মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
৩০ এপ্রিল, ২০১৬ ১৫:৫৮:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
৮০ শতাংশ কলেজশিক্ষকই ঢাকায় থাকতে চান
সরকারি কলেজের শিক্ষকেরা বদলির ক্ষেত্রে তদবির করে রাজধানী ঢাকাতেই থাকতে চান বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

 

তিনি এ বিষয়ের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘আমার কাছে এ কাজে যত লোক আসেন, তাদের ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জনই ঢাকায় থাকতে চান। ঢাকার বাইরের ছেলেমেয়েরা কী পড়বে না?’

 

শনিবার রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘বদলির জন্য ক্ষমতাধর অনেকের কাছ থেকে অনেকে লিখিয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাদের উদ্দেশে বলছি, এখন থেকে বদলির জন্য সবাইকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। কেউ যদি এটি না করে কারো কাছ থেকে লিখিয়ে আনেন, তাহলে সেটা নেতিবাচক হিসেবে গণ্য হবে।’

 

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, একটি কলেজে ৩৭টি পদ আছে। কিন্তু কর্মরত আছে মাত্র ছয়জন। সবার শুধু ঢাকা ভালো লাগে।

 

বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকসংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না। কিন্তু এ মুহূর্তে যারা কর্মরত আছেন, তারাও জেলা পর্যায়ে থাকতে চান না।’

 

তিনি বলেন, ‘আপনারা পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, আমার নিজ এলাকার কলেজেই শিক্ষকসংকট রয়েছে।’

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ারও বিপক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মতো পাবলিক পরীক্ষা ১০ দিনে শেষ হওয়া উচিত।’

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথা জানতে, শুনতে ও আপনাদের কাছ থেকে শিখতে চাই। শিক্ষার ও শিক্ষকদের মূল লক্ষ্য হলো- জ্ঞানদানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে লালন করে গড়ে তোলা।’

 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইন।

 

শিক্ষাসচিব বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যক্ষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অপরিসীম। শিক্ষাদানের পাশাপশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নানা কাজে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

 

ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘সবার জন্য শিক্ষার মান সমান করার লক্ষ্যে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষদের সঙ্গে নিয়ে এই ধরনের কর্মশালা প্রতিবছর আয়োজন করতে চাই।’

 

বেলা ১টায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। এতে ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে করণীয়’ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল পর্যন্ত।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় দেশের মোট ৩২৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের নিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

 

কর্মশালায় মোট ২৮৯টি কলেজ, ১৪টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, ১৬টি সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, চারটি সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা, পাঁচটি এইচএসটিটিআই, একটি বিএমটিটিআই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষা এর অারো খবর