শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
০১ মে, ২০১৬ ১২:১৯:৪৫
প্রিন্টঅ-অ+
মে দিবস কি ভাত দেয়?
বিশ্বের কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের মহান মে দিবস আজ। বঞ্চনা, নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সংগ্রাম আর অধিকার আদায়ের রক্তাক্ত গৌরবময় দিন।

শ্রমজীবী মানুষের এই স্বীকৃতির সূচনা সহজ ছিল না। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এই দিনে বুকের রক্তে শ্রমিকরা আদায় করেছিলেন দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের অধিকার। শ্রমিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই সেদিন মালিকরা স্বীকার করেছিলেন শ্রমিকরাও মানুষ। তারা যন্ত্র নয়, তাদেরও বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। রক্ত দিয়ে কেনা দিনটিকে বিশ্বে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালন করা হয়।

মে দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি আজ। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের পাশাপাশি ব্যাংকসহ কলকারখানা বন্ধ রয়েছে এই দিনে। কিন্তু যে শ্রমিকদের সম্মানে সকল কল করখানা বন্ধ রাখা হয়েছে সেই শ্রমিকরাই মে দিবসের সকালেই বেরিয়ে পড়েছেন কাজের সন্ধানে।

রাজধানীর মুগদা পাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন সকালে বসে শ্রমজীবী মানুষের হাট। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ বাহির থেকেও শ্রমিকরা এসে ভিড় জমান নিজের শ্রম বিক্রির জন্য। এ যেন শ্রমিক কেনা বেচার হাট।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকা জুড়ে দিনমজুরের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তারপর রাজধানীর বাসা-বাড়ি, কল-কারখানার কাজের জন্য লোক এসে দৈনিক মজুরিতে শ্রমজীবী এসব মানুষদের কিনে নেয়। কাজ ভেদে  ৫০০ থেকে ৭০০  টাকা মজুরিতে এসব দিনমজুরদের কেনা বেচা হয়।

আক্কাস আলী এমনই একজন দিনমজুর ,ভোর বেলায় এখানে এসেছেন নিজের শ্রম বিক্রি করতে।  মে দিবসে সব বন্ধ থাকে, এটা শ্রমিকদের দিবস, আজ কাজ করতে এসেছেন কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে আক্কাস আলী বলেন, মে দিবস কি ভাত দেয়? কাজ না করলে পরিবার নিয়ে খাবো কি? দিনমজুরি ছাড়া আমাদের কোনো তো উপায় নাই। পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভাতের জোগাতে দিন মজুরি করি।



আক্কাস আলীর পাশে থাকা আরেক দিনমজুর শামছুর রহমান বলেন, বড়িতে স্ত্রী সন্তান আছে, কাজ করলেই টাকা ইনকাম হয়, আর সেই টাকা দিয়েই প্রতিদিন চাল কিনে ভাত খাই। একদিন কাজ না করলে ভাত জোগাতে কষ্ট হয়। তাই মে দিবসেও কাজের সন্ধানে এসেছি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৮৬ সালের এই দিনে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দেয়। সেই ডাকে শিকাগো শহরের তিন লাখের বেশি শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। এর পরপরই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করতে শুরু করে।
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর