রাত ২:২২, শুক্রবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

অর্থপাচার মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম ও তার দু্ই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।

আপন মালিকদের পাঁচটি আবেদনের শুনানি করে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করে।

ঢাকার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় গত মে মাসে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন দিলদারের ছেলে সাফাত আহমেদ। সাফাতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে আপন জুয়েলার্সের ‘অবৈধ লেনদেনের’ তদন্তে নামে শুল্ক গোয়েন্দারা।

এরপর গত ১২ অগাস্ট শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মুদ্রাপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দিলদার ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গুলশান, ধানমণ্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার এনে এর অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ তারা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেনি।

এসব মামলায় দিলদার ভাইয়েরা হাই কোর্ট থেকে জামিন নিলেও তার মেয়াদ শেষে নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

তিন ভাই ২৪ অক্টোবর ঢাকার মহানগর আদালতে ভিন্ন ভিন্ন হাকিমের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে দিলদার ও তার ভাইয়েরা হাই কোর্টে আসেন। তাপের পক্ষে শুনানি করেন এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমদ।

আদেশের পর আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “একটি সোনার দোকানকে কেন্দ্র করে শুল্ক আইনে নোটিস দেওয়া হযেছিল, সেখানে চোরাচালানের অভিযোগের কথাও বলা ছিল। সেই নোটিস পেন্ডিং থাকা অবস্থায় মামলা করেছে। কিন্তু এটা অর্থ পাচার আইনের বিষেই নয়। ব্যবসার সুনাম নষ্ট করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে।”

এই আইনজীবী জানান, দুই সপ্তাহ পর বিষয়টি আবারও আদালতে আসবে এবং আদালত সে সময় অ্যাটর্নি জেনারেলকে শুনানি করতে বলেছে।

 

‘ঘোড়ামারা’ আজিজসহ ৬ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড

 

বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে।রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা তিন অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আসামিদের সাজা কার্যকর করতে হবে।

 

 

 

 

 

৭ মার্চ কেন ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস নয়: হাই কোর্ট

একাত্তরে যে ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন, সেই ভাষণের দিন ৭ মার্চকে কেন ‘ঐতিহাসিক জাতীয় দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল দেয়।

একাত্তরের ৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান কেন সংরক্ষণ করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে মঞ্চে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন সেই স্থানটি নির্ধারণ করে সেদিনের সেই মঞ্চের আদলে মঞ্চ পুননির্মাণ, পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের স্থান এবং যে স্থানে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সম্মাননা জানানো হয়েছিল- সেই স্থান চিহ্নিত করে কেন সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও আদালত জানতে চেয়েছে। মঞ্চের জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ‘স্পিচ মোডের’ (তর্জনি উচিয়ে ভাষণের সময়কার ভঙ্গি) ভাস্কর্য নির্মাণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- সেই প্রশ্নও রুলে রাখা হয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অর্থ সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া রুল বাস্তবায়নে প্রকল্প গ্রহণের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- সে বিষয়ে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে হাই কোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে তাদের। হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বশির আহমেদ। আদালতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। সাড়ে চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ কোটি বাঙালিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পরাজিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো।

 

হাসপাতালে লাশ আটকে রাখা যাবে না: হাই কোর্ট

চিকিৎসার খরচ বা হাসপাতালের বিল পরিশোধে অক্ষম কোনো রোগীর লাশ আটকে রাখা যাবে না বলে রায় দিয়েছে হাই কোর্ট। দরিদ্র ও দুস্থ রোগীদের আত্মীয় স্বজনদের সহযোগিতার জন্য একটি তহবিল গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচ বছর আগে দেওয়া এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসাইন এবং বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রায় দেয়।

রায়ের পর রিটকারীপক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০১২ সালে জুন মাসে একজন গরিব পরিবার তাদের শিশু সন্তানকে মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং ১৫ হাজার টাকা জমা দেয়।

কয়েকদিন চিকিৎসার পর শিশুটির মৃত্যু হলে চিকিৎসার ব্যয় বাবদ আরও ২৬ হাজার টাকা দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারলে শিশুটির লাশ দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।

২০১২ সালের ৮ জুন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ওই খবর প্রকাশিত হলে তা যুক্ত করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সোমবার রায় এল।

রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে-

১. চিকিৎসার খরচ পরিশোধের অক্ষমতার কারণে কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতাল মৃত ব্যাক্তির লাশ জিম্মি করে রাখতে পারবে না।

২. . বিল পরিশোধে অক্ষম গরিব রোগীদের চিকিৎসার খরচ পরিশোধের জন্য স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তহবিল গঠণ করতে হবে।

৩. ১ নাম্বার নির্দেশনা উল্লেখ করে অবিলম্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি সার্কুলার জারি করতে হবে এবং দেশের লাইসেন্সকৃত সকল ক্লিনিক-হাসপাতালে যে সেই সার্কুলার পৌছায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ৮ জুন ২০১২ তারিখে সিটি হাসপাতালে সেই নবজাতকের লাশ হস্তান্তর না করায় এবং  অভিভাকরা  সন্তানের লাশ নিতে ব্যার্থ হওয়ায় বিষয়টি অমানবিক ও মানবাধিকারের লংঘন হয়েছে। এই কারণে ওই হাসপাতালকে পাঁচ হাজার টাকা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে দান করতে হবে।

 

অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

সাড়ে আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। সোমবার সকালে ঢাকার ধানমন্ডির ১৩ নম্বর রোডে পঙ্কজ রায়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি দল।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সোমবারই আদালতে হাজির করা হবে। দুদকের উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস রোববার পঙ্কজ রায়ের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জেনের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে বলা হয়, এই ব্রোকারেজ হাউজ ব্যবসায়ী চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে জমা দেওয়া হিসাব বিবরণীতে মোট ২১ কোটি ৯৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩০২ টাকার সম্পদের তথ্য দেন। এর মধ্যে আট কোটি ৫০ লাখ ৪১ হাজার ১০৬ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।  

দুদক কর্মকর্তারা জানান, এলায়েন্স সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগেও মামলা রয়েছে। চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্ত্রীসহ নিকট আত্মীয়দের বেআইনিভাবে ঋণ দেওয়ায় অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজকে চলতি বছরের শুরুতে ৫০ লাখ টাকা জরিমানাও করেছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

 

হাইকোর্টে জামিন পাননি রানা

সম্পত্তির হিসাব না দেওয়ার মামলায় তিন বছরের কারাদন্ডের বিরুদ্ধে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর হাইকোর্টের একক বেঞ্চ সোহেল রানাকে জামিন না দিয়ে শুনানির জন্য আপিল গ্রহণ করে আদেশ দেন। আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। সোহেল রানার পক্ষে ছিলেন জাহানারা বেগম।

আদেশের পরে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, আদালত শুনানির জন্য রানার আপিল গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি তাকে যে জরিমানা করা হয়েছিলো তা স্থগিত করেছেন। তবে তাকে জামিন দেননি। চলতি বছরের ২৯ আগস্ট নির্ধারিত সময়ে সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় ঢাকা বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েসের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নন-সাবমিশন মামলাটির এ রায় দেন।

২০১৩ সালের ২২ মে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, তার স্ত্রী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে, বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দায়-দেনা ও আয়ের যাবতীয় সম্পদের বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে দুদক। এর আগে থেকেই রানা কাশিমপুর কারাগারে থাকায় তার নামীয় নোটিশ জারি করা যায়নি। পরে কারাগারেই নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার নিরসন করে ২০১৫ সালের ০১ এপ্রিল সোহেল রানার নামীয় ইস্যুকৃত সম্পদ বিবরণীর নোটিশ বিশেষ বাহকের মাধ্যমে কাশিমপুর কারাগারে পাঠায় দুদক। ২ এপ্রিল নোটিশটি সোহেল রানার কাছে পাঠান জেল সুপার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করে প্রথমে স্ত্রীর মাধ্যমে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন রানা। এ আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে দুদক জানিয়ে দিলে রানা পরে আর নোটিশের কোনো জবাব কিংবা সম্পদের হিসাব বিবরণী দুদকে দাখিল করেননি। ২৬ এপ্রিল সম্পদের হিসাব বিবরণী ফরমে কোনো তথ্য না দিয়ে তা খালি পাঠান তিনি। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় ওই বছরের ২০ মে দুদকের উপ-পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম সাভার থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম সোহেল রানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

গত ২৩ মার্চ সোহেল রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু করেন আদালত। মামলাটির ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে ২৯ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। রানা প্লাজা ধসের পর পরই সোহেল রানার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে এ অভিযোগ অনুসন্ধান করেন দুদকের উপ-পরিচালক মফিদুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম। তাদের দেওয়া অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জানা গেছে, মাত্র ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যেই সাভারে দু’টি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেন রানা। এর একটি ৫০ শতাংশ জমিতে নির্মিত নয়তলা রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হন।

আরেকটি আটতলা রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা টাওয়ার (প্রতি ফ্লোর ৪০০০ বর্গফুট)। সাভারে সোহেল রানার পাঁচতলা আবাসিক ভবন এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার জয়ম-পের গ্রামের বাড়িতে একটি দোতলা ভবনও রয়েছে। এছাড়া রানা ব্রিকস এবং এম এ কে ব্রিকস নামের দু’টি ব্রিক ফিল্ড রয়েছে তার। সাভার পৌর এলাকা ও পৌর এলাকার বাইরে রানা ও তার মা-বাবার নামে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। সাভার বাসস্ট্যান্ডে রানার নামে রানা অয়েল মিল রয়েছে। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস রয়েছে। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংকে পাঁচটি ঋণ হিসাবসহ ২৩টি ব্যাংক হিসাব আছে। এর মধ্যে রানার নামে ৩৫ লাখ টাকার একটি এফডিআরও রয়েছে। এ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল প্রায় ১৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সোহেল রানার বাবা আব্দুল খালেক ও তার মা মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধেও পৃথক দু’টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক।  

 

 

 

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে ভারমুক্ত হলো বিচার বিভাগ: অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগে বিচার বিভাগ ভারমুক্ত হলো বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, আমি প্রথমেই বলেছি। বিচার বিভাগ ভারমুক্ত হলো। বিচার বিভাগের কোনো ব্যক্তি যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, চরিত্র স্খলনে জড়িত থাকেন, কোনোমতে তাঁর বিচার বিভাগে থাকা উচিত নয়। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে সাংবাদিকেরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে  রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া কী?’ এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে যায় এবং গেজেট প্রকাশিত হতে হয়। সংবিধানে আছে, স্বহস্তে দরখাস্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে দিলে এটি (পদত্যাগপত্র) কার্যকর হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলতে শুধু প্রধান বিচারপতিকে বোঝায় না, সব কজন বিচারপতি ও প্রধান বিচারপতিকে বোঝায়। আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা যেদিন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা প্রকাশ করলেন, বেঞ্চে বসতে রাজি হলেন না, সেদিনই বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলাম, ফিরে এসে প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করা সুদূরপরাহত। মাহবুবে আলম আরও বলেন, আসলে পদত্যাগ করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। কারণ, আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসতে যদি না চান, তাঁর অন্য কোনো পথ থাকে না।

 

 

 

আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাই এখন প্রধান বিচারপতি : আইনমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক : ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাই এখন সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রমে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি বলেও এ সময় মন্তব্য করেন আনিসুল হক।

গত সোমবার অস্ট্রেলিয়া থেকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে শুক্রবার কানাডার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। সিঙ্গাপুর ছাড়ার আগেই দেশটিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।
শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে।

 

 

নব্য জেএমবিকে অর্থ সরবরাহ জঙ্গি নিলয়ের বাবা মা ও বোন গ্রেফতার

রাজধানীতে নব্য জেএমবিকে অর্থ সরবরাহের অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হচ্ছে- আবু তুরাব খান (৫৬), সাদিয়া হোসনা লাকী (৪৬) ও তাজরীন খানম শুভ (২৯)। গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, পুলিশ সদর দফতরের এলআইসি শাখা ও বগুড়া জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গুলশান-১ নম্বর এলাকার ১২৭ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে ‘অগাস্ট বাইট’ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ওই হোটেলে অবস্থানকারী জঙ্গি সাইফুল ইসলাম আত্মঘাতি হয়ে মারা যায়। সে  খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার নোয়াকাটি গ্রামের আবুল খায়ের ও  আছমা বেগম দম্পতির ছেলে। এ সংক্রান্তে গত ১৬ আগস্ট কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলার তদন্তকালে বের হয়ে আসে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ সরবরাহকারী আকরাম হোসেন খান নিলয় নামে এক ব্যক্তির নাম। সে নব্য জেএমবি’র শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা। গ্রেফতারকৃত আবু তুরাব খান ও সাদিয়া হোসনা লাকী তার বাবা-মা। আর গ্রেফতারকৃত তাজরীন খানম শুভ হচ্ছে জঙ্গি নেতা নিলয়ের বোন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছে, তারা আকরাম হোসেন খান নিলয়ের মাধ্যমে নব্য জেএমবির বায়াত গ্রহন করে। তারা বিভিন্ন সময় সংগঠনের কাজে অর্থ সরবরাহ করত এবং অর্থ দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সংগঠনের কাজে ব্যয় করত। তারা জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থ সরবরাহ করার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। আকরাম হোসেন খান নিলয় সম্পর্কে আরো তথ্য জানার জন্য তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

বিচারপতি সিনহার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়া প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করেছেন। ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে শনিবার দুপুরে বিচারপতি সিনহার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়।

এর আগে শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বিচারপতি সিনহার কোনো পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে পৌঁছায়নি।

একই সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরেক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানেন না। দুপুর ১টায় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “উনার পদত্যাগপত্র আজই বঙ্গভবনে এসেছে।”

বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা এটাই প্রথম।

ষোড়শ সংশোধনের বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ৩ অক্টোবর ছুটি নিয়ে ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় যান বিচারপতি সিনহা। সেখানে তার মেয়ে থাকে। পরে তার স্ত্রীও ঢাকা থেকে অস্ট্রেলিয়া যান।

প্রায় এক মাস অস্ট্রেলিয়ায় বড় মেয়ের কাছে কাটিয়ে বিচারপতি সিনহা সিঙ্গাপুর হয়ে কানাডায় ছোট মেয়ের কাছে রওনা হন শুক্রবার।

তার আগে তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি সিনহার চাকরির মেয়াদ ছিল আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

বিচারপতি সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান বিচারপতি দায়িত্বে ফেরা না পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়াই ওই দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন।

বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সর্বোচ্চ আদালত জানায়, ওই সব অভিযোগের ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ তিনি না দিতে পারায় সহকর্মীরা তার সঙ্গে এজলাসে বসতে নারাজ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলে আসছিলেন, সহকর্মীরা বসতে না চাওয়ায় এস কে সিনহার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফেরা ‘সুদূর পরাহত’।

 

ঘুষের মামলায় নাজমুল হুদার সাজা কমে ৪ বছর

ঘুষ নেওয়ার এক মামলায় সাবেক বিএনপি সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার সাত বছরের সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে হাই কোর্ট। তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে এ মামলায় তিন বছরের দণ্ড দিয়েছিল বিচারিক আদালত। তার মধ্যে যে পরিমাণ সাজা তিনি খেটেছেন, তাই শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হুদা দম্পতির আপিলের ওপর পুনঃশুনানি শেষে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়।

এর আগে হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ নাজমুল ও সিগমাকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে হাই কোর্টে পুনঃশুনানিতে পাঠায়। এই রায়ের অনুলিপি যেদিন বিচারিক আদালতে পৌঁছাবে সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। জজ আদালত এ মামলায় নাজমুল হুদাকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। হাই কোর্টের রায়ে সে বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় সেই জরিমানা বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। বর্তমানে নতুন দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা হাই কোর্টে নিজেই শুনানি করেছিলেন। তবে বুধবার রায়ের সময় তিনি আদালতে ছিলেন না।

সিগমা হুদার পক্ষে এদিন আদালতে ছিলেন তার আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউ সি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির আহমেদ।

২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য মীর জাহের হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা। ২০০৭ সালের ২৭ অগাস্ট বিশেষ জজ আদালতে এই মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করে। পাশাপাশি তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের দণ্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাই কোর্ট তাদের খালাস দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে উভয় আবেদনের শুনানি করে সর্বোচ্চ আদালত ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাই কোর্টের রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়।  

 

এবার সোনাসহ সিভিল এভিয়েশন কর্মী আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানকালে এবার সিভিল এভিয়েশনের সিকিউরিটি স্টাফ রেজাউল করিমসহ দুইজনকে হাতেনাতে  গ্রেফতার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণ চোরাচালানে সহযোগিতা করার অভিযোগে বিমানের এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান বলেন, রিয়াদ থেকে বুধবার বিকালে বিজি ০৪০ নম্বর ফ্লাইটযোগে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন কুদ্দুস (৩০) নামে এক যাত্রী। এরপর তিনি কাস্টমস হলের ৫নং বেল্টের কাছে টয়লেটের ভেতর সিভিল এভিয়েশন স্টাফ রেজাউল করিমের কাছে পাঁচটি স্বর্ণের বার হস্তান্তর করেন। গোপন সংবাদ থাকায় আগে থেকেউ ওৎ পেতে থাকা শুল্ক গোয়েন্দারা দুজনকেই হাতেনাতে আটক করে। জব্দকৃত স্বর্ণের ওজন ৫৮০ গ্রাম। ডিজি জানান, বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পেড্রক্ষিতে পরপর অভিযানে শাহজালালে কর্মরত বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

 

 

গবেষণাগার ভাঙা: ৫ জনকে সতর্ক করল হাই কোর্ট

ঢাকার ফার্মগেইটে কৃষি গবেষণার স্মৃতি বিজড়িত ল্যাবরেটরি ভবন না ভাঙতে আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় গণপূর্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে সতর্ক করেছে হাই কোর্ট।

ভবিষ্যতে মৌখিক বা লিখিত কোনো আদেশ পালনের ক্ষেত্রে তাদেরকে আরও দায়িত্বশীল হতে বলেছে আদালত। গণপূর্ত সচিব, একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক, সংশ্লিষ্ট কাজের প্রকল্প পরিচালক এবং ল্যাবরেটরি ভবন ভাঙার ঠিকাদার আদালতের তলবে মঙ্গলবার হাই কোর্টে উপস্থিত হন।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চ শুনানিতে তাদের সতর্ক করে দেয়। পূর্ত সচিবসহ পাঁচজনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর রিটকারীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আশিক আল জলিল।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, “গত ৫ নভেম্বর গণপূর্ত সচিব ও একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ পাঁচজনকে ডেকেছিল আদালত। মঙ্গলবার তারা হাজির হলে আদালত তাদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে আদেশ পালনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হতে বলেছে।”

খামাড়বাড়ির ল্যাবরেটরি ভবন না ভাঙতে আদলত যে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিল- তা প্রতিপালন না করায় হাই কোর্ট উষ্মা প্রকাশ করেছে বলেও জানান মনিরুজ্জামান।

পূর্ত সচিবসহ পাঁচ কর্মকর্তার পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, ঐতিহ্যবাহী ভবনটি না ভাঙতে আদালতের আদেশটি পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর রাজধানীর খামার বাড়ির ল্যাবরেটরি ভবনসহ খামাড়বাড়ি ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা ঐতিহ্যবহনকারী সকল ভবন ভাঙার বিষয়ে জানতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চিফ প্রকৌশলী, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক, সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্পের পরিচালক ও ল্যাবরেটরি ভবন ভাঙার ঠিকাদারকে তলব করে হাই কোর্ট।

এর আগে গত ১ নভেম্বর হাই কোর্টের এই বেঞ্চ এক আদেশে খামার বাড়ির ল্যাবরেটরি ভবনসহ খামাড়বাড়ি ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা ঐতিহ্যবহনকারী সকল ভবন ভাঙার নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ল্যাবরেটরি ভবনটি ভাঙা বা ধ্বংস করা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, ভাঙা ভবনটি পূননির্মাণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ঐতিহ্যবহনকারী ভবনের তালিকা প্রণয়ন করে তা সংরক্ষেণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও দেয় আদালত।

কৃষি, সংস্কৃতি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজউক চেয়ারম্যান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও তেজগাঁ থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

বেসরকারি সংস্থা আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তইমুর ইসলামের করা এক রিট আবেদনে ওই আদেশ দেওয়া হয়। ‘ভেঙে ফেলা হচ্ছে কৃষি গবেষণার প্রথম ভবন’ শিরোনামে  প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি এই রিট আবেদনটি করেন।

 

পেটে গজ রেখে সেলাই ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেফতারে পরোয়ানা

সন্তান প্রসবের সময় এক নারীর পেটে গজ রেখে অস্ত্রোপচার শেষ করা পটুয়াখালীর নিরাময় ক্লিনিকের ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাসকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছে হাই কোর্ট। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করে হাই কোর্টে হাজির করতে বাউফল থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। রাজন দাসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম। আর ভুয়া লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের সহকারী তোফায়েল সিকদারের (মিশু সিকদার) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আইলাদ হোসেন।

পরে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ বলেন, পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে রাজন দাসের চিকিৎসক লাইসেন্টটি ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) লাইসেন্সধারী চিকিৎসক রাজন দাস আর এই রাজন দাস এক ব্যক্তি নন।

ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং বাউফল ধানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলেছে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করে হাই কোর্টে হাজির করতে। রাজন দাসের সহকারীকেও এদিন আদালতে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৩ জুলাই পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাই কোর্ট। এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে হাজির হতে বলা হয়।

পরে হাই কোর্ট এ বিষয়ে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের কাছে ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদন চায়। সে প্রতিবেদনেই ওঠে আসে রাজন দাসের লাইসেন্সটি ভুয়া। একটি জাতীয় দৈনিকে গত ২২ জুলাই ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হল গজ!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লা আদালতের নজরে আনার পর রুলসহ হাই কোর্ট আদেশ দেয়। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের সাড়ে তিন মাস পর বরিশালে মাকসুদা বেগম (২৫) নামের এক নারীর পেট থেকে গজ বের করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পেটে গজ থাকায় মাকসুদার খাদ্যনালিতে অনেকগুলো ছিদ্র হয়।

মাকসুদা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের মো. রাসেল সরদারের স্ত্রী। গত মার্চে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাকসুদা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তখন তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন চিকিৎসক। মাকসুদার মা রোকেয়া বেগমের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদাকে বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে মাকসুদার একটি মেয়ে হয়। কয়েক দিন ক্লিনিকে থাকার পর তারা বাড়ি ফেরেন। এক মাস পর মাকসুদা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় আবারও ওই ক্লিনিকে যান। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। দুই মাস পর তার খিঁচুনি দিয়ে জ্বর ওঠে; খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে বরিশাল মেডিকেলের বহির্বিভাগে দেখানো হয়। তখন আলট্রাসনোগ্রাফিতেও কিছু ধরা পড়েনি।

এরপর পটুয়াখালীতে এক চিকিৎসককে দেখানোর পর তিনি মাকসুদাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। ১২ জুলাই হাসপাতালে মাকসুদার পেটে অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হয়।

 

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: সৎ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

ছয় বছরের এক শিশুকে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তার সৎ ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ময়মনসিংহের একটি আদালত। একই সঙ্গে তার একলাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।

রোববার জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হেলাল উদ্দিন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। দণ্ডিত সাইফুল ইসলাম (২০)  ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া আব্দুল আজিজের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শিব্বির আহম্মেদ লিটন জানান, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া ১ নম্বর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সরকারি গুচ্ছগ্রামে সিরাজ মিয়ার মেয়ে সুমায়াই আক্তারকে (৬) ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁছিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে সাইফুল ইসলাম।

ওইদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন আসামির সৎ বাবা সিরাজ মিয়া। পরে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলা হয়।

 

বিচারকদের চাকরিবিধি: ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ওই গেজেট প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রোববার আবারও সময় চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ তা মঞ্জুর করে নতুন তারিখ ঠিক করে দেয়।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর বিচারকদের চাকরিবিধির এ বিষয়টি গত ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগে উঠলে সে সময় ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে সরকারকে ২৮ বার সময় দেওয়া হলেও শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আর প্রকাশ হয়নি।

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ওই বিধিমালার খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দিলেও প্রধান বিচারপতি গত ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই খসড়া গ্রহণ না করে প্রধান বিচারপতি মতপার্থক্য নিরসনে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ডাকলেও আইনমন্ত্রী এখন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যাননি।

এ কারণ ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ২০ অগাস্ট প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, “এতই আমরা ইয়ে হয়ে গেলাম… আলোচনা পর্যন্ত করলেন না?”

ঘটনাক্রম

মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়।

ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গত ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ।

এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে।

এরপর দফায় দফায় সময় দেওয়া হলেও সরকার মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ওই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় গত ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলব করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

দুই সচিবের হাজিরার আগে ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি নোটিসে বলা হয়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি ‘সিদ্ধান্ত’ দিয়েছেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক পরদিন আদালতের তলবে হাজির হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিধিমালা নিয়ে “রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে।”

সেদিন শুনানি করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মাধ্যমে সরকারকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সময় নেওয়া হচ্ছিল।

এর মধ্যে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী। তার ধারাবাহিকতায় তিনি ২৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে চাকরিবিধির খসড়া দিয়ে এলেও সর্বোচ্চ আদালত তা গ্রহণ করেনি।

 

রাজধানীতে নিজ বাসায় মা ও ছেলে খুন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কাকরাইলের রাজমনি সিনেমা হলের পশ্চিমপাশের একটি বাসা থেকে মা-ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছেন- কাকরাইলের করিম টাওয়ারের মালিক সিনেমা ব্যবসায়ী আব্দুল করিমের স্ত্রী শামসুন্নাহার (৪৫) ও তার ছোট ছেলে শাওন (২২)। শামসুন্নাহারের মরদেহ গলা কাটা ও তার ছেলের মরদেহ ছিল রক্তাক্ত। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ৮৯/১ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এই হত্যাকান্ড ঘটে। কারা কেন এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। হত্যাকান্ড সম্পর্কে জানতে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

 এদিকে জোড়া খুনের খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় র‌্যাবও। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ উদ্ধারকারী রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান জানান, ‘সন্ধ্যায় জোড়া খুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটির বেডরুমে মায়ের গলাকাটা মরদেহ এবং সিঁড়িতে সন্তানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করি।’ এদিকে পুলিশ জানতে পেরেছে শাওন, তার মা শামসুন্নাহার ছাড়াও ঘটনার সময় ঘরে ছিলেন গৃহকর্মী রাশিদা।

 ওই গৃহকর্মী জানিয়েছেন, তিনি রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ  কেউ রান্নাঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়     রাশিদা বলেন, ‘চিৎকার করে বলেছিলাম, আম্মা দরজা বন্ধ করলেন কেন, দরজা খোলেন। কিন্তু কারও কোনো সাড়া পাইনি, দরজাও কেউ খোলেনি। এর মধ্যে চিৎকার শুনি। কিছুক্ষণ পর বাড়ির দারোয়ান এসে ছিটকিনি খুলে দেয়।’ দারোয়ান পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘ওপর থেকে একজন লোক নিচে এসে বলে- ওপরে যান, সেখানে মারামারি লাগছে। তখন আমি উপরে উঠে পাঁচ তলার সিঁড়িতে শাওনের লাশ ও ভেতরে শামসুন্নাহারের লাশ দেখতে পাই।

’ ভবনের নিচ তলার একটি অফিসের কর্মচারী স্বপন বলেন, ‘আমরা নিচেই কাজ করছিলাম। কোনো ধরনের চেঁচামেচি শুনিনি। শুধু দারোয়ান বলেছিল, উপরে মারামারি লাগছে।’ ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার নাবিদ কামাল বলেন, ‘কীভাবে ঘটনা ঘটছে, আমরা তদন্ত করছি।’ রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মইনুল জানান, ‘হত্যাকান্ডের কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

খালাফ হত্যার দায়ে সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল

ঢাকাস্থ সৌদি আরবের দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলীকে হত্যার দায়ে আসামি সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ডসহ হাইকোর্টের পুরো রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে অন্য তিন আসামি আল আমিন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ও রফিকুল ইসলাম খোকনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রয়েছে।

৫ আসামির মধ্যে অন্যজন পলাতক সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহমেদকে হাইকোর্টের মতোই সর্বোচ্চ আদালত থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দু’দফা শুনানি নেওয়ার পর বুধবার (০১ নভেম্বর) হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের মোট চারটি আপিলের চূড়ান্ত এ রায় দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আল আমিন পটুয়াখালীর হাজিখালী গ্রামের ফারুক ঘরামীর ছেলে, লালু শরিয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার গোয়ালকোয়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে এবং খোকন ময়মনসিংহ নগরের নাটকঘর বাইলেনের আব্দুস সালামের ছেলে। খালাসপ্রাপ্ত সেলিম ভোলার শশীভূষণ থানার উত্তর চরমঙ্গল গ্রামের সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরীর ছেলে।

এ মামলায় পাঁচ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। আর হাইকোর্ট তাদের মধ্যে সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল, আল আমিন, লালু ও খোকনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সেলিমকে খালাস দেন।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর ধার্য দিনে রায় না দিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুলের পক্ষে পুনরায় শুনানির আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

সেদিন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মাহমুদা বেগম জানিয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুলের পক্ষে আগে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়নি। এখন তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর সর্বোচ্চ আদালত পুনঃশুনানির সিদ্ধান্ত জানান।

এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) পুনঃশুনানি শেষে বুধবার রায়ের দিন ধার্য করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুলের পক্ষে পুনঃশুনানি করেন আইনজীবী সিকদার মকবুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেল পরে বলেন, ‘আমরা অন্তত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত আসামির কারাদণ্ড চেয়েছিলাম। রাষ্ট্রপক্ষে তিনটি ও

আসামিপক্ষে একটি আপিল হয়েছিল। আদালত সবগুলোই খারিজ করে দিয়েছেন। সরকার চাইলে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন জানাবো। তবে রিভিউ আবেদন করে কোনো লাভ হবে না’।

সাইফুলের আইনজীবী সিকদার মকবুল হক বলেন, ‘আদালতকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিলাম। আদালত রায় বহাল রেখেছেন। আমার মক্কেল যদি বলেন, তাহলে রিভিউয়ের আবেদন জানাবো’।

২০১২ সালের ০৫ মার্চ রাত ০১টার দিকে রাজধানীর গুলশান কূটনৈতিক এলাকার ১২০ নম্বর সড়কের ১৯/বি নম্বর বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হন খালাফ আল আলী (৪৫)। ০৬ মার্চ ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ওই বছরের ০৪ জুন দক্ষিণখান থানার গাওয়াইর এলাকা থেকে চার ছিনতাইকারী সাইফুল, লালু, আল আমিন ও খোকনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই প্রতিরোধ টিম।

এ সময় তাদের কাছ থেকে কালো রঙের একটি বিদেশি পয়েন্ট ২২ বোরের রিভলবার জব্দ করা হয়। অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে ওইদিনই তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়।

খালাফ হত্যার আসামিরা

আসামি সাইফুল ও আল আমিন আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বীকার করেন যে, ০৫ মার্চ দিবাগত রাতে ছিনতাই করতে বাধা দেওয়ায় তারা চারজনসহ পলাতক সহযোগী সেলিম খালাফ আল আলীকে এ অস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন।

তবে আল আমিন তার জবানবন্দিতে সাইফুল গুলি করেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান,

সাইফুলসহ বাকি চারজন ওই রাতে খালাফকে ঘিরে ধরেন এবং তার কাছে ডলার চান। ডলার না দেওয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সাইফুল তার হাতে থাকা রিভলবার দিয়ে খালাফকে গুলি করে পালিয়ে যান।

পরে সাইফুল, আল আমিন, লালু ও খোকনকে খালাফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায় (শ্যো’ন অ্যারেস্ট) পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. ওবায়দুল হক ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই চারজনসহ পলাতক সেলিমকে আসামি করে এ মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

একই বছরের ৩১ অক্টোবর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু করেন ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

গ্রেফতারকৃত চার আসামি ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে  ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালাফ আল আলীকে হত্যার দায়ে ৫ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের পর কারাগারে থাকা আসামিরা হাইকোর্টে জেল আপিল ও জামিনের আবেদন জানান।  অন্যদিকে বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স আসে এবং কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুসারে দণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমতি চান।

২০১৩ সালের ০১ আগস্ট থেকে ডেথ রেফারেন্স ও সবগুলো জেল আপিলের শুনানি একসঙ্গে শুরু হয়ে ০৩ নভেম্বর শেষ হয় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. খোরশেদুল ইসলাম।

অন্যদিকে কারাগারে থাকা চার আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খবীর উদ্দিন ভূঁইয়া ও আমিনুর রশিদ রাজু। পলাতক আসামি সেলিমের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মাহমুদা খাতুন।
 
২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর আসামি সাইফুলকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অন্য তিনজন আল আমিন, লালু ও খোকনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং পলাতক সেলিমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই আপিলটি মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।

বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের দুই নম্বর বেঞ্চে গত ০৯ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের এ আপিলের শুনানি শুরু হয়। ২০ আগস্ট উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন ১০ অক্টোবর ধার্য করেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।

বিমান নিয়ে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা

উড্ডয়নরত বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের কো-পাইলট সাব্বির এনাম সাব্বিরসহ (৩১) চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ওই বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি দেশে অবতরণেরও পরিকল্পনা ছিল সাব্বিরের। এছাড়া ইউরোপে যেভাবে ট্রাক দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, সেই স্টাইলেও হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হচ্ছেন- সাব্বিরের মা সুলতানা পারভীন (৫৫), ভাই আশিকুর রহমান আশিক ও সহযোগী আলম (৩০)। গত সোমবার ভোরে দারুসসালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মিরপুর দারুসসালাম এলাকার মাজার রোডে কমলপ্রভা নামের যে বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা পাওয়া গিয়েছিল, সেই বাড়ির মালিকের ছেলে এই সাব্বির। সে ওই আস্তানায় নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী। মঙ্গলবার বিকালে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ খান জানান, মিরপুরে র‌্যাবের অভিযানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত আব্দুল্লাহর ভাড়া বাড়ির মালিকের ছেলে সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমিতে প্লেন চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের চাকরি করেন। ২০১৪ সাল থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট হিসেবে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করছিলেন এবং সর্বশেষ গ্রেফতারের কয়েকঘন্টা আগে গত সোমবার রাতে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেন।

মুফতি মাহমুদ বলেন, জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাব্বিরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। নব্য জেএমবি নেতা সারোয়ার জাহানের মাধ্যমে তিনি জঙ্গিবাদের দীক্ষা নেন। গুলশান হামলার আগে ও পরে সারোয়ার জাহান, আব্দুল্লাহ ও সাব্বির বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনা করেন।     পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাইলট সাব্বির প্লেন চালিয়ে সরকারের শীর্ষস্থানীয়দের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা করেন। এছাড়া যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে নিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল তার। বিমানে চাকরির ভাতা হিসেবে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল তার। এরপর ওই টাকা আব্দুল্লাহর মাধ্যমে সংগঠনে দান করতে চেয়েছিলেন সাব্বির।

মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘যেহেতু মঙ্গলবার ভোরেই অপারেশন শেষ হয়েছে, সেহেতু বেশি তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ও সাব্বিরের প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে আমরা এমন পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত হতে পেরেছি।’ সাব্বিরকে গ্রেফতারে এমন একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বড় একটি বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা গেছে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা। গত ৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের মাজার রোডে কমলপ্রভা নামের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সে অভিযানে জঙ্গি আবদুল্লাহসহ ৭ জন নিহত হয়।

 

বিমান নিয়ে ‘জঙ্গি ছক’, পাইলটসহ গ্রেপ্তার ৪

বিমান নিয়ে ‘নাশকতার পরিকল্পনা’ করার অভিযোগে ঢাকার দারুসসালামের জঙ্গিবাড়ির আত্মঘাতী জেএমবি সদস্য আবদুল্লাহর ‘চার সহযোগীকে’ র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে ওই ভবনের মালিকের ছেলে সাব্বির আমামও রয়েছেন।

সাব্বির বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কো-পাইলট (ফার্স্ট অফিসার) ছিলেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তার বাবার মালিকানাধীন বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার খোঁজ মেলার পর তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান মঙ্গলবার  জানান, সোমবার রাতে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বিরসহ চারজনকে তারা গ্রেপ্তার করেন।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মো. লুৎফুল কবির বলেন, “গ্রেপ্তার চারজন দারুস সালামে নিহত জেএমবির জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী। তারা বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল।”

বিকালে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ৪ সেপ্টেম্বর মিরপুর দারুস সালাম থানার বর্ধনবাড়ি এলাকায় একটি ভবনে জঙ্গি সন্দেহে অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই ভবনের পঞ্চমতলায় জঙ্গি আব্দুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগী রয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 

বিএনপি নেতা এমএ ওহাবের ৮ বছরের সাজা

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদ গোপনের মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক সাংসদ এম এ ওহাবকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সেই সঙ্গে ওহাবের দখলে থাকা ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকার অবৈধ সম্পদ জব্দ করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার যশোরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা নয় বছর আগের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

জামিনে থাকা ওহাব রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুদক আইনের একটি ধারায় শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওহাবকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।    

আর সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে আরেকটি মামলায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান দিপু।

মামলার বরাত দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানান, এম এ ওহাব ২০০৮ সালের ১৫ মে তার সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেন।

সেই বিবরণী পর্যালোচনা করে ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮১০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৮৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৭৭ টাকার সম্পদ গোপনের তথ্য পায় দুদক।

এরপর ওই বছরের ২৪ নভেম্বর দুদকের যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী ঝিনাইদহ সদর থানায় ওহাবের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৪ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন। পরে অভিযোগ গঠন করে আদালত ওহাবের বিচার শুরু করে।

এ দিকে রায় ঘোষণার পর সোমবার বেলা ১১টার দিকে যশোর প্রেস ক্লাবে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিপু বলেন, “এই রায় সরকারের নীল নকশার অংশ।”

ওহাবের সাজার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শৈলকূপা উপজেলায় হরতালের ঘোষণা আসে সংবাদ সম্মেলন থেকে।

 

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ফ্রিডম পার্টির ১১ নেতাকর্মীর ২০ বছর করে সাজা

