মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
১৩ এপ্রিল, ২০১৬ ১১:৫৯:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+
রমনায় বোমা হামলা : আপিলের রায়ের অপেক্ষা
বহুল আলোচিত রমনার বটমূলে বোমা হামলার হত্যা মামলার আপিল রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে সমগ্র জাতি। উচ্চ আদালতেই নির্ধারিত হবে এই নির্মম ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনের ভাগ্য।

 
হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার মাধ্যমে ১৫ বছর আগে বৈশাখী অনুষ্ঠানে এসে নিহত হওয়া স্বজনদের প্রতীক্ষার অবসান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমনা হত্যা মামলা ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির জন্য বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে।

 
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ বলেন, ডেথ রেফারেন্স আসার পর পেপারবুক তৈরি হয়ে গেছে। এখন মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মনিরুজ্জামান কবির বলেন, ‘আশা করছি মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই রমনা বোমা হামলার আপিল শুনানি শুরু হবে। আমরা এই মামলার জেল ও ফৌজদারি আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করব।’ মে মাসেই বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা হবে ও রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই আইনজীবী।
 

আদালত সূত্র বলেছে, বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় হয়েছে ওই হামলার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন। রায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

 
একই বছর বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ও আরিফ হাসান ওরফে সুমন হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন।

 

এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন জেল আপিল দায়ের করেন।

 
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৯ জন। তারা হলেন আল-মামুন হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অসীম চন্দ্র সরকার, ইসমাইল হোসেন স্বপন ও আনসার আলী। একজনের পরিচয় জানা যায়নি।
 

এ ঘটনায় পুলিশ রমনা থানায় মামলা করে। ২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর এ মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার জট খোলে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলার তদন্তে গতি সঞ্চার হয়।
 

২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে ওই ঘটনায় দুটি অভিযোগপত্র দেয়। এর একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।
 

এই ১৪ আসামির মধ্যে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন মুফতি হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা তাজউদ্দিন (প্রাক্তন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই) এবং হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর বদর। এদের মধ্যে প্রথম চারজন কারাগারে এবং শেষোক্ত চারজন পলাতক। অপর ছয় আসামিকেই হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

 
কারাগারে আটক এই ছয় আসামি হলেন হাফেজ আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আবদুর রউফ ও শাহাদাত উল্লা ওরফে জুয়েল।

 
একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটি নিম্ন আদালতে এখনো বিচারাধীন আছে।

 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

আইন ও অপরাধ এর অারো খবর