রাত ১১:৫৬, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য

শীত বেশ ভালো করেই জেঁকে বসেছে। সেইসঙ্গে উপস্থিত জ্বর, গলা ব্যথা, অ্যাস্থমা, সর্দি, ইনফেকশন। এ সময় সর্দি, জ্বর দূরে রাখতে আস্থা রাখতে পারেন আদা, রসুনের ওপর। তৈরি করতে পারেন আদা-রশুনের স্যুপ। শুধু জ্বর হলেই নয়, সারা শীতকালই খাওয়া যেতে পারে এই স্যুপ।

 

রসুনের মধ্যে থাকা অ্যালিসিনের অ্যান্টিফাংগাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। যে কারণে রসুন যেকোনো অ্যালার্জি, গলা ব্যথা, ফুসফুসের ইনফেকশনের মতো সমস্যা নিমেষে সারিয়ে তোলে।

বহু যুগ ধরেই সর্দি, জ্বর, পেটের সমস্যা সারাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে আদা। প্রদাহ কমিয়ে আর্টারি সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে আদা। জ্বরের সময় বমি ভাব কাটাতেও আদা অব্যর্থ। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিফাংগাল গুণ ইনফেকশন দূর করে।

 

পেঁয়াজ ৪টে (ছোট), আদার মূল ৫০ গ্রাম (কোরানো), রসুন ২ কোয়া, চিকেন স্টক ৭ কাপ এবং ঝাল চিলি পেপার ১টা (মিহি কুচনো) নিন। এবার একটি বড় বাটিতে পেঁয়াজ, রসুন, আদা সব কিছু নিয়ে ২ মিনিট হালকা আঁচে নেড়ে নিন। এর মধ্যে স্টক বা ব্রোথ দিয়ে আঁচ কম রেখেই ফোটাতে থাকুন যতক্ষণ না আদা, রসুন, পেঁয়াজ নরম হয়ে আসছে। উপরে চিলি পেপার কুচি ছড়িয়ে মিনিট পাঁচেক ঢিমে আঁচে রেখে নামিয়ে নিন। যদি এ স্যুপই মিল হিসেবে খেতে চান তা হলে ব্রকোলি, বিনস, মাশরুম বা চিকেন মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন বিশেষ ফ্লু মিল।

লিভারের নানা সমস্যা ও হেপাটাইটিস।

পানি ও খাবারের মাধ্যমে সংক্রমিত হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস লিভারে একিউট হেপাটাইটিস বা স্বল্প স্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরোপুরি সেরে যায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ভাইরাস। অনেক কারনেই লিভারের প্রদাহ হতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক হেপাটাইটিস বছরের পর বছর চলতে থাকলে লিভারের কোষগুলো মরে যায়। অকার্যকর ও অপ্রয়োজনীয় ফাইব্রাস টিসু সেস্থান দখল করে জন্ম দেয় সিরোসিস নামক মারাত্মক রোগ। লিভার সিরোসিস একটি মারাত্বক রোগ যা পরবর্তিতে লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

লিভার সিরোসিসের লক্ষণ:-
প্রাথমিকভাবে সিরোসিসের কিছু লক্ষণ দেখা যায় তা হলঃ
দুর্বলতা, সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, জ্বর জ্বর ভাব, পেটের ডান পাশে ব্যথা, দাঁতের মাঢ়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, ঘনঘন পেটের সমস্যা পরবর্তিতে লিভার সিরোসিস আরো জটিল আকার ধারণ করলে দেখা যায়। পেটে পানি আসার কারণে পেট ফুলে যাওয়া, জন্ডিস, অজ্ঞান হওয়া, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, ফুসফুসে পানি আসা, কিডনি ফেইলিউর, শরীরের যেকোনো জায়গা থেকে অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত, সর্বশেষ পর্যায়ে লিভার ক্যান্সার।

লিভার সিরোসিসের কারণ
সিরোসিসের কারণগুলো বিভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশে লিভার সিরোসিসের অন্যতম প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, আর এর পরেই রয়েছে ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভার নানা কারণে হয়ে থাকে। যেমনঃ ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বি বেশি থাকা, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চরক্তচাপ, হাইপোথাইরয়েডিজম ইত্যাদি । এক গবেষণায় জানা যায়, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রায় ৩০ শতাংশ রোগী পরে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়।

লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা—–
লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত যেকোনো ব্যক্তির উচিত দ্রুত লিভার বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ও নিয়মিত ফলোআপে থাকা। এতে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা যায়।এছাড়াও লিভার সিরোসিসের কারণ শনাক্ত করে চিকিতসা করা গেলে লিভার সিরোসিসের জটিলতার দিকে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। লিভার সিরোসিসের আধুনিক চিকিতসা আজ এ দেশেই সম্ভব। তবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের ব্যবস্থা এদেশে এখনও সেরকম নাই। প্রতিবেশী দেশে এ সুযোগ থাকলেও তা খুব ব্যয়বহুল আর সংগত কারণেই আমাদের দেশের অধিকাংশ রোগীর পক্ষে তা সাধ্যের অতীত। তবে আমরা আশাবাদী সেদিন হয়তো আর বেশি দূরে নয়, যেদিন আমাদের দেশেই অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে এ দেশের লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সম্ভব হবে।

লিভারের রোগ মানেই সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিতসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ন নিরাময় এবং জটিলতা মুক্ত থেকে মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবে জীবন নির্বাহ করা যায়। তাই এব্যাপারে সবার সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।

লিভার সিরোসিসঃ করণীয়
সিরোসিস বা লিভার সিরোসিস নামক রোগটির কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু জন্ডিস কথাটি শুনলে আমরা যতটা বিচলিত হই, লিভার সিরোসিস কথাটি আমাদের ঠিক ততটা বিচলিত করে না। অথচ বিশ্বব্যাপী অন্ততঃ পঞ্চাশ মিলিয়ন এবং বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এই রোগে লিভার তথা যকৃতের শেষ পর্যায়ের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে এর স্বাভাবিক কাঠামো স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হয়। ফলে এর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে লিভার দুর্বলতা জনিত জটিলতায় রোগী মৃত্যুর কোলে ঢেলে পড়ে। লিভারের নিস্ক্রিয়তা, লিভার ক্যান্সার ও লিভার জনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ হল এই সিরোসিস।

সিরোসিস শব্দটি প্রথম বর্ননা করেন বিখ্যাত ফরাসী বিজ্ঞানী ডাঃ রিনে লেনেক (Rene Laennec) ১৮১৯ খ্রীষ্টাব্দে । শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ কিরাস (Kirrhos) থেকে। যার শাব্দিক অর্থ তামাটে হলুদ অমসৃন রঙ যা লিভারের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহে রোগীর শরীরে দেখা যায়।

আমরা জানি যকৃত বা লিভার হল মানুষের শরীরের একটি অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। পিত্ত নিঃসরণের মাধ্যমে খাবার হজম হতে শুরু করে শরীরের যাবতীয় বিপাকীয় কার্যাবলী এর দ্বারা সম্পাদিত হয়। ফলে লিভারের অসুস্থতার ফলাফল হয় ব্যাপক ও ভয়াবহ।অনেক রকম কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে। তবে কারণ যাই হোক নূন্যতম ছয় মাসব্যাপী প্রদাহ না হলে লিভার এর স্বাভাবিক কাঠামোর পরিবর্তন হয় না। লিভার সিরোরিস হতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪-১০ বৎসর।

বাংলাদেশে সিরোসিস এর প্রধান কারণ শরীরে হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের সংক্রমণ।এছাড়া আরও কারণ রয়েছে:-


ক) হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস সংক্রমণ;
খ) লিভারের অতিরিক্ত চর্বি;
গ) অতিরিক্ত মদ্যপান;
ঘ) ইমিউনোলজিক্যাল রোগ: অটোইমিউন লিভার ডিজিজ;
ঙ) প্রাইমারী বিলিয়ারী সিরোসিস;
চ) জেনেটিক/বংশানুক্রমিক রোগ, যেমন: হেমোক্রমাটোসিস, উইলসন্স ডিজিজ;
ছ) অজ্ঞাত কারণসমূহ।

রোগীরা যদি নূন্যতম ছয় মাস বা তার বেশিদিন এই কারণ সমূহে আক্রান্ত থাকে তাহলে লিভারে দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহ হয়ে সিরোসিসে রুপান্তরিত হয়। এই রোগের শুরুতে কোন উপসর্গ থাকে না বললেই চলে। তবে আস্তে আস্তে রোগী শারীরিক দুর্বলতা, খুদামন্দা, পেট ফাঁপা, হজমে অনিয়ম এরূপ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। সবচাইতে ভয়াবহ ব্যাপার হল অসুখটি অনেকটা অগ্রসর না হওয়া পর্যন্ত আসক্ত রোগীর কোন শারীরিক সমস্যা বা রোগের কোন লক্ষণ দেখা যায় না।

লিভার সিরোসিস কে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমত- Compensated Cirrhosis এই রোগীরা সিরোসিস অবস্থায় স্বাভাবিক মানুষের ন্যায় কোন সমস্যা ছাড়া অথবা রক্তবমি বা কালোপায়খানার সমস্যা নিয়ে চিকিত্সকের নিকট আসেন। নিয়মিত শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এদের অধিকাংশের সিরোসিস ধরা পরে।

দ্বিতীয়ত-Decompensated Cirrhosis কিছু রোগী শরীরে পানি জমা অবস্থায়, জন্ডিস নিয়ে বা অজ্ঞান অবস্থায় চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন। এরাই হল ডিকমপেনসেটেড সিরোসিস এর রোগী।


সিরোসিস আক্তান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য কয়েকটি দিক লক্ষ্যনীয়
১. রোগ নির্ণয় (Diagnosis);
২. রোগের কারণ নির্ণয় (Aetiology);
৩. রোগের জন্য সৃষ্ট জটিলতা নির্ণয় (Complication);
৪. রোগীর বর্তমান অবস্থা (Present Status);


এই চারটি বিষয়ের জন্য রোগীর বেশ কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা করার প্রয়োজন হয়। মূল চিকিৎসা এই দিকসমূহ বিবেচনায় রেখে করতে হয়।লিভারে দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহের ফলে রোগীরা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত অবস্থা, শরীরে পানি, বমিভাব ইত্যাদি নিয়ে চিকিত্সকের পরামর্শ গ্রহণ করতে আসেন। তবে অনেকে আসেন এমন অবস্থায় যে ইতমধ্যে তার লিভারের ক্যান্সার হয়ে গেছে। অর্থাত্ রোগীরা সিরোসিস পরবর্তী জটিলতা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। সিরোসিস পরবর্তী এরুপ আরও কিছু জটিলতা হল: গলার রক্তনালী মোটা হওয়া ও রক্তক্ষরণ, বার বার অজ্ঞান হওয়া, পেট ও শরীরে পানি জমা, জন্ডিস, কিডনির বিকলতা, প্রস্রাবে সমস্যা ইত্যাদি।

রোগ প্রতিরোধ এবং অগ্রসর হবার পূর্বে রোগটি নির্ণয়ই হল এ রোগ হতে বাঁচার পূর্বশর্ত। যেহেতু হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস সংক্রমণ বাংলাদেশে এ রোগের প্রধান কারণ, সেহেতু হেপাটাইটিস ‘বি’ এর সংক্রমনণ প্রতিরোধ জরুরী। তাই হেপাটাইটিস ‘বি’ এর টীকা গ্রহণ, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, ডিসপোজেবল সুঁই ব্যবহার এবং ব্লেড, রেজর, ব্রাশ, ক্ষুর প্রভৃতি যেন বহুজনে ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত মা গর্ভবতী হলে সন্তানের জন্মদানের সাথে সাথে দু’রকম টীকা দেওয়া বাঞ্চনীয়। এছাড়া পরিবারের একজন সিরোসিস আক্তান্ত হলে বাকী সদস্যদের উচিত্ রোগের কারণ অনুযায়ী লিভার ব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা।উন্নত বিশ্বের মত বাংলাদেশেও যতই নগরায়ন ও শিল্পায়ন হচ্ছে ততই বাড়ছে মদ্যপান, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ ও ফাস্ট ফুড কালচারের ফলে সৃষ্ট
অতিরিক্ত মেদ। যার কারণে লিভারে চর্বি জমার মাধ্যমে সিরোসিস হওয়ার পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। তবে নিয়মিত জীবন ও খাদ্যাভ্যাস, নৈতিকতা বিরোধী কাজ পরিহার, পরিশ্রম ও ব্যায়াম এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। আর যারা এ রোগে আক্রান্ত তারা নিয়মিত লিভার ব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও আজীবন চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এর জন্য সৃষ্ট জটিলতা সমূহ হতে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন। মনে রাখবেন সুশৃঙ্খল জীবন এবং নিয়মিত খাদ্যাভাসই পারে একজনকে সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘজীবি করতে।
 

মোঃ আজহারুল ইসলাম 
হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল লিঃ
ইমেইল: pharmacistazhar@gmail.com

দূষণ শিশুর মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে: ইউনিসেফ

বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের ক্ষতি বা শ্বাসকষ্টের বিষয়টি সবারই জানা। কিন্তু জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বায়ুদূষণের কারণে শিশুদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেয়া হলে তা  মস্তিষ্কের টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জ্ঞানের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যার বিরূপ প্রভাব বয়ে বেড়াতে হয় জীবনভর।

মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণে স্কুলে পড়ুয়া শিশুদের বুদ্ধিমত্তা এবং স্মরণশক্তির সমস্যায় ভোগা ছাড়াও পরীক্ষায় ভালভাবে উত্তীর্ণ হতে না পারা কিংবা অন্যান্য স্নায়বিক আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বিশ্বে শহুরে জীবনযাত্রা যতই বাড়তে থাকবে ততই দূষণ বাড়বে। এ থেকে কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ‍বা দূষণ কমানোর পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে আরও অনেক শিশু মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার শিশুরাই বায়ুদূষণের ক্ষতির শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চলে বায়ুদূষণ আন্তর্জাতিক মাত্রার চেয়ে ছয় গুণ বেশি।

দক্ষিণ এশিয়ায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশু বাস করে। আর পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ৪০ লাখ শিশু বায়ুদূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে

অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাসের ৯ কারণ

 আপনি যদি ওজন কমানোর কোনো পন্থা অবলম্বন করেন এবং দেখা যাচ্ছে যে সত্যি সত্যি আপনার ওজন কমছে, তাহলে আপনাকে অভিনন্দন! এতে আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।

কিন্তু যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন হারান, তাহলে সেলিব্রেশন করবেন না। আপনার ওজন হচ্ছে আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের মার্কার এবং ওজনের বড় ধরনের হ্রাসবৃদ্ধির মানে হচ্ছে আপনার গুরুতর কোনো সমস্যা বা রোগ আছে।

কোনো প্রচেষ্টা ছাড়া যদি আপনার ওজন হ্রাস পায়, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন এবং ওজন হ্রাসের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা করান।

মাউন্ট সিনাইয়ে অবস্থিত আইকান স্কুল অব মেডিসিনের ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড বোন ডিজিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর রেশমি শ্রীনাথ বলেন, ‘যদি আপনি তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আপনার শরীরের ওজন ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারান, তাহলে আপনার চেক আউট করার প্রয়োজন হবে।’ উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি কোনো প্রচেষ্টা ব্যতিরেকে কয়েক মাসের মধ্যে ১৫ পাউন্ড ওজন হারান, তাহলে তা হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের কোনো অবনতির লক্ষণ। আপনার টাইট-ফিট ড্রেস ঢিলেঢালা হয়ে গেলেও আপনার ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত হবে।

ডাক্তারের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টের পূর্বে আপনার লাইফস্টাইল, খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের শিডিউলে কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা এবং স্বাস্থ্য সমস্যার কোনো উপসর্গ (যেমন- ক্লান্তি বা মাথাব্যথা) দেখা দিয়েছে কিনা মাথায় গেঁথে নিন বা কাগজে লিখে নিন। ওজন হ্রাসের সঠিক কারণ নির্ণয়ে এসব বিষয় সাহায্য করবে।

এ প্রতিবেদনে অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাসের ৯টি কারণ তুলে ধরা হল।

১. ক্যানসার

ক্যানসার দ্রুত ওজন হ্রাস করে। ডা. রেশমি শ্রীনাথ বলেন, ‘যদি কেউ আকস্মিক ওজন হ্রাসের রিপোর্ট করে এবং বলে যে তাদের খাবার গ্রহণ, এক্সারসাইজ রুটিন এবং ওষুধে কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাহলে এটি ক্যানসারের মতো মারাত্মক কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।’ রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান মায়া ফেলার বলেন, ‘ওয়াস্টিং সিন্ড্রোম বা ক্যানসার ক্যাকেক্সিয়া বা কমপক্ষে ১০ শতাংশ অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাসের সঙ্গে অনেক ক্যানসার সম্পর্কযুক্ত।’ তিনি বলেন, ‘সিস্টেমিক প্রদাহ, নেগেটিভ প্রোটিন ও এনার্জি ব্যালেন্স, স্বাস্থ্যবান শরীর বা অপ্রয়োজনীয় চর্বিমুক্ত শরীরের অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস দ্বারা ক্যানসার ক্যাকেক্সিয়া চিহ্নিত করা যায়।’ এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিক ও অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে ঘটে থাকে এবং ফুসফুস, মাথা ও গলা এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রেও তা ঘটে থাকে।

২. স্ট্রেস

ডা. রেশমি শ্রীনাথ বলেন, ‘আমার কাছে এমন কিছু লোক আসে যারা কর্মক্ষেত্রে চাপে পড়েছে বা পরিবারের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে কিংবা সোশ্যাল স্ট্রেসের বা সামাজিক চাপ সৃষ্টিকারী অ্যাজেন্টের দ্বারা প্ররোচিত হয়েছে এবং তারা খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে অর্থাৎ তাদের ক্ষুধা হ্রাস পেয়েছে।’ এই ক্ষুধা হ্রাস ‘ফাইট অর ফ্লাইট হরমোন’ এর সঙ্গে আবদ্ধ যা আপনি স্ট্রেস বা মানসিক চাপে পড়লে আপনার শরীর নিঃসরণ করে। ডায়েটিশিয়ান ফেলার বলেন, ‘ব্রেইনের হাইপোথ্যালামাস নামে একটি স্ট্রাকচার ‘কর্টিকোট্রপিন-রিলিজিং হরমোন’ উৎপাদন করে যা ক্ষুধাকে দমন করে।’ তিনি বলেন, ‘ব্রেইন এপিনেফ্রাইন বা অ্যাড্রিনালাইন হরমোন উৎপাদনের জন্য কিডনির উপর অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ডকে মেসেজ পাঠায়, যা শরীরের ফাইট-অর-ফ্লাইট রেসপন্সকে উদ্দীপিত করে এবং এর ফলে আপনার ক্ষুধা সাময়িকভাবে দমিত হবে।’ আপনার ক্ষুধা না থাকলে খাবারের প্রতি আপনার অনীহা থাকবে যা ওজন হ্রাসের কারণ।

৩. অন্ত্রের রোগ

ডা. রেশমি শ্রীনাথ বলেন, ‘সেলিয়াক রোগ, ক্রোন’স রোগ, ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স এবং অন্ত্রের ড্যামেজ ওজন হ্রাস করে, কারণ এসব ম্যালঅ্যাবজরপশন ঘটায় অর্থাৎ পরিপোষক পদার্থ বা পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা হ্রাস বা ব্যাহত করে।’ কোনো কিছু অন্ত্রকে প্রয়োজনীয় পরিপোষক পদার্থ শোষণে বিরত রাখলে তাকে ম্যালঅ্যাবজরপশন বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্ত্ররোগের চিকিৎসা সহজেই করা যায়, যেমন- সেলিয়াক রোগের ক্ষেত্রে গ্লুটেনমুক্ত ডায়েট গ্রহণ করা। কিন্তু অন্ত্ররোগ ডায়াগনোসিস করার জন্য আপনার একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের কাছে যাওয়া উচিত।

৪. ডায়াবেটিস

যখন লোকদের প্রথম ডায়াবেটিস ডায়াগনোসিস করা হয়, তারা প্রচুর ওজন হারান। ডা. রেশমি শ্রীনাথ বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে তাদের শর্করা এত বেশি যা প্রকৃতপক্ষে তাদের কিডনিসমূহ এবং তাদের সিস্টেমকে আচ্ছন্ন করে রাখে। তারা ফুয়েলের জন্য রক্ত শর্করা ব্যবহার করতে সমর্থ হয় না, রক্ত শর্করা কিডনি দ্বারা শুধুমাত্র পরিস্রাবিত ও নিষ্কাশিত হয়ে যায়। তাই শর্করার যেখানে যাওয়া প্রয়োজন (যেমন- মাংসপেশি, হাড়) সেখানে না গিয়ে হারিয়ে যায়।’ সাধারণত যেসব লোকদের মধ্যে ডায়াবেটিস ডেভেলপ করছে তাদের মধ্যে অত্যধিক তৃষ্ণা, প্রস্রাবের প্রবণতা বৃদ্ধি, দৃষ্টির অস্পষ্টতা এবং হাতে ও পায়ে অসাড়তার লক্ষণ দেখা দেয়।

৫. থাইরয়েড রোগ

আপনার থাইরয়েড আপনার মেটাবলিজম বা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এটি আমাদের সেন্স দেয় যে থাইরয়েড সমস্যা ওজন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। হাই মেটাবলিজম বা উচ্চ বিপাকের জন্য আপনি ওজন হারাতে পারেন। অত্যধিক উচ্চ বিপাক স্বাস্থ্যের ক্ষতি ক্ষতি করতে পারে। ডা. রেশমি শ্রীনাথ বলেন, ‘যদি কারো ওভারঅ্যাক্টিভ থাইরয়েড থাকে (এ রোগটিকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলে), তাদের দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে পারে এবং মাঝেমাঝে এর সঙ্গে অতিরিক্ত সমস্যা যুক্ত হতে পারে, যেমন- হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, অধিক উদ্বেগ, ভীষণ নার্ভাসনেস ও শিহরণ এবং অনিদ্রা।’

৬. অ্যাড্রিনাল ঘাটতি

অ্যাড্রিনাল ঘাটতি অ্যাডিসন’স রোগ নামেও পরিচিত যা শরীর পর্যাপ্ত করটিসল উৎপাদন করতে না পারলে হয়ে থাকে। এই করটিসল সেই করটিসল যা স্ট্রেস রেসপন্সের সঙ্গে জড়িত। ডা. রেশমি শ্রীনাথ ব্যাখ্যা করেন, ‘হাই স্ট্রেস বা উচ্চ মানসিক চাপে আপনার শরীরে প্রচুর পরিমাণে করটিসল উৎপাদন হয় যা নরমাল রেসপন্স বা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। যেসব লোকদের খুব নিম্ন মাত্রায় করটিসল থাকে তাদের মধ্যে এই নরমাল স্ট্রেস রেসপন্স হতে পারে না, তাই তারা সুপার সিক বা খুব অসুস্থ হয়ে যায়।’ তিনি যোগ করেন, ‘অ্যাড্রিনাল ঘাটতির জন্য সাধারণত দ্রুত ওজন হ্রাস, বমিবমি ভাব, মস্তিষ্ক দুর্বল হওয়া বা সংজ্ঞা হারানো এবং অন্যান্য ইনফেকশন হয়ে থাকে।’

৭. রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস

রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহমূলক ব্যাধি যা আপনার জয়েন্টের ক্ষতি করে এবং এটিও আপনার ওজন হ্রাসে ভূমিকা পালন করতে পারে। ডায়েটিশিয়ান ফেলার ব্যাখ্যা করেন, ‘এর কারণ হচ্ছে- রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে, প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকিন শুধুমাত্র প্রদাহকে উদ্দীপিত করে না, শক্তি ব্যয়ও বৃদ্ধি করে, যার মানে হচ্ছে প্রতিদিন বেশি করে ক্যালরি ও চর্বি পুড়ছে।’ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস ৩০ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে ডেভেলপ করা শুরু করে।

৮. বিষণ্নতা

ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং ওজন হ্রাস পাওয়া হচ্ছে, ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার কমন উপসর্গ। ডায়েটিশিয়ান ফেলার বলেন, বিষণ্নতায় ভোগা লোকের শক্তি হ্রাস পেতে পারে এবং অনেক বিষয়ে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। খাবারের প্রতিও তাদের উদাসীনতা দেখা দেয় ও কম খাবার গ্রহণ করে, যার ফলে ওজনও কমে যায়।

৯. প্যারাসাইট

মাউন্ট সিনাইয়ে অবস্থিত আইকান স্কুল অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্যাসকেল এম. হোয়াইট বলেন, ‘এমন অনেক উপসর্গ আছে যা প্যারাসাইট বা পরজীবীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, বিশেষ করে পাকস্থলী ও অন্ত্র সম্পর্কিত উপসর্গসমূহ, যেমন- হেলমিন্থস বা কৃমিরোগ এবং প্রোটোজোয়া।’ তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়া, বমিবমি ভাব, বমি এবং ক্ষুধার অভাব অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাসে অবদান রাখতে পারে।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

বাংলাদেশে মাতৃ মৃত্যু বেড়েছে: সমীক্ষা

মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রমুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়লেও আগের চেয়ে মাতৃ মৃত্যু বেড়েছে বলে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

 

মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছিল বাংলাদেশ।

নতুন সমীক্ষায় মাতৃ মৃত্যুর হার বাড়ার জন্য সেবার মানকে দায়ী করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ম্যাটারনাল মরটালিটি অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সার্ভের (বিএমএমএস) প্রাথমিক ফলাফল বুধবার ঢাকায় প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৬ সালে প্রতি এক লাখ জীবন্ত শিশু জন্মের ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে ১৯৬ জন মায়ের।

২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৯৪; তার এক দশক আগে ২০০১ সালে প্রতি লাখে মৃত্যু হয় ৩৩২ জনের।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে যেখানে শিশু জন্মের সময় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি শতকরা ২৭ শতাংশ ছিল, সেখানে ২০১৬ ছিল ৫০ শতাংশ।

এর পরেও মাতৃ মৃত্যু বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলছেন সমীক্ষার তথ্য-উপাত্তের অন্যতম বিশ্লেষক সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইশতিয়াক মান্নান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি, স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো বাড়লেও মৃত্যু হার কমেনি।

“এর অর্থ সেবার মান ভালো নয়। এর অর্থ দাঁড়ায় নারীরা হাসপাতালে গেছেন কিন্তু তারা মানসম্মত চিকিৎসা পাননি।”

ফুলকপির যত গুণ

শীত পড়তে শুরু করেছে। শীতের সবজি ফুলকপিও উঠতে শুরু করেছে বাজারে। ফুলকপি কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণে ঠাসা এই সবজি। হাইপারটেনশন থেকে মুক্তি দিতে পারে ফুলকপি। এছাড়া মুটিয়ে যাওয়া রোধ করা, চোখের সমস্যা দূর করাসহ বেশকিছু শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে নিয়মিত ফুলকপি খেলে।


জেনে নিন ফুলকপির গুণ সম্পর্কে-
মস্তিষ্ক ও কোষের জন্য উপকারী
ফুলকপিতে ফসফরাস ও কোলিন রয়েছে। দেহকোষ গঠনে এই দুই উপাদান খুবই কার্যকর। আমাদের মস্তিষ্কের কোষ সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সহায়তা করে ফুলকপি। মস্তিষ্কের রোগ ও হৃদরোগ কমাতে সাহায্য করে শীতের এ সবজি।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়
গবেষণায় দেখা গেছে, হাইপারটেনশন দূর করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় ফুলকপি। এই সবজিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অ্যালিসিন আছে, যা রক্ত ও লিভার পরিষ্কার রাখে। ফুলকপি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়।
ডায়াবেটিস রোধ করে
শীতের সময়ে নিয়মিত ফুলকপি খাওয়া উচিত। এই সবজিতে পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে প্রচুর পরিমাণে। এই দুই পুষ্টিগুণ ডায়াবেটিস রোধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন বি৬ রক্তের গ্লুকোজ ঠিক রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। প্রসূতির জন্য উপকারী
ফুলকপি প্রসূতি মায়ের জন্যও বেশ উপকারী। এই সবজি গর্ভে থাকা শিশুর মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে। এতে থাকা প্রয়োজনীয় আঁশ ও মিনারেল প্রসূতি মায়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে।  
রোগ প্রতিরোধ করে
এই সবজিতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। শরীরের ইনফেকশন ও প্রদাহ দূর করতে কাজ করে এই দুই উপাদান। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফুলকপি খেলে মুটিয়ে যাওয়া থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
মলাশয়ের প্রদাহ দূর করে
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলাশয়ে প্রদাহ হলে তা দূর করতে পারে ফুলকপি। এতে ফেনেথাইলিসোদিওসায়ানাইট নামের যে উপাদান থাকে, তা মলাশয়ের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে সারিয়ে তোলে।  
ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে
ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আছে, যা শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট। পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি স্নায়ুতন্ত্র ও মাংসপেশির কার্যক্রম ঠিক রাখে।
চোখের জন্য উপকারী
ফুলকপি চোখের জন্য খুবই উপকারী। এতে থাকা সালফোরাফেন চোখের রেটিনা ও অন্যান্য কোষ সতেজ রাখে। চোখে ছানি পড়া, অন্ধত্বসহ চোখের রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবেন নিয়মিত ফুলকপি খেলে।

তথ্যসূত্র: ইনস্টিকস,ডক্টর এক্স ডটকম 

থাইরয়েড সমস্যার নীরব ১৩ লক্ষণ

গলায় অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড বিপাক ও মস্তিষ্কের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে।

থাইরয়েড সমস্যার উপসর্গ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্পষ্ট থাকে, কিন্তু আপনি যদি এ প্রতিবেদনে আলোচিত উপসর্গের এক বা একাধিক উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করেন, তাহলে আপনার হরমোনের মাত্রা সম্পর্কে জানতে সাধারণ রক্ত পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

১. ঘুমের পরিবর্তন
আপনি সবসময় ভালো নিদ্রাকারী ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করে অনিদ্রা সমস্যা শুরু হয়েছে- এটি থাইরয়েড সমস্যার সংকেত হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট হোসাইন গারিব বলেন, ‘ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড কিছু হরমোন (যেমন- ট্রাইআইয়োডোথাইরনাইন যা টি৩ নামে পরিচিত এবং থাইরক্সাইন যা টি৪ নামে পরিচিত) অত্যধিক পরিমাণে নিঃসরণ করে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে এবং ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগের দিকে ধাবিত করে।’

অন্যদিকে, সারারাত ঘুমানোর পর আপনি যদি ক্লান্তি অনুভব করেন অথবা আপনার যদি স্বাভাবিক ঘুমের তুলনায় অধিক ঘুমের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আপনার সম্ভবত আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড আছে- যেখানে আপনার শরীর পর্যাপ্ত হরমোন উৎপাদন করতে পারে না। তবে অন্যান্য আরো মেডিক্যাল কারণে আপনি সবসময় ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন।

২. হঠাৎ উদ্বেগ
আপনি কখনো উদ্বেগের সঙ্গে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু হঠাৎ করে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ বা অস্থিরতা অনুভব করা শুরু করেন- তাহলে আপনার থাইরয়েড হাইপারঅ্যাকটিভ হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটির মাউন্ট সিনাই রুজভেল্ট হসপিটালের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট আশিতা গুপ্ত বলেন, অত্যধিক হরমোন প্রায়ক্ষেত্রে রোগীকে নার্ভাস বা স্নায়বিক দুর্বলগ্রস্ত কিংবা উদ্বিগ্ন করে তোলে। তিনি বলেন, সেখানে অত্যধিক ব্রেইন স্টিমিউল্যান্ট বা মস্তিষ্ক উত্তেজক আছে যা আপনি কোনো বিষয়ে ভালো অনুভব না করলে তাকে চেতিয়ে তোলে।

৩. বাওয়েল অভ্যাস পরিবর্তন
বারবার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের উপসর্গ। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, ‘থাইরয়েড হরমোন আপনার ডাইজেস্টিভ ট্র্যাককে চালু রাখতে ভূমিকা পালন করে। আপনার খুব সামান্য থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন হলে আপনার মল বাধাপ্রাপ্ত হবে।’

অপরদিকে, ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এ প্রসঙ্গে ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, আপনি নিয়মিত বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগ করবেন, সবকিছু দ্রুত চলাচলের কারণে বারবার বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগ হতে পারে, কিন্তু এটি ডায়রিয়া নয়।

৪. চুল পাতলা হওয়া
চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে ভ্রু, হচ্ছে থাইরয়েড সমস্যার উপসর্গসমূহের একটি। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, ‘আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড বা ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড আপনার চুলের বিকাশ চক্রে বিচ্যুতি ঘটায়।’ সাধারণত সামান্য পরিমাণ চুল বিশ্রাম নেয়, কিন্তু থাইরয়েড হরমোন ভারসাম্য হারালে অত্যধিক পরিমাণ চুল একই সময়ে বিশ্রাম নেয়- যে কারণে চুল পাতলা হয়ে যায়।

৫. অপ্রত্যাশিত সময়ে ঘামানো
হাইপারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের একটি কমন উপসর্গ হচ্ছে, পরিশ্রম না করেও অত্যধিক ঘামানো। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, ‘থাইরয়েড শরীরের শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাভাবিক হরমোন মাত্রার চেয়ে উচ্চ হরমোন মাত্রার মানে হল আপনার মেটাবলিজম অত্যধিক সক্রিয় হচ্ছে, যে কারণে লোকেরা মাত্রাতিরিক্ত গরম অনুভব করে।’

৬. অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি
ওজন বৃদ্ধির কারণে আপনার জিন্স প্যান্ট খুব টাইট হয়ে গেল, কিন্তু আপনি জোর দিয়ে বলছেন যে আপনি আপনার খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামাভ্যাস পরিবর্তন করেননি, তাহলে এর জন্য আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড দায়ী হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ডা. হোসাইন গারিব বলেন, ‘হরমোনের স্বল্পতা মেটাবলিজম এবং ক্যালরি পোড়ানো হ্রাস করে, তাই ধীরে ধীরে অপ্রত্যাশিতভাবে আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে।’

৭. ওজন কমে যাওয়া
ডায়েট বা ওয়ার্কআউটে কোনো পরিবর্তন ছাড়া আপনি যদি হঠাৎ এমন ছোট সাইজের কাপড় পরতে সমর্থ হন যা কয়েক বছর ধরে আপনার জন্য ফিট ছিল না, তাহলে আপনার ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড থাকতে পারে যা মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, লোকেরা প্রায়সময় রিপোর্ট করে যে তাদের ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় এবং তারা প্রচুর পরিমাণে খায়, কিন্তু তাদের ওজন বাড়ার পরিবর্তে কমে যাচ্ছে।

৮. ব্রেইন ফগ
আপনার থাইরয়েড সঠিকভাবে কাজ না করলে আপনার ব্রেইনও করবে না। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, ‘আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড থাকা কিছু লোক রিপোর্ট করেন যে তারা ব্রেইন ফগ বা কুয়াশাচ্ছন্ন মস্তিষ্ক বা অস্পষ্ট মস্তিষ্ক অনুভব করছেন।’ আবার অন্যরা রিপোর্ট করেন যে তারা সাবটেল মেমোরি লস বা অল্প স্মৃতিভ্রংশতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, অথবা তারা মানসিক ক্লান্তি অনুভব করছেন। ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের কারণে কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৯. বিনা শ্রমে হার্ট প্যালপিটেশন
অত্যধিক থাইরয়েড হরমোন আপনার শরীরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, লোকেরা বলে যে তারা অত্যধিক ক্যাফেইন অনুভব করেছেন অথবা তারা বিশ্রামে থাকলেও হার্ট প্যালপিটেশন বা বুক ধড়ফড় অনুভব করেন।

১০. দিনে ঘুম আসা
আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের একটি উপসর্গ হতে পারে দিনে ঘুম আসা অথবা পরিশ্রান্তি অনুভব করা। ডা. হোসাইন গারিব বলেন, শক্তি উৎপাদনের জন্য শরীরের থাইরয়েড হরমোনের প্রয়োজন হয়।

১১. অনিয়মিত পিরিয়ড
পিরিয়ড ঘন হলে, দীর্ঘদিন থাকলে অথবা খুব কাছাকাছি সময়ে দুই বা তার অধিক বার পিরিয়ড হলে বোঝা যেতে পারে যে, থাইরয়েড যথেষ্ট হরমোন উৎপাদন করছে না। আবার ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের কারণে পিরিয়ড হালকা হতে পারে বা দীর্ঘদিন পর হতে পারে।

১২. বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভপাত
ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, ‘যেসব নারীরা বন্ধ্যাত্বের ফ্যামিলি হিস্ট্রি ছাড়া কনসিভ করতে সমস্যায় পড়ে যান অথবা যাদের প্রেগন্যান্সির প্রাথমিক পর্যায়ে মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত হয়ে যায় তাদের থাইরয়েড স্ক্রিনিং করানো উচিত।’ তিনি যোগ করেন, ‘নিম্ন হরমোন মাত্রা ওডিউলেশন এবং প্রিডিস্পোজকে প্রভাবিত করে বন্ধ্যাত্ব বা অকাল গর্ভপাত ঘটায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি আপনার থাইরয়েড রোগ থাকে, তাহলে কনসিভের চেষ্টা এবং প্রেগন্যান্সির সময় হরমোন সাপ্লিমেন্টেশন খুব উপকারে আসতে পারে।’

১৩. শিশুর বিকাশ বিলম্বিত হওয়া
ডা. আশিতা গুপ্ত বলেন, ‘থাইরয়েড হরমোন প্রায়ক্ষেত্রে শিশুদের মাঝে নীরবে প্রতিভাত হয়, কারণ শিশুরা সবসময় তাদের উপসর্গ প্রকাশ করতে সক্ষম হয় না।’ তিনি বলেন, ‘যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে তারা তাদের সমবয়সীদের তুলনায় ধীরে বেড়ে ওঠছে কিংবা যদি তারা পেশী ব্যথার অভিযোগ করে অথবা যদি শিক্ষকরা বলে তারা ভীত এবং অমনোযোগী- তাহলে তা হতে পারে নিম্ন হরমোন মাত্রার লক্ষণ যা তাদের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

নিমের তেল: দূর হবে ব্রণ

ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন নিমের তেল। এটি নিয়মিত ব্যবহারে দূর হবে ব্রণ। ব্ল্যাকহেডস ও ত্বকের কালচে দাগ দূর করতেও এই তেলের জুড়ি নেই। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান জীবাণুমুক্ত রাখে ত্বক।

 

যেভাবে ব্যবহার করবেন নিমের তেল

  • ১ চা চামচ নারকেল তেল কুসুম গরম করে নিন।
  • ১০ ফোঁটা নিমের তেল মেশান গরম নারকেল তেলে।
  • পরিষ্কার ত্বকে এই দুই তেলের মিশ্রণ ঘষে ঘষে লাগান।
  • আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। সবচেয়ে ভালো হয় সারারাত রাখলে।
  • সপ্তাহে একবার এই তেল ব্যবহার করুন। ধীরে ধীরে দূর হবে ব্রণ।

মুখের থ্রাশ থেকে মুক্তির উপায়

মুখের থ্রাশ হচ্ছে, একপ্রকার ইনফেকশন যা ক্যানডিডা ফাঙ্গাস বা ইস্ট দ্বারা সংঘটিত হয়। মুখের থ্রাশ হলে মুখে বা জিহ্বায় সাদা প্রলেপ তৈরি হয়, যা ব্যথাযুক্ত হতে পারে। এটি ফাউল ব্রেথ বা দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাসেরও উৎস হতে পারে।

‘সুপার ওমেন আরএক্স’ এর লেখক এবং সুসংহত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজ ভাটিয়া বলেন, ‘মুখে শর্করা বৃদ্ধির কারণে অথবা পিএইচ পরিবর্তনের ফলে থ্রাশ বিকশিত হয়।’ এই উভয়প্রকার ফ্যাক্টর মুখে ব্যাক্টেরিয়াল লোড বা ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাকে প্রভাবিত করে ইস্ট বিকাশে উৎসাহিত অথবা অনুৎসাহিত করতে ভূমিকা রাখে। এই ইনফেকশন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে হয়ে থাকে অথবা সেসব ছেলেমেয়ে বা প্রাপ্তবয়স্কদের হয়ে থাকে যারা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে বা যাদের দুর্বল ইমিউন সিস্টেম আছে।

মুখের থ্রাশ দূর করতে ঘরোয়া কিছু উপায় জেনে নিন।

১. প্রোবায়োটিক অথবা দই

 

প্রোবায়োটিক এবং দইয়ের মধ্যে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া মাউথ থ্রাশ বা মুখের থ্রাশ দূরীকরণে সাহায্য করতে পারে। আরকানসাসের লিটল রকে অবস্থিত আরকানসাস চিলড্রেন’স হসপিটালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ক্যারি ব্রাউন বলেন, প্রোবায়োটিক বা দই মুখে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

২. ভালো মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি

 

আপনার যথাযথভাবে ফ্লসিং এবং ব্রাশিং করা উচিত। যখন আপনি ব্রাশ করবেন, তখন শুধুমাত্র দাঁত পরিষ্কারের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে হবেন না, জিহ্বা পরিষ্কারের ব্যাপারেও নিশ্চিত হোন। মায়ো ক্লিনিকের মতে, এসব অভ্যাসের সঙ্গে অ্যান্টিসেপ্টিক মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে থ্রাশের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করতে পারে।

৩. লবণ পানি

লবণের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। মায়ো ক্লিনিকের মতে, লবণের একটি জনপ্রিয় ব্যবহার ডাক্তাররা প্রায়ই রিকমেন্ড করে থাকে: লবণ পানি দিয়ে মুখ ধৌতকরণ ইস্ট ইনফেকশনের উপসর্গ প্রশমিতকরণে সাহায্য করতে পারে এবং মুখ পরিষ্কার করে।

৪. খাদ্য পরিবর্তন

শর্করা খেয়ে ইস্টের বিকাশ সাধন হয়, তাই কারো মুখে থ্রাশ থাকলে ডাক্তাররা খাবার তালিকা থেকে শর্করার পরিমাণ কমাতে বলেন এবং সেসব মায়েদেরও শর্করার পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেন যাদের শিশুরা থ্রাশযুক্ত মুখ দিয়ে বুকের দুধ পান করে। ডা. ভাটিয়ার মতে, শর্করা ভোজন করে ইস্ট বিকাশ সাধন করে এবং শর্করার পরিমাণ কমালে তা থ্রাশ দূরীকরণে সহায়ক হতে পারে।

৫. বেকিং সোডা

মুখকে ইস্টের প্রতিকূল পরিবেশে রূপান্তর করতে কিছু প্রাকৃতিক চিকিৎসক দুই টেবিল চামচ বেকিং সোডা এবং এক কাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে মুখের ভেতর মুছতে পরামর্শ দেন। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসা। শিশুদের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য পরিবর্তন এবং শ্বাসাঘাত সম্ভাবনার কারণে ডা. ব্রাউন এই চিকিৎসা শিশুদের ওপর প্রয়োগ না করতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৬. নারকেল তেল

২০০৭ সালের এক গবেষণায় আবিষ্কার হয়, নারকেল তেল অন্ততপক্ষে কয়েক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া হত্যা করতে সাহায্য করতে পারে। তাই নারকেল তেল দিয়ে মুখের ভেতর মুছাটা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে একপ্রকার প্রবল যুদ্ধ।

৭. টি ট্রি অয়েল

ডা. ভাটিয়ার মতে, টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপ্টিক উপকারিতার কারণে অনেক প্রাকৃতিক চিকিৎসক পানিতে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত করে মুখ ধোয়ার পরামর্শ দেন।

৮. শক্তিশালী পরিষ্করণ কৌশল

শিশুদের মুখে নেওয়া যে কোনো কিছু (যেমন- চামচ, প্যাসিফাইয়ার, মায়ের স্তন) অত্যন্ত পরিষ্করণ পুনরায় ইনফেকশন ও থ্রাশ হ্রাসে সাহায্য করতে পারে। ডা. ব্রাউন বলেন, ইস্টের পরিমাণ কমাতে শিশুরা যেসব জিনিস মুখে নেয় (যেমন- বোতল নিপল এবং প্যাসিফাইয়ার) তা ফুটন্ত পানি বা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

* অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের ব্যবহার

ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি মুখের থ্রাশ দূরীকরণে সাহায্য করলেও কিছু ক্ষেত্রে থ্রাশ পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের জন্য আপনার ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন হবে। ডা. ব্রাউন বলেন, ‘মুখের থ্রাশ বা সাদা প্রলেপ বিস্তৃত হলে নাইস্টাটিনের মতো অ্যান্টি-ইস্ট এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধের প্রয়োজন হবে।’ তিনি যোগ করেন, নাইস্টাটিন ইস্টের সংস্পর্শে সরাসরি কাজ করে, তাই এটি সাদা প্রলেপে প্রয়োগে নিশ্চিত হোন এবং ডাক্তার দৈনিক যতবার প্রয়োগ করতে বলেছেন ততবার প্রয়োগ করুন। আপনি মাউথ থ্রাশ আছে এমন শিশুকে বুকের দুধ পান করালে আপনার স্তনে মাখার জন্য আপনার ডাক্তার আপনাকে অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম প্রেসক্রাইব করতে পারেন, যা থ্রাশ পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা হ্রাস করে।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পাকস্থলীর ক্যানসারের ৬ সতর্কীকরণ উপসর্গ

 ক্যানসারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যথাযুক্ত ক্যানসার হিসেবে স্টমাক ক্যানসার বা পাকস্থলী ক্যানসার পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু এ রোগে ভুক্তভোগীদের অনেকের মধ্যে ব্যথা এ রোগের প্রাথমিক সতর্কীকরণ উপসর্গ নয়।

নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হেলথ সিস্টেমের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং সার্জিকেল অনকোলজিস্ট ইউমার্ট সার্পেল বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, পাকস্থলী ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের সবচেয়ে অধিক কমন বৈশিষ্ট্য হতে পারে- এ পর্যায়ে তেমন উল্লেখযোগ্য উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মাঝেমধ্যে পাকস্থলী ব্যথা অনুভব করে থাকি এবং তা লোকজনকে পাকস্থলী ক্যানসারের কথা মনে করিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলে।’ তিনি যোগ করেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাকস্থলী ব্যথা পাকস্থলী ক্যানসারের রেজাল্ট নয়।’

পাকস্থলী ক্যানসার হওয়ার মাত্রা কেমন? আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, মোটামুটিভাবে, ১১১ জন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে  একজন তার জীবনকালে কোনো না কোনো সময় পাকস্থলী (গ্যাস্ট্রিক) ক্যানসারে ভুগবে এবং এ রোগটি পুরুষদের মধ্যে অধিকতর কমন। ডা. সার্পেলের মতে, ‘আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার মধ্যে এ রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।’

সাধারণত পাকস্থলী ক্যানসার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কোনো রোগ নয়। ডা. সার্পেল বলেন, ‘অধিকাংশ পাকস্থলী (গ্যাস্ট্রিক) ক্যানসার বিক্ষিপ্ত এবং এ ক্যানসার হয়ে থাকে এলোমেলোভাবে ডিএনএ মিউটেশনের ফলে।’

এ প্রতিবেদনে পাকস্থলী ক্যানসারের ৬টি উপসর্গ দেওয়া হলো, যার সম্পর্কে আপনার সচেতন হওয়া উচিত।

১. মল বা বমির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া
ডা. সার্পেল বলেন, ‘পাকস্থলী ক্যানসারের নিশ্চিত উপসর্গ ছাড়াও কোলাইটিস এবং ক্রোনস ডিজিজ উভয় ক্ষেত্রেই রক্তমল হতে পারে, মল বা বমি যে কোনো একটার সঙ্গে রক্ত যাওয়া ডিমান্ড করে যে আপনি একজন জিআই ডাক্তারের কাছে যান।’ যদি রক্তপাত পাকস্থলী ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাহলে আপনার মলের রক্ত মেরুন বা আলকাতরার মতো কালো হতে পারে। অন্যদিকে, বমির রক্ত উজ্জ্বল লাল হতে পারে এবং বমির গঠন হতে পারে অসূক্ষ কফি গ্রাউন্ডের মতো, কারণ এটি আংশিকভাবে হজম হয়েছে।

২. দ্রুত ক্ষুধা চলে যাওয়া
আপনি ক্ষুধার্ত ছিলেন, যখন আপনি খেতে বসলেন- কয়েক গ্রাস বা কামড়ের পর আপনার ক্ষুধা চলে গেছে এবং খাবারটি খেতে আর ভালো লাগছে না। এটি হতে পারে পাকস্থলী ক্যানসারের অন্যতম উপসর্গ। ডা. সার্পেল বলেন, ‘বিশেষ করে যদি আপনার ক্ষুধা সচরাচরের তুলনায় দ্রুত মিটে যায়, তাহলে আপনার একে অবহেলা করা উচিত নয়।’

৩. অন্ত্রে ব্যথা হওয়া
কিছুক্ষেত্রে পাকস্থলী ব্যথা পাকস্থলী ক্যানসারের উপসর্গ। ডা. সার্পেল বলেন, ‘কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার ব্যথা অন্যান্য অন্ত্র বা পেটের অসুস্থতার কারণে হতে পারে, ক্যানসারের জন্য নয়।’ তিনি বলেন, পাকস্থলী ক্যানসার সম্পর্কিত ব্যথার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ব্যথা অনবরত হবে এবং ব্যথা হবে ‘কামড় খাওয়া’ প্রকৃতির। তিনি আরো বলেন, ‘এটি এমন কিছু নয় যে আপনি শুধু একদিনের জন্য অনুভব করবেন, এটি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে এবং আবারো ফিরে আসতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আপনার পাকস্থলীর মধ্যখানে নিস্তেজ ব্যথা হচ্ছে ক্লাসিক পাকস্থলী ক্যানসার ব্যথা।’

৪. অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন হ্রাস পাওয়া
ডা. সার্পেল বলেন, ‘অনেক শারীরিক অবস্থা, যেমন- টাইপ-১ ডায়াবেটিস, অ্যাডিসন’স ডিজিজ এবং ক্রোন’স ডিজিজ, অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন কমাতে পারে। এ তালিকায় পাকস্থলী ক্যানসার অন্তর্ভুক্ত করুন।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘যদি আপনি ওজন হারাতে থাকেন এবং ডায়েটিং না করেন, তাহলে তা এমন কিছু যাতে আপনার মনোযোগ দেওয়া উচিত।’ এরকম ওজন হ্রাসের ব্যাপারে সচেতন থাকুন, কারণ এই ওজন হ্রাস ধীরে ধীরে হতে পারে। হঠাৎ ওজন হ্রাসের বিষয়টি আপনার লক্ষ্যে নাও আসতে পারে। এজন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনি স্কেলের সাহায্য নিতে পারেন। ৬ মাসের মধ্যে কয়েক পাউন্ড ওজন হ্রাসের জন্য দুশ্চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আপনার প্রচেষ্টা ব্যতীত উল্লেখযোগ্যভাবে ওজন হ্রাস পেয়ে থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

৫. বুকজ্বালা হওয়া
ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের রিসোর্স অনুসারে, বুকজ্বালা, বদহজম এবং অসুস্থ অন্ত্রের অন্যান্য কমন উপসর্গও হতে পারে পাকস্থলী ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কীকরণ উপসর্গ। ডা. সার্পেল বলেন, ‘এরকম উপসর্গসমূহ ক্যানসারের তুলনায় অন্যান্য শারীরিক দুরবস্থার নির্দেশক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’ কিন্তু উপসর্গ যেটারই হোক না কেন, আপনার উচিত হবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।

৬. পেটফোলা, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া
আপনার পাকস্থলীতে ক্যানসার বিকশিত হলে আপনার পেটফোলা, ডায়রিয়া/কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। এসব উপসর্গের প্রত্যেকটা এককভাবে ক্যানসারের লক্ষণ না হলেও এদের সঙ্গে এ প্রতিবেদনের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে আপনাকে ক্যানসার সম্পর্কিত ফলো-আপ টেস্টিং করতে হতে পারে, যদি আপনার ডাক্তার এসবের জন্য অন্য কোনো সমস্যাকে চিহ্নিত না করে।
 

শিশু লিখনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওবায়দুল কাদের

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু লাবিদ আল লিখনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আট বছরের শিশু লাবিদের হাড় অপরিণত, নরম। বসা অবস্থা থেকে হেলে পড়লেও হাড় ভেঙে যায়। এ বয়সেই বত্রিশবার ভেঙেছে শিশুটির হাত-পায়ের হাড়।

রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অস্টিও জেনেসিস ইম্পারফেক্টা নামক রোগে আক্রান্ত দরিদ্র পরিবারের শিশুটিকে দেখতে যান মন্ত্রী। তার শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান এবং চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, দরিদ্র পিতার পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ায় মন্ত্রী তার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মন্ত্রী প্রাথমিক পর্যায়ে নিজের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে প্রথম অপারেশনের জন্য ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন লিখনের বাবা-মায়ের হাতে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছে লিখনের। এ সপ্তাহে শিশুটির দু’পায়ে অস্ত্রোপচার করে টেলিস্কোপিক নেইল বসানো হবে। কয়েকটি ধাপে অস্ত্রোপচার করা হবে।

সোনারগাঁওয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : সোনারগাঁওয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক ডা. মাহমুদা আক্তার মনি। প্রতি শুক্রবার তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে এ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনারগাঁওয়ের কৃতী সন্তান ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সহধর্মিণী।

সোনারগাঁয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করে আসছেন আওয়ামী লীগ নেতা বিরু। স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ডা. মাহমুদা আক্তার মনিও সোনারগাঁওয়ের অসহায় নারীদের বিনা পয়সায় ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সোনারগাঁও উপজেলার উদ্ভবগঞ্জ এলাকায় প্রায় শতাধিক নারীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেন।

 

লাঞ্চে যে ভুল করি আমরা

বেঁচে থাকার জন্য খেতে হয়। প্রতিদিন তিন বেলা খাই সুস্থ-সবল থাকার জন্য। বলা হয়ে থাকে ব্রেকফাস্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে লাঞ্চ বা দুপুরের খাবারও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে এ সময় অনেক কর্মজীবী অফিসে লাঞ্চ করেন। কাজটি সহজ নয়। দিনের মাঝামাঝি সময়, যখন দেহ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন দেহ-মন পুনরুজ্জীবিত করতে লাঞ্চ করতেই হয়। অনেকে কাজের চাপে দুপুরের খাবার খেতে পারেন না। এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অনেকে দেরি করে খান। দেরি করে লাঞ্চ করলে হজমের সমস্যাসহ শারীরিক কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। এরকমই প্রতিদিনের লাঞ্চে বেশ কিছু ভুল করি আমরা। সচেতন না হলে শরীরের অনেক ক্ষতি হতে পারে।

প্রতিদিন বাইরে লাঞ্চ: অনেক কর্মজীবী প্রতিদিন বাইরে লাঞ্চ করেন। রেস্টুরেন্টের খাবার বেশিরভাগই অস্বাস্থ্যকর, যা শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। সুতরাং খুব বেকায়দায় না পড়লে বাইরে লাঞ্চ করা থেকে বিরত থাকুন। ঘরে তৈরি সাধারণ খাবারওিএর চেয়ে অনেক ভালো।

ডেস্কে লাঞ্চ করা: আশ্চর্যজনক এক তথ্য হলো, গবেষণায় দেখা গেছে, অফিসে কাজের টেবিলে টয়লেটের চেয়েও তিনগুণ বেশি জীবাণু থাকে! এরপরও নিশ্চয়ই যে টেবিলে কাজ করেন সেখানেই লাঞ্চ করবেন না আপনি। টেবিলে অসংখ্য জীবাণু থাকে যা খাবারের সাথে আমাদের দেহে প্রবেশ করতে পারে। তাই কাজের টেবিলে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 

খাওয়ার সময় মোবাইল: বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, আরো স্পষ্ট করে বললে স্মার্টফোন মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক এমনকি শারীরিক ক্ষতিরও কারণ হয়ে উঠছে। দিনের বেশিরভাগ সময়, এমনকি লাঞ্চ টাইমেও অনেককেই দেখা যায়, মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে। এটা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। মোবাইল ফোনের উপরিভাগে অসংখ্য জীবাণু থাকে, যা খাবারের সাথে আপনার পেটে যেতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্ক অতিমাত্রায় ব্যস্ত থাকায় খাবার ঠিক মতো হজমও হতে পারে না।

দেরিতে লাঞ্চ: আগেই বলেছি, অনেকে কাজের চাপে দেরিতে লাঞ্চ করেন। এটা লাঞ্চ না করার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। দেরি করে লাঞ্চ করলে আপনার শরীর নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে, এতে যখন-তখন দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন আপনি। বেশি দেরি করে খেলে গোগ্রাসে খাওয়ার ইচ্ছে জাগে। কারণ তখন পেটে ক্ষুধা থাকে। ফলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। 

প্লাস্টিক কনটেইনার: লাঞ্চ করার আগে প্লাস্টিক কনটেইনারসহ আপনার খাবার গরম করা খুব ক্ষতিকর। কারণ প্লাস্টিকে থাকা বিসফিনল নামক উপাদান শরীরের কোষে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই প্লাস্টিকের পাত্রে কোনো খাবার আনবেন না, রাখবেন না এবং সেগুলো গরম করবেন না। 

লাঞ্চ না করা: নিজের খুব বড় ধরণের ক্ষতি করবেন আপনি, যদি লাঞ্চ না করেন। কারণ দিনের মধ্যবর্তী সময়ে, যখন সবচেয়ে বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার আপনার শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন, তখন আপনি খাচ্ছেন না। এটি আপনার ওজন না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দেবে। কারণ লাঞ্চ না করলে খাওয়ার ইচ্ছে আরো বেড়ে যাবে, তাই পরে বেশি খাবেন আপনি।

নার্স নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের

পিএসসির অধীনে নার্স নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিম, গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (উত্তর) সাব ইন্সপেক্টর মো. তাজুল ইসলাম বাদি হয়ে শাহবাগ থানায় বৃহস্পতিবার এ মামলা দায়ের করেন।

একই দায়েরকৃত মামলায় ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত আরিফুল ইসলাম (৩০) ও সাইফুল ইসলামের (৩৭) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুসারে সহযোগী হিসেবে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, কামাল পাটোয়ারী, মো. ইকবাল হোসেন সবুজ, আনিস, জুয়েল, রফিকুল, ফারুক ও নার্গিস মুন্নীসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬জন। প্রশ্ন ফাঁসের দুই অন্যতম হোতা আরিফ ও সাইফুল সহযোগী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের প্রায় সকলেই নার্স নেতা। অধিকাংশই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত।

অভিযোগ উঠেছে, গ্রেফতারকৃত দুজন জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সহযোগী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের অনেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস তো দূরের কথা, প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের সদস্যদের হাতেনাতে ধরিয়ে দিতে বিভিন্ন মিডিয়াকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন বলে আরিফুল ও সাইফুল শক্রুতা করে মামলায় তাদের নাম ঢুকিয়েছে।

তাদেরই একজন স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ শুক্রবার সন্ধ্যায়  নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে সারাদেশের নার্সদের ঐক্যবদ্ধ করতে গত কয়েকমাস যাবত তিনি নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন।এছাড়া নার্সিং সেক্টরের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকার কারণে তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করতে আরিফুল ও সাইফুল তার নাম জড়িয়ে দিয়েছে।

সবুজের দাবি, পিএসসির অধীনে ৬ অক্টোবরের নার্স নিয়োগ পরীক্ষা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করলে প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়বে। প্রয়োজনে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত রয়েছেন। তার মতো এজাহারভুক্ত আসামিদের আরও দু’ একজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকলে তারা শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি। কিন্তু ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে যেন তাদের হয়রানি হতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাজধানীর ১০টি কেন্দ্রে মোট চার হাজার ছয়শ সিনিয়র স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি তিন হাজার ছয়শ ও মিডওয়াইফ এক হাজার) নিয়োগ পরীক্ষার বিপরীতে ১৬ হাজার নয়শ’জন অংশগ্রহণ করেন। শিউলি, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, কামিনী নামে চার সেটের প্রশ্নপত্র ছাপে পিএসসি। কিন্তু সব সেটের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পরীক্ষার আগে পাওয়া যায়। একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শুরুর আগে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাওয়া যায়। পরীক্ষার হলে গিয়ে তারা দেখেন, ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জানতে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পেয়ে অনিবার্য কারণে পরীক্ষা বাতিল করে পিএসসি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়।

খাবার গ্রহণের পর চা থেকে সাবধান!

মধ্যাহ্নভোজ বা রাতের খাবারে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে খাবার থাকে। উভয় ক্ষেত্রেই খাবারের পর অনেক সময় চায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। আবার কেউ কেউ অভ্যাসের কারণেই দুপুর কিংবা রাতের খাবারের পর চা পান করে থাকেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণের ঠিক পরপরই চা পান করা উচিত নয়। এতে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

দেখা যায়, চায়ের মধ্যকার ট্যানিন খাবারের প্রোটিনের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে এক ধরনের জটিল রাসায়নিক যৌগ তৈরি করে। এই রাসায়নিক যৌগ হজমে সমস্যার সৃষ্টি করে এবং আয়রন শোষণে বাধা দেয়।

কাজেই নিয়মিত উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণের ঠিক পরপরই চা পান করলে অদূর ভবিষ্যতে তা হজমে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আর হজমের সমস্যা হওয়া মানেই শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়া। এতে একসময় শরীর অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে।

এ বিষয়ে ইঁদুরের ওপর চালানো এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক দেখেছেন, প্রোটিনজাতীয় খাবারের সঙ্গে চা গ্রহণ করলে খাদ্য হজমের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং তা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।

তবে এ সমস্যা শুধু দুপুরের খাবার কিংবা রাতের খাবার গ্রহণ করলেই হবে সেটি নয়, অন্যান্য সময়ও যদি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত নাশতা খান, যেমন মাংসের কাবাব কিংবা মাংস দিয়ে তৈরি এমন কিছু খাওয়ার ঠিক আগে কিংবা ঠিক পরেই চা পান করলে একই ধরনের বিপত্তি হবে।

মাংস ও মাছের মধ্যে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন থাকে। তবে মাংসের সঙ্গে চা পানেই সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। আবার চায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ট্যানিনের উপস্থিতির কারণে শুধু লিকার চায়ের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরো বেশি হয়।

তবে কারো কারো ক্ষেত্রে প্রোটিন বা আমিষযুক্ত খাবারের সঙ্গে চা পানের কারণে তেমন কোনো সমস্যা দেখা না দিলেও নীরব অপুষ্টি তাদের ক্রমান্বয়ে গ্রাস করতে থাকে। তাদের শরীর প্রয়োজনীয় মিনারেল থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। একপর্যায়ে মিনারেলের ঘাটতি এবং অপুষ্টিজনিত কারণে বিভিন্ন রকমের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

সুতরাং প্রোটিন ভোজনের পরপরই চা পানের অভ্যাস থাকলে সেটি ত্যাগ করতে হবে। আর খাবারের পর চা পান যদি করতেই হয়, তাহলে অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে তার পর করুন।

তথ্য সূত্র: এমসিডিসি

লবণ-পানিতে উকুন দূর!

বাড়িতে যে কারোর মাথায় উকুন থাকলেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্যদের মাথায়। সংক্রামক উকুন অত্যন্ত বিরক্তিকর ও বিব্রতকর। দীর্ঘদিন উকুনের বসবাসের ফলে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া অনেক সময় চুলকানির কারণে মাথার ত্বকও হয়ে যায় ইনফেকশন। খুব সহজেই এই যন্ত্রণাদায়ক উকুনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন লবণ-পানির সাহায্যে। জেনে নিন কীভাবে।

  • গোসলের সময় দেড় লিটার পানিতে ১ চা চামচ লবণ মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

  • ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।

  • এবার চুল হালকা হাতে ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

  • সপ্তাহে একবার অথবা দুইবার এটি ব্যবহার করতে পারেন। উকুন দূর করার জন্য পদ্ধতিটি খুবই কার্যকর।  

জেনে নিন

  • অপরিচ্ছন্নতা উকুন হওয়ার মূল কারণ। উকুন থেকে দূরে থাকতে চাইলে সবসময় চুল পরিষ্কার রাখবেন তাই।

  • অন্যের চিরুনি ও তোয়ালে ব্যবহার করবেন না।

  • ভেজা চুল বেঁধে রাখবেন না।

  • চুলে নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি প্রতিদিন কিছুক্ষণ চিরুনি দিয়ে ভালো করে চুল আঁচড়ান।

  • লবণ-পানির মিশ্রণ খুব ঘনঘন ব্যবহার করলে চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়তে পারে।

  • উকুন দূর করার জন্য ওষুধ ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করবেন। এগুলোতে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল থাকে। ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি রয়েছে এসব ওষুধ ব্যবহারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করবেন না একদম।

দুধে মধু মিশিয়ে পান করবেন কেন?

সুস্থ থাকতে প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করুন। দুধে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামসহ এমন কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে যা হাড় মজবুত রাখে। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার জন্যও দুধ অপরিহার্য। আরেকটি উপকারী উপাদান হচ্ছে মধু। মধুতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থেকে দূরে রাখে। দুধের সঙ্গে মধু মেশালে যেমন বাড়ে দুধের স্বাদ, তেমনি বেড়ে যায় পুষ্টিগুণও। জেনে নিন ডায়েট চার্টে মধুমিশ্রিত দুধ কেন রাখবেন।

দুধ ও মধু

  • প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে ক্লান্তি কাছে ঘেঁষতে পারে না। দিনভর কাজ করা যায় পুরোদমে। তাই এনার্জি বাড়াতে পান করতে পারেন মধুমিশ্রিত দুধ।     

  • হজমের গণ্ডগোল দূর করতে পারে দুধ ও মধু। এই দুই উপাদানে থাকা প্রিবায়োটিকস শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে দ্রুত খাবার হজম করে।

  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করুন।

  • অ্যাসিডিটি দূর করতেও মধুমিশ্রিত দুধের জুড়ি নেই।

  • ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস দুধ। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম হাড়ে সরবরাহ করতে সাহায্য করে মধু। ফলে দুধ ও মধু একসঙ্গে পান করলে হাড় ও দাঁত মজবুত থাকে।

  • ইনসোমনিয়া বা রাতে ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভুগলে পান করতে পারেন মধুমিশ্রিত দুধ।

  • শরীরের ভেতর থেকে সুরক্ষা করে এই দুই উপাদান। ফলে শরীরে বয়সের ছাপ সহজে পড়বে না যদি নিয়মিত পান করেন দুধ ও মধু ।

  • কফ ও গলা খুসখুসে ভাব দূর করতে কুসুম গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করুন।

  • মধুতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া দূর করে। এছাড়া দুধে থাকা এনজাইম পাকস্থলী সুস্থ রাখে।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিন: নাসিম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রাখাইনে গণহত্যা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত নেয়ার জন্যে মিয়ানমারের উপর চাপ বাড়াতে জাতিসংঘের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল প্রমীলা পাটেন সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করলে মোহাম্মদ নাসিম এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের গণনির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় দিয়েছেন । তাঁর নির্দেশে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকার তাদের খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি সংস্থাও সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া ও বান্দরবানে ৭৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। শতাধিক চিকিৎসক ও প্রায় ৭শ’ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রেষণে প্রেরণ করা হয়েছে। এসময় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ সচিব ফয়েজ আহম্মেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পোসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

টেবিলে রোগী ফেলে কর্মবিরতি গ্রহণযোগ্য নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, টেবিলে রোগী ফেলে রেখে এক মুহূর্তের জন্যও কর্মবিরতি পালন গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসকরা ধর্মঘটে গেলে সাধারণ মানুষ সেবাবঞ্চিত হন। জনগণ ভুল বুঝে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অর্জন আজ সারা বিশ্বে অনুকরণীয়। সরকারের গৃহীত কর্মসূচির সাফল্যের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের চিকিৎসকদের অবদান যথেষ্ট। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা বন্ধ রাখলে চিকিৎসক সমাজের ওপর জনমনে ভ্রান্ত ধারণার জন্ম নেবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ওপর যারাই হামলা করুক তারা দুর্বৃত্ত। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে সরকার।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক, কলেজ অধ্যক্ষ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢামেক হাসপাতালে একটি বা দুটির বেশি প্রবেশদ্বার না রাখার পাশাপাশি ভিজিটর, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের জন্য পৃথক কার্ড চালু করা, একজন রোগীর সঙ্গে দুজনের বেশি ডিজিটর থাকতে না দেয়াসহ হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিবেশকে চিকিৎসকদের জন্য কর্মোপযোগী এবং রোগীদের জন্য সেবাবান্ধব করতে হলে এ সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইতোমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আনসার সদস্য বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য চিকিৎসক, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমি আহ্বান জানাই।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শিগগিরই ঢামেক হাসপাতালকে পাঁচ হাজার শয্যায় উন্নীত করে আধুনিকায়নের কাজ হাতে নেবে সরকার।

শরীরের জন্য দইয়ের দরদি ভূমিকা

দই নিয়ে হইচই এই বঙ্গদেশে কম হয়নি। বগুড়ার দইয়ের কথা সবাই জানেন। কিন্তু দেশের অন্য অঞ্চলেও যে খাঁটি দই হয় সে কথা মানেন ক’জন? মানলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ে না। গরুর দুধ নাকি মহিষের দুধের দই ভালো? টক দই নাকি মিষ্টি দই উপকারী? ঘরে পাতা দইও অনেকের প্রিয়। সেক্ষেত্রে অনেক গৃহিণীর আক্ষেপের শেষ নেই- শত চেষ্টা করেও দই জমছে না কেন? এজন্য অবশ্য ইন্টারনেটে রয়েছে কম করে হলেও শত পরামর্শ। সুতরাং সেই নেট দুনিয়ায় না হয় আরেকটি পরামর্শ যোগ করি। চলুন জেনে নেই দইয়ের গুণ।

* দই হজমে সহায়তা করে। এর ল্যাকটোবেসিলিসের মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যেগুলো প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া নামে পরিচিত, তারা পেটের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বিতাড়িত করে। উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো  হজমের সমস্যা দূর করে ও শরীরের জন্য ভিটামিন ‘কে’ তৈরি করে।

* প্রতিদিন দই খেলে হৃদরোগ প্রতিরোধ হবে। কারণ দই শরীরের কোলেস্টেরল দূর করে ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিহত করে। উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও দই সহায়ক।  

* দইয়ে অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে। ভিটামিন বি-টুয়েলভ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংকসহ বেশ কিছু ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদানের অভাবে যারা ভোগেন তাদের জন্য দই চমৎকার ওষুধ।

* দই শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে দেয়। পেট ও হৃদপিণ্ডের চর্বি জমার জন্য দায়ী হরমোন কোরটিসোল কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। শরীর থেকে জাংক ফুডের ক্ষতিকর উপাদানও বের করে দেয় দই।

* হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে দইয়ের ভূমিকা আছে। এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে। জাপানে এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন দই খাওয়ার ফলে মানুষের মুখের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। মুখে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে দই। এতে দন্তক্ষয় ও মাড়ির রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমে।

* প্রতিদিন দই খেলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। গবেষকরা বলছেন ৪ মাস ধরে প্রতিদিন দুই কাপ করে দই খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৫ গুণ বেড়ে যায়।

* দই যৌন জীবনের জন্যও উপকারী। নিয়মিত দই খেলে দৈহিক মিলনে নিজেকে পুরোপুরি খুঁজে পাবেন। এমনকি পুরুষত্বহীনতা দূর করা ও বীর্য উৎপাদনেও দই ভূমিকা রাখে।

* চেহারার উজ্জ্বলতা নিয়ে আসে দই। প্রতিদিন দই খেলে খুব সহজেই লাবণ্য, সৌন্দর্য দেখা দেবে চেহারায়। এর কারণ হলো দইয়ে প্রচুর ভিটামিন-ই, জিংক, ফসফরাসসহ আরো কিছু মাইক্রো মিনারেল থাকে, যেগুলো ত্বক উজ্জ্বল করে ও মুখের ব্রণ দূর করে। চেহারায় বয়সের ছাপও কমায়। এটি খুব ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার।

* রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া রোধ করে দই। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরা উপকারী হলেও তা সহজে পাওয়া যায় না, দামও বেশি। তাই হাতের কাছে থাকা দই শরীরে রোদে পুড়ে যাওয়া অংশে লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যাবে। 

* দই হতাশা নিরাময়কারী। কোরটিসোল হরমোনের কারণে যে হতাশা তৈরি হয় দই তা কাটিয়ে তোলে। প্রতিদিন দই খেলে মাথা ঠান্ডা থাকে।

* আপনার মাঝে যদি ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়, তাহলে দই খান। এতে খাওয়ার আগ্রহ ফিরে পাবেন।

* যদি শরীর থেকে রক্তপাত হয়, তাহলে দই খান। দইয়ের ভিটামিন-কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

* মহিষের দুধের চেয়ে গরুর দুধ থেকে তৈরি দই তুলনামূলভাবে উত্তম। কারণ মহিষের দুধে অতিরিক্ত ফ্যাট ও প্রোটিন থাকায় অনেকেই খেয়ে বদহজমের অভিযোগ করেন। বয়স্ক ও ছোটদের মহিষের দুধ বা সেই দুধের তৈরি দই না খাওয়াই উচিত।

* দই টাটকা খাওয়া উচিত। কারণ কয়েকদিনের সংরক্ষিত দইয়ে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই দই তৈরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত।

* যারা দুধ খেতে পারেন না, তারা দই খেতে পারবেন। দুধ খাওয়ার পর অনেকেই হজম করতে পারেন না, এতে ডায়রিয়া বা গ্যাসট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। তবে দই খেলে এ ধরনের সমস্যা হয় না।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ

দেশের হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

আজ (সোমবার) সচিবালয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা সংক্রান্ত বৈঠকে সভাপতিত্বকালে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি এই নির্দেশ দেন।

সভায় অন্যান্যের মাঝে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ সচিব ফয়েজ আহম্মেদ, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মাকসুদ, বিএমএ’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, বিশিষ্ট সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইতোপূর্বে যে কয়টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল তার মধ্যে আটটি কলেজ পুনরায় পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দেশে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল শিগগিরই কলেজগুলো পরিদর্শন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করবেন বলে সভায় জানানো হয়।

কলেজগুলো হলো- ঢাকার আদ্-দ্বীন বসুন্ধরা মেডিকেল কলেজ, আশিয়ান মেডিকেল কলেজ, সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, কেয়ার মেডিকেল কলেজ, আইচি মেডিকেল কলেজ, সফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ এবং গাজীপুরের সিটি মেডিকেল কলেজ।

২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে বিএসএমএমইউর ল্যাব সার্ভিস

জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের জীবন বাঁচাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ২৪ ঘণ্টা ল্যাব সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়েছে। মেডিসিন (ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি) বিভাগের এই ল্যাবরেটরি সার্ভিস ১ নভেম্বর থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সোমবার ২৪ ঘণ্টা ল্যাব সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। ল্যাবরেটরি মেডিসিন (ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. কুদ্দুস উর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল।

স্বাগত বক্তব্য দেন ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ এন নাসিমউদ্দিন আহমেদ। সূচনা বক্তব্য দেন ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. দেবতোষ পাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, রোগীদের জরুরি প্রয়োজনেই ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের ২৪ ঘণ্টা ল্যাবরেটরি সেবা চালু করা হলো। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র দেশের সকল বয়সের রোগীরা উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে এক হাজার ৯০৪টি শয্যা, ৪৬০ জন ফ্যাকাল্টি মেম্বার, ৫২টি বিভাগ, ৯৫টি পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স, ৪২টি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউট। এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২২টি মেডিকেল কলেজে ৬২টি রেসিডেন্সি কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ৮ হাজার রোগী সেবা নিচ্ছেন। শিগগিরই আরও এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই ডে কেয়ার সেন্টার এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সাধারণ জরুরি বিভাগ চালু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিএসএমএমইউতে ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগে রক্ত, ইউরিন, স্টুল, বডি ফ্লুয়েড, টিউমার মার্কার্সসহ প্রায় ১০০ ধরনের পরীক্ষা সুবিধা চালু রয়েছে। এর মধ্যে স্টুল ফিক্যাল ফ্যাট, ইউরিন এমিনো এসিডইউরিয়া, ফেজ কনস্ট্রাস্ট, বডি ফ্লুয়েড পোলারাইজিং, সি এ ৭২.৪ স্টমার্ক, সাইফ্রা-২১-১ লাং পরীক্ষাগুলো হয়ে থাকে।

বক্তারা জানান, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগে বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই সেবা বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু ১ নভেম্বর থেকে দিন রাত ২৪ ঘণ্টাই এসেবা চালু থাকবে। এই জরুরি সেবা চালু হওয়ায় দ্রুত রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাও দেয়া সম্ভব হবে। এতে করে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে। আগামীতে সাধারণ জরুরি বিভাগ চালুর কার্যক্রম চলছে। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই জরুরি সেবা চালু হচ্ছে। স্যাম্পল জমা দেয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই জরুরিভিত্তিতে রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হবে। এর ফলে জরুরিভিত্তিতে রোগ নির্ণয়ের পর দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হবে বিধায় অনেক মানুষ বেঁচে যাবে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক রোগী প্রতিদিন আসেন এবং তারা এই সেবার মাধ্যমে উপকৃত হবেন। প্রকৃতপক্ষে, এ সুবিধা ঢাকাসহ সমগ্র দেশের রোগীরা নিতে পারবেন।

ডেন্টালে প্রতি আসনে লড়বেন ৪২ শিক্ষার্থী

সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে ৪২ জন ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। চলতি বছর মোট ২২ হাজার ৫০০ আবেদন জমা পড়েছে। মোট আবেদনকারির মধ্যে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে ৬ হাজার, শহীদ সোহরাওয়ার্দীতে ৬ হাজার ও স্যার সলিমুল্লাহতে ৪ হাজার ৪১১টি আবেদন জমা পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার দায়িত্বশীল সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত ১৭ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ২৯ অক্টোবর (শনিবার) রাত ১২টা পর্যন্ত ভর্তির আবেদনের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল।

আগামি ১০ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষায় জীববিদ্যায় ৩০, রসায়নবিদ্যায় ২৫, পদার্থবিদ্যায় ২০, ইংরেজি ১৫, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৬ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে ৪ নম্বর থাকবে। ৫ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রবেশপত্র দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে একটি ডেন্টাল কলেজ ও আটটি ইউনিটসহ মোট নয়টিতে ৫৩২টি ও বেসরকারি ২৬ ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে মোট এক হাজার ৩৬০টি আসন রয়েছে। দুই বছর আগ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে হলেও গত বছর থেকে পৃথক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর মোট পাঁচটি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে রাজধানীতে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে তিনটি ও রাজশাহী ও চট্টগ্রামের দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি ডেন্টালে কোথায় কত আসন : 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন ১টি ডেন্টাল কলেজ ও ৮টি ডেন্টাল ইউনিটের মধ্যে সাধারণ আসনে ৫১৭টি, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১০টি ও উপজাতি কোটায় ৫টিসহ মোট ৫৩২টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২টিসহ মোট ৯৭টি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১টিসহ ৬০টি, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১টিসহ ৫৯টি, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১টিসহ ৫৯টি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১টিসহ ৫৬টি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ১টি ও ১টি উপজাতি কোটাসহ ৫২টি, সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ১টি ও ১টি উপজাতি কোটাসহ ৫২টি, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ১টি ও ১টি উপজাতি কোটাসহ ৫২টি ও রংপুর মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ১টি ও ১টি উপজাতি কোটাসহ ৫২টি আসন রয়েছে।

ক্যালসিয়াম ঘাটতিতে শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ

মোঃ আজহারুল ইসলাম : ক্যালসয়িাম নামক খনজি উপাদানটি হাড়রে গঠনে গুরুত্বর্পূণ ভূমকিা  রাখে  এছাড়াও হৃদস্পন্দন ও পশেীর কাজ পরচিালনার জন্যও ক্যালসয়িাম অত্যাবশ্যক। রক্ত জমাট বাঁধতওে সাহায্য করে ক্যালসয়িাম।
 এই খনজি উপাদানটি খুব সহজইে শাকসবজি, দই, বাদাম ও পনরিরে মতপ্রাকৃতকি উৎস থকেে পাওয়া সম্ভব। তারপরও বশেরিভাগ মানুষ ক্যালসয়িামরে ঘাটততিে ভুগে থাকে। ক্যালসয়িামরে ঘাটতরি উপর্সগগুলোসর্ম্পকে জনেে নইি চলুন।

 

১। পেশীর বাধা
পর্যাপ্ত পরমিাণ পানি পান করা ও হিমোগ্লোবনিরে মাত্রা ঠকি থাকার পরওযদি আপনার পশেীতে বারবার সংকোচন হয় বা টান অনুভব করনে তাহলআেপনি ক্যালসয়িামরে ঘাটততিে ভুগছনে ধরে নতিে হবে। পশেীরসংকোচনরে সাথে সাথে পশেীতে ব্যথাও হয় বশিষে করে উরুতে ও নম্নিপায়রে পছেনরে পশেীতে। ক্যালসয়িামরে নম্নি মাত্রার এটি প্রারম্ভকি লক্ষণ।

২। হাড়রে ঘনত্ব কমে যাওয়া
বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে শরীররে হাড়কে শক্তশিালী করক্যোলসয়িাম। ক্যালসয়িামরে মাত্রা কমে গলেে তা হাড়রে ঘনত্বরে উপরসরাসরি প্রভাব বস্তিার করে। হাড়রে ঘনত্ব কমে গলেে অস্টওিপোরোসসিহওয়ার ও সামান্য আঘাতইে হাড়ে ফাটল হওয়ার সম্ভাবনা দখো যায়।

৩। ভঙ্গুর নখ
হাড়রে মত নখরে সর্ম্পূণতা বজায় রাখার জন্যও ক্যালসয়িাম প্রয়োজন।ক্যালসয়িামরে অর্পযাপ্ততা নখকে র্দুবল করে দয়ে এবং নখ হয়ে উঠে ভঙ্গুর।

৪। দাঁত ব্যথা
আপনার শরীররে ৯৯% ক্যালসয়িাম থাকে হাড়ে ও দাঁতে। যদি আপনারক্যালসয়িামরে লভেলে কমে যায় তাহলে দাঁতে ব্যথা ও দাঁত ক্ষয় হতে পারে।এছাড়াও প্যারয়িোডন্টাল ডজিজি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। শশিুদরেক্যালসয়িামরে ঘাটতরি ফলে বলিম্বতি ও ত্রুটিপর্ণ দাঁত হয়।

৫। ঘন ঘন অসুস্থতা
স্বাস্থ্যকর ইমউিন সস্টিমে বজায় রাখার জন্য ক্যালসয়িাম গুরুত্বর্পূণ ভূমকিাপালন করে। ক্যালসয়িামরে ঘাটতি থাকে যাদরে তাদরে সাধারণ শ্বাসকষ্ট ওঅন্ত্ররে সংক্রমণে ভুগতে দখো যায়। ক্যালসয়িামরে ঘাটতরি ফলপ্যোথোজনেরে হামলার বরিুদ্ধে শরীররে রোগ প্রতরিোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

৬। অবসাদ
ক্যালসয়িামরে ঘাটততিে যারা ভুগনে তাদরে হাড় ও পশেীতে ব্যথার সাথসোথে র্দুবলতায় ভুগতওে দখো যায়। ক্যালসয়িামরে নম্নি মাত্রা ইনসমনয়িা,ভয় ও মানসকি বকিৃতরি সাথে সর্ম্পকতি। যার ফলে স্ট্রসে ও ক্লান্তি বৃদ্ধপিায়।এর ফলে আপনাকে ফ্যাকাসে দখোবে এবং ক্লান্ত ও অলস অনুভবকরবনে আপনি। শশিুর জন্মরে পরে যে সব নারীরা ক্যালসয়িামরেঘাটততিে ভুগনে তাদরে ক্লান্ত বা অবসন্ন থাকতে দখো যায়। তাদরে বুকরেদুধ কমে যাওয়া ।

এছাড়াও নারীর জরায়ু ও ওভাররি হরমোনরে সাধারণ উন্নয়নরে সাথে সর্ম্পকতি ক্যালসয়িাম। ক্যালসয়িামরে ঘাটতরি ফলে অনয়িমতি পরিয়িড ওঅতরিক্তি রক্তপাতরে সমস্যায় ভুগতে পারনে নারীরা।

Md. Azharul Islam

Diagnostics Associate

Cell: 01977 158 342

প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ

এখন কম বেশি সবাই স্বাস্থ্য সচেতন। স্থূলতা কমাতে এবং ফিট থাকতে সবাই স্বাস্থ্যকর খাদ্য খুঁজছেন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যের তালিকায় কত কিছু রাখছেন। সেগুলো বাদ দিয়ে নিয়ম করে এক গ্লাস দুধ খেলেই পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে স্বাস্থ্য থাকবে ভালো। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ আপনার কী উপকার করছে সেটি জেনে নিন।  

হাড় মজবুত করে। আমাদের শরীরের অন্দরে থাকা ২০৬ টা হাড়ের শক্তি বাড়াতে ক্যালসিয়াম কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আর এই উপাদনটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে দুধে।

হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হলে নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন হ্রাস পায়, তেমনি কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ধারে কাছে ঘেঁষার সম্ভাবনাও কমে। তাই দীর্ঘদিন যদি হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে চান তাহলে দুধ খেতে ভুলবেন না যেন।

দাঁত মজবুত করতে তুলনাহীন দুধ। দুধ দাঁতের এনামেল স্তরকে শক্ত করে ফলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হয়। সেই কারণেই তো বাচ্চাদের নিয়মিত এক গ্লাস করে দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

ত্বকের যত্নে দুধের বিকল্প নেই। নিয়মিত দুধ পান করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।

হজমের গণ্ডগোল দূরে ঠাণ্ডা দুধ ভীষণ কাজের। গবেষণায় দেখা গেছে বদ-হজম বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা কমাতে ঠান্ডা দুধের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো এবার থেকে এই ধরনের কোনও সমস্যা দেখা দিলে চটজলদি এক গ্লাস দুধ পান করতে ভুলবেন না যেন।

রোহিঙ্গারা ভয়াবহ রোগ নিয়ে এসেছে : নাসিম

জাতিগত নিধনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা ভয়াবহ রোগ নিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আমরা মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু তারা সঙ্গে করে ভয়াবহ রোগ নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে এ রোগ বাংলাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে। রোহিঙ্গাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে, যাতে তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারে।  বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ডিআরইউ ও লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকার উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদা নাসিম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এটা একটা সেটেল বিষয়। এটা নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। বিদেশিরাও একই কথা বলেছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের আর মাত্র এক বছর বাকি আছে। নির্বাচন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ যাকে ভোট দিবে সেটাই আমরা মেনে নিব। জনগণের উপর ভরসা রাখুন। নাসিম বলেন, এখন হরতাল মানুষ আর বিশ্বাস করে না। আমরাও যদি ভবিষতে হরতাল দেই তাহলেও মানুষ সমর্থন দিবে না। হরতাল করে কোন লাভ নাই। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি প্রফেসর একে আজাদ খান।

 

শোবার ঘরে যে ১০ গাছ রাখার পরামর্শ বিজ্ঞানীদের

গাছগুলো আমাদের বাগানে দেখতে সুন্দর হতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন আমাদের স্বাস্থ্যগত নানা উপকারিতার জন্য গাছগুলো শোবার ঘরে রাখা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা যদিও বাড়ির গাছপালার দীর্ঘ উপকারিতা বহু আগেই থেকে প্রচার করে আসছেন কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার জানিয়েছেন যে, শোবার ঘরে থাকা সবুজ গাছ আপনার স্বাস্থ্য ও ঘুমের উন্নতি করতে পারে। গাছের উপস্থিতি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বায়ু দূষণ অপসারণ করে।

আমেরিকান কলেজ এবং মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শোবার ঘরে কোন গাছগুলো রাখা জরুরি এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সেগুলোর উপকারীতা।

১. অ্যারেকা পাম : মাদাগাসক্যান অ্যারেকা পাম গাছ- দূষণ দূর করায় দক্ষ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যারা ঠান্ডা বা সাইনাসের সমস্যায় ভুগছেন তাদের শোবার রুমে এই গাছ থাকাটা দারুন উপকারী, কারণ এটি বাতাসের আদ্রতা কমায়। তাই আপনি অনেক সহজ শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার উপযোগী পরিবেশ পাবেন অ্যারেকা পাম গাছের বদৌলতে।

২. অ্যালোভেরা : যেকোনো বাড়িতে সহজেই রাখা যায় এই গাছ এবং নান্দনিক হওয়ায় এই গাছ দেখতেও আনন্দদায়ক। নাসা জানিয়েছে, বায়ু পরিশোধনের সেরা গাছগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, অ্যালোভেরা। এই গাছ সারারাত ধরে অক্সিজেন সরবরাহ করে, তাই শোবার ঘরের জন্য এই গাছ আদর্শ। এই গাছ বেনজেন (যা ডিটারজেন্ট এবং প্লাস্টিক থেকে ছড়ায়) এবং ফর্মালডিহাইড (বার্নিশ এবং ফ্লোর ফিনিশিং থেকে ছড়ায়) এর বিরুদ্ধে লড়াই করে, ফলে বাতাস দারুনভাবে বিশুদ্ধ রাখতে সহায়তা করে।

৩. ইংলিশ আইভি : ক্রিস্টমাসের দিনে এই গাছ কাজে লাগায় ব্যাপক পরিচিত। কিন্তু এই গাছ শুধু আপনার বাগানের উপযোগী নয় বরঞ্চ শোবার ঘরে রাখার জন্য সেরা। আমেরিকান কলেজ অব অ্যালার্জি, অ্যাজমা এবং ইমিউনোলজির গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, ইংলিশ আইভি গাছ ৭৪ শতাংশ বায়ু দূষণ মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে দূর করে।

৪. ড্রফ ডেট পাম : কষ্টসহিষ্ণু, খরা-সহনশীল, দীর্ঘজীবী এই গাছ ঘরের ভেতরের দূষিত বায়ু দূর করার জন্য খুবই উপকারী, বিশেষ করে জাইলিন দূর করায়।

৫. বোস্টন ফার্ন : এই গাছ আপনি ঘরের যেকোনো স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে পারবেন। বায়ু দূষণ নির্মূল করায় নাসার কর্তৃক সেরা ৫০ গাছের তালিকায়, এই গাছ নবম স্থানে রয়েছে। ফর্মালডিহাইড অপসারণে এই গাছ বিশেষভাবে দক্ষ।

৬. চাইনিজ এভারগ্রিন : ঘরের ভেতরে রাখার সবচেয়ে সহজ গাছ হিসেবে পরিচিত, চাইনিজ এভারগ্রিন। কারণ এই গাছ কম আলোতে বেড়ে উঠে, এমনকি ঘরে যেখানে অন্যসব গাছ বেড়ে ওঠে না এমন পরিবেশেও মানানসই (যেমন অন্ধকার বা আলোহীন শোবার ঘরে)। এই গাছের সেরা সুবিধার দিকটি হচ্ছে, এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেশি টক্সিন দূর করে।

৭. পিস লিলি : সুন্দর এই গাছটি বায়ু শুদ্ধ করতে পারে এবং দূষণ থেকে ৬০ শতাংশ উন্নতি করে। এই গাছের পাতা বিভিন্ন ধরনের মোল্ড স্পোর বা ছত্রাক শোষণ করে নিয়ে সেগুলোকে খাদ্য হিসেবে শিকড়ে ব্যবহার করে।

৮. স্পাইডার প্ল্যান্ট : ঘরোয়া এই গাছটি খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং আপনার শোবার ঘরের বায়ু থেকে ৯০ শতাংশ টক্সিন মাত্র ২ দিনের মধ্যে দূর করতে পারে। যাদের ধূলিকণা অ্যালার্জি সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই গাছ শোবার ঘরে রাখা খুবই উপকারী।

৯.  লেডি পাম : ঘরোয়া এই গাছটি ফর্মালডিহাইড, অ্যামোনিয়া, জাইলিন, টলুইন দূর করে বায়ু পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে কার্যকর গাছগুলোর মধ্যে একটি।

১০. উইপিং ফিগ : কার্পেট এবং আসবাবপত্র থেকে যেসব দূষণ যেমন ফর্মালডিহাইড, বেনজিন এবং ট্রাইক্লোরোইথিলিন বায়ুতে মেশে সেগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ করে আপনাকে নিরাপদ রাখার জন্য এই ঘরোয়া গাছটি সেরা।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

৮ ধরনের মাথাব্যথা ও পরিত্রাণের উপায়

হেডেক অর্থাৎ মাথাব্যথা মানে শুধুমাত্র মাইগ্রেন নয়। মাথাব্যথার প্রকারভেদ রয়েছে। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বা বিষয় অনুসারে মাথাব্যথার নামকরণ করা হয়ে থাকে। কেন মাথাব্যথা হচ্ছে তার কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারলে এ ব্যথা উপশমের সর্ব্বোচ্চ চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে।

১. মাথার একপাশে: মাইগ্রেন
যদি মাথাব্যথা আপনার মাথার একপাশে (মাথার বামপাশ অথবা ডানপাশ) অবস্থান করে এবং মাথায় ধকধকানি ও স্পন্দন অনুভূত হয়, তাহলে তা মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে। মাইগ্রেনে ভোগার এক ডজনেরও বেশি কারণ রয়েছে, পরিত্রাণ পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার মেডিক্যাল সেন্টারের স্নায়ুবিশারদ ডা. রাইসা ভিলানুয়েভা বলেন, মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্র হয় এবং কার্যক্রমে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এটি অন্যান্য উপসর্গের মাধ্যমেও প্রকাশ পেতে পারে (যেমন- লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সেনসিটিভিটি বা আলো ও শব্দ সংবেদনশীলতা)। যত দ্রুত সম্ভব মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং বিশ্রাম নিতে রাইসা ভিলানুয়েভা উপদেশ দেন। যদি এ ব্যথা বারবার আপনার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলে, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

২. মাথার চারদিক জুড়ে: টেনশন হেডেক
মানসিক চাপ বা বিষণ্নতাজনিত মাথাব্যথাকে টেনশন-টাইপ হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা বলা হয়। ভিলানুয়েভা বলেন, রোগীরা প্রায়সময় বলেন যে, এ ব্যথায় ভাইস বা আঁটসাট যন্ত্র মাথার চারদিকে চেপে আছে বলে মনে হয়। ওভার দ্য কাউন্টার পেইন রিলিভার, যেমন- এনএসএআইডি বা অ্যাসিটামিনোফেন, সেবনে এ ব্যথা অঙ্কুরে বিনষ্ট হতে পারে। দ্য জার্নাল অব হেডেক অ্যান্ড পেইনে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায়, শুধুমাত্র অ্যাসিটামিনোফেন বা প্ল্যাসেবো সেবনের পরিবর্তে অ্যাসপিরিন, অ্যাসিটামিনোফেন এবং ক্যাফেইনের সমাহারে তুলনামূলক দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, এ তিনটি ওষুধ একত্রে গ্রহণে এ ধরনের মাথাব্যথা দুই ঘণ্টা পর সেরে যায়।
 

 


৩. মুখমণ্ডলে: সাইনাস হেডেক
যদি আপনি চোখে এবং গালে চাপ অনুভব করেন, তাহলে তা সাইনাস হেডেকের লক্ষণ বলে ধরে নিতে পারেন। ভিলানুয়েভা উল্লেখ করেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাইনাস হেডেক খুব বিরল এবং প্রায়সময় তা আসলে মাইগ্রেন, যার কারণে মুখমণ্ডলে ব্যথা হতে পারে। আপনার যদি ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ধরা পড়ে এবং সাইনাস ইনফেকশনের অন্যান্য উপসর্গ, যেমন- দুর্বল বা রুগ্ন দাঁত, ঘ্রাণানুভূতির অভাব, থাকলে আপনার ডাক্তার আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক (ব্যাকটেরিয়াল উপসর্গের ক্ষেত্রে) প্রেসক্রাইব করতে পারেন অথবা ন্যাজাল ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে বা অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন।

৪. হঠাৎ মাথার যেকোনো অংশে: থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক
অন্ততপক্ষে ১৬টি লক্ষণ রয়েছে যাতে আপনার মাথাব্যথা অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে এবং তাদের মধ্যে থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক একটি হতে পারে। থান্ডারক্ল্যাপ হেডেকের ক্ষেত্রে মাথার ভেতর বজ্রাঘাত অনুভূত হয়। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশনের মতে, এ ব্যথা তীব্র হয়, কমপক্ষে পাঁচ মিনিট থাকে এবং আপনি হয়তো জানতেও পারবেন না কেন তা হচ্ছে। মাথাব্যথার প্রকারভেদের মধ্যে এ ধরনের মাথাব্যথা বিপদাশঙ্কার নির্দেশ করতে পারে। আপনার যদি এরকম মাথাব্যথা হয়, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন অথবা ইমার্জেন্সি রুমে যান। ব্রেইন অ্যানিউরিজম, স্ট্রোক অথবা ব্রেইন হেমোরেজের কারণে এ মাথাব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা সেবা নিন।

৫. চোখের পিছনে: ক্লাস্টার হেডেক
যদি আপনি অনুভব করেন যে চোখের পিছন থেকে কোনোকিছু আপনাকে খোঁচা দিচ্ছে, তাহলে তা ক্লাস্টার হেডেকের লক্ষণ হতে পারে। ভিলানুয়েভা বলেন, এই মাথাব্যথাকে সুইসাইড হেডেকও বলে, কারণ এতে ব্যথা খুব খুব তীব্র হয়। তিনি আরো বলেন, এটি প্রায়ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি প্রভাবিত করে এবং এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ, যেমন- ব্যথার সঙ্গে চোখে লালতা, আক্রান্ত চোখ থেকে পানি পড়া, আক্রান্ত পাশে রানি নোজ অথবা আক্রান্ত চোখের পাতা ঢলে পড়া, জড়িত থাকতে পারে। এটি হলে আপনার মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং আপনি জেগে উঠতে চাইবেন। ভিলানুয়েভা বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি নির্ণীত হওয়ার আগে লোকেরা অনেক বছর ধরে এতে ভুগে থাকে। এই মাথাব্যথার ক্ষেত্রে সঠিক ডায়াগনোসিস খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাইগ্রেনের চেয়ে এর চিকিৎসা ব্যবস্থা ভিন্ন। এটি থেকে মুক্তি পেতে আপনার ডাক্তার হাই-ফ্লো অক্সিজেন ট্রিটমেন্টের (ফেইস মাস্ক থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করা) পরামর্শ দিতে পারেন।
 


৬. মাথার উপরিভাগে বা মুখমণ্ডলের উপরিভাগে: অ্যালার্জি হেডেক
অ্যালার্জি হেডেক সাইনাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও তা ঋতুভিত্তিক হয়ে থাকে এবং অন্যান্য উপসর্গ, যেমন- রানি নোজ (ঠান্ডা বা অ্যালার্জির কারণে নাক থেকে তরল আসা), হাঁচি এবং ওয়াটারি আইজ (অ্যালার্জির কারণে চোখ থেকে পানি নিঃসরণ) দেখা দিতে পারে। সঠিকভাবে এ সমস্যা শনাক্ত করতে ডাক্তার থেকে ডায়াগনোসিস করা উচিত। ভিলানুয়েভা বলেন, মাথাব্যথা থেকে পরিত্রাণ পেতে ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ বা অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যালার্জি প্ররোচক বিষয়সমূহ এড়িয়ে চলুন।

৭. কপাল বা মাথার একপাশে: এয়ারপ্লেন হেডেক
আকাশপথে ভ্রমণের সময় কপাল বা মাথার একপাশে কোনোকিছু বিদ্ধ হওয়া বা খোঁচা মারা প্রকৃতির ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যাকে এয়ারপ্লেন হেডেক বলে। আকাশপথে ভ্রমণ খুব একটা কঠিন না হলেও গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, প্রতি ১২ জনে একজন লোক এয়ারপ্লেন হেডেকে ভুগে। এয়ারপ্লেন যাত্রায় প্রেসার বা চাপের পরিবর্তনের কারণে এ ব্যথা হয়ে থাকে। এই ব্যথার ঝুঁকি কমাতে স্ট্রেস বা মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন, হাইড্রেটেড থাকুন এবং ব্যথা উদ্ভব হচ্ছে অনুভূত হলে ওভার দ্য কাউন্টার পেইনকিলার সেবন করুন।

৮. মাথার যেকোনো অংশে: এক্সারশনাল হেডেক
যদি কাজকর্মের সময় বা পরে এক্সারশনাল হেডেক (শ্রমসংক্রান্ত মাথাব্যথা) হয়ে থাকে, তাহলে তা ব্যায়াম বা অনুশীলন কিংবা উত্তেজনা বা কামোত্তেজনায় বেড়ে যেতে পারে। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশনের মতে, এক্সারশনাল হেডেক পাঁচ মিনিট থেকে দুইদিন পর্যন্ত লেগে থাকতে পারে। ভিলানুয়েভা বলেন, এই মাথাব্যথার বিভিন্ন রকম উপসর্গ আছে। তিনি আরো বলেন, এসব উপসর্গ হতে পারে তীব্র মাথাব্যথা, এক-পার্শ্বস্থ মাথাব্যথা, স্পন্দিত মাথাব্যথা, একটানা মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব। প্রকৃতপক্ষে এই মাথাব্যথা বিরল এবং অনুশীলন বা ব্যায়াম প্ররোচিত, মাইগ্রেন এটি থেকে ভিন্ন, কিন্তু আপনাকে ডাক্তার দেখাতে হবে যিনি মূল কারণ (যেমন- হেমোরেজ) নির্ণয়ের জন্য আপনাকে পর্যবেক্ষণ করবেন। সুখবর হল, কোনো মেডিক্যাল সমস্যার কারণে যদি এ ধরনের ব্যথা না হয়ে থাকে, তাহলে তা সাধারণত ছয় মাস পর চলে যায়। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডশনের মতে, এই সময়ের মধ্যে আপনি ওয়ার্কআউটের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পূর্বে ন্যাপ্রক্সেন সেবন করতে পারেন যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। যেকোনো নতুন ওষুধ গ্রহণের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

তাড়াতাড়ি ওজন বাড়াতে কোন কোন খাবার খাবেন জেনে নিন

ওজন কমানোয় যেখানে প্রচুর মানুষ ব্যস্ত রয়েছেন, সেখানে কিছু মানুষ চাইছেন ওজন বাড়াতে। কিন্তু ওজন ঝড়ানোর মতোই কঠিন ওজন বাড়ানো। তাহলে কোন কোন খাবারখেলে তাড়াতাড়ি ওজন বাড়াতে পারবেন, জেনে নিন-

 

১) তাড়াতাড়ি ওজন বাড়াতে প্রত্যেকদিন চর্বি যুক্ত মাছ খান। আরও ভালো ফল পেতে মাছ, মাখন এবং অলিভ অয়েলে ভেজে নিন।
২) ওজন বাড়াতে রোজকার ডায়েটে আলু রাখতে ভুলবেন না। আলুতে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, ফাইবার এবং ভিটামিন সি থাকে।
৩) ওজন বাড়ানোর জন্য সহজ এবং স্বাস্থ্যকর উপায় হল পিনাট বাটার।
৪) রোজ ১০০ গ্রাম করে বাদাম খান। ১০০ গ্রাম বাদামে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্যালোরি থাকে। এছাড়া ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ই এবং ফাইবার থাকে। ওজন বাড়ানোর জন্য বাদাম খুবই উপযোগী।
৫) ওজন বাড়াতে প্রোটিন, ভিটামিন ডি, স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলযুক্ত উপাদান হল ডিম।
৬) ওজন বাড়ানোর জন্য রোজ ব্রেকফাস্টে চিজ খান।
৭) ঘরোয়া উপায়ে সবথেকে তাড়াতাড়ি ওজন বাড়ানোর উপযোগী খাবার হল কলা। প্রত্যেকদিনের ডায়েটে কলা রাখুন।



Go Top