রাত ৪:১৮, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তাজাতিক

ইরাকের কুর্দিস্তানের স্বাধীনতাকে ঘিরে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।

স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট হওয়ার পর কুর্দিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরাক। সোমবার ভোরে কুর্দিস্তানের কিরকুকে বিশাল সামরিক বহর নিয়ে অভিযানে নেমেছে ইরাকি বাহিনী।

ইরাকি ও কুর্দি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিরকুকের একটি তেলক্ষেত্র ও কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হয়েছে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, কুর্দিদের সামরিক বাহিনী পেশমার্গার প্রতিরোধ ছাড়াই কিরকুকের গ্রামাঞ্চলের বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে নিয়েছে সেনারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেশমার্গার এক কমান্ডারের বরাত দিয়ে কুর্দি নিউজ পোর্টাল রুড-এ বলা হয়েছে, কিরকুকের দক্ষিণে খুরমাতু এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ইরাকি ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছিল, ইরাকি বাহিনী ও পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্স (পিএমএফ) বড় ধরনের অভিযানের জন্য তাজা খুরমাতু থেকে আগ্রসর হয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিয়া মিলিশিয়াদের নিয়ে গড়ে উঠেছে আধাসামরিক বাহিনী পিএমএফ।

কুর্দিশ আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানির জ্যেষ্ঠ সহরকারী হেমিন হাওরামি এক টুইটে বলেছেন, কোনো ধরনের যুদ্ধ না বাধাতে পেশমার্গাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যদি তাদের ওপর গুলি চালানো হয়, তাহলে তারা যেকোনো ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।

এদিকে, কিরকুক শহরের ভেতরে ও বাইরে থাকা কুর্দি সেনারা হুংকার দিয়েছে, যেকোনো মূল্যে কিরকুক রক্ষা করবে তারা। এ ছাড়া কিরকুকের কুর্দি গভর্নর শহরের বাসিন্দাদের অস্ত্র তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকে বাসিন্দাকে অস্ত্র তুলে নিতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে শহরকে রক্ষা করতে হবে।

২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামি স্টেটের হামলার মুখে কিরকুক ছেড়ে পালায় ইরাকি বাহিনী। পরে তাদের কাছ থেকে শহরটি উদ্ধার করে কুর্দি বাহিনী। কিন্তু কিরকুকের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে ইরাক ও কুর্দি কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। এখানে রয়েছে বিশাল তেলক্ষেত্র। ইরাক থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন দেশ গঠনের উদ্দেশ্যে গত মাসে গণভোট আয়োজন এবং গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে রায় আসায় ইরাকের সঙ্গে কুর্দি কর্তৃপক্ষের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ইরাকের পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদিকে কিরকুকে সেনা পাঠানোর আহ্বান জানায়। ইরাকের এ পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছে কুর্দিরা। এখন সেখানে যুদ্ধের দামামা বাজছে

সোমালিয়ায় গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে ১৮৯ নিহত

করতোয়া ডেক্স : সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে শনিবার গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৮৯ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আড়াই’শ। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। মোগাদিসুর একটি ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে আশে পাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আবদুল্লাহি মুহাম্মদ ফারমাজো এ ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। রোববার সকাল থেকে শুরু হয়ে টানা তিনদিন চলবে এ শোক পালন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই বিস্ফোরণকে কয়েক বছরের মধ্যে শক্তিশালী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোমালিয়া সরকার এ হামলার জন্যে আল-শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। সোমালিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যস্ত এলাকায় এধরনের ট্রাক বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।

 বিস্ফোরণস্থলে সাফারি হোটেলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এঘটনার পর সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খায়ের বলেছেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আব্দুররহমান ওমর বলেছেন, এধরনের ঘটনা সোমালিয়ার ইতিহাসে এর আগে কখনো ঘটেনি। এটি বর্বরোচিত হত্যাকান্ড। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র আল-শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করে আসছে।

তাদের সঙ্গে সোমালিয়ার ২০ হাজার সেনা সদস্য সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। ইউএস আফ্রিকা কমান্ডের প্রধান দুদিন আগে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ঘটল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। আহতদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন মোগাদিসু শহরের মেয়র থাবিত আবদে মুহাম্মদ। সেখানে পৌঁছে তিনি রক্তদান করেন।

এই বিভাগের আরো খবর

সেরা ৫০০তে কোন ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা একটা কলঙ্ক : মোদি

করতোয়া ডেস্ক: বিশ্বের সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ভারতের নাম না থাকায় এটিকে কলঙ্ক হিসেবে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার এবিষয়ে বক্তব্য রাখাকালে তিনি বলেন,‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে ভারতের সেরা ১০টি সরকারি ও আরো ১০টি বেসরকারি  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের সমকক্ষ বানানোর জন্য ১০ হাজার কোটি ব্যয় করা হবে।

’ বিহারের পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি কার্যক্রমে অংশ নিয়ে মোদি জানান, ৫বছরের প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার জন্য সারা দেশের সেরা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। স্বাধীন জুরি বিভাগ ওই বিদ্যালয়গুলো তালিকাভুক্ত করবে। বক্তৃতার এক অংশে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়কেও এই প্রতিযোগিতায় ভাগ নেওয়ার আহ্বান জানান মোদি।

এই বিভাগের আরো খবর

ক্যালিফোর্নিয়ার ‘সবচেয়ে প্রাণঘাতী’ দাবানলে নিহত অন্তত ৪০

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রেকর্ডকৃত ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানলে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে, কয়েকশত লোক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এলেমেলো বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে কারণে শনিবার আরো কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

স্যান ফ্রান্সিসকো শহরের উত্তর দিকে প্রায় ৮৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সাতদিনেরও বেশি সময় ধরে দাবানলের ১৬টি প্রধান ধারার সঙ্গে ১০ হাজারেরও বেশি দমকল কর্মী এয়ার ট্যাঙ্কার ও হেলিকপ্টারের সহায়তা নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন।

দাবানলে এ পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, এদেরমধ্যে ২২ জন মারা গেছেন সোনোমা কাউন্টিতে। এই কাউন্টির ২৩৫ জন বাসিন্দা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার স্যান ফ্রান্সিসকোর ৮০ কিলোমিটার উত্তরে সান্তা রোসা শহর থেকে তিন হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত দাবানল কবলিত এলাকাগুলোর প্রায় এক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

আগুনে পুড়ে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০০ স্থাপনা ভস্মীভূত হয়েছে। বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছ। চলতি দাবানলে নিহতের সংখ্যা ১৯৩৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলসের গ্রিফিথ পার্কের দাবানলে নিহত ২৯ সংখ্যাটিকে ছাড়িয়ে অনেকদূর এগিয়ে গেছে।

“সত্যি ক্যালিফোর্নিয়া যেসব ভয়াবহ শোচনীয় ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে এটি সেগুলোর মধ্যে একটি। ধ্বংসের পরিমাণ অবিশ্বাস্য। এটি এমন এক আতঙ্ক যা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারবে না,” সান্তা রোসা শহর পরিদর্শনের পর বলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউন।

সান্তা রোসা শহরের এখনও অক্ষত আছে এমন এক বাড়ির মালিক মলি কুরল্যান্ড বলেন, “যারা ঘরবাড়ি হারায়নি সেইসব লোকজনও ভীষণ অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে আছে। যে এলাকায় আমরা বাজার-সদাই করতাম সেখানে এখন কিছুই নেই। আমার প্রিয় রেস্তোরাঁটিও নেই।”

ভয়াবহ এই দাবানল ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়ার দমকল কর্মীদের সঙ্গে ওরেগন, ওয়াশিংটন, অ্যারিজোনা, কলোরাডো ও নেভাদা অঙ্গরাজ্যের দমকল কর্মীরাও যোগ দিয়েছেন।

 

রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে নয়, ঘরে ফেরত নিন: কফি আনান

প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে নয়, ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকের পর এক অনানুষ্ঠানিক আলাপে মিয়ানমার সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান কফি আনান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেপ্টেম্বরের পর এটি ছিলো পরিষদের দ্বিতীয় বৈঠক। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করুন, যাতে তারা সেখানে নিরাপত্তার আঁচ অনুভব করে। একইসঙ্গে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাখাইন রাজ্য পুর্নর্গঠনে তাদের সহায়তা করুন’।

এছাড়া কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদ পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধির তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত গণহত্যা ও সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আলোচনা চলছে।

তবে কী পদ্ধতিতে তাদের ফেরত নেওয়া হবে এ বিষয়ে সু চি কোনো সদুত্তর দেননি। যদিও রোহিঙ্গা ফেরাতে ১৯৯২ সালের ঘোষণাকে ভিত্তি করার কথা ইতোপূর্বে বলেছে সু চির দফতর, পাশাপাশি যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক হয়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সাতটি রাষ্ট্র এই বৈঠকের আবেদন করে। বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরিসের বক্তব্য শুনেছেন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। জবাবে চীন ও রাশিয়া তা উড়িয়ে দিয়ে মিয়ানমারেরই পক্ষ নেয়। কার্যত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় ‘বহুল কাঙ্ক্ষিত’ আলোচনা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, সহিংসতার জেরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ।

তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখ ছাড়িয়েছে। দিন দিন রোহিঙ্গা স্রোত কোনো মতেই থামছে না। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। বেসরকারিভাবে এই সংখ্যা দশ হাজার পার করেছে মধ্য সেপ্টেম্বরেই। কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল সেখানে কাজ করার সুযোগ না পাওয়ায় নতুন তথ্য জানা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘আগুন বৃষ্টি’ ঝরাবে পিয়ংইয়ং!

করতোয়া ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উত্তর কোরিয়া ‘আগুন বৃষ্টি’ ঝরাবে বলে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো। রাশিয়ার তাস বার্তা সংস্থায় বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ইয়ং-হো যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের এ হুমকি দেন। “যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আগুনের বৃষ্টি ঝরানো উত্তর কোরিয়ার (ডিপিআরকে) সর্বস্তরের মানুষের ঐকান্তিক ইচ্ছা” বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার জেরে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিলেন সেকথা স্মরণ করিয়ে দেন ইয়ং-হো। তিনি বলেন, ‘‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সলতে জ্বেলেছেন। এখন শেষ কাজটি করার পালা আমাদের।

 কথা নয়, কেবল আগুন বর্ষিয়েই তা করা হবে।” যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনাও হো নাকচ করেছেন। দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা সম্ভব কিনা- এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে হো বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়… আলোচনার আদৌ কোনও পরিবেশ এখন নেই।” গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে পিয়ংইয়ং। হাইড্রোজেন বোমাও পরীক্ষা করেছে তারা। পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত হানার হুমকি বহুবার দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পাল্টা হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার রুশ সংবাদ সংস্থাকে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ং হো বলেন, তারা আত্মরক্ষার স্বার্থেই পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছেন এবং সে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

ছেলের জন্য খেলনা অর্ডার করে পেলেন জ্যান্ত সাপ!

করতোয়া ডেস্ক: অনলাইনে নিজের ছয় বছরের ছেলের জন্য খেলনা অর্ডার দিয়েছিলেন এক মহিলা। নির্ধারিত সময়ে অর্ডার পৌঁছেও গেল বাড়িতে। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে প্যাকেট খুলেই আঁতকে উঠলেন মহিলা। ছিটকে সরে এলেন ক্যুরিয়ারে আসা প্যাকেটের কাছ থেকে। কারণ, ওই প্যাকেটের মধ্যে থেকে তখন আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে একটা সাপ! আতঙ্কিত হয়ে চিত্কার শুরু করে দেন ওই মহিলা। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরাও। বড়সড় সাপটিকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরাও।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বনবিভাগের কর্মিরা। কিন্তু ততক্ষণে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন প্রতিবেশীরা। বিচিত্র এই ঘটনাটি ঘটেছে চীনের ঝেজিয়াং-এ। বনবিভাগের কর্মিরা পরীক্ষা করে জানিয়েছেন সাপটি নির্বিষ। গোটা বিষয়টি জানিয়ে ওই অনলাইন বিপণন সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান ওই মহিলা। জানা গিয়েছে, অভিযোগ পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ওই সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়। মহিলাকে এই অর্ডারের দামও ফিরিয়ে দিয়েছে ওই সংস্থা।

এই বিভাগের আরো খবর

হামাস-ফাতাহর ঐক্য চুক্তি স্বাক্ষরিত

ফিলিস্তিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস ও ফাতাহর মধ্যে ঐক্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের বিভাজন দূর করে ঐক্য সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে কয়েক দিন আগে সমঝোতায় পৌঁছায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণকারী এই দুই গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার মিশরের রাজধানী কায়রোয় দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আলজাজিরা অনলাইনের ব্রেকিং নিউজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার কায়রোয় বৈঠক শুরু করে হামাস ও ফাতাহর প্রতিনিধিরা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ঐক্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছে মিশর।

২০১১ সালে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একটি ঐক্য চুক্তি ছিল, বৃহস্পতিবার মূলত সেটিরই নবায়ন হলো। ফাতাহর জ্যেষ্ঠ নেতা আজম আল-আহমদ ও হামাসের প্রতিনিধি সালেহ আল-অরৌরি চুক্তিতে সাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, চুক্তির দিন থেকে আগামী এক বছরের মধ্যে আইন পরিষদ, জাতীয় পরিষদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা হামাস ও পশ্চিমতীর ফাতাহ নিয়ন্ত্রণ করে। ফাতাহর নেতা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
 

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নয়, বাংলাদেশের : সেনাপ্রধান মিন অং

করতোয়া ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের আবারও বাঙালি আখ্যা দিয়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেছেন, উপনিবেশের কালে ব্রিটিশ শাসকরা তাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে তাদের নিয়ে এসেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সেলের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক পেজে এমনটা জানানো হয়েছে। ডি-ফ্যাক্টো সরকার শাসিত মিয়ানমারে সেনাপ্রধান মিন অংকেই সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ক’দিন আগে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ প্রমাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সহিংসতার শিকার হয়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে খুব একটা বিচলিত হতে দেখা যায়নি। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে অভিহিত করে তাদের দুর্ভাগ্যের জন্য তিনি ব্রিটিশদের দায়ী করেন। বলেন, ‘বাঙালিদেরকে ব্রিটিশরাই মিয়ানমার নিয়ে আসে। তারা আমাদের দেশি নয়। এমনকি তারা রোহিঙ্গাও নয়। তারা শুধুই বাঙালি।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর থেকে জানানো হয়, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। তাদের বাড়ি ও ফসল পুড়িয়ে দিয়েছে। ২৫ আগস্ট হামলার পর চালানো সরকারি বাহিনীর নিধনযজ্ঞে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৬৫ জন মানুষের সঙ্গে জাতিসংঘ-কর্মীদের আলোচনার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মিয়ানমার ২৫ আগস্টে নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বললেও ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে এর আগে থেকেই সেখানে জাতিগত নিধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির। গত বছর নির্বাচনে জয়লাভ করে দায়িত্ব নিলেও আদতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতেই সব ক্ষমতা রয়েছে। মিন অং হ্লায়াং বলেন, ‘বাঙালিরা আরসার নেতৃত্বে হামলা চালিয়েছে। নিজেরা বাঁচতে পারবে না জেনেই তারা পালিয়ে যাচ্ছে।’

আগেও রোহিঙ্গা প্রশ্নে একই অবস্থান নিয়েছেন মিন অং। ১৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার)  নিজের সরকারি ফেসবুক পেজে তিনি  রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠী বলে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তার দাবি, রোহিঙ্গারা কখনও মিয়ানমারের জাতিগত গোষ্ঠী ছিল না; এটি ‘বাঙালি ইস্যু’।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সৃষ্ট এই পরিস্থিতির জন্য মিন অং ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। তিনি সবসময়ই চেয়েছেন রোহিঙ্গারা ফিরে যাক। মিন অং বলেন, বাঙালিরা বাংলায় ফিরে যাক। তারা হয়তো অন্য দেশেও পালিয়ে গেছে। সেখানেও হয়তো নাগরিকত্ব দাবি করেছে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ‘অনেক বাড়িয়ে’ বলা হচ্ছে। আর এর পেছনে অনেক সংবাদমাধ্যম অপপ্রচার চালাচ্ছে।

মিয়ানমারের হুঁশিয়ারি নিষেধাজ্ঞায় ভালো ফল আসবে না

করতোয়া ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের জেরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কারও জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ টুন টুন নাইং এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে মিয়ানমার টাইমসের এক প্রতিবেদনে বুধবার জানানো হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশের ওপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে। সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়েছে। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও রোহিঙ্গা মুসলিমরা রাখাইন ছেড়ে পালাচ্ছে। আক্রমণাত্মক অভিযানে লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে আসার ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মিয়ানমার টাইমস বলছে, ‘যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলে কয়েক বছরের উন্নয়নের পর দেশটির বর্তমান অর্থনীতিকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’

‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এটা ভালো কোনো লক্ষণ নয়। নিষেধাজ্ঞা আরোপের অর্থ হচ্ছে কোনো দেশকে অর্থনৈতিকভাবে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাধা দেয়া। তারা আমাদের অবাধ ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকার ও দেশের সঠিক উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে এবং এটা ভালো কিছু নয়’- বলেন ইউ তুন তুন নাইং। মিয়ানমারের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলে অর্থনীতির ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না।

বাণিজ্য এবং সহযোগিতার মাত্রা কম থাকায় এতে কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে জাতিগত শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটিকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এটি দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ মিয়ানমার টাইমস বলছে, মিয়ানমার এখনও গণতান্ত্রিক যাত্রা ও জাতীয় ঐক্যের পথে শুরুর দিকে রয়েছে।

তুলনামূলকভাবে দেশটির অর্থনীতি দ্রুত অগ্রগতি লাভ করছে। আগের বছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে; যা ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে নতুন বিনিয়োগ আইন কার্যকর করা হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন কোম্পানি আইনও অনুমোদন পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া বেশ কিছু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও গভীর সমুদ্র বন্দরে বড় ধরনের বিনিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। ফলে নতুন নতু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে এসব কিছুই বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখপাত্র ইউ জ্য হতেই বলেন, ‘কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে সেটি কোনো ব্যাপার নয়; তবে গণতন্ত্রের রূপান্তর, অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা পশ্চিমাদের উচিত হবে না।’ মিয়ানমার টাইমস বলছে, দেশীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী প্রশাসন থেকে বর্তমান সরকার, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠী অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে জাতিগত, ধর্মীয় এবং সামরিক বিষয়গুলো এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল।

দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ইউ ইয়ে মিন ওও বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অনৈক্য দেখা দিতে পারে।’ ইউ তুন তুন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে মিয়ানমারের অর্থনীতিতে তা সীমিত প্রভাব ফেলতে পারে। নিষেধাজ্ঞার কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিয়ানমারের ব্যবসা-বাণিজ্য সীমিত। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের তুলনায় ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কম হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারের অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না।’

রোহিঙ্গা মুসলিমরা স্থানীয় নয় : মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা স্থানীয় নয়। ব্রিটিশ উপনিবেশের সময় তাদের আনা হয়েছিল।

দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্রধান ও সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে এ কথা বলেছেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টক মার্সিয়েল বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক পেজে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য পোস্ট করেছেন। এর আগে তাদের মধ্যে বৈঠক হয়।

বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারের সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ব্যক্তি সেনাপ্রধান মিন অং হলাইং। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়- তার এই অপোশহীন অবস্থান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক সহিংসতার মুখে এরই মধ্যে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

সেনাপ্রধান মিন অং রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে সম্বোধন করে বলেছেন, এই সমস্যার জন্য ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরাই দায়ী।

বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে মার্সিয়েলের ফেসবুক পোস্টে সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করা হয়েছে এভাবে, ‘বাঙালিদের এ দেশে মিয়ানমার আনেনি, ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরা তাদের এনেছে।’ সেনাপ্রধান আরো বলেছেন, ‘তারা স্থানীয় নয়, নথিপত্র থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, ঔপনিবেশিক আমলে তাদের বাঙালি বলে ডাকা হতো, রোহিঙ্গা নয়।’

বুধবার জাতিসংঘের মাবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চল থেকে বর্বরভাবে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দিয়েছে। তারা যেন ফিরে যেতে না পারে, সেজন্য তাদের ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর আউটপোস্টে তথাকথিত রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার অজুহাতে ভয়ংকর অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। তবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ৬৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বুধবার জানায়, ২৫ আগস্টের আগেই তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন শুরু করে সেনাবাহিনী।

আজ বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী ও ডি ফ্যাক্টো সরকারপ্রধান অং সান সু চির টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
 

১১ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসন নীতি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বসবাস ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শতাধিক অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে রয়েছে ১১ বাংলাদেশিও।

ওই ১১ বাংলাদেশিসহ শতাধিক অভিবাসী নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের বিশেষ বিমান স্থানীয় সময় বুধবার ভোররাতে দক্ষিণ এশিয়ার উদ্দেশে উড়াল দেয়।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) মিডিয়া দপ্তর বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

তারা বলছে, এটি প্রচলিত কার্যক্রমেরই একটি অংশ। একদিকে অভিবাসনের আইন লঙ্ঘন, অপরদিকে নানাবিধ অপকর্মে লিপ্তদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের যে কার্যক্রম চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় এদের গ্রেপ্তার করে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ওই ১১ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর তাদের মুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও কংগ্রেসে আবেদন করেছিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান মাজেদা উদ্দিন।

এই বাংলাদেশিরা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, “সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শুধুমাত্র গুরুতর অপরাধীদের ধরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

“অথচ এই ১১ বাংলাদেশির একজনও কোনো ধরনের অপরাধে লিপ্ত ছিলেন না। তাদের অপরাধ একটাই, আর তা হচ্ছে অভিবাসনের মর্যাদা পাননি। তারা সকলেই ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা দোকানের বিক্রেতা অথবা ট্যাক্সি চালিয়ে দিনাতিপাত করছিলেন।”

ফেরত পাঠানো ১১ বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার মোজাম্মেল হক এবং তার স্ত্রী নাসরীন সুলতানা রয়েছেন।

মাজেদা উদ্দিন জানান, ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ডে রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একই রেস্তোরাঁয় কাজ করা তার স্ত্রী বাধা দিয়ে ফেঁসে গেছেন; কারণ তিনিও অবৈধভাবে এদেশে বাস করছিলেন।

এ দম্পতির তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের সবার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে এই শিশুদের কী হবে, সেটি তুলে ধরে মানবিক কারণে তাদের মুক্তি দিতে সিনেট ও কংগ্রেসে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।”

এ বছর দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০০ অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের তথ্য; এ সংখ্যা গত বছরের চেয়ে তা ৪০ শতাংশ বেশি।

সেপ্টেম্বরের শেষ চারদিনেও নিউ ইয়র্ক সিটি ও বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশসহ ৪২ দেশের ৪৮৯ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে আইস এজেন্টরা।

আইস কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার এই অভিবাসীরা ইমিগ্রেশনের আইন লঙ্ঘন করে বসবাস করার পাশাপাশি অনেকে নানা অপকর্মেও জড়িত ছিল।

ওই অভিযানে নিউ ইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়া, জ্যাকসন হাইটস ও ব্রুকলিন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত নয় বাংলাদেশি।

আইস জানায়, গ্রেপ্তার বাংলাদেশিদের একজন গুরুতর অপরাধ করে জেল খেটেছেন। মানুষজনকে হয়রানি ও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি।

একদিকে অভিবাসী মর্যাদা নেই, অন্যদিকে সামাজিক অস্থিরতার জন্যে অভিযুক্ত হওয়ায় ওই ব্যক্তিসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

গত মাসের শেষ সপ্তাহের ওই অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৮৯ জনের মধ্যে ৩১৭ জন গুরুতর অপরাধে জেল খেটেছে, ৬৮ জনের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ রয়েছে, ১০৪ জন বহিষ্কারের পর ফের বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছিলেন। এছাড়া ১৮ জন চিহ্নিত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য ছিল বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন দপ্তর।

এদিকে এই গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। যদিও যারা কোনো অপরাধে জড়িত নন বা ছিলেন না, তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ধরনের অভিযানের প্রেক্ষাপটে সবাইকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের পরিচয়পত্র নেই, তারা যেন এমন কিছু সঙ্গে রাখেন, যা দিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানো যায়; বিশেষ করে যাদের অভিবাসী মর্যাদার ‘এডজাস্টমেন্ট’ অথবা অন্য কোনো কর্মসূচিতে আবেদন ঝুলে রয়েছে, তারা যেন এটর্নির পরামর্শ অনুযায়ী চলাচল করেন।

এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনের নিউ ইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক থমাস আর ডেকার বলেন, জনগণের নিরাপত্তাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সে কারণে সব ধরনের অপরাধীকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনের ঐতিহ্য রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের, এজন্য আমরা সবাই গর্ববোধ করি। একইসঙ্গে আমরা আইনের শাসনের ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছি। তাই যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে অপরাধ করছে, সমাজ ও জীবনকে ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের রেহাই দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে মিলন হবে ধর্ষণ : ভারতীয় আদালত

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এক রায়ে বলেছে, স্ত্রীর বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয়, তার সঙ্গে যৌন মিলনও হবে ‘ধর্ষণ’ এবং সেই হিসেবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে ধর্ষণের সাজার ক্ষেত্রে একটি ধারার বৈধতা নিয়ে এক মামলায় বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দেয় বলে এনডিটিভির খবর। ভারতের আইনে বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ। মেয়েদের বয়স ১৮ ও ছেলেদের ২১ না হলে ভারতীয় আইনে বিয়ে বৈধতা পায় না।   

ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের সঙ্গে যে কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করা হলেও সেই মেয়ে কারও স্ত্রী হয়ে থাকলে এবং তার বয়স ১৫ বছরের বেশি হলে স্বামীর ক্ষেত্রে আইনে ছাড় দেওয়া হয়েছে।  

আইনে ছাড় দেওয়ার ওই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ইনডিপেনডেন্ট থট। তাদের আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করে।

সেখানে বলা হয়, ধর্ষণের আইনে ওই ছাড় দেওয়া বৈষম্যমূলক, মেয়ে শিশুদের জন্য শারীরিকভাবে মর্যাদাহানীকর এবং অসাংবিধানিক। এ ধরনের ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই স্ত্রী এক বছরের মধ্যে আদালতে অভিযোগ জানাতে পারবে।

সরকার এ মামলার শুনানিতে যুক্তি দিয়েছিল, বিয়ের বয়স নিয়ে আইন থাকলেও ভারতে বাল্যবিয়ে একটি বাস্তবতা এবং যাদের বিয়ে হয়ে গেছে, সেটা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।  

আদালত সরকারের ওই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বাল্যবিয়ে বন্ধে আরও উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এই রায়ের মধ্যে দিয়ে ভারতের ২ কোটি ৩০ লাখ বালিকা বধূর অধিকারের প্রশ্নেই সায় দিল আদালত।

ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে যারা বিবাহিত, তাদের ৪৬ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর হওয়ার আগেই।

তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের এই রায় কোনোভাবেই বৈবাহিক ধর্ষণের (স্ত্রীর সঙ্গে বলপূর্বক যৌনমিলন) সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে ঘরছাড়া হয়েছেন ২০ হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। নাপা, সোনোমা ও ইউবা থেকে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর রাজ্যটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। বলা হয়, এই আগুনে হাজার হাজার মানুষের জীবন ও তাদের সম্পত্তি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যালিফের্নিয়ায় দুর্যোগ ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে ২৭টি স্থানে এই আগুন নিয়ন্ত্রণে অর্থায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে।

মেক্সিকোতে কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ১৩

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য নুয়েভো লিওনের একটি কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী দলগুলোর মধ্যে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের মধ্যে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

দাঙ্গা থামাতে কারাগারটিতে সেনা পাঠানো হয় বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন রাজ্যের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলদো ফাসকি, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মনতেরে শহরের নিকটবর্তী কাদেরেইতা কারাগারে নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশ করে কারারক্ষী ও অন্যান্য কয়েদিদের সুরক্ষা দিতে ‘প্রাণঘাতী’ শক্তি ব্যবহার করেছে।

আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ফাসকির বরাতে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে কারাগারটিতে বন্দি ছয়টির মতো অপরাধী দলের লোকদের মধ্যে একটির সদস্যরা প্রতিবাদ করতে শুরু করলে সমস্যার সূত্রপাত হয়। ওই দলের প্রতিবাদ মিলিয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে দলগুলোর মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে যায় এবং এক কয়েদি নিহত হওয়ার পর তার লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

দাঙ্গাকারীরা কারারক্ষীদের জিম্মি করে রাখে এবং কারাগারের ছাদে নিয়ে গিয়ে তাদের পেটায়। পুলিশ কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় দেড়শ কয়েদি তাদের ওপর হামলা চালায়।  

‘প্রাণঘাতী’ শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত না নিলে আরো অনেকের মৃত্যু হতো বলে দাবি করেছেন ফাসকি। তবে কতোজন দাঙ্গায় আর কতোজন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

 

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার নিশ্চয়তা

করতোয়া ডেস্ক: মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জাতিসংঘের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। যুক্তরাষ্ট্র সফররত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার এক সাক্ষাতে জাতিসংঘ মহাসচিব একথা জানান বলে জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সঙ্কটের ঘটনায় আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিষয়টির ওপর জাতিসংঘের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ রয়েছে। অনেক জনসংখ্যার দেশ হয়েও বাংলাদেশ এই বিশাল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, এটি আমাকে মুগ্ধ করছে। এ মানবিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে জানিয়ে আন্তোনিও গুতেরেস এ বিষয়ে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার নিশ্চয়তা দেন। গত মাসে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনের হাই লেভেল সপ্তাহে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার আলাপচারিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সাক্ষাতে অর্থমন্ত্রী মুহিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী একটি ‘সেইফ জোন’ গঠনসহ রোহিঙ্গা সঙ্কটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। জাতিসংঘ মহাসচিবকে যতদ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ সফরের আহ্বানও জানান তিনি। সাক্ষাতে জাতিসংঘ সংস্কার কার্যক্রম ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে জাতিসংঘের সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়ে এটি যেন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অগ্রগতি ও উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক হয় তা নিশ্চিত করার জন্য মহাসচিবকে অনুরোধ করেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিবের কার্যালয়ে এ সাক্ষাতে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিউল আজম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম ও বাংলাদেশ মিশনের ইকোনমিক মিনিস্টার ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুনসহ ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সাক্ষাতের শুরুতে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে স্বাগত মহাসচিব গুতেরেস বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এসডিজি বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা তৈরিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন সফলতার প্রশংসা করেন তিনি। একই দিন বিকালে অর্থমন্ত্রী ইউএনডিপি সদর দপ্তরে ইউএনডিপির প্রশাসক আহখিম স্টেইনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন ইউএনডিপির প্রশাসক। বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নসহ উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে অর্থমন্ত্রীকে বলেন তিনি। এর আগে অর্থমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফেকিতামইলোয়া কাতোয়া উতোইকামানুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে  বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পরবর্তী ধাপে উত্তরণের বিষয়সমূহ প্রাধান্য পায়।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ১০ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার বিবিসি জানিয়েছে, রাজ্যে মদ প্রস্তুতের জন্য প্রসিদ্ধ কয়েকটি অঞ্চলে দাবানলের কারণে লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। আগুনে কয়েকজন আহত এবং নিখোঁজ রয়েছে। প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলেছেন।

স্থানীয় সময় গত রোববার রাতের এই দাবানলে নাপা, সনোমা ও ইয়ুবা কাউন্টি থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে। রাজ্যের সনোমা কাউন্টিতেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নাপায় দুজন ও মেনডোসিনোতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

কীভাবে এই দাবানলের সূত্রপাত তা জানাতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দাবানল দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে যে, একটি উপত্যকায়ই কয়েক হাজার একর ভূমি পুড়ে গেছে।


রাজ্যের এক আঙুর বাগানের মালিক লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে জানান, রোববার রাতে আগুন লাগার পর পরিবার নিয়ে তিনি তার বাড়ি থেকে সরে গেছেন। তার বাগান পুড়ে গেছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

প্রচণ্ড বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়া দপ্তর এ কারণে সানফ্রান্সিসকোতে সতর্কতা জারি করে বলেছে, এই অঞ্চলে আগুন লাগলে তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

সাদা বাঘের থাবায় প্রাণ গেল..

