সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
২০ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:২২:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+
মুয়াজ্জিন হত্যা: খাদেমসহ তিনজন রিমান্ডে

পুরান ঢাকার ইসলামপুরে ঝব্বু খানম মসজিদের মুয়াজ্জিন বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিন করে হেফাজতে পেয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
Related Stories

    মসজিদের ‘টাকার ভাগ ও ক্ষমতার লোভে’ মুয়াজ্জিন হত্যা  

এই তিন আসামি হলেন- মসজিদের জুনিয়ার মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন (২৩), খাদেম মো. হাবিবুর রহমান (২০) ও হাফেজ তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তাজিনুল (২৩)।

বুধবার দুপুরে তাদের ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে  হাজির করে সাত দিনের হেফজাতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান কোতোয়ালির পরিদর্শক পারভেজ হোসেন।

শুনানি শেষে মহানগর হাকিম সাজ্জাদুর রহমান তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে আদালত পুলিশের উপ পরিদর্শক শরীফ সাফায়েত হোসেন জানান।

তিনি বলেন, “আসামিদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। রিমান্ড আবেদন থেকে জানা গেছে, হাবিবুর রহমানের বাড়ি নড়াইলের নড়াগাছিতে। মোশারফ হোসেনের নেত্রকোণোর দুর্গাপুর ও তাজিনুলের রংপুরের তারাগঞ্জে।”

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়- যে চাকু দিয়ে মুয়াজ্জিন বিল্লালকে হত্যা করা হয়েছে, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার সঠিক তদন্ত করতে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

পুলিশ এ মামলায়  হাফেজ সরোয়ার হালিম (২২) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করলেও এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি বলে সাফায়েত হোসেন জানান।

গত ২৮ বছর ধরে পুরান ঢাকার ইসলামপুরের ওই মসজিদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বিল্লাল। গত ৪ এপ্রিল মসজিদের সিঁড়িতে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়।

ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পারভেজ হোসেন বলেন, “মসজিদের নিয়ন্ত্রণ ও টাকার ভাগের লোভে খাদেম হাবিবের প্ররোচনা ও পরিকল্পনায় বিল্লালকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের উপ কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বুধবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ঝব্বু মসজিদের নিচের দুটি ফ্লোরে ৩৩টি দোকান থেকে প্রতিমাসে ৪২ হাজার টাকা ভাড়া আসে। এছাড়া মসজিদের দানবাক্স থেকেও আয় হয়। বিল্লাল বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েও বাড়তি রোজগার করতেন।

“মসজিদের কর্মীদের বেতন দেওয়ার পর অতিরিক্ত টাকা বিল্লাল নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রাখতেন এবং বাইরের লোকের কাছে লাভে খাটাতেন। খাদেম হাবিব ও দ্বিতীয় মুয়াজ্জিন মোশাররফ মসজিদে বিল্লালের এই একক আধিপত্য মেনে নিতে পারছিলেন না। এ কারণেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।”
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

আইন ও অপরাধ এর অারো খবর