রাত ১২:১৬, শুক্রবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। অধিকাংশ সবজিরই কেজিপ্রতি দাম ৬০ টাকার ওপরে। গতকাল শুক্রবার  কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা ও মূলা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট (২০০/২৫০ গ্রাম) ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ টাকা এবং লাল শাক ও ডাটা শাকের আঁটি ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ৫০ টাকা ও ১০০ গ্রাম ধনেপাতা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আবুল খায়ের বলেন, ‘সব কিছুর দাম বেশি। এতো দাম দিয়ে কি কেনা যায়! পেঁপের দামটাই একটু কম আছে। এজন্য দুই কেজি পেঁপে কিনে নিয়েছি’। সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ মুহসীন বলেন, ‘আমরা যে দামে কিনি, সে অনুসারে বিক্রি করি। আড়তে সবজির পাইকারি দাম বেশি’। এক-দেড় মাসের মধ্যে শীতকালীন শাক-সবজি আসতে শুরু করলে দাম কমে যাবে বলে আশা করেন এ বিক্রেতা। চরা বাজারে মরিচের সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে এবার বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম।

পাইকারি ও খুচরা বাজারে সমানভাবে দাম বেড়েছে এ দুই পণ্যের। কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ১৫-২০ টাকা ও আদায় বেড়েছে ২০ টাকা। তরকারির নিত্যসঙ্গী এ দু’টি পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচ পড়ছে ক্রেতার। ডিমের দাম হালিতে তিন টাকা ও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে সামান্য বেড়েছে। তবে চাল, ডাল ও রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।  বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। তবে সেজন্য কয়েকদিন অপো করতেই হবে।

মিরপুর-৬ নম্বরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ কিনতেই মুখ বেজার হচ্ছে ক্রেতাদের।   এ বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, ভারতের পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি আদা ১৬০ টাকা ও ভারতের আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও ভারতের পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে।

পাইকারিতে দাম বাড়ায় প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেওএক সপ্তাহ আগে দেশি আদার কেজি ১৪০ টাকা ও আমদানি করা ভারতের আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়।    ক্রেতা মিরপুরের আনোয়ার হোসেন বলেন, মরিচের দাম বাড়ছে। এখন যদি পেঁয়াজেরও দাম বাড়ে, তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হবে। পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, দেশি রসুনের কেজি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 ভারতের বড় রসুনের কেজি ১৪০ টাকা। এ দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে।অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি মসুর ডাল ১০০ টাকা, মোটা চাল ৫০ টাকা ও চিকন চাল ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে। মুরগি বিক্রেতা স্বপন জানান, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ বধানে বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম।

ছবি: ইসমাইল হোসেন  টাকা, দেশি কক ৩৫০-৪০০ টাকা ও পাকিস্তানি কক ২০০ টাকা। ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে প্রতি সপ্তাহেই এ দাম হেরফের হয়ে থাকে বলেও জানান স্বপন। ব্রয়লার মুরগির সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে ডিমের দামও। ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন জানান, ডিমের হালি ২৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।  গরুর মাংস ৪৯০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা ও কাতল মাছ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এ বাজারে।

 

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের ‘সহায়তা নেবে’ বাংলাদেশ

মিয়ানমারে থেকে আসা রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এই সহায়তার পরিমাণ ও ধরণ কী হবে- তা ঠিক হবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বুধবার বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিন বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

 তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বিশ্ব ব্যাংকও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে চায়, সহায়তা করতে চায়।

“আমরা তদের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা কী পরিমাণ সহায়তা দেবে, সে সহায়তার কতোটা অনুদান হবে; কতোটা  ঋণ হবে, না পুরোটাই ঋণ হবে তা তা আমরা দুপক্ষ বসে ঠিক করব।”

মুহিত জানান, শিগগিরই বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে যাবে। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি -আইডিএ ‘রিফিউজি ফান্ড’ নামে নতুন একটি তহবিল গঠন করেছে, যার উদ্দেশ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শরণার্থীদের সহায়তা দেওয়া।

এই তহবিলের আকার ২০০ কোটি ডলার। যে কোনো দেশ প্রয়োজনে সেখান থেকে তিন বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ডলার ঋণ নিতে পারে। তবে সেজন্য সুদ দিতে হয়। মোট অর্থের একটি অংশ বিশ্ব ব্যাংক অনুদান হিসেবেও দিতে পারে।  

বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান চিমিয়াও ফান গত ২৭ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ওই তহবিল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ঋণ দেওয়ার বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন।

অর্থমন্ত্রী মুহিত সে সময় বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা সহায়তা করছে। বাংলাদেশ আশা করে, বিশ্ব ব্যাংকও সেখাবে সহায়তা দেবে, ঋণ নয়।

বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গাদের সহায়তার ব্যাপারে তারা খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।… বাংলাদেশ এই তহবিলের কী পরিমাণ পাবে; শর্ত কী হবে সেসব বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে।”

বিশ্ব ব্যাংক সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা  বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য আমরা সম্মান জানাই এবং প্রশংসা করি। আমরা বাংলাদেশের সহায়তার জন্য যা করা সম্ভব তার পুরোটাই করব। আমাদের একটি রিফিউজি সহায়তা উইনডো আছে; সেখান থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারলে আমরা সম্মানিত বোধ করব।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে ‘যৌক্তিক বিবেচনার’ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পরে বিশ্ব ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভার সামাল দিতে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে এবং বিশ্ব ব্যাংক এই সঙ্কটে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছে।

ওই সহায়তার পরিমাণ কী হবে তা এখনও নির্ধারণ করা না হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং সড়ক অবকাঠামোর মত বিষয় এর আওতায় আসতে পারে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

অ্যানেট ডিক্সনকে উদ্ধৃত করে সেখানে বলা হয়, “আমরা আশা করব, রোহিঙ্গারা শিগগিরই তাদের দেশে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু তার আগে তাদের জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। এ জন্য যা করা সম্ভব তার সবই আমরা করব।”

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত দেড় মাসে প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের সহায়তায় জোর তৎপরতা চালাচ্ছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দাতা ও উন্নয়ন সংস্থা।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য বিশ্ব ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সমালোচনা হবে কিনা- এমন প্রশ্নে মুহিত  বলেন, “যে সহায়তা তারা দেবে সেটা অনুদান না ঋণ- তা তো এখনও ঠিক হয়নি। আর যদি ঋণ নিয়ে আমরা রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেই, তাতে দোষ কী? আমরা তো মানবতার জন্য এই কাজ করছি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি…। যারা সমালোচনা করবে তারা রাবিশ।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের এই সহায়তার কিছু অংশ যদি ঋণও হয়, তার সুদের হার হবে ‘খুবই সামান্য’। এটা নিয়ে ‘বিচলিত হওয়ার মত কিছু’ তিনি দেখছেন না।

সম্মেলনের প্রথম দিন

বিশ্ব আর্থিক খাতের এই দুই মোড়লের ছয় দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন শেষ হবে ১৬ অক্টোবর। সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে; যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।

সম্মেলনের প্রথম দিন বেশ ব্যস্ত সময় কেটেছে মুহিতের। বিশ্ব ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ছাড়াও আইএমএফের ডিএমডি মিতসুহিরো ফুরুসাওয়া এবং বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগী সংস্থা এমআইজিএ-এর ডিএমডি কিকো হোন্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

 

এসডিজি অর্জনে সহায়তা না পেলেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: মুহিত

করতোয়া ডেস্ক: বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা না পেলেও অভ্যন্তরীণ তহবিল গঠন করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাশের একটি হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়নের পথে এমডিজির শিক্ষা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এক সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জনে যে ধরনের অর্থ সহায়তা প্রয়োজন, তা পাবার কোনোই সম্ভাবনা নেই। তাই বলে কি আমরা থেমে থাকবো? নিশ্চয়ই না। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তহবিল গঠনের বহুবিধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছি। সামগ্রিক উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছি। অভূতপূর্ব সাড়াও পাচ্ছি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের কাছে থেকে। তবে এসডিজি অর্জনে অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতার প্রকাশ ঘটছে জানিয়ে মুহিত বলেন, এসডিজি অর্জনে এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একজন প্রধান মুখ্য সমন্বয়ক কাজ করছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগিতায় মিলেনিয়াম হিল্টন হোটেলের ডিপ্লোমেট বলরুমে এই সেমিনারের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ‘দি ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্ননেন্স (আইপ্যাগ)। স্বাগত বক্তব্য আইপ্যাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মুনীর খসরু বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সফলতার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হলে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ঘনিষ্ট সহযোগিতা তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে ইউএনডিপির প্রশাসক ও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ম্যাগডি মার্টিনেজ-সুলিমান বলেন, এমডিজি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে সাফল্য প্রদর্শন করেছে, তা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ, এমডিজির সাফল্য ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য এসডিজির চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ এবং এসডিজি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে উন্নয়ন অর্থনীতির ভূমিকা নিয়ে সেমিনারটিকে চারটি অধিবেশনে ভাগ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক, গবেষণাবিদ, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ ও বিশ্বের ১৬ জন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব সেশনগুলোতে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল থেকে প্যানেল আলোচক ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ও ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম।

ভবন ভাঙতে আরও ৭ মাস পেল বিজিএমইএ

ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বেআইনিভাবে নির্মিত ১৬ তলা বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে পোশাক রপ্তানিকারকদের এই সংগঠনকে আরও সাত মাস সময় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

ভবন ভাঙার জন্য আরও এক বছর সময় চেয়ে বিজিএমইএর করা আবেদনের শুনানি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের আপিল বিভাগ রোববার এ আদেশ দেয়।

রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর গত মার্চে বিজিএমইএর আবেদনে আপিল বিভাগ ছয় মাস সময় দিয়েছিল, যা শেষ হয় ১২ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকেই নতুন করে সাত মাস গণনা শুরু হবে।  

শুনানিতে বিজিএমইএর আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, “এটাই শেষ সুযোগ। এরপর আর সময় চাইবেন না। এর মধ্যে যা করার করবেন।”

আদালতে বিজিএমইএ-এর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী। অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ মামলায় হাই কোর্টে অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পালন করা মনজিল মোরসেদও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।  

জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যান্সার’ বলেছিল হাই কোর্ট। ওই ভবন অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় আপিলেও বহাল থাকে। পরে বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

রায়ের পর কার্যালয় সরিয়ে নিতে বিজিএমইএ তিন বছর সময় চাইলেও আপিল বিভাগ তাদের ছয় মাসের মধ্যে সে কাজ শেষ করতে বলে। সেই ছয় মাস সময় শেষ হওয়ার আগে আগে আরও এক বছর সময় চেয়ে গত ২৩ অগাস্ট আবেদন করে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সে সময় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেই আমরা চলে যাব। তবে নতুন ভবন সম্পন্ন হতে আরও এক বছর সময় লাগবে।”

নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাজধানীর উত্তরার ১৭ নাম্বার সেক্টরে অর্ধেক মূল্যে সাড়ে ৫ বিঘা বিজিএমইএকে বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ৭ সেপ্টেম্বর টাকা পরিশোধ করে সেই জমির দলিল বুঝে পেয়েছে বিজিএমইএ।

 

ভারতের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি

তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আরও সাড়ে চারশ কোটি ডলার ঋণ নিতে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ, রেলপখ, সড়ক, জাহাজ চলাচল, বন্দরসহ অবকাঠামো খাতে ১৭টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের বাস্তাবয়ন করবে বাংলাদেশ।

প্রথম দুটি লাইন অব ক্রেডিটের মত এবারও এই ঋণের জন্য বছরে ১ শতাংশ হারে সুদে দিতে হবে বাংলাদেশকে। ঋণ শোধে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর সময় পাওয়া যাবে।

বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তার আগে তারা বৈঠকও করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শফিকুল আযম এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকে (এক্সিম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাসকিনহা এই চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অরুণ জেটলি বলেন, গত সাত বছরে বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধি পেয়েছ। আর্থসামাজিক দিক দিয়ে ব্যাপকেউন্নয়ন করেছে।

“আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে আগেও পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। তারই ধারাবাহিকতায় এই বড় অংকের ঋণচুক্তি।” আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ভালো। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল। আগামীতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে বলে আশা করছি।”

চলতি বছর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের জন্য এই সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় অর্থমন্ত্রীর এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হল।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথম লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশকে একশ কোটি ডলার ঋণ দেয় ভারত। ওই ঋণের আওতায় নেওয়া ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ১২টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান।  

আর ২০১৬ সালে দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটে ভারত থেকে পাওয়া দুইশ কোটি ডলারের আওতায় নেওয়া ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছন তারা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ১১৩৮ কোটি ডলারের  ঋণচুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই হিসেবে ভারতের এই তৃতীয় এলওসি হচ্ছে বাংলাদেশের করা দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণ চুক্তি।

ভারতের অর্থমন্ত্রী এই সফরে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ ও ভারতীয় হাই কমিশন এই বক্তৃতার আয়োজন করেছে।

 

অরুণ জেটলি ঢাকায়

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ভারতের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছান ভারতীয় অর্থমন্ত্রী। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

বিমানবন্দর থেকে অরুণ জেটলিকে নিয়ে যাওয়া হয় সোনারগাঁও হোটেলে। এই সফরে তিনি সেখানেই থাকবেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় হোটেলেই এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের অর্থমন্ত্রীর।

ভারতের অর্থ সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই সফরে অরুণ জেটলির সঙ্গে রয়েছে।

এই সফরে তৃতীয় দফায় বাংলাদেশকে ভারতের ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হবে বলে সোমবার ভারতীয় দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের জন্য সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার দুই অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তৃতীয় দফার এই ঋণচুক্তি বাস্তবায়নে ‘ডলার লাইন অব ক্রেডিট’ চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই চুক্তি হলে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার পাওয়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষার জন্য দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে ‘যৌথ ব্যাখ্যামূলক নোটও স্বাক্ষরিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ভারতের অর্থমন্ত্রী এই সফরে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ ও ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে ‘ভারত সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উদ্যোগ’ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।

এছাড়া দুই অর্থমন্ত্রী যৌথভাবে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ‘ক্যাশলেস ভিসা সার্ভিস’ পরিচালনার নতুন সেবা এবং এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ঢাকা কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন।

এর বাইরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন অরুণ জেটলি ।

 

চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিতে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়

লাইসেন্স ছাড়া যারা চাল ও গমের ব্যবসা করছেন তাদেরকে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে যেসব ব্যবসায়ী লাইসেন্স নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) এবং অঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের (আরসি ফুড) নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

সচিবালয়ে সোমবার মাঠ পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খাদ্য কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে নোটিস জারি করবেন। আমরা ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করতে চাই না। এছাড়া কোন ব্যবসায়ী কতটুকু চাল ও গম মজুদ রেখেছেন তা নীতিমালা অনুসারে ১৫ দিন পর পর সরকারের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কামরুল বলেন, ১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব অ্যাসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী এক মেট্রিক টনের বেশি চাল ও গমের ব্যবসা যারা করেন খাদ্য অধিদপ্তর থেকে তাদের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমাদের আরসি ফুড ও ডিসি ফুডরা অজ্ঞতার কারণেই হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক, এতদিন এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন না, এই আইনটি তারা কার্যকর করেনি।

ওই আইন অনুযায়ী মিলারের পাশাপাশি আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদেরও (যারা এক টনের বেশি চাল-গমের ব্যবসা করেন) খাদ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। কামরুল জানান, আইন অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে একজন ব্যবসায়ী ৩০০ মেট্রিক টন ধান ও চাল ৩০ দিন পর্যন্ত মজুদ রাখতে পারবেন। ৩০ দিনের মধ্যে এই মজুদ বিক্রি না হলে রিপোর্ট করে জানাতে হবে। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চাল ও গমের ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স না নিলে জেলা প্রশাসক, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড় বড় ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা অন্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স আছে জানিয়ে কামরুল বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরকে বেশিরভাগ সময় তারা ইগনোর করেন। কিন্তু কন্ট্রোল অব অ্যাসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী অন্যান্য দপ্তরের লাইসেন্স থাকার পরও (চাল-গমের ব্যবসা করলে) আমাদের দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। চাল ও গম ব্যবসায়ীদের মজুদ শস্যের পাক্ষিক হিসাব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে দিতে হবে, এটা আইনে বলা আছে কিন্তু তারা সেটা করেন না। মজুদের পাক্ষিক হিসাব না দিলে এই আইনে তিন বছরের জেলসহ জরিমানার বিধান আছে। লাইসেন্স নিতে হবে এবং আমাদের পরিষ্কার পাক্ষিক হিসাব দিতে হবে। মিলার ও আড়তদাররা চালের দাম বাড়িয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করেছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ চাল বিভিন্ন গোডউনে ছিল, এখনও আছে।

আমি তাদের নাম বলতে চাই না। এরাই বিভিন্ন সময়ে সিন্ডিকেট করে তেলের দাম, চিনির দাম বাড়ায়। খবর পেয়েছি বিভিন্ন গোডাউনে তাদের এক লাখ, দুই লাখ, তিন লাখ বস্তা চাল মজুদ রয়েছে। আমাদের কাছ থেকে তারা লাইসেন্সও নিচ্ছে না। কামরুল বলেন, অকাল বন্যার সুযোগ নিয়ে একটি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল, ইনশাআল্লাহ আমরা সেই সংকট মোকাবেলা করতে সফলতার সাথে সক্ষম হয়েছি, সংকট সৃষ্টিকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। এই গোষ্ঠী যাতে আর কোনো দিন সংকট অবস্থা সৃষ্টি করতে না পারে, অপতৎপরতা না চালাতে পারে এজন্য আমরা আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়েছি। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ তাদের শনাক্ত করে তারা ব্যবস্থা নেবে। এক মাস পর আমন আসবে, কোনো সমস্যা আমাদের নেই। আমরা আমন সংগ্রহ করতে পারব। মজুদ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে, আর কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 

প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় বাংলাদেশের ৭ ধাপ অগ্রগতি

বিশ্বে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশকে আরও সাত ধাপ এগিয়ে এনেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। তাদের ‘গ্লোবাল কমপেটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৭-১৮’ বলছে, এবার ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ৯৯তম অবস্থানে। আগের বছর এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ ১০৬ এ পৌঁছেছিল।

চলতি বছরের শুরুতে চালানো জরিপের ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বুধবার বিশ্বব্যাপী একযোগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দাভোস ফোরাম নামে পরিচিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থা ২০০১ সাল থেকে এ প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে।

 

একটি দেশের অবস্থান বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, পণ্য বাজারের দক্ষতা, শ্রম বাজারের দক্ষতা, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, বাজারের আকার; বাজারের সংবেদনশীলতা এবং নতুন ধারণার প্রবর্তন- এই ১২টি মানদণ্ড ব্যবহার করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।

 

সব মিলিয়ে এবার বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ৩ দশমিক ৯, যা গতবছর ৩ দশমিক ৮ ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের স্কোর ৩ দশমিক ৮ ছিল। তার আগের তিন বছর ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭, ৩ দশমিক ৭ ও ৩ দশমিক ৬।  

সূচকের ১২টি মানদণ্ডের ভেতরে এবার প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, বাজারের আকার; বাজারের সংবেদনশীলতা এবং নতুন ধারণার প্রবর্তন- এই নয়টিতে বাংলাদেশের স্কোর বেড়েছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষা, পণ্য বাজারের দক্ষতা, শ্রম বাজারের দক্ষতা মানদণ্ডে স্কোর হয়েছে গতবারের সমান। কোনো মানদণ্ডেই এবার বাংলাদেশের অবনতি হয়নি।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যসায়ীরা দুর্নীতি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দক্ষ কর্মীর অভাবকেই বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

গতবারের মত এবারও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সূচকে শীর্ষস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, তাদের স্কোর ৫ দশমিক ৮৬। এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, হংকং, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ফিনল্যান্ড।

এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল পাকিস্তান ছাড়া সবাই আছে বাংলাদেশের উপরে।

এক ধাপ পেছালেও ভারতের অবস্থান এবার রয়েছে ৪০ নম্বরে। ভুটান ৯৭ থেকে উঠে এসেছে ৮২ নম্বরে। শ্রীলঙ্কা ৭১ থেকে পিছিয়ে ৮৬ তম অবস্থানে চলে গেছে। নেপাল ৯৮ থেকে এগিয়ে ৮৬তম অবস্থানে এসেছে। আর পাকিস্তান ১২২ থেকে উঠে এসেছে ১১৫ নম্বরে।   

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এবার মোটামুটি ভালো করলেও তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামোর উন্নয়ন এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

 

২০২৪ সালের মধ্যেই দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, জাতিসংঘ নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে বলে তিনি আশা করছেন। নাগরিকদের আয়কর দিতে উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-এসডিজি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু আমার হিসাব অনুযায়ী, আমরা ২০২৪ সালের মধ্যেই দারিদ্র্যমুক্ত হব।

মুহিত বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত মানে এই নয় যে দেশে তখন কোনো লোক গরিব থাকবে না। তখনও প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ দরিদ্র থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচনে এখন বাজেটে বরাদ্দ হয় জিডিপির ২ শতাংশের মত। সেটাকে আমরা অনবরত বাড়িয়ে যাচ্ছি। মিরপুর শপিং কমপ্লেক্সের কনভেশন সেন্টারে ‘আয়কর ক্যাম্প ও করদাতা উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সরকারের লক্ষ্য পূরণে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনাদের সহায়তা না হলে রাষ্ট্রটা সামনে এগোবে না। আপনারা যদি রাষ্ট্রের জন্য রসদ সরবাহ না করেন, কর না দেন, শুল্ক না দেন, মূসক না দেন তাহলে রাষ্ট্র আপনাদের কাছে সেবা পৌঁছাবে কীভাবে? চলতি অর্থবছর রেকর্ড চার লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া মুহিত আগামী অর্থবছরে সাড়ে চার লাখ বা তার কিছু বেশি টাকার বাজেট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।

সাংসদ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ অনুষ্ঠানে বলেন, যারা কর ও রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদের জন্য এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। এটা আরও কঠিন করা উচিৎ। আমরা যদি বেছে বেছে পাঁচ কোটি লোকের হিসাব অনলাইনে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যেই এটা সোনার বাংলা হয়ে যাবে। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, দেশে এখন রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি চালু হয়েছে, রাজস্ব সেবা ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের মানুষ কর দিচ্ছে বলেই সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের মত বড় প্রকল্প নিতে পারছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, এবার আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর আয়কর মেলা, ২৪ নভেম্বর থেকে আয়কর সপ্তাহ এবং ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস উদযাপন করা হবে।

চালের পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম কমছে

চাল মজুতে নজরদারিসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পর খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে এখন চালের সংকট নেই। বেশি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা আগেই চাল কিনে ফেলায় পাইকারি বাজারে চাল বিক্রি কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই। দাম আরও কমে যাবে। এক সপ্তাহ আগে মোটা চালের দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৫০ টাকা এবং সরু চালের দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত ওঠার পর সরকারের তিন মন্ত্রী মিলে চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের এক সপ্তাহ পর সোমবার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে চালের বাজারে ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক খবর মিলেছে।

পাইকারি বাজারে চিকন চালের দাম পাঁচ টাকা এবং মোটা চালের দামও পাঁচ থেকে সাত টাকা করে কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি সুবিধা বৃদ্ধি, মজুত ও বাজার মনিটরিংয়ের কারণে চালের দাম কমে এসেছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কেনা চাল বিক্রি হয়ে গেলে আরও কমে যাবে। চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিক লায়েক আলী বলেন, মিলে এখন আর চাল বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে কাস্টমার নাই। বিক্রি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, হয়তো বাজারে চালের অভাব নাই। মজুতের সাথে এমন কেউ ছিল যারা চাল বাজারে ছেড়েছে। নিঃসন্দেহে সাপ্লাই বাড়ছে। প্রোডাকশন তো থেমে নেই। মিলে কেনাবেচা নাই। একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি যাতে মজুত না হয় সেজন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীদের গুদামে অভিযান পরিচালনা করে বেশকিছু গুদাম সিলগালা এবং জরিমানা করেছে সরকার।

মজুত রাখার কারণে প্রশাসন উল্টো যেন ব্লেইম না দেয়, সেজন্য হয়তো মিল থেকে ব্যবসায়ীরা চাল কিনছে না বলে মনে করেন লায়েক আলী। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে এখন ৬১ টাকার সরু চাল ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আমদানির জন্য যারা এলসি খুলেছে আগের ৪৪ টাকা থেকে কমে ৪১-৪২ টাকায় এসেছে মোটা চাল। ঈশ্বরদী চাল ব্যবসায়ীদের নেতা খায়রুল ইসলাম জানান, বস্তায় ২০০ টাকা করে দাম কমেছে। কৃত্রিম সংকট ছিল। যখন দাম বাড়ে তখন সবাই কেনে। ভারত থেকে চাল আসবে না- এমন গুজবে দাম বেড়েছিল। এখন আমদানি হবে। সেজন্য দাম কমছে। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা জেলার সভাপতি আইয়ুব বাচ্চু  বলেন, সরকারের সাথে আমাদের মিটিংয়ের পর পাইকারি বাজারে খুব তাড়াতাড়ি দাম চালের দাম কমেছে। খুচরায় কমতে কিছুটা সময় লাগবে, কারণ বেশি দামে কিনে তো লোকসান দেবে না।

তিনি জনান, মোটা চাল বস্তা যেখানে আগে ২৪০০-২৫০০ টাকা ছিল তা কমে ২০০০-২১০০ টাকায় এসেছে। চিকন চালের বস্তা ২৬০০ থেকে কমে হয়েছে ২৪০০ টাকা। মিল থেকে আর এখন কেউ চাল কিনছে না দাবি করে আইয়ুব বাচ্চু বলেন, ১৫ টনের ওপরে মজুত রাখা যাবে না- এ ভয়ে হয়তো চাল কিনছে না। ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকির ভয়ে মজুত করছে না। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারের সাথে বৈঠকের পর এ পর্যন্ত কোনো চাল বিক্রি হয়নি বলে দাবি করেন বাচ্চু। তিনি বলেন, প্রতিদিন ১২০০ বস্তা উৎপাদন ও বিক্রি হলেও সেটা তলানিতে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ওই সভায় প্লাস্টিকের বস্তায় তিন মাস চাল আমদানি ও বিক্রি, বাজার মনিটরিং, আদমানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সারা দেশে ওএমএসের চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। চালের দাম আরও কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাচ্চু।

তিনি বলেন, আমদানিও বেড়ে গেছে। এখনও বাজারে চালের অভাব নাই। আর বাজারে ভর্তি ধান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এবার ধানের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বাজারে নতুন ধান চলে আসবে। ফলে আর কোনো অভাব হবে না। মজুত না হলে আর দাম বাড়বে না বলে মনে করেন আইয়ুব বাচ্চু। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে বিক্রি করা মিরপুর ১১ নম্বরে মেসার্স বেঙ্গল রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আবুল কাশেম দেওয়ান  বলেন, ৬০ টাকার মিনিকেট ৫৬ টাকা এবং ৫০ টাকার মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়। এখন বেচাকেনা খারাপ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আগে চাল কিনেছে সেগুলো বিক্রি করছে। নতুন কেনা চালে খুচরা বাজারে দাম আরও কমে যাবে।

প্রতিশ্রুতি দিয়েও চালের দাম কমাচ্ছেন না মিল মালিকরা!

করতোয়া ডেস্ক : মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সরকারকে পাইকারি বাজারে চালের দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মিল মালিক ব্যবসায়ীরা। গত মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের প্রেক্ষিতে কেজিপ্রতি দেশি চালে ২ থেকে ৩ টাকা ও ভারতীয় চালে ৫ টাকা করে দাম কমানোর কথা থাকলেও প্রতিশ্রুতি অনুসারে কমেনি।

শনিবার পুরান ঢাকার বাবুবাজার পাইকারি চালের আড়তে গিয়ে জানা গেছে, দেশি চালে ১ টাকা ও ভারতীয় চালে ২ টাকা করে কমেছে। মিল মালিকরা না কমানোয় বাড়তি দাম নামছে না বলে অভিযোগ পাইকারি ব্যবসায়ীদের। তাদের মতে, সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জবাবদিহিতা ও মনিটরিংয়ের অভাবে ইচ্ছামতো চাল বাজারে ছাড়ছেন মিল মালিকরা।

বাবুবাজারের আলেক চান রাইস এজেন্সির মো. শাহীনের অভিযোগ, ‘আগে ব্যবসায়ীরা শুধু ব্যবসা করতেন। কিন্তু এখন ক্ষমতার লোভে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সিন্ডিকেট গড়ছেন তারা। সরকারের কাছে দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েও কমাচ্ছেন না। ফলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে বাজারে। কিন্তু সরকারের সঠিক মনিটরিং ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকলে এর সমাধান হতো’।

তিনি আরও বলেন, ‘নওগাঁর রাইস মিল থেকে বাবুবাজারে চাল পৌঁছে দিয়ে যাবে এবং বস্তাপ্রতি দাম দিতে হবে ৩ হাজার টাকা। কেজিপ্রতি দাম আসে ৬০ টাকা। খুচরা বাজারে যেতে যেতে ওই চালের দাম হবে কেজিপ্রতি ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা। বাজারে এখন এ দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে’।
‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, পরবর্তী মৌসুমের আগ পর্যন্ত এ দাম কমানো আর সম্ভব না’।

তার অভিযোগ, সরকার জানে, কে কিভাবে মজুদ করছেন। সে অনুসারে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
দাম কমানো সম্ভব না বলেই মিল মালিকরা দাম কমাতে পারছেন না। তাই পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও কিছু করার নেই বলে দাবি করেন রাজিব এন্