মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
২৪ এপ্রিল, ২০১৬ ১৫:৫৪:১৩
প্রিন্টঅ-অ+
কবর থাকলেও নেই নাম পরিচয়
রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারের বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ার ঘটনায় তিন বছরপূর্তি আজ (২৪ এপ্রিল, রোববার)। আলোচিত এ ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো হতভাগ্য শতাধিক ব্যক্তির নাম পরিচয় শনাক্ত হয়নি। দুঘর্টনায় নিহতদের অধিকাংশই রাজধানীর বিভিন্ন কবরস্থানে দাফন করা হলেও অনেকেরই পরিচয় আজো মেলেনি। ফলে করব থাকলেও সেখানে লেখা নেই তাদের নাম পরিচয়।       

জানা গেছে, রহস্যজনক কারণে নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ বন্ধ রয়েছে। তবে রানা প্লাজা ধ্বসের পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় পূর্ণাঙ্গ যাচাই বাছাই না করা ও মরদেহ শনাক্তের দাবিদার আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ না করায় নিহত শতাধিক শ্রমিকের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ন্যাশনাল ফরেনসিক প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষিত রয়েছে পরিচয় না জানা হতভাগ্য শ্রমিকদের ডিএনএ প্রোফাইল। ডিএনএ ল্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত স্বজনরা কেউ এসে ডিএনএ পরীক্ষা করালেই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি সূত্রে জানা যায়, রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় ল্যাবরেটরিতে মোট ৩২২ মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে ডিএনএ নমুনা হিসেবে দাঁত, হাড় ও টিস্যু সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় খুঁজে বের করতে বাবা, মা, ভাই, বোন ও আত্মীয় স্বজন দাবি করা মোট ৫৬০ জন ডিএনএ’র নমুনা হিসেবে রক্ত দেয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানে দেয়া কোডেক্স মেশিনের মাধ্যমে মোট ২১৯টি ডিএনএ নমুনায় আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে মিলে যায়। ২১৯টি নমুনার মধ্যে ১১টি নমুনা ডুপ্লিকেট (একই ব্যক্তির শরীরের ভিন্ন ভিন্ন অংশ) পাওয়া যায়। সে হিসেবে অজ্ঞাত এখনো ১০৩ জনের ডিএনএ নমুনা রয়ে গেছে।


নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ডিএনএ ল্যাবের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা  বলেন, রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে মোট ১ হাজার ১৩০ জনের মৃত্যু ছাড়াও আড়াই সহস্রাধিক শ্রমিক আহত হয়। ওই সময় ধ্বংসস্তুপ থেকে মরদেহ উদ্ধার কাজে অধিক ব্যস্ত থাকায় সঠিক উপায়ে মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। অনেকেই জামা কাপড় দেখে অনুমানের ভিত্তিতে মরদেহ নিজেদের স্বজন বলে দাবি করে নিয়ে যান। কেউ কেউ সরকারি ক্ষতিপূরণের আশায় মরদেহ নিজেদের দাবি করে। ফলে জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে মরদেহের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ডিএনএ ল্যাবরেটরির দুই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিষ কুমার মজুমদার ও মাহমুদ হাসান  জানান, ল্যাবরেটরি প্রধান ড. শরীফ আকতারুজ্জামানের নির্দেশনায় বহু কষ্টে ৩২২ ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করে রেখেছি। এখন প্রকৃত আত্মীয়রা কেউ এসে নমুনা দিলে তা ম্যাচ করে সঠিক পরিচয় বের করা সম্ভব হবে।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

আইন ও অপরাধ এর অারো খবর