রাত ৪:১৭, মঙ্গলবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য

আমি ৩৪ বছরের পুরনো সোরিয়াসিস (চর্মরোগ) রোগী। ৩০ বছর যাবৎ ডায়াবেটিসে ভুগছি। ৩২ বছর যাবৎ প্রেসার। হার্টে একটা স্টেন্ট (রিং) লাগান আছে। ১০ বছর যাবৎ সোরিয়াসিস আর্থাইটিসে ভুগছি।’

এ কথাগুলো শোনার পর পাঠকরা হয়তো মনে করবেন এ রোগীর অবস্থা মুমূর্ষু। হয়তো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। কোনোভাবে বেঁচে আছেন!

 

রোববার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে সোরিয়াসিস সচেতনতা ক্লাবের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে। দেশবরেণ্য সিনিয়র চর্মরোগ বিশেষজ্ঞসহ নবীন-প্রবীণ চিকিৎসকরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলেন তার কথা। তিনি আর কেউ নন, দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।

খ্যাতনামা এ সাংবাদিক শরীরে এত রোগ বহন করেও কীভাবে দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন? কীভাবে তিনি এত প্রাণবন্ত তা ভেবে বিস্মিত উপস্থিত সবাই।

মতিউর রহমান ১৯৮২ সাল থেকে সোরিয়াসিসে আক্রান্ত। গত ৩৪ বছর ধরে তিনি এ রোগে ভুগছেন। শুধু সোরিয়াসিস নয়, তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছেন।

শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধলেও কীভাবে দৃঢ় মনোবল নিয়ে বেঁচে আছেন, সেই গল্প শুনে উপস্থিত চিকিৎসকরাও বিমোহিত ও বিস্মিত হন।

মতিউর রহমান জানান, ১৯৬১ সালে তিনি ম্যাট্রিক এবং ১৯৬৭ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৮২ সাল থেকে সোরিয়াসিসে আক্রান্ত হন। এটা কোনো ছোঁয়াচে কিংবা ভয়ঙ্কর রোগ নয়। এ রোগ সম্পর্কে কখনও তিনি লুকাননি, সাধ্যমতো দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা নিতে গিয়ে সুখ ও দুঃখের নানা অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন।

এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তিনি সোরিয়াসিস সচেতনতা ক্লাবকে সহায়তার আশ্বাস দেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে মতিউর রহমানকে আজীবন সদস্যপদ দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর রাজনীতি করেছি। ১৯৯১ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইতোমধ্যেই প্রিন্ট ও অনলাইন মিলিয়ে প্রতিদিন ৬৫ লাখ মানুষ প্রথম আলো পড়েন। দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রথম আলোকে পাঠকের কাছে আরও জনপ্রিয় করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

করোনারি হৃদরোগের নীরব ৪ লক্ষণ

প্রতিবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০,০০০ এরও বেশি মানুষ হার্ট অ্যাটাকে ভুগে এবং প্রায় ৪০০,০০০ মানুষ করোনারি হার্ট ডিজিজ বা করোনারি হৃদরোগে মারা যায়।

ডা. জোয়েল কে কান বলেন, জীবনমান পরিবর্তন ও মেডিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের সূত্রপাত বিলম্বিত বা প্রত্যাখ্যান করা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ হৃদরোগ জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য।

জোয়েল কে কানের মতে, যে চার লক্ষণ ক্লগড আর্টারি বা বদ্ধ ধমনী এবং হৃদরোগ নির্দেশ করতে পারে তার সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।

১. পুরুষাঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা
মানুষের মধ্যে করোনারি হার্ট ডিজিজের জন্য আভ্যন্তরীণ বিন্যস্ত সতর্কীকরণ দৈহিক গঠনপ্রণালী থাকে। যদি পুরুষাঙ্গ উত্থান দুঃসাধ্য বা অসম্ভব হয়, তাহলে এটি পেলভিস বা শ্রোণীচক্রে বদ্ধ ধমনীর লক্ষণ হতে পারে এবং তা দেখা দেয় কোনো হার্ট অ্যাটাক আঘাত হানার আগে। ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা পুরুষাঙ্গ উত্থানজনিত ব্যর্থতা আরম্ভ হওয়া থেকে শুরু করে করোনারি হার্ট ডিজিজ ধরা পড়ার গড় সময় তিন থেকে পাঁচ বছর এবং এ সময়টা এ সমস্যা নির্ণয় করে হার্টের সমস্যা প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত সময় বলে বিবেচিত। আপনার সঙ্গী এবং আপনি যদি যৌন সহবাস সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তিত হন, তাহলে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করুন এবং ব্লু পিল গ্রহণের পূর্বে অসুস্থ ধমনীর মূল কারণের চিকিৎসা করুন।

২. মাথার চুল ঝরে টাক হয়ে যাওয়া
প্রায় ৩৭,০০০ পুরুষের ওপর পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় জানা যায়, যেকোনো বয়সে মাথার তালুতে অতিমাত্রায় টাক নীরব করোনারি হার্ট ডিজিজের প্রবল পূর্বাভাস দিয়েছে। ৭,০০০ মানুষের (৪,০০০ নারী ছিল) ওপর অন্য একটি গবেষণা চালিয়ে পাওয়া যায়, মাঝারি থেকে অতিমাত্রার টাক উভয়লিঙ্গের ক্ষেত্রে হৃদরোগঘটিত মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে।

৩. কানের লতিতে ভাঁজ
শরীরের একটি অস্বাভাবিক চিহ্ন হল ইয়ার ক্রিজ বা কানের লতিতে ভাঁজ। ইয়ার ক্রিজ বা কানের লতির ভাঁজকে (বিশেষ করে কোণবিশিষ্ট ভাঁজ যা কানের ক্যানেল থেকে কানের লতির নিম্ন প্রান্তের মধ্যে কোণাকোণিভাবে থাকে) কয়েক দশক আগে মেডিক্যাল গবেষণার প্রতিবেদনে করোনারি হার্ট ডিজিজের নীরব লক্ষণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হার্টের ধমনীতে রক্ত সংবহন বাধাপ্রাপ্ত হলে ইয়ার ক্রিজ হতে পারে। যদিও কিছু মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ বিবেচনা করেন যে, ইয়ার ক্রিজ বয়স্কতা বা বার্ধ্যক্যতার সাধারণ লক্ষণ। গবেষকরা গতবছর করোনারি হার্ট ডিজিজের নীরব লক্ষণ পরিমাপ করতে সর্বাধুনিক সিটি স্ক্যান মেথড ব্যবহার করেন। এতে তারা আবিষ্কার করেন যে, ইয়ার ক্রিজ হৃদরোগের পূর্বাভাস দিয়েছে, এমনকি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় (যেমন- বার্ধক্য এবং ধূমপান) দায়ী থাকা সত্ত্বেও।

৪. হাঁটার সময় পায়ের কাফে ব্যথা
কাফ পেইন বা পায়ের গুলের ব্যথাকে ক্লডিকেশনও (নিম্নপায়ে মাংসপেশীতে অপর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহের কারণে ব্যথা) বলে। করোনারি হার্ট ডিজিজ নির্ণীত হওয়ার পূর্বে অ্যাথেরোসক্লেরোসিস পায়ের ধমনীতে ব্লক বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে ধূমপায়ীদের মধ্যে। এরকম উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে একে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হবে। আপনার ডাক্তার পায়ের পালস বা স্পন্দন পরীক্ষা করে দেখবেন এবং পায়ের রক্তচাপ ও রক্তপ্রবাহের সাধারণ পরিমাপ করে রক্ত সংবহনে বাধা আছে কিনা নিশ্চিত হবেন। যত দ্রুত সম্ভব হৃদরোগ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস মেনে চলে ও মেডিক্যাল সেবা গ্রহণ করে এ সমস্যাকে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। জোয়েল কে কান বলেন, ‘আমি আমার রোগীদেরকে বেশি করে উদ্ভিদভিত্তিক খাবার ও কম পরিমাণে প্রাণীজাত খাবার খেতে এবং হন্টন কার্যক্রম শুরু করতে বলেছিলাম। এতে তাদের কাফ পেইন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে সেরে যায় এবং কয়েক বছর ধরে ব্যথা ফিরে আসেনি।’

উপরে বর্ণিত করোনারি হার্ট ডিজিজের নীরব লক্ষণ কারো মধ্যে থাকলে তার রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ফাস্টিং গ্লুকোজ বা অনাহারজনিত গ্লুকোজের সংখ্যা সম্পর্কে জানা উচিত। আপনি যদি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইকেজি, করোনারি ক্যালসিয়াম কম্পিউটেড টমোগ্রাফি ইমেজিং অথবা এক্সারসাইজ স্ট্রেস টেস্টিংয়ের মাধ্যমে হৃদরোগ চিহ্নিত করতে চান, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

দেহের অদ্ভুত ৭ অংশ ও তাদের বিস্ময়কর উদ্দেশ্য

যে দেহটাকে আমরা বহন করে বেড়াই, তার সম্পর্কে কত তথ্যই না অজানা। চলুন জেনে নিই দেহের অদ্ভুত কিছু অংশ সম্পর্কে।

আলজিভ
আমাদের গলার ভেতরে যে ছোট্ট আলজিভ রয়েছে, সম্ভবত অনেকেই তা খেয়াল করে দেখেন না। কিছু তত্ত্বে উল্লেখ রয়েছে, আলজিভ কেবল মানুষের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয় এবং আমাদের পূর্বপুরুষদের কথা বলতে ও জলখাবার খেতে সাহায্য করেছিল। এর সুস্পষ্ট কাজ হলো, দ্রুত বিপুল পরিমাণ লালা তৈরি করে দেওয়া। হিসেবে দেখা যায়, আলজিভ একজন মানুষের জীবনে গড়ে দুইটি সুইমিং পুল পরিমাণ লালা উৎপাদন করে। এটি নাক ডাকায়ও যুক্ত হতে পারে। ইতালির একটি গবেষণা অনুযায়ী, যারা কম নাক ডাকেন তাদের নাকের সঙ্গে আলজিভের কম স্নায়ু ফাইবার ছিল। 

ভ্রু
যদিও লোমশ রেখাগুলো বিশেষ করে তাদের যোগাযোগের জন্য দরকারি হয় যারা বলে ‘বলো কি?’। তবে ভ্রুর প্রধান কাজ হলো বাজে জিনিস, পানি, সূর্য থেকে আপনার চোখ রক্ষা করা। এছাড়াও ভ্রু মুখের স্বীকৃতিতে অন্যতম উপাদান। এমআইটির একটি গবেষণায় ৫০ জন বিখ্যাত ব্যক্তির চোখ ডিজিটালভাবে সরিয়ে যখন সেচ্ছাসেবকদের শণাক্ত করতে বলা হলো তখন তারা মাত্র ৬০ শতাংশকে চিনতে পারে। যখন ভ্রু সরিয়ে দেওয়া হলো তখন সেচ্ছাসেবকরা মাত্র ৪৬ শতাংশকে শণাক্ত করতে পেরেছিলেন। অন্য কথায়, ভ্রু মুখের স্বীকৃতির জন্য অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বগলে চুল বা কক্ষ চুল
এই অবাঞ্চিত চুল প্রায়ই শরীরের প্রাকৃতিক গন্ধ ছড়িয়ে দিয়ে সঙ্গীকে আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে। বগলের ত্বকের শুষ্কতা বজায় রাখার জন্যই এই চুল। যা হোক, বর্তমান নারীরা সাধারণত এই যৌনসংকেত প্রয়োগকারী চুল সরিয়ে ফেলে। প্রক্টর ও গ্যামবলের তথ্যে দেখা যায়, ২৯ শতাংশ আমেরিকান পুরুষ ও ৪৯ শতাংশ ব্রিটিশ পুরুষ নিচ অংশে থাকা চুলগুলো ছেটে ফেলে।

টনসিল
আপনি যদি কখনো আপনার গলা পরীক্ষা করান তাহলে লক্ষ্য করবেন সেখানে নরম ছিদ্রবহুল একটি জায়গা রয়েছে, যা মুখের পিছনের অংশে বাদামের আকৃতির মতো টিস্যু। এটি লাল বা সাদার মধ্যে ভারাক্রান্ত দেখায়। লসিকানালীর অংশ হিসেবে টনসিল নাক ও মুখের মধ্যে প্রবেশ করে এমন সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। তবে তারাও (টনসিল) জীবাণু বা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। যেহেতু টনসিল শরীরের শক্তিশালী প্রতিরক্ষার একটিমাত্র উপাদান, সেহেতু দুরারোগ্য অসুস্থতা বা শ্বাসজনিত সমস্যা হলে টনসিল অপসারণ করা যায়। তবে বর্তমান সময়ের চিকিৎসকরা অনেক সচেতন। তারা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সার্জারির পরামর্শ দেন।

আঙুলের নখ
অর্থনীতিতে নখ বেশ ভালো সাহায্য করলেও (ডব্লিউডব্লিউডি’র তথ্যানুসারে, ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭৬৮ মিলিয়ন ডলারের নেইলপলিশ বিক্রি হয়েছে), শ্রেষ্ঠ বর্গভুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণি ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে আলাদ করাতে প্রধান বৈশিষ্ট হলো, আঙুলের নখ। বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর নখ ফোলা, কিন্তু আমাদের চেপ্টা। যেখানে আমাদের পূর্বপুরুষেরা ফল ও গাছের ডালপালা চেপে ধরার জন্য আঙুলের নখ ব্যবহার করতেন, সেখানে আজ আমরা ছোট জিনিস যেমন কাগজ বা কয়েন খোঁচাতে এটি ব্যবহার করি। আঙুলের নখগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জানালা হিসেবেও কাজ করে। নখের বিবর্ণতা অথবা দাগগুলো শারীরিক বিপত্তির সংকেত দিতে পারে যেমন অপুষ্টিতা অথবা ত্বকের সমস্যা।

অ্যাপেন্ডিক্স
অ্যাপেন্ডিক্স হলো অন্ত্র থেকে প্রসারিত সাড়ে ৩ ইঞ্চির একটি প্রসারিত দীর্ঘ গ্রন্থি, উদ্দেশ্যের চেয়ে এটিকে বেশি মারাত্মক মনে হয়। যখন এটি বড় (আঘাত বা সংক্রমণ থেকে) হয় তখন শরীরের ভেতরে মারাত্মকভাবে বিস্ফোরিত হয় এবং শরীরের অন্যান্য জায়গায় তা ছড়িয়ে দেয়। অ্যাপেন্ডিক্স নামের এ রোগ শিশুদের মধ্যে খুবই সাধারণ। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ হাজার জনকে আক্রমণ করে। যখন অ্যাপেন্ডিক্স সরানো হয় তখন শরীরে লক্ষনীয় কোনো প্রভাব দেখা যায় না। যাহোক, সম্প্রতি ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল স্কুলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ‘নিরাপদ ঘর’ হিসেবেই কাজ করে অ্যাপেন্ডিক্স। যা গ্রামঅঞ্চল অথবা কম উন্নত দেশের মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে। যদি কারো ভালো অ্যাপে দরকারী হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, আধুনিক শিল্প উন্নত সমাজে যদি কারো ভালো অ্যাপেন্ডিক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এটি সহজেই অন্যদের কাছ থেকে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে।

আক্কেল দাঁত
শল্যচিকিৎসার অসুবিধা হিসেবে সবচেয়ে পরিচিত আক্কেল দাঁত। এটি মূলত পোষণদন্তের তৃতীয় সেট, যা আমাদের পূর্বপুরুষদের শিকড়, বাদাম এবং মাংসের মতো রুক্ষ খাবারের ওপর চুপচাপ সাহায্য করেছিল, বিশেষত যখন অন্যদাঁত পড়ে যায়। প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষের আক্কেলদাঁত বিকশিত হয় না। বাকিদের ১০ বছর বয়স থেকে এটি উন্নত হতে শুরু করে, যা ১৭ থেকে ২৫ বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিকশিত হয়। এই বয়সের মধ্যে দাঁতগুলো তাদের নাম দেয়, বিশেষত এটি সেই সময়কে নির্দেশ করে যখন কম অল্পবয়সি ছেলে মেয়েরা বুদ্ধিমান হয়ে উঠে। যদিও পূর্ণ সাবালক বা স্বাস্থ্যবান আক্কেল হলে দাঁত ফেলার প্রয়োজন হয় না। তবে যদি এটি বাম পাশে হয় তাহলে গাম রোগ, পুষকোষ অথবা কাছের দাঁতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২০০৭ সালের আমেরিকান হেলথের আমেরিকান জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি বছর ১০ মিলিয়ন আক্কেল দাঁত বের করা হয়, যা ৫ মিলিয়ন থেকে শুরু হয়।

সুস্থতার জন্য সাইক্লিং

সময়ের অভাবে হয়তো শরীরচর্চাটা করা হয়ে উঠছে না ঠিকমতো। এক কাজ করুন। কর্মস্থলের দূরত্ব যদি খুব একটা বেশি না হলে কিনে ফেলুন সাইকেল। পরিবেশবান্ধব এই যানটি চালিয়ে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া আসা করুন। ওজন কমার পাশাপাশি শরীর থাকবে সুস্থ।

 

জেনে নিন সাইক্লিংয়ের উপকারিতা সম্পর্কে-   

সাইকেল চালানোর সময় আমাদের শরীরে বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়। যে কারণে দ্রুত গতিতে ক্যালরি ঝরতে শুরু করে। প্রতিদিন ১৫ মিনিট সাইকেল চালালে সপ্তাহে প্রায় ৪০০০ ক্যালরি ঝরে যায়। ফলে নিয়মিত সাইক্লিং করলে ওজন কমে।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সাইকেল চালানোর সময় হৃদযন্ত্রকে দ্রুত গতিতে কাজ করতে হয়। ফলে হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ব্রিটিশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সপ্তাহে কমবেশি ৩০ কিমি সাইকেল চালালে করোনোরি হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।

যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠা-নামা করে, তারা নিয়মিত সাইক্লিং করতে পারেন। এতে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্লাড সুগার লেভেল স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসে।

নিয়মিত সাইকেল চালালে ব্রেন সেলের জন্ম হার বাড়তে শুরু করে। ফলে  স্মৃতিশক্তি উন্নত হওয়ার পাশাপাশি  মনোযোগ এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এক নিরিক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত ২০-৩০ মিনিট সাইকেল চালালে অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়।

সাইক্লিংয়ের সময় আমাদের মস্তিষ্কে এমন একটি হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে যার প্রভাবে মানসিক চাপ কমে যায়।

গরম পানি পানের বিস্ময়কর ৭ উপকারিতা

আপনি হয়তো গরম পানি ও লেবুর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে থাকবেন। কিন্তু শুধু গরম পানি পানের উপকারিতা সম্পর্কে অবগত আছেন কি?

প্রাচীন চৈনিক পথ্য ব্যবস্থা এবং ভারতীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী, দিনের শুরুতে এক গ্লাস গরম পানি পান আপনার পরিপাক প্রক্রিয়াকে সচল রাখবে এবং স্বাস্থ্যের নানারকম উপকার সাধন করবে।

তার মানে এই নয় যে, পানি যত বেশি গরম, তত বেশি উপকারিতা। গরম পানির তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করা উচিত নয়। মুখ ও গলার এপিথেলিয়াল কোষের ক্ষতি এড়াতে গরম পানির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হবে ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

১. ওজন কমাতে সাহায্য করে
শুধু গরম পানি পান ওজন কমায় না, কিন্তু ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। পুষ্টিবিজ্ঞানী ও রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান কারা ওয়ালশ বলেন, বিপাক প্রক্রিয়াকে অধিকতর কার্যকরী করতে গরম পানি ও লেবু দিয়ে সকাল আরম্ভ করুন, যা সারাদিন আপনার শরীরকে বেশি করে ক্যালরি পোড়াতে সামর্থ্য যোগাবে। তিনি যোগ করেন, শরীরের স্ফীতি প্রতিরোধ করতে গরম পানি অন্ত্রকে খালিও করে, এভাবে আপনি অতিরিক্ত যে ওজন বহন করছেন তা দূর হয়।


২. সাইনাস সমস্যা দূর করে
অনেকেই শ্বাসরোধী নাকের চিকিৎসায় ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে। আপনিও এ দলে থাকলে, চেষ্টা হিসেবে গরম পানি পান করে দেখতে পারেন। মাস্টার অব সার্জারি এবং মেডিক্যাল ডাক্তার নেসোশি ওকিকি-ইগবোকি বলেন, গরম পানি রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা শ্বাসপ্রশ্বাস অঞ্চলের সংক্রমণের কিছু উপসর্গ উপশম করতে পারে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রমাণ হয় যে, ঠান্ডা পানির চেয়ে গরম পানি পানে নাকের কনজেশন বা নাক বন্ধ সমস্যায় দ্রুত উপকার পাওয়া যায়, কারণ উচ্চ তাপমাত্রা মিউকাস চলাচলের গতিকে বৃদ্ধি করে। ড. ওকিকি-ইগবোকির মতে, আমরা তরলের মাধ্যমে তাপমাত্রা গ্রহণ করে কিছু উচ্চতর শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সংক্রমণের উপসর্গ যেভাবে সামলাতে চাই তাতে তারতম্য হতে পারে।

৩. দাঁতের উপকার করে
ঠান্ডা পানির বদলে গরম পানি পান করলে দাঁতের উপকার হতে পারে। মেডিক্যাল ডাক্তার এবং ডেন্টাল সার্জারির ডাক্তার স্যান্ডা মোলডোভানের মতে, দাঁত ও দাঁতের স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধারে গরম পানি অধিকতর ভালো এবং গরম পানি সহজে শোষিত হয়। মোলডোভান ব্যাখ্যা করেন, কিছু হোয়াইট ফিলিং ম্যাটারিয়াল ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে দাঁত থেকে ফিলিং আলগা হয়ে পড়ে। আবার পানি যাতে অত্যধিক গরম না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। যেকোনো অত্যধিক তাপমাত্রা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই আপনার মুক্তোর মতো সাদা দাঁতকে ভালো রাখতে কক্ষের তাপমাত্রার সঙ্গে গরম পানির তাপমাত্রার সংগতি রেখে পান করতে পারেন।

৪. হজমকে সহজসাধ্য করে
গরম পানির ভ্যাসোডাইলেটর ইফেক্ট রয়েছে। এর মানে হল, গরম পানি রক্তনালীকে প্রশস্ত করে এবং রক্তপ্রবাহকে অন্ত্রের দিকে অগ্রসর হতে উদ্দীপিত করে, যা পরিপাক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিক্যাল ডাক্তার লুইজা পিটার বলেন, খালি পেটে গরম পানি পান পরিপাক প্রক্রিয়া থেকে অন্ত্র পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রক্তপ্রবাহকে ত্বরান্বিত করে। গরম পানির পরিপাক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা এখানেই শেষ নয়। এটির ত্বরিৎ হাইড্রেটিং ইফেক্টও রয়েছে। এ কারণে খাবার খেলে তাপমাত্রা চর্বিকে অতিক্ষুদ্র ফোঁটায় বিভক্ত করে চর্বিকে অধিক হজমসাধ্য করে।

৫. শরীরের টক্সিন বের হতে সাহায্য করে
গরম পানি পান শরীরের কোর টেম্পারেচার বা মূল তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়, ঘাম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে এবং এভাবে শরীর টক্সিন নিষ্কাশন করে। ড. লুইজা পিটার বলেন, নিয়মিত লেবুমিশ্রিত গরম পানি পান করলে, গরম পানি আমাদের আহারকৃত অ্যাসিডিক খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে। লেবুর প্রতি অনীহা থাকলে, গ্রিন টি পান করে দেখতে পারেন, যা ফ্রি রেডিক্যাল অ্যাকটিভিটি কমিয়ে দিতে পারে।

৬. সহজাত ব্যথা দূর করে
ঠান্ডা পানি পানে পেশি সংকুচিত হয়, কিন্তু গরম পানি পানে টিস্যুতে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং পেশি শিথিল হয়। ড.পিটার বলেন, গরম পানি সকল প্রকার ব্যথায় সাহায্য করতে পারে, যেমন- জয়েন্ট ব্যথা, মেন্সট্রুয়্যাল ক্র্যাম্প বা মাসিকের সময় ব্যথা। ঘুমুতে যাওয়ার পূর্বে গরম পানি পানের প্রশান্তিদায়ক প্রতিক্রিয়া আছে যা আপনাকে দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে সহায়তা করবে, আপনাকে পেট ভরা আছে প্রকৃতির অনুভূতি দেবে এবং মধ্যরাতে আপনার মধ্যে ক্ষুধা জাগ্রত করবে না।

৭. কোষ্ঠকাঠিন্য ঢিলা করে
অন্ত্র অতি সামান্য নড়াচড়া বা একেবারেই নড়াচড়া না করলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এবং প্রায়ক্ষেত্রে তা হয়ে থাকে শরীরে পানির অভাবে। আপনি যদি কোনো কিছু খাওয়ার পূর্বে গরম পানি পানের মাধ্যমে প্রতিদিন শুরু করেন, তাহলে আপনার অন্ত্রের নড়াচড়ার উন্নতি হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা কমে যাবে। ড. লুইজা পিটার বলেন, বর্ধিত তাপমাত্রা ইন্টেস্টাইনাল পেরিস্টালসিস বা অন্ত্রের পেশির অনৈচ্ছিক সংকোচন ও শিথিলকরণকে উদ্দীপিত করে এবং অন্ত্রের মন্থর নড়াচড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে। ভালো ফলাফল পেতে সারাদিনব্যাপী অল্প অল্প করে গরম পানি পান করতে পারেন।

ব্রেইন অ্যানিউরিজমের লক্ষণ ও চিকিৎসা

মায়ো ক্লিনিকের মতে, ব্রেইন অ্যানিউরিজম হচ্ছে ব্রেইনের রক্তনালীতে স্ফীতি বা ফুলে যাওয়া। ব্রেইন অ্যানিউরিজম দেখতে ডাঁটায় ঝুলন্ত বেরির মতো।

অধিকাংশ অ্যানিউরিজম ফেটে যায় না কিংবা স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে না, কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যানিউরিজম হেমোরেজিক স্ট্রোক বা ব্রেইনে রক্তপাত ঘটাতে পারে। এ স্ট্রোক মারাত্মক পরিণতি ও জীবন হুমকির কারণ হতে পারে।

যদি নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দেয়, তাহলে তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন অথবা ইমার্জেন্সি রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাউকে বলুন- সাবধান, একাকী যাবেন না।

১. হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা
মাথাব্যথা প্রায়ক্ষেত্রে মারাত্মক কোনো পরিণতির ইঙ্গিত হতে পারে। অ্যানিউরিজমের ক্ষেত্রে এটি আসলেই খারাপ পরিস্থিতির সংকেত দিতে পারে। প্রিন্সটন ব্রেইন অ্যান্ড স্পাইনে নিউরোলজিক্যাল সার্জারিতে অনুশীলনরত ডা. মার্ক ম্যাকলাগলিন বলেন, প্রায়ক্ষেত্রে এটি (অ্যানিউরিজম জনিত মাথাব্যথা) জীবনের সবচেয়ে খারাপ মাথাব্যথা হিসেবে বর্ণিত হয়। এরকম মাথাব্যথায় মাথায় কি ঘটে? এ প্রসঙ্গে ম্যাকলাগলিন বলেন, রক্তের লিকেজ ব্রেইনের আবরণে জ্বালাতন উদ্রেক করে ব্যথা সৃষ্টি করে। এটি নিয়মিত মাথাব্যথার মতো নয়, এ ব্যথা হঠাৎ করেই আসে এবং তা তীব্র ও গাঢ় হয়ে থাকে।

২. ডাবল ভিশন বা চোখের পাতা ঢলে পড়া
ব্রেইন অ্যানিউরিজম হলে আপনার ডাবল ভিশন হতে পারে কিংবা চোখের পাতা নিচের দিকে ঢলে পড়তে পারে। এ সম্পর্কে ডা. ম্যাকলাগলিন বলেন, বিবর্ধিত অ্যানিউরিজম স্নায়ুর ওপর চাপ দিয়ে চোখের অবস্থান নড়িয়ে এরকম সমস্যা (ডাবল ভিশন বা চোখের পাতা নিচের দিকে ঝুঁকে পড়া) সৃষ্টি করতে পারে। আপনার যদি হঠাৎ এরকম চোখের সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তৎক্ষণাৎ মেডিক্যাল সেবা নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে ডা. ম্যাকলাগলিন বলেন, এটি পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে তার জন্য অপেক্ষা এবং তা পর্যবেক্ষণ করার মতো অবস্থা নয়।

৩. শরীর বা মুখের একপাশে অবশ
ব্রেইন অ্যানিউরিজমের আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে, মুখের অর্ধাংশ বা শরীরের একপাশে অসাড়তা। ডা. ম্যাকলাগলিন বলেন, অ্যানিউরিজম ফেটে বের হওয়া ক্ষুদ্র জমাটবদ্ধ রক্ত ছোট রক্তনালীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ব্রেইনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাসমূহে রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত করলে বা রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিলে এরকম সমস্যা হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, অ্যানিউরিজম পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট ফোস্কার মতো যা ফেটে যেতে পারে এবং ফুটো দিয়ে বের হওয়া রক্ত রক্তনালীতে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

৪. গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সমস্যা
আপনার পেট আপনার ব্রেইন অ্যানিউরিজম আছে কিনা তা প্রকাশ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অবস্থিত ওভারলুক মেডিক্যাল সেন্টারের অ্যাটলান্টিক হেলথ সিস্টেমের এন্ডোভাসকুলার নিউরোসার্জারির প্রধান এবং মেডিক্যাল ডাক্তার রোনাল্ড বেনিটেজ বলেন, আপনার ব্রেইন অ্যানিউরিজম থাকলে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। তিনি আরো বলেন, এমনটা হওয়ার কারণ হচ্ছে রক্তপাত ও মাথাব্যথা। তাই প্রথমে মাথাব্যথা শুরু হবে এবং তারপর আপনার বমি বমি ভাব, বমি অথবা ডায়ারিয়া হতে পারে। ড. বেনিটেজের মতে অন্যান্য কমন উপসর্গসমূহ হচ্ছে: রক্তপাত, মাথা ঘোরানো, লাইট সেনসিটিভিটি বা আলোক সংবেদনশীলতা এবং ঘাড়ের অনমনীয়তা। তিনি বলেন, এসব উপসর্গসমূহ মাথায় রক্তপাত বা কিছুক্ষেত্রে মাথায় চাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে, অথবা সংশ্লিষ্ট কাঠামোর (মস্তিষ্কের কাঠামো) ওপর অ্যানিউরিজমের চাপের সঙ্গে উল্লেখিত উপসর্গসমূহ সম্পর্কিত।

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়
ডা. বেনিটেজের মতে, ডাক্তার ও গবেষকরা ধারণা করছেন যে নিচে উল্লেখিত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো ব্রেইন অ্যানিউরিজম গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে:

* ধূমপান
* হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ
* ব্রেইন অ্যানিউরিজমের পারিবারিক ইতিহাস
* চল্লিশোর্ধ্ব বয়স
* লিঙ্গ (পুরুষদের তুলনায় নারীদের ব্রেইন অ্যানিউরিজম বেশি হয়, নারী ও পুরুষের অনুপাত ৩:২)
* অন্যান্য রোগ থাকা, যেমন- এলার্স-ড্যানলস সিন্ড্রোম, পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ, মারফান সিন্ড্রোম এবং ফাইব্রোমাসকিউলার ডিসপ্ল্যাসিয়া
* ড্রাগের ব্যবহার, বিশেষ করে কোকেন
* ইনফেকশন
* টিউমার
* ট্রম্যাটিক হেড ইনজুরি বা মাথায় আঘাতমূলক ব্রেইনের ক্ষতি।

ব্রেইন অ্যানিউরিজমের চিকিৎসা
ডা. ম্যাকলাগলিন বলেন, কিছু অ্যানিউরিজম যা ফেটে যায়নি তা পর্যবেক্ষণে রাখা যেতে পারে। কিছু অ্যানিউরিজমের ক্ষেত্রে মিনিম্যালি ইনভেসিভ সার্জারি (ন্যূনতম কর্তনের সার্জারি) এবং কিছু অ্যানিউরিজমের ক্ষেত্রে ত্রুটি সারাতে ওপেন সার্জারি (বড় কর্তনের সার্জারি) প্রয়োজন হতে পারে। তার মতে, অ্যানিউরিজমের চিকিৎসা নির্ভর করছে এটির তীব্রতার ওপর। তিনি বলেন, অবিদীর্ণ অ্যানিউরিজমের চিকিৎসা ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যানিউরিজমের গঠন নিয়ন্ত্রণে এনে ভবিষ্যতে অ্যানিউরিজম ফেটে যাওয়া প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তিনি যোগ করেন, ফেটে যাওয়া অ্যানিউরিজমের ক্ষেত্রে জরুরি মেডিক্যাল সেবা প্রয়োজন হবে।

বেশি লবণ নয়

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ যদি খান আপনি, তাহলে তা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর হতে পারে। গবেষকরা কয়েক দফা গবেষণায় জানতে পেরেছেন অতিরিক্ত লবণ খাওয়া হলে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ বা হৃদরোগ হতে পারে। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বেশি লবণ খেলে। তবে আশার কথা হলো আপনি কখন বেশি লবণ খেয়েছেন, তা শরীর কিছু সিগন্যাল দিয়ে বুঝিয়ে দেবে আপনাকে। আর সঠিক সময়ে সেসব সিগন্যাল বুঝতে হবে। আমাদের শরীর  চারভাবে ঐ সিগন্যাল দেয়। চলুন জেনে নেই সেসব সিগন্যাল।

 

সব সময় মাথাব্যথা: গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন ৩,৫০০ মিলিগ্রামের বেশ লবণ খান, তাদের মাঝে ৩০ শতাংশই মাথা ব্যথায় ভোগেন।

তৃষ্ণা সব সময়: শরীরে যদি বেশি লবণ থাকে আপনার, তাহলে বার বার তৃষ্ণা লাগবে। মস্তিষ্ক শরীরকে সিগন্যাল দেয় যেন বেশি বেশি পানি পান করা হয়।

ফোকাসের ঘাটতি: অতিরিক্ত লবণ খেলে মস্তিষ্কে পানি শূণ্যতা দেখা দেয়, এতে করে মস্তিষ্ক ভালোভাবে কাজ করতে পারে না। মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়, কোনো কাজে ফোকাস করা কষ্টকর হয়।

বার বার প্রস্রাব: আরেকটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো বেশি লবণ খেলে প্রস্রাবের চাপে বার বার টয়লেটে যেতে হবে আপনাকে। কারণ অতিরিক্তি সোডিয়াম দেহ থেকে বের করে দিতে কিডনি বেশি কাজ করে সে সময়।

তাই শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে ও শরীরে লবণ ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিতে আপনাকে স্বাস্থ্যকর  খাবার খেতে হবে। প্রতিদিন তাজা ফল, সবজি খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পানিও পান করা চাই।

আরেকটা কথা মনে রাখতে হবে- কিছু খাবার, যেমন সামুদ্রিক মাছে প্রচুর লবণ থাকে, তাই সেগুলো পরিমাণের বেশি খাওয়া ঠিক নয়।

সুস্থতার জন্য পাকা পেঁপে

ভিটামিন, এনজাইম ও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে পাকা পেঁপেতে। খেতেও সুস্বাদু বারো মাস পাওয়া যাওয়া এই ফলটি। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় কয়েক টুকরা পাকা পেঁপে খেতে পারেন। নিয়মিত পেঁপে খেলে দূর হয় হজমের গণ্ডগোল।

জেনে নিন সুস্থতার জন্য পাকা পেঁপে খাওয়া জরুরি কেন-   

  • বদহজমের সমস্যা রয়েছে? নিয়মিত পাকা পেঁপে খেলে দূর হবে হজমের গণ্ডগোল। চাইলে প্রতিদিন এক গ্লাস পাকা পেঁপের রস পান করতে পারেন। উপকার মিলবে দ্রুত।
  • প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে পারে পাকা পেঁপে।
  • পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস রয়েছে। এসব উপাদান হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়। পাশাপাশি শরীরে উপস্থিত দূষিত উপাদান বের হতে সাহায্য করে এগুলো।
  • পাকা পেঁপে শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি এবং কে। এগুলো আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
  • চুল ও ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে নিয়মিত পেঁপে খান।
  • পেঁপেতে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং কপার সুস্থতার জন্য জরুরি।
  • পেঁপেতে একদম স্বল্প পরিমাণে ক্যালোরি রয়েছে। ১৪০ গ্রাম পেঁপেতে মাত্র ৬০ ক্যালরি, ০.৪ গ্রাম ফ্যাট, ১৫.৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ২.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। ফলে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন এটি। পেঁপে খেলে যেমন পেট ভরে, তেমনি ওজন বাড়ার চিন্তাও থাকে না।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে পারে পাকা পেঁপে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আইন দ্রুত মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের নির্দেশ

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা আইন দ্রুত মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই নির্দেশ দেন।

 

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ নীতিমালা অনুসরণে প্রায় ক্ষেত্রে বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। শুধু নীতিমালা প্রয়োগ করে কলেজ পরিচালনায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। এ আইন সংক্রান্ত খসড়া চূড়ান্ত করে দ্রুত তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ও সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন অবস্থান করে বিদেশি চিকিৎসকরা চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থাকেন। এই তথ্য তুলে ধরে বিদেশি চিকিৎসকদের কাজ করার অনুমতি প্রদানের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য মন্ত্রী বিএমডিসিকে নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা প্রায়সময় বিদেশি চিকিৎসক দেশে এনে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। অনেক সময় তারা যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে দীর্ঘদিন দেশে থাকছেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা তদারকি করার জন্য এ সংক্রান্ত নীতিমালা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করতে বিএমডিসিকে নির্দেশ দেন মোহাম্মদ নাসিম।

সভায় বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাসহ মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসির ঊধ্র্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শারীরিক উচ্চতা যেভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে

আপনি লম্বা হোন কিংবা বেঁটে, আপনার উচ্চতা আপনার জীবনে নানা উপায়ে প্রভাব ফেলবে। এ প্রভাব শুধুমাত্র অবজ্ঞাজনক উপনাম জুটে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আপনার স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে আপনার উচ্চতা। কিভাবে? জানতে হলে পড়ুন-

১. লম্বা: হৃদরোগের ঝুঁকি কম
৩০ লাখ পুরুষ ও নারীর ওপর সম্পাদিত উচ্চতা বিষয়ক ৫২টি গবেষণার একটি রিভিউ ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়। এই রিভিউয়ের মতে, খাটো লোকেরা তাদের লম্বা সঙ্গীর তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি মারাত্মক হৃদরোগে ভুগে। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের ২০১৫ সালের গবেষণা অনুসারে, ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার নারীদের চেয়ে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার নারীদের মধ্যে হৃদরোগের বিকাশ ২৮ শতাংশ কম হয়। আপনি যদি সমলিঙ্গের কারো চেয়ে লম্বা হন, তাহলে বুঝবেন প্রতি ২.৫ ইঞ্চি বাড়তি উচ্চতার জন্য আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ কম।

২. লম্বা: টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম
ইরানের গবেষকরা উচ্চতা সম্পর্কিত ১৮টি গবেষণা নিয়ে মেটা অ্যানালাইসিস করেন। এ বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, একজন নারী যত বেশি লম্বা হবে, তার মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস বিকাশের সম্ভাবনা তত কম। এ ফলাফল লম্বা পুরুষদের ক্ষেত্রে সত্য নয়, তাদের উচ্চতার উপর টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ভর করে না। কেন শুধুমাত্র লম্বা নারীদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম, এ ব্যাপারে গবেষকরা নিশ্চিত নন। নেদারল্যান্ডসে এক গবেষণায় পাওয়া যায়, লম্বা পুরুষরা ইনসুলিনের প্রতি বেশি সেনসিটিভ এবং তাদের লিভারে ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে, যা তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রতিকূলে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে।

৩. লম্বা: ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি
লম্বা হওয়ার নেতিবাচক দিকও আছে। লম্বা মানুষেরা প্রায় সব ধরনের ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকিতে থাকে। এ কথা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। ক্যানসার এপিডেমিওলজি, বায়োমার্কারস অ্যান্ড প্রিভেনশনে প্রকাশিত এক গবেষণার মতে, উচ্চতায় প্রতি ৪ ইঞ্চি বৃদ্ধির জন্য নারীদের মধ্যে ১৯ ধরনের ক্যানসার বিকাশের সম্ভাবনা ১৩ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে লম্বা পা-ওয়ালা নারীদের মেলোনোমা এবং ব্রেস্ট, ওভারি, এন্ড্রোমেট্রিয়াম ও কোলন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ছিল এবং কিডনি, রেক্টাম, থাইরয়েড ও ব্লাড ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ছিল। ক্যানসার এপিডেমিওলজি, বায়োমার্কারস অ্যান্ড প্রিভেনশনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, লম্বা পুরুষদের মধ্যে মূত্রথলির ক্যানসার বিকাশের সম্ভাবনা বেশি। লম্বা মানুষদের শরীরে অধিক কোষ থাকে, তাই এসব কোষের যেকোনোটি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় পাওয়া যায়, লম্বা মানুষেরা যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তাদের ইনসুলিন লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর (একপ্রকার প্রোটিন, সোমাটোমেডিন সি নামেও পরিচিত) প্রক্রিয়া খাটো লোকদের আগে সক্রিয় হয়ে যায়, যা পালাক্রমে স্থায়ীভাবে কোষের বৃদ্ধিকে সক্রিয় করে কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৪. খাটো: রক্ত জমাটবদ্ধতার সম্ভাবনা কম
আর্টেরিওসক্লেরিওসিস, থ্রম্বসিস অ্যান্ড ভাস্কুলার বায়োলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে পাওয়া যায়, আপনি যদি ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির নিচে খাটো হয়ে থাকেন এবং আপনার ওজন যদি স্বাস্থ্যের অনুকূলে থাকে, তাহলে আপনার রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা আপনার লম্বা বন্ধুদের থেকে তিনগুণ কম। লম্বা লোকের মধ্যে রক্ত বেশ দূরত্বে পাম্প হয় যা রক্তপ্রবাহ কমাতে পারে এবং স্ট্রোক সৃষ্টিকারী রক্ত জমাটবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উচ্চতার চেয়েও স্থূলতা রক্ত জমাটবদ্বতার বড় ভবিষ্যতবক্তা। তাই আপনি যদি ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির বেশি লম্বা হন এবং রক্ত জমাটবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে চান, তাহলে ওজনকে নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্য অনুকূলে নিয়ে আসুন।

৫. খাটো: প্রেগন্যান্সির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
ডায়াবেটিক মেডিসিনের ২০১৪ সালের গবেষণা থেকে জানা যায়, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের গবেষকরা ২২০,০০০ সন্তান সম্ভাব্য নারীদের পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পান যে, যেসব নারীরা গড় উচ্চতার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) চেয়ে সামান্য লম্বা ছিল তাদের জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বা গর্ভাবস্থাকালীন ডায়াবেটিস (উচ্চ রক্ত শর্করার কারণে হয়ে থাকে যা শুধুমাত্র গর্ভবতী নারীদের প্রভাবিত করে) বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার সন্তান সম্ভাব্য নারীদের তুলনায় ১৮ থেকে ৫৯ শতাংশ কম ছিল। পিএলওএস মেডিসিনের গত বছেরর একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, খুব কম উচ্চতা এবং অন্তঃসত্ত্বার সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ প্রেগন্যান্সি ও নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বাচ্চা প্রসবের বর্ধিত ঝুঁকি জড়িত থাকে।

৬. লম্বা: অ্যালজেইমার’স রোগের ঝুঁকি কম
জার্নাল অব অ্যালজেইমার’স ডিজিজে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুসারে, ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার খাটো পুরুষদের চেয়ে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার ওপরের লোকদের মধ্যে অ্যালজেইমার’স রোগ বিস্তার লাভ করার সম্ভাবনা ৫৯ শতাংশ কম। লম্বা নারীদের ক্ষেত্রেও ফলাফল অনুকূলে ছিল। ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ’স কলেজ অব মেডিসিনের মতে, ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার নারীর ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার ঝুঁকি ৫ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার নারীর তুলনায় ৫০ শতাংশ কম। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা বংশগত বিষয়ের চেয়ে দৈহিক উচ্চতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য পরিবেশগত বিষয়ের, যেমন- শৈশবকালীন অসুস্থতা, মানসিক চাপ ও পুষ্টিস্বল্পতা, দিকে দৃষ্টিপাত দিচ্ছেন।

৭. খাটো: স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি
ইসরায়েলের গবেষকরা ১০,০০০ পুরুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে আবিষ্কার করেন যে, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী লম্বা ব্যক্তির দলের তুলনায় খাটো ব্যক্তির দলটির মারাত্মক স্ট্রোকের ঝুঁকি ছিল ৫৪ শতাংশ বেশি। আমেরিকান জার্নাল অব এপিডেমিওলজি থেকে জানা যায়, লম্বা নারীদের চেয়ে খাটো নারীদের গুরুতর স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি ছিল। দৈহিক উচ্চতার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পর্কের কারণ কি? বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে খুব একটা নিশ্চিত নন, কিন্তু তারা ধারণা করছেন যে, বেড়ে ওঠার বছরগুলোতে পুষ্টিস্বল্পতা অথবা কোনো পরিবর্তিত হরমোনগত প্যাটার্নের কারণে শারীরিক বিকাশ ও বৃদ্ধির সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে।

৮. খাটো: দীর্ঘ জীবন
বায়োডেমোগ্রাফি অ্যান্ড সোশ্যাল বায়োলজির এক গবেষণা মতে, গবেষকরা সত্তরে পৌঁছা সৈন্যদের পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পান যে, ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার নিচের খাটো পুরুষ সৈনিকরা অন্যদের তুলনায় দুই বছর বেশি বেঁচেছিল। একই গবেষকদের অন্য এক গবেষণায় পাওয়া যায়, আমেরিকার পুরুষদের মধ্যে যারা খাটো ও হালকা ছিল, তারা লম্বা ও ভারী লোকদের চেয়ে বেশিদিন বেঁচে ছিল। গবেষকরা ইঙ্গিত করেন যে, দীর্ঘায়ু জীবনলাভের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের (যেমন- শরীরের ওজন, জিন, মানসিক চাপ, ধূমপান, পানীয় অভ্যাস) ন্যায় উচ্চতাও দীর্ঘায়ু হওয়ার জন্য অবদান রাখে। ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের বিজ্ঞানীরা ২০১৪ সালে একটি বিশেষ জিন আবিষ্কার করেন, যাকে দীর্ঘায়ু জিন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। দীর্ঘ জীবনকাল ও খাটো উচ্চতা উভয়ের ওপর এ জিনের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।

ডায়াবেটিসের ১০টি নীরব উপসর্গ

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ডায়াবেটিস এডুকেটরসের মুখপাত্র, ইলিনয়েসের সনদপ্রাপ্ত ডায়াবেটিস শিক্ষক এবং রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান মেলিসা জয় ডবিনস বলেন, ‘ডায়াবেটিস এমন না যে আপনি একদিন জেগে ওঠলেন এবং হঠাৎ করে আপনার তৃষ্ণা লাগছে, ক্ষুধা লাগছে ও ঘনঘন বাথরুমে যেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে হয়।’ হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, জসলিন ডায়াবেটিস সেন্টারের স্টাফ ফিজিশিয়ান এবং মেডিক্যাল ডাক্তার অ্যারন সাইপেস বলেন, ‘বাস্তবিকপক্ষে, বেশিরভাগ মানুষ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়, এমনকি মাধ্যমিক পর্যায়েও জ্ঞাত থাকে না যে তাদের ডায়াবেটিস আছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ডায়াবেটিসের এসব পর্যায়ে আপনি উদ্দীপিত না হওয়ার মানে এই নয় যে আপনি ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট সমস্যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন।’

আপনি যত সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না করে পার করবেন, আপনার তত বেশি হৃদরোগ, কিডনি রোগ, অঙ্গচ্ছেদ, অন্ধত্ব এবং অন্যান্য মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ড. সাইপেস বলেন, ‘আমরা পরামর্শ দিচ্ছি যে ডায়াবেটিস রোগীরা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ (যেমন- পারিবারিক ইতিহাস, ওজন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি) যেন নিয়মিত মূল্যায়ন করেন।’ আপনি যদি অসুস্থতাবোধ করেন, তাহলে সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

নিচের সূক্ষ্ম ডায়াবেটিস উপসর্গগুলোকে ডায়াবেটিসের নীরব উপসর্গ বলা যায়। এসব উপসর্গের ব্যাপারে লোকে সচেতন বা জ্ঞাত থাকে না বললেই চলে। এবার জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিসের ১০টি নীরব উপসর্গ সম্পর্কে।

১. আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পিপাসার্ত হন
প্রচুর পরিমাণে মূত্রত্যাগ আপনাকে বিশুষ্ক বা পিপাসার্ত করে তুলবে। ডবিনস ডায়াবেটিস রোগীদের কমন একটি উপসর্গ লক্ষ্য করেন: ডায়াবেটিস রোগীরা তৃষ্ণা মেটাতে বিভিন্ন পানীয়ের (যেমন- জুস, সোডা, চকলেট মিল্ক) দিকে ঝুঁকে। এসব শর্করাযুক্ত পানীয়ের অতিরিক্ত শর্করা ব্লাডস্ট্রিমকে পূর্ণ করে। এ কারণে রোগীরা সমস্যার দিকে এগিয়ে যায়।

২. আপনি অল্প ওজন হারিয়েছেন
ডায়াবেটিসের একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্থূলতা বা ওজন বেড়ে যাওয়া। অন্যদিকে, কয়েক পাউন্ড ওজন কমে যাওয়া হতে পারে ডায়াবেটিসের নীরব উপসর্গের একটি। ড. সাইপেস বলেন, ‘দুটি কারণে ওজন হারাতে পারে। একটি হচ্ছে, আপনি যে পানি হারান (মূত্রত্যাগের মাধ্যমে)। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আপনি প্রস্রাবের সঙ্গে কিছু ক্যালরি হারান এবং আপনার শরীর রক্তের শর্করা থেকে সব ক্যালরি শোষণ করতে পারে না। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা যদি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কিছু ওজন বেড়ে যেতে পারে। ড. সাইপেসের মতে এটি একটি ভালো দিক। কারণ এর দ্বারা রক্ত শর্করার মাত্রায় ভারসাম্য আসে।

৩. আপনি বাথরুমে বেশি যান
ডবিনস বলেন, ‘আপনার ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের শর্করা নিয়ন্ত্রণে শরীরের কার্যক্ষমতা কমে যাবে, তাই ব্লাডস্ট্রিমে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘আপনার শরীর এসব শর্করাকে প্রস্রাবে পাঠিয়ে শর্করামুক্ত হয়।’ তাই বেশি করে বাথরুমে যাওয়া ডায়াবেটিসের একটি উপসর্গ হতে পারে। ড. সাইপেস বলেন, ‘অধিকাংশ রোগীরা কতবার বাথরুম ব্যবহার করে তার ব্যাপারে অপরিহার্যভাবে সচেতন থাকে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘যখন আমরা রোগীদেরকে প্রস্রাবের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি, উত্তর হিসেবে শুনি: ওহ, হ্যাঁ, আমার মনে হয় আমি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাথরুমে যাই।’ আপনার জন্য সতর্কতামূলক প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার রাতে কতবার প্রস্রাবের জন্য জাগার প্রয়োজন হয়? এক বা দুই বার স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু প্রস্রাব ত্যাগের জন্য জাগরণের আধিক্য ডায়াবেটিসের উপসর্গ হতে পারে।

