কি না।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দেখা যায় রাতেও আয়নোস্ফিয়ারের ডি রিজিয়নে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি, তা হলে বুঝতে হবে সূর্যরশ্মির কারণে নয়, ভূগর্ভ থেকে নির্গত র‌্যাডন গ্যাসের কারণে সেটা হয়েছে। এই র‌্যাডন গ্যাস ভূগর্ভের বিভিন্ন খাঁজে জমে থাকে। টেকটনিক প্লেট নড়াচড়া করলে ওই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। তা সোজা আয়নোস্ফিয়ারে পৌঁছে ডি রিজিয়নে আটকায়। সেই গ্যাসের অণু থেকেও ইলেকট্রন মুক্ত হতে থাকে এবং ডি রিজিয়নে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

 

আয়নোস্ফিয়ারের যে অংশে এই অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, সেই অংশের নিচে পৃথিবীর কোন দেশ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন বিজ্ঞানীরা। সেই দেশে বা তার আশপাশে অবস্থিত টেকটনিক প্লেটেই যে নড়াচড়া হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় এবং বিজ্ঞানীরা বলে দেন, কোথায় কম্পন হবে। কম্পনের ৭২ ঘণ্টা আগেই এই আভাস দেওয়া যায়।

 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এর অারো খবর