বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
২৩ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:৩৩:২০
প্রিন্টঅ-অ+
অনিয়মে ‘অসন্তোষ’ ইসিতে
নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস ছিল। এতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ‘ভালো’ নির্বাচনের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন কমিশনের (ইসি)।

কিন্তু দুপুর পর্যন্ত ভোটে গোলযোগ-সংঘর্ষ অপেক্ষাকৃত কম হলেও অনিয়মের কারণে অসন্তোষ বিরাজ করছে ইসিতে। একই সঙ্গে কিছুটা ক্ষুব্ধও সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার দেশের ৬১৪ ইউপি নির্বাচনে ভোটের অর্ধেক সময় পার করে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানান একজন নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, শেরপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় অনিয়মের তথ্য কমিশনে এসেছে। দৃশ্যমান গোলযোগ-সহিংসতা না হলেও দখল-অনিয়মের অভিযোগ আসছে।

সকাল ৮টার পরেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ শেরেবাংলা নগরে ইসি কার্যালয়ে আসেন। ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাকি চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবও পৌঁছে যান কমিশনে।

পরে সিইসির কক্ষে বৈঠকে বসেন চার নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় আমরাও ভালো ভোটের প্রত্যাশা করেছি। কিন্তু দলীয় নেত্রীর মনোনয়নের বাইরে গিয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তারা গোলযোগ করেই যাচ্ছেন। তবে যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে সেখানে কেন্দ্র স্থগিত করা হচ্ছে।’

অসন্তোষের সুরেই এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা সর্বাঙ্গীণ ভালো নির্বাচন চাই। এখন ভোট শেষে বলা যাবে কেমন ভোট হলো। ঝামেলা কম-বেশি হয়, তুলনাটা এ জন্যে শেষে করতে চাই।’

নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমরা নিজেরা খোঁজখবর রাখছি; আমাদের কাছেও মাঠ পর্যায়ের তথ্য আসছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এ ধাপে তুলনামূলক ভালো নির্বাচনের আশা ছিল বেশি। সহিংসতা হয়নি; তবে কোথাও কোথাও কেন্দ্র স্থগিত করতে হচ্ছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার শনিবারের ভোট নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের আশ্বাস পেয়ে আমরা মনে করেছিলাম-ব্যালট পেপার ছিনতাই, সংঘর্ষ কিছুটা কম হবে। তাদের নেতাকর্মীরা অনিয়মে জড়াবে না। আমরাও সতর্ক করেছিলাম; কিন্তু দেখছি- উল্টো। ঝামেলা তো করেই যাচ্ছে।’ মাঠপর্যায় থেকে অনিয়মের যথাযথ চিত্র না পেলে সে ক্ষেত্রে ইসির কিছু করার থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা ভয়ে থাকলে কিংবা অনিয়মের প্রকৃত চিত্র না পাঠালে আমরা কি করি! প্রশাসন সহায়তা না করলে স্বাধীন সংস্থা কাগজে-কলমে থাকে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতাও দরকার।’

এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা বৈঠকে বসে আলোচনা করেছি, এসময় প্রায় সবাইকে কম-বেশি ক্ষুব্ধ মনে হয়েছে। এভাবে নির্বাচন হলে তো মানা যায় না।’

ভোটে অনিয়ম রোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিএনপি বরাবরই ইসির কঠোর সমালোচনা করে আসছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ইসিকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর