সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
১০ এপ্রিল, ২০১৬ ১১:৫৭:০১
প্রিন্টঅ-অ+
নিজামীর রিভিউ শুনানি ৩ মে
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ শুনানি ৩ মে অনুষ্ঠিত হবে। রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।  

নিজামীর আইনজীবী অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে সময় চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ দিন ধার্য করে আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্যান্য বিচারপতিরা হলেন- নাজমুন আরা সুলতানা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বজলুর রহমান।

আদালতের শুনানিতে নিজামীর পক্ষে ছিলেন, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নিজামীর পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন এসএম শাহজাহান, তাদেরকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার নাজিব মোমমন ও এহসান এ সিদ্দিকী।

রিভিউ পুনর্বিবেচনার শুনানির দিন ঠিক করার জন্য রোববারের কার্যতালিকায় মামলাটি ১৯ নম্বরে ছিল।
 
এর আগে গত ৩ এপ্রিল রোববার নিজামীর আইনজীবী এএসএম শাহজাহান ৬ সপ্তাহ সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজামীর রিভিউ শুনানির তারিখ ঠিক করার জন্য ১০ এপ্রিল দিন ঠিক করেন।

গত ২৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার আইনজীবীরা রিভিউ আবেদন করেন। ৭০ পৃষ্ঠার মূল রিভিউর আবেদনের সঙ্গে মোট ২২৯ পৃষ্ঠার নথি পত্রে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৬ টি যুক্তি (গ্রাউন্ড) তুলে ধরা হয়েছে। রিভিউ আবেদনে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হলেন আইনজীবী   অ্যাড. জয়নুলর আবেদীন তুহিন।

রিভিউ আবেদন করার পরের দিন ৩০ মার্চ তা দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। ওই দিনই এ আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন মির্জা হোসেইন হায়দারের আদালত।

নিয়ম অনুযায়ী, রিভিউ নিষ্পত্তির আগে তার দণ্ড কার্যকর করা যাবে না। আর রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে সেই রায়ের অনুলিপি কারাগারে যাবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামির ফাঁসি কার্যকর করবে।

এর আগে গত ১৫ মার্চ নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আইন অনুযায়ী পরোয়ানা শোনার পর থেকে নিজামী আপিল বিভাগের চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের রিভিউ আবেদন করতে পারবেন ১৫ দিনের মধ্যে, যার শেষ দিন ছিল ৩০ মার্চ। তাই নির্ধারিত ১৫ দিন সময় শেষ হওয়ার এক দিন আগেই নিজামীর  রিভিউ আবেদন জমা দেন। এর মধ্যে ছেলে নাজীব মোমেনসহ আইনজীবীরা দুইবার এবং পরিবারের নিজামীর সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারে দেখা করেছেন।

গত ৬ জানুয়ারি বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতাসহ মানবতাবিরোধী তিন অপরাধের দায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন  আপিল বিভাগ। ওই দিন সংক্ষিপ্ত রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে)সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

গত ১৫ মার্চ মামলার ১৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। রাতেই তা বিচারিক আদালতে গেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এর পর পরই মৃত্যু পরোয়ানাসহ পূর্ণাঙ্গ রায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসক) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পরদিন ১৬ মার্চ সকালে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর কনডেম সেলে থাকা নিজামীকে মৃত্যু পরোয়ানা ও পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে শোনানো হয়। এর আগে বুদ্ধিজীবী নিধনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

আইন ও অপরাধ এর অারো খবর