শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • জাতীয়
  • নীলক্ষেতে বাকুশাহ মার্কেটে দোকান উচ্ছেদ
০২ মে, ২০১৬ ১৫:৩০:২৭
প্রিন্টঅ-অ+
নীলক্ষেতে বাকুশাহ মার্কেটে দোকান উচ্ছেদ

রাজধানীর নীলক্ষেতে বাকুশাহ হকার্স মার্কেটের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পুলিশের সহযোগিতায় দোকান মালিকদের উচ্ছেদ করে ভাঙার কাজ শুরু করেছে মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি।

বাকুশাহ হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আউয়াল জানান, সোমবার সকাল ১০টা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

শুরুতে মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ীকে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার রুহুল আমিন সাগর বলেন, “মার্কেট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বর্তমান দোকানগুলো ভেঙে বহুতল ভবন করা হবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে।”

নীলক্ষেত ঢাকায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই ও বিভিন্ন সহায়ক বইয়ের অন্যতম বড় বাজার হিসেবে পরিচিত। বই ছাড়াও ফটোকপি, কম্পোজ, বাঁধাইসহ শিক্ষা উপকরণের বহু দোকান রয়েছে এই মার্কেটে।

ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আউয়াল জানান, বাকুশাহ মার্কেটে মোট দোকান রয়েছে ১ হাজার ২০০টি, সমিতিতে সদস্য আছেন ২ হাজার ২০০ জন। অধিকাংশ দোকানই ভাড়া দেওয়া।

“চার বছর আগে সমিতির সঙ্গে এ জি গ্রিন প্রপার্টি লিমিটেড নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানির চুক্তি হয়। ওই ডেভেলপার কোম্পানি ইতোমধ্যে দোকান মালিকদের সাইনিং মানি দিয়েছে এবং সমিতির সব সদস্য সে টাকা পেয়েছেন।”

আউয়াল দাবি করেন, গত ডিসেম্বরে ডেভেলপার কোম্পানিকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের মালপত্র সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয়। পরে দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়াদের অনুরোধে ওই সময় কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

“গত সপ্তাহে চিঠির মাধ্যমে আমরা সমিতির সব সদস্য ও ভাড়াটে ব্যবসায়ীদের অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছিলাম। এরপরও যারা সরে যাননি, তাদের দোকান উচ্ছেদ করা হচ্ছে।”

সমিতির সদস্য সচিব বাবুল আক্তার বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দুই ভাগে পুরো মার্কেট ভেঙে ফেলা হবে।

“প্রথম পর্বে পেছন থেকে ভেঙে সামনের দিকে এগোনো হবে। আজ এর প্রথম দিন।”

ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাবুল বলেন, “অভিযান শুরুর সময় মার্কেটের সামনে ও পেছনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এতে মার্কেটের সামনের অংশের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।”

অন্যদিকে মালিক সমিতির এই দাবি নাকচ করে মার্কেটের ভাড়াটিয়া ব্যাবসায়ীদের সংগঠন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্রেন্ডস বহুমুখী ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, “বহুতল ভবন হচ্ছে- তাতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে মালিক সমিতি আমাদের দোকান সরিয়ে ফেলতে বলছেন। তারা কাউকে কোনো চিঠি দেননি। কোনো পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে গতকাল বন্ধের দিনে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন  করে দিয়েছেন।”

দুপুর পর্যন্ত বড় আকারে ভাঙার কাজ না চললেও কিছু দোকানের শাটার ভেঙে ফেলা হয়। দোকানমালিকদের বই ও অন্যান্য মালপত্র সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর