রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
১৮ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:০৫:৪৩
প্রিন্টঅ-অ+
জয়ের কথার জবাব দিলেন ইমরান

ফেইসবুকের বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিতে ভক্ত-অনুসারীদের প্রতি সজীব ওয়াজেদ জয়ের আহ্বানকে নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় ‘হুমকি’ হিসাবে দেখছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

জয়ের একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসের জবাবে সোমবার তিনি লিখেছেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলতে গিয়ে সম্ভবত আমার নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতাই আজ হুমকির মুখে। কি ভয়াবহ ব্যাপার!”

সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানানোয় রোববার ইমরানকে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যায়িত করে তাকে বর্জন করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়।

‘বিএনপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে’ ইমরান ওই সাংবাদিকের পক্ষ নিয়েছেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন জয়।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ফেইসবুক স্ট্যাটাসে যেসব বিষয় তুলে ধরেছিলেন ১৯ ঘণ্টা পর তার প্রতিটিরই জবাব দিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র।

তিনি লেখেন, “আমি আমার ওই স্ট্যাটাসে দেশে চলমান খুন-ধর্ষণের বিচার নিয়েও বলেছিলাম। এই বছরের প্রথম ৩ মাসেই দেশে প্রায় ১ হাজারের কাছাকাছি মানুষ খুন হয়েছে। কেউ কি বলতে পারবেন যে, এর একটি ঘটনার বিচার হয়েছে?

“কেন, এদেশে প্রধানমন্ত্রীর সন্তান না হলে কি কেউ বিচার পাবে না? তনুর বাবা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বলে কি তার বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?”

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে গণজাগরণের মুখপাত্র লেখেন, “আমি আমার স্ট্যাটাসে পরিষ্কার লিখেছি, আমি শফিক রেহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে একমত নই। এমনকি আমি স্ট্যাটাসের কোথাও তার মুক্তির কথাও বলিনি। তাতেই যেভাবে আক্রমণ হচ্ছে, খুব সহজেই অনুমান করা যায় ভিন্নমতের প্রতি সমাজে কতোটুকু শ্রদ্ধা বিদ্যমান।

“এদেশে খুব গৎবাঁধা কিছু কথা বলা হয়। একটা খুনের বিচার চাইতে গেলেই কেউ কেউ বলে 'অমুক এটা করতো' আপনি খুনের বিচার চেয়ে তার সেই কাজকে সমর্থন করলেন! কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বললেও একই প্রশ্ন। কারো সাথে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেও যে তার অধিকারের জন্য লড়াই করা যায়, সরল এই বিষয়টি সমাজ থেকে একদম হারিয়ে যাচ্ছে।

“কোনো খুনের বিরুদ্ধে কিংবা কারো মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে যে তার বক্তব্যের সাথে একমত হওয়া নয়, এই বোধটুকুও আমরা হারিয়ে ফেলছি।”

৩৩ বছর বয়সী ইমরান ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের দায়িত্বে আসার পর সারাদেশে আলোচিত মুখ।

ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক হিসেবে গণজাগরণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ইমরান।

সাধারণ নাগরিকদের ‘সজাগ’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইমরান লেখেন, “প্রতিপক্ষের প্রতি যেকোনো অবিচার হলে আমরা প্রত্যেকে হাততালি দিই। আর এটাই কিন্তু আমার, আপনার সবার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

“দেখানো হচ্ছে দেখো, একে গ্রেপ্তার, হত্যা, গুম করলে কিংবা শক্তি প্রয়োগ করে মুখ বন্ধ করিয়ে দিলে কতো মানুষ খুশি হয়, তাই আমরা যা করেছি ঠিক করেছি। একবার ভেবে দেখুন, আমার/আপনার হাততালি আমার/আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার হলো!”

“আমাদের প্রত্যেকের সাথে ঘটা অন্যায়গুলো এভাবেই প্রতিপক্ষের হাততালির আড়ালে স্বীকৃত করে নেয়া হচ্ছে। ফলস্বরূপ আমরা সকলেই অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছি।”

তিনি লেখেন, “যখন দেখতে পাচ্ছি নানাভাবে একের পর এক মানুষের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং সেগুলো বিভিন্ন উপায়ে জাস্টিফাই করা হচ্ছে, তখন জেনে গেছি এই দানব আসলে আমার দিকেই আসছে; আমাদের সবার দিকেই আসছে!”

“তাই আমরা যদি পক্ষ-বিপক্ষ ভুলে এই দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াই, আমাদের বাকরুদ্ধ রেখে রিজার্ভ লুটের মতো সবকিছু লুট হতে থাকবে, আমাদের কিছুই করার থাকবে না।”

নিজের ফেইসবুক পেইজকে ‘জনতার গণমাধ্যম’ হিসাবে অভিহিত করেন ইমরান এইচ সরকার।

“আমার ফেসবুক সমাজের নির্যাতিত, বঞ্চিত, অসহায় মানুষের পক্ষে কথা বলে। সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।”

স্ট্যাটাসের শেষে ভলতেয়ারের একটি উক্তিও জুড়ে দেন ইমরান।

“আপনার সঙ্গে আমি একমত হতে পারবো না কিন্তু আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার যে অধিকার আপনার আছে, সে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন হলে আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত।”
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর