মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • জাতীয়
  • অডিট আপত্তির টাকা পরিশোধ না করেই পেনশন তোলার চেষ্টা
১২ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:০০:১১
প্রিন্টঅ-অ+
অডিট আপত্তির টাকা পরিশোধ না করেই পেনশন তোলার চেষ্টা
বিধিবহির্ভূতভাবে সিলেকশন গ্রেড নেয়ায় জাতীয় সংসদের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অডিট আপত্তি আছে। তবে অডিট আপত্তির সেই টাকা পরিশোধ না করেই পেনশনের টাকা তোলার চেষ্টা করছেন তারা। সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এমনকি দুর্নীতি থেকে তাদের অব্যাহিত দিয়ে অন্যদের উপর দায় চাপিয়ে পেনশনের টাকা তোলারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সিলেকশন গ্রেডের ব্যাপারে বিধিমালায় বলা হয়েছে, পদ না থাকা বা ভিন্ন কোনো কারণে একই স্কেলে সন্তোষজনকভাবে দীর্ঘদিন চাকরির পর অনেকে পদোন্নতি পান না। এ ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নির্বাচিত কিছু ব্যক্তিকে কিছু শর্তসাপেক্ষে উচ্চতর স্কেল প্রদান করা হয়।

জানা যায়, ২০০৫ সালে জাতীয় পে-স্কেলে সংসদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের ৫০ শতাংশ সিলেকশন গ্রেড দেয়ার নির্দেশ দেয় সরকার। তখন সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুমোদিত পদ ছিল ৬৩টি। এর মধ্যে ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারিতে কর্মরত ছিলেন ৬২ জন। বিধি মোতাবেক ৩১ জন প্রশানসনিক কর্মকর্তা সিলেকশন গ্রেড পাবেন।

কিন্তু ২০০৫ সালের জুলাইয়ে ৩৮ জনকে সিলেকশন গ্রেড দেয়া হয়। আবার ২০০৭ সালের অফিস আদেশে আরো ২ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সিলেকশন গ্রেড দেয়া হয়। এভাবে ৪০ জনকে সিনিয়র গ্রেড প্রদান করা হয়। ফলে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয় এই সিলেকশন গ্রেড সঠিক হয়নি। যেসব কর্মকর্তাদের বিধিবহির্ভূতভাবে সুবিধা দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এজন্য সংসদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও চিঠি দেয়া হয়।

এই সমস্যা দূর করার জন্য ২০০৯ সালে সাবেক স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সময় বিশেষ অডিট টিম আনা হয়। ওই অডিট টিম জানায় মো. হারুন অর রউফ, মো. কুতুব উদ্দিন, শাহজাহান খান, মালিহা সিনহা, মঞ্জু রানী বড়ুয়া, মো. আবদুল হাফিজ, মুহা. আলমগীর ও রেহেনা বেগমের সিলেকশন গ্রেড সঠিক হয়নি। এসব ব্যক্তিরা অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন। তাদের টাকা ফেরত দেয়ার জন্যও সুপারিশ করে অডিট টিম। এবং এসব কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করেছে বলেও জানানো হয়।

এদের মধ্যে শাহজাহান খান ও মুহা. আলমগীর ছাড়া সবাই অবসরে গেছেন। এখন পেনশনের টাকা তোলার সময় অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়ার কথা তাদের। কিন্তু তা হচ্ছে না।

কারণ সংসদের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা অডিট টিমের ওই সুপারিশ মানেনি। এমনকি বিষয়টি পুনারায় যাচাই করার জন্য অডিট টিমের জ্যেষ্ঠতার তালিকা বাদ দিয়ে আরেকটি তালিকা করে এ সংক্রান্ত গঠিত কমিটি।

সংসদের সাবেক সচিব আশরাফুল মকবুলের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে জ্যেষ্ঠ দেখান। এর ফলে আসল জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে।

২০১৪ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বলা হয়- ‘মো. কুতুব উদ্দিন, মালিহা সিনহা, হারুন অর রউফ, মঞ্জু রানী বড়ুয়াকে অডিট আপত্তি থেকে অব্যাহতি দেয়া হল। এর পরিবর্তে তাহেরা বেগম, আবদুল হালিম মুন্সী, দিল আফরোজা মালিক নেহা আহমেদকে উক্ত অডিট আপত্তির অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এজন্য শেষের চার ব্যক্তি তাদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তবে এদের কেউই এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে সাবেক সচিব আশরাফুল মকবুলের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মঙ্গলবার জানান, বিষয়টি এখন তার মনে নেই!

সংসদের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অডিট আপত্তি ও প্রধান হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্দেশ অমান্য করার কোনো নজির নেই সংসদে। ওইসব ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে আবার নতুন বাছাই কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে কথা হয় অবৈধ সুবিধাভোগী কুতুব উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তারাই সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন। তবে অডিট আপত্তি বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজী হননি তিনি।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর অারো খবর