মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • রাজনীতি
  • প্রভাব ধরে রাখতে কেন্দ্রবিমুখ খুলনা বিএনপির নেতারা
২৮ এপ্রিল, ২০১৬ ১২:৪২:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+
প্রভাব ধরে রাখতে কেন্দ্রবিমুখ খুলনা বিএনপির নেতারা
কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ একটা বিশাল ব্যাপার। সেই পদের জন্য দেশের জন্মলগ্ন থেকেই জেলা পর্যায়ের নেতাদের দৌড়ঝাপের অন্ত থাকেনা। যে করেই হোক কেন্দ্রে একটা পদ নিতেই হবে। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘ দিনের রেওয়াজের ব্যতিক্রম দেখা দিয়েছে বিএনপিতে।

“এক নেতার এক পদ” ঘোষণা হওয়ায় দলটির স্থানীয় পর্যায়ে শীর্ষ পদে থাকা নেতারা কেন্দ্রের চেয়ে স্থানীয় পদের দিকেই ঝুকছেন বেশি। খুলনার নেতাদের মধ্যেও এই প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাতে যাওয়া না লাগে সে জন্য সব চেষ্টাই করছেন খুলনার কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতার এক পদ’ ধারা যুক্ত হয়। এরপর দলের মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার জেলার সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মূলত এরপর থেকেই এক নেতার এক পদ নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন খুলনার নেতারা। নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
 
জানা গেছে, ২০০৯ সালের পঞ্চম কাউন্সিলে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পান খুলনা বিএনপির ৮ জন নেতা। এর মধ্যে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম দাদু ভাই ও জেলা সভাপতি মাজিদুল ইসলাম বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বর্তমান নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

পাশাপাশি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, জেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম মনা, নগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আলী আজগর লবী ও মহিলা দলের সভাপতি সৈয়দা নার্গিস আলীকে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।

সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে বাকি নেতাদের কাছ থেকে মতামত নেয়া হচ্ছে। কিন্তু নির্বাহী কমিটির ৫ সদস্যের কেউই কেন্দ্রের কোনো পদে থাকতে রাজি হচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, রাজনীতিতে আমরা স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এসব নিয়েই আমাদের বেড়ে ওঠা, এদের নিয়েই আমাদের রাজনীতি। এজন্য এসব মানুষকে ছেড়ে কেন্দ্রের অলঙ্কারিক পদ আমাদের জন্য নয়। আমি স্থানীয় রাজনীতিতেই থাকতে চাই।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম মনা বলেন, কেন্দ্র থেকে আমার মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি বলেছি, কেন্দ্রে আমার পদের দরকার নেই। আমরা খুলনাতে স্থানীয়ভাবেই রাজনীতি করতে চাই।

নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তুজা এবিষয়ে বলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে প্রার্থী হতে  আগ্রহী তিনি। তবে কেন্দ্রের কোনো পদের জন্য চেয়ারপার্সন যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটা তিনি মেনে নেবেন।

নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দা নার্গিদ আলী বলেন, কেন্দ্রের অলঙ্কারিক পদে থেকে লাভ কি? এর চেয়ে খুলনার রাজনীতিই ভাল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদের জন্য এক সময় প্রতিযোগিতা শুরু হতো। যুবদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পেতে এক নেতা ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন। কিন্তু তাদের কেউই এখন কেন্দ্রীয় কমিটিতে যেতে চাইছেন না। নতুন এই ধারা রাজনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক তা বুঝতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে।
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর অারো খবর