সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
১২ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:৫৮:৩০
প্রিন্টঅ-অ+
ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মেলেনি
কাফরুল থানাধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. আহসান হাবিবের মিরপুর-১৩ এর ন্যাম গার্ডেনের সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সের বাসার সামনে থেকে উদ্ধার হওয়া গৃহপরিচারিকা জনিয়া হত্যার তদন্তকাজ এখনো চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকাজ শেষে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আর ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।

 

সোমবার বিকেলে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিকদার মোহাম্মদ শামীম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, জনিয়া মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা ওসমান গণি যে মামলা দায়ের করেছিল, সেটির এখনো তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেছে। তাতে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। এখন বাকী তদন্ত শেষে চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।

 

কি কি বিষয় নিয়ে তদন্ত করছেন জানতে চাইলে ওসি জানান, জনিয়া ১০ তলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছে। ওইদিন ছাদ থেকে তার পায়ের সেন্ডেল জোড়া পাওয়া যায়। কেউ ফেলে দিয়েছে নাকি সে নিজেই ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। আর লাফ দিলেও কেন সে লাফ দিয়েছে, এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

 

ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওইদিনই ভবনের কেয়ারটেকার ছিদ্দিকুর রহমান (৫০) ও তিন লিফটম্যান এমদাদুল হক (৩০), রিয়াদুল হক টুটুল (২৮) ও  সোহেল রানাকে (২৪) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে ৩ দিনের রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ড শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

রিমান্ডে তারা কি বলেছে জানতে চাইলে ওসি শিকদার শামীম বলেন, ‘এটি তদন্তাধীন বিষয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’

 

গত ৭ মার্চ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. আহসান হাবিবের ছেলে রুম্মান বিন আহসানের বিরুদ্ধে কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ ওঠে। মিরপুর ১৩-এর ন্যাম গার্ডেন সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সের ৩ নম্বর ভবনের সামনে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জনিয়ার ডান হাত থেঁতলানো ও রক্তাক্ত, দুই পায়ের হাঁটুতে কালো দাগ, মুখ রক্তাক্ত ও ওড়না দিয়ে বাঁধা, নাক রক্তাক্ত এবং স্তনের নিচে কালো দাগ রয়েছে।

 

জনিয়ার মা ফুলবানু জানান, তিনি সকাল নয়টার মধ্যে ওই বাসায় যেতেন। তার আগেই বাসার মালিক অফিসে চলে যেতেন। বাসায় মা আর ছেলে থাকতো। ওই ছেলেই তার মেয়েকে ধর্ষণের পর খুন করেছে। মেয়ের শরীরে নখের আঁচড়ের দাগ দেখেছেন তিনি।

 

যুগ্ম সচিব আহসান হাবিবের ছেলে রুম্মান  বলেন, ‘মেয়েটির লাশ পাওয়া যাওয়ার পর পুলিশ ১০ তলা ভবনের ছাদের ওপর একজোড়া সেন্ডেল পেয়েছে। সে হয়তো লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অথবা তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে আমি তাকে ধর্ষণ বা খুন করিনি। প্রয়োজনে আমার ডিএনএ টেস্ট করা হোক। তবু এ অপবাদ থেকে মুক্ত হতে চাই।’

 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

আইন ও অপরাধ এর অারো খবর