রাত ৪:১৭, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় দেড় কেজি স্বর্ণসহ দুবাই ফেরত এক যাত্রীকে আটক করেছে কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিমের সদস্যরা। ওই যাত্রীর নাম মোজাফফর হোসেন রিপন (৪১)। তার পাসপোর্ট নম্বর-বিএল০৭১০১৯৮। তিনি গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী এই  যাত্রী গত ১০ মাসে ১৫ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন বলে ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারি কমিশনার সাইদুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে এসব স্বর্ণসহ আটক করা হয়। এই স্বর্ণের বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, আটক মোজাফফর এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে  রোববার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ধরার জন্য আগে থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিল কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিমের সদস্যরা। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় আটক করা হয় তাকে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাস্টমস হলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে তার শরীর তল্লাশি করে প্যান্টের পকেটে স্কচটেপে পেঁচানো অবস্থায় প্রতিটি ১১৬ গ্রাম ওজনের মোট ১২টি সোনার বার ও ১০৫ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ১ কেজি ৪৯৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ পাওয়া যায়।

 

যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক: যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তার দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

গত কয়েক যুগ ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসছে বাংলাদেশ, যারা নিজ দেশ মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার। আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর নতুন করে আরও পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের ওই অভিযানকে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের মানবিক সঙ্কটে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ অবিলম্বে বন্ধ করা; জাতিসংঘ মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দলকে মিয়ানমারে পাঠানো; জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে মিয়ানমারের ভেতরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ‘সুরক্ষা বলয়’ গড়ে তোলা; রাখাইন রাজ্য থেকে জোর করে বিতাড়িত সব রোহিঙ্গা যাতে মিয়ানমারে তাদের বাড়িতে ফিরতে পারে, তা নিশ্চিত করা; সেই সঙ্গে কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে সেখানে।

সোমবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সদস্যভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে যেমন অত্যাচার করেছিল, মিয়ানমারের এই বাস্তুচ্যুত নাগরিকরাও তাদের দেশে সেরকম অত্যাচারের শিকার। ওই সময় তিন কোটি বাঙালি গৃহহারা হয়েছিল, আর শরণার্থী হয়েছিল এক কোটি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে বাধ্য হওয়ার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরাও শরণার্থী ছিলাম, এদের দুঃখ আমরা বুঝি।’ মিয়ানমার থেকে আসা মানুষ যে দুর্দশায় পড়েছে, এই অবস্থায় তাদের পাশে না দাঁড়ালে সেটাই অমানবিক হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষের মানবিক গুণ আছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সাহায্য নিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবকরা সেখানে কাজ করছে জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকায় খোলা ট্রাকে ময়লা পরিবহন নিষেধ

রাজধানীতে খোলা ট্রাকে ময়লা-আবর্জনা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে রাত ১০ থেকে ভোর ৬টার মধ্যে কভার্ড ভ্যানে করে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়। আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

(বিস্তারিত আসছে)

 

প্রধান বিচারপতির দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান হবে

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে, তার অনুসন্ধান হবে এবং তা দুদকের মাধ্যমে করা হবে বলে ইংগিত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রোববার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন,  ‘যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই এন্টি করাপশন কমিশনের আওতায়। তাহলে আপনারা বুঝতেই পারছেন, কে এটার অনুসন্ধান করবে।’ বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিরল এক বিবৃতি আসার পর নানামুখী আলোচনার মধ্যে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অভিযোগের অনুসন্ধান হবে, সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা হবে। তারপর প্রশ্ন আসবে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আইন ফলো করলেই হবে। প্রধান বিচারপতি দেশে থাকা অবস্থায় ওইসব অভিযোগ সরকারের হাতে এলেও তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হল কেন- এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, আইন অনুযায়ী বিচারপতি সিনহা এখনও প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি পদটি একটি প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক পদ। ফলে তার বিরুদ্ধে তাড়াহুড়ো বা খামখেয়ালি করে কিছু করা সমীচীন হবে না। আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটি নিয়ে ব্যক্তিগত সফরে বিদেশে গেছেন। রাষ্ট্রপতি তার অনুপস্থিতিতে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার দিয়েছেন। এ নিয়ে বিতর্কের কোনো ‘অবকাশ নেই’। একটি রাজনৈতিক মহল কোনো ইস্যু না পেয়ে খড়কুটো দিয়ে বিতর্ক তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যারা এ নিয়ে বিতর্ক করছে, তাদের একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। সেটা হাসিল হয়নি বলেই তাদের এই মায়াকান্না। রাষ্ট্রপতিকে লেখা ছুটির আবেদনে অসুস্থতার কথা লেখার পরও গত শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার পথে রওনা হওয়ার আগে এক লিখিত বিবৃতিতে নিজেকে ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ বলেন বিচারপতি সিনহা।

তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় তিনি ‘বিব্রত’। বিচার বিভাগ যাতে ‘কলুষিত না হয়’, সেজন্য তিনি নিজেই ‘সাময়িকভাবে’ যাচ্ছেন এবং আবার ফিরে আসবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন, যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সুস্থতা নিয়ে প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি তার বক্তব্যে হতভম্ব। তিনি রাষ্ট্রপতিকে লিখেছেন তিনি অসুস্থ, অথচ সাতদিন পরে বলছেন সুস্থ। আসলে যখন প্রথমে বললেন, তখনই ডাক্তারি পরীক্ষা করা দরকার ছিল, কিন্তু তা হয় নাই। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে কি না- সেই প্রশ্ন সংবাদ সম্মেলনে করেন একজন সাংবাদিক। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে একটা শূন্যতা আছে, তবে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব কিছু ক্ষমতা আছে। অভিযোগের অনুসন্ধান হবে, তারপর আইনে যেভাবে আছে সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

করতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা। আজ  সোমবার বিকাল ৪টায় জাজেস লাউঞ্জে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ‘নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১৬ অক্টোবর (সোমবার) বেলা ৪টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের মাননীয় বিচারপতিগণের অংশগ্রহণে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে।’ প্রধান বিচারপতি এক মাসের ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা। আজকের ফুলকোর্ট সভায় বিচার বিভাগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বলব : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার মিয়ানমার সফরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বলবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘অবশ্যই আমাদের মূল কথা হবে, যে লাখ লাখ অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গিয়েছে, ওদের বর্ডার অতিক্রম করে, আমাদের বর্ডার অতিক্রম করে, আমাদের মূল ভূখণ্ডে। আমরা তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অবশ্যই বলব।’’

আসন্ন মিয়ানমার সফরে আলোচনার এজেন্ডায় কী থাকবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রোববার দুপুরে গাজীপুরের সফিপুরে এক অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘‘মিয়ানমারের যে ইউনিয়ন মন্ত্রী এসেছিলেন,  তাকে আমরা তখন বলেছিলাম- এদের (রোহিঙ্গা) ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে  আপনারা কার্যকর ব্যবস্থা নেন। তিনি তখন বলেছিলেন- তারা যদি প্রমাণ করতে পারেন তারা মিয়ানমারের লোক তাহলে অবশ্যই আমরা নিয়ে যাব।  সেই সমস্ত সূত্র ধরে আমরা তাদের বার বার রিকোয়েস্ট করব, তারা যেন তাদের অধিবাসী, তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যান।’’

এর আগে মন্ত্রী সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমীতে নবনিযুক্ত ৩৪তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং মাস্টার্স ইন হিউম্যান সিকিউরিটি কোর্সের সমাপণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সরকারের কর্ম-তৎপরতায় অর্থনীতি, রাজনীতি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে শান্তির রোল মডেল হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নতুনরূপে আবির্ভূত হয়েছে।’’

১৫ মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণে ১৯জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার জন্য তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে অতীতে বারবার খেলা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগের চলমান ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রধান বিচারপতিদের নিয়ে এ ধরনের খেলা অতীতে বারবার হয়েছে। এমনও হয়েছে প্রধান বিচারপতির এজলাসে তাকে পত্রপাঠ বিদায় জানানো হয়েছে, অথচ তিনি জানেনই না। শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন। যতক্ষণ শ্বাস আছে দেশের জন্য কাজ করে যাবো, গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাবো বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হুটহাট করে বিচারপতিদের বিদায় জানানো হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীন আহমেদও প্রধান বিচারপতিকে বঙ্গভবনে চা খাওয়ার দাওয়াতে ডেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। বিএনপির শাসনামলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখলাম একবার প্রধান বিচারপতির বয়স ৬২ থেকে ৬৫ আবার ৬৫ থেকে ৬২তে আনা হয়। যিনি কেবলমাত্র অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি উপদেষ্টা হবেন তাই আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে এম হাসানকে উপদেষ্টা বানালো এবং চক্রান্ত করলো যাতে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হয়ে ভোট চুরির সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, আমরা মহাজোট করি। ভুয়া ভোটার আইডি তৈরি করলো, আমরা আন্দোলন করি। এসব কারণে আবার ইমারজেন্সি ঘোষণা করা হয়। এরপর দ্রুত ইলেকশন হবে ভেবেছিল, কিন্তু তখন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করা হয়। তখন দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমি পরোয়া করি না। আমি তো জানি একদিন মরবে। যতক্ষণ শ্বাস আছে দেশের জন্য কাজ করে যাব, গণতন্ত্রের কথা বলে যাবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যত নিয়োগ দিয়েছিলাম একইদিনে পত্রপাঠ বিদায় করা হয়। প্রশাসনে একই অবস্থা। কোনও নিয়ন্ত্রণ বা ডিসিপ্লিন কিছু ছিল না। জাতীয় সংসদে ভোট কারচুপির মধ্য দিয়ে নিজের মন মতো লোক বসিয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের মন্ত্রী করে সংসদে বসানো হয়। কর্নেল রশিদ হুদাকেও বসানো হয়। আমাদের লাখো শহীদের অর্জনের পতাকা তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। জনগণ সরকারের সেবা পাবে সেটাই করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোটের অধিকার যাতে প্রয়াগ করতে পারে সেই চেষ্টা করি। ২০০১ এর নির্বাচনের কথ যদি স্মরণ করেন। ভোটের দিন আমি যেখানে ইলেকশন করেছিলাম সেখনে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গাড়িতে করে নিয়ে নিয়ে দেখানো হয়েছিল পরিণতি কেমন হবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ হয় আমরা সেটাই চাই। জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া আমাদের লক্ষ। আমাদের সরকারের আমলে যতোগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উপ-নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোয় খুব স্বচ্ছভাবে ভোট হয়েছে। যে দলকে মানুষ ভোট দিয়েছে, সে দলের প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছে। এভাবে যেন আগামী জাতীয় নির্বাচন হয়, তার ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ। অতীতে দেশে বিচারপতিদের নিয়ে বারবার খেলা হয়েছে মন্তব্য করে বিভিন্ন শাসনামলের চিত্রও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে জানিয়ে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছি। আমাদেরই প্রস্তাবে আজকের নির্বাচনে স্বচছ ব্যালটবাক্স থেকে শুরু করে, ছবিসহ ভোটারতালিকাসহ সবকিছু হয়েছে। সে কারণে মানুষ তার ভোটের অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করবে স্বাধীনভাবে, নিরপেক্ষভাবে, নিশঙ্কভাবে; সেই ব্যবস্থাটা যাতে আমরা করতে পারি সেটাই আমাদের লক্ষ। সবকিছুতে একটা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা থাকবে সেটাই আমরা চাই। আজকে আমরা সরকারে আছি, প্রত্যেকটা উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে। অনেক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির র্প্রার্থী জয়লাভ করেছে। যেমন সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলি। চারটা সিটিতেই বিএনপি জয়লাভ করলো। আমরা তো বাধা দিই নি। আমরা তো ফল বদলায় নি, মানুষের ওপর জুলুম করি নি। যার যার স্বাধীনভাবে যে যাকে চাইবে তাকেই পছন্দ করবে। ঠিক সেই কাজটাই আমরা করতে চাই।

রাজনৈতিক দলগুলো সাথে নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন সকল দলের সাথে আলোচনা করবে। আমরা নিশ্চয়ই সেখানে যাবো। সেখানকার প্রস্তুতির জন্য ইতোমধ্যে বেশ কিছু খসড়া করা হয়েছে। বৈঠকে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে এবং সকলের মতামত নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনে কে কি বলবো, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিভিন্ন সরকারের আমলে বিচারপতিদের নিয়ে বারবার খেলা হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মনে আছে যে, উচ্চ আদালতের বিচারকদের বয়স আমাদের সংবিধানে ৬২ ছিল, সেটাকে ৬৫ করা হয়েছিল। এরপর আবার সেটাকে কমিয়ে দিয়ে ৬৫ থেকে ৬২ করে দিয়ে বিচারক বিদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। বারবার এ ধরণের খেলা হয়েছে। বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমান এ ঘটনা ঘটায়। এজলাসে প্রধান বিচারপতি বসে আছেন। পত্রপাঠ তাকে বিদায় দেওয়া হলো। তিনি জানেনও না, তিনি নাই। একজন বিচারপতিকে রাষ্ট্রদূতের চাকরি দিয়ে দেশের বাইরে পাঠানো হলো।

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, ১৯৯৬ সালে আমরা সরকারে আসার পর যতোজন বিচারক নিয়োগ দিয়েছিলাম, একই দিনে ১০ জন বিচারককে পত্রপাঠ বিদায় করে দেওয়া হয়। এরপরে আবার আবার আরো ৬ জনকে, তারপর আরো ৫ জনকে এভাবে আমাদের নিয়োগকৃত যারা সবাইকে বিদায় দিয়ে দেওয়া হয়, অবশ্য পরে রিট করে কয়েকজন টিকে যায়। বিএনপি আমলের কথা তুলে ধরে বলেন, পরবর্তীতে আবার দেখলাম, প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হলো, ৬৫ থেকে ৬৭। যাতে করে ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামে যেটা করা হয়েছিল, তার উপদেষ্টা, যেহেতু যিনি সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তিনি হবে সেটার উপদেষ্টা। সেজন্য বিএনপি তাদের দলের আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক কে এম হাসান তাকে বানালো। তার বয়সও বাড়িয়ে দিয়ে তাকে শেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি করার জন্য একটা চক্রান্ত করলো, যাতে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হয়ে তাদেরকে ভোট চুরির সুযোগ করে দেয়। এবং এক কোটি ২৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার করা হয়।

সেনা সমর্থিত সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের উদাহরণ টেনেও প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন আমরা দেখলাম, একজন বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন ডেকে নিয়ে এক কাপ চা খাইয়ে বললেন, আপনি পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনেও একই অবস্থা ছিল। যা হুকুম দিবে তাই করতে হবে, এই ধরণের একটা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। আর জাতীয় সংসদে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তামাশা করা হতো। সবথেকে দুর্ভাগ্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী উপদেষ্টা করে সংসদে বসানো হলো। শুধু তাই না, যারা জাতির পিতার হত্যাকারী খুনী, তাদেরকেও সংসদে বসানো হলো। আমাদের লাখো শহীদের রক্ত রঞ্জিত পতাকা তুলে দেওয়া হয় যুদ্ধাপরাধীদের হাতে। সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন, সেটা বন্ধ করে দিয়ে, যারা সাজাপ্রাপ্ত তাদেরকেও মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানো হয়।

১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হওয়ার পাশাপাশি জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু হয় বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। বলেন, সেই থেকেই জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ছাড়া যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই এটা করেছে। হ্যা না ভোট দিয়ে জিয়াউর রহমান শুরু করলো অবৈধ ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া এরপর জেনারেল এরশাদ সেই এসে একই কা- ঘটালো। তারপর খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেও গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে। মূলত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মানুষ বুঝতে পারে ভোটটা জনগণের অধিকার। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনকে কিভাবে স্বচছ করা যায়, জনগণ কিভাবে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। তাদের ভোটের অধিকার যাতে প্রয়োগ শুরু করে, আমরা সেই আন্দোলন শুরু করি। আমরাই ভোট ও ভাতের অধিকার নিয়ে আন্দোলন শুরু করি, আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো…! অর্থাৎ মানুষকে সচেতন করা, ভোটের অধিকারটা তাদের অধিকার তারা ভোট দেবে। আওয়ামী লীগ সবসময় এটাই চেয়েছে। বিএনপি শাসনামলের ২০০১ এর সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকাতে ভোটের দিন নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে আর্মির গাড়িতে চড়িয়ে তাকে বেধে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নিয়ে নিয়ে দেখানো হয়েছিল, যে আওয়ামী লীগে ভোট দিলে কী দশা হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা কেউ ভোটের আগের দিন পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে পারে নি। কেউ ধানক্ষেতে, কেউ জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে নির্বাচনের জন্য কাজ করেছে। এরকম খেলা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিজের নামে মামলার স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেছিল, অনেকের নামে মামলা হলে দেশ ছেড়ে পালায়, আপনি আবার দেশে যাচ্ছেন কেনো? আমি বলেছিলাম, আমার ভেতর এটুকু আত্মবিশ্বাস ছিল, আমি কোনো অন্যায় করি নি। তাই আমার নামে ওয়ারেন্ট দিলে আমি লুকিয়ে থাকবো না। আমরা কিন্তু জীবনের ঝুকি নিয়ে আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। সূচনা বক্তব্য শেষে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভোটে আসবে বিএনপি আশা সিইসির

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।  শনিবার ঢাকা মহানগরীর ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রতি বিএনপির আস্থা রয়েছে এবং তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল। পরবর্তী নির্বাচনে ওই প্রশ্নের সুরাহা এখনও হয়নি। তবে বিএনপি এবার নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকারের’ দাবি তুলেছে। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে অনীহ বিএনপি নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। চলতি বছরই সিইসির দায়িত্ব নেওয়া নূরুল হুদা বলেন, ইসির সংলাপে অংশ নেওয়া মানেই তারা নির্বাচনেও অংশ নেবে, আমাদের কাজের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। আজ রোববার ইসির চলমান সংলাপে বিএনপি অংশ নেওয়ার কথা জানালেও এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে সমালোচনাও করে যাচ্ছে বিএনপি। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সবগুলো রজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে সুপারিশগুলো পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হবে। ইসির আওতায় আছে এমন প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে আমরা বিবেচনা করব। সাংবিধানিক বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে কমিশন নিজেরা বসবে। তবে সব ধরনের সুপারিশ সংলাপে অংশ নেওয়া দল ও সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

 

প্রধান বিচারপতির দায় নেবে না সংখ্যালঘু সম্প্রদায়: ঐক্য পরিষদ

ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে সরকারের টানাপোড়নের ইস্যুকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক বিভেদ, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টিতে একটি পক্ষ ব্যাপকভাবে তৎপর বলে অভিযোগ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ‘সরকারের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল মহলবিশেষ’ সক্রিয় উল্লেখ করে তারা বলেছে, প্রধান বিচারপতি সংক্রান্ত কোন দায়ভার কোনভাবেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বহন করবে না।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত এসব জানান। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যা হচ্ছে বা রায় নিয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। প্রধান বিচারপতির কী হলো সেটা নিয়েও আমাদের কোন বক্তব্য নেই। কিন্তু প্রধান বিচারপতির দায়ভার এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কোনভাবেই বহন করতে পারে না। ‘প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতিই। তার ধর্মবিশ্বাস থাকতে পারে কিন্তু বিচারপতি হিসেবে তার একমাত্র পরিচয় তিনি প্রধান বিচারপতি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা আদিবাসী নন।

কিন্তু যখন তার ধর্মীয় পরিচয় সামনে রেখে প্রশ্ন তোলা হয়, তা সম্প্রদায় হিসেবে আমাদের আহত করে। এ পর্যন্ত অসংখ্য বিচারপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ হয়েছেন, কখনও এমনভাবে তাদের ধর্মীয় পরিচয় তুলে, সম্প্রদায়কে সামনে রেখে কটাক্ষ হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।’ প্রধান বিচারপতির ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তার সংখ্যালুঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন: পত্র পত্রিকার সংবাদে জানা গেছে, সাম্প্রতিককালে প্রধান বিচারপতির রায়কে পুঁজি করে সরকারের অভ্যন্তরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল মহলবিশেষ তার ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে নিয়ে এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, উন্নততর পদায়ন ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করার সর্বনাশা প্রক্রিয়া আগের মতই আবারও শুরু হয়েছে।

এর ফলে মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতায় এগিয়ে থাকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দারুণ হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতিতে পূর্বেকার মতোই আবারও বঞ্চনা-বৈষম্যের ধারাটি এগিয়ে আসছে কিনা তা ভেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় শঙ্কিত। পরিষদের অন্যতম সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক ড. নীল চন্দ্র ভৌমিক, কাজল দেবনাথ, সুব্রত চৌধুরী, জয়ন্ত সেন দিপ্ত, মিলন কান্তি দত্ত, সাংবাদিক মনোজ কান্তি রায়, সঞ্জীব দ্রং, সত্য রঞ্জন বাড়ৈ প্রমুখ।

 

হরতালে সহিংসতা হলে উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে: কাদের

বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল সহিংস রূপ নিলে তখন জবাব সেরকম ভাবেই দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় মেট্রোরেলের কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সহিংসতা সৃষ্টি করে এদেশে যে কোনো আন্দোলন গড়ে তোলা যায় না, তার প্রমাণ ৫ জানুয়ারি পরবর্তী বিএনপির অবরোধের ডাক। তখন নানা ধরনের সহিংসতা ঘটানো হয়েছিল। মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। কিন্তু এর রেজাল্ট কী হল? বিএনপি এবং তার সহযোগীরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হরতালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দল এখন শক্তিহীন। সে অবস্থায় এখন আর আমাদের অপজিশন কেউ নেই। আন্দোলন করার সক্ষমতা তাদের নেই। আর যখনই আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেবে, তখন জবাবও হবে সেই রকম। কাদের বলেন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা যদি আপনাকে কোনো ষড়যন্ত্র বা কোনো সহিংতার প্রস্তুতি বৈঠকে হাতেনাতে পায়, সে অবস্থায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তো বসে থাকবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধান বিচারপতি তো মেরুদন্ডহীন না। জোর করে বিদেশ পাঠানো হলে উনি নিজেই বলতেন। তাকে জোর করে পাঠানো হচ্ছে না তিনি নিজেই ছুটি নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি নিজেই বলুন তাকে জোর করে পাঠানো হচ্ছে কি না। উনি কি মেরুদন্ডহীন কেউ যে, তিনি বলবেন না সে রকম কিছু হলে? বিএনপি মহাসচিব ‘প্রলাপ’ বকছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, উনাকে কাঁদতে বলেন। চোখের জল ফেলা ছাড়া তো উনার আর করার কিছু দেখছি না। কারণ চেয়ারপার্সন আসবেন, আসবেন, কবে আসবেন কেউ জানে না। নেতাকর্মীরা হতাশ। কাজেই উনি এখন এটা-সেটা বলে কোনো রকমে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা যায় কি না সে ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের কান্না প্রসঙ্গ তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, উনারে কাঁদতে বলেন। হতাশ হয়ে চোখের জল ফেলছেন উনি। তার অবস্থায় পড়লে আমাদের কি হতো, সেটা আমরা জানি না। সেটা আমাদের ভাগ্যে হয়নি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, গতবছর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় সাতজন জাপানি পরামর্শকসহ ২২ জন নিহত হওয়ার পর মাঝখানে মেট্রোরেলের কাজ কিছুদিন থেমে থাকলেও এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, জাপানি কনসালটেন্টদের মর্মান্তিক মৃত্যু এ কাজ মাস ছয়েক পিছিয়ে দিয়েছে। মেট্রোরেল অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এই প্রকল্পটি আবার গতি পেয়েছে।

জাইকার ফান্ডিংও বন্ধ হয়নি। যে কোম্পানিগুলোর কাজ করার কথা, তারা কাজ করছে। এখন ফুল সুইংয়ে কাজ চলছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন আগারগাঁওয়ে কাজ হচ্ছে। পায়ারের সঙ্গে স্প্যান যুক্ত করার পর পদ্মাসেতুর সুপার স্ট্রাকচার যেমন দৃশ্যমান হয়েছে, আমরা আশা করছি, মেট্রোরেলও আগামী ছয় মাসের মধ্যে জনগণের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজ শেষ করে ২০২০ সালে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, এমআরটি লাইন-৬ হওয়ার পর এআরটি-১ এবং এমআরটি-৫ এর কাজ শুরু হবে। এ দুটি প্রকল্পের জন্যও জাপান সরকার বরাদ্দ করেছে। অর্থ বরাদ্দ একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তাদের সঙ্গে আমাদের একটা ঋণচুক্তি হয়ে গেছে। প্রসেস ইজ আন্ডার ওয়ে।

বাহক সনাক্ত হয়নি শাহজালালে সাড়ে চার কেজি সোনা উদ্ধার

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস৩২২) নম্বর ফ্লাইট থেকে সাড়ে চার কেজি ওজনের স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। বুধবার সকালে ওই স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা হয়। এর বাজার মূল্য দুই কোটি ৩২ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, সকাল ৭টায় মাস্কাট থেকে আসা ওই ফ্লাইটে তল্লাশি (রামেজিং) চালানো হয়। একপর্যায়ে সিটের ভেতরে শক্ত ধাতব বস্তু থাকার অস্তিত্ব মিলে। সিটের নরম ফোম ওঠানোর পর দেখা যায় কালো স্কচটেপ মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ তোলা ওজনের ৪০টি স্বর্ণের বার পড়ে আছে। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়। তবে বাহককে সনাক্ত করতে পারেনি কাস্টমস কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম।

 

 

প্রধান বিচারপতির আবেদনে সই করেছেন প্রধানমন্ত্রী

এক মাসের ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশ যাওয়ার আবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সই করেছেন। কিশোরগঞ্জ সফরে থাকায় রাষ্ট্রপতি সই করতে পারেননি, ঢাকায় ফিরলেই তিনি আবেদনে সই করবেন।

বুধবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন। সাংবাদিবদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটি নিজেই নিতে পারেন। কিন্তু বিদেশ যেতে হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। আর এ অনুমোদনের জন্য ফাইলটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বঙ্গভবনে যাওয়ার নিয়ম। ‘তিনি (প্রধান বিচারপতি) যে আবেদন করেছেন সেখানে আজ প্রধানমন্ত্রী ও আমি স্বাক্ষর করেছি। কিশোরগঞ্জ থেকে ফিরলে রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করবেন।’

 

 

 

 

রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে: স্পিকার

মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সঙ্কট সমাধানে বিশ্ব ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্ববাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিলেও এখন এটা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আয়োজনে পার্লামেন্টারি নেটওয়ার্ক ওয়ার্কশপে শিরীন শারমিন এ কথা বলেন।

বুধবার সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইএমএফ সদর দপ্তরে ওই কর্মশালায় রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে স্পিকার বিশ্ব ব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে দাতা সংস্থাসহ বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা চার লাখের মত রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। আর গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশে এসেছে আরও পাঁচ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে। বাংলাদেশে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা রয়েছে, যার মাধ্যমে মানবসম্পদ, বিশেষ করে নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু দক্ষতা উন্নয়নই নয়, সুষম উন্নয়নের জন্যও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।

জ্বালানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প অনুসন্ধানের ওপর জোর দেন বাংলাদেশের স্পিকার।

তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ সবচেয়ে হুমমির সম্মুখীন। অথচ জলবায়ু দূষণে বাংলাদেশের ভূমিকা খুবই নগণ্য। এ জন্য বাংলাদেশ নিজস্ব তহবিল গঠনের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।”

সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মহিউদ্দীন খান আলমগীরও এ কর্মশালায় অংশ নেন।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন স্পিকার শিরীন শারমিন। আগামী ২০ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

১০ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলী ও পদায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলি ও পদায়ন করা হয়।

বদলিকৃত পুলিশ কর্মকর্তাগণের মধ্যে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম. তানভীর আহমেদকে নোয়াখালী জেলার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদ হোসেনকে এসপিবিএন ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সুমন মিয়াকে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপা র, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে এসএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলামকে সারদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নোয়াখালী জেলার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নবজ্যোতি খীসাকে পিবিআই ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইলের গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকারকে রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রাজশাহীর পুঠিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার খালিদ বিন নূরকে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রকিব খাঁনকে রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পিটিসি খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

 

শিশুদের ব্যাগে অনুমোদিত বই ছাড়া অন্য কিছু নয়

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগে সরকার অনুমোদিত বই ও উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু না দিতে সবাইকে সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তাফা কামালের স্বাক্ষরে এক পরিপত্রে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ব্যাগে অনুমোদিত বই-উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু বিদ্যালয়ে আনতে নিরুৎসাহিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালক; জেলা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য যে সব বই অনুমোদন করেছে তা পরিবহনে কোনো ছেলে-মেয়ের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যেসব ছাত্র-ছাত্রী ব্যাগে বই বহন করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে, হাই কোর্টের রায় অনুযায়ী তার ওজন বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশুর ওজনের ১০ শতাংশের বেশি যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। ভারী ব্যাগ বহনের কারণে যাতে পিঠে ব্যথা বা সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মত সমস্যা দেখা না দেয় সেজন্য অনুমোদিত বই, উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু ব্যাগে করে বিদ্যালয়ের বয়ে আনা নিরুৎসাহিত করতে হবে।’ ব্যাগের ওজন শিশুদের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি যাতে না হয় পরিপত্রে তা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালনা পর্যদ এবং অভিভাবকদের বলা হয়েছে।

প্রাথমিকে শিশুর শরীরের ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করতে ছয় মাসের মধ্যে আইন প্রণয়নে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। সেইসঙ্গে ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন না করতে এবং করাতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের সকল স্কুলে ৩০ দিনের মধ্যে একটি সার্কুলার জারি করতেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। ঢাকায় অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক জ্য়িাউল কবির দুলু মঙ্গলবার বলেন, ‘শিক্ষা উপকরণ বলতে কি বোঝানো হয়েছে পরিপত্রে তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে এটি লোক দেখানো বলেই মনে হচ্ছে। বইয়ের কারণে তো ব্যাগের ওজন বাড়ে না। বইয়ের সঙ্গে প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য একটি করে খাতা বহন করতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়, এরসঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন ধরনের ডায়েরি। এসব বহন করা বন্ধ করতে হবে।’ এ ধরনের পরিপত্র জারি না করে হাই কোর্টের নির্দেশনার আলোকে আইন করে শিশুদের ব্যাগ যাতে ভারী না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে বলেও মত দেন দুলু।

 

নিখোঁজের একদিন পর কলেজছাত্রের লাশ মিলল বুড়িগঙ্গায়

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর বুড়িগঙ্গা থেকে এক কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. রবিউল হক জানান, উপজেলার চর মিরেরবাগ খেয়াঘাট থেকে সোমবার লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মো. আলাউদ্দিন হোসেন ইফাদ (১৮) বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া এলাকার মো. কাশেম সিকদারের ছেলে।

ইফাদ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার আমিনপাড়া মহুরীপট্টি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে রাজধানীর ওয়ারী সলিমুল্লাহ ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত।

এসআই রবিউল পরিবারের বরাতে বলেন, রোববার সকালে ইফাদ কলেজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সোমবার স্থানীয়রা বুড়িগঙ্গায় লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

“নিহতের বাম হাতের কুনুইয়ের একটু ওপরে জখমের চিহ্ন ও হাড় ভাঙা রয়েছে।”

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে সআই রবিউল বলেন, এ ঘটনায় সোমবার রাতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে।

 

বাংলাদেশসহ ৫ দেশের রাষ্ট্রদূত রাখাইনে যাচ্ছেন

বাংলাদেশসহ মিয়ানমার ঘেঁষা পাঁচ দেশের রাষ্ট্রদূতরা অচিরেই সংঘাতপ্রবণ রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনে যাচ্ছেন। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে নিয়ে সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ব্রিফ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সঠিক পথেই আছে বাংলাদেশ। কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ দেশ পাশে আছে বাংলাদেশের। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুদ্ধে জড়িয়ে আত্মহনন করতে চায় না বাংলাদেশ। টকশোতে যারা নতজানু পরাষ্ট্র নীতির অভিযোগ তোলেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনৈতিক মত পার্থক্য ভুলে সবাই একসাথে ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে খোলামেলা আলোচনা চলছে। মাহমুদ আলী নিজে মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ২০ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে মিয়ানমার যাচ্ছেন, এটি আপাতত চূড়ান্ত। এছাড়া মিয়ানমার ঘিরে পাঁচটি দেশ আছে। তারা সেই দেশগুলোর প্রতিনিধিকে পর্যবেক্ষণে নিয়ে যাবে। এর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। এরপর আমারও দেশটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। টেস্ট কাউন্সেলর অং সান সু চির মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত যারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন তাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কথা হয়েছে। মাহমুদ আলী উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গেও সব সমস্যা সমাধান করা হবে। ওই দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো এমন দ্ইুজন সম্প্রতি বাংলাদেশে ধরা পড়েছিল, তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা জানে আমরা তাদের স্থিতিশীলতার পক্ষে। কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। রোহিঙ্গা সংকট পুরো দেশের বিষয়। সমাধানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবার এক হয়ে যোগ দেওয়া উচিত। আমরা যুদ্ধ করবো না। যুদ্ধ করলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বলে কিছুই থাকবে না। সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ যার প্রমাণ। আত্মহননের পথ বেছে নেবো না। মঙ্গলবার ঢাকায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে সবাই আসবেন, যারা নিন্দা করেন তারাও আসতে পারেন। বক্তব্য তুলে ধরবেন।

 

 

 

 

‘ব্লু হোয়েল গেইম’ বিটিআরসিকে তদন্তের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘ব্লু হোয়েল গেইম’ বাংলাদেশে কারও আত্মহত্যার কারণ হয়েছে কি না, তার তদন্ত করতে বিটিআরসিকে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ঢাকার এক স্কুলছাত্রীর বাবা তার মেয়ের আত্মহত্যার জন্য এই ইন্টারনেট গেইমকে দায়ী করার পর তা গণমাধ্যমে দেখে এই নির্দেশনা দেন তিনি।

মন্ত্রী সোমবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরেও এসেছে। আমি আজ দুপুরে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে (শাহজাহান মাহমুদ) নির্দেশনা দিয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।’ ওই ছাত্রী আলোচিত এই গেইম খেলে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছিলেন কি না এবং বাংলাদেশে থেকে এই গেইম খেলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে বিটিআরসিকে। ‘ব্লু হোয়েল’ বা ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’ একটি অনলাইন গেইম, যা অংশগ্রহণকারীকে মৃত্যুন পথে নিয়ে যায়। নীল তিমিরা মারা যাওয়ার আগে জল ছেড়ে ডাঙায় ওঠে যেন আত্মহত্যার জন্যই- সেই ধারণা থেকে এই গেইমের নাম হয়েছে ‘ব্লু হোয়েল’। এই গেইমে খেলোয়াড়দের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতে দেওয়া হয়, শুরুতে হালকা কিছু কাজ দেওয়া হলেও ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সব কাজ দেওয়া হয়।

সব শেষে চূড়ান্ত কাজ হিসেবে খেলোয়াড়কে আত্মহত্যা করতে বলা হয়। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় ‘এফ ৫৭’ নামে যাত্রা শুরু করে গেইমটি। নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ফিলিপ বুদেইকিন নামের এক সাবেক মনোবিদ্যা শিক্ষার্থী এই গেইম তৈরি করেন। তার দাবি, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজে যাদের কোনো মূল্য নেই বলে তিনি বিবেচনা করেন তাদেরকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করার মাধ্যমে সমাজকে ‘পরিষ্কার’ করা। এই গেইম খেলে ১৬ কিশোরীর আত্মহত্যার পর বুদেইকিনকে রাশিয়ায় আটক করা হয়। রাশিয়ায় যাত্রা শুরু করলেও পরে তার উপর ভিত্তি করে একই ধরনের অ্যাপক তৈরি হয় এবং তা অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। ভারতেও এই গেইমটি খেলে কয়েকজনের আত্মহত্যার খবর আসার পর দেশটির সরকার ‘ব্লু হোয়েল’র মতো বিপজ্জনক অনলাইন গেইমের লিঙ্ক বন্ধ করে দেয়।

রাজধানীতে ছিনতাইকারীর কোপে প্রাণ গেলো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের

রাজধানীর ওয়ারী থানা এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র নিহত হয়েছেন। তার নাম আবু তালহা (২২)। রোববার সকাল ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তালহা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুলিয়া শাখার কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাবার নাম নুরুদ্দীন খন্দকার। তার বাসা টিকাটুলির কে এম দাস লেনে।

পুলিশ ও আবু তালহার মা-–বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালহা সকাল সাড়ে ছয়টায় যাত্রাবাড়ী যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। রিকশায় করে তিনি বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে যাওয়ার পর কয়েকজন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে। তাকে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তালহার চিৎকারে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে সকাল সোয়া আটটার দিকে মারা যান তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ মাসেই মিয়ানমারে যেতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনা এগিয়ে নিতে এ মাসেই মিয়ানমারে যেতে পারেন তিনি। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মিয়ানমার সফরের বিষয়টি আগেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু এর মধ্যে মিয়ানমারের ঘটনায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তবে এ মাসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর ২৫ অগাস্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে চিহ্নিত করেছে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূলের’ চেষ্টা হিসেবে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে আপত্তি জানিয়ে আসা মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি আন্তার্জাতিক চাপের মুখে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ প্রস্তুত আছে।

সে সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

এরপর সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে ঢাকায় এসে গত ২ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয় সেখানে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য বৈঠকে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলকে ওই চুক্তির খসড়াও হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই মিয়ানমার সফরে যাবেন বলে সেদিন জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, এ বিষয় নিয়ে (মিয়ানমার সফরে) আলোচনা হবে। এছাড়া আগে ইয়াবা চোরাচালানসহ অন্যান্য যেসব বিষয় নির্ধারিত ছিল, তা নিয়েও আলোচনা হবে।”

বাংলাদেশ সরকার বলে আসছে, মানবিক কারণ সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া হলেও তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতেই হবে। তার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের জরুরি সহায়তা দিয়ে যাবে।

ইতোমধ্যে কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আকার বাড়িয়ে সেখানে সব রোহিঙ্গাকে রাখার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাদের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনার জন্য চলছে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শনিবার পর্যন্ত ৯১ হাজার ৪২৩ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার জনের নিবন্ধন করা হচ্ছে।

 

আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ যা করে দেখিয়েছে; অনেক উন্নত দেশও তা করে দেখানোর সাহস করতে পারে নি। এতে করে আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আগের যেকোনো সময়ের থেকে বেড়েছে। মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক চাপে এবং যেভাবেই হোক তারা অন্তত এগিয়ে এসেছে, আলোচনা শুরু করেছে। আমি মনে করি এটাও একটি বিশেষ দিক, আন্তর্জাতিক চাপ আছে। এ অবস্থায় আলোচনার মধ্যদিয়ে আমরা এটার সমাধান করতে পারবো।

টানা ২০ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে গুণীজনদের সঙ্গে মত বিনিময়ের পরে আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা মঞ্চে দেয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় পদ্মাসেতু নির্মানের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আনিত তথাকথিত ‘দূর্নীতি’র মিথ্যা অভিযোগের সমুচিত জবাব দিয়েছে তাঁর সরকার।

রোহিঙ্গ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার শুরুটা ১৯৭৮ সাল থেকেই। এবার প্রথম যখন তারা আসতে শুরু করলো-আমরা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্থ ছিলাম, কী করবো। লাখ লাখ মানুষ চলে আসছে! পরে আমি খোঁজ নিলাম। জানলাম-সেখানে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করলো রেহানা। সে বললো, তুমি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারছো; আর ৫-৭ লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারবে না?

তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ছুটে গেলাম নির্যাতনের শিকার হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষ গুলোর মাঝে। আমরা তখনও জানতাম না কী করবো-কী খাওয়াবো! এখন অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এগিয়ে এসেছে আমরা তাদের ধন্যবাদ জানায়। বিপন্ন মানুষ গুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে আমরা এক বেলা খাবো; আরেক বেলা আমাদের খাবার তাদের দেবো। আজ বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতো; পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো।


রোহিঙ্গা সঙ্কটের মধ্যে মিয়ানমারের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ২৫ অগাস্টের পর বেশ কয়েকদফা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, সীমান্তে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে গুলিও চালায় ওই দেশের বাহিনী। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একেবারে প্রতিবেশী..একটা পর্যায়ে এমন একটা ভাব দেখালো.. আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধেই যাবে। আমাদের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড, পুলিশসহ সকলকে সতর্ক করলাম.. যেন কোনোমতেই কোনো রকম উসকানির কাছে তারা যেন বিভ্রান্ত না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নির্দেশ না দিই।
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার আগে তাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে পুনর্বাসনের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন তারা যেভাবে আছে, সেভাবে থাকতে পারে না। আমি যাওয়ার আগেই নেভিকে টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম। ভাসান চরে দুটি সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

নোয়াখালীর লোকজন বলে ঠেঙ্গার চর, আর চিটাগাংয়ে বলে ভাসান চর। যেহেতু, এরা ভাসমান, তাই আমি বললাম, ভাসান চর নামটাই থাকুক। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টির সফলতার কথাও বলেন শেখ হাসিনা; যদিও বিএনপির দাবি, এক্ষেত্রে সরকারের কূটনীতি ব্যর্থ হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা (রোহিঙ্গা) যেন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ঘোষণা এবং আলোচনার জন্য অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে অগ্রগতি মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিয়ানমারের একজন এসেছে। এটা একটা বিশেষ দিক।

পদ্মাসেতু সমুচিত জবাব : পদ্মাসেতুর কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর কথায়। তিনি বলেন: একটা সময় ছিলো অনেকেই বিশ্বাস করতে পারতো না বাংলাদেশ পদ্মাসেতু করতে পারবে। এমন খরস্রোতা নদীতে বিশ্বের খুব কম জায়গায়ই সেতু আছে। সেটাও সর্বোচ্চ তিনটির মতো। তার ওপর বিশ্বব্যাংকও চলে গিয়েছিলো। আমি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করতে চাইলাম। আমরা ক্যাবিনেটেরও অনেকে বলেছিলো; এটি সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা তা করে দেখিয়েছি। পিলারের উপর স্প্যান বসানোয় সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি এখন সকলের সামনে দৃশ্যমান।

পরপর দু’বার ক্ষমতায় থাকার কারণেই এটা করা সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন: পরপর দু’বার ক্ষমতায় থাকার কারণে উন্নয়ন গুলো এখন দৃশ্যমান। স্বাধীনতার পর থেকে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, সকলেই লুণ্ঠন এবং নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যস্ত ছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সব সময় মানুষের রাজনীতি করে। দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে। পদ্মা সেতু সে সাক্ষর রাখে।

পদ্মাসেতুতে দূর্নীতির অভিযোগ একটা সময় তাকেও ভুগিয়েছে জানিয়ে বলেন: এটা সময় ছিলো কোথাও যেতে পারতাম না। আমার আর রেহেনার দিকে এমন ভাবে তাকানো হতো যেনো; আমরা কোনো বড় অপরাধ করেছি। আমি তখন চ্যালেঞ্জ করেছিলাম দূর্নীতি করে থাকলে প্রমাণ করুন। তা তারা কখনও করতে পারেনি। বিশ্ব ব্যংকে একজন পর্যবেক্ষক ছিলেন: তিনি এক একটা অফিসে যেতেন আর আমাকে এবং রেহেনাকে ইঙ্গিত করে বলে বেড়াতেন বড় দূর্নীতিবাজ! এখন শোনা যাচ্ছে চল্লিশ হাজার পৃষ্ঠার দূর্নীতি আমল নামা বের হচ্ছে। ওই সময়টা ছিলো আন্তর্জাতিক ভাবেও আমাদের জন্য দুঃসময়।
এখন পদ্মাসেতুর স্প্যান বসানো হয়েছে। যেদিন উদ্বোধন করা হলো; ওবায়দুল কাদের আমাকে ম্যাসেজ পাঠালো। তার সচিব ফোন করলো। তখন নিউইয়র্কে রাত ৩টা। আমি তাদের বললাম আমাকে ছবি পাঠাও। তারা আমাকে ছবি এবং ভিডিও ক্লিপ পাঠানো। আমরা যখন দু’বোন এগুলো দেখছিলাম আর বারবার চোখ মুছছিলাম।

৯টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট হয়ে ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
দোয়া চাইলেন শেখ হাসিনা : যুক্তরাষ্ট্রে পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের পর দেশে ফিরে আগের মতো পূর্ণোদ্যমে কাজ করার জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিকিৎসকরা ছয় সপ্তাহ সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আকস্মিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর পিত্তথলীতে অস্ত্রোপচারের খবর আসে। এতে তার দেশে ফেরা কয়েকদিন পিছিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডন হয়ে শনিবার দেশে ফেরেন তিনি। বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিউ ইয়র্কে কাজ করতে করতে হঠাৎ …অনেকদিন থেকেই গলব্লাডারে স্টোন নিয়ে ভুগছিলাম। যখন একটু শরীর খারাপ লাগলো সাথে সাথে জয়ের বাসায় গেলাম।

ডাক্তারা টাক্তার সব রেডি করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় থাকেন। তার বাসা থেকেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর বোন শেখ রেহানা প্রধানমন্ত্রীর শুশ্রূষা করেছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এর মধ্যে রেহানা চলে এসেছিল। সব সময় আমার সাথে.. খাওয়া টাওয়া নিজেই তৈরি করে আমাকে দিত। সফল অস্ত্রোপচারের পর এখন ভালো আছে জানিয়ে চিকিৎসকদের নানা পরামর্শের কথা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ডাক্তার বলেছে,ছয় সপ্তাহের জন্য একটু সাবধানে থাকতে। ছয় মাস খুব সাবধানে চলাফেরা করতে। নিজের বয়সের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃদ্ধ বয়সে একটু সময় তো লাগবেই। ৭১ বছর বয়স। কাজেই একটু সময় লাগবে। অসুস্থতার কারণে ফেরার তারিখ পেছালেও ঢাকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজও সারছিলেন তিনি। সবার কাছে দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবার কাছে দোয়া চাই,সুস্থ হয়ে,সবার সাথে..আবার যেন পূর্ণোদ্যমে কাজ করতে পারি। এখনও করে যাচ্ছি। দোয়া চাই যেন আরও কাজ করে যেতে পারি।

 

 

অনেকেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, বাংলাদেশ খুলেছে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। তাদের জন্য অনেকেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। সে দরজা খুলেছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রায় তিন সপ্তাহের সফর শেষে দেশে ফেরার পর শনিবার (০৭ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার বোন শেখ রেহানার উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে বলেছিল, ১৬ কোটি লোককে ভাত খাওয়াচ্ছ, আর সাত-আট লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারবা না! এই কথাটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। এছাড়া নেতাকর্মীরাও মানবিক দিক বিবেচনায় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে আমরা পেরেছি’।

‘সব অর্জন এদেশের মানুষের অবদান’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসহায় এই মানুষগুলোর জন্য তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম- যদি প্রয়োজন হয়, একবেলা খাবো এবং আরেক বেলার খাবার তাদেরকে ভাগ করে দেবো। বাংলাদেশ যদি এই উদ্যোগ না নিতো, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও এতোটা দৃষ্টি কাড়তো না’।

মিয়ানমারকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এমন একটা ভাব দেখালো, যেন যুদ্ধই বেঁধে যাবে। উস্কানি দেওয়া এবং এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলো, যেন বিশ্ব অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরাবে। তখন আমি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলার কথা বলি। আমার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেন কোনো কিছুতে না জড়াই, সে কথাও বলি। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা যারা আসছেন, তাদের সহযোগিতায় যা যা দরকার তাই করতে থাকি’।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদেরকে শিখিয়েছেন, মানুষকে সহায়তা করতে। যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেই, তার চেয়েও বড় বিষয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর সেই সিদ্ধান্ত যখন সঠিক হয়, সে সময়ই সফলতা পায়। সবার সমর্থন পাই। রোহিঙ্গা ইস্যুটিও ঠিক তেমনি’।

দেশের বাইরে থাকলেও অফিসের কাজ করে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী বাসস্থান গড়ে পুনর্বাসন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘আশ্রয় যখন দিয়েছি, তখন তাদের ভালোভাবে রেখে সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেবো’- যোগ করেন তিনি। এর আগে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকায় পৌঁছালে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে

ধামরাইয়ে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৩০

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ে থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ যাত্রী আহত হয়েছেন।   শনিবার (০৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
 
এ ব্যাপারে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভজন রায় বাংলানিউজকে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীসেবা নামে একটি বাসের সঙ্গে মানিকগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা পল্লীসেবা নামে অপর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইবাসের ৩০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীতে ২৯ ঘণ্টায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেলো ৫ জনের

রাজধানীতে ২৯ ঘণ্টায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেলো  পাঁচজনের। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টা থেকে শুক্রবার (৬ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোড রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে ধাক্কায় ফরিদ মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তি আহত হন। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই বাকি চারজনের মুত্যু হয়। এর মধ্যে কমলাপুর, বনানীর স্টাফ রোড ও মহাখালী এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজন এবং আবদুল্লাহপুর কোটবাড়ী এলাকায় রাকিব হোসেন (২৫) নামে একজন প্রাণ হারান।

ঢাকা রেলওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রবিউল্লাহ জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের নাম পরিচয় জানা যায়নি। তাদের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশের জন্যই রোহিঙ্গা সঙ্কট আন্তর্জাতিক ইস্যু: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের পদক্ষেপের কারণেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সঙ্কট এখন বিশ্বাবাসীর মনোযোগের কেন্দ্র। জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফেরার পর শনিবার সকালে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

৫ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার নির্দশন প্রদর্শন করার পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতায় এই সঙ্কটের প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করায় শেখ হাসিনাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সেখানে বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিপন্ন মানবতার বাতিঘর’ অভিহিত করেন।

শরণার্থী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করায় বিষয়ে সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রয়োজন এক বেলা খাব, আরেক বেলা তাদের ভাগ করে দেব।”

 

গণসংবর্ধনায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে ঢাকায় পৌঁছে গণসংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের জোরালো অবস্থান তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হওয়ায় তাকে এই সংবর্ধনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
 
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান শেষে শনিবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিমানবন্দর থেকে গণভবনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-ছবি-জি এম মুজিবুরএরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সরাসরি গণভবনের উদ্দেশে রওনা হয়। রাস্তার দু’পাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ফুল ছিটিয়ে ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী পৌঁছার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দর সড়কে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সকাল থেকেই বিমানবন্দর সড়কে আনন্দ মিছিল করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট থেকে বিজয় সরণির দিকে সড়কে কোনো যানজট না থাকলেও নাভিঃশ্বাস উঠছে উত্তরা সড়কে। বিমানবন্দরের মেইন গেট এলাকা থেকে উত্তরার দিকে যতো দূর চোখ যাচ্ছে গাড়ির দীর্ঘ লাইন ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না। এতে অফিসগামী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এ আয়োজনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।

‘নোবেল নয়, মানুষের ভালোবাসাই বড় শেখ হাসিনার কাছে’

করতোয়া ডেস্ক: লন্ডনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে এসে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, নোবেল পুরস্কার নয়, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসাকেই বড় মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সফর শেষে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার লন্ডনের স্যাভয় হোটেলে নিজ দলের প্রবাসী নেতাদের সাক্ষাৎ দেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণার একদিন আগে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের প্রসঙ্গটিও আসে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, নোবেল প্রসঙ্গে তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, সেটা কোনো বিষয় নয়। তিনি বলেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে এটাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

মিয়ানমারে নির্যাতিত ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে এবারের নোবেল পুরস্কারের দাবিদার মনে করছেন তার দলের নেতা-কর্মীরা। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কথা দলের প্রবাসী নেতাদের বলেন শেখ হাসিনা। তারা যতদিন থাকবে, বাংলাদেশের মানুষ ততদিন তাদের খাবার দাবারের ব্যবস্থা করবে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনেও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৫ সেপ্টে¤॥^র যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয় শেখ হাসিনার পিত্তথলির পাথর। কয়েকদিন বিশ্রাম নিয়ে গত সোমবার লন্ডন যান তিনি।

অসুস্থতার কারণে ফেরার তারিখ পেছালেও ঢাকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজও সারছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফাঁকেই বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাৎ দেন তিনি। আলোচনায় পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গটিও আসে বলে জানান সৈয়দ ফারুক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলার সময় আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করছিল, একাজ আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, আমরাও পারি’। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রবাসী সবাইকে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান সৈয়দ ফারুক। প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনার স্বাস্থ্যের খবরাখবর নেন এবং দ্রুত তার পূর্ণ সুস্ততা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান এম শরীফ, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আবুল হাশেম, জালাল উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধান বিচারপতির বাসায় আইনমন্ত্রী

সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার সঙ্গে দেখা করে তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পর ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়া নিয়ে নানামুখী আলোচনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনমন্ত্রী প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট এবং পরে হেয়ার রোডে বিচারপতি সিনহার বাসায় যান। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে কাটিয়ে বিকাল ৪টার ৪০ মিনিটে আইনমন্ত্রী যখন বেরিয়ে আসছিলেন, হাসিখুশি প্রধান বিচারপতিকে তখন লনে বেরিয়ে এসে বিদায় জানাতে দেখা যায় ফটক থেকে। এ সময় তার পরনে ছিল বিস্কুট রঙের পাঞ্জাবি।

আনিসুল হক পরে টেলিফোনে বলেন, ‘তিনি অসুস্থ মানুষ, বিশ্রামে আছেন। উনাকে দেখতে গিয়েছিলাম,  দেখে এসেছি।’ দুপুরে প্রধান বিচারপতির অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসে যাওয়ার খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও জিজ্ঞেস করিনি, উনিও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।’ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে থাকা বিচারপতি সিনহার চাকরির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তিনি মঙ্গলবার থেকে এক মাসের ছুটিতে যাওয়ায় রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির কার্যভার দিয়েছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে। বিএনপি অভিযোগ তুলেছে, ওই রায়ের কারণেই চাপ দিয়ে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠিয়েছে সরকার।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির কাছে লেখা প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদনে অসুস্থতার কথা লেখা থাকার বিষয়টি দেখিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার বলেছেন, এই ছুটির সঙ্গে রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই, চাপেরও কোনো বিষয় নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন  আইনমন্ত্রী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেও পরে আপিল বিভাগের অপর চার বিচারক তাদের সঙ্গে যোগ দেন। বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে এসে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেন আইনমন্ত্রী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তার সাথে আমার মতবিনিময় করাৃ দিস ইজ পার্ট অব রিচ্যুয়াল। সেই কারণে আমি উনার সঙ্গে দেখা করেছি। উনি যে দায়িত্ব পালন করবেন সেই দায়িত্ব পালনে আমার সম্পূর্ণ সহযোগিতার কথা বলেছি।’ এটা নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘এর আগে দুই জন প্রধান বিচারপতি দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরও আমি এসে দেখা করেছিলাম। তখন আমি তাদের বলেছিলাম, আইন মন্ত্রণালয় হচ্ছে বিচার বিভাগ-নির্বাহী বিভাগের সেতুবন্ধন। সে কথা আমি এবারও বলেছি। আমাদের সহযোগিতার কোনো কমতি থাকবে না।’ প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা এর আগেও ২৬ বার ওই দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে না আসার বিষয়ে প্রশ্ন করলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জানা মতে এর অগে কখনই কিন্তু উনি অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেননি।

পূজা দিতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সিনহা
অসুস্থতার জন্য ছুটি নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে লক্ষ্মীপূজায় অংশ নিলেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। বৃহস্পতিবার বিকালে আকস্মিকভাবে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান তিনি। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ব্যবস্থাপক তপন ভট্টচার্য্য বলেন, ‘পূজা দিতে সস্ত্রীক এসেছিলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি ২০ মিনিটের মতো ছিলেন।’ ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দ্বিতীয় তলায় অফিস কক্ষে কিছুক্ষণ বসেছিলেন প্রধান বিচারপতি; সেখানে প্রবীণ আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত ও সুব্রত চৌধুরীও ছিলেন। প্রধান বিচারপতিকে কেমন দেখেছেন, খুব কি অসুস্থ মনে হয়েছে- জানতে চাইলে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘উনাকে দেখে আমার তেমন মনে হয়নি।’

 

রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য নিয়ে রাজনীতি চলবে না: ওবায়দুল কাদের

কক্সবাজার প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য নিয়ে কোন অবস্থাতেই রাজনীতি করা চলবে না। বিএনপি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে তারা যেমন নোংরা রাজনীতি করছে, তেমনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অপ-রাজনীতি শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ বিতরণকালে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের একথা বলেন। মন্ত্রী এখানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে একটি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এই ¯্রােতের মধ্যে কোন অশুভ শক্তিও ঢুকে যেতে পারে। সুতরাং তাদের বিষয়ে খুব সজাগ থেকে সাবধানে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখের মত রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়েছে। আরো রোহিঙ্গা আসার জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। তাদের খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা সবকিছুই দেয়া হচ্ছে। সরকার বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য নিয়ে কোন অবস্থাতেই রাজনীতি করা চলবে না।এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, কক্সবাজার-২ আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কামরুল হাসান, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

 

 



Go Top