বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • জাতীয়
  • ম্যালওয়্যার বসানোর কথা স্বীকার সুইফটের
২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:১৪:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
ম্যালওয়্যার বসানোর কথা স্বীকার সুইফটের
সুইফটের সফটওয়্যারে ম্যালওয়ার বসিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ হ্যাকাররা সরিয়ে নিয়েছিল। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমসের নিরাপত্তা গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সুইফট বিশ্বের ১১ হাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা সেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার টার্গেট করে ম্যালওয়্যার বসানোর বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছে।

সুইফটের মুখপাত্র নাতাশা ডেটেরান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ওই ম্যালওয়ার অকার্যকর করতে সোমবার একটি সফটওয়্যার আপডেট করা হবে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ সতর্কতা দেওয়া হবে।

গত ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিস্টেমে ঢুকে হ্যাকাররা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থ সরিয়ে নেয় হ্যাকাররা। লেনদেনে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ায় অধিকাংশ পেমেন্ট আটকে দেয় নিউ ইয়র্ক ফেডারেল।

এছাড়া শ্রীলঙ্কায় একটি কোম্পানির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় আরো ২ কোটি ডলার। তবে ওই কোম্পানির নামের বানানে গড়মিল পাওয়া যায় বাকি পেমেন্টও আটকে দেওয়া হয়।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস ভিত্তিক সুইফটের সফটওয়্যার এমন সময় আপডেট দেওয়া হচ্ছে যখন ব্রিটেনের বিএই গবেষকরা সুইফটের নিরাপত্তা দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন। বিএই বলছে, তারা বিশ্বাস করেন; বাংলাদেশ ব্যংকে সুইফটের ক্লায়েন্ট সফটওয়্যারে ম্যালওয়ার বসিয়েছিল হ্যাকাররা। এর মাধ্যমে তারা সুইফট সফটওয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করতে করতে সক্ষম হয়, যা অ্যালায়েন্স অ্যাকসেস নামে পরিচিত।

এই ম্যালওয়ারের বিষয়ে ব্রিটেনের এই প্রতিষ্ঠান সোমবার ব্লগ পোস্টে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে। এতে রিজার্ভ চুরিতে হ্যাকারদের গোপন সংকেত ও তা বিলম্বে ফাঁসের কারণ তুলে ধরবে।

তবে সুইফটের মুখপাত্র নাতাশা ডেটেরান বলেন, সুইফট নেটওয়ার্ক অথবা কেন্দ্রীয় বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ম্যালওয়ার কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বিশ্বের ১১ হাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুইফট ম্যাসেজিং প্লাটফর্ম ব্যবহার হয়। অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানে অ্যালায়েন্স অ্যাকসেস সফটওয়্যারও ব্যবহার হয়। তবে বিএই এর নতুন এই দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাতাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বিএই যে ম্যালওয়ারের কথা বলছে তদন্তকারীরা সেধরনের নির্দিষ্ট কোনো ম্যালওয়ারের সন্ধান পাননি। তবে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তাদের তদন্ত শেষ করেনি। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে সুইফট ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর