বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • জাতীয়
  • বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগের পর্যায়ে: যুক্তরাজ্য
২১ এপ্রিল, ২০১৬ ২০:১৯:৩১
প্রিন্টঅ-অ+
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগের পর্যায়ে: যুক্তরাজ্য

বিশ্বের যে ৩০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগের পর্যায়ে রয়েছে বলে যুক্তরাজ্য মনে করছে, তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও।


বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা যায়। ২০১৫ সাল নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক- এমন ৩০টি দেশের মধ্যে মিসর, ইরাক, ইরান, কঙ্গো, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, সুদানের সঙ্গে চীন ও মিয়ানমারের নামও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি ঘটেনি আগের বছরের চেয়ে।

এক্ষেত্রে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্ব অবসান না ঘটার কথা উল্লেখ করা হয়।

এই রাজনৈতিক বিরোধ থেকে ২০১৫ সালের শুরুর চার মাসের সহিংসতা, বিএনপির লাগাতার অবরোধ আহ্বান, দলটির নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়গুলো উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এর প্রভাবে জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।

গত বছরের শেষে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।



২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনও সবার অংশগ্রহণে হওয়ার উপর জোর দিয়ে এজন্য সব দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের আগে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তাতে বাংলাদেশে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম’, ব্লগার হত্যা, সংবাদপত্র ও অনলাইনে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ‘কড়াকড়ি’নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সমস্যা হিসেবে অসাম্প্রদায়িক ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট হত্যা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ, ‘স্বাধীন মত প্রকাশে বাধার’ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং গুম নিয়ে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর বারবার বলার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিচার পেতে দেরি হওয়ায় মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার দিকটিও ইঙ্গিত করেছে যুক্তরাজ্য।



এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার সংস্কারে যুক্তরাজ্যের ৩৭ লাখ পাউন্ড এবং পুলিশ সংস্কার কর্মসূচিতে ১২ লাখ পাউন্ড সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

মৃত্যুদণ্ডবিরোধী ইউরোপের দেশটি বাংলাদেশে ২০১৫ সালে অন্তত ৫ জনের সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি প্রতিবেদনে নিয়ে এসেছে, যার মধ্যে তিনজন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের জন্য এই সাজা পেয়েছেন।

বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও সমাজে এখনও নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে যুক্তরাজ্যের পর্যবেক্ষণ। নারীর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিয়েকে এক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা বাংলাদেশের সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সহযোগিতার কথাও বলেছে যুক্তরাজ্য।
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর