সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • জাতীয়
  • রূপপুরে চলছে মহাযজ্ঞ ২০২২ সালে উৎপাদন
২৩ এপ্রিল, ২০১৬ ১৬:২২:১০
প্রিন্টঅ-অ+
পাকশীর পদ্মার পাড়ে দেশের সর্ববৃহৎ প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
রূপপুরে চলছে মহাযজ্ঞ ২০২২ সালে উৎপাদন
রূপপুর থেকে ফিরে মাহফুজ সাদি :
প্রচন্ড উষ্ণতা, সাদা বালুর প্রান্তর, কোথাও একটু ছায়া নেই। যে কারো মনে হতে পারে ছোট খাট একটি সংরক্ষিত মরুভূমি। তবে মূল ফটক পেরুলেই চোখে পড়বে কাছের কিছু ছোট ছোট পাকা ঘর। আর নানা ধরণের উন্নয়ন মেশিনারি এবং প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা কর্মতৎপর মহাযজ্ঞ সাধনে। যে যার কাজে ব্যস্ত। কথা বলার ফুসরত নেই।

পাকসির পদ্মা পাড়ের এই দৃশ্য হলো দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের।

দেশের উত্তরের জেলা পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রায় ১ হাজার ৬২ একর জায়গার ওপর রাশান ফেডারেশনের সহযোগিতায় এ প্রকল্পের কর্মযজ্ঞ চলাচ্ছে ঠিকাদার এটমস্ট্রয় এক্সেপোর্ট। ৪টি চুক্তির আওতায় প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন মূল কাজ শুরু হবে আগামী বছর। এ জন্য চলছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদী থানার এই প্রকল্প এলাকার ভূমি উন্নয়ন করে, মনিটরিং স্টেশন, কংক্রিট বেসিং প্ল্যান্ট, স্টোরেজ ওয়্যার হাউজ, পাম্প হাউজ, অফিস ও প্রকৌশল ভবন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার সুবিধাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। ২০১৭ সালে মূল কাজের জন্য দুই-এক মাসের মধ্যে আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এলক্ষে কাজ করছেন বাংলাদেশ ও রাশিয়ার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশনের হাতে। কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ’। ২ ইউনিটের প্রকল্প থেকে উৎপাদন হবে ২ হাজার ৪শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে সাড়ে তিন টাকা। দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প নেই।

এশিয়ার বেশির ভাগ জনবহুল দেশ যেমন চীন, ভারত, কোরিয়াসহ আরও অনেক দেশ আগেই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে ও করছে। রূপপুর পারিমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে দেশের অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোস্টাম ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারে ২৪শ’ মেগাওয়াটের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রকল্পটি নির্মাণে রাশিয়া মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১১.৩৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ অবশিষ্ট ১.২৬৫ বিলিয়ন ডলার যোগান দেবে। ৮ বছর রেয়াতি মেয়াদ সহ ২৮ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ভিভিইআর-১২০০ মডেলের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৬০ বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। রাশিয়ার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি অংশ নিরাপত্তার সব দিক খুঁটিয়ে দেখেই এটি তৈরি হচ্ছে। ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ধারণ ক্ষমতা রয়েছে সর্বশেষ আধুনিক এই মডেলটির। আর পাবনা জেলাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলো ৭.৮ রিখটার স্কেল। যার কেন্দ্রস্থল ছিল নেপালে। বাংলাদেশের ভূমিকম্পের ইতিহাসে এই মাত্রার ভূমিকম্প বিরল। আর রাশিয়ান কোম্পানি রোসাটোম থেকে এও বলা হয়েছে এই মডেলটি যে কোনো ধরনের বিমান হামলা থেকেও রক্ষা পেতে সক্ষম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান জানান, চুক্তির ১ম ও ২য় পর্যায়ের কাজ দ্র“ততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। আগামী ডিসেম্বরে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। গ্রাউন্ড প্রিপারেশনসহ এর মধ্যেই ৮০ ভাগ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে এর বেশী কাজও সম্পন্ন হয়েছে। মূল নির্মাণ কাজ তৃতীয় ও চতুর্থ চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন। প্রথম পর্যায়ে কাজের জন্য রাশিয়া বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার কোটি টাকা এবং দেশীয় তহবিলের সাড়ে ৪ শত কোটি টাকা। প্রকল্পের মূল পর্যায়ের নির্মাণ কাজের জন্য মোট ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চুক্তি ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ১০ ভাগ অর্থাৎ ১.২৬৫ বিলিয়ন ডলার জিওবির অংশ। অবশিষ্ট ৯০ ভাগ অর্থাৎ ১১.৩৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার স্টেট ঋণ চুক্তির মাধমে রাশিয়া প্রদান করবে। রাশিয়ান সরকারের সঙ্গে অর্থ ঋণ চুক্তি এপ্রিলের শেষ নাগাদ অথবা মের প্রথমে স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি জানান। যথাসময়ে কাজ শুর“ করা সম্ভব হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছে সরকার।

রাশিয়ার সহযোগিতায় এই প্রকল্পে এরই মাঝে মাটি ভরাটের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের যে কয়টি অগ্রাধিকার প্রকল্প রয়েছে, তার মধ্যে এটি শীর্ষে রয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের কাজ সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। এটি বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প হওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা ব্যাপারে রাশিয়ানদের পাশাপাশি ভারতীয় কারিগরদের যুক্ত করা হচ্ছে। এজন্য আগামী মাসে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্প নিয়ে ভারতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক ও আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করে দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। সরকার চলতি এপ্রিল অথবা আগামী মে মাসে রাশিয়ার সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করবে। ২০২২ সালের মধ্যে প্রথম ফেজ ও ২০২৩ এ দ্বিতীয় ফেজ চালুর লক্ষ্যে আগামী বছর আগস্ট থেকে এর নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুর“ হবে।

তিনি জানান, নির্মাণ পর্যায়ে দৈনিক ১৭৫০ কিউবেক মিটার পানি এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৮১ মিলিয়ন কিউবেক মিটার পানির প্রয়োজন পরবে। যার মধ্যে রিসাইক্লিং হিসেবে প্রায় অর্ধেক পানি পুনরায় ব্যবহৃত হবে। প্রকল্প পরিচালক ড. সৌকত আকবর জানান, ২০১৭ সালের ১লা আগস্ট থেকে প্লান্ট বসানোর মূল ১ম কংক্রিট কাজ শুর“ হবে। প্রথম ইউনিটের কমিশনিং ২০১৮ সালের এপ্রিলে শুর“ হয়ে ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুর“ হবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ২০১৯ সালের এপ্রিলে শুর“ হবে এবং ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট করে দুটিতে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ প্লান্ট ৫০ বছর ধরে উৎপাদন করার জন্য ফুয়েল এবং ম্যানেজমেন্ট কস্ট তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় গড়ে প্রতি ইউনিটের খরচ পড়বে মাত্র ৩.০০ টাকা। যদি কোন দুর্ঘটনা না ঘটে তবে এই প্লান্ট থেকে ৮০-৯০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। পারমাণবিক চুল্লিতে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করা হয়। উৎপন্ন তাপ ব্রয়লারের মাধ্যমে পানিকে বাষ্প করে। সে বাষ্প টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটর অলটারনেটর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণ হলে বিস্ফোরণ হতে পারে। এসব বিবেচনায় নেয়া হয়েছে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় তেজস্ক্রিয় বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যা রাশিয়া নিয়ে যাবে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো দু’দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি।

র“শ প্রকৌশলীরা জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের প্রাথমিক স্তরে আছেন তারা। প্রকল্প প্রকৌশলী পাভেল রাসাকভ বলেন, কাজের একবারে শেষ পর্যায়ে আছি আমরা। নির্দিষ্ট যে সময় তার মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করবো আমরা।

প্রকল্পের পরিচালক সৌকত আকবর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান জানান, দুই ভাগে ২৪০০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ এখান থেকে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আগামি বছর আগস্টে প্রথম ধাপের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আন্তর্জাতিক মান অনুসরণে দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এর নির্মাণে সহজ শর্তে ঋণ দিতে সম্মত হন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরপরই রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফর করেছিলেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরকালে প্রকল্পটি নির্মাণে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম পর্যায়ের কাজের ৪৩৪ কোটি এডিপির টাকা ফেরত প্রসঙ্গে নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানির উপদেষ্টা রবীন্দ্র নাথ সরকার জানান, প্রথম পর্যায়ের অনেক কাজ রাশিয়ানদের অর্থেই সম্পাদিত হওয়ায় অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। তাছাড়া ডলারের দাম ৮০ টাকা ধরে মূল্যায়ন করা হলেও বাস্তবে ছিল ৭৮ টাকা। এ জন্য ১৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এই টাকা পরবর্তীতে ব্যয় হবে বলে তিনি জানান। কয়েকদিন আগে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৭৩ জন এবং পাবনা ও ঈশ্বরদীর ১৪ জন সংবাদকর্মী প্রকল্প এলাকায় উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান আলী জুলকারনাইন, সদস্য (ভৌত বিজ্ঞন) মাহাবুবুল হাসান, রাশিয়ান রোসাটমের প্রকল্প পরিচালক পাভেল, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফিরোজ আহমেদ, ওয়াহিদা মুর্সারাত অনিতা, প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাহিদুল হাসান, হাসিনুর রহমান, সাইট ইনচাজ এবিএম র“হুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যে ভাবে শুরু : ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রথম পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ১৯৬২-৬৩ সালে কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পাবনার রূপপুর বেছে নিয়ে প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর এবং আবাসিকের জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তখন ভূমি উন্নয়ন, অফিস, রেস্ট হাউজ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ও কিছু আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। ১৯৬৯- ১৯৭০ সালে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তা পরিবর্তন করে পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৪ সালে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন বঙ্গবন্ধু সরকার। ১৯৮৬ সালে জার্মানী থেকে যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব আসে। ১৯৮৭-৮৮ সালে জার্মানী ও সুইজারল্যান্ডের দুটি কোম্পানি ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করে, যা আগের স্টাডিকে সমর্থন করে। ৮৬-৮৭ তে সাম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। ১৯৯৬ সালে জাতীয় জ্বালানী নীতিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। ১৯৯৭-২০০০ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নকল্পে মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার পাওয়ার এ্যাকশন প্লান অনুমোদন করা হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই দীর্ঘ পরিক্রমায় প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার পরের কয়েক বছর প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাশিয়া সাহায্য সহযোগিতা করবে। সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে কয়েকটি দল কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে রাশিয়া যাচ্ছে। আরও দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সারা বাংলাদেশ থেকে বাছাই করে তিন বছর মেয়াদি মাস্টার্স প্রোগ্রাম এবং পাঁচ বছর মেয়াদি স্পেশালিস্ট প্রোগ্রামে রাশিয়াতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা তাদের পড়াশোনা শেষ করে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও মেধা কাজে লাগাবেন।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর