মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
২১ এপ্রিল, ২০১৬ ২০:২২:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+
‘ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি’
বিগত বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা ও উৎকণ্ঠা। দেশের অর্থনীতির কল্যাণে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা আজ অত্যন্ত জরুরি।

 

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর উদ্যোগে ‘ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব মন্তব্য করেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা।

 

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফিনএক্সেলের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমদ বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম বাধা। নিকট অতীতে পুঁজিবাজার, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা। ভবিষ্যতে এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন সমস্যা থেকে উত্তরণে করণীয় নির্ধারণ।’

 

তিনি প্রবন্ধের শুরুতে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান কিছু সমস্যা তুলে ধরেন। সমস্যাগুলো হলো- বিনিয়োগ না বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত পড়ে থাকা, ব্যাংকগুলো যে ঋণ দিচ্ছে তা আদায় করতে না পারা কিংবা কাকে ঋণ দেওয়া হবে তা নিয়ে সংকট তৈরি হওয়া, ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতি, ব্যাংকগুলোর কেবল লাভের পেছনে ছোটা, বিপুল অঙ্কের খেলাপি ও মন্দ ঋণ, ব্যাংকগুলোর আইটি সিস্টেম সুরক্ষিত না থাকা, বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতি, আমানত সংগ্রহে অসম প্রতিযোগিতা, বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ব্যবস্থাপনার সংকট, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সিবিএ নেতাদের দৌরাত্ম্য।

 

সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে অত্যন্ত বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এ খাতে সুশাসনের অভাব আছে। কী কারণে আজ এ অবস্থা তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। দলীয়করণ ও রাজনীতি ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তৃত্ব ও নজরদারি অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আছে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ পোষণ করেন এম হাফিজ উদ্দিন খান।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা যে কম আছে তা নয়, ক্ষমতা যতটুকু আছে তার কতটুকু প্রয়োগ করছে তা বিবেচ্য বিষয়। ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য যথাযথ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে।’

 

তিনি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট নিয়মিত করা, ব্যাংকগুলো যাতে বড় ধরণের ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে সেদিকে নজর রাখা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কাকে ঋণ দেওয়া হবে সেটি বিবেচনায় আনা, ঋণ আবেদনকারীর তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

 

সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের আর্থিক খাতে বিচারহীনতা ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা আছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে রিজার্ভের টাকা চুরি, বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক ও পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।’

 

ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘শুধু ব্যাংকিং খাতে বা আর্থিক খাতে না, সব খাতেই বিচারহীনতা বিরাজ করছে। অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বিরাজ করছে। তবে আশার কথা যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়ে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, তারা যথাসময়ে প্রতিবেদন পেশ করেছে।’

 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর অারো খবর