বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • জাতীয়
  • বিজিবির বৈশাখী মেলায় সন্তুষ্ট দর্শনার্থীরা
১৬ এপ্রিল, ২০১৬ ১৯:৫৮:২৮
প্রিন্টঅ-অ+
বিজিবির বৈশাখী মেলায় সন্তুষ্ট দর্শনার্থীরা
অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা ফরিদা আলী। বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে রাজধানীর আজিমপুরে ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। গতকাল (শুক্রবার) ভাইয়ের ছেলের ঘরের নাতির (বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ স্কুলের ছাত্র) পীড়াপীড়িতে বিজিবির অভ্যন্তরে বৈশাখী মেলা দেখতে বেরিয়ে পড়েন।
 
প্রবেশ গেটে বিজিবির একজন সদস্য মেলায় কেন যেতে চাইছেন জানতে চাইলে ফরিদা আলি মুচকি হেসে নাতির পীড়াপীড়ির কথা জানান। কিন্তু মেলা থেকে ঘুরে বাসায় এসে খুবই সন্তুষ্ট ও আনন্দিত তিনি। হাসতে হাসতে নাতির কাছে আগামী বছর বিজিবির বৈশাখী মেলায় যাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন।
  
বিজিবি আয়োজিত দু’দিন ব্যাপি (বৃহস্পতিবার  ও শুক্রবার) বৈশাখী মেলা ঘুরে শুধু ফরিদা আলীই নন, তার মতো বহিরাগত বিপুল দর্শনার্থী মেলার সার্বিক পরিবেশ ও সুব্যবস্থাপনার দারুণ প্রশংসা করেন। 
 
বিজিবির বৈশাখী মেলায় সন্তুষ্ট দর্শনার্থীরা
 
উল্লেখ্য, এ দুইদিন বিজিবির দুটি স্কুলে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ ও নুর মোহাম্মদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বাবা মা ও আত্মীয়স্বজনকে মেলা দেখতে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়।
 
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, বিশাল মাঠজুড়ে পটে আঁকা ছবির মতো গোটা মেলাঙ্গন। বিজিবির বিভিন্ন ব্যাটালিয়ানের স্টলগুলো গ্রামীণ মেলার আবহে ছন ও বাঁশে নির্মাণ করা হয়েছে। স্টলের সামনে প্রশস্ত জায়গা জুড়ে রঙিন ছাতা টাঙিয়ে বসার সুব্যবস্থা রাখা হয়।
 
মেলায় পুতুলনাচ, জাদু প্রদর্শনী, চরকি ঘোরার পাশাপাশি বাইরে গরুর ও ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়। সীমান্ত পরিবার কল্যাণ সমিতির তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও বস্ত্রাদির স্টল খোলা হয়।
 
অপেক্ষাকৃত কম দামে বিভিন্ন ধরনের (পান্তা ইলিশ, তরমুজ, আনারস, কাঁচা আমের জুস, আখের রস, ডাব, নারকেল, মুড়ি মুড়কি, হাওয়াই মিঠাই, হালিম ও আইসক্রিম) মজাদার খাবারের দোকানগুলোতে খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেন দর্শনার্থীরা।
 
মেলা প্রাঙ্গনে মাটি দিয়ে ঘিরে ক্ষুদে আকারের ডোবা বানিয়ে সেখানে মাছ ও হাঁস মুরগির বাচ্চা ছেড়ে রাখা হয়। মেলায় মাত্র ১০টাকা ভাড়ায় গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য রঙিন পালকিতে শিশুদের বধূবেশে মোবাইল ও ক্যামেরায় ছবি  তুলতে দেখা যায়। নার্সারিতে ফলমূলের গাছগাছালি ও বাচ্চা কবুতর, হাঁস, মুরগি ও কোয়েলের ছানা বিক্রি হচ্ছিল। মাঠের একপাশে ঢেকি, মাটির তৈরি বিশাল সাইজের দুটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার শিশুদের ব্যাপক আনন্দ দেয়।
 
 
 
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক স্কুল শিক্ষিকা ফরিদা আলী বলেন, মাত্র একশ’ টাকা মূল্যে দুজন তৃপ্তিসহকারে পান্তা ভাত, ইলিশ, লালজাম আলুর ভর্তা, ডাল ভর্তা ও শুকনা মরিচসহ যে খাবার খেয়েছেন বাইরে এর দাম কমপক্ষে তিনগুণ হবে। শুধু পান্তা ইলিশই নয়, প্রতিটি খাবার খুবই সস্তা ও মানসম্মত। বাইরে খাবার খেতে গিয়ে ভয়ে থাকতে হয় কিন্তু এখানে খাবার খেয়ে খুব তৃপ্তি ও মজা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
বিজিবির বৈশাখী মেলায় সন্তুষ্ট দর্শনার্থীরা
লালবাগ এলাকার আসাদুজ্জামান নামের একজন স্কুলছাত্রের অভিভাবক জানান, মাত্র ২০ টাকায় তরমুজ, কাঁচা আম ও আনারসের যে ফ্রেস জুস খেলাম তা বাইরের ভাল কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার কম দাম হবে না।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির একজন কর্মকর্তা জানান, দু’দিনের মেলায় তারা মুনাফার কথা ভাবেন না। দর্শনার্থীদের সকলেই যেন নববর্ষ উপভোগ ও আনন্দে কাটাতে পারেন সেদিকেই অধিক লক্ষ্য রাখা হয়।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর