সকাল ১১:৫৬, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

পাবলিক পরীক্ষাগুলোয় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া একের পর এক চলছেই। প্রাথমিক সমাপনী থেকে শুরু করে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা, উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষার ফাঁস হচ্ছে প্রশ্ন। এর ফলে একদিকে যেমন দুর্বল মেধার শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করে এগিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে মানসম্মত শিক্ষায় পুষ্ট হতে পারছে না জাতি। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা ও প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। মোটা টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কিনে মেধাহীনরা বাগিয়ে নিচ্ছে বড় বড় চাকরি। সরকারি ব্যাংক থেকে শুরু করে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরীক্ষায়ও অভিযোগ ওঠে প্রশ্ন ফাঁসের। শিক্ষাবিদরা বলছেন, অবিলম্বে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে না পারলে জাতির মেরুদন্ড  ভেঙে পড়বে। গত ১ নভেম্বর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরুর দিন থেকেই প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে বাইরে চলে আসে।

 ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পরীক্ষার দেড় থেকে দুই ঘন্টা আগে পরীক্ষার হল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা সেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা দেয়। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও বন্ধ হয়নি পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ চিত্র চরম অবক্ষয়ের। বিষয়টি লজ্জার এবং গ্লানির। উদ্বেগের তো বটেই। ফলে এর পুনরাবৃত্তি রোধই কাঙ্খিত। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার মধ্য দিয়ে এটা সহজেই প্রতীয়মান হয় অবক্ষয়কারীদের শিকরবাকড় কতটা বিস্তৃত ও সামগ্রিকভাবে সমাজচিত্র কতটা বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।

এটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং এ ব্যাধি যে টোটকা কোনো দাওয়াইয়ে সারবে না, তাও অনুধাবন করা কষ্টকর নয়। যে দুষ্টচক্র শিক্ষা, পরীক্ষা কিংবা কর্মসংস্থান ব্যবস্থা প্রায়- সবকিছুতেই ছোবল মারছে, তারা যে দেশ-জাতির কত বড় সর্বনাশ ঘটিয়ে চলেছে, তা বর্ণনায় শেষ করার নয়। যে কোনো  মূল্যে এদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়াটাই সমীচীন। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও এ সংক্রান্ত দুর্নীতির জন্য প্রয়োজনে আরও কঠোর শাস্তির কথাও ভাবতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

নারীর প্রতি সহিংসতা

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় বখাটের হয়রানিতে জেমি আক্তার (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিজেদের বাড়িতে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে জেমি। নাটোরের লালপুর উপজেলার রতœা বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূকে তার স্বামী পুড়িয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর ডেমরায় সারুলিয়া এলাকায় সাত বছর বয়সী এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ উপজেলার উমরপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় মেহেরুন নেসা (৩০) নামের এক গৃহবধূ নিহত ও তার তিন শিশু কন্যা আহত হয়েছেন। মৌলভী বাজারের রাজনগরে কর্মস্থল থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় করে বাড়ি ফেরার পথে গত সোমবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কর্মি।

 কালিগঞ্জে আসামি ধরতে গিয়ে মাসহ বাড়ির নারীদের নির্যাতনের অভিযোগে এস আই বিকাশ কুমার ও এ এস আই আজাহারের নামে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঝিনাইদহ আদালতে এ অভিযোগ করেন নির্যাতনে আহত আসামির মা সালেহা খাতুন। পুলিশের তথ্য মতে, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ধর্ষণের মামলা হয়েছে চার হাজার আটশ’র বেশি। একটা জাতি কতটা সভ্য তা নির্ভর করে নারীর প্রতি তাদের আচরণের মাধ্যমে। নিজেদের সভ্য জাতি হিসেবে দাবি করার ক্ষেত্রে আমাদের কার্পণ্যের অভাব নেই। কিন্তু নারীর প্রতি আচরণে মনে হয় যে এ গর্বের কোথাও যেন ঘাটতি আছে। নারীর প্রতি সদাচরণ এ দেশে অনুসৃত প্রতিটি ধর্মের অনুশাসনের অনুষঙ্গ। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সে অনুশাসনের প্রতি আমাদের আনুগত্য কতটুকু তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রতি পদে। অপরাধ করেও অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ায় যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি জাতিকে জিম্মি করে রেখেছে নারী নির্যাতন বন্ধে সে জিম্মি অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভূমিকা পালন করবে এমনটিই প্রার্থিত।

এই বিভাগের আরো খবর

যুগান্তকারী রায়

চিকিৎসার খরচ বা বিল পরিশোধের অজুহাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত কোনো ব্যক্তির লাশ কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক জিম্মি করে (আটকে) রাখতে পারবে না। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মোঃ আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হ্ইাকোর্ট বেঞ্চ গত সোমবার এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে কয়েকদফা নির্দেশনা সহ রায় দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে তা দেশের সকল অনুমোদিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রেরণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুস্থ রোগিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধে একটি তহবিল গঠনের জন্য স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। স্মর্তব্য, ২০১২ সালের জুন মাসে একজন অসচ্ছল ব্যক্তি তার শিশু সন্তানকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর মোহাম্মদপুর সিটি হাপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির সময় ওই ব্যক্তি ১৫ হাজার টাকা জমা দেন। কয়েকদিন চিকিৎসার পর সন্তানটি মারা যায়।

 এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা ব্যয় বাবদ আরো ২৬ হাজার টাকা দাবি করে। ওই বকেয়া বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে শিশুটির লাশ দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। ওই বছরের ৮ জুন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টে রিট করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। দেশে সরকারি-বেসরকারি খাতে চিকিৎসা সেবার প্রসার ঘটছে, তা অসত্য নয়, কিন্তু এর পাশাপাশি রোগি জিম্মি করে কিংবা বিভিন্ন ফায়দা-কৌশলে রোগির স্বজনদের কাছ থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের ব্যাপক অভিযোগও রয়েছে।

 এ ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা ওঠে। চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে লাশ আটকে রাখার ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে নোটিশ দেন স্বতন্ত্র¿ সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী। তিনি নোটিশে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জাতি হিসেবে আমাদের মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে। এ দায় সরকার এড়াতে পারে না। স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া কোনো দায় নয়। এটা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, অথচ বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে জনগণের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ রায় প্রশংসনীয়। একটা অমানবিকতাকে রোধ করা যাবে। আমরা স্বাস্থ্য খাতের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানাই।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ইউরেশিয়ান কমিশনের সহযোগিতা

রাশিয়া সহ পাঁচটি দেশের সংগঠন ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতা স্মারক (এম ও ইউ) সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এটি সই হলে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ রাশিয়ায় বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের শুল্ক মুক্ত সুবিধা বা জিএসপি পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইউরেশিয়ান কমিশনের পক্ষ থেকে শিগগিরই ঢাকায় মন্ত্রী পর্যায়ের এই স্মারক সই হবে বলে জানানো হয়েছে।

কমিশনের দেশগুলো হলো রাশিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহায়তা বিষয়ে বছরের শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ একটি চুক্তি সই করেছে। ওই চুক্তির আওতায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি আন্ত: সরকার কমিশন গঠন করা হবে।

দুই দেশের বাণিজ্য বিষয়ক সুবিধা-অসুবিধা, পারস্পরিক অর্থ লেনদেন সহ ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা, দ্বৈত করারোপ, কৃষি পণ্যে ব্যাকটেরিয়া ব্যবস্থাপনা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায় সহ বিভিন্ন বিষয়ে এই কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশনে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করবে, পরস্পরের মধ্যে রপ্তানি বাড়াতে বাণিজ্যিক বাধাগুলো দূর করবে। শিক্ষা কৃষি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কাজ করবে।

এই বিভাগের আরো খবর

খুন খারাবি বাড়ছে

রাজধানীতে চলতি মাসের শুরুতেই মাত্র ১১ ঘন্টার ব্যবধানে দুই জোড়া খুন হয়েছে। ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাকরাইলে খুন হন মা ও ছেলে। এই খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন সকালে খবর পাওয়া যায় বাড্ডায় খুন হয়েছেন বাবা ও মেয়ে। দুটি হত্যাকান্ডই পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকে ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। বিভিন্ন সময় গ্যাং কালচারে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। খেলার ও পড়ার সাথীরা পরস্পরের প্রতি ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। সমাজ ও মনোবিশেষজ্ঞরা করা বলছেন, যৌথ পরিবার থেকে একক পরিবারে যাওয়া, কর্মক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, মানবিক পরিবেশ হারিয়ে যাওয়া, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের সঙ্গে যাপিত জীবনের অসামঞ্জস্যতা সমাজকে অস্থির করে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে বলেই জীবন সহিংস রূপ পাচ্ছে।

 বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর (১৭) অক্টোবর মাস পর্যন্ত সারা দেশে তিন হাজার খুন ও ১৫ হাজারের বেশি নারী- শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মামলা সংখ্যা বিবেচনায় নথিভুক্ত। এর বাইরে আরও অনেক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে যেগুলো নথিভুক্ত হয় না। রোজকার চলার পথের এই অসহিষ্ণুতার প্রকাশ দিন দিন মানুষকে পরস্পরের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে বলেও মত দেন মনোবিশেষজ্ঞরা। মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলো বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়। বর্তমানে ঘরে বাইরে, রাস্তায়, কাজের জায়গায় অসহিষ্ণুতার উপাদানগুলো সক্রিয় আছে। ভুলে গেলে চলবে না মানসিক গঠনের জন্য মানবিক পরিবেশ দরকার। সেটি আমরা ধরে রাখতে পারিনি।

 আমরা ক্রমশ লোভ, ভোগবাদী, স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছি এবং উগ্রতা প্রদর্শন করছি। আমাদের মানসিক অশান্তি নানা কারণে তৈরি হচ্ছে। চারপাশের অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা, অস্থিরতা মানুষকে অধৈর্য করে তুলছে। আমরা সভ্যতার বিচারে আবারও পিছনের দিকে হাঁটছি কি না, সেটা এখন বড় প্রশ্ন, সমাজে সুস্থতার চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা, গণতন্ত্রের চর্চার অভাব হলে এ রকমই হওয়ার কথা। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সেন্স অব কমিউনিটি গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। আমরা চাই স্বস্তি ফিরুক জনজীবনে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সোনা পাচার চক্র

হযরত শাহজালাল (রহ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ছয় কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের ৫৮ পিস সোনার বার সহ এক যাত্রীকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস, সোমবার সকালে মোঃ আলম নামের এক যাত্রী বাহরাইন হতে গালফ এয়ারের ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসেন। কম্বলের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া সোনার মূল্য প্রায় তিন কোটি ৩৫ লাখ টাকা। হযরত শাহজালাল (রহ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সোনার বড় বড় চালান ধরা পড়ছে বেশকিছু দিন ধরেই। বস্তুুত এই বিমান বন্দরে সোনার চোরাচালান আটক হওয়ার ঘটনা এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দর থেকেও মাঝে মাঝেই সোনার চালান আটক করা হয়। তবে এর বাইরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কী পরিমাণ সোনা পাচার হচ্ছে। সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বলা যায়, এর পরিমাণও কম হবে না। এসব পাচার হয়ে আসা সোনার বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে ভারতে কিংবা অন্য কোনো দেশে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে অর্ধ শতাধিকেরও বেশি চোরাচালানি দল। সাধারণত সোনা চোরাচালানের অর্থ পরিশোধ করা হয় হুন্ডির মাধ্যমে।

 এই চোরাচালানি গ্রুপগুলো যে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নয়, তা কে বলবে। আবার  প্রভাবশালী যেসব ব্যক্তি এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের পক্ষে অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য যে কোনো ধরনের অপরাধ কর্মে যুক্ত হওয়া অবাস্তব কিছু নয়। ফলে দেশ দ্রুত হত্যা, গুমসহ নানা ধরনের অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে। বিমান বন্দরে সোনা চোরাচালানের ঘটনায় সময়ে সময়ে যাদের আটক করা হয়, তারা কেবল বাহক মাত্র। মূলত এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে দেশি-বিদেশি পাচারকারী মাফিয়া চক্র। গণমাধ্যমে খবর এসেছে শাহ জালাল বিমান বন্দরে বেশ কয়েকটি চক্র সোনা পাচারে নিয়োজিত রয়েছে। মাফিয়া চক্রকে নির্মূল করতে হবে। সরকার  চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে শতভাগ আন্তরিক-এটা প্রমাণ করতে হবে। সোনা চোরাচালানের গডফাদারদের গ্রেফতার করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

সৌদিতে বিপদাপন্ন শ্রমিকরা

সৌদি আরবে অভিবাসী ও শ্রমিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে আটক অভিযান শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত তিনদিনে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ২৪ হাজার অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে জানা গেলেও অনুমান করা হচ্ছে শত শত হবে এ সংখ্যা। এ অবস্থায় অবৈধ হয়ে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে ২৪ লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছে। এদের মধ্যে দুই থেকে আড়াই লাখ প্রবাসী নানা কারণে সেখানে অবৈধ হয়ে পড়েছে।

 তাদের কাছে বৈধ কোনো কাগজপত্রও নেই। অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারে অভিযান শুরুর পর থেকে তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে যার মতো করে নিজেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করছে। জনবহুল বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ লাখ লাখ শ্রমিক। যারা বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে যে শক্ত ভিতের ওপর, তার সিংহভাগই বৈদেশিক রেমিট্যান্স। অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যে প্রবাহ তা নির্ভর করে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর।

 প্রতি বছর হাজার হাজার কর্মক্ষম যুবক চাকরির আশায় বৈধ এবং অবৈধভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়। এসব শ্রমিকের ঘামে ভেজা কষ্টার্জিত অর্থে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে আমাদের অর্থনীতি। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব শ্রমিকের কথা, তাদের সুবিধার কথা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। কি বিদেশযাত্রা, কি বিদেশে তাদের অবস্থানকালে প্রতি পদে তারা সমস্যার সম্মুখিন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে থাকেন উদাসীন। আমরা সরকারকে বলতে চাই- আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই এ মুহূর্তে সৌদি আরবে বিপদাপন্ন শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ান। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক পর্যায়ে সমঝোতার প্রয়াস চালিয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের বিপদমুক্ত করুন। জাতীয় স্বার্থেই এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়া দরকার।

এই বিভাগের আরো খবর

পোশাক শিল্পখাতে সংস্কার

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার শুরু থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপীয় দেশগুলো। বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাকের ৯০ শতাংশই এ তিনটি বাজারে যায়। যখন কোনো বাজার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইতিবাচক হয়ে ওঠে তখন সে বাজার অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। কোনোই দ্বিমত নেই এ দেশের গার্মেন্টস শিল্প গড়ে ওঠার পেছনে প্রধান কারিগর আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলোই। দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের গুণগত মান বিচারে সাফল্য পেতে থাকায় তারই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে তা ছড়িয়ে পড়ে।

 উদ্যোক্তারা আরো ব্যাপক ক্রেতার সন্ধানে সেসব দেশে তাদের সামর্থ্য ও মান তুলে ধরে আমদানিকারকদের সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হন। তবে আমাদের উদ্যোক্তাদেরও করণীয় আছে। তৈরি পোশাক শিল্প খাত সংস্কার করতে হবে ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক। যার ওপর এ খাতের সমৃদ্ধি নির্ভর করছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার এ খাতে গুরুতর ধাক্কা আসে। সেদিন পাঁচটি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিকের মাথায় ভেঙে পড়েছিল ৯ তলা ভবনটি। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় এক হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক। আহত হয় এক হাজার ১৬৭ জন। ভবন ধসের এই বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে আমাদের পোশাক খাত।

 বিদেশি ক্রেতাদের নানামুখী চাপ এবং দাতা সংস্থা সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনগুলো পোশাক শ্রমিকদের কাজের পরিবেশের উন্নয়ন সহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব করে। চাপ প্রয়োগের ধুয়া তুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জিএসপি সুবিধা বাতিল করে। তারপর অবশ্য কারখানা মালিকরা কর্ম উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে অনেকাংশেই সফল হয়েছেন। সরকার ইতিমধ্যে পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন, কারখানাগুলোতে মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও আইএলও’র সহযোগিতায় কারখানাগুলোর সমস্যা নিরসনে কাজ করা সহ কর্ম পরিবেশ উন্নয়নের নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন এবং আমাদের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়নের সব পক্ষ মনোযোগী হবে এবং তৈরি পোশাক শিল্পে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়া আমাদের স্বার্থেই এগিয়ে নিতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধ

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা বলেছেন রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা যুদ্ধাপরাধের শামিল এবং মানবাধিকারের মৌলিক লংঘন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের একটি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতকালে এমন কথাই বলেছেন। জেফ ম্যাকলির নেতৃত্বে ওই সিনেটররা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি ও তিনদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত রোববার কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা রোহিঙ্গাদের কাছে অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন। এসব মানুষকে নিজ দেশে ফেরানোর বিষয়টি তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন। এছাড়া আলোচনার মাধ্যমে বিপুল এই জনগোষ্ঠীকে পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে মিয়ানমার শিগগির ফিরিয়ে নেবে বলে তাা আশা করেন।

 ক’দিন আগে আবারও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চাপানো জাতিগত নিধনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআর ডব্লিউ)। দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়াসহ নারী ও শিশুদের ওপর ব্যাপক গণধর্ষণ চালিয়েছে বলে সংস্থার দুটি পৃথক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মিয়ানমার সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনে দেশটির ‘নির্দোষ’ দাবি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরারাষ্ট্রমন্ত্রী রেকস টিলারসনের মিয়ানমার সফরের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার এ দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এইচডব্লিউআরডি। আমরা আশা করব আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমার নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে। তারা যুদ্ধাপরাধ করে যাচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায় দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারকে বাধ্য করবে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই নৃশংসতা বন্ধ করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পোলট্রি শিল্প এগোচ্ছে

দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী পোল্ট্রি শিল্প দূরবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। একের পর এক খামার বন্ধ হয়ে গেছে লোকসানের কারণে। আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পোল্ট্রি শিল্প দেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিও করেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে অসুখে আক্রান্ত হয়ে অন্যদিকে উৎপাদন খরচের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে পোল্ট্রি শিল্প লোকসানের শিকার হয়ে নাজুক অবস্থায় ছিল। নানা বাধা পেরিয়ে এখন উত্তরণের পথে পোলট্রি খাত। ভাইরাসের সংক্রমণে বছর দুয়েক বন্ধ থাকা পোলট্রি খামারগুলো ফের চালু করেছেন খামারিরা। এখাতের বড় কোম্পানিগুলোরও উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগ বেড়েছে।

নতুন করে প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনে নতুন শিল্প হচ্ছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি এখন রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিতে যেতে চান তারা। ডিম, মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানি করে বছরে দুই বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব বলে জানায় বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাষ্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসি)। এর আগে রপ্তানি হলেও বার্ডফ্লু আক্রমনের কারণে ২০০৭ সাল থেকে তা বন্ধ রয়েছে। পোলট্রি খাত এখন উত্তরণের পথে রয়েছে। এখাতে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের সহযোগিতা চান উদ্যোক্তারা।

 উদ্যোক্তারা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন, যাতে সাশ্রয়ী দামে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ প্রাণিজ আমিষ সহজলভ্য করা যায়। তথ্য অনুযায়ী, গত তিনবছরে দেশ মুরগির মাংস উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় চার হাজার টন। এতে বছরে উৎপাদন হয় সাড়ে ১৪ লাখ টন, যা ২০১৪ সালে ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টন। ডিম উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। আগে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন ছিল প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ পিস। এখন তা বেড়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ পিস। এ হিসেবে বছরে এক হাজার ২২ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। এখাতে বিনিয়োগ এখন ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা আশা করি এ শিল্পের আরো প্রসার ও স্থায়িত্বের লক্ষ্যে সরকার যথাযথ নজর দিক।

এই বিভাগের আরো খবর

নিষ্ফল জলবায়ু সম্মেলন

বড় ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই গত শুক্রবার শেষ হয়েছে জার্মানির বন-এ অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। জলবায়ু সম্মেলনের প্রথম দিন থেকেই ২০২০ সালের পর থেকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে পাঁচটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এ ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। এমনকি সম্মেলনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও এ নিয়ে অগ্রগতি হয়নি। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ধনী দেশের ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও এই সম্মেলনে বড় অগ্রগতি হয়নি। এর অর্থ হলো শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিমাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনে বিশ্ব বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ পিছিয়ে গেল। জলবায়ু বিপর্যয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলো।

 কে না জানে বিশ্ব জলবায়ু বিপর্যয় প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৭০টি দেশের ওপর পরিকল্পিত জরিপে ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এ ঝুঁকি মোকাবেলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট গঠন করেছে। এটি একটি আইনি পদক্ষেপ। যদিও কার্যকর পদক্ষেপ তত জোরালো নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অন্যতম দায়ী কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন। এর মাত্রা কমাতে উন্নত দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের দাবি আমাদের রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অনেক আগেই করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যেন জলবায়ুর ভারসাম্য বিনষ্টকারী শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পায় তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে ভূমিকা রাখতে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ধনী দেশগুলো ২০০০ সালের মধ্যে নিজ নিজ দেশে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন শতকরা পাঁচ ভাগ কমিয়ে আনার। কিন্তু কোনো দেশই ওই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। বরং প্রতি বছর তা আরও বেড়েছে। কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গমনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে রাজি করাতে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে – এটিই প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরো খবর

কমছে কৃষি জমি

দেশে কমছে ফসলি জমির পরিমাণ। যা অচিরেই অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের তিন-চতুর্থাংশ মানুষ সরাসরি কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প, শিল্পায়ন এবং নগরায়নের ফলে ক্রমশ কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৯,৭৬২ মিলিয়ন হেক্টর। গত চল্লিশ বছরে এই জমির পরিমাণ কমেছে ১.৯৪২ মিলিয়ন হেক্টর। আর জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আবার জাতিসংঘের তথ্য মতে, এই ১৬ কোটি মানুষের জন্য চাষ করার মতো জমি রয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০০০ সাল পরবর্তী ১২ বছরে প্রতি বছর ৬৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর আবাদি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে।

 বাংলাদেশ ছোট্ট একটি ভূ-খন্ড অথচ জনসংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এখনই মাথাপিছু আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ অতি সামান্য। তারপরও যদি কৃষি জমি দ্রুত হারে কমতে থাকে, তাহলে এই জনসংখ্যার খাদ্যের জোগান দেওয়া এক সময় কষ্টকর নয়, রীতিমতো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা নির্মাণে ব্যবহারের কারণে প্রতিদিনই কমছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। একই ভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হারিয়ে যাচ্ছে জলাভূমি।

 এসব জলাভূমি ভরাট করে ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শহরতলি কিংবা গ্রামে অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, নগরায়ণ, শিল্পকারখানা, নগরায়ন, ইটভাটা তৈরি, পুকুরদীঘি খনন, মাছ চাষ ও নদী ভাঙনের ফলে ক্রমাগতভাবে প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি হারিয়ে যায়। দেশের জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই ভূমির ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। কৃষি জমির রূপান্তর বা ভিন্ন কাজে ব্যবহারে শুধু শাস্তির বিধানই যথেষ্ট নয়, ভূমির কোনোরূপ পরিবর্তন বা ক্ষতি হলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিধানও ভূমি রক্ষা আইনে থাকতে হবে। আমরা আশা করি কৃষি জমি রক্ষা ও পরিকল্পিত জনবসতি নির্মাণের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন এবং তা যথাযথভাবে যেন পালিত হয়- সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া

সরকারি পর্যায় থেকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পরও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা যাচ্ছে না। সারা দেশে পঞ্চম শ্রেণি পড়ূয়া ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী এবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে বসছে। তবে এবারের সমাপনীতে উদ্বেগের বিষয় হলো পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ কমে গেছে। এ পরীক্ষায় গত বছর মোট ৩২ লাখ। ৩০ হাজার ২৮৮ জন অংশ নিয়েছেন। সে হিসেবে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে এক লাখ ৩৪ হাজার ২১৩ জন। ২০১৫ সালে ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন পঞ্চমের সমাপনীতে বসেছিল। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে একটি জাতির ভিত্তি স্তর। দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক।

 বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষা উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, খাদ্য ব্যবস্থাসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে সরকারের এমন পদক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও ঝরে পড়ার ঘটনা কোনো মতেই কাম্য নয়। ঝরে পড়া রোধ করতে হলে অবিলম্বে দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করা অপরিহার্য। শিক্ষা সুযোগ নয়, অধিকার। একটি জাতির সফলতা-ব্যর্থতা, উন্নতি-অগ্রগতি অনেকাংশেই নির্ভর করে সে জাতি কত বেশি শিক্ষিত তার ওপর। প্রাথমিক শিক্ষাস্তর থেকে ঝরে পড়া রোধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এটাই প্রত্যাশা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

নদীগুলোর নাব্যতা ফেরাতে হবে

দখল ও দূষণে দেশের অনেক নদী মৃতপ্রায় খালে পরিণত হলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। দেশের পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই আমরা সংবাদ দেখি যে নৌ-পথগুলো নাব্যতার সংকটে পড়েছে। সারা দেশে বিস্তৃত যে নৌপথ রয়েছে সেগুলোকে সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখার ব্যবস্থা খুব কমই নজরে আসে। ড্রেজিং ও নদী শাসনের মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা করার কার্যকর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না গেলে জীববৈচিত্র্য সহ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর স্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এর ক্ষতিকর প্রভাব শস্য উৎপাদন সহ গোটা কৃষি উৎপাদনের ওপর অনুভূত হবে। নদীগুলোর পানি প্রবাহের ওপর বেঁচে থাকে যেসব খাল সেগুলোও বুজে যাবে। এসব নদী আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখতেও সাহায্য করে।

 রাজধানীর চারপাশ ঘিরে আছে চারটি নদী -বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু। দখল আর দূষণের শিকার হয়ে নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। নদী দখলরোধে উচ্চ আদালত থেকে বার বার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে অনেক লেখালেখিও হয়। কিন্তু, কাজের কাজ প্রায় কিছুই হয় না। কয়েকদিন আগে সহযোগী একটি দৈনিকের রিপোর্টে দেখা গেছে, গত সাত বছরে রাজধানীর এক-তৃতীয়াংশ খাল দখলের কবলে পড়েছে। এ কারণে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতেই রাজধানীর অলিগলি থেকে রাজপথ জলজটের কবলে পড়ছে। উচ্চ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত নির্দেশনায় নাগরিক ভোগান্তি ও উদ্বেগই প্রতিফলিত হয়েছে।

নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার সঙ্গে পরোক্ষভাবে বন্যার পানিকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা, মানুষের জীবন ও জীবিকাকে স্বাচ্ছন্দ ও জীববৈচিত্র্যকে অক্ষুন্ন রাখা, দেশকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করার মতো বহুবিধ জাতীয় বিষয় জড়িয়ে আছে। এ জন্যই নদ-নদীকে বাংলাদেশের প্রাণ বলা হয়ে থাকে। দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হলে ড্রেজিং ও নদী শাসনের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সেটা ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না- সেটা শীর্ষ পর্যায় থেকে মনিটর করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

সংলাপেই সংকটের সমাধান

নির্বাচনকালীর সরকার নিয়ে বড় দু’দলের বিপরীতমুখী অবস্থান আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ১ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় খালেদা জিয়ার বক্তব্য থেকে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে। সাংবিধানিক কারণেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অবস্থানও আগে থেকেই পরিষ্কার। বড় দুটি দলই অনঢ় এ ইস্যুতে। সংকট এখানেই। এ পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থেই বিপরীতমুখী অবস্থান থেকে দু’দলকে সরে আসতে হবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। তাদের অভিমত, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দু’দলের নেতাদের আলোচনার বৈঠকে বসতে হবে। সেখানেই আলোচনা হবে। সমাধানে আসতে হবে। এসবের মধ্য দিয়ে সবার অংশগ্রহণে অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বের হয়ে আসবে বলে তারা মনে করেন।

 সংঘাতময় পরিস্থিতিতে না গিয়ে সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারিনি বলেই বারবার ও সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধান করতে হলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু রাজনৈতিক নেতা কর্মি নয় আমাদের মনে হয় জাতীয় নানা প্রশ্নে রাজনৈতিক দল-মত নির্বিশেষে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা উচিত। সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। জনগণ দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়।  তারা চাননা দেশে নির্বাচন নিয়ে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক।

 এ জন্য দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে একটি সমঝোতায় আসা উচিত। এটা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর। এ জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে সমাধানে পৌছার ইচ্ছা থেকে খোলা মন নিয়ে আলোচনায় বসা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য সে রকম কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়নি। সব আমলেই এমন দৃশ্য আমাদের দেখতে হয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতি হওয়া জরুরি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ন্যুনতম শ্রদ্ধা রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হোক – এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের প্রত্যাশা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

খাদ্য পণ্যের অস্বাভাবিক দাম

সরবরাহ স্বাভাবিক। এরপরও দেশে বেসামাল হয়ে উঠেছে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, সবজি সহ নানা ধরনের নিত্য পণ্য। পুরনো সেই শক্তিশালী কারসাজি চক্রের (সিন্ডিকেট) সৃৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য নেই তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। ফলে অধরাই থেকে যাচ্ছে ওই চক্রটি। এসব পণ্য কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের নাগালে আসছে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্তদের আয়ের সব টাকা চলে যাচ্ছে খাওয়ার খরচে। তবে এর দায় নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কেউ। পণ্য সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। তবে দাম বেশি, তা মানতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

 অর্থনীতিবিদরা বলেন, পণ্যের মূল্যের বিষয়টি নজরদারির দায়িত্ব সরকারের। যে কোনো ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চলে গেলে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়। তাই ভোক্তার সুরক্ষা দিতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দরকার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে দেয়া। কিন্তু দেশে সেটি হচ্ছে না। কিছু ব্যক্তির গোষ্ঠীর হাতেই নিত্য পণ্য নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশে মুক্ত বাজার অর্থনীতি থাকলেও সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও থাকে। বাংলাদেশেও এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। এর জন্য দায়িত্বশীল  প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সুফল দেয়, তার জন্য টিসিবির সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি। এক বছর ধরেই দেশে পণ্যের দাম বাড়ছে।

 বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মূল্যস্ফীতির রিপোর্টে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা আগের তিন মাসের চেয়ে দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। সংস্থাটি বলছে চালের কারণেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পণ্য মূল্যের ওঠানামা বাজারের ধর্ম। কিন্তু দাম যখন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে তখনই জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। তাই এটা দূর করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের একাধিক সংস্থা রয়েছে। কিন্তু সেগুলো তেমনভাবে কার্যকর নেই। অসৎ পন্থার মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে যারা, তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিখোঁজ

এবার নিখোঁজ হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সহকারি অধ্যাপক মুবাস্বার হাসান সিজারকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের এ টু আই প্রকল্পের একটি সভায় অংশ নিতে ওই দিন তিনি আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার পরই নিখোঁজ হন।

পুলিশ বলছে, মুবাস্বারের সন্ধানে তারা তদন্ত শুরু করেছে। এ নিয়ে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আড়াই মাসে রহস্যজনক ভাবে ৯ জন নিখোঁজ হলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত ৬ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০১৬ সালে ৯০ জন গুম হয়েছেন। আর ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে গুম হয়েছেন ৪২ জন। অপহরণের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।

 শিক্ষক মুবাস্বারের নিখোঁজ ঘটনা সম্পর্কে আমরা অন্ধকারে আছি। ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আমরা শুধু কয়েকটি দিক নিয়ে সন্দেহ করতে পারি। যেমন- তিনি জঙ্গি বিষয়ে গবেষণায় জড়িত ছিলেন, হয়তো সে কারণে তাদের টার্গেট ছিলেন তিনি। অথবা পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব আছে কি-না, সেটা দেখা উচিত। অথবা আবার কোনো বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে থাকতে পারে। এমন আশংকাও করছে কেউ কেউ। আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে তার নিখোঁজের কুল-কিনারা হোক।

আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যেভাবে একের পর এক নিখোঁজের ঘটনা ঘটছে তা বিশ্লেষণ করে, এসব ঘটনার নেপথ্যে কারা তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন। এটা যাদেরই অপকর্ম হোক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দুর্বৃত্তদের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে, আর তা না হলে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে- যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।    

 

এই বিভাগের আরো খবর

জলবায়ুর ক্ষতি পূরণ

জার্মানিতে বন শহরে চলছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। এ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলো জানতে চাইছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার অর্থ কোথা থেকে আসবে। বাংলাদেশ সহ কয়েকটি দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হলেও এর কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতি বৃষ্টি, সাইক্লোন, ঘূর্নিঝড়, বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের মুখে পড়ছে দেশগুলো। প্রতিটি দুর্যোগের পর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রতিটি দেশকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোর প্রশ্ন হচ্ছে, শিল্পোন্নত দেশগুলো যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত দায়ী, তাই তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। এই লক্ষ্যে ২০১৩ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে লস এ্যান্ড ড্যামেজ নামে একটি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সহ শিল্পোন্নত দেশগুলো এর বিরোধিতা করে আসছে। কারণ এতে সমর্থন দিলে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে এই আশংকায় আছে দেশগুলো।

 দুর্যোগের পর ব্যয় মেটাতে উন্নত দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোকে বিমা সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে করে দুর্যোগের পরপরই প্রাথমিক খরচ মেটানো সহজ হবে বলে মন করছে উন্নত দেশগুলো। তবে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, ভর্তুকি না দিলে দরিদ্র দেশের পক্ষে বিমার প্রিমিয়ামের টাকা দেওয়া সম্ভব হবে না। তা ছাড়া যে সব দুর্যোগ অনেক দিন ধরে ঘটে, যেমন খরা, তার ক্ষতিপূরণ বিমার আওতায় পড়বে না।

 ওদিকে বিমা ছাড়াও ক্ষতিপূরণের উৎস হিসেবে আরও কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেমন- জীবাশ্ম, জ্বালানি কোম্পানি, এয়ার লাইন্স ও শিপিং কোম্পানির উপর কর নির্ধারণ বৈশ্বিক কার্বন কর এবং আর্থিক লেনদেনের উপর কর বসানো ইত্যাদি বনের জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ২০৩০ সালের পরিবর্তে ২০২০ সালের মধ্যেই কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ যে চরম জলবায়ু অবিচারের শিকার তা বিশ্বকে লাগাতারভাবে জানান দেওয়ার মূল দায়িত্ব আমাদেরই।

এই বিভাগের আরো খবর

মায়ানমারকে চাপ দিন-সিপিএ

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিঃশর্তভাবে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। সেখানে তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন, নিরাপত্তাসহ পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে গৃহীত সর্বসম্মত বিবৃতিতে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। বিবৃতিতে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশ সহ সকল দেশগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতিটি উত্থাপন করা হয়।

পরে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সম্মেলন থেকে বিবৃতিটি সিপিএভুক্ত সব পার্লামেন্ট, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পাঠাতে সিপিএ সেক্রেটারি জেনারেলকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারে উদ্বেগজনক ঘটনা অব্যাহত থাকলে সিপিএ’র পরবর্তী সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনে তা উত্থাপন করতে বলা হয়েছে।

 মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর চড়াও হওয়ার কারণেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো পক্ষ না হলেও সরকার তথা দেশের মানুষের ওপর চেপে বসেছে শরণার্থী। আগে থেকে থাকা ৫ লাখ ও নতুন করে আসা ৪-৫ লাখ বিপদগ্রস্ত মানুষের খাদ্য ও আশ্রয় জোগাতে বাংলাদেশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। কালবিলম্ব না করে আনান কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তাদের রাখাইনে মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করাই যৌক্তিক সমাধান। আর তা জাতিসংঘ তথা বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্ভব নয়। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সিপিএ ভুক্ত সকল দেশসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহবান জানাই।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিদেশে অর্থ পাচার

বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে বছরে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনা ঘটছে। সরকারের দায়িত্বশীল অন্তত ৮টি সংস্থার ব্যাপক নজরদারি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নানা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না হুন্ডি ব্যবসা। বরং বিদেশ গমন, চিকিৎসা ব্যয় মেটানো, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, বৈদেশিক কেনাকাটা থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার নানা ক্ষেত্র এখন হুন্ডির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা লেনদেন সহজীকরণ, ব্যাংকগুলোর নানা সেবামূলক ব্যবস্থাপনাও হুন্ডি বাণিজ্যকে রোধ করতে পারছে না। নন-ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচারের প্রধান উপায়ই হচ্ছে হন্ডি। একটি জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে হুন্ডির এমন চিত্র উঠে এসেছে। হুন্ডির টাকা সোনাসহ বিভিন্ন চোরাচালানে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভারইনভয়েসিং করেও দেশ থেকে দেনার অর্থ পাচার করছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের টাস্কফোর্সও অতীতে এমন অনেক ব্যবসায়ীর অর্থ পাচারের প্রমাণ পেয়েছে। দেশে মুদ্রা পাচার বিরোধী অনেক কঠোর আইন আছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। বিগত ৩০ বছরে রাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি বাজেটের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। লুটেরা চক্রের সদস্যরা হুন্ডির মাধ্যমেই এ অর্থ লুটে নিয়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছেন। অনেকেই ইউরোপের দেশে দেশে নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানেই ফেঁদে বসেছেন শত শত কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য। লুটে নেওয়া অর্থ দেশের শিল্প-বাণিজ্যে ব্যবহার করলে ৮০ লক্ষাধিক বেকারের কর্মসংস্থান হতো। আমরা আশা করব, বিদেশে অর্থ পাচার রোধে সরকারি সংস্থাগুলো যা যা করণীয়, তা অবশ্যই পালনে সক্রিয় হতে। পাশাপাশি পাচার রোধে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতাও দ্রুত বাড়াতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

নিয়ন্ত্রণহীন বাজার

মানুষের সাধ্যের সীমা অতিক্রম করতে চলেছে নিত্য পণ্যের দাম কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর হিসেবে গত আট বছরে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৭১ শতাংশ। চালের দাম অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে অনেক আগেই। দেশে খাদ্যাভাব না থাকলেও অধিক মূল্য সাধারণ মানুষের জন্য উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু চাল নয়, সবজির বাজারেও আগুন ধরিয়েছে। শাক সব্জি, মাছ সবকিছুরই দাম চড়া। এ বছরে শুরু থেকেই বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। এক সময় মোট চালের দামও চলে যায় সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

 মোটা চাল ৫৬-৬০ টাকা কেজি এখন। সরু চাল ৭০ উর্ধ্বে এখন। জীবন যাত্রার ব্যয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা তখনই নেতিবাচক হয়ে দাঁড়ায়, যখন আয় বাড়ার ক্ষেত্রে থাকে সীমাবদ্ধতা। জীবন যাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়লেও আয় বৃদ্ধি না পাওয়ায় দেখা দিচ্ছে জন অসন্তোষ। কর্মসংস্থানের গতি স্তিমিত হয়ে পড়ায় লাখ লাখ যুবক বেকার জীবন যাপন করছে। বিশেষত শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্ব সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। ব্যবসায় এখন নীতি-নৈতিকতা নেই বললেই চলে। সুযোগ পেলেই কোনো না কোনো অজুহাতের কথা বলে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

 যেমন এখন বলা হচ্ছে, এবার বন্যার কারণে শাক সব্জির উৎপাদন কমে গেছে। তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। ব্যবসায়ীদের এই কথাগুলো যে আদৌ সত্য নয়, সংবাদপত্রে প্রকাশিত নানা খবরে তা উঠে এসেছে। দাম বেশি হলেও বাজারে কোনো পণ্যেরই কোনো ঘাটতি নেই। পাইকারি বিক্রেতা বা ফড়িয়ারা কৃষকদের কাছ থেকে  কম দামে পণ্য কিনে চড়া দামে বিক্রি করে। তার অর্থ, এই দাম বাড়ার কারণে কৃষকরা কোনোভাবেই লাভবান হচ্ছে না। খুচরা বাজারে বিক্রেতাদের লাভ ও লোভের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাজারে তদারকি ব্যবস্থা কঠোর করতে হবে। অযৌক্তিক মুনাফাকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যে কোনো মূল্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কর ফাঁকির প্যারাডাইস পেপার্স

পানামা পেপারসের পর এবার বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদ গড়ার তথ্য ফাঁস করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে প্যারাডাইস পেপারস। রোববার মধ্যরাতে নতুন করে ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে এসেছে ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই মন্ত্রী ও প্রধান অর্থ উপদেষ্টা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রডোর বড় তহবিল দাতা সহ বিশ্বের অনেক ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতা ও অতি ধনীদের নাম।

 এরই মধ্যে ৪৭ দেশের ১২৭ জন রাজনৈতিক নেতার নাম এ তালিকায় যোগ হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪জনই বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান। এ ছাড়া রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ এবং ভারতের মোদি সরকারের বিমানমন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা, তারকা অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনসহ ৭১৪ জন ভারতীয়। অ্যাপল, নাইকি ও উবার সহ প্রায় ১০০টি বহুজাতিক কোম্পানির কর পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্যও উঠে এসেছে এসব গোপন নথিতে। এর আগে গত বছর পানামা পেপারস ফাঁসে নড়ে চড়ে বসেছিল গোটা বিশ্ব।

 এর জের ধরেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে বিদায় নিতে হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পদত্যাগ করেছেন প্রভাবশালী রাজনীতিকরা। প্যারাডাইস পেপারসের পানি কত দূর গড়ায়, এখন দেখার বিষয়। করের হাত হতে বাঁচতে দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানে অর্থ খাটিয়েছেন এই আলোচিত বিত্তশালীরা। কর দিতে হয় না বা নামমাত্র কর দিয়ে বিনিয়োগ করা যায় এমন স্থানগুলোই বেছে নিয়েছেন তারা। পানামা পেপার্স ও প্যারাডাইস পেপারস এই দুই কেলেংকারি থেকে আমরা সবাইকে এই শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দেই-অপকর্ম কখনও চাপা থাকে না। কর-স্বর্গ বা ট্যাক্স হেভেনের কারিকুরির তথ্য আরেকবার উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপি সাধারণ মানুষের দাবি কর ফাঁকি দিয়ে যারা দেশের বাইরে গোপনে বিনিয়োগ করেন তাদের আইনামলে আনা উচিত।

এই বিভাগের আরো খবর

জলবায়ু বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণ আবশ্যক

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবেলা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার আন্তর্জাতিক প্রয়াসে দুই বছর আগে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন ভালোভাবে এগোচ্ছে না। ১৯৫ দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার দেওয়ার কথা উন্নত দেশগুলোর। অথচ প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করে দাতারা জলবায়ু তহবিলের অর্থ দিতে গড়িমসি করছে। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলে অবিশ্বাস ব্যক্ত করেন এবং তার দেশকে প্যারিস চুক্তি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

 চলতি বছর তিনি সিদ্ধান্ত জানালে ২০২০ সালে চুক্তি ত্যাগ কার্যকর হবে। আমেরিকার সরে যাওয়া হবে জলবায়ু মোকাবেলার ক্ষেত্রে বিশ্বের জন্য বিরাট আঘাত। তবে বিশ্বব্যাপী এবং আমেরিকায়ও প্রবল সমালোচনার মুখে ট্রাম্প এ বিষয়ে দোটানায় আছেন। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জার্মানির বন শহরে জলবায়ু সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিমাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন বিশ্ব বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সোচ্চার উচ্চারণ সর্বজনবিদিত।

১৯৯২ সালে জাতিসংঘের একটি কনভেনশনে শিল্পোন্নত দেশগুলোর অঙ্গীকার ছিল ২০০০ সালের মধ্যে নিজ নিজ দেশে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন শতকরা পাঁচ ভাগ কমিয়ে আনার। কিন্তু একটি দেশও ওই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। বরং প্রতি বছর তা আরও বেড়েছে। এতে এক তরফা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলো। এই নিস্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে সোচ্চার করার একটি দায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্তদের এমনিতেই বর্তায়। তবে বাংলাদেশ যে চরম জলবায়ু অবিচারের শিকার তা বিশ্বকে লাগাতারভাবে জানান দেওয়ার মূল দায়িত্ব আমাদেরই।

 

এই বিভাগের আরো খবর

হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ

সারাদেশে যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হ্ইাকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরিবেশ আইন অনুযায়ী শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে। পুলিশের আইজি, ট্রাফিক পুলিশ কমিশনারসহ চারজনকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগরে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

ওই রিটেরই সম্পূরক একটি আবেদনে সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, মোটর যান অধ্যাদেশ অনুযায়ী যানবাহনে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না, যা শব্দ দূষণ সৃষ্টি করবে। কিন্তু আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এই আদেশটি আমাদের জন্য খুবই স্বস্তিদায়ক।

 রাস্তায় বের হলেই যানবাহন চলাচল এবং হর্নের শব্দ, লাউড স্পিকার, এমপ্লিফায়ার জাতীয় যন্ত্রের শব্দ, কারখানার শব্দ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও বাড়ি নির্মাণের শব্দে আমরা প্রতিনিয়ত দূষণের শিকার হচ্ছি। শব্দ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্য এবং আচার-আচরণ উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রতিনিয়ত শব্দ দুষণের কারণে দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাত সহ অন্যান্য ক্ষতিকর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বের অন্যান্য শহরে শব্দ দূষণ করলেই আইনের দৃষ্টি এড়াতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল প্রভৃতি স্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে এসব নিয়ম খুব একটা মানা হয় না। বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। ২০০৬ সালের শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা তৈরি করা হয়। কিন্তু সবকিছু বিধিমালা দিয়ে হয় না। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। যদি কঠোর আইনের আওতায় শব্দ দূষণকারীদের আনা যায় তাহলে শব্দ দূষণের কুপ্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব। শব্দ দূষণ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই  শ্রুতিহীনতা সহ অন্যান্য শ্রবণ জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে না।

এই বিভাগের আরো খবর

মাদকের সর্বনাশা বিস্তার

   মাদকের ভয়ংকর থাবা দেশের তরুণ সমাজকে ক্রমেই গ্রাস করে ফেলছে। দেশের পত্র-পত্রিকার পাতা ওল্টালেই এমন ভয়াবহ চিত্র প্রতিদিনই দেখতে পাওয়া যায়। দেশের আনাচে-কানাচে পৌছে গেছে মরণ নেশা ইয়াবাসহ যাবতীয় মাদকদ্রব্য। আর তার প্রধান শিকার হচ্ছে কিশোর-তরুণেরা। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে সমাজে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে অভিভাবকরা যেমন শংকিত তাদের সন্তানদের নিয়ে, তেমন দেশের সচেতন প্রত্যেক মানুষ আজ এক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝে মধ্যেই ধরা পড়ছেন ছোটখাট মাদক ব্যবসায়ী।

 কিন্তু তারপরও থেমে নেই ইয়াবা বাণিজ্য। শুধু তরুণ-কিশোরই না, সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিও এ ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়েছেন বলে গণমাধ্যমেও ইতিপূর্বে খবর বেরিয়েছে। আমাদের মাদকের বিস্তৃতি কি আকার ধারণ করেছে তা বর্ণনাযোগ্য নয়। সমাজের প্রতিটা স্তরে পৌছে গেছে মাদক। সবচেয়ে আশংকার বিষয় হলো- আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ হিসাবে গণ্য করা হয় যে ছাত্র সমাজকে তারাও এই মরণ নেশার ছোবলের বাইরে নেই। বিশেষত সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মাদক সেবন একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।

 মাদক এখন সামাজিক মূল্যবোধের শেকড় আঁকড়ে ধরেছে। একে নিশ্চিহ্ন করা যেন দুস্কর। মাদকের এই ভয়াবহতা সমাজ রক্ষার জন্য বেশ আগে থেকেই গণমাধ্যমে লেখালেখি, সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান হলেও তা আসলে যেন অরন্যে রোদন মাত্র। কখনো কখনো দু-একটা ছিচকে মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়লেও পালের গোদারা থেকেছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এ ভাবে ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসা সমাজে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্ভাবনার অনেক ক্ষেত্রে মাদক ছোবল বসিয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে কথা হয়েছে বিস্তর। কিন্তু কাজের কাজ যে হয়নি তেমন কিছু বিদ্যমান পরিস্থিতি এরই সাক্ষ্যবহ। শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদক প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সোনা চোরাচালান রোধ করুন

প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো বিমান বন্দর কিংবা স্থলবন্দরে সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে। এতে চোরাচালানিরা ধরা পড়ছে আবার কখনও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গত শনিবার সকালে শারজাহ থেকে এয়ার আরাবিয়ার এক ফ্লাইটে আসা এক যাত্রী বিশেষ প্রক্রিয়ায় শরীরের ভেতর স্বর্ণের বার নিয়ে আসার সময় হজরত শাহ জালাল (রহ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে একজনকে গ্রেফতার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। যাত্রীর নাম সোহেল রানা। পরে পাসপোর্ট পরীক্ষায় গোয়েন্দারা জানতে পারেন, চলতি বছরে তিনি ৯ বার শারজাহ ভ্রমণ করেছেন। এতে অনুমান করা যায়, এর আগে ৯ বারই তিনি সফল হয়েছিলেন। দশম বার এসে আটকে গেলেন।

 চোরাচালানিরা বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান সময়ে আমাদের পাশের দেশ ভারতে সোনা আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপিত থাকায় এই বিমান বন্দরটি চোরাচালানের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি অন্যতম কারণ হলেও বাংলাদেশেও অনেক চালানের ঠিকানা হতে পারে, সেটি ভুললে চলবে না। এ দেশে সোনা আমদানি হয় না। বাংলাদেশে চোরাচালানির মাধ্যমে সোনা আনতে গিয়ে ক্লিনার থেকে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারি, এমনকি নিরাপত্তা কর্মি পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়ার নজির রয়েছে। গত কয়েক বছরে শুল্ক গোয়েন্দারা অবৈধপথে আসা অন্তত ২ হাজার কেজি সোনা জব্দ করেছেন। এ ছাড়া পুলিশ র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী ও সময় সোনা জব্দ করেছে।

 গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে বিমান বন্দরে মাঝে মাঝে সোনার চালান আটক হওয়াটা নাকি পূর্ব নির্ধারিত থাকে। সোনা চোরাচালানের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হয়। সোনা চোরাচালান দেশের অর্থনীতির জন্য যেমন সর্বনাশ ডেকে আনছে, তেমনই দুর্বৃত্তায়নের সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শোনা যায়, চোরাচালানিদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, গডফাদাররা এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। গুড়িয়ে দিতে হবে সিন্ডিকেট। জালে ফেলতে হবে গডফাদারদের। চোরাচালানিরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সিপিএ’র প্রস্তাব নিন

চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সিপিএ সম্মেলনে বিশেষ রেজুলেশন (সিদ্ধান্ত প্রস্তাব) গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) সম্মেলনে আগত প্রতিনিধিরা। প্রস্তাবটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন সিপিএ চেয়ারম্যান ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রোববার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের বিশেষ আগ্রহের প্রেক্ষিতে সিপিএ’র পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং এর আয়োজন করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই ব্রিফিং করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং শেষে সেখানে উপস্থিত স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ বিষয়ে সিপিএভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় ও আঞ্চলিক পরিষদে আলোচনা এবং মিয়ানমারের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির আহবান জানান।

 এ সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ)’র মতে সিপিএ সম্মেলনে একটি প্রস্তাব গ্রহণের অনুরোধ জানান। এরপর আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ১৮টি দেশের প্রতিনিধি সিপিএ চেয়ারপার্সনের প্রস্তাব অনুযায়ী রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে নিজ নিজ দেশের সংসদে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধানের দেওয়া প্রস্তাবের আলোকে সিপিএ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রস্তাব গ্রহণের পক্ষে একমত প্রকাশ করেন। ব্রিফিং এ আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, যে কোন বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী। রোহিঙ্গা সংকটটি মিয়ানমারের সৃষ্টি। তাদেরকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ৫ দফা প্রস্তাব রেখেছেন। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনে এ সমস্যা সমাধানে যৌক্তিক বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। সারা বিশ্ব যেভাবে সক্রিয় হয়েছে, তার ভিত্তিতে আশা করা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে। সিপিএ সম্মেলনে আগত দেশগুলোও এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে চান বলে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সিপিএ’র নেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তা সমাধানের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আইসিটির ৫৭ ধারা বাতিল হোক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারায় আদালতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। গত মঙ্গলবার দৈনিক সংবাদের কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি আনিসুর রহমানকে এই আইনে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার আইসিটির ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রৌমারীর স্থানীয় সাংবাদিকরা জানায়, মূলত এলাকার প্রভাবশালী ভ’মি দস্যুদের সঙ্গে যোগসাজসেই পুলিশ দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধি আনিসুর রহমানের নামে ৫৭ ধারার একটি মামলায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্তর্ভূক্ত করেছে।

 রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার মামলায় প্রকৃত আসামী সুমনের বিরুদ্ধে একমাস আগে মামলা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করে এক মাস পর সাংবাদিক আনিসুর রহমানের নাম ওই মামলায় যুক্ত করে তাকে গ্রেফতার করেছে। আনিসুর এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ভূমি জবরদখলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে এলাকার প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা ক্ষিপ্ত ছিল। বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সাংবাদিক সমাজকে ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা চায়।

 সিনিয়র সাংবাদিক এবং সম্পাদকরা বলেছেন, মানহানির জন্য দন্ডবিধিতে পৃথক ধারা থাকার পর তথ্য প্রযুক্তি আইনে মানহানির জন্য কোন ধারার প্রয়োজন নেই। খোদ সরকারি মন্ত্রীরা বারবার আশ্বস্ত করেন যে হয়রানিমূলক ৫৭ ধারা থাকবে না। কিন্তু সে আশ্বাস কখনও বাস্তবের মুখ দেখেনি। অপরাধ করলে সাংবাদিকদের শাস্তি হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা অপরাধের শাস্তির জন্য আইনের উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তি ক্ষেত্রের পরিবেশ জনসাধারণদের জন্য নিরাপদ রাখা। সেটা যদি গণমাধ্যম দমনে ব্যবহৃত হতে থাকে তবে আইনটিই লক্ষ্যচ্যুত। আমরা ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানাই।

এই বিভাগের আরো খবর

মালয়েশিয়া থেকে সুবাতাস

মালয়েশিয়ার বাজারে আবারও জনশক্তি রপ্তানি জোরে সোরে শুরু হওয়ার খবর নি:সন্দেহে এক স্বস্তিকর ঘটনা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছিল স্থবিরতা। ২০০৭ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ থেকে কর্মি নেয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এরপর দীর্ঘ চারবছর বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে কোনো জনশক্তি রফতানি হয়নি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মালয়েশিয়ায় কর্মি পাঠানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়। এর আগে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাতে গিয়ে নৌকাডুবিতে বহু মানুষের প্রাণ গেছে। অনেকে মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের কারাগারে স্থান হয়েছে, তাদের গহিন জঙ্গলে খাদ্য পানি ছাড়া লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। এখন সে অবস্থার অবসান হয়েছে।

 বাংলাদেশ থেকে এখন মালয়েশিয়ায় কর্মি রপ্তানি হচ্ছে জিটুজি পদ্ধতিতে, যা অত্যন্ত নিরাপদ। অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতিদিন ৭০০-৮০০ কর্মির ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে কর্মি যাওয়ার সংখ্যা আরো বাড়বে। জুলাইয়ে সেখানে কর্মি গেছে সাত হাজার ৫০০ জন। আগস্টেই এই সংখ্যা দ্বিগুণে পৌছেছে। বিশ্বে এখন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকের বাজার বন্ধ রয়েছে।

 সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে এমনিভাবে বাজার খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে এটিই প্রত্যাশা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের জন্য শ্রম বাজারের পথ মসৃণ ও বিস্তৃত হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন গতিশীল হবে। জনশক্তি রফতানির নামে যে তুঘলকি কান্ড চলছে এর মূলোৎপাটন করতে হবে। বৈদেশিক শ্রম বাজার যাতে কোনো মতেই হাতছাড়া না হয়, সে ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতা সহ নানা ধরনের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top