মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • জাতীয়
  • হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর লাশ, আটক ৪
২২ এপ্রিল, ২০১৬ ২৩:৫৪:০৬
প্রিন্টঅ-অ+
হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর লাশ, আটক ৪
রাজশাহীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্র-ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হোটেলটির চারজন কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ।

ছাত্র-ছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে জানিয়ে নগরীর বেয়ালিয়া মডেল থানার এসআই মহিউদ্দিন শেখ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে শুক্রবার চারজনকে আটক করা হয়।
 
আটকরা হলেন- হোটেল সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম (৩৫) হোটেল বয় নয়ন হোসেন (২৫), ফয়সাল আহম্মেদ (২৬) এবং বখতিয়ার হোসেন (৩০)।
 
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর সাহেব বাজারের হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল থেকে দুই তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
 
তারা হলেন- মিজানুর রহমান ও  সুমাইয়া নাসরিন। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা ওই হোটেলে উঠেছিলেন।
 
সুরতহাল প্রতিবেদন ও বিভিন্ন আলমত সংগ্রহ শেষে  সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
 
 
মিজানুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার পাঠানপাড়া গ্রামের অমেদ আলীর ছেলে।
 
সুমাইয়া নাসরিন বগুড়া সদরের উপশহর এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে। তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা আব্দুল করিম গাইবান্ধা  জেলা পুলিশের এসআই।
 
হোটেল নাইসের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলের ৩০৩ নং কক্ষে উঠেছিলেন মিজানুর রহমান ও সুমাইয়া নাসরিন।
 
হোটেলের অতিথি রেজিস্ট্রেশন কার্ডে তাদের দেয়া ঠিকানায় লেখা রয়েছে- চাকরি সূত্রে তারা পাবনার রাধানগরে থাকেন। দাফতরিক কাজে রাজশাহীতে এসেছেন। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে মিজানুরের গ্রামে ঠিকানা সঠিক লেখা হয়েছে। তবে বর্তমান ঠিকানার জায়গায় পাবনার রাধানগর লেখা।
 
 
তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকালে তারা নাস্তা আনতে হোটেলের কাউকে বলেননি বা নিজেরাও নিচে নেমে আসেননি। দুপুরেও তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে হোটেল কর্মীরা ওই কক্ষের সামনে যায়। বাইরে থেকে ডেকেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেয়া হয়।
 
পরে পুলিশ এসে দরজার তালা ভেঙে তাদের মরদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই সদস্যরা এসে বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন।
 
পুলিশের ধারণা, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
 
পুলিশের সহকারী কমিশনার গোলাম সাকলায়েন জানান, দু'হাতই ওড়না দিয়ে বাঁধা অবস্থায় মিজানুরের মরদেহ ফ্যানে ঝুলছিল।
 
তিনি বলেন, সুমাইয়ার মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার মুখ বালিশচাপা দেয়া ছিল। বিছানায় রক্ত মাখা ছিল। আলামত দেখে আপাতত মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা নয়।
 
এদিকে মিজানুর রহমানের নামে ফেসবুকের সর্বশেষ স্ট্যাটাস নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এতে লেখা হয়েছে- 'আমার থাকার মেসে কিছু খাবার টাকা পাইতে পারে, উনুখাঁ শিশিরদের দোকানে ২৫ টাকা পাবে। কালিকাপুরের আরিফ বন্ধু ১০০ টাকা পাবে। টাকাগুলো যেন বাসা থেকে প্রদান করে। এছাড়া আমার পাওনা নাই। সবাই আমাকে মাফ করবেন। আমি পৃথিবী  থেকে চলে যাচ্ছি।'
 
পুলিশ এ স্ট্যাটাসটি দেখে বলছে- এটি সুইসাইড হতে পারে। আবার হত্যাকাণ্ড হলে খুনিরা কৌশল হিসেবে মিজানকে স্ট্যাটাস দিতে বাধ্য করাতেও পারে।
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর