রাত ৪:১৭, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

রাজকুমার নন্দী : চিকিৎসা শেষে আগামীকাল বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনটি মামলায় পরোয়ানা থাকলেও বেগম জিয়ার দেশে ফেরার খবরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় তিন মাস অবস্থানকালে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সুতরাং খালেদা জিয়া দেশে ফিরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেবেন। তাদের প্রত্যাশা, বেগম জিয়া ফিরলে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আংশিক কমিটিগুলো দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ হবে। ছাত্রদল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দলসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর নতুন কমিটিও শিগগিরই ঘোষিত হবে। এছাড়া পূরণ হবে দলের একাধিক শূন্য পদ, বাস্তবায়িত হবে ‘এক নেতার এক পদ’র বিধান, সম্পন্ন হবে তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও। এর মধ্য দিয়ে স্থবির হয়ে পড়া সাংগঠনিক কর্মকান্ডে গতি আসবে, যা বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে যান খালেদা জিয়া।

গত ৯ অক্টোবর কুমিল্লা ও ১২ অক্টোবর ঢাকার আদালতে পৃথক তিনটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বেগম জিয়া দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় তা মোকাবেলা করবেন বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এদিকে, চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলেও এই সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলেছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। কারণ, বিএনপি প্রধানের এই সফরের মাধ্যমে আসতে পারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া দেশে ফিরে উপযুক্ত সময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। তারা বলছেন, এই রূপরেখা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে শেষপর্যন্ত তাদেরকে রাজপথের আন্দোলনেও যেতে হতে পারে। সেজন্য ওই ইস্যুতে জনমত তৈরিতে খালেদা জিয়া বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন জেলা সফরে যেতে পারেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খালেদা জিয়া দেশে এসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য বিরোধী দলের রাজনীতিতে যা যা করা দরকার তিনি তা-ই করবেন।

গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণ দুইভাগে ভাগ করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও কোনো কমিটিই এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। নেতাকর্মীদের আশা, খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে দুই কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হবে। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান দৈনিক করতোয়াকে জানান, কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) দেশে ফিরলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। উত্তরের অধীন থানাগুলোর কমিটি গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর অধীন ২৬টি থানা কমিটিও ঘোষণা করা হবে। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারও জানান, মহানগর দক্ষিণের কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দক্ষিণের অধীন থানা ও ওয়ার্ড কমিটিও ঘোষণা করা হবে। এদিকে, গত ১৭ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং সাত সদস্যবিশিষ্ট মহানগর দক্ষিণের আংশিক কমিটিও ঘোষিত হয়। জানতে চাইলে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব দৈনিক করতোয়াকে বলেন, যুবদলের কমিটি চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলে ২৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাত সদস্যবিশিষ্ট নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া গত ১ মে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষিত হয়। জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, কমিটি প্রায় চূড়ান্ত। ম্যাডাম দেশে আসলে স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এদিকে, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর মহিলা দলের কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিনটি কমিটিই পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে এসব কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে বলে নেতাকর্মীদের আশা।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ঘোষণা করা হয় ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ অক্টোবর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর গত ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণের এক বছর পূর্ণ করেছে। অন্যদিকে, দেড় যুগ আগের কমিটি দিয়ে চলছে কৃষক দল। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ১৬ মে তৃতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কৃষক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে মৎস্যজীবী দলের তিন সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওই কমিটিই এখনো বহাল রয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে তাঁতী দলও। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশা, দলীয় চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে দ্রুততম সময়ে এসব কমিটি ঘোষিত হবে। এদিকে, দল পুনর্গঠনেও কিছু সিদ্ধান্ত এখনো বাকি রয়েছে বিএনপির। স্থায়ী কমিটির তিনটি শূন্য পদসহ দুইটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদকের পদও এখনো খালি রয়েছে। এছাড়া দলাদলি ও কোন্দলের কারণে গত দেড় বছরের বেশি সময়েও সম্পন্ন হয়নি তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫০টির মতো জেলার কমিটি গঠিত হয়েছে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে এই শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন বিমানবন্দর থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসভবন পর্যন্ত জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা করছে দলটি। এ লক্ষ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইতোমধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার দলীয় নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকও করেছেন। এছাড়া ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের নিয়েও বৈঠক করেন।

জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে গেলে এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসলে যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়, দলের নেতাকর্মীরা এবারো বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন। আমরা বরাবরই এভাবে করে থাকি। এজন্য আলাদাভাবে কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। খালেদা জিয়া দেশে এলে তাঁকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হবে বলে জানান শামসুজ্জামান দুদু।

 

জিয়াউর রহমানের গুণগান সিইসির কৌশল হতে পারে : কাদের

জিয়াউর রহমানের গুণগান গাওয়া বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সিইসির কৌশল হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে কে এম নূরুল হুদা আসলে কী বলেছেন, সে বিষয়টি আগে নিশ্চিত হতে চাইছে ক্ষমতাসীন দলটি। রোববার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে নূরুল হুদা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘তার হাত দিয়েই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।’ তাৎক্ষনিক ভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার ওই বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও গতকাল সোমবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবসের অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকরা চিরকূট পাঠিয়ে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জিয়াকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলেছেন, তিনি এটি ভেতরে বলেছেন, তিনি কোনো প্রেস ব্রিফিং করেননি। এটি আমাদের কনফার্ম হতে হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসির সংলাপে বিষয়টি স্পষ্ট হবেন বলে আশা করছেন তিনি। আমাদেরও সংলাপ আছে, কাজেই আমাদের যা কিছু জানার, এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হব, তিনি আসলে কী বলেছেন। এ নিয়ে তার সাথে কথা বলার সুযোগ আছে। তবে সিইসি যদি ওই বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তা দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আনার কৌশল খাটিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

এটি বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার কৌশলও হতে পারে। বিএনপিও খুব আশাবাদী, মির্জা ফখরুলের বিষন্ন মুখে খুব খুশি খুশি ভাব দেখলাম, এই আশাবাদী ভাবটা যেন আগামী নির্বাচন পর্যন্ত থাকে,এটি আশা করি। বিএনপি আমলে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল তখনকার যুগ্মসচিব নূরুল হুদাকে। পরে পক্ষে আদালতের রায় পেয়ে সচিব হিসেবে তিনি অবসরে যান। এবার সিইসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তাকে ১৯৯৬ সালের ‘জনতার মঞ্চের লোক’ বলে প্রতিক্রিয়া জানায় বিএনপি। তবে নূরুল হুদা বিএনপিকে হটানোর ওই আন্দোলনে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসছেন।

ইসির কাছে নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইসি নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করুক, এটা আওয়ামী লীগ চায় না। খাদ্য দিবসের এই অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি স্বীকার করব এবং স্বীকার করতেই হবে, বাংলাদেশে একটি কোয়াইট রেভুলেশন হয়েছে কৃষি সেক্টরে, নিঃশব্দ বিল্পব হয়ে গেছে। এই বিপ্লবের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রূপকার মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীও তার উপর গভীর আস্থা রাখেন। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালের পর দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানিও করেছিল, শ্রীলঙ্কাকে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক দুই দফা বন্যা হয়েছে, এর উপর রোহিঙ্গা ইস্যু আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘অভিবাসনের ভবিষ্যৎ বদলে দাও খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াও’ স্লোগানে এবার বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন, সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, ড, আব্দুল মান্নান, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ভাগ্য রাণী বনিক বক্তব্য রাখেন।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো : রিজভী

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘সরকারের সাজানো রূপকথার গল্প’ হিসেবে দেখছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো একেবারে পাতালপুরী থেকে নিয়ে আসা রূপকথার গল্প ছাড়া অন্যকিছু না। জোর করে সন্ত্রাসী কায়দায় জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পর এখন চূড়ান্ত পদক্ষেপ পদত্যাগ করাতেই হঠাৎ এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপির এই নেতা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে- প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিকে ডেকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি বৈঠক করেছেন এবং তাদের বুঝিয়েছেন। দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এটা সংবিধানে নেই। প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে অন্য বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করে রাষ্ট্রপতিও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। রাষ্ট্রপতির যদি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এতো অভিযোগই থাকে, তাহলে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করলেন না কেন- এই প্রশ্ন এখন আইন অঙ্গণে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ ১০ কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ সংক্রান্ত আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনকে ‘বেআইনি’ বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, এটা নজিরবিহীন ঘটনা। প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পূর্বে বলেছিলেন- সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের রদবদল শুধুমাত্র প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার। তাহলে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনও বেআইনি। এটা আইন মন্ত্রণালয় করতে পারে না। কিন্তু তাদের (আইন মন্ত্রণালয়) তো এসব যায়-আসে না। কারণ, তারা বেপরোয়া জমিদারির রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা এখন সংবিধান, আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া- এসব থোড়াই কেয়ার করে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সময় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, কাজী আবুল বাশার, ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

সিইসির পদত্যাগ দাবি কাদের সিদ্দিকীর

সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা’ বলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।  সোমবার ঢাকার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে যোগ দেওয়ার পর আড়াই ঘণ্টার মাথায় ওই দাবিতে আলোচনা বর্জনের কথা জানিয়েছে দলটি।  

বেলা ২টার দিকে সংলাপ থেকে বেরিয়ে এসে কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে আমাদের বক্তব্য অব্যাহত রাখতে পারি নাই। আমরা আলোচনা বয়কট করে চলে এসেছি।’ ইসির ধারাবাহিক সংলাপের ৩৪তম দল ছিল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রথমবারের মত এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হল নূরুল হুদার কমিশন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা আলোচনা বয়কট করেছি এই জন্য যে, যদি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে থাকে, তাহলে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কেউ না কেউ হত্যা করেছে। তাহলে সেই হত্যা করা, বাতিল করা, স্থগিত করা বা নির্বাসনে দেওয়া গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে জিয়াউর রহমান। তার (সিইসি) এই বক্তব্যের সাথে আমরা একমত না। সিইসিকে একটি ‘নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, সিইসি এ কথা বলতে পারেন না যে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন আর শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। তাই আমি মনে করি, সিইসির এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি অত্যন্ত কঠিন একটা বেহিসাবি কথা বলেছেন। আগের দিন বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসে দলটির নেতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ব্যক্তি হিসেবে এবং দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান চার বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তার হাত দিয়েই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। এরপর সূচি অনুযায়ী কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার সকালে সংলাপে যোগ দিতে ইসিতে আসে। সিইসি কে এম নূরুল হুদা, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে বেরিয়ে এসে কাদের সিদ্দিকী বলেন, পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনে সিইসি বাকি চারজনের সঙ্গে ‘আলোচনা না করে একাই’ জিয়াকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। দেশে যে লড়াই সে সেটি গণতন্ত্রের লড়াই। সে লড়াই মানুষের অধিকারের লড়াই। সেই জন্য আমাদেরকে ডাকা। এই আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করলেও সেটাকে আমরা স্বীকার করতে পারছি না। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস, ভোটের সময় সেনা মোতায়েন, ইভিএম চালুসহ ১৮ দফা সুপারিশ করেছে বলে জানান দলটির সভাপতি।

‘পরে কথা বলব’ সিইসি
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সংলাপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিকাল ৩টায় সাম্যবাদী দলের সঙ্গে বসে নির্বাচন কমিশন। সিইসি সম্মেলন কক্ষে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চান । প্রথমে চুপ থাকলেও এক পর্যায়ে সিইসি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন কোনো কথা বলব না, পরে কথা বলব।’

 

সিইসির পদত্যাগ চান কাদের সিদ্দিকী

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বক্তব্যের জের ধরে সংলাপ ‘বয়কট’ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

সোমবার ঢাকার নির্বাচন ভবনে গিয়ে ইসির সঙ্গে সংলাপ শেষে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সামনে ওই দাবির কথা বলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন- সিইসি এ কথা বলতে পারেন না। জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে থাকলে কেউ না কেউ বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করেছ।”

রোববার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসে দলটির নেতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, ব্যক্তি হিসেবে এবং দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান চার বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

“তার হাত দিয়েই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।”

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “সিইসির বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত নই। এ কারণে আমরা সংলাপ বয়কট করেছি। আমি তার পদত্যাগ দাবি করছি।”

বিস্তারিত আসছে

 

সংসদ ভেঙে সহায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব বিএনপির

 নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে  ‘সহায়ক সরকার’ এর অধীনে ভোটের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে নির্বাচনের সময়ে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, ২০০৮ সালের পূর্বের নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্বহাল, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি,  ইভিএম-ডিভিএম পদ্ধতি চালু না করা, ১/১১ থেকে শুরু করে বর্তমান সরকার কর্তৃক বিএনপির চেয়ারপারসনসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহারসহ নির্বাচন কমিশনকে ২০ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে দলটি।

রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়ে এই প্রস্তাবনা দেয় বিএনপি। সংলাপে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা আড়াই ঘন্টা এই সংলাপ চলে। সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আগামী নির্বাচন ও আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে বিএনপি কিছুটা আশাবাদী হয়েছে বলে জানান দলটির মহাসচিব।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সংলাপে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন-স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এএসএম আবদুল হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আব্দুর রশীদ সরকার ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এই প্রথম বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে আসলো।

সংলাপ শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করতে চায়-নির্বাচন কমিশনের এই সংলাপ বা রোডম্যাপ বা পথ নকশা নিছক কালক্ষেপণ বা লোকদেখানো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে না। এই সংলাপ যেন প্রহসনে পরিণত না হয় তা কমিশনকেই নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও সকল দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইসির আন্তরিকতা, দক্ষতা ও নির্ভিক পদক্ষেপ সমগ্র জাতি প্রত্যাশা করে। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্যে বিএনপি ইসিকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে চায়। এজন্য ইসিকে সময় সময় গঠনমূলক সুপারিশ ও পরামর্শ প্রদান করার কথা জানান ফখরুল। সংলাপে আপনারা সন্তুষ্ট হয়েছেন কিনা- প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের যে একটা প্রচন্ড রকমের অগণতান্ত্রিক আচরণ, সেখানে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার কারণ আছে বলে তো আমরা মনে করি না। এর মধ্যেও আশার যাত্রাটা শুরু হলো কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সংলাপের পর আমরা কিছুটা আশাবাদী তো বটেই। সংলাপে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি ও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ধারণা নিয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত করার আদর্শে বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। তবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান অকার্যকর ও অপরিপক্ক সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এখন থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান করতে হবে, সভা-সমিতি করার জন্য সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

ইসিতে বিএনপির দেয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আমাদের প্রস্তাবসমূহ দিয়েছি। তারা (ইসি) অত্যন্ত আগ্রহের সাথে শুনেছেন। তারা বলেছেন, ভবিষ্যতে যাতে একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারেন তার জন্য তারা চেষ্টা করবেন, তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। তারা (ইসি) এ-ও বলেছেন যে, আপনাদের (বিএনপি) প্রস্তাবগুলো আমাদের কাছে অত্যন্ত উপযোগী ও সুচিন্তিত হয়েছে, আমরা উপকৃত হবো। তারা (ইসি) মনে করেছেন যে, প্রস্তাবসমূহ তাদের ভবিষ্যতের কাজের জন্য সুবিধা হবে। আড়াই ঘন্টা সংলাপের উপলব্ধি কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা (ইসি) বলেছেন- তাদের অনেকখানি সীমাবদ্ধতা আছে। তবে তারা একথা স্বীকার করেছেন যে, দেশে বর্তমানে সেই অবস্থা নেই যে তারা তাদের দায়িত্ব পুরো পালন করতে পারেন। তারা এটাও বলেছেন যে, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়- গণতন্ত্রের যে আসল রূপ সেই রূপ বাংলাদেশে নেই। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার বিষয় ছিল কিনা-প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (ইসি) বলেছেন- তাদের সীমাবদ্ধতা আছে, তারপরেও তারা চেষ্টা করবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ আয়োজন ও সহায়ক সরকারের যে দাবির কথা আমরা তাদের বলেছি, সেই ব্যাপারে কমিশন তাদের ক্ষমতার মধ্য থেকে কিছু করার চেষ্টা করবে বলে আমাদের জানিয়েছেন।

বিএনপির প্রস্তাবসমূহ : নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদে ভেঙে দেয়া, ১/১১ সরকার কর্তৃক দলের চেয়ারপারসনসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার, বর্তমান সরকারের আমলে দায়েরকৃত সকল ফরমায়েশী মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, গুম-খুন-হয়রানি ও ভীতির সঞ্চার বন্ধ করা, এখন থেকে সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মকান্ডের অধিকার নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের কার্যকর সংলাপ অনুষ্ঠানে ইসিকে উদ্যোগ গ্রহণ, নির্বাচনে ইভিএম-ডিভিএম পদ্ধতি কিংবা এ জাতীয় কোনো যন্ত্র ব্যবহার না করা, নির্বাচনের ৭দিন আগে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রসহ নির্বাচনী আসনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, আরপিও‘তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্তকরণ, আরপিও‘র নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন-বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, ২০০৮ সালের আগের নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্বহাল, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্তকরণ ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, নির্বাচনের ৬ মাস আগে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে ন্যস্ত করা, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সিদ্ধান্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কোনো কমিশনারের একক সিদ্ধান্তে নয়- নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রহণ, নির্বাচনপূর্ব সময়ের শুরুতেই সকল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডিসি, এসপি, মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার, ইউএনও, ওসি পরিবর্তন করা, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার প্রদান, ব্যালট পেপারে দৃশ্যমান জলছাপ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার তালিকাভুক্তি করা, ভোটারযোগ্য কারাবন্দিদের ভোটার তালিকাভুক্তি করা এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা হতে বাদ দেয়া, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ, মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে বর্তমান বিধানের সাথে ‘নির্বাচন কমিশনে’ এবং ‘অন-লাইনে’ দাখিলের বিধান প্রবর্তন, মনোনয়নপত্রের সাথে জামানত হিসেবে ‘নগদ বা ক্যাশ’ অর্থ জমাদানের বিধান বাতিল করা, ভোটগ্রহণ শেষে সকল পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিতে বিরতিহীনভাবে ভোট গণনা করা, প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক ভোট গণনার স্বাক্ষরিত বিবরণী উপস্থিত প্রত্যেক এজেন্টকে প্রদান না করে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ না করা, রিটার্নিং অফিসার ভোট গ্রহণের দিনই কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফল একত্রীকরণ করে প্রার্থীদের কিংবা তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করা।

তফসিল ঘোষণার পর সকল রাজনৈতিক দলের ও প্রার্থীর সভা-সমাবেশ-পথসভার অনুমতি প্রদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে ন্যস্ত করা, ছবিসহ অভিন্ন ভোটার তালিকা ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তার নির্বাচনী এজেন্টদের সরবরাহ করা, দল বা প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের সহায়তা ও নিরাপত্তা প্রদান, দেশীয় পর্যবেক্ষক ও পর্যবেক্ষণ সংস্থার নিবন্ধন ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আনা, অধিক সংখ্যক বিদেশী পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উৎসাহিত করা। বন্ধ ঘোষিত গণমাধ্যম চালু করা, গণমাধ্যমে সকল দল ও প্রার্থীর প্রচারণায় সমতাভিত্তিক সুযোগ প্রদান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, আইসিটি অ্যাক্ট এর বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল, নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক চালু রাখা, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইন্টারসেপ্ট করতে পারে এমন সংস্থাগুলো হতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণ করে সেখানে নিরপেক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশী শক্তির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ইসির সাথে অনুষ্ঠিত সংলাপে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গের দেয়া পরামর্শ-সুপারিশ বাস্তবায়ন করা ইত্যাদি।

 

 

 

 

 

ইসির সাথে সংলাপে ১১ প্রস্তাব নিয়ে যাবে আওয়ামী লীগ: কাদের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১১টি প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা জানান তিনি।

আসন্ন সংলাপ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এইটুকু বলতে পারি ১১টির মতো প্রস্তাব আছে। এটি নিয়ে আমি এখন কোনো কথা বলব না। এটি তো ওপেন সিক্রেট, সিক্রেট কোনো বিষয় না, মিটিং ক্লোজ ডোরে হবে না, মিডিয়ার উপস্থিতিতে সংলাপ হবে, সংলাপের পর সেখানে ব্রিফ করা হবে। সিইসি ও সরকার মনে করছে বিএনপি নির্বাচনে আসবে, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন তার নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। সিইসির হয়তো মনে হয়েছে বিএনপি সংলাপে আসবে, ইলেকশনেও আসবে। সংলাপে তো আজ আসল। বিএনপি ইলেকশনে আসবে না, এমন নেগেটিভ কথা কেন বলব। বিএনপি একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, একটি বড় দল।নির্বাচনে বিএনপি আসুক আমরা চাই, দুর্বলকে পরাজিত করে বিজয়ী হতে চাই না, শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে বিজয়ী হতে চাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির ভোট বর্জনের প্রসঙ্গে কাদের বলেন, গতবার ৫ জানুয়ারিতে বিএনপি আমাদের যে রকম অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল, আমরা সে রকম অবস্থা চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।

অনেকেই বলেন গত নির্বাচনে অংশ না দিয়ে তারা ভুল করেছে, এই ভুলের পুনরাবৃত্তি তারা করবে বলে বিশ্বাস করি না। বিএনপির সংলাপে যাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওবাদুল কাদের। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে অপারগতা জানান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে পরামর্শ পেতে গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হয় নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাথে বসবে নির্বাচন কমিশন। রোববার মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ইসির সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেয়।

খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন বুধবার

চিকিৎসা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে আগামী বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওইদিন বিকেল পাঁচটা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার লন্ডন সময় রাতে দেশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এই তথ্য জানিয়েছেন। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে যান খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি বড় ছেলে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন। লন্ডনে বেগম জিয়ার চোখে অস্ত্রোপচার ও হাঁটুর চিকিৎসা হয়েছে। এদিকে, খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে বিশাল শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে এই শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

জিয়ার হাত দিয়েই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা লাভ করে: সিইসি

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে বসে দলটির নেতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ব্যক্তি হিসেবে এবং দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তার হাত দিয়েই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।

রোববার সংলাপের সূচনা বক্তব্যে বিগত বিএনপি সরকারের বিভিন্ন ‘ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের’ কথাও তুলে ধরেন সিইসি নূরুল হুদা, যাকে ২০০১ সালে যুগ্ম সচিব  থাকা অবস্থায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল  বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। পরে আদালতের রায় পেয়ে সচিব হিসেবে তিনি অবসরে যান। নির্বাচন ভবনের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে এই সংলাপ শুরু হয়।


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজনও ছিলেন। সংলাপের শুরুতে লিখিত সূচনা বক্তব্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরেন নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি প্রায় নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছে। পরে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করে। সংলাপে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আজকের সংলাপে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অনেকেই সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেছেন। মন্ত্রী থাকাকালে আপনাদের অনেকের অধীনে আমি চাকরি করার সুযোগ পেয়েছি। অনেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার ভূমিকা রেখেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে বিএনপি সরকার দেশে ‘প্রকৃত নতুন ধারার’ প্রবর্তন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নূরুল হুদা সিইসির দায়িত্ব পাওয়ার পর বিএনপি অভিযোগ তোলে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের সময় ঢাকায় গঠিত জনতার মঞ্চে যোগ দেওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। তবে নূরুল হুদা বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

বিএনপির রাষ্ট্রপরিচালনার প্রশংসায় নূরুল হুদা বলেন, বিএনপি সরকার দেশে বহুবিধ উন্নয়ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলককরণ, পৃথক প্রাথমিক গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যটালিয়ান গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠা, আইন কমিশন গঠন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছরে উন্নীতকরণসহ অনেক উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম বিএনপি সরকার করেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এখন সংসদের বাইরে।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে তা মেনে না নেওয়ার কথা বলে আসছেন বিএনপি নেতারা। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলে আসছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে, এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী। সংলাপের সূচনায় বিএনপিকে ‘সফল রাষ্ট্রপরিচালনার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা’ থাকা একটি ‘বৃহৎ’ রাজনৈতিক দল’ হিসেবে বর্ণনা করেন সাবেক এই আমলা। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আজকের সংলাপের দিকে জাতি তাকিয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অধীর আগ্রহ ও অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে, অতি ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করছে। কমিশন বিএনপির সঙ্গে সফল সংলাপ প্রত্যাশা করে। ইসির এই সংলাপে  বিএনপিই ‘সবচেয়ে বেশি লাভবান’ হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

 

সংসদ ভেঙে ‘সহায়ক সরকার’র অধীনে ভোট: ইসিতে বিএনপির প্রস্তাব

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে ‘সহায়ক সরকার’ এর অধীনে ভোটের প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে বিএনপি। ভোটের সময় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, ২০০৮ সালের  আগের সংসদীয় আসন সীমানা ফিরিয়ে আনা, ইভিএম চালু না করার প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি।

জরুরি অবস্থার সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দলীয় চেয়ারপারসনসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকরা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে বিএনপির ২০টি সুপারিশে।

পরবর্তী সংসদ নির্বাচন করতে দায়িত্বে আসা কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও রোববার তাদের সঙ্গে সংলাপে বসে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি।

আড়াই ঘণ্টার সংলাপের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি বিশ্বাস করতে চায়, নির্বাচন কমিশনের এই সংলাপ বা রোডম্যাপ বা পথ নকশা নিছক কালক্ষেপণ বা লোক দেখানো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে না। এই সংলাপ যেন প্রহসনে পরিণত না হয়, তা কমিশনকেই নিশ্চিত করতে হবে।”

 

সিইসির মুখে বিএনপি ও জিয়ার গুণগান

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে বসে দলটির নেতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা।

তিনি বলেছেন, ব্যক্তি হিসেবে এবং দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। “তার হাত দিয়েই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।”

রোববার সংলাপের সূচনা বক্তব্যে বিগত বিএনপি সরকারের বিভিন্ন ‘ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের’ কথাও তুলে ধরেন সিইসি নূরুল হুদা, যাকে ২০০১ সালে যুগ্ম সচিব  থাকা অবস্থায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল  বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। পরে আদালতের রায় পেয়ে সচিব হিসেবে তিনি অবসরে যান।  

নির্বাচন ভবনের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে এই সংলাপ শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজনও ছিলেন।

সংলাপের শুরুতে লিখিত সূচনা বক্তব্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরেন নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, “১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি প্রায় নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছে। পরে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। “বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করে।”

সংলাপে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, “আজকের সংলাপে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অনেকেই সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেছেন।

“মন্ত্রী থাকাকালে আপনাদের অনেকের অধীনে আমি চাকরি করার সুযোগ পেয়েছি। অনেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার ভূমিকা রেখেছেন।”

রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে বিএনপি সরকার দেশে ‘প্রকৃত নতুন ধারার’ প্রবর্তন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নূরুল হুদা সিইসির দায়িত্ব পাওয়ার পর বিএনপি অভিযোগ তোলে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের সময় ঢাকায় গঠিত জনতার মঞ্চে যোগ দেওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। তবে নূরুল হুদা বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

বিএনপির রাষ্ট্রপরিচালনার প্রশংসায় নূরুল হুদা বলেন, “বিএনপি সরকার দেশে বহুবিধ উন্নয়ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলককরণ, পৃথক প্রাথমিক গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যটালিয়ান গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠা, আইন কমিশন গঠন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছরে উন্নীতকরণসহ অনেক উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম বিএনপি সরকার করেছে।”

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এখন সংসদের বাইরে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে তা মেনে না নেওয়ার কথা বলে আসছেন বিএনপি নেতারা।     

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলে আসছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে, এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

সংলাপের সূচনায় বিএনপিকে ‘সফল রাষ্ট্রপরিচালনার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা’ থাকা একটি ‘বৃহৎ’ রাজনৈতিক দল’ হিসেবে বর্ণনা করেন সাবেক এই আমলা।

তিনি বলেন, “বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আজকের সংলাপের দিকে জাতি তাকিয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অধীর আগ্রহ ও অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে, অতি ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করছে। কমিশন বিএনপির সঙ্গে সফল সংলাপ প্রত্যাশা করে।”

বিএনপির সঙ্গে সংলাপেই ‘সবচেয়ে বেশি লাভবান’ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এএসএম আবদুল হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আব্দুর রশীদ সরকার ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ছিলেন বিএনপির প্রতিনিধি দলে।

 

ইসির সংলাপে বিএনপি

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন এবার বিএনপির সঙ্গে বসেছে, যারা নির্বাচন আয়োজনকারী এই সাংবিধানিক সংস্থার ভূমিকার সমালোচনা করে আসছে।

রোববার বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এই সংলাপ শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

প্রতিনিধি দলের অপর সদস্যরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এএসএম আবদুল হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আব্দুর রশীদ সরকার ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রয়েছেন এই প্রতিনিধি দলে।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এই প্রথম বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় এল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইসির সেই সংলাপে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দলটির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অংশীজনদের পরামর্শ নিতে গত ৩১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এবারের সংলাপ শুরু হয়। প্রথম দিন আলোচনা হয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে।

এরপর ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ইসি। ২৪ অগাস্ট থেকে শুরু হয় নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ।

এ পর্যন্ত ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সংলাপে বসেছে। আগামী ১৮ অক্টোবর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার মধ্যে দিয়ে এবারের সংলাপ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

 

প্রধান বিচারপতি সিনহার ‘দুর্নীতির’ তদন্ত হবে : মতিন খসরু

কুমিল্লা প্রতিনিধি: প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু। বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর শনিবার সুপ্রিম কোর্টে এক বিবৃতিতে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তোলার পর প্রেক্ষাপটে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক অনুষ্ঠানে একথা জানান মতিন খসরু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দালিলিক প্রমাণসহ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

মতিন খসরু বলেন, প্রধান বিচারপতি নিজ স্বাক্ষরিত চিঠিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে অসুস্থতার কারণে ছুটি চেয়ে আবেদন করেছেন। আবার তিনিই মৌখিকভাবে বলছেন, আমি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ। আমরা কোন কথায় বিশ্বাস করব? লিখিত না মৌখিক? তিনি বিভিন্ন সভা সেমিনারে বলেছেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। আবার কিছু মানুষের সামনে বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন নেই। তিনি নিজেই নিজের কথায় ঠিক থাকতে পারেন না। মতিন খসরু বলেন, আমরা চাই তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আবার দায়িত্ব পালন করুন।

গত জুলাই মাসে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সংসদে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন দুই মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিচারপতি সিনহার ভাইয়ের নামে রাজউকের প্লট নেওয়ায় অনিয়মের কথা সংসদে বলেছিলেন। যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথাও বলেছিলেন তিনি। সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মালিকানাধীন ব্যাংকে থেকে বেনামে বিচারপতি সিনহার অর্থ জমা রাখার কথা বলেছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

 

সরকার বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে: ফখরুল

সরকার বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিবৃতিতে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করে বলেন, শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান বিচারপতির নিজের বক্তব্য প্রমাণ করেছে বিএনপির বক্তব্য সত্য।

প্রধান বিচারপতি বিদেশে যাওয়ার পরদিন শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিক্রিয়া জানান ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান বিচারপতি ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছেন- সরকার এখন সর্বোচ্চ আদালতের ওপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এখানে আমাদের নতুন করে কিচ্ছুই বলার নেই। বিদেশে যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতির ওই বিবৃতি বিচার বিভাগ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, দিজ স্টেটমেন্ট হ্যাজ স্টেটস দ্য ফ্যাক্টস। সত্য কথাগুলো বলে দিয়েছেন। সত্য কথাগুলো বলার পরে প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, এই গভর্নমেন্টের ইনটেনশনটা কী, গভর্নমেন্ট কী করতে চাচ্ছে? বিচার বিভাগকে রক্ষায় সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা দেশপ্রেমিক, শাসনতন্ত্র নিয়ে কাজ করতে চায় এবং যারা মুক্ত রাজনীতির চর্চা করতে চায়; তাদের এটা দায়িত্ব রাষ্ট্র, জুডিশিয়ারি ও দেশের মানুষের অধিকারকে রক্ষা করা। প্রধান বিচারপতি যাতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বিএনপির পক্ষ থেকে এমন দাবি জানানো হবে কিনা, জানতে চাইলে সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, অবশ্যই অবশ্যই। আমাদের দলের তরফ থেকে এই দাবি থাকবে। আমরা দাবি করছি, যার যা কাজ থাকে সেটা করতে দিন, নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে করতে দিন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কারণেই প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেছেন কিনা- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অনেকে এটা আশঙ্কা করছে, আমরাও একই আশঙ্কা করছি। রায়ের পরিবর্তন, রায়ের এক্সপাঞ্জ করা, সংশোধন করা- এটা হতে পারে। মির্জা ফখরুল বলেন, শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান বিচারপতির নিজের বক্তব্য প্রমাণ করেছে বিএনপির বক্তব্য সত্য। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে তারা এহেন কর্মকান্ড করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিচার বিভাগের এ রকম অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলায়’ নিম্ন আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ারা জারিতে সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা দ্রুত ওইসব মিথ্যা মামলার নিষ্পত্তি করতে চায় এবং প্রধান বিরোধী দল জনপ্রিয় নেত্রীকে সাজা দিতে চায়। এটা এদেশের মানুষ বুঝে। সুতরাং কোনো লাভ হবে না।

খালেদা জিয়া চলতি সপ্তাহেই ফিরছেন
চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত খালেদা জিয়া চলতি সপ্তাহেই দেশে ফিরছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ফেরার দিনক্ষণ সুনির্দিষ্টভাবে না জানিয়ে এই সপ্তাহে দলীয় চেয়ারপারসনের ফেরার কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আমি বলছি- উনি (খালেদা জিয়া) খুব শিগগিরই দেশে আসছেন। আমি আশা করি, এই সপ্তাহেই উনি দেশ ফিরছেন। চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-দলের কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রিজভীর

 বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধান বিচারপতির সুস্থতার বিষয়ে আইনমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন। মিথ্যাচার করে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। এজন্য তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, প্রধান বিচারপতি বিদেশে যাওয়ার আগে গণমাধ্যমকে সত্য কথা বলে গেছেন। তিনি সুস্থ আছেন। তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এতোদিন তাঁকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ নন। বরং আইনমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন, তাকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আইনমন্ত্রীর কমপক্ষে চারবার বিচারের মাধ্যমে সাজা হওয়া উচিত। তিনি (আইনমন্ত্রী) মিথ্যা বলেছেন যে, প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত। কিন্তু প্রধান বিচারপতি গত বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, তিনি সুস্থ আছেন। মন্ত্রী হওয়ার সময় তিনি (আইনমন্ত্রী) শপথ করেছিলেন যে, অনুরাগের বশবর্তী হয়ে মিথ্যা বলবেন না।

তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই কারণেই তাঁর (আইনমন্ত্রীর) সাজা হওয়া উচিত। সবাইকে প্রধান বিচারপতির পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধান বিচারপতি দেশে ফিরে আসবেন বলেছেন। দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার্থে তিনি আবার আসবেন বলেছেন। আমাদের প্রধান বিচারপতির পাশে থাকতে হবে। সংগঠনের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ওলামা দলের হাফেজ আবদুল মালেক, বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম, বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরাফাতুর রহমান আপেল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সিনহার বক্তব্য নিয়ে আলোচনার পর অবস্থান জানাবে আওয়ামী লীগ

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটির আবেদনপত্র এবং বিদেশ যাওয়ার আগে গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া চিঠিতে অসুস্থতার বিষয়ে দুই বক্তব্য নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার পর অবস্থান জানাবে আওয়ামী লীগ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ভিকারুন নিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দুটি লিখিত বিষয় নিয়ে আমাদের দলের কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভা হবে আজ সন্ধ্যায়, সেখানে আলাপ আলোচনা করে আমাদের দলের বক্তব্য দেব। তিনি বলেন, তিনি (প্রধান বিচারপতি) ছুটি চেয়েছেন ওটাও লিখিত বিষয়। আর সাংবাদিকদের কাছে বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে যেটি দিয়েছেন এটাও লিখিত বিষয়। এ দুটি লিখিত বিষয় নিয়ে আমাদের দলের কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভা হবে আজ সন্ধ্যায়, সেখানে আলাপ আলোচনা করে আমাদের দলের বক্তব্য দেবো। এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, তিনি (প্রধান বিচারপতি) তো অসুস্থ বলে ছুটি চেয়েছেন রাষ্ট্রপতির কাছে। দুটো চিঠি নিয়েই আমাদের আলাপ-আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, তিনি (আইনমন্ত্রী) জোর গলায় বলেছেন অসুস্থতার (প্রধান বিচারপতি) কারণে ছুটি চেয়েছেন। তাকেও আমাদের আজকের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।

বিএনপিকে বাইরে রেখে ফাঁকা মাঠে গোল দেবে না আওয়ামী লীগ: কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপিকে মাঠের বাইরে রেখে আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ২৯তম দানোত্তর কঠিন চিবর দান ও শাক্যমনি বৌদ্ধ বিহারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলে এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ বাংলাদেশ ও শাক্যমনি বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি ওই সভার আয়োজন করে।আগামী নির্বাচনের সঙ্গে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার কোনো সম্পর্ক নেই উলেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী প্রতিপ চায়। বিএনপি সেই শক্তিশালী প হয়ে আসুক।

 রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা স্রোত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানবে না। সাম্প্রদায়িক যেকোনো সংঘাত মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গা মুসলমানদের কান্না যখন বাংলাদেশের নদী-সাগরে মিলছে, তখন অনেকেই সংঘাতের আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু শঙ্কা দূর হয়েছে সরকারের শক্ত অবস্থানের কারণেই। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশের সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আপনারা মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকুন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন। পার্বত্য বৌদ্ধসংঘের সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরোর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, সাবেক রাপ্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ঢাকা উত্তর সিটির প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তাফা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মি কে এস মং, আওয়ামী লীগের উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপব বড়ুয়া।

 

সরকারের হুকুমেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা : বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে দু’টি ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মামলা ও পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে লাগাতারভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের হুকুমেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ারা জারির পর বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করতে সকল শক্তি নিয়োগ করেছে বর্তমান সরকার। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আদালতকে ব্যবহার করে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে লাগাতারভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। গণতন্ত্রকে চিরদিন বন্দি করে রাখার জন্যই বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে দেশে অস্থিরতা, বিভেদ ও বিভাজনের পরিবেশ জিইয়ে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে সরকার হতাশ ও দিশেহারা হয়ে গেছে বলেই প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বিতাড়নের কুপন্থা অবলম্বন করায় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষুব্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেজন্য জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের লন্ডনে চোখের অপারেশন হয়েছে। সেখানে তিনি নিয়মিত চেকআপে আছেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরবেন। তাঁর দেশে ফিরতে আর বেশি বিলম্ব হবে না। ঠিক এই মুহূর্তে জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সরকারের ক্রমাগত এক কুটিল ছক বাস্তবায়নের অংশ। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। প্রধান বিচারপতির নাজেহালের দৃশ্য দেখে গোটা বিচার বিভাগ এখন শঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এজন্য তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এই সুযোগে আজকে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে, তা ভোটারবিহীন সরকারের সর্বোচ্চ স্থান থেকেই হুকুম হয়েছে বলে দেশবাসী বিশ্বাস করে। বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারপ্রধান এখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে দমন করার অপচেষ্টায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারের হুকুমেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ইতিহাস বলে, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আওয়ামী লীগ একসাথে চলতে পারে না। এ দু’টি সম্পূর্ণরূপে অসঙ্গতিপূর্ণ। তাছাড়া ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ার সাথে সাথেই যুবলীগ-ছাত্রলীগের মিছিল প্রমাণ করে যে, সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুলের নামে ফের ভুয়া একাউন্ট
মির্জা ফখরুলের নামে কোনো ফেসবুক আইডি নেই দাবি করে রিজভী বলেন, বিএনপি মহাসচিবের নামে কিছু অসাধু মানুষ আবারো অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট’ খুলে বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য পোস্ট করছে, যার সাথে বিএনপি মহাসচিবের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি অবিলম্বে এ ধরণের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।

 

 

ইসির সাথে সংলাপে অংশ নেবে বিএনপি : রিজভী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চলমান সংলাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ইসির আমন্ত্রণে সূচি অনুযায়ী আগামী রোববার বিএনপির প্রতিনিধিরা সংলাপে যোগ দেবেন। রিজভী বলেন, সংলাপের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে একটি খসড়া তৈরি হচ্ছে। এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু জানাব না। শুধু এটুকু জানাচ্ছি, আমাদের প্রতিনিধি দল ১৫ তারিখ নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসির সংলাপে বিএনপির প্রতিনিধিরা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে তাদের প্রস্তাব এবং দেশের রাজনীতিতে চলমান বিষয়গুলো আলোচনায় তুলবেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে বিএনপি সংলাপে পাঠাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জামায়াতের হরতালে বিএনপির সমর্থন
শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা বৃহস্পতিবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শুরুর চার ঘণ্টা পর ওই কর্মসূচিতে সমর্থন জানায় তাদের জোটসঙ্গী বিএনপি। সকাল দশটায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী তার দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রিজভী বলেন, আমি গত বুধবার বলেছিলাম যে আমরা হরতালে সমর্থন জানাব কি জানাবো না- তার কোনো নির্দেশনা নেই। এখন আমার কাছে নির্দেশনা আছে যে, দলের পক্ষ থেকে তাদের (জামায়াত) হরতালকে পূর্ণ সমর্থন জানানো হচ্ছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট জামায়াতের এই কর্মসূচিতে সমর্থন দিচ্ছে কিনা- প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, সেটা ২০ দলীয় জোটের ব্যাপার। বিএনপি জামায়াতের হরতালকে সমর্থন দিচ্ছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কোনো কর্মসূচি যাতে না হয়, সেজন্য ভয় দেখাতে জামায়াত নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলাকে ‘পরিকল্পিত’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জামায়াত নেতাদের উত্তরার বাসা থেকে হঠাৎ গ্রেফতার করা হলো, অথচ মামলা দেওয়া হয়েছে কদমতলী থানায়। এ থেকে বোঝা যায়, এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ২০ দলীয় জোট যাতে কোনো কর্মসূচি পালন করতে না পারে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

বিএনপি-জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়: কামরুল

জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। সমাবেশে বিএনপি-জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হরতালবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটি। এতে অংশ নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বিশ্বব্যাপি সমাদ্রিত, আলোচিত ও প্রশংসা অর্জন করেছেন ঠিক তখনই জামায়াত হরতাল ডেকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। আর বিএনপি এতে সমর্থ দিয়ে দেশের বর্তমান পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তিনি বলেন, আজকে সরকার যখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে সেইফ জোনে নেওয়ার কথা ভাবছে ঠিক সেই মূহুর্তে বিএনপি তার বিরোধিতা করছে। এর কারণ বিএনপি এই রোহিঙ্গাদের দিয়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়াতে চায়, তাদের জেঙ্গি বানাতে চায়। কিন্তু বায়লাদেশের মানুষ তাদের এ অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হতে দিবে না।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সেটা অনুধাবন করেছেন যে আওয়ামী লীগ মেসির মত খেলছে। মেসি নিংসন্দেহে ভাল খেলোয়ার, একদিন আগের মেসি টানা তিনটি গোল করে হেট টিক করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারও টানা তিন বার ক্ষমতায় গিয়ে হেটট্রিক করবে। এটা যে তিনি অনুধাবন করেছেন এর জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবকে আবারো ধন্যবাদ জানাই। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের ডাকা হরতালে মানুষ সাড়া দেয়নি। কখনো দেবেও না। একটি মুক্তিযোদ্ধা জীবিত থাকা অবস্থায় দেশকে নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র সফল হবে না।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে বিশ^ দরবারের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন লন্ডনে বসে মা-পুতে সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্র করছে। তারা হুকুম দিয়ে জামায়াত-শিবিরকে মাঠে নামিয়ে অরাজক পরিস্থিত সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ খালেদার ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। সংগঠনের মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু বলেন, বাংলার মাটিতে জামায়াত শিবিরের স্থান হবে না। মুক্তিযোদ্ধারা শেখ হাসিনার সাথে আছে। মুক্তিযোদ্ধারা আসন্ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন একটি স্বার্থনেশী মহল প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বাচনের নামে টাকা রুজি করতে চায়। এরা আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপি জামায়াত শাসনামলে কিছুই করে নাই। ওয়ান ইলেভেনের সময়ে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে মাঠে ছিল না। তারা আজ জামায়াতের ডাকা হরতালেও মাঠে নাই। সুবিধাদের মুখোশ উম্মেচিত করা হবে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, আনোয়ার হোসেন পাহাড়ি বীর প্রতিক, শরীফ উদ্দিন প্রমুখ।

 

দুই মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

একই দিনে দুর্নীতি ও জাতীয় পতাকার মানহানির দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

এর মধ্যে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিতে হাজির না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

আর স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি করার অভিযোগে আরেক মামলায় একই কারণে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার মহানগর হাকিম নূর নবী।

গত কয়েক মাস ধরে লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া  বলেন, “তিনি যাতে দেশে আসতে না পারেন, সেজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এক দিনে দুই মামলায় সরকার এভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করিয়েছে।”

এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই বছর আগে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়াসহ ‘পলাতক’ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মানহানি

আওয়ামী লীগ সমর্থক সংগঠন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকীর করা মানহানির মামলায় সমন জারির পরও খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় মহানগর হাকিম নূর নবী তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বলে এ আদালতের পেশকার মো. ইখতিয়ার রহমান জানান।

মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী বলেন, “বিএনপি নেত্রী আইনের পরোয়া করেন না। আদালতের সমন পেয়েও আসেন না। আদালত আজ তাই পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।”

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার হাকিম আদালতে এবি সিদ্দিকীর করা এ মামলার আর্জিতে বলা হয়, স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে খালেদা জিয়া দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার ‘মানহানি ঘটিয়েছেন’।

ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম সেদিন বাদীর আর্জি শুনে তেজগাঁও থানা পুলিশকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি যে প্রতিবেদন দেন তাতে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

সেখানে বলা হয়, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মন্ত্রী বানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

“কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলণ্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।”

এ বি সিদ্দিকীর মামলার আর্জিতে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তার প্রয়াত স্বামী এক সময়ের সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকেও আসামি করার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশের আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।

গত  ২২ মার্চ বিচারক প্রতিবেদনটি আমলে নেন এবং পরে ২০ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।  এরপরও খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন এ বি সিদ্দিকী।

বিস্তারিত আসছে

 

বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা ও গ্রেফতার

করতোয়া ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে  বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তবে নওগাঁ, রংপুর ও পাবনার সুজানগরে পুলিশ বাধা দেয়ায় তাদের কর্মসূচি পন্ড হয়ে যায়।

প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট

নওগাঁ : নওগাঁ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ  পুলিশের বাধায় পন্ড হয়ে গেছে। দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে জেলা বিএনপি সভাপতি নজমুল হক সনি ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলুর নেতৃত্বে মিছিল বের হওয়ার সময় দলীয় কার্যালয়ের সামনেই পুলিশ মিছিলে বাঁধা দেয় এবং মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশের বেষ্টনির মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ করে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। জেলা
(শেষ পাতার পর)

বিএনপির সভাপতি নজমুল হক সনির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, যুগ্ম সম্পাদক সহিদুল ইসলাম টুকু প্রমুখ।  

রাজশাহী : রাজশাহীতে দুপুরে নগরীর মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পুলিশ বাধায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. শফিকুল হক মিলন বক্তব্য রাখেন।

নীলফামারী : নীলফামারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা ছাত্রদল।  শহরের পৌরসভা মার্কেটস্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়বাজারের দিকে যাওয়ার পথে শহরের কালিবাড়ি মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধায় সেখান থেকে ফিরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে নেতা কর্মীরা।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালেকীন আহমেদ সজিবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সেলিম ফারুক,  ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম বাবল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ পারভেজ প্রিন্স প্রমুখ।

রংপুর : রংপুরে দুপুরে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ের কার্যালয় থেকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কে উঠতে চাইলে তাতে বাঁধা দিয়ে আটকিয়ে দেয় পুলিশ। এসময় সেখানে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের বাকবিতন্ডা হয়। পরে সেখানেই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু।

সুজানগর (পাবনা): পাবনার সুজানগর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা পুলিশি বাধায় প  হয়ে যায়। দুপুর ১২টায় পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিবের নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ মিছিল স্থানীয় সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজ চত্বর থেকে বের হয়ে পাবনা-সুজানগর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণকালে সুজানগর থানা পুলিশ বাধা দেয়। এতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা প  হয়ে যায়।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনা শহরের ছোটবাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ড. আরিফা জেসমিন নাহীন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম মনিরুজ্জামান দুদু, যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন খান মিলকী, মশিউর রহমান মশু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু, সাধারন সম্পাদক অনিক মাহাবুব চৌধুরী প্রমুখ।

আত্রাই (নওগাঁ) : নওগাঁর আত্রাই থানা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। থানা বিএনপির আহবায়ক এসএম রেজাউল ইসলাম রেজুর নেতৃত্বে আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে আত্রাই-ভবানীগঞ্জ সড়কের তিন মাথা মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসএম রেজাউল ইসলাম রেজুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য তছলিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
দিনাজপুর : দিনাজপুর শহরের কয়েকটি স্থানে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশ আসার আগেই নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

জেলা বিএনপির ব্যানারে শহরের নিমতলা এলাকা হতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মুন্সিপাড়া গিয়ে শেষ হয়। এই মিছিলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো: খালেকুজ্জামান বাবু, মো: মোকাররম হোসেন, হাসানুজ্জামান উজ্জল, আকতারুজ্জামান জুয়েল, মোস্তফা কামাল মিলনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের চৌরঙ্গী সিনেমা হল এলাকা থেকে পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. সোলায়মান মোল্লার নেতৃত্বে এক ঝটিকা মিছিল বের করে চেহেলগাজী স্কুল মোড় এলাকায় হিয়ে শেষ হয়।

এদিকে  বুধবার সকালে বিরল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা হাসপাতাল রোড থেকে মিছিল বের করে পৌর শহর প্রদক্ষিণ করে বকুলতলা মোড়ে পৌছলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নোয়াখালী : নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা বিএনপি। এসময় পুলিশ তাতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। সংঘর্ষে ৩ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আটককৃতরা  হলেন- জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুল আলম আলো ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসীম উদ্দিন’সহ ৩ জন।
ময়মনসিংহ : পুলিশি বাধায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দক্ষিণ জেলা বিএনপি।  বুধবার দুপুরে নগরীর নতুন বাজারস্থ দলীয় কার্যালয় চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী রানা প্রমুখ। অপরদিকে একই ইস্যুতে আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য ফোরাম।  দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের মনিরামপুর বাজারস্থ বিএনপি কার্যালয় থেকে ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনভেস্টিগেশন কে,এম রাকিবুল হুদার নেতৃত্বে পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে পৌর যুব দলের সভাপতি আব্দুল্লাহ-আল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামসহ সজিবুল ইসলাম সবুজ, জহুরুল ইসলাম, লবু শেখ, হাসান আলী, রুবেল, আমিনুল ইসলাম আমিন, নুরুল ইসলাম ও মনসুর আলী এই ১০ জনকে আটক করেছে।

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।  বুধবার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জেলা বিএনপি কার্যালয় হতে বের হয়ে শহরে প্রবেশ করতে চাইলে কার্যালয়ের সামনে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। পরে সেখানেই তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মমিনুল হকের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা, জেলা যুবদলের সভাপতি এম এ হালিম প্রমুখ।

 

বর্তমান সরকারের অধীনে ইভিএমে নির্বাচন চায় ওয়ার্কার্স পার্টি

বর্তমান সরকারের অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে বুধবার দলটি সংলাপে অংশ নেয়।

সংলাপে দলটির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং  সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বে দলটির ১৬ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদল নির্বাচনকে ঘিরে ১২ দফা প্রস্তাব দেয়।দলটির দেয়া ১২ দফা প্রস্তাবের অন্যতম ছিল-  বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব। ওয়ার্কার্স পার্টির মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সংবিধানমতে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। সংলাপে ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে মত দেয়। তাদের মতে, নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। তবে ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনো স্থানে সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দেয় দলটি। এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানায় ওয়ার্কার্স পার্টি। পাশাপাশি কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে ও সীমানা পুনঃনির্ধারণ সহ ১২ দফা প্রস্তাব তারা সংলাপে তুলে ধরেন। ইসি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ৩১ জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধি সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি। এর পর ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

 

কারসাজি করে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়েছে সরকার: ফখরুল

সরকার কারসাজি করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিকালে এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। ‘ঐতিহাসিক শহীদ জেহাদ দিবস’ উপলক্ষে ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ২৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে এ সভার আয়োজন করে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর ক্ষুব্ধ সরকার দেশে সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে সমস্ত কাজ করছে। প্রধান বিচারপতির ছুটি সম্পর্কে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে কারসাজি করে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিচ্ছে সরকার। তার অপরাধ একটা তিনি সত্য কথা বলেছেন, তিনি আইন শাসন প্রতিষ্ঠা কাজ করেছেন।তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী রায়ের কিছুদিন পর প্রধান বিচারপতি এক মাসে ছুটিতে গেছেন। ফিরে এসে দায়িত্বে বসতে পারলেন না। তাকে আবারও ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের নিজের পাঁয়ে দাঁড়াতে হবে। অনেক বিপদ আসবে, অনেক ত্যাগ শিকার করতে হবে। অসংখ্য মামলা দেয়া হয়েছে, আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের অনেক ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে, আমরা ভুলে যাব না। ভবিষ্যতে বিজয় অর্জন করতে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। নিজেদের প্রত্যয়কে শক্তিশালী করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অপশক্তিকে পরাজিত করার অঙ্গীকার করতে হবে।সরকারের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওরা জানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয়, বাংলাদেশের মানুষ যদি ভোট দিতে পারে তাহলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই সেভাবে নির্বাচন দিতে চায় না। তারা খালি মাঠে ডিব্লিং করে গোল দিতে চায়।তিনি বলেন, ‘সরকারের ভয়াবহ নীলনকশা নস্যাৎ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। কেউ এসে আমাদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে দিয়ে যাবে না। আমাদেরকেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোথায় সমস্যা তা চিহ্নিত করে জনগণের কাছে যেতে হবে। শুধু প্রেসক্লাবের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু অর্জন তা চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাস, গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সব আন্দোলনেই ছাত্রদল আন্দোলন জড়িত।

নব্বইয়ের গণআন্দোলনেও ছাত্ররা জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে শাসক দলের নির্যাতন ভিন্ন। কাজেই নব্বইয়ের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সংগঠনের সভাপতি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও  ৯০ এর ডাকসু’র এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম।

বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন: কাদের

নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও এই দলের নেতাকর্মীদের বিরুেিদ্ধ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। সরকার করেনি। এখানে সরকারের ষড়যন্ত্রের কিছু নেই।

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অবস্থিত ওজন স্কেল মেশিনের লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কী সরকারের গ্রেফতারি পরোয়ানা না আদালতের। আদালতের কোনও আদেশ বা রায় যখন সরকারের বিরুদ্ধে যায় তখন বিএনপির খুশি রাখার জায়গা থাকে না। খুশিতে তারা আটখানা হয়ে যায়। আবার কোনও রায় বা আদেশ যখন তাদের বিরুদ্ধে যায় তখন তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে।

এটার অর্থ হচ্ছে আদালতের রায়কে অমান্য করা। আমার প্রশ্ন, তারা কি আদালতের রায়কে অমান্য করতে চান? কাদের বলেন, যখন ষোড়শ সংশোধনীর রায় দেয় তখন বিচার বিভাগ স্বাধীন। আবার তাদের বিরুদ্ধে যখন রায় বা আদেশ যায় তখন সেটা সরকারের হস্তক্ষেপ। সরকার ষোড়শ সংশোধনী রায়ের বিরুদ্ধে যখন হস্তক্ষেপ করেনি এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে কেন?  ষোড়শ সংশোধনীর রায় দিতে সাহস পায় বিচারক, এই আদেশ দিতে বিচারক সাহস পাবে না এটা মনে করার কোনও কারণ নেই। এই সরকারের  আমলে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন।বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলবো, যে বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করুন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আদেশ দিয়েছেন কিনা? আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে বিএনপির দ্বিচারিতা কেন?

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী ১ নভেম্বর হতে সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত ওজনবাহী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে এক্সেললোড কন্ট্রোল নীতিমালা কার্যকর হবে।মন্ত্রী  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতু টোল প¬াজায় এক্সেললোড কন্ট্রোল স্টেশন এবং বিআরটিএ’র সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাম্পেইন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের একথা বলেন।সেতুমন্ত্রী বলেন, টোল প¬াজা এলাকায় যানজট কমিয়ে আনতে আটটি বুথের চারটি যাত্রীবাহি এবং চারটি বুথ পণ্যবাহী পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।যানবাহনের টোল গ্রহণ ও ওজন নেয়ার সময় যাতে অহেতুক দেরি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য মন্ত্রী সংশি¬ষ্টদের নির্দেশ দেন।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব হুমায়ুন কবির, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলীসহ সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মসূচি

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী বিভিন্ন সংগঠন। একইসঙ্গে পরোয়ানার প্রতিবাদে দল ও অঙ্গ সংগঠনগুলো রাজধানীতে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিলও করেছে।

কর্মসূচি : বিএনপির উদ্যোগে আগামীকাল বুধবার ঢাকা মহানগরীসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়া মঙ্গলবার দেশের সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয়তাবাদী যুবদল। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগেও মঙ্গলবার সারাদেশের জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচি পালনের জন্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশব্যাপী দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রদল। কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার দেশের সব জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরদিন বুধবার দেশের সব উপজেলা, পৌর ও কলেজ ইউনিটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরোয়ানার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন-মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুগ্ম-সম্পাদক এমএ হান্নান, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিকেলে শাহজাহানপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদল। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে বিক্ষোভে অংশ নেন-যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কামরুজ্জামান দুলাল, উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, দুপুরে সভাপতি শফিউল বারী বাবুর নেতৃত্বে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় এলাকায় এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে ফার্মগেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। অন্যদিকে, দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এসএম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল। বিক্ষোভ মিছিল থেকে তারা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল চেয়ে নানা সেøাগান দেন।

 

 

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরোয়ানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : বিএনপি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মামলা ও পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ারা জারির পর সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, মহাজোট সরকার কোনো সমালোচনা, বিরোধিতা, প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না। সে কারণে তারা দেশে কোনো বিরোধী দল রাখতে চায় না। দেশের ব্যাপক জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করার ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত সরকার। এজন্যই সরকার চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আদালতকে ব্যবহার করে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার জন্যই ভয়াবহ দুঃশাসন চালিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে দমন করার নীতি জারি রেখেছে। ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং বিরোধী দলগুলোকে উৎখাত করতে পারলেই দেশের মানুষ ভয় পেয়ে যাবে বলে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে। আর সেজন্যই বিএনপিকে কোণঠাসা করার জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে বিপর্যস্ত করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহার করছে সরকার।

এদিকে, বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তিনি এখনও লন্ডনে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা শেষে তিনি যথাসময়ে দেশে ফিরবেন। তাঁর ফেরার সময়ও প্রায় আসন্ন। আর ঠিক এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক। এর মাধ্যমে দেশে সরকারের সৃষ্ট বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতিকে আরো তীব্রতর করা হলো। তিনি দাবি করে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে সরকারের এহেন প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের মাধ্যমে তাঁকে হেনস্তার সকল অপচেষ্টা রুখে দিবে ইনশাল্লাহ। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারের কোনো অশুভ পরিকল্পনা সফল হবে না। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসে শেখ হাসিনা বলেছিলেন-বিএনপির সঙ্গে আর কোনো সংলাপ বা সমঝোতা হবে না। শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের মাঝেই চরম আক্রোশের একটা পূর্বাভাস ছিল।

 এখন তিনি দেশে ফিরে বিরোধী দলশূন্য বাংলাদেশ বানানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ওপর সরকারের যে সন্ত্রাসী আক্রমণ তার প্রথম নমুনা আজ আমরা বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ করলাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কাজী আবুল বাশার, মুনির হোসেন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

প্রধান বিচারপতির ছুটির ঘটনায় সরকারের মুখোশ উন্মোচিত : গয়েশ্বর

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটির ঘটনায় সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, গোটা ঘটনাটি বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হামলা। এর মধ্য দিয়ে সরকারের রূপ বা মুখোশ উন্মেচিত হয়েছে, তারা কী চায়? আমরা বলতে চাই, একটি দেশে যে তিনটি স্তম্ভ তার মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম সাংবিধানিকভাবে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে যদি এহেন কর্মকান্ড চলে তাহলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কোথায়?

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে শিক্ষক কর্মচারি ঐক্যজোটের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সাথে যে আচরণ করা হয়েছে- এটা কোনো ব্যক্তির সাথে করা হয় নাই, প্রতিষ্ঠানের সাথে করা হয়েছে। এটার একটা উদ্দেশ্য আছে। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে দেশে আইনের শাসন থাকে না। আর আইনের শাসন যদি না থাকে, সেখানে গণতন্ত্র কখনোই টিকে থাকতে পারে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে বিচার বিভাগের সাথে রাজনীতিবিদসহ সকল জনগণ কানেকটেড, এটা শুধু আইনজীবীদের ব্যাপার নয়। তাই এর প্রতিবাদ করা সকলের দায়িত্ব। এখন ঘরে, কখনো বারান্দায়, বারান্দা থেকে রাস্তায় নামতে হবে।

রাস্তায় না নামা পর্যন্ত এর কোনো সমাধান হবে না। সুতরাং সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকদের প্রতি ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় আপনারা ৭ জন মিলে স্বাক্ষর করেছেন। এসকে সিনহাকে (প্রধান বিচারপতি) যদি ছুটি নিতে হয়, তাহলে বাকিরা একসঙ্গে ছুটি নেন না কেন? আমরা জানি যে, ওই রায়টা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্ত না, প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত। তাহলে এর প্রতিবাদস্বরূপ আপনারা সকলে ছুটি চাইলেন না কেন? আমরা অসুস্থ, আমরাও কোর্টে বসতে পারবো না। সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল খান, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বিজেপির সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক আরও গভীর হবে: হানিফ

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরও গভীর থেকে গভীরতর হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, এ সম্পর্ক দুই দলের মধ্যে আরও যেন গভীর হয় সেই বিষয়ে আমাদের পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি বিজেপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরও গভীর থেকে গভীরতর হবে।

সোমবার সকালে হোটেল সোনারগাঁও এ বাংলাদেশ সফররত বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের সঙ্গে প্রাতঃরাশ শেষে সাংবাদিকদের হানিফ এসব কথা বলেন। এর আগে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের সম্মানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক প্রাতঃরাশে অংশ নেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আমাদের দুই দেশের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন দরকার। সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানামারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। শরণার্থী হিসেবে আসার পর এটা আমাদের ঘাড়ে এসে চেপেছে। বিশ্ববাসী যেটা মনে করে রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারকেই করতে হবে, ভারতও সেটাই মনে করে এটা তাদের সমস্যা তাদেরই সমাধান করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগের কারণে সমস্যা সমাধান আস্তে আস্তে হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করি। বৈঠকে রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আজকের বৈঠকটি ছিল অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাত। তবে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তাদের (ভারত) মতামত ব্যক্ত করে বলেছে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে উদ্যোগ নিয়েছে ভারতও আশা করে মিয়ানমার এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবে এবং সমাধান হবে। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, মায়ানমারকে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির যে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে, সেখানে তাদের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে। অং সান সু চি কমিটিতে তাদের সদস্যদের নাম দেয়ার পরই বাংলাদেশও কমিটির কাজ শুরু করবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। বৈঠকের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ ও যৌথ নদী খননসহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত এক সাথে কাজ করবে। সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

 



Go Top