৪. আপনি অস্থির এবং ক্ষুধার্ত হন
নিউ মেক্সিকোর একটি এন্ডোক্রাইনোলজি ক্লিনিকের নার্স প্র্যাকটিশনার এবং আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের হেলথ কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশনের ২০১৪ সালের সভাপতি মার্জোরি সাইপ্রেস বলেন, ‘হঠাৎ অস্থির হওয়া এবং অবিলম্বে কার্বোহাইড্রেটর প্রয়োজন দেখা দেওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিরল কিছু নয়।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘যখন আপনার উচ্চ রক্ত শর্করা থাকবে, তখন শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে শরীরের সমস্যা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনি যদি উচ্চ কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ কোনো কিছু খান, আপনার শরীর একটু অত্যধিক ইনসুলিন নিঃসরণ করে এবং দ্রুত আপনার শর্করা কমে যায়। এটি আপনাকে অস্থির করে তুলবে এবং কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা পাওয়ার জন্য আপনার আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করবে। এ অবস্থা আপনাকে ভিশাচ সাইকেল বা দুষ্ট চক্রের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’

৫. আপনি সবসময় ক্লান্ত হন
আপনি নিশ্চয় প্রতিনিয়ত ক্লান্ত হন। অগ্রসরমান ক্লান্তি মনোযোগ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপসর্গ। এ ক্লান্তি আপনি শরীরে শক্তির জন্য যা খাচ্ছেন তা শরীরে সঠিকভাবে মিশ্রিত না হওয়া এবং যেসব কোষের জন্য এসব খাওয়া হচ্ছে তাদের নিকট শর্করা পৌঁছতে না পারার কারণে হতে পারে। ডবিনস বলেন, ‘আপনার শরীরের জন্য যা প্রয়োজন আপনি তা পাচ্ছেন না।’ এর ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন এবং আলস্যবোধ করছেন।’ অনেক সময় টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য আপনার শর্করা বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিসের এ উপসর্গ ধীরে ধীরে আসতে পারে।

৬. আপনি বিষণ্ন ও বদমেজাজী হন
সাইপ্রেস বলেন, ‘আপনার রক্ত শর্করা কাজ না করলে আপনি শুধুমাত্র খারাপবোধ করবেন না, আপনি বদমেজাজীও হতে পারেন।’ প্রকৃতপক্ষে, উচ্চ রক্ত শর্করা বিষণ্নতার মতো উপসর্গকে বয়ে আনতে পারে। সাইপ্রেস বলেন, ‘আপনি খুব ক্লান্ত অনুভব করবেন, কোনো কিছু করতে মন চাবে না এবং বাইরে বের হতে চাবেন না, শুধুমাত্র ঘুমাতে ইচ্ছে হবে।’ তিনি সেসব রোগীদের দেখবেন, যারা মনে করে তাদের বিষণ্নতার চিকিৎসার প্রয়োজন। তাদের রক্ত শর্করা স্বাভাবিক পাওয়া গেলে তিনি মেজাজ উন্নয়নে গুরুত্ব দেবেন।

৭. আপনার দৃষ্টি ঝাপসা মনে হয়
আপনার কি দৃষ্টি ঝাপসা মনে হয়? এ প্রসঙ্গে ড. সাইপেস বলেন, ‘আতঙ্কিত হবেন না। এটি ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বা রেটিনা ক্ষয়ের ফলাফল নয়, রেটিনোপ্যাথি হলে চোখের পেছনে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক ধাপে চোখের লেন্স ভালোভাবে ফোকাস করতে পারে না, কারণ চোখে শর্করা জমে যা সাময়িকভাবে লেন্সের গঠনের পরিবর্তন করে। ড. সাইপেস বলেন, ‘আপনি ডায়াবেটিসের কারণে অন্ধ হয়ে যাবেন না।’ তিনি রোগীদের আশ্বস্ত করেন, প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর আপনার রক্ত শর্করা স্থিতিশীল হয়ে যাবে, আপনি আর ঝাপসা দেখবেন না, আপনার চোখ খাপ খাইয়ে নেবে।

৮. আপনার কাটা ও ক্ষত খুব ধীরে সারে
ড. সাইপেস ব্যাখ্যা দেন, ‘আপনার রক্ত শর্করার মাত্রা উচ্চ হলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম এবং শরীর আরোগ্যলাভের প্রক্রিয়া ভালোভাবে কাজ করে না।’ এ কারণে শরীরের কোথাও কেটে গেলে, ক্ষত হলে কিংবা আঁচড় লাগলে সেরে ওঠতে দেরি হয়।

৯. আপনার পা অসাড় হয়
আপনার যে ডায়াবেটিস আছে তা উপলব্ধি করার আগেই উচ্চ মাত্রার শর্করা নানারকম জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। ড. সাইপ্রেস বলেন, এসব জটিলতার একটি হচ্ছে কোমল স্নায়ুর ক্ষতিগ্রস্ততা, যা আপনার পায়ে অসাড়তা সৃষ্টি করে।

১০. আপনার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন ও ইস্ট ইনফেকশন আছে
প্রস্রাবে উচ্চ মাত্রার শর্করা থাকার কারণে যোনিনালী ব্যাকটেরিয়া ও ইস্টের প্রজনন স্থল হয়ে যেতে পারে, যার ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং ইস্ট ইনফেকশন বা ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। আবৃত্তিশীল ইনফেকশন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাইপ্রেস বলেন, সাধারণত আপনার ইনফেকশন হলে ডাক্তার ডায়াবেটিস আছে কিনা নির্ণয় করবেন, যদি ইতোপূর্বে আপনার তা না থাকে। তিনি বলেন, যেসব নারীরা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের কারণে ইমার্জেন্সি রুমে যায়, তাদের ইনফেকশন প্রায়ক্ষেত্রে প্রতিহত করা হয়।

টিভি দেখা হোক কম

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা সন্ধ্যার পর বা অফিস শেষ করে বাসায় গিয়ে টেলিভিশনের সামনে বসে পড়েন। আর দীর্ঘক্ষণ টেলিভিশন দেখে সময় পার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, টেলিভিশনের সামনে অনেকক্ষণ বসে থাকা বেশ অস্বাস্থ্যকর। এতে বেশ কিছু রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।  

 

ওজন বেড়ে যেতে পারে

টেলিভিশনের সামনে অনেকক্ষণ বসে থাকলে আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে। এক গবেষণায় দেখে গেছে, প্রতিদিন দুই ঘণ্টা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়ে যায়। এছাড়া টেলিভিশন দেখার অভ্যাস শিশুদের মধ্যেও মোটা হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ‍ঝুঁকি বেড়ে যায়

অনেকক্ষণ টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলে শুধু মোটা হয়ে যাওয়াই নয় ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। এছাড়াও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে দুই ঘণ্টা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ, হৃদরোগের সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ এবং অল্প বয়সে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

অকাল মৃত্যু

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, টেলিভিশনের সামনে অনেকক্ষণ বসে থাকার অভ্যাসের সঙ্গে ধূমপান এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রা যাদের সঙ্গী তাদের অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

শিশুদের আচরণগত সমস্যা হতে পারে

শিশুরা যা দেখে তাই শেখে এবং করে। বর্তমানে টেলিভিশনের পর্দায় বেশিরভাগ সময় হিংসা ও হানাহানি মতো বিষয়গুলো দেখানো হয়। যার ফলে শিশুরা এগুলোকেই স্বাভাবিক বলে মনে করছে। যে কারণে স্কুলে বা যে কোনও মানুষের সঙ্গে শিশুরা এমন খারাপ ব্যবহার করে থাকে।

কোলোন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়

যারা নিয়মিত টেলিভিশনের সামনে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় করেন, তাদের অনেকেই কোলোন ক্যান্সারে আক্রান্ত আক্তান্ত হতে পারে বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে। অপরদিকে, যারা সপ্তাহে ৭ ঘণ্টার বেশি গলফ, নাচ, খেলা ও সাঁতার ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে সময় ব্যয় করেন তারা অনেক বেশি সুস্থ থাকে।

তাই সিদ্ধান্তটা আপনার হাতে টেলিভিশন দেখবেন না শরীরচর্চায় মন দেবেন।

পানিতে লেবুর টুকরা দেবেন না

আপনি কোনো রেস্টুরেন্টে আহারের জন্য বসলে আপনার সার্ভার আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে: আপনি কোন পানীয় পান করতে চান? আপনি হয়তো কোনো জনপ্রিয় কোমল পানীয়ের অর্ডার নাও দিতে পারেন।

আপনি পানীয় চান বা চান, সাধারণত এক গ্লাস পানি বা ডায়েট কোকের সঙ্গে এক টুকরা লেবু আপনাকে দেওয়া হতে পারে। কিন্তু সতর্ক থাকুন। লেবু পানীয়ের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও সার্ভারকে সাইট্রাসমুক্ত পানীয় দিতে বলা উচিত।

জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথে প্রকাশিত ২০০৭ সালের এক গবেষণায় জীবাণুর উপস্থিতি দেখার জন্য ২১টি রেস্টুরেন্টের ৭৬টি লেবুর ওপর পরীক্ষা চালানো হয় এবং এর ফলাফল ছিল উদ্বেগজনক। প্রায় ৭০ শতাংশ লেমন ওয়েজ বা লেবুর টুকরায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং রোগসৃষ্টিকারী ই কোলি বা এসচেরিচিয়া কোলিসহ অন্যান্য জীবাণু ছিল। লেবু প্রাকৃতিক জীবাণু ঘাতক হলেও এটি নিজে নিজে দূষিত হতে পারে।

এবিসি ইনভেস্টিগেশন ১০টি রেস্টুরেন্টে একটি করে লেবুর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে লেবুর টুকরায় মানুষের বর্জ্য দেখতে পান (স্টারবার্ক আইসেও পাওয়া গেছে)।

রেস্টুরেন্টের প্লেটে যে খাবার অর্ডার করেন তার তুলনায় লেবুর টুকরায় বেশি পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, কারণ রেস্টুরেন্টের স্বাস্থ্যবিধি গার্নিশের ক্ষেত্রে কম মেনে চলা হয়।

এবিসি ইনভেস্টিগেশন লক্ষ্য করেন যে, প্রায়সময় রেস্টুরেন্টের কর্মীরা গ্লাভস বা চিমটা ছাড়া লেবু বা লেবুর টুকরা ধরে। তারা বাথরুম ব্যবহার করে বা জীবাণু অধ্যুষিত জায়গায় হাত রাখার পরে যদি ভালোভাবে হাত না ধুয়ে থাকে, তাহলে লেবুর সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া লেগে আপনার পানীয়তে চলে আসার ভালো সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, প্রতিটি ফল ভালোভাবে পরিষ্কার না করে শুধুমাত্র আলতোভাবে ফলের খোসা ধোয়া হতে পারে।

আপনার সার্ভারকে লেবু পানীয় আনতে দেখে কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপের আগেই অবগত থাকুন যে, গার্নিশ আপনাকে অবধারিতভাবে অসুস্থ করবে না। ২০০৭ সালে সম্পাদিত গবেষণাটির লেখকেরা সম্মত হয়েছেন যে, লেবুর সঙ্গে রোগ বা প্রাদুর্ভাবের কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং এ সত্য আজও টিকে আছে।

এবিসি ইনভেস্টিগেশনে নেতৃত্ব দেওয়া মাইক্রোবায়োলজি বা জীবাণুবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ফিলিপ টিয়ের্নো পিএইচডি বলেন, সাধারণত আপনার ইমিউন সিস্টেম আপনাকে লেবু পানীয় থেকে অসুস্থ হওয়া ঠেকাবে।

এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিক্যাল সেন্টারের মাইক্রোবায়েলজি অ্যান্ড প্যাথলজির ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ড. টিয়ের্নো অনুসন্ধানের আলোচনা প্রসঙ্গে হাফিংটন পোস্টকে বলেন, সাধারণ কোর্স বা গার্নিশ সম্ভবত ইনফেকশন ঘটাবে না, কিন্তু সম্ভাবনাকে উড়িয়েও দেওয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, আপনি সন্দেহের মধ্যে থেকে বাস করতে পারেন না। আপনার ইমিউন সিস্টেম সাধারণত খুব ভালো কাজ করে।

এ ব্যাপারে আপনি যদি এখনো উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে সার্ভারকে লেবুবিহীন পানি বা সোডা আনতে বলুন। লেবু ছাড়া যদি চলতে না পারেন, তাহলে চিপে রস বের করে লেবুর টুকরা ফেলে দিন। এ রসে ব্যাকটেরিয়া থাকলেও অন্ততপক্ষে পানিতে ভাসন্ত টুকরার জীবাণুর মতো বেশি জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া খাচ্ছেন না।
 

চিনি কেন কম খাবেন

চিনি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর- কথাটি এখন প্রায়ই বলছেন ডাক্তাররা। বেশি চিনি খেলে লিভারে গিয়ে অ্যালকোহলের মতোই ক্ষতি করতে পারে। মিষ্টি, মিষ্টিজাত খাবার ও পানীয়- সবই এ কারণে বিপজ্জনক। মুটিয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস হওয়া, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগসহ আরো কিছু শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে চিনি থেকে। অনেকের কাছে চিনি খাওয়া বন্ধ করা বেশ কঠিন কাজ। তবে ধীরে ধীরে চিনি খাওয়া কমাতে পারলে শরীরে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চলুন জেনে নেই চিনি খাওয়া ছাড়লে কী উপকার পাবেন-

* দিনে অতিরিক্ত চিনি যারা খান, তারা এখন থেকেই চিনির পরিমাণ কমাতে শুরু করুন। এতে করে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ কমবে, বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ থেকে রেহাই পাবেন আপনি।

* চিনি যারা বেশি খান, তাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেয় বলা যায়। তাই চিনি খাওয়া কমালে আপনার ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার ঝুঁকিও কমে যাবে।

* চিনি  ও চিনিজাত খাবার দিনে যতো কম খাবেন ততোই মঙ্গল। এতে মন মেজাজ ভালো থাকবে। অতিরিক্ত চিনি খেলে অল্পতেই রেগে যাওয়া বা হতাশায় ভোগার সমস্যায় পড়তে পারেন।

* যারা চিনি ও চিনি মেশানো খাবার বেশি খান, তাদের ঘুমের ব্যাঘাত হয় বেশি। তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করলে রাতে আপনার ঘুম ভালো হবে আশা করতে পারেন।

* প্রতিদিন যারা বেশি পরিমাণে চিনি খান, তাদের মাঝে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এমনকি মস্তিষ্কের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তাই চিনি খাওয়া ছেড়ে দিলে আপনার স্মৃতিশক্তি উন্নত হবে। সব কিছু ভালো মনে রাখতে পারবেন।

* প্রতিদিন যদি খাবারের তালিকা থেকে চিনি বাদ দেন, তাহলে ওজন কমার লক্ষ্যে খুব ভালো ফল পাবেন।

* চিনি খাওয়া বন্ধ করলে আগের চেয়ে বেশি তারুণ্যদীপ্ত হয়ে উঠবেন আপনি। আপনার চোখের নিচে কালো দাগ, ফোলা এসব দূর হয়ে যাবে। শরীর সতেজ হয়ে উঠবে।

* কয়েক দশক আগে এক গবেষণায় দেখা গেছে চিনি খেলে শরীরের সাদা রক্ত কণিকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে না। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। 

* চিনি খেলে প্রথমে শরীরে একটু চনমনে ভাব আসতে পারে। তবে ক্ষতিকর দিক হলো, এরপরই শরীরে বাজে প্রভাব ফেলে চিনি। তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করলে আরো প্রাণবন্ত রোধ করবেন আপনি।

* শরীরের জয়েন্টে ব্যথা বা শরীর ফোলা থেকে রক্ষা পাবেন চিনি খাওয়া বন্ধ করলে। 

* চিনি বা চিনিজাত খাবার ও পানীয় দাঁতের ক্ষতি করে। এদের কারণে ব্যাকটেরিয়া বাসা বেঁধে দন্তক্ষয়, মুখের দুর্গন্ধ তৈরি করে। তাই এসব খাবার না খেলে আপনার দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

* চিনি না খেলে শরীরে উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে।

* বেশি চিনি খেলে লিভারে চর্বি জমে যায়। তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করলে লিভার ভালো থাকবে। 

* কয়েক ধরনের ক্যানসার থেকে নিরাপদে থাকবেন চিনি না খেলে।

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

এবার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হেতে যাচ্ছে ৬ অক্টোবর। এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি এবং তা কেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বুধবার সচিবালয়ে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা তত্ত্বাবধানে গঠিত ওভারসিইং কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই নির্দেশ দেন।

 

সভায় নাসিম বলেন, গতবছর যেভাবে পরীক্ষা প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ ঘটেনি, তেমনিভাবে এবছরও যেন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে করে নিরাপত্তাজনিত কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।

তিনি বলেন, এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দেশের সুশীল ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ চিকিৎসকদের নিয়ে ওভারসিইং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গতবছর ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য এনে দিয়েছিল।

আগামীতেও সুশীল সমাজের পরামর্শ কাজে লাগানো হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার মান সমুন্নত রাখতে কোনো আপস করা হবে না। ভর্তি পরীক্ষার আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র বানিয়ে নিরীহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণার অপকৌশল বন্ধ করতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তি কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে।

এলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরও যেন কোনোভাবে এ ধরনের অপতৎপরতা না চলে তার জন্য নজরদারি বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে।

নাসিম জানান, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ভর্তি পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি বৈঠক হবে।

সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বিশিষ্ট কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, ৭১ টেলিভিশনের পরিচালক (বার্তা) সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. সহিদুল্লাসহ বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যে ৮ কারণে ঘ্রাণ অনুভূতি হারাতে পারেন

বিশ্বের অনেক কিছুর (যেমন- রসুনের গন্ধ, পূর্ণ প্রস্ফুটিত গোলাপ, তাজা কাটা ঘাস, ভালোবাসার মানুষের ব্যবহার করা পারফিউম ইত্যাদি) গন্ধ অনুভব করার জন্য ঘ্রাণ অনুভূতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু অ্যানসমিয়া হলে অর্থাৎ ঘ্রাণ অনুভূতি লোপ পেলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। এ অবস্থা শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর তুলনায় বেশি ধীরে মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। এর কারণ হল ঘ্রাণ অনুভূতি নাকের সেন্সর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যা মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। বিভিন্ন কারণে ঘ্রাণ অনুভূতি লোপ পেতে পারে। এ লোপ স্বল্পস্থায়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী বা স্থায়ী হতে পারে।

১. নাকের কনজেশন বা নাক বন্ধ
দীর্ঘস্থায়ী নাকের কনজেশন বা নাক বন্ধ সমস্যার কারণ সম্পর্কে স্নায়ুবিশারদ কুলরীত চৌধরী বলেন, ‘নাকের কনজেশনের সবচেয়ে কমন কারণ হচ্ছে, সাইনাস ব্লকেজ বা সাইনাস প্রতিবন্ধকতা এবং সাইনাস কনজেশন বা সাইনাস বন্ধ যা সাইনাসে প্রদাহ এবং টক্সিন জমার কারণে হয়ে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘মন্দ কনজেশন বহু পরত বিশিষ্ট এবং তা অতিরিক্ত স্ট্রেস বা চাপ, অতিভোজন, নিম্নমানের আহার অভ্যাস, অতি ক্ষুদ্র অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার অত্যধিক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত।’ আপনার যদি ঠান্ডা বা অ্যালার্জির উপসর্গ না থাকে তাহলে পাচন সমস্যা বা স্ট্রেসের কারণে কনজেশন হতে পারে এবং ঘ্রাণশক্তি লোপ পেতে পারে। কুলরীত চৌধরী বলেন, ‘সাইনাসের প্রদাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা পাচনতন্ত্র বা পরিপাক প্রক্রিয়ার উন্নয়নসাধনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।’ উপযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং সাইনাস সমস্যাকে নিস্তেজ করতে চিকিৎসক বা ডায়েটেশিয়ানের সঙ্গে কথা বলুন।

২. ধূমপান
সাধারণত ধূমপান অ্যানসমিয়ার জন্য কালপ্রিট। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ওটোল্যারিঙ্গোলজি-হেড অ্যান্ড নেক সার্জারির মতে, ‘তামাক ধূমপান হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত দূষণ যা বেশিরভাগ মানুষ নির্গত করে।’ এ অভ্যাস ঘ্রাণ নির্ণয় ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয় এবং স্বাদ অনুভূতি কমিয়ে ফেলে। সুখবর হল যে এ ফলাফল স্থায়ী হবে না, যদি আপনি এ বদভ্যাস ত্যাগ করেন।

৩. কেমিক্যাল
বিষাক্ত কেমিক্যাল, যেমন- কীটনাশক বা দ্রাবক, নির্গত করলে আপনার নাকের ভেতর দগ্ধ হয়ে ঘ্রাণশক্তি বিনাশ হতে পারে। কেমিক্যাল আপনার নাকের টিস্যু এবং ঘ্রাণশক্তিকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে। কিছু বড় কেমিক্যাল কালপ্রিট হল: মিথাক্রাইলেট ভ্যাপারস, অ্যামোনিয়া, বেনজিন, ক্যাডমিয়াম ডাস্ট, ক্রোমেট, ফরমালডিহাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, নিকেল ডাস্ট এবং সালফিউরিক অ্যাসিড। যেকোনো কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহারের পূর্বে লেবেল দেখে নিন এবং ঘরে কিংবা কর্মক্ষেত্রে কেমিক্যাল ব্যবহারে সবসময় রেস্পিরেটর ডিভাইস বা শ্বাসমুখোশ পরিধান করুন।

৪. ওষুধ
কুলরীত চৌধরীর মতে, ‘অ্যানসমিয়া হওয়ার সবচেয়ে কমন কালপ্রিটের একটি হচ্ছে, ওষুধ এবং তা সবচেয়ে সামান্য সমস্যার একটি।’ আপনি যদি সদ্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে আপনার ঘ্রাণ অনুভূতি বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন রকম ওষুধ, যেমন- অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ এবং অ্যান্টিহিস্টামিন- এ রকম ফলাফল প্রদান করে থাকে। আপনার ওষুধের লেবেল দেখে নিশ্চত হোন এটি সেবনে অ্যানসমিয়া উপসর্গ দেখা দেবে কিনা। বিকল্প ওষুধের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কুলরীত চৌধরী বলেন, ‘প্রায় ক্ষেত্রে, আপনি যদি ওষুধ সেবন বন্ধ করতে পারেন তাহলে সাধারণত অ্যানসমিয়া উপসর্গ চলে যাবে।’

৫. মাথায় আঘাত
নাকের সঙ্গে মস্তিষ্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে ঘ্রাণশক্তির লোপ আপনার মনে কোনো কিছু অনুপস্থিতির ভালো নির্দেশক হতে পারে। আঘাত পেলে কিংবা ব্রেইন সার্জারি হলে সতর্ক থাকবেন, কারণ মাথায় আঘাতের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ওলফ্যাক্টরি বা ঘ্রাণজ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ফলাফল সাময়িক বা স্থায়ী হতে পারে। কুলরীত চৌধরী উল্লেখ করেন, ‘বিরল ক্ষেত্রে, আপনার ঘ্রাণশক্তির ধ্বংসপ্রাপ্ততা ব্রেইন টিউমারের লক্ষণও হতে পারে।’

৬. অ্যালঝেইমার’স রোগ
কান, নাক এবং গলা বিশেষজ্ঞ ড. ইলিয়ানা শোয়াল্টারের মতে, ‘দুর্বল ঘ্রাণ অনুভূতি অ্যালঝেইমার’স রোগের প্রাথমিক লক্ষণসমূহের একটি।’ প্রকৃতপক্ষে, মস্তিষ্ক ক্ষয় রোগের পূর্বে এ উপসর্গ (দুর্বল ঘ্রাণ অনুভূতি) দেখা দিতে পারে। গত বছরের গবেষণা অনুযায়ী, অ্যালঝেইমার’স সোসাইটি উল্লেখ করেছেন, অ্যানসমিয়া যে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের উল্লেখযোগ্য নির্দেশক তার স্বপক্ষে জোরালো প্রমাণ রয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঘ্রাণ অনুভূতি ক্ষতিগ্রস্তদের তিনগুণ বেশি স্মৃতি সমস্যা ছিল। গবেষকরা আরো দেখতে পান যে, চুইংগাম এবং পেট্রোলের গন্ধের পার্থক্য নির্ণয় অক্ষমতা অ্যালঝেইমার’স রোগ এবং ডিমেনশিয়া উদঘাটনের নতুন উপায় হতে পারে।

৭. পারকিনসন’স রোগ
অ্যালঝেইমার’স রোগের মতো পারকিনসন’স রোগও মস্তিষ্ক ক্ষয়মূলক ব্যাধি এবং অ্যালঝেইমার’স এর মতোই পারকিনসন’স এরও প্রাথমিক উপসর্গ আছে, যা সহজেই অলক্ষ্যে থেকে যেতে পারে। পারকিনসন’স রোগের একটি উপসর্গ হচ্ছে, ঘ্রাণ অনুভূতির ক্ষতিগ্রস্ততা। মাইকেল জে ফক্স ফাউন্ডেশনের মতে, যেসব লোকের অ্যানসমিয়া আছে তাদের বেশিরভাগের পারকিনসন’স রোগ হয় না, কিন্তু অধিকাংশ পারকিনসন’স রোগীরা অ্যানসমিয়া অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন এবং প্রায়ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের সময় এটি উপেক্ষিত থেকে যায়।

৮. বার্ধক্য
আপনাকে বার্ধক্য গ্রাস করতে থাকলে দৃষ্টিশক্তি এবং শ্রবণশক্তির মতো আপনার ঘ্রাণশক্তিও কমে যেতে থাকবে। গবেষকরা তথ্য উত্থাপন করেন যে, ৮০ উর্ধ্ব মানুষের মধ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি মানুষের ঘ্রাণজ অবনতির লক্ষণ থাকে। অন্য একটি গবেষণায় প্রকাশ পায়, ৮০ থেকে ৯৭ বছর বয়সিদের মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ মানুষের ঘ্রাণজ অবনতি ছিল।
 

মধুর জীবন

ডায়বেটিসের ঝুঁকিতে চিনি ছেড়ে দিয়েছেন, ওজন বাড়ছে খাদ্যতালিকা থেকে কাটা পড়লো চিনি। কিন্তু মিষ্টি খাবারের জন্য প্রাণ আকুপাকু। তাহলে মিষ্টি কী করে খাবেন? মিষ্টি খাওয়ার সহজ সমাধান মধু। আগে যেসব খাবারে চিনি খেতেন, সেসব খাবারে মধু ব্যবহার শুরু করেন। আর সেই সঙ্গে জেনে নিন মধুর উপকারিতা।

মধু শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এক সময় অলিম্পিকে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়েরা মধু খেয়ে শক্তি বাড়াতো।  মধু খুব দ্রুত শরীরে শক্তির ঘাটতি দূর করে।

সর্দি এবং গলার সংক্রমণ কমায়। সর্দি, কাশিসহ গলার যেকোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতে মধু দারুণ কাজ করে। প্রসঙ্গত, ১১০ জন শিশুর ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এক ফোঁটা মধুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ডেক্সট্রোমেথরফ্যান থাকে, যা কাশি সর্দির সমস্যা কমিয়ে আরাম প্রদান করে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমোতে সাহায্য করে।

আয়ুর্বেদিক অষুধ মধু। প্রায় চার হাজার বছর ধরে ভারতবর্ষে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসাবে মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে। মধুর নিয়মত ব্যবহারে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে ওজন কমে, সন্তান ধারণে অক্ষমতা দূর করতে সাহায্য করে, মূত্রনালির সংক্রমণ দূর হয় এবং শ্বাসকষ্ট কমে। এছাড়াও ডাইরিয়া এবং বমি বমি ভাব দূর করতেও মধু দারুণ উপকারি ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, যে কোনও ভেষজ ওষুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

ক্ষতস্থান সারায়। শরীরের কোনও জায়গায় কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে মধুর ব্যবহারে খুবই উপকার পাওয়া যায়। ক্ষতস্থানে মধু এবং চিনি মিশিয়ে লাগালে জীবাণুনাশক হিসাবে তো বটেই, সেই সঙ্গে ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যেতেও সাহায্য করে মধু।

ত্বকের যত্নে কাজ আসে। সারাদিন ধুলো বালিতে আমাদের ত্বকের দারুণ ক্ষতি হয়। যে কারণে ত্বকে নানা ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে যদি মধুকে কাজে লাগানো যায়, তাহলে দারুন উপকার পাওয়া যায়। কেমন ভাবে মুখে লাগাবেন মধু? নানা ধরণের ফেসপ্যাকের সঙ্গে মধু ব্যবহার করতে পারেন। এমনটা করলে দারুন উপকার মেলে। 

কোন ভিটামিন খাওয়া উচিত, কোনটি নয়

কয়েক দশকের গবেষণায় ভিটামিন সেবন কোনো সুনির্দিষ্ট দিক দিয়ে শরীরের জন্য ভালো বলে সুদৃঢ় প্রমাণ না মিললেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় বিশেষ বিশেষ ভিটামিন কারও কারও জন্য ক্ষতিকর হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কয়েকটি ভিটামিন কয়েকধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবার কিছু কিছু কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।

কোন ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত, আর কোনটি নয়-

মাল্টিভিটামিন: বাদ দিন-সুষম খাবারের মাধ্যমে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু পাওয়া যায়।

কয়েক দশক ধরে ধারণা ছিল, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য মাল্টিভিটামিন খুব জরুরি- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি, দৃষ্টিশক্তির সুরক্ষায় ভিটামিন এ, শক্তিশালী থাকতে ভিটামিন বি।

তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো অতিরিক্ত সেবনে প্রকৃতপক্ষে শরীরের ক্ষতি হয়।২৫ বছরের বেশি বয়সী ৩৯ হাজার নারীর উপর ২০১১ সালে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে এগুলো সেবন করেছেন তাদের মৃত্যুঝুঁকি যারা সেবন করেননি তাদের চেয়ে বেশি।

 

 

 

ভিটামিন ডি: এটা নিন-হাড় মজবুত করে এবং খাবার থেকে এটা পাওয়া কঠিন।

 

আমরা যেসব খাবার খাই তার বেশিরভাগেই ভিটামিন ডি থাকে না। কিন্তু ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তার মাধ্যমেআমাদের হাড় মজবুতে এটা খুবই জরুরি। সূর্যের আলো লাগলে শরীরে এটা তৈরি হয়, তবে শীতকালে তা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া কঠিন হতে পারে। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়েছে, তারা যারা নেয়নি তাদের চেয়ে বেশি দিন বাঁচে।

এন্টিঅক্সিডেন্ট: বাদ দিতে হবে-শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হলে তা কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে এবং সেবন বাদ দিয়ে আপনি ছোট রসালো ফল খেয়েই এর প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

ভিটামিন এ, সি ও ই-এসব এন্টিঅক্সিডেন্ট অনেক ফলেই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, বিশেষ করে রসালো ফল ও শাকসব্জিতে।

তবে সমীক্ষায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পরিমাণে নেওয়া হলেএন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।পুরুষ ধূমপায়ীদের উপর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ভিটামিন এ সেবন করতেন তাদের ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি যারা নিতেন না তাদের চেয়ে বেশি।

 

 

 

বিভিন্ন ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্টসাপ্লিমেন্ট নিয়ে২০০৭ সালের এক পর্যালোচনার সমাপ্তি টানা হয় এভাবে: “বেটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ ও ভিটামিন ই-এর মাধ্যমে চিকিৎসায় মৃত্যু হার বাড়তে পারে।”

 

ভিটামিন সি: বাদ দিতে হবে- সম্ভবত এটা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে সুস্থতায় কাজ করে না এবং লেবু, বাতাবু লেবু, কমলা, আঙুর থেকেই এটা পাওয়া যায়।

গবেষণার পর গবেষণায় দেখা গেছে, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা রোধে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট তেমন কোনো কাজ করে না। উপরন্তু দুই হাজার মিলিগ্রাম বা তার চেয়ে বেশি কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ফল থেকেই ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করা যায়। স্ট্রবেরি এই পুষ্টি উপাদানে ভরপুর।

ভিটামিন বি৩: এটা সেবন বাদ দিয়ে স্যামন, টুনা মাছ এবং গাজর খেয়েই এর চাহিদা পূরণ করা যায়।

বছরের পর বছর আলঝেইমার থেকে হৃদরোগ পর্যন্ত সব কিছুর চিকিৎসায় ভিটামিন বি৩ দেওয়া হত।কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় এর ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

২০১৪ সালে ২৫ হাজারের বেশি হৃদরোগীর উপর পরিচালিত এক গবেষণায়দেখা গেছে, ‘গুড’ বা এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়াতে ভিটামিন বি৩ এর ব্যবহারে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মৃত্যু কমেনি। বরংযারা বিও সাপ্লিমেন্ট নিয়েছেন তাদের সংক্রমণ, লিভারের সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়েছে।

 

প্রোবায়োটিকস (ব্যাকটেরিয়াল সাপ্লিমেন্ট): বাদ দিতে হবে- দই খেয়ে এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

২০১২ সালে দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যবসা হয় প্রোবায়োটিকসের, এর প্রতিটি পিলের দাম ১ ডলার পর্যন্ত রাখা হয়ে থাকে। কিন্তু দই বা গাজনের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত খাবারে স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণে এটা পাওয়া যায় তার চেয়ে ওই পিলে কম থাকে।

জিঙ্ক: এটা সেবন করতে হবে-যেসবে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার প্রশমণ ঘটে সেগুলোর একটি এটা। ‘কমন কোল্ডের’ জন্য দায়ী রিনোভাইরাসের বংশবিস্তারে বাধা দেয় এই খনিজ উপাদান।

ভিটামিন ই: বাদ দিতে হবে- অতিরিক্ত সেবনে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়।

কথিত ক্যান্সার প্রতিরোধ সক্ষমতার কারণে ভিটামিন ই এন্টিঅক্সিডেন্টের বহুল ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু ২০১১ সালে প্রায় ৩৬ হাজার পুরুষের উপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সাপ্লিমেন্ট সেবনকারীদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

২০০৫ সালের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ই সেবনে সামগ্রিকবাবে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে।

উদ্ভিজ্জ তেল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও সবুজ শাক-সব্জিতে ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

 

 

 

ফলিক এসিড: গর্ভধারণ করলে বা গর্ভধারণ করতে চাইলে সেবন করতে হবে।

 

ফলিক এসিড এক ধরনের বি ভিটামিন, যা দেহে নতুন কোষ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গর্ভবতী বা গর্ভধারণে ইচ্ছুক নারীদের দৈনিক ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড সেবন করা উচিত।

বিয়ে যেভাবে হার্টের ক্ষতি করে অথবা ভালো করে

অনেক গবেষণার মতে, মানুষের হার্টের স্বাস্থ্য তাদের সম্পর্কের ধরনের সঙ্গে খুব জড়িত। গবেষণায় দেখা যায় যে তালাকপ্রাপ্ত, সিঙ্গেল বা অবিবাহিত এবং বিচ্ছিন্ন মানুষদের তুলনায় সুখী বিবাহিত মানুষদের মধ্যে বিশ্বের এক নম্বর প্রাণঘাতী করোনারি হার্ট রোগের পরিমাণ কম।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ডিভোর্স বা তালাকের সঙ্গে করোনারি অ্যাথেরোসক্লেরোসিস নামক হার্টের রোগ জড়িত। নতুন এক গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক এবং কার্ডিয়াক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক বেশি জটিল হতে পারে।

অ্যামেরিকান সাইকোলজিস্ট জার্নালের এক বিশেষ সংস্করণে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহের অধ্যাপক টিমোথি স্মিথ এবং ব্রায়ান বাউকাম হার্টের স্বাস্থ্য ও বিয়ে বা বিয়ের মতো সম্পর্কের বিভিন্ন দিক প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, মানুষের অনেকগুলো গুণ, যেমন- ব্যক্তিত্ব, মানসিক বা আবেগের সুসমন্বয় এবং অন্যান্য গুণ যা মানুষে মানুষে সম্পর্ক উন্নত করে তা তাদেরকে সুস্থ রাখতে, স্ট্রেস বা চাপ সামলাতে এবং ভালোভাবে ঘুমাতেও ভূমিকা রাখে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, বিয়ে মানুষকে সুস্থ রাখছে না। তাদের যেসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাদের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা তাদের বিয়ে ভাঙনও ঘটাচ্ছে এবং উভয়েই একটি আরেকটির ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।

ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহের মনোবিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক স্মিথ বলেন, কার্ডিওভাসকুলার রোগ বা বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ক্রোধ, বৈরভাব, হতাশা, বুদ্ধিস্বল্পতা এবং পোস্ট ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের উন্নতি বা অবনতির জন্য আপনি যদি সর্বাধিক তথ্যবহুল স্বতন্ত্র ঝুঁকিসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করেন তাহলে দেখবেন এসবের সঙ্গে সম্পর্কের অসুবিধাগুলোর খুব নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, বাস্তবিক জ্ঞানের আলোকে বলা যায় যে, মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, যেমন- হার্টের রোগ বাড়া বা কমা সম্পর্কের আচরণের ওপর নির্ভর করে। বৈবাহিক কলহ না হলে বা কম হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কম থাকে এবং নিয়মিত বৈবাহিক কলহ হলে হার্টের সংবহনে বেশি চাপ সৃষ্টি হয়।

কার্ডিয়াক বা হার্টের রোগের জন্য কিছু স্পষ্ট ব্যবহারিক বিষয়কে দায়ী করা হয়। কার্ডিয়াক রোগের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ যেমন- ধূমপান, ব্যায়ামের অভাব এবং চর্বিযুক্ত খাবার, কোনো মানুষের পক্ষে পরিবর্তন বা বর্জন করা সহজ হয় যদি এসব ত্যাগের ব্যাপারে উৎসাহী জীবনসঙ্গী থাকে। যদি স্বামী বা স্ত্রী ধূমপায়ী হয় ও শুধুমাত্র ভাজাপোড়া খাবার খায় এবং জীবনসঙ্গী তার এসব অভ্যাস বর্জনে যথেষ্ট উদ্যমী না হয় তাহলে কার্ডিয়াক রোগীর পক্ষে এসব ছাড়া কঠিন।

প্রচুর গবেষণায় ইতোমধ্যে বিয়ে এবং ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছেন যে, স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। স্মিথ বলেন, ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত সমস্যাসমূহ (যেমন- বিষণ্নতা এবং বৈরভাব) ধূমপান বর্জন কিংবা ব্যায়ামের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।’ এর কারণ হচ্ছে মানুষ যখন দুর্দশা অনুভব করে তখন সুস্থ থাকার নিয়মাবলী পালন করে না বললেই চলে।

অন্যদিকে কার্যকরী বা সুসম্পর্কের জুটি চিকিৎসা পরিকল্পনাকে (যেমন- বিশেষ করে হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে) সহজে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। অবিবাহিত বা একাকী দিন কাটানো মানুষদের তুলনায় সমর্থনমূলক এবং সুখী সম্পর্কে আবদ্ধ লোকদের ওষুধ গ্রহণে বেশি করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় ও তাদের ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্টও বেশি হয় এবং তারা তিক্ত বা অকার্যকর সম্পর্কে জড়িত ব্যক্তিদের তুলনায় কম জ্বালাতন এবং শাসানির মুখোমুখি হন।

এবার ঘুমের কথায় আসা যাক। স্মিথ বলেন, ‘স্লিপ ডিসঅর্ডার এবং ইনসমনিয়া দৃঢ়ভাবে হার্টের রোগের পূর্বাভাস দেয়।’ যেসব মানুষেরা তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে বা যারা একাকী থাকে কিংবা অসুখী চিন্তাভাবনায় মগ্ন থাকে তাদের তুলনায় বিবাহিত জীবনে সুখী মানুষেরা ভালো ঘুমাতে পারে। এসব সুখী মানুষদের কর্মক্ষেত্রে চাপপূর্ণ দিন অতিবাহিত করে ঘরে ফিরে কলহে লিপ্ত হতে হয় না, তারা শান্ত হতে পারে এবং তাদের সংবহন প্রক্রিয়াকে চাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

কার্ডিওলজিস্টদের প্রতি স্মিথ এবং বাউকামের পরামর্শ হল রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তারা যেন স্বামী-স্ত্রীর জটপাকানো ভূমিকা অনুধাবন করে। চেস্ট ক্যাভিটির বহুপ্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট অঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি চিকিৎসকরা হার্টের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে দেখতে পারেন যা স্ক্যানে ধরা পড়ে না। চিকিৎসক মন্দ বা তিক্ত সম্পর্কে জড়িত রোগীদের অনলাইন ভিত্তিক বৈবাহিক কোর্স বা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিবাহ শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারেন।

স্মিথ বলেন, ‘স্বামী বা স্ত্রী হচ্ছে বিস্ময়কর সত্য পর্যবেক্ষণকারী।’ অনেক চিকিৎসক রোগীদের নিজস্ব রিপোর্ট বা বিবরণ এবং প্রশ্নাবলীর উত্তরের ওপর ভিত্তি করে তাদেরকে মূল্যায়ন করেন। কিন্তু বিখ্যাত টিভি ডক্টরের ভাষ্যমতে, ‘রোগীরা মিথ্যা বলে।’ একজন রোগী বলতে পারে যে তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন অথবা কোনো ব্যথা অনুভব করছেন না, কিন্তু এ ব্যাপারে প্রকৃত সত্য জানেন তার জীবনসঙ্গী এবং তিনি সত্য অভিমত ব্যক্ত করতে পারেন।

স্মিথ ১১৪ দম্পতির ওপর একটি গবেষণা চালান। গবেষণায় তিনি তাদের সাম্প্রতিক কলহের বিষয়ে কথাবার্তা বলার সময় পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি প্রত্যেকের ওপর করা পর্যবেক্ষণ নোট করে রাখেন এবং তারপর প্রত্যেকের কার্ডিয়াক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় যে, যারা বৈরভাব এবং কম গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাদের মধ্যে উচ্চতর করোনারি অ্যাথেরোসক্লেরোসিস ছিল। তাদের প্রসঙ্গে স্মিথ বলেন, ‘তাদের নিজস্ব রিপোর্টের চেয়ে তাদের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া ভালো পূর্বাভাষদাতা ছিল (রোগের ব্যাপারে)।’ তিনি বলেন যে, কলহ ধূমপান বা স্থূলতার মতোই কার্ডিয়াক সমস্যার জন্য দায়ী।

কিন্তু তিনি গ্রাহ্য করেন না যে, বিবাহ একটি জাদুকরী বুলেট। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে এই সম্পর্কে জাদুকরী কোনো কিছু আছে, এটি হচ্ছে দীর্ঘসময়ের আন্তঃব্যক্তিগত সম্পর্কের পুনরাবৃত্তিমূলক নমুনা।’ তিনি কতগুলো প্রশ্ন রাখেন: আমাদের কি অন্যদের সঙ্গে নিয়মিত সন্তোষজনক সম্পর্ক আছে বা আমরা কি ভিন্নতা এবং একাকিত্ব অনুভব করি? আমরা যখন ভিন্নতা অনুভব করি তখন গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য কাউকে আহ্বান করতে পারি, এটা কি আমরা অনুভব করি? অথবা আমরা কি সরাসরি দ্বন্দ্বমূলক কোনো প্রবৃত্তির সঙ্গে জড়িত?

তিনি অনুমান করেন যে, বিয়ে এসব স্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়াকে বাড়িয়ে তুলবে। কিন্তু এসব সংঘটিত হওয়ার জন্য এটি কোনো পারফেক্ট মার্কার নয়।
 

যেভাবে রক্তে চর্বির পরিমাণ কমাতে পারেন

প্রতিটি মানুষের রক্তে নির্দিষ্ট মাত্রায় চর্বি থাকে। কিন্তু এই চর্বির পরিমাণ যখন বেড়ে যায় তখন বেড়ে যায় অনেক মারাত্মক রোগের ঝুঁকি। রক্তে অতিমাত্রার চর্বি করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হূদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হূদরোগের হাত থেকে রেহাই পেতে রক্তে কোলেস্টেরলের মান বা চর্বির মাত্রা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত রাখা প্রয়োজন। এবং মনে রাখা দরকার যে, সেটি করতে হলে প্রথমেই নজর দিতে হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার দিকে। বর্জন করতে হবে অনেক কিছু আবার গ্রহণ করতেও হবে বাড়তি কিছু। আর লিপিড প্রফাইল করে জেনে নিতে হবে সব কোলেস্টেরলের মাত্রা।

আসুন আমরা জেনে নেবো কিভাবে আমরা রক্তে চর্বির পরিমাণ কমাতে পারি বা কম রাখতে পারি। প্রথমেই বলা যাক খাদ্যতালিকায় কী কী সংযোজন বা পরিহার করতে হবে।

গরু ও খাসির গোশত খাওয়া কমিয়ে দিন। আর, হ্যাঁ, সেই সাথে অবশ্যই কলিজা জাতীয় খাবারও আপনাকে কম খেতে হবে বা খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

প্রচুর মপরিমাণে মাছ খান।

শাকসবজি ও ফল খান।

দুধ বা দুধ থেকে উত্পন্ন খাদ্য যেমন- ঘি, পনির, মাখন, আইসক্রিম খাবেন না।

ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে খাবেন, তার মানে শুধু ডিমের সাদা অংশ খেতে হবে।

নারকেল বা নারকেল দেয়া খাবার পরিত্যাগ করুন।

খাবার তালিকা সংশোধনের সাথে সাথে হূদরোগ-এর ঝুঁকি বাড়ায় এমন কোনো অভ্যাস যেমন ধূমপান পরিহার করতে হবে।

তাছাড়া উচ্চরক্তচাপ থাকলে তার জন্য সঠিক চিকিত্সা নেয়া জরুরি।

ব্যায়াম করার আগে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ব্যায়াম করা স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন।

ভিটামিন-এ রয়েছে রঙিন শাক সবজিতে। আর প্রতিদিন অন্তত ১৫ গ্রাম ভিটামিন এ আমাদের জন্য প্রয়োজন। তাই ভিটামিন সমৃদ্ধ প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ও রান্নাকরা শাকসবজি, ফল গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

খুব দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, তারপরও রক্তে কোলেস্টেরল বা চর্বির পরিমাণ বেশি এ রকম অনেকেই আমাদের কারো না কারো পরিবারে আছেন। আর তাদেরকে তখন নানারকম ওষুধের মাধ্যমে রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

৫০ বছর এর অধিক বয়সী অনেক মহিলার সার্জারি করে জরায়ু ফেলে দেয়া হয়। আবার সে সময় তারা এমনিতেই মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি কালে চলে যান। এই সময় তারা যদি ইস্ট্রোজেন নেন তাহলে তারা হূদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন। কারণ ইস্ট্রোজেন বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেয়া হলে তা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট হাঁটবেন কেন?

জিমনেশিয়ামে গিয়ে প্রতিদিন শরীরচর্চা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত হার্ভার্ড স্টাডি মতে, প্রতিদিন নিয়ম করে ১৫ মিনিট হাঁটলে দূরে থাকতে পারবেন বিভিন্ন রোগ থেকে। সকালে অথবা সন্ধ্যায় কাছাকাছি কোনও পার্কে হাঁটাহাঁটি করুন। সেটাও সম্ভব না হলে কাছাকাছি দূরত্বের কর্মক্ষেত্র থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরুন।

জেনে নিন প্রতিদিন ১৫ মিনিট হাঁটা জরুরি কেন-

  • বয়স ত্রিশ পার হলেই শরীরের হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। প্রতিদিন খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে বাড়ে হাড়ের শক্তি।
  • শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি ক্ষয় করতে প্রতিদিন হাঁটার বিকল্প নেই। নিয়ম করে ১৫ মিনিট হাঁটতে পারলে এটি আপনাকে সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
  • প্রকৃতির সঙ্গে নিয়মিত কিছু সময় কাটালে সেটি ব্যক্তিগত হতাশা দূর করতে সাহায্য করে- এমনটি বলেছে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। তরুণদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে তারা এই সিদ্ধান্তে আসে।
  • নিয়মিত হাঁটলে চিন্তার পরিধি ও সৃজনশীলতা বাড়ে বলে জানিয়েছে স্টানফোর্ড স্টাডি। সৃজনশীল কোন কাজ নিয়ে চিন্তা করতে চাইলে হাঁটার সময়কে তাই কাজে লাগাতে পারেন।
  • প্রতিদিন হাঁটলে শক্তিশালী হয় স্মৃতিশক্তি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটি লোপ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
  • প্রতিদিন নিজের জন্য কিছু সময় বের করে সবুজের সংস্পর্শে থাকাকে বিভিন্ন রোগের মহৌষধ বলা হয়। একারণেই জাপানে ‘ফরেস্ট বাথ’ বা সবুজের সঙ্গে সময় কাটানোকে আবশ্যক বলে ধরা হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

টক তেঁতুলের নানা গুণ

মুখরোচক তেঁতুল কিন্তু পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য। তেঁতুলে থাকা একাধিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান দেহের বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে পারে। পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির উন্নতি, ত্বকের পরিচর্যায় এবং আরও নানা শারীরিক উন্নতিতে এই ফলটি গুরুত্বপূর্ণ।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, তেঁতুলে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, ই এবং বি রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ডায়াটারি ফাইবার। এখানেই শেষ নয়, একাধিক শক্তাশালী অ্যান্টিঅক্সিডন্টেরও দেখা মেলে এই ফলটিতে।
জেনে নিন তেঁতুল আমাদের শরীরের কী কী উপকার করে-

 

  • তেঁতুলে উপস্থিত ডায়াটারি ফাইবার হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে হজম শক্তির বাড়ে। এছাড়া তেঁতুলে থাকা ‘বিলিয়াস সাবস্টেন্স’  খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ফলে বদ-হজমের আশঙ্কা কমে যায়।
  • তেঁতুলে থাকা একাদিক ভিটামিন এবং খনিজ ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত দেহের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূর হয়।
  • তেঁতুলে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা ব্রেন ফাংশনের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র নার্ভ সেলের শক্তি বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কগনেটিভ ফাংশনে উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিও বাড়তে শুরু করে।
  • তেঁতুল খেলে শরীরে হাইড্রোক্সিসিট্রিক অ্যাসিড বা এইচ সি এ-এর মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই উপাদানটি শরীরে উপস্থিত অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে সার্বিকভাবে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে তেঁতুল খাওয়া শুরু করলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ক্ষুধা কমে যায়।
  • সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেঁতুল কার্যকর।
  • প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি থাকার কারণে তেঁতুলে খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

এই বিভাগের আরো খবর

এসব কারণেও হার্ট অ্যাটাক!

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে অধিকাংশ লোক মনে করে যে, অত্যধিক চর্বিযুক্ত খাবার এবং আলস্য জীবনযাপন এর জন্য দায়ী।

হ্যাঁ, এটা সত্য যে, খাবার এবং জীবনযাপন প্রণালী হার্ট অ্যাটাকে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে যা হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এমন কিছু কারণে হার্টের ক্ষতি হতে পারে যা সম্ভবত আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। এখানে হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সমস্যা সম্পর্কিত ১৫টি বিষয়ের উল্লেখ করা হলো।

১. আপনার প্রতিবেশী

 

দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে ২০০১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোকেরা নিম্ন আয়ের প্রতিবেশীদের সঙ্গে থাকেন তাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের পরিমাণ সমৃদ্ধশালী জনগোষ্ঠীতে একই আয়, শিক্ষা এবং পেশায় কর্মরত প্রতিবেশীদের সঙ্গে থাকা লোকদের তুলনায় তিনগুণ পর্যন্ত বেশি ছিল। গবেষকরা ৯ বছর ধরে চারটি রাজ্যে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের লোকদের হার্ট অ্যাটাক পর্যবেক্ষণ করেন।

২. অ্যান্টিবায়োটিক

২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাজিথ্রোমাইসিন (যা সাধাররণত জেড-প্যাকস প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়) হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকির কারণ, বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ আছে। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল হার্ট সেন্টারের কোরিগ্যান উইমেন’স হার্ট হেলথ প্রোগ্রামের এমডি এবং সহপরিচালক ম্যালিসা জে উড বলেন, ‘হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে এ প্রমাণটি যথেষ্ট ছিল না।’ তবুও তিনি পরামর্শ দেন, আপনার যদি হৃদরোগ থাকে তাহলে চিকিৎসককে বলুন যেন অ্যাজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিকের পরিবর্তে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

৩. ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট

২০১২ সালে ২৩,০০০ লোকের ওপর গবেষণা চালিয়ে পাওয়া যায় যে, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির পরিমাণ বেশি, যদিও খাবারের সঙ্গে গৃহীত ক্যালসিয়ামের কারণে এ সমস্যা দেখা যায় না। তাই ক্যালসিয়াম গ্রহণের ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে, ক্যালসিয়াম হার্টকে সুরক্ষা দিতে পারে।

ড. উডের পরামর্শ, ‘আমি হার্টের রোগীদেরকে তাদের খাবার তালিকায় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখতে বলি। অন্যান্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার তৈলাক্ত মাছ খান।’

৪. ইনফেকশন

আপনার যদি ফ্লু বা শ্বাসযন্ত্রে ইনফেকশন ধরা পড়ে তাহলে বুঝবেন যে, অন্যান্য রোগের তুলনায় আপনি পাঁচগুণ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর কারণ হচ্ছে ইনফেকশন প্রদাহমূলক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের দিকে ধাবিত করে। একটি ফ্লু ভ্যাকসিন গ্রহণে ইনফেকশন প্ররোচিত হার্টের স্ট্রেস থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

৫. সোরিয়াসিস

ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ডার্মাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোয়েল এম গেলফ্যান্ড বলেন, ‘কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সোরিয়াসিস হার্ট অ্যাটাকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় যার ঝুঁকিপূর্ণ দিকটাকে ডায়াবেটিসের সঙ্গে তুলনা করা যায়।’ সোরিয়াসিস হল ত্বকের একপ্রকার প্রদাহজনিত রোগ এবং সাধারণত এটি নির্মূলে মেডিকেল সেবা অত্যাবশ্যক। তীব্র মাত্রার সোরিয়াস রোগীদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা ধূমপান, স্থূলতা এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো ঝূঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ড. গেলফ্যান্ড গবেষণায় দেখান যে, সোরিয়াস একটি স্বাধীন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় এবং এটি একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার বা রোগ যা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে।

আসলে অটোইমিউন রোগ সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। ড. উড বলেন, লুপাস স্কিন ডিজিজে (যেমন- সোরিয়াস ব্যাধি) আক্রান্ত লোকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হল হার্ট অ্যাটাক।

৬. সম্পর্কের সমস্যা

আক্ষরিকভাবে আপনার গুরুত্বপূর্ণ লোকদের সঙ্গে নেতিবাচক সম্পর্ক আপনার হার্টে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এপিডেমিওলজিস্ট দ্বারা পরিচালিত গবেষণার মতে, সম্পর্কের সমস্যা আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩৪% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

৭. নিম্ন এইচডিএল কোলেস্টেরল

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির এক গবেষক প্রায় ৭,০০০ লোকের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এইচডিএল বা উপকারী কোলেস্টেরল এবং মেজর করোনারি ইভেন্টের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায় যে, প্রায়র হার্ট ডিজিজ এবং বয়সের পর নিম্ন এইচডিএল কোলেস্টেরল হচ্ছে করোনারি ইভেন্টের তৃতীয় শক্তিশালী কারণ।

স্মার্ট অ্যাট হার্টের গ্রন্থকার ড. উড বলেন, যদি অল্প বয়সিদের হার্ট অ্যাটাক হয় তাহলে আমি প্রায়সময় বলব যে, তাদের এইচডিএল বা উপকারী কোলেস্টেরল কম রয়েছে। তিনি বলেন, উপকারী কোলেস্টেরল বাড়ানোর উপায় রয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি মাধ্যম হল ব্যায়াম করা এবং ওজন কমানো।

৮. কিডনি সমস্যা

নেদারল্যান্ডসের রটারডামে বয়স্কদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় পাওয়া যায়, দুর্বল কিডনির লোকদের (এমনকি কিডনি রোগ না থাকলেও) হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বেশি।

১০,০০০ মানুষের ওপর চালিত অন্য এক গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীদের যাদের কিডনি রোগ নেই তাদের তুলনায় দুই গুণ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি রয়েছে।

৯. শহুরে জীবনযাপন

এক জার্মান গবেষণা অনুযায়ী, আপনি কার, বাইক বা জনসাধারণের পরিবহনের মাধ্যমে যেখানে ভ্রমণ বা চলাচল করেন সেখানে যদি ভারী যানবাহন থাকে তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে। এর আগের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রধান সড়কের কাছে বসবাসকারী লোকদের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ বেশি কার্ডিওপালমোনারিজনিত মৃত্যু হয়ে থাকে।

১০. অ্যাসপিরিন বন্ধ করা

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, হার্টের রোগীদের অ্যাসপিরিন থেরাপি বা অন্যান্য ননস্টেরয়েডাল প্রদাহনিরোধক ড্রাগ সেবন বন্ধ করার পর অন্তত এক সপ্তাহের জন্য হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর এমডি এবং কার্ডিওলজিস্ট ম্যাথিউ সরেনটিনো সতর্ক করে বলেন, আপনার যদি হৃদরোগ থাকে বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে এবং অ্যাসপিরিন গ্রহণ বন্ধ করতে চাইলে তাহলে কোনো ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলে তা ধীরে ধীরে করুন।

১১. বিষণ্নতা

ড. উড বলেন, ‘বিষণ্নতা এবং হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে যোগসূত্রের যথেষ্ঠ তথ্য রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিষণ্নতামুক্ত লোকদের তুলনায় বিষণ্নতায় ভোগা লোকদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির পরিমাণ বেশি।’

২০০৯ সালে অ্যামেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় পাওয়া যায়, বিষণ্নতামুক্ত নারীদের তুলনায় বিষণ্ন নারীদের হৃদরোগের বিকাশ দ্বিগুণ বেশি ছিল।

১২. আপনার বস

২০০৫ সালের এক গবেষণায় গবেষকরা ব্রিটিশ সরকারের শ্রমিকদের পর্যবেক্ষণ করেন এবং দেখেন যে, যারা মনে করেন না যে তাদের বসেরা তাদের মতামতকে বিবেচনা করেন এবং যারা অনুভব করেন যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশ বা গুরুত্ব নেই তাদের মধ্যে হৃদরোগের বিকাশ এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা লোকদের তুলনায় বেশি ছিল।

অন্যান্য গবেষণায় দেখা যায় যে, চাপপূর্ণ কাজে নিয়োজিত লোকদের হৃদরোগের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ বেশি ছিল।

১৩. মাড়ির রোগ

গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভালো দন্ত স্বাস্থ্যের অধিকারীদের তুলনায় মাড়ির রোগে আক্রান্ত লোকেরা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে।

মাড়ির রোগ থেকে হৃদরোগ হয়ে থাকে মুখের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে। মুখের ব্যাকটেরিয়া ব্লাড ভেসেল বা রক্তবাহিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। ড. উড বলেন, ‘যদি আপনার শরীরের কোনো অংশের ব্লাড ভেসেলে রোগ থাকে তাহলে তা অন্যান্য অংশের ব্লাড ভেসেলেও ছড়িয়ে পড়ে।’

১৪. ডায়াবেটিস

যদিও ডায়াবেটিস রোগীরা অ্যাম্পিউটেশন (অঙ্গচ্ছেদ) এবং ভিশন লসের (দৃষ্টিশক্তি হারানো) ভয়ে থাকেন, প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হল হৃদরোগ।

ডায়াবেটিস নেই এমন লোকদের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীদের দুই থেকে চার গুণ বেশি হৃদরোগ সংক্রান্ত মৃত্যু হয়ে থাকে। সুসংবাদ হল যে, উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে এবং ব্যায়ামের অনুশীলন করে ডায়াবেটিস রোগীরা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।

১৫. প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা

২০০৬ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রোস্টেট ক্যানসার বা মূত্রথলির ক্যানসারের হরমোন চিকিৎসা হার্ট অ্যাটাকে আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। গবেষকরা বলেন যে, তাদের পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে না যে উভয়ের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র আছে, কিন্তু প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসার সময় এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

এই বিভাগের আরো খবর

থাইরয়েড ক্যানসারের ৬ উপসর্গ

বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যানসার হঠাৎ করে ধরা পড়ে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করলে ডাক্তাররা থাইরয়েড ক্যানসারের সন্ধান পান।

নিউ ইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারের এমডি এবং এনডোক্রিনোলজিস্ট মাইকেল টাটল বলেন, রোগীদের মধ্যে গুটি বা ক্ষুদ্র স্ফীতি খুব কম দেখা যায়। রোগীরা সাধারণত এই ক্যানসারের ওপর খুব একটা লক্ষ্য রাখে না এবং নিশ্চিত থাকে যে সরাসরি চিকিৎসা না করলেও এর অবস্থা খারাপ হবে না।

মাইকেল টাটল বলেন, আমি অ্যাসিম্পটমেটিক(রোগ বা ইনফেকশনের উপসর্গবিহীন) মিলিমিটার আকারের পিণ্ড বা গুটি বা স্ফীতিকে উপেক্ষা করব যা আপনি খোঁজার কারণে খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু আপনার গলার ওপর কোনো উপসর্গ বা কোনো কিছু অনুভূত হয়ে থাকলে তাহলে আপনার এসব উপেক্ষা করা উচিত হবে না। আপনার মধ্যে যদি সম্ভাব্য থাইরয়েড ক্যানসারের নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। এমনকি সামান্য শ্বাসাঘাত হলেও এড়িয়ে যাবেন না, ক্যানসার হয়েছে কিনা পরীক্ষা করে দেখুন।

গলায় গুটি বা স্ফীতি

 

 

ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলেতে অবস্থিত মায়ো ক্লিনিকের মেডিসিন বিভাগের এমডি ও অধ্যাপক এবং মায়ো ক্লিনিক ক্যানসার সেন্টারের উপ-পরিচালক রবার্ট স্মলরিজ বলেন, ‘পুরুষেরা প্রায়সময় শেভিংয়ের সময় গুটি বা স্ফীতি দেখবে এবং মেয়েরা দেখবে মেকাপ দেবার সময়।’ প্রায় ৯০ শতাংশ থাইরয়েড গুটি বিনাইন প্রকৃতির হয়ে থাকে, কিন্তু আপনার গলার সম্মুখে অ্যাডাম’স অ্যাপলের নিচে বড় গুটি দেখা দিলে এটি কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তাতে মনোযোগ দিন। ড. টাটল বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বড় গুটি চেনার উপায় হল গলাধঃকরণের সময় এটি উপরে-নিচে উঠানামা করবে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যান্য গুটি তা করে না।

কর্কশ কণ্ঠস্বর

রিকারেন্ট ল্যারিনজিয়্যাল নার্ভ বা পুনরাবৃত্ত বাকযন্ত্র স্নায়ু যা ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী খোলা ও বন্ধ করার পেশিকে নিয়ন্ত্রণ করে তা ডানে থাইরয়েডের পেছনে অবস্থিত থাকে। ড. স্মলরিজ বলেন, ‘খুব কম ক্ষেত্রে কোনো গুটি (বিশেষ করে ক্যানসারযুক্ত) থাইরয়েডের বাইরে প্রসারিত হতে পারে এবং রিকারেন্ট ল্যারিনজিয়্যাল নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে আপনার ভয়েস বক্স বা ল্যারিনক্স বা স্বরযন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। অধিকাংশ রোগীরা ভয়েস বক্সের ওপর এ প্রভাবকে কর্কশতা হিসেবে বিবরণ দেয়। আপনার ল্যারিনজাইটিস(কণ্ঠনালীর প্রদাহ) যদি ঠান্ডা থেকে হয়ে থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক কণ্ঠস্বর ফিরে পেতে সমাধান খুঁজুন।

দীর্ঘস্থায়ী কাশি

থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত অল্প সংখ্যক লোকের মধ্যে রহস্যময় কাশির বৃদ্ধি হয়ে থাকে যা সাধারণত কনজেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। ড. টাটল বলেন, ‘থাইরয়েড ক্যানসারের কাশি সংক্রামক নয়, তাই লোকেরা হতভম্ব ও বিস্মিত হয় যে তারা কেন জ্বর ও কফ বা শ্লেষ্মা ছাড়াই কাশছে।’ কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে কাশি না সারার অন্যান্য কারণ অনুসন্ধান বা পরীক্ষা করুন।

গিলতে বা গ্রাসে অসুবিধা

গুটি বা স্ফীতি যথেষ্ট বড় হয়ে গেলে কোনো কিছু গিলতে বা গ্রাসে কষ্ট বা সমস্যা হবে এবং এ অবস্থা নির্দেশ করবে যে ক্যানসার মারাত্মক রূপ নিয়েছে এবং খুব ক্ষতিকর পর্যায়ে চলে এসেছে। এ প্রসঙ্গে ড. টাটল বলেন, ‘এটি বিরল, কিন্তু দুশ্চিন্তার।’ তিনি আরো বলেন, ‘গিলতে বা গ্রাসে সমস্যা হলে বুঝা যায় যে গুটি বা স্ফীতি বড় হয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান হচ্ছে।’ গ্রাসে সমস্যা গলার ক্যানসারের উপসর্গও হতে পারে। তাই আপনি যদি এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন তাহলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

গলা ব্যথা

আপনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যানসারের পিণ্ড বা গুটি বা ফোলার ব্যথায় ভুগবেন না। কিন্তু গলা ব্যথার কতগুলো কারণে বেদনায় ভুগতে পারেন। ড. টাটল বলেন, ‘থাইরয়েড ক্যানসারজনিত কোনো পিণ্ড বা গুটি বা ফোলা খুব কমই বেদনাদায়ক বা অস্বস্তিদায়ক হয়ে থাকে। কিন্তু বিরল ক্ষেত্রে গুটি বা স্ফীতি বা ফোলা ব্যথা বা বেদনার উদ্রেক করতে পারে।’ আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, গলার সম্মুখ থেকে ব্যথা শুরু হয় এবং মাঝেমাঝে দুই কান পর্যন্ত সমস্ত অংশ জুড়ে ব্যথা পৌঁছতে পারে।

শ্বাসে সমস্যা

আপনি কোনো কিছু না গিললে বা না খেলে বা কথা না বললেও থাইরয়েড ক্যানসারের কারণে আপনার শ্বাসকষ্ট হতে পারে। বিরল প্রকৃতির অ্যানাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যানসারের কারণে এক শতাংশ থাইরয়েড ক্যানসারের ক্ষেত্রে গুটি বা স্ফীতি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ড. স্মলরিজ বলেন, ক্রমবর্ধমান গুটি বা স্ফীতি উইন্ড পাইপ বা ট্র্যাকিয়া বা শ্বাসনালী এবং নার্ভ বা স্নায়ুর বিরুদ্ধে ধাক্কা দেয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের মতে, ‘নিষ্ক্রিয় থাকা অবস্থায় আপনি শ্বাস স্বল্পতায় ভুগতে পারেন, বিশেষ করে আপনি যখন ফ্ল্যাট স্লিপিং বা চিৎ হয়ে শুবেন।’ তবে মনে রাখতে হবে যে শ্বাসজনিত সমস্যা ফুসফুস রোগের উপসর্গও হতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর

যেসব লক্ষণ দেখলে মাংস খাবেন না

স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অথবা শরীরের পুষ্টির জন্য আমরা অনেক পুষ্টিকর খাদ্য বা আমিষ জাতীয় খাদ্য খেয়ে থাকি। যেমন মাংস এক ধরনের প্রোটিন জাতীয় খাবার। যা পানি, প্রোটিন এবং চর্বির সমন্বয়ে গঠিত।

শরীরের কোষ তৈরির জন্য প্রতিদিন আমাদের কিছুটা প্রোটিন খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তাই বলে মাংসের মতো প্রাণিজ প্রোটিন সবার শরীর ও বিপাক ক্রিয়ায় সমানভাবে খাপ খাওয়ানো যায় না। বরং মাংস কারো দেহের জন্য অসহিষ্ণু ও সংবেদনশীলতা হতে পারে, এমনকি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তাই যাদের মাংস হজমে সমস্যা হয় তারা যদি তা কিছু উপসর্গ দেখে জানতে পারেন এবং মাংসের পরিপূরক বিকল্প আমিষ গ্রহণ করেন তাহলে তারা ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি আরো স্বাস্থ্যকর ও স্মার্ট জীবন যাপন করতে পারবেন।

একজন প্রত্যয়িত স্বাস্থ্য প্রশিক্ষক বলেন, ‘এমন কোনো খাদ্য নেই যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। একটি সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার জন্য মাংস আবশ্যক নয়, যদিও মাংস খাওয়াটা একজনকে স্বাস্থ্যবান করতে পারে আবার অন্যজন উদর সংক্রান্ত অস্বস্তি বা পীড়া আক্রান্ত হতে পারে।’

আপনার দেহ যদি মাংস সহ্য করতে না পারে তাহলে আপনি উদ্ভিজ্জ আমিষভোজী হতে পারেন যা আপনাকে অনেক ভালো অনুভূতি দেবে।

এখানে ১১টি উপসর্গ দেয়া হলো, যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার দেহ মাংস প্রক্রিয়াকরণ করতে অক্ষম এবং আপনার সুস্থতার জন্য যতটা সম্ভব মাংস এড়িয়ে চলা উত্তম।

* পেট ফাঁপা : মাংস খাওয়ার পর পেট ভারী বোধ ও ফোলা বা ফাঁপা ভাব এবং সেই সঙ্গে পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা ইত্যাদি অনুভূত হতে পারে। এর পাশাপাশি আপনি যদি পেটের স্ফীতি এবং অবসাদ বোধ করেন তাহলে অবশ্যই সুস্থ থাকার জন্য মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

* বমি ভাব : মাংস পরিপাক না হবার উপসর্গগুলোর মধ্যে বমিবমি ভাব, অম্বল আর বদহজম অন্যতম। এই উপসর্গগুলো আপনাকে প্রচন্ড অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। আসলে কাজের সময় যদি আপনি এমন পাকস্থলীর অসুস্থতায় ভুগেন তাহলে কাজে মনোনিবেশ করে ফলদায়ক কিছু করাটা সত্যি কঠিন। এমতাবস্থায় দুপুরের খাবারে আপনি মাংস এড়িয়ে সবজি সালাদ খাবেন।

* অত্যধিক বড় টুকরা গ্রহণ : প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ প্রতিদিন ২৮ গ্রামের মতো মাংস (হাতের তালুর সমান পাতলা এক টুকরো) খেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মাংস খেলে আমাদের শরীরে অনেক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। আর তাই মাংস খেতে হবে বুঝে-শুনে, মেপে-ঝেপে।

* দূর্বল চর্বণ : উদ্ভিজ্জ খাবারের চেয়ে মাংস সরল কণার বিশ্লিষ্ট করে পরিপাক করা পাকস্থলীর জন্য বেশি কঠিন। তাই মাংস খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করবেন না, আস্তে ধীরে চিবিয়ে খান। একটু সময় নিয়ে খাবার খান। গোগ্রাসে গেলা ঠিক না। পেটে বাতাস ঢুকবে না। মাংস কম চিবানো হলে পেট ভারী বোধ ও ব্যথার সৃষ্টি করে।

* খাদ্যজনিত রোগাক্রান্ত : আপনি যদি মাংস ঠিকমতো হজম করতে অক্ষম হন তবে আপনি প্রায়ই খাদ্যজনিত রোগে বিশেষ করে ই-কোলাই,  স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অন্ত্রে আক্রান্ত হবেন। মাংস সঠিকভাবে হজম করে ব্যর্থ হওয়ার কারণে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাবে।

* উচ্চ রক্তচাপ : উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে মাংস খাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যেটা হয়তো আপনি বুঝতেই পারেন না। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ হলো নিরব ঘাতক। এক্ষেত্রে সবজি খেয়ে রক্তচাপ কমানো যায়, কিন্তু একজন শাকাহারী মানুষকে অবশ্যই সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপধারীদের মাংস খাওয়ার অভ্যস্ততা ধীরে ধীরে বাদ দিতে হবে।

* কোষ্ঠকাঠিন্য : জিনগতভাবে প্রতিটি মানুষের যেমন অনন্য পাচনতন্ত্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে খাদ্যতালিকাগত অভ্যাস। কোষ্ঠকাঠিন্য ৮০% বেলায় খাবারের সমস্যাজনিত কারণেই হয়ে থাকে এবং ২০% বেলায় পরিপাক তন্ত্রের যেকোনো ধরনের ইনফেকশন, প্রদাহ, ওষুধ অথবা হজমজনিত কারণে হতে পারে। বিশেষকরে লাল মাংসের চর্বি ও আয়রন কোষ্ঠকাঠিন্য হবার প্রধান কারণ। কেননা খাদ্য তালিকার যেকোনো খাবারের চেয়ে চর্বি পরিপাক হতে বেশি সময় নেয়।

* চোখের নিচে কালো দাগ : শুধু নির্ঘুম কাটালেই চোখের নিচে কালো দাগ পরে না, মাংস ঠিকমতো পরিপাক না হবার প্রভাব স্পষ্টত আপনার সৌন্দর্যের ওপর পড়বে। আপনি যদি দেখেন মাংস খাওয়ার ঠিক পরের দিন আপনার চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে, তাহলে বুঝতে হবে এটা মাংস পরিপাকজনিত সমস্যার লক্ষণ।

* শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ : মাংস ঠিকমত পরিপাক না হবার কারণে আপনার শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে। পাচনতন্ত্রে মাংস পরিপাকে সমস্যা হলে পাচক অ্যানজাইম দ্বারা দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস তৈরি হয়, যা আপনার শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ আনে।

* অবসাদ : মাংস খাওয়ার পর আপনার যদি কুঁড়ে এবং ক্লান্ত অনুভূত হয়, তাহলে ধরে নিন আপনি মাংস পরিপাকজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মাংস পরিপাকে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয়িত হবার কারণে আপনি এমনটি অনুভব করেন। কয়েকদিন যাবত যদি আপনার অন্ত্রে ইটের মতো বোঝা অনুভূত হয় তাহলে জানবেন আপনার মাংস পরিপাকে সমস্যা রয়েছে।

* পেশী কমে যাওয়া : আপনি মাংস পরিপাকজনিত সমস্যায় এক ধরনের বমিবমি ভাব, পেট ফাঁপা ও মোচড়ানো, অবসাদ এবং অস্বস্তিকর অনুভূতি হবার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি লক্ষণ দেখতে পাবেন। সেটা হলো আপনার পেশী কমে যাওয়া।

উল্লেখিত যেকোনো একটি উপসর্গও দেখা দিলে মাংসের বিকল্প উদ্ভিজ্জ আমিষে অভ্যস্ত হওয়াটা আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মাংস ছেড়ে দেয়াটা আপনার কাছে ভীতিকর মনে হতে পারে। কিন্তু আপনার সুস্থ জীবনধারা যদি নষ্ট করতে না চান তবে আপনার জেনে নেয়া উচিত,  খাদ্যতালিকার কোনটি আপনার জন্য সঠিক খাদ্য এবং কোনটি আপনাকে শক্তি দেবার বদলে দুর্বল করে দিবে। তাই মাংস খাওয়ার সময় একটু সচেতনতা আপনাকে দিতে পারে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা

এই বিভাগের আরো খবর

দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে এই ফলটা রোজ একটি করে খান, বলছেন গবেষকরা

য়েব ডেস্ক: শরীরকে সুস্থ রাখতে, শরীরের প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণ করতে আমরা অনেক কিছুই খেয়ে থাকি। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের প্রত্যেকদিন একটি করে অ্যাভোক্যাডো অবশ্যই খাওয়া দরকার। এমনটাই জানাচ্ছেন গবেষকরা।

 

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় প্রকাশ হয়েছে যে, অ্যাভোক্যাডো রয়েছে এমন কিছু উপকারী উপাদান, যা আমাদের চোখ ভালো রাখে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। যাঁদের বয়স ৫০ বছরের বেশি, এমন ৪০ জন মানুষের উপর একটি পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের টানা ছ’মাস প্রত্যেকদিন একটি করে তাজা অ্যাভোক্যাডো খাওয়ানো হয়। দেখা যায়, প্রত্যেকের চোখের কগনিটিভ ফাংশন অনেক বেশি উন্নত হয়েছে। এবং ২৫ শতাংশ বেড়েছে চোখের লুটেন লেভেল। এই লুটেন লেভেল বৃদ্ধিতে শুধুমাত্র যে দৃষ্টিশক্তিই উন্নত হয়েছে, তা নয়, শক্তিশালী হয়েছে মস্তিষ্কও। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দৃষ্টিশক্তি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে প্রত্যেকদিন একটি করে অ্যাভোক্যাডো খাওয়া দরকার।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রতিদিন দুটো লবঙ্গ

লবঙ্গ একটি সুপরিচিত মশলা। মাংস রান্নায় দুটো-তিনটে লবঙ্গ দেওয়া হবে না, এমনটি হতেই পারে না। এই মশলাটি লবঙ্গ লতিকা নামক একটি পিঠা তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় সুঘ্রাণ ও সৌন্দর্যের জন্য। এই সুপরিচিত মশলাটির ভেষজ গুণ সম্পর্কে কী আপনার জানা আছে? আপনি জানেন কী প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লবঙ্গ খেলেই অনেক রোগ থেকে দূরে থাকবেন। জেনে নিন এই উপকারি মশলাটার গুণ।

মাথা যন্ত্রণা কমায়। কয়েকটি লবঙ্গ, বিট লবণের সঙ্গে বেটে দুধের মধ্যে মিশিয়ে খেলে মাথা যন্ত্রণার থেকে মুক্তি মেলে। তাই যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন তারা এই ঘরোয়া টোটকা সেবন করে দেখতে পারেন।  

মুখগহ্বরের নান রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত এবং মুখের ভিতরে হওয়া নানা সমস্যার সমাধানে লবঙ্গ খুবই উপকারে লাগে। যেমন ধরুন, দাঁতে ব্যাথা, দাঁতে গর্ত হয়ে যাওয়া, মুখের দুর্গন্ধ ইত্যাদি রোগ খুব সহজেই সারিয়ে তোলে লবঙ্গ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় লবঙ্গ বহুল পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গের শুকনো ফুল সেবন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এছাড়াও রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

ডায়বেটিস রোধ করে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া এখন খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডায়াবেটিস হলে শরীরে ইনসুলিন কম পরিমাণে তৈরি হয়। এদিকে লবঙ্গ ইনসুলিন তৈরির পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগারকে প্রতিহত করে।

লবঙ্গ জীবাণুনাশক। লবঙ্গের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুনাশক উপাদান রয়েছে। ফলে নানাবিধ জীবাণু, যা আমাদের শরীরে রোগ তৈরি করতে পারে, সেগুলিকে ধ্বংস করে। সেই সঙ্গে কলেরার জীবাণু রোধেও বিশেষ ভূমিকা নেয় লবঙ্গ।

হজম শক্তি বাড়ায়। যে কোনও পেট ফাঁপা, এসিডিটির সংকট দূর করে লবঙ্গ মিশ্রিত পানি।

দিনে অত্যধিক ঘুমের কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা

দিনে অত্যধিক ঘুম আসলে বা ঘুমে অত্যধিক সময় ব্যয় হওয়াকে হাইপারসোমনিয়া বলে। হাইপারসোমনিয়া হলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে দিনে জেগে থাকা কঠিন হয়।

আক্রান্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় ঘুমিয়ে পড়তে পারে, যেমন- কর্মক্ষেত্রে বা গাড়ি চালানোর সময় নিজের অজান্তেই ঘুমে তলিয়ে যেতে পারে। তাদের ঘুম সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যাও থাকতে পারে, যেমন- শক্তির অভাব ও চিন্তার অস্পষ্টতা। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের হাইপারসোমনিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়।

হাইপারসোমনিয়ার কারণ

 

 

হাইপারসোমনিয়া সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। যেমন-

* স্লিপ ডিজঅর্ডার নারকোলেপসি বা দিনে অতিমাত্রায় ঘুম হওয়া এবং স্লিপ এপনিয়া বা রাতে ঘুমের সময় শ্বাসক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটা।
* স্লিপ ডিপ্রাইভেশন বা রাতে যথেষ্ট ঘুম না হওয়া।

* প্রয়োজনাতিরিক্ত ওজন হওয়া

* মাদক বা অ্যালকোহলের ব্যবহার

* মাথায় আঘাত বা স্নায়বিক দুর্বলতা, যেমন- মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা পারকিন’স ডিজিজ

* প্রেসক্রিপশনভুক্ত ওষুধ, যেমন- ট্রানকুইলাইজারস বা অ্যান্টিহিস্টামিনস

* জিনগত সমস্যা বা মা-বাবার হাইপারসমনিয়া থাকা

* বিষণ্নতা

হাইপারসোমনিয়ার উপসর্গ

হাইপারসোমনিয়ায় ভোগা লোকেরা দিনে জেগে থাকার চেষ্টা করে এবং সাধারণত বারবার ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম দীর্ঘ বা অসময়ে হতে পারে। কথা বলার সময়, খাওয়ার সময় বা গাড়ি চালানোর সময় বা অন্য কোনো কাজের সময় তারা ঘুমিয়ে পড়তে পারে। সাধারণত ঘুম থেকে তারা মুক্তি পায় না। এ রোগে আক্রান্ত লোকেরা প্রতিরাতে ১০ ঘণ্টারও বেশি ঘুমায় এবং সকালে ওঠার জন্য সংগ্রাম করে, কারণ তারা তন্দ্রালু অনুভব করে এবং ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে সন্দিহান বা ঘুম উন্মত্ততায় থাকে। অত্যধিক ঘুম ব্যক্তির কাজ, সম্পর্ক ও সামাজিক জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। হাইপারসোমনিয়ার অন্যান্য উপসর্গ হল-

* মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন- উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভোগা

* কম শক্তি থাকা

* অস্থির বা উত্তেজিত থাকা

* ধীরগতিতে চিন্তা বা কথা বলা

* স্মরণ সমস্যায় ভোগা বা কোন কিছু ভুলে যাওয়া

* মনোযোগ দিতে না পারা।

এসব উপসর্গসমূহ কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে দেখা দিতে পারে। যদিও তা আরো আগে বা পরে দেখা দিতে পারে।

হাইপারসোমনিয়া নির্ণয়

আপনি যদি দিনে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকেন তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। হাইপারসোমনিয়া নির্ণয়ে ডাক্তার আপনার ঘুমাভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাইবেন, যেমন- রাতে কতটুকু ঘুমান, রাতে জাগেন কিনা এবং দিনের কোন কোন সময় ঘুম আসে। আপনার আবেগজনিত সমস্যা বা বর্তমানে সেবনকৃত ওষুধ বা মাদক সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিবেন, যেমন- রক্ত পরীক্ষা, কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান বা সিটি স্ক্যান এবং পলিসমনোগ্রাফি বা ঘুম পরীক্ষা। কিছুক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম(ইইজি) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতে পারে যা ব্রেইনের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ করে কিংবা ব্রেইনের অস্বাভাবিকতা বা সমস্যা খুঁজে বের করে।

হাইপারসোমনিয়ার চিকিৎসা

যদি আপনার হাইপারসোমনিয়া ধরা পড়ে তাহলে ডাক্তার আপনাকে বিভিন্ন ওষুধ খেতে বলতে পারেন। এসবের মধ্যে স্টিমিউল্যান্টস (উদ্দীপক বা শরীর চাঙাকারী ওষুধ), অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টস (বিষণ্নতা প্রতিরোধক) এবং কিছু নতুন ওষুধ থাকতে পারে। যদিও হাইপারসোমনিয়া চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। স্টিমিউল্যান্টস আপনাকে দিনে জাগ্রত থাকতে সাহায্য করবে। আবেগতাড়িত সমস্যায় অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টস কাজে আসতে পারে। স্লিপ এপনিয়া হলে কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপিএপি) চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেও হাইপারসোমনিয়া প্রতিরোধ করা যেতে পারে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে পারেন যাতে বেশি করে ঘুম হয়। রাতে কাজ করা বন্ধ করুন। প্রতিরাতে রুটিন মেনে ঘুমান। অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন বর্জন করুন। যদি কোনো ওষুধ তন্দ্রালুভাব আনে তাহলে ডাক্তারকে বলুন যেন তা পরিবর্তন করা হয়।

দাঁতের যত্নে নারকেল তেল!

বেশিরভাগ টুথপেস্টেই থাকে প্রচুর পরিমাণে কেমিক্যাল। ফলে অনেক সময়ই দাঁতে গর্ত হওয়া ও দাঁত ব্যথার মতো সমস্যাগুলো কমার বদলে আরও বেড়ে যায়! এসব সমস্যা এড়াতে দাঁতের যত্নে নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।  

আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে ২-৩ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এবার ১৫-৩০ ফোঁটা লেবুর রস ও কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট তেল মেশান। সবকটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। ব্রাশে পেস্টটি নিয়ে সাধারণভাবে ব্রাশ করে নিন দাঁত। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহারে দাঁতে গর্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এছাড়াও দাঁত খুব পরিষ্কার ও সাদা রাখতেও প্রাকৃতিক এই পেস্টের জুড়ি নেই।



Go Top