প্রায় তিন দশক আগে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মামলায় বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার আবদুর রশীদসহ ফ্রিডম পার্টির ১১ নেতাকর্মীকে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১১ আসামির প্রত্যেককে বিশ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আর বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের সবার যাবজ্জীবন সাজার রায় এসেছে। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির রোববার দুই দফায় এই দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন। ১৯৮৯ সালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বাড়িতে গুলি ও বোমা ছোড়ার ঘটনায় এই মামলা হয়। পরে তদন্ত করে পুলিশ হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের দুই ধারায় অভিযোগপত্র দেয়।

সাজার আদেশ পাওয়া এই ১১ আসামি হলেন- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ, মো. জাফর আহম্মদ, হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন, মিজানুর রহমান, শাজাহান বালু, গাজী ইমাম হোসেন, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল, গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, ফ্রিডম সোহেল, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ ও জর্জ মিয়া। অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি হুমায়ুন কবির ওরফে কবিরকে দুই মামলাতেই খালাস দিয়েছে আদালত। দন্ডিত আসামিদের মধ্যে রশীদ, জাফর ও হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন পলাতক। আর জামিনে থাকা শাজাহান বালুর জন্য বেশ কিছু সময় অপেক্ষার পরও তিনি না আসায় বিচারক তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন। জামিনে থাকা মিজান, ইমাম হোসেন, কাজল রায়ের জন্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে থাকা মামুন, সোহেল, মুরাদ ও জর্জ মিয়াকেও হাজির করা হয়েছিল। রায়ের পর তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিচারক জাহিদুল কবির দুপুরে নাজিমউদ্দিন রোডের বিশেষ এজলাসে বসে হত্যা চেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেন। আর বিকালে জনসন রোডে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার এজলাস থেকে তিনি বিস্ফোরক মামলার রায় দেন। হত্যাচেষ্টা মামলায় ১১ আসামিকে দুটি ধারায় দশ বছর করে কারাদ  দেন বিচারক। দুটি সাজা পর্যায়ক্রমে খাটতে হবে বলে আসামিদের জেলে থাকতে হবে ২০ বছর করে। সেই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে তাদের, যা না দিতে পারলে আরও ছয় মাস তাদের কারাগারে থাকতে হবে। সাজার মেয়াদ থেকে হাজতবাসকালীন সময় বাদ যাবে। আর বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১১ আসামির সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদ  দেন বিচারক। পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদ  দেওয়া হয়।

‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’
বিচারক ১১ আসামিকে ওই সাজা দিয়েছেন অপরাধজনক ষড়যন্ত্র, প্ররোচণা, অপরাধমূলক কাজে সহযোগিতা এবং হতাচেষ্টার দায়ে। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা আর তার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’। একই আসামিদের, একই ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিচারক বলেন, হামলার ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পরে তা মামলায় রূপান্তর করা হয়। ওই এজাহার ছিল দুর্বল। কিন্তু মামলার তিন আসামি পরে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে এসেছে, তারা বিভিন্ন  সময়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেছে এবং সেই ষড়যন্ত্র থেকেই তারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে। রায়ের পর আসামিপক্ষের মূল আইনজীবী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান বলেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আর খালাস পাওয়া হুমায়ুন কবির ওরফে কবিরের আইনজীবী এ এস এম গোলাম ফাত্তাহ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ধানমি  ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বাড়িতে যখন ওই হামলা হয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তখন বাড়িতেই ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নেতৃত্বে গঠিত দল ফ্রিডম পার্টির নেতা-কর্মীরাই শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে ওই হামলা চালিয়েছিল বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে। ওই ঘটনায় বঙ্গবন্ধু ভবনের (বর্তমানে জাদুঘর) নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম একটি জিডি করেন, পরে তা মামলায় রূপান্তর হয়। এজাহারে বলা হয়, ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল অতর্কিত গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা করে এবং হামলাকারীরা ‘কর্নেল ফারুক-রশিদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যায়। এইচ এম এরশাদের আমলে ওই মামলা হওয়ার পর ১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে বলে, অভিযোগের প্রমাণ তারা তদন্তে পায়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ওই বছর ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয় বলে জানান মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি সাইফুল ইসলাম হেলাল।

তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মো. খালেক উজ্জামান আদালতে হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ফ্রিডম পার্টির নেতা ও বঙ্গবন্ধুর খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, আবদুর রশীদ ও বজলুল হুদাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয় সেখানে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে মামলটি আবার নিশ্চল হয়ে পড়ে। শেখ হাসিনার দল পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ অগাস্ট। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলেও সাক্ষীদের হাজির করতে বিলম্ব এবং আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটকে না পাওয়ায় বিচার থাকে ঝুলে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে মামলার নথি ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। তিনজন বিচারকের হাত ঘুরে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির গত ১৬ অক্টোবর দুই মামলার যুক্তিতর্ক শুনে রায়ের তারিখ ঠিক করে দেন।মামলার অভিযোগপত্রে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান ও মেজর বজলুল হুদার নাম থাকলেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি তাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ দুই মামলা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। আর রেজাউল ইসলাম খান ফারুক ও লিয়াকত হোসেন কালা নামের দুই আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাদের নামও বাদ দেওয়া হয়। দি ত আসামিদের মধ্যে সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়ে ফ্রিডম পার্টির কর্মী হিসাবে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ আটলান্টা থেকে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এ মামলায় বিচার কাজ চলে মোট ৬৬ কার্যদিবস। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১২ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। আসামিপক্ষে কেউ সাক্ষ্য দেননি। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় মোট ১৯ বার চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষ্য। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে হামলার মামলাটিতে এই বছরই রায় হয়। গত আগস্টে দেওয়া এই রায়ে ১০ আসামির মৃত্যুদন্ড হয়। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার আলোচিত মামলাটির বিচারও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা: ফ্রিডম পার্টির ১১ নেতাকর্মীর ২০ বছরের সাজা

প্রায় তিন দশক আগে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মামলায় বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার আবদুর রশীদসহ ফ্রিডম পার্টির ১১ নেতাকর্মীকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এর মধ্যে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১১ আসামির প্রত্যেককে বিশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের সবার যাবজ্জীবন সাজার রায় এসেছে।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির রোববার দুই দফায় এই দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

১৯৮৯ সালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বাড়িতে গুলি ও বোমা ছোড়ার ঘটনায় এই মামলা হয়। পরে তদন্ত করে পুলিশ হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের দুই ধারায় অভিযোগপত্র দেয়।

সাজার আদেশ পাওয়া এই ১১ আসামি হলেন- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ, মো. জাফর আহম্মদ, হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন, মিজানুর রহমান, শাজাহান বালু, গাজী ইমাম হোসেন, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল, গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, ফ্রিডম সোহেল, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ ও জর্জ মিয়া।

অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি হুমায়ুন কবির ওরফে কবিরকে দুই মামলাতেই খালাস দিয়েছে আদালত।

দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে রশীদ, জাফর ও হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন পলাতক। আর জামিনে থাকা শাজাহান বালুর জন্য বেশ কিছু সময় অপেক্ষার পরও তিনি না আসায় বিচারক তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন।

জামিনে থাকা মিজান, ইমাম হোসেন, কাজল রায়ের জন্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে থাকা মামুন, সোহেল, মুরাদ ও জর্জ মিয়াকেও হাজির করা হয়েছিল। রায়ের পর তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সাজা

বিচারক জাহিদুল কবির দুপুরে নাজিমউদ্দিন রোডের বিশেষ এজলাসে বসে হত্যা চেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেন। আর বিকালে জনসন রোডে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার এজলাস থেকে তিনি বিস্ফোরক মামলার রায় দেন।

হত্যাচেষ্টা মামলায় ১১ আসামিকে দুটি ধারায় দশ বছর করে কারাদণ্ড দেন বিচারক। দুটি সাজা পর্যায়ক্রমে খাটতে হবে বলে আসামিদের জেলে থাকতে হবে ২০ বছর করে।

সেই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে তাদের, যা না দিতে পারলে আরও ছয় মাস তাদের কারাগারে থাকতে হবে। সাজার মেয়াদ থেকে হাজতবাসকালীন সময় বাদ যাবে।

আর বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১১ আসামির সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক। পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, নিজেই বলে আসছেন যে মৃত্যুর হুমকি নিয়েই চলছেন তিনি- ছবি: পিএমও

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, নিজেই বলে আসছেন যে মৃত্যুর হুমকি নিয়েই চলছেন তিনি- ছবি: পিএমও
 

‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’

বিচারক ১১ আসামিকে ওই সাজা দিয়েছেন অপরাধজনক ষড়যন্ত্র, প্ররোচণা, অপরাধমূলক কাজে সহযোগিতা এবং হতাচেষ্টার দায়ে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা আর তার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’।

“একই আসামিদের, একই ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।”

বিচারক বলেন, হামলার ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পরে তা মামলায় রূপান্তর করা হয়। ওই এজাহার ছিল দুর্বল। কিন্তু মামলার তিন আসামি পরে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

“মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে এসেছে, তারা বিভিন্ন  সময়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেছে এবং সেই ষড়যন্ত্র থেকেই তারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে।”

রায়ের পর আসামিপক্ষের মূল আইনজীবী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান বলেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আর খালাস পাওয়া হুমায়ুন কবির ওরফে কবিরের আইনজীবী এ এস এম গোলাম ফাত্তাহ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিচারের অপেক্ষায় ২৮ বছর

১৯৮৯ সালের ১০ অগাস্ট মধ্যরাতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বাড়িতে যখন ওই হামলা হয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তখন বাড়িতেই ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নেতৃত্বে গঠিত দল ফ্রিডম পার্টির নেতা-কর্মীরাই শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে ওই হামলা চালিয়েছিল বলে পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

ওই ঘটনায় বঙ্গবন্ধু ভবনের (বর্তমানে জাদুঘর) নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম একটি জিডি করেন, পরে তা মামলায় রূপান্তর হয়।

এজাহারে বলা হয়, ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল অতর্কিত গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা করে এবং হামলাকারীরা ‘কর্নেল ফারুক-রশিদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যায়।

এইচ এম এরশাদের আমলে ওই মামলা হওয়ার পর ১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে বলে, অভিযোগের প্রমাণ তারা তদন্তে পায়নি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ওই বছর ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয় বলে জানান মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি সাইফুল ইসলাম হেলাল।

তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মো. খালেক উজ্জামান আদালতে হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ফ্রিডম পার্টির নেতা ও বঙ্গবন্ধুর খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, আবদুর রশীদ ও বজলুল হুদাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয় সেখানে।

২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে মামলটি আবার নিশ্চল হয়ে পড়ে। শেখ হাসিনার দল পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ অগাস্ট।

দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলেও সাক্ষীদের হাজির করতে বিলম্ব এবং আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটকে না পাওয়ায় বিচার থাকে ঝুলে।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে মামলার নথি ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। তিনজন বিচারকের হাত ঘুরে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির গত ১৬ অক্টোবর দুই মামলার যুক্তিতর্ক শুনে রায়ের তারিখ ঠিক করে দেন।

মামলার অভিযোগপত্রে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান ও মেজর বজলুল হুদার নাম থাকলেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি তাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ দুই মামলা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়।  

আর রেজাউল ইসলাম খান ফারুক ও লিয়াকত হোসেন কালা নামের দুই আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাদের নামও বাদ দেওয়া হয়।

দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়ে ফ্রিডম পার্টির কর্মী হিসাবে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ আটলান্টা থেকে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

এ মামলায় বিচার কাজ চলে মোট ৬৬ কার্যদিবস। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১২ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। আসামিপক্ষে কেউ সাক্ষ্য দেননি।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় মোট ১৯ বার চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষ্য।  

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে হামলার মামলাটিতে এই বছরই রায় হয়। গত অগাস্টে দেওয়া এই রায়ে ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার আলোচিত মামলাটির বিচারও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

 

বিএনপির মশিউরের ১০ বছর সাজা

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের এক মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল।

এছাড়া আদালত তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার রায় দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ নিতাই চন্দ্র সাহা বুধবার নয় ব্ছর আগের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

কারাদণ্ড ছাড়াও আদালত তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা না দিলে তাকে আরও নয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ রায় ঘোষণার পর ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে বেলা বেলা ১২টা পর্যন্ত জেলাব্যাপী হরতাল ডেকেছে। মশিউর ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি। এর আগে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

রায় ঘোষণার পর ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক যশোর প্রেসক্লাবে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এ মামলা মিথ্যা। এ রায় অবৈধ। এর প্রতিবাদে অমরা বৃহস্পতিবার জেলাব্যাপী আধাবেলা হরতাল আহ্বান করছি।”

দুদকের স্পেশাল পিপি সিরাজুল ইসলাম জানান, মশিউরের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন দুদকের সমন্বিত কুষ্টিয়া জেলা অফিসের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন মৃধা।

“তার বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি সাত লাখ ৯৮ হাজার ৯৮৩ টাকার সম্পদের হিসাব গোপন করাসহ আরও পাঁচ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার ৭৩৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।”

তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সমন্বিত যশোর জেলা অফিসের তৎকালীন উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন। পরে বিচারের জন্য যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

আদালত ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় দেয় জানিয়ে পিপি সিরাজুল বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু আসামিপক্ষের নানা অপতৎপরতার কারণে মামলাটির বিচারকাজ দীর্ঘায়িত হয়েছে।

দুদক সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহিদুর রহমান ন্যায়বিচার পেয়েছেন জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

ফেনীর মিনার চৌধুরীকে ফের জামিন হাই কোর্টের

স্টাফ রিপোর্টার: ফেনীর আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন মিনার চৌধুরীকে আবারও জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগেও হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ মিনার চৌধুরীকে জামিন দিয়েছিল, যা গত ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ বাতিল করে দেয়।ছয় মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে এ মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে আপিল বিভাগের ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ওই সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে হাই কোর্ট মিনার চৌধুরীর জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সে অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় গত রোববার আদালতে ফের জামিন আবেদন করেন মিনার চৌধুরীর আইনজীবী।

 সে আবেদনের শুনানি নিয়েই হাই কোর্ট গতকাল রোববার রুলসহ ছয় মাসের এ জামিন দিয়েছে। আদালতে মিনার চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। বশির আহমেদ পরে বলেন, আদালত শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেছে। বিচারিক আদালতে পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে জামিনে যেতে হবে। জামিনের এ আদেশ স্থগিতের জন্য রোববারই আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে বলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জানান। ২০১৪ সালের ২০ মে ফুলগাজী যাওয়ার সময় ফেনী শহরের একাডেমী এলাকায় একরামুলকে নিজের গাড়িতে গুলি চালানোর পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

 নিহতের বড় ভাই রেজাউল হক জসিম ওই দিনই ফেনী জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক মাহাতাব উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীর ওরফে মিনার চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০/৩৫ জনকে আসামি দেখিয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর ওই বছর ২৭ মে গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা থেকে মিনারকে গ্রেফতার করে। মাঝে একবার তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তিও পান। তবে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর নির্দেশনা মেনে আদালতে হাজির না হওয়ার তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ১৫ মার্চ এ মামলার ৫৬ আসামির বিচার শুরু করে ফেনীর আদালত। বিচার শুরুর আগেই গতবছর ২৪ নভেম্বর মিনার চৌধুরীর আবেদনে তাকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেয় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও জাফর আহমেদের হাই কোর্ট বেঞ্চ। কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে গত মার্চে তা বাতিল হয়ে যায়।

 

জামিন বাঁচাতে এমপি শওকতকে দিতে হবে ২৫ কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় নীলফামারীর সাংসদ মো. শওকত চৌধুরীর জামিন বহাল রাখতে ৫০ দিনের মধ্যে ২৫ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার শর্ত দিয়েছে হাই কোর্ট। জাতীয় পার্টির এই এমপির জামিন প্রশ্নে এক বছর আগে দেওয়া রুলের নিষ্পত্তি করে  বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেয়।রায়ে বলা হয়, ৫০ দিনের মধ্যে ২৫ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা দিলে তবেই নিম্ন আদালত থেকে শওকতের পাওয়া জামিন বহাল থাকবে, তা না হলে বাতিল হয়ে যাবে। নীলফামারী-৪ আসনের সাংসদ শওকত চৌধুরীর পক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন পঞ্চগড়-২ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন।

 আর কমার্স ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১৬ সালের ৮ ও ১০ মে শওকত চৌধুরীসহ নয় জনের বিরুদ্ধে বংশাল থানায় দুটি মামলা করে। এর মধ্যে এক মামলায় ৯৩ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ২১৩ টাকা এবং আরেক মামলায় ৮২ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, শওকত চৌধুরী তিনটি কোম্পানির নামে ৩৪টি এলসি খুলে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি ড. আসাদুজ্জামান, বংশাল শাখার ম্যানেজার হাবিবুল গণিসহ আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন। বর্তমানে ওই অর্থের পরিমাণ সুদে-আসলে বেড়ে ১৩৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন কমার্স ব্যাংকের আইনজীবী সারোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এ দুই মামলায় গত বছর অগাস্টে হাই কোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন শওকত চৌধুরী।

 পরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে আবারও জামিন পান। এ অবস্থায় ওই দুই মামলার অপর দুই আসামি আসাদুজ্জামান ও হাবিবুল গণি জামিনের আবেদন করলে গত বছর ২৪ নভেম্বর তার শুনানিতে  হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। শওকতকে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার আদালত শওকত চৌধুরীকে জামিন বাঁচানোর জন্য টাকা জমা দেওয়ার শর্ত ঠিক করে রায় দেয় বলে আইনজীবী সারোয়ার জানান।

 

ঔষধ প্রশাসনের বরখাস্ত কর্মকর্তা চাকরিতে কীভাবে প্রশ্ন হাই কোর্টের

রীড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অদক্ষতা ও অযোগ্যতার দায়ে ঔষধ প্রশাসন থেকে বরখাস্ত এক কর্মকর্তা কীভাবে এখনও চাকরিতে আছেন- তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালককে এক সপ্তাহের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আদালত। এ বিষয়ে একটি আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।

আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, রীড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অদক্ষতা ও অযোগ্যতার দায়ে ঔষধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে আদালতের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয়েছিল। দুই কর্মকর্তার মধ্যে ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম তথ্য গোপন করে বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল-১ এ আবেদন করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে। এর মধ্যে তিনি কাজও শুরু করেছেন। বিষয়টি জানার পর আদালতে এই আবেদন করা হয় জানিয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, আজ হাই কোর্ট তার কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশ স্থগিত করেছে। বরখাস্ত হওয়ার পর শফিকুল ইসলাম আবার কীভাবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা কীভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা এক সপ্তাহের মধ্যে ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালককে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। আদালত বিষয়টি আগামী ২৬ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছে। রীড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করে ২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়।

 

রাজধানীতে দুই গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু

রাজধানীতে দুই গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। রূপনগর থানার উপ-পরিদর্শক পরিমল চন্দ্র সরকার জানান, গত রোববার দিনগত রাত  সোয়া ২ টার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকার ২৬ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসা থেকে লাবনী আকতার (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বাসার সিলিংফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চাচাতো ভাই জাকির হোসেনের সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রযেছে বলে স্বামী সন্দেহ করতো। এসব কারনে লাবনী প্রায় মন খারাপ করে থাকতো। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন। এই দম্পতির এক কন্যা সন্তান রযেছে। স্বামী নাসির উদ্দিন প্রাইভেটকার চালক। নিহত লাবনী ঝালকাঠি সদরের ভেজখান গ্রামের মৃত কারী আব্দুল বারীর মেয়ে।

এদিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে সোমবার সকালে ফারজানা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উত্তর শাহজাহানপুরে ৬৩৪ নম্বর বাসায় স্বামী ও এক মেয়েকে নিয়ে বাস করছিলেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তার স্বামী আব্দুর রহমান তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সকাল পৌনে ১১টায় মৃত ঘোষনা করেন। ফারজানার স্বামী আব্দুর রহমান ঢামেক হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের জানান, তার স্ত্রী শ্বাসকষ্টের রোগী। সকাল ৮টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিক ও পড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদিকে ওই নারী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন- এমন সন্দেহ চিকিৎসকদের। শাহজাহানপুর থানার এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, তার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

রাতের ইন্টারনেট অফার বন্ধের নির্দেশ হাই কোর্টের

ব্লু হোয়েল গেইম নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গেইমটির সব লিংক বন্ধ ও মোবাইল অপারেটরগুলোর রাতের ‘বিশেষ ইন্টারনেট অফার’ ছয় মাসের জন্য বন্ধ করাসহ তিন দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাই কোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং জে বি এম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার রুলসহ তিন দফা নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনা গুলো হলো- ব্লু হোয়েল বা এ জাতীয় ইন্টারনেট ভিত্তিক ‘মরণখেলার’ গেইটওয়ে লিংক বন্ধ করতে হবে, রাত ১২টার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশের সব মোবাইল অপারেটরের ‘রাত্রিকালীন বিশেষ ইন্টারনেট অফার’ ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকবে এবং ব্লু হোয়েলসহ এ জাতীয় ইন্টারনেট ভিত্তিক গেইমে আসক্তদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং দেওয়া এবং অভিজ্ঞদের নিয়ে একটি ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসিকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলে আদালত। আদালতে রিটকারীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

সুব্রত বর্ধনসহ সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী গত রোববার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন। আইনজীবী পল্লব বলেন, দেশের সব মোবাইল অপারেটরের রাত্রিকালীন বিশেষ ইন্টারনেট অফার কেন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা রুলে জানতে চেয়েছে আদালত। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্রসচিব, শিক্ষাসচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, আইনসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং মোবাইল অপারেটরদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। ‘ব্লু হোয়েল’ বা ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’ একটি অনলাইন গেইম, যা অংশগ্রহণকারীকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়।

এই গেইমে খেলোয়াড়দের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতে দেওয়া হয়, শুরুতে হালকা কিছু কাজ দেওয়া হলেও ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সব কাজ দেওয়া হয়। সব শেষে চূড়ান্ত কাজ হিসেবে খেলোয়াড়কে আত্মহত্যা করতে বলা হয়। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় ‘এফ৫৭’ নামে যাত্রা শুরু করে গেইমটি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ফিলিপ বুদেইকিন নামের এক সাবেক মনোবিদ্যা শিক্ষার্থী গেইমটি তৈরি করেন। ওই গেইম খেলে ১৬ কিশোরীর আত্মহত্যার পর বুদেইকিনকে রাশিয়ায় আটক করা হয়। ‘ব্লু হোয়েল’ গেইমে বাংলাদেশেও আত্মহত্যার খবর গণমাধ্যমে আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গত সপ্তাহে বিটিআরসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন। এর ধারাবাহিকতায় বিটিআরসি তিন দিন আগে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়। ইন্টারনেটে ব্লু হোয়েল কিংবা এর মতো জীবনবিনাশী কোনো গেইমের তথ্য পেলে ২৮৭২ নম্বরে ফোন করে তা জানাতে বলা হয় সেখানে।



Go Top