বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • রাজনীতি
  • ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’: আ. লীগ সভাপতির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন
২২ এপ্রিল, ২০১৬ ১১:১৭:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+
‘মনোনয়ন বাণিজ্য’: আ. লীগ সভাপতির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’ বন্ধের দাবি জানিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে এ মানববন্ধন করেন আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের একদল তৃণমূল নেতাকর্মী; যাদের এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে আগামী ২৮ মে ভোট হওয়ার কথা।

মানববন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, ‘টাকার বিনিময়ে জামায়াত সমর্থিতদের’ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ তৃণমূলে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও তাদেরকে প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।

মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এসময় ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

তাদের অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ডাবলুকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানববন্ধনে ৬ নম্বর কাতারিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন চৌধুরী বলেন, “তৃণমূলের ২২ ভোটের মধ্যে ১৪টি ভোট পেয়েছি। কিন্তু টাকার বিনিময়ে নব্য আওয়ামী লীগারদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে; যারা এলাকায় যোগাযোগ রাখে না।”

বাশখালীর ২ নম্বর সাধনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “আমি এমপি সাহেবের সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেছেন যে, আমি তৃণমূলের সর্বাধিক ভোট পেলেও আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। আমি নিয়ম মোতাবেক প্রার্থী মনোনয়নের দাবি জানালে তিনি আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন।”

বাশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃণমূলের নেতাদের নিয়ে প্রার্থী নির্বাচনের জন্য সমাবেশের কথা থাকলেও কিছুই করা হয়নি। সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তারা প্রার্থী নির্বাচন করেছে।

“আমার জানা মতে, ৩০-৪০ লক্ষ টাকা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের লোকদের কাছে মনোনয়ন বিক্রি করা হয়েছে।”

বোয়ালখালী থানার বড়লডাঙ্গার আহল্লা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “টাকার বিনিময়ে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি, সে বঙ্গবন্ধুর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১৫৫ নম্বর সাক্ষী আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

“সে থানার দালাল হিসেবে পরিচিত। তাদের বাবা, চাচারা আল বদর বাহিনীর সদস্য।”

১১ নম্বর কালিহাস ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হাফেজ আহমেদ রাজকার সমর্থিত পরিবারের সদস্য বলে মাববন্ধনে অভিযোগ করেন সাতকানিয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু তাহের এলএমজি।

তিনি বলেন, “বর্তমানে সে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ৭১ এ সে নিজেও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি ছিল। টাকার বিনিময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুবুদ্দিন ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুসলেম উদ্দীন তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন।”

ধর্মপুর ইউনিয়নের রাজাকার কমান্ডার সিদ্দিক আহমেদের ছেলে ইলিয়াস গত নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান ছিলেন জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু তাহের বলেন, “এবার তাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে টাকার বিনিময়ে।

“আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে এর নিন্দা জানাই। সেই সাথে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানাই, তাদেরকে যেন মনোনয়ন দেওয়া না হয়।”

চন্দনাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ফারুকী বলেন, “৫ নম্বর বড়মা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

“কিন্তু দুবাই প্রবাসী খোরশেদুল আলম টিটুর কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা নিয়ে থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ ও স্থানীয় এমপির ভাই মন্টু তাকে মনোয়ন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠিয়েছেন।”

তৃণমূলে সর্বসম্মতিক্রমে তার নাম প্রস্তাব করা হয় দাবি করে তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কেন্দ্র থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মুসতাফিজুর রহমান কাছ থেকে এসব অভিযোগ শোনামাত্রই অভিযোগকারী নেতাদের ‘গালি-গালাজ’ করে ফোন রেখে দেন।
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর অারো খবর