বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
০১ মে, ২০১৬ ১২:২৯:৫২
প্রিন্টঅ-অ+
টাঙ্গাইলে দরজি হত্যায় দুটি মামলা, আটক ৩

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে হিন্দু দরজি হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়েছে।


এ ঘটনায় স্থানীয় এক জামায়াত নেতাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (উত্তর) মোহাম্মদ আসলাম খান জানিয়েছেন।

গোপালপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুল জলিল জানান, নিহতের স্ত্রী আরতি রানি শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ছয়জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আর ঘটনাস্থল থেকে হাতবোমা উদ্ধারের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে অন্য মামলাটি করেন গোপালপুর থানার এসআই মোকসেদুল আলম।

শনিবার দুপুরে গোপালপুরের ডুবাইল কালিবাড়ি বাজারে নিজের দোকান তিথি তীর্থ বস্ত্রালয় অ্যান্ড টেইলার্সের সামনে খুন হন ৫০ বছর বয়সী নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার।

ওসি জলিল জানান, ধর্ম অবমাননার এক মামলায় তিন মাস কারাগারে ছিলেন নিখিল। পরে স্থানীয় ‘মুরুব্বীদের অনুরোধে’ ছয় মাস আগে মামলা তুলে নেন বাদী আলমনগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও দৈনিক ইনকিলাবের গোপালপুর সংবাদদাতা আমিনুল ইসলাম।

নিখিল খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমিনুলকেও আটক করা হয়েছে বলে এসএসপি মোহাম্মদ আসলাম জানান।

তিনি বলেন, “রোববার ভোরে আমিনুল ইসলাম, গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বাদশা ও ঝন্টু নামে এক বিএনপি কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের আটক করা হয়েছে।”

তাদের টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে নিহতের স্ত্রীর করা মামলায় তাদের আসামি করা হচ্ছে কি না- এসব বিষয়ে কিছু জানাননি এএসপি।

এ হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি গোষ্ঠী ‘আইএস এর দায় স্বীকার’ প্রসঙ্গে আসলাম খান বলেন, “বাংলাদেশে আইএস এর কোনো অস্তিত্ব নেই। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এখন পর্যন্ত তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট থেকে শুরু করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং সমকামী অধিকারকর্মীদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেভাবেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটর সাইকেলে করে আসা আনুমানিক ২০-২২ বছর বয়সী তিন যুবক নিখিলকে ডেকে দোকানের বাইরে আনে এবং নিজেদের ব্যাগ থেকে ছুরি ও চাপাতি বের করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত নিখিল লুটিয়ে পড়লে খুনিরা মোটরসাইকেলে করে চলে যায়।

মো. হারুন মিয়া নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিখিলের দোকানের সামনে ধস্তাধস্তি দেখে তিনি এগিয়ে গেলে রক্তমাখা চাপাতি দেখিয়ে একজন তাকে বলে, আর সামনে এগোলে তাকেও জানে মেরে ফেলা হবে।

চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা একটি ব্যাগ ফেলে যায়। পরে ওই ব্যাগ থেকে পাঁচটি ককটেল পায় পুলিশ।

জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে সাইট ইন্টেলিজিন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে খবর এসেছে। তবে ওসি আব্দুল জলিল বলছেন, নিখিল উগ্রপন্থিদের হাতেই খুন হয়েছেন কি-না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “নিখিল তার ভাতিজি স্বর্ণাকে দুই বছর আগে ঢাকা থেকে ডিভোর্স করিয়ে আনেন। তখন থেকেই স্বর্ণার সাবেক স্বামী রুদ্র এ পরিবারের সবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।”
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

আইন ও অপরাধ এর অারো খবর