দুটি সাদা বাঘের থাবায় প্রাণ গেল পার্কের এক রক্ষীর।

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর পাশে বানেরঘাটা বায়োলজিক্যাল পার্কে রোববার এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

খাঁচার ভেতরে খাবার দিতে গেলে অন্য পাশের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে দুটি সাদা বাঘের শাবক আনজি নামে রক্ষীর ওপর আক্রমণ করে। কয়েকটি থাবা বসায় তার ওপর। এতে ৪০ বছর বয়সি আনজির মৃত্যু হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে পার্কের রক্ষী হিসেবে কাজে যোগ দেন আনজি। রোববার তিনি খাঁচার ভেতর বাঘের জন্য খাবার রাখতে যান। কিন্তু তার জানা ছিল না, অন্য পাশের দরজা খোলা, যেখানে বাঘ শাবক দুটি বিশ্রাম নিচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বাঘ শাবক দুটি আনজির ওপর হামলা করলে তিনি বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু ‘সৌভাগ্য’ নামের শাবকটি তার ওপর হামলে পড়ে। দ্বিতীয় শাবকটিও তার সঙ্গে যুক্ত হয়। এদের উপর্যুপরি থাবায় আনজির মৃত্যু হয়।

এই পার্কে দুই বছর আগে এক সিংহের আক্রমণে মারাত্মক জখম হন আরেক রক্ষী। সম্প্রতি রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের আক্রমণে মারা যায় একটি সাদা বাঘ।

বানেরঘাটা ন্যাশনাল পার্কের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১ হাজার ৩৪৬ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা এই পার্কে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতা, সাদা বাঘসহ ১ হাজার ৯৪১টি প্রাণী রয়েছে। ১৯৭০ সালে পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৪ সালে জাতীয়করণ হয়।
 

ছোট বোনকে নেতৃত্বে আনলেন কিম জং-উন

করতোয়া ডেস্ক: ছোট বোন কিম ইয়ো-জংকে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নীতি নির্ধারণী পলিট ব্যুরোর বিকল্প সদস্য বানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। পার্টির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ৩০ বছর বয়সী ইয়ো-জংকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়। রবিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে। সভাপতির পর অন্যতম সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক এই পদে আগে ছিলেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট কিম জং-ইলের বোন কিম কিয়ং-হি।

ইয়ো-জং তার ভাই জং-উনের সঙ্গেই ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি দেশে ফিরে কিম ইল-সং মিলিটারি ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়েছেন বলে ধারণা করা হয়। গত জানুয়ারিতে ইয়ো-জংকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র কালো তালিকায়র্ভূক্ত করে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইয়ো-জংকে আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং তার সঙ্গে মার্কিন কোম্পানির লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

সব রোহিঙ্গাকে কুতুপালং ক্যাম্পে রাখার পরিকল্পনায় বিপদ দেখছে জাতিসংঘ

করতোয়া ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য বাংলাদেশে যে বিশাল শরণার্থী ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে তা ‘বিপদজনক’ হবে বলে মনে করেছে জাতিসংঘ। একটি বড় শিবিরে লাখ লাখ শরণার্থীকে রাখার পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রবার্ট ওয়াটকিনস। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে ওই মহাপরিকল্পনা নিয়ে এসব কথা বলেছেন ঢাকায় জাতিসংঘের এই আবাসিক সমন্বয়ক।

নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য কুতুপালংয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানান,  সব রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে অস্থায়ীভাবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে  অন্যান্য সব ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।তবে শনিবার ঢাকায় রবার্ট ওয়াটকিনস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে বলেন,  ‘যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ একটি সুনির্দিষ্ট সংকীর্ণ স্থানে থাকবে, আর সেই মানুষগুলো যদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে, তাহলে তাকে বিপদজনক বলতেই হবে।’ রবার্ট  বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘একস্থানে মাত্রাতিরিক্ত মানুষ বসবাসের ফলে নানা ধরনের মরণঘাতী রোগ দ্রুত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।’ এছাড়া সেখানে আগুন লাগার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। বাংলাদেশ বলছে, একটি বড় ক্যাম্পে সব শরণার্থীকে রাখা গেলে ত্রাণ ও নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হবে। তবে রবার্ট ওয়াটকিনসের মন্তব্য, ‘একটি ক্যাম্পে গাদাগাদা মানুষ রাখার চেয়ে বেশি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্প বানালে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলার কাজটা অনেক বেশি সহজ হবে।’

উলে­খ্য, কুতুপালং ক্যাম্পকে ২০টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে, পরবর্তীতে যেগুলোকে ক্যাম্পে রূপান্তর করা হবে। ক্যাম্পের বাইরে যে সব ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা বর্তমানে আছেন ক্রমান্বয়ে তা গুটিয়ে নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ক্যাম্পের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় ও অন্যান্য স্থানে যে সব রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

হঠাৎ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প

করতোয়া ডেস্ক: মার্কিন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘ঝড়ের আগে পরিবেশ কেমন হয় জানেন? শান্ত! হতে পারে এই বৈঠক সেরকমই।‘বৈঠক শেষে সেনাকর্তাদের সঙ্গে হাসিমুখে ফটোগ্রাফারদের ‘পোজ’ দেন, সারেন নৈশভোজ।মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইঙ্গিতেই স্পষ্ট, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে আমেরিকান মিলিটারি। আর সেই কারণেই গতকালকের জরুরি বৈঠক।

যদিও হোয়াইট হাউস সূত্রে ট্রাম্পের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মতামত জানতে চান ট্রাম্প। যুদ্ধ বাধলে কতটা ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ হবে, সে বিষয়ে জানতে চান। হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট রুমে এদিনের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের উপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প জানান, কোনওমতেই উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের একাধিপত্য মেনে নেওয়া যাবে না। এতে মার্কিন নাগরিক ও মিত্রশক্তিদের নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। একটিও পারমাণবিক অস্ত্র আমেরিকার বুকে বা আমেরিকার কোনও মিত্ররাষ্ট্রে আছড়ে পড়লে অসংখ্য সাধারণ মানুষ মারা যাবেন। ক্ষতি হবে অপূরণীয়। তাই পিয়ংইয়ংকে রুখতে যা যা করা দরকার, আমেরিকা এখনই করতে চায়।এর আগে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প
মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমেরিকা চাইলে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর

ফাঁসির বিকল্প খোঁজার নির্দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

করতোয়া ডেস্ক: অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ভারত-বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মৃত্যুদন্ড’ দেয়া হয়। ‘মৃত্যুদন্ড’ কার্যকরে একাধিক পন্থাও অবলম্বন করা হয়। তবে ‘মৃত্যুদন্ড’ কার্যকরে ফাঁসি কতটা যথাযথ, তা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ‘যে কারওরই মৃত্যু যন্ত্রণাহীন ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া উচিত’ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে ফাঁসির পরিবর্তে অন্য কোনো বিকল্প পন্হা খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

মোদিকে বিয়ে করে, তবেই বাড়ি ফিরবেন শান্তি !

করতোয়া ডেস্ক: বিয়ে করলে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই করবেন। এমনই পণ করে দিল্লির যন্তর মন্তরে মাসখানেক ধরে ধর্নায় বসে আছেন ওম শান্তি শর্মা।৪০ বছর বয়সী শান্তি শর্মা রাজস্থানের জয়পুরে থাকেন। তার ২০ বছর বয়সী এক মেয়েও আছে। শান্তি বিবাহবিচ্ছিন্না। কিন্তু শান্তির মনে অদ্ভুত একটা জেদ চেপে বসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি বিয়ে করতে চান। একটু হেসে শান্তি বলেন, আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু বেশি দিন সেই সম্পর্ক টেকেনি। তার পর থেকে বহু বছর আমি একা। শান্তির যুক্তি হচ্ছে, তিনি এখন একা, প্রধানমন্ত্রীও একা। মোদিকে অনেক কাজ করতে হবে, আর সেই কাজে তাঁকে সহযোগিতা করতে চান শান্তি। পাশাপাশি, তিনি এটাও জানান, শুধুমাত্র মোদিকে বিয়ে করবেন বলে বিয়ের বহু প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। মোদির সঙ্গে দেখা করা অত সহজ নয়, এ কথা ভাল ভাবে জানেন শান্তি। সেটা স্বীকারও করেছেন। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদি যতক্ষণ না এসে তার সঙ্গে দেখা করবেন, তিনি এই ধর্না তুলবেন না।

শান্তি বলেন, মানুষ যখন এই কথা শোনেন, আমাকে উপহাস করে। কিন্তু তাদের একটা বার্তা দিতে চাই, শুধু ভালবাসার টানেই নয়, মোদির প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। আর সে কারণেই আমার এই সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি তিনি এটাও জানান যে, ছোটবেলায় তাকে শেখানো হয়েছে বড়দের সম্মান করো, তাদের কাজে সাহায্য করো। তাই মোদিকে বিয়ে করে তার কাজে সাহায্য করতে চান।

শান্তির দাবি, তার সম্পত্তি বা অর্থের কোনও অভাব নেই। ভবিষ্যত্ নিয়েও চিন্তিত নন। জয়পুরে প্রচুর জায়গা-জমি রয়েছে। সেসব বিক্রি করে মোদির জন্য উপহার কেনার পরিকল্পনা করেছি। তবে মোদি যতক্ষণ না আসবেন, যন্তর মন্তর থেকে আমি এক পা-ও নড?ব না। একমাস ধরে যন্তর মন্তরে সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি শৌচালয় ব্যবহার করছেন শান্তি। আর খাওয়া-দাওয়া করছেন কাছেরই গুরুদ্বারে। ইন্ডিয়া টুডে অনলাইন

এই বিভাগের আরো খবর

৩৬ জনকে খুন করিয়েছেন হানিপ্রীত

করতোয়া ডেস্ক: জোড়া ধর্ষণ মামলায় গুরমিত রাম রহিমকে সাজা দেয়ার খবর আদালতের বাইরে আসতেই তার ভক্তদের সহিংসতায় মৃত্যু হয় অন্তত ৩৬ জনের। পালক পিতাকে বাঁচানোর জন্য সহিংসতা ছড়াতে ১.৫৭ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন হানিপ্রীত। রাম রহিমের নির্দেশেই সেই টাকা এসেছিল ডেরার অ্যাকাউন্ট থেকে।  গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাম রহিমের গাড়ির চালক ও তার ব্যক্তিগত সহায়ক রাকেশ কুমার গ্রেফতার হন।

হরিয়ানা রাজ্যের পঞ্চকুলা জেলার পুলিশ কমিশনার এ এস চাওলা জানিয়েছেন, রাকেশকে জেরার পর এই তথ্য জানা গেছে। ডেরা পঞ্চকুলা শাখার প্রধান চমকৌর সিংহের হাতে হানিপ্রীত ১.৫৭ কোটি টাকা তুলে দিয়েছিলেন। রাকেশকে জেরা করে পুলিশ হানিপ্রীত সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারে। গত ৩ অক্টোবর পুলিশের হাতে ধরা পড়েন হানিপ্রীত।

এই বিভাগের আরো খবর

ইরান চুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

করতোয়া ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে পূর্বসূরি বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এ জন্য তিনি চলতি সপ্তাহে এ চুক্তিতে সত্যয়ন না করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরান পরমাণু চুক্তি পর্যালোচনা আইনে (ইনারা) বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন প্রতি তিন মাস পর কংগ্রেসের কাছে ইরান চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলছে বলে সত্যায়ন করবে । প্রেসিডেন্ট এতে সত্যায়ন না করলে গোটা বিষয়টি কংগ্রেসের হাতে চলে যাবে এবং ৬০ দিন পর কংগ্রেস ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন করে অবরোধ আরোপ করতে পারবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময় ইরান চুক্তিতে ‘অস্বস্তিকর’ এবং ‘ এ যাবৎকালের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 তিনি বরাবরই এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ব্যাপারে নতুন বিশদ মার্কিন নীতিও ট্রাম্প উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। আর নতুন এই নীতি হবে ইরানের প্রতি অনেক বেশি আক্রমনাত্মক। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ আমরা কখনোই দেব না।’ এর যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইরান সরকার সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সহিংসতা, রক্তপাত ও সংঘাত রপ্তানি করে। আর এই কারণে আমাদেরকে ইরানের আগ্রাসন ও তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খার সমাপ্তি টানতে হবে। তারা তাদের চুক্তির সারমর্মের ওপর আর নেই।’

এই বিভাগের আরো খবর

বিমান থেকে নামতে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেল বাদশাহর স্বর্ণের সিঁড়ি!

করতোয়া ডেস্ক: বিমান থেকে নামতে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেল সৌদি বাদশাহর স্বর্ণের সিঁড়ি। বুধবার রাতে চার দিনের সফরে রাশিয়ায় যান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। উড়োজাহাজ থেকে নামার সময় তিনি ব্যবহার করেন সোনার তৈরি চলন্ত সিঁড়ি। কিন্তু নামার সময় থেমে যায় সেই সিঁড়ি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেও যখন চালু হয়নি, তখন পায়ে হেঁটেই বাকিটুকু নামেন ৮১ বছর বয়সী সালমান। পরে রুশ পুলিশের গাড়িবহর তাকে মস্কোর ভেতরে নিয়ে যায়। সৌদি কোনো বাদশাহ এই প্রথম রাশিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফর করছেন। বাদশাহ সালমান যে হোটেলে আছেন, সেখানে তিনি নিজস্ব আসবাব ব্যবহার করছেন।

 এগুলো সৌদি আরব থেকে নিয়ে এসেছেন তিনি। রাশিয়ায় দুটি হোটেল বরাদ্দ নিয়েছে সৌদি সরকার। একটি হল দ্য রিটজ কার্লটন ও দ্য ফোর সিজনস। বাদশাহ ও তার সফরসঙ্গীদের সুবিধার জন্য ওই দুই হোটেলে আগে থেকে কক্ষ ভাড়া নেয়া কিছু ব্যক্তিকে বের করে দেয়া হয়। দ্য ফোর সিজনস হোটেলের এক দ্বাররক্ষী বলেন, পুরো হোটেলটি ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সাধারণ মানুষ এতে ঢুকতে পারবেন না। রাশিয়ার ফেডারেশন অব রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড হোটেলিয়ারস নামক সংগঠনের সহসভাপতি ভাদিম প্রাজভ বলেন, সৌদি বাদশাহর সফরকালে এ দুই হোটেলের বুকিং ফি হল ৩০ লাখ ডলার। এর বাইরে খাবার, স্পা ও অন্যান্য সেবার ভাড়া রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ঠেকাতে মরিয়া স্পেন

করতোয়া ডেস্ক : যেকোনো উপায়ে কাতালোনিয়া অঞ্চলের স্বাধীনতার ঘোষণা ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার স্পেনের সাংবিধানিক আদালত কাতালোনিয়া আঞ্চলিক পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করেছেন। এ নিয়ে কাতালান কর্তৃপক্ষ ও সরকারের মধ্যে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আদালত বলেছেন, ‘স্বাধীনতা ঘোষণার মতো পদক্ষেপ স্পেনের সংবিধানকে লঙ্ঘন করবে।’

এর আগেও কাতালোনিয়া অঞ্চলের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন এই আদালত। গত রোববার স্বাধীনতার প্রশ্নে কাতালোনিয়ায় গণভোট হয়। এ ভোটে স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন  কাতালানরা। কিন্তু মাদ্রিদভিত্তিক স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার গণভোট প্রত্যাখ্যান করে এবং এ ভোটকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেন সাংবিধানিক আদালত। গণভোটের পর স্বায়ত্তশাসিত কাতালোনিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট চার্লস পুইগডেমন্ট বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা কয়েক দিনের ব্যাপারমাত্র। সোমবার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট অধিবেশনে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

রোহিঙ্গাদের আরও সহায়তা করার পরিকল্পনা দুবাইয়ের

মিয়ানমারের নিপীড়ত রোহিঙ্গাদের সহায়তার ওপরে আবারও জোর দিয়েছেন দুবাইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ আল মাখতুম। এজন্য তিনি একটি ‘আকাশ সেতু’ নির্মাণের কথা বলেছেন যার মাধ্যমে নিয়মিত রোহিঙ্গাদের সহায়তা করা যাবে। শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ টুডের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দুবাইয়ের ত্রাণ এসে পৌছেছে বাংলাদেশে। ১১, ১৩ ও ১৫ অক্টোবর আরও ত্রাণ এসে পৌঁছাবে।

 

এর মাঝে ২৭০ টিন চাল এসে পৌছেছে। এই ত্রাণ সরবরহারের জন্য শেখ মোহাম্মাদ তার ব্যক্তিগত বিমান ৭৪৭ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়া সি১৩০ ও ৭৫৭ বিমানের মাধ্যমেও ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর আগেও শেখ মোহাম্মদ ‍দুইটি বোয়িংয়ের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন। সেসময় ছিলো ৮ হাজার রোহিঙ্গাদের জন্য ২৪ হাজার তারপুলিন।

২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

এয়ারব্রিজ বা আকাশসেতুর এই পরিকল্পনার ফলে দুবাইভিত্তিক ত্রাণ সংস্থাগুলো আরও ভালোভাবে রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়াতে পারবে বলে জানায় গালফ টুডে। এই সহায়তাগুলো ইউএনএইচসিআর, রেড ক্রিসেট, মেডসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স, আইওএম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছাবে।

একটি বাটির দাম ৩১১ কোটি টাকা!

করতোয়া ডেস্ক: হাজার বছরের পুরোনো চীনের সং রাজবংশের একটি চীনমাটির বাটি ৩১১ কোটি টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।মঙ্গলবার হংকংয়ে নিলামে বিক্রি হয় বহুমূল্যের বিরল এই বাটি। চীনের চীনমাটির তৈজসপত্রের মূল্যের বিচারে এটিই সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে।নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সথবি’স এটি নিলামে তোলে। রু-ওয়্যার নামে এই বাটি ব্রাশ ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো। সথবি’স জানিয়েছে, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে নিলাম হাঁকা শেষ হয়। নিলাম কক্ষে এক ক্রেতা বাদে বাকিরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দরকষাকষিতে অংশ নেন।

নীল-সবুজ রঙের বাটিটির ব্যাস মাত্র পাঁচ ইঞ্চি। চীনে লেখা ও চিত্রাঙ্কনের ব্রাস ধোয়ার কাজে এটি ব্যবহার করা হতো। তবে এর বহুবিধ ব্যবহার সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। সেই ক্ষুদ্র বাটির দাম-ই আজ ৩১১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ছোট বাটিটি যিনি এত টাকা দিয়ে কিনেছেন, তিনি তার নাম গোপন রেখেছেন। ক্রেতার অনিচ্ছা থাকলে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণত তার নাম প্রকাশ করে না। ২০১৪ সালে মিং রাজবংশের একটি বাটি ২৯৫ কোটি ১১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বাটিটি মদের পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেটি কিনেছিলেন চীনা ধনকুবের লিউ ইকিয়ান।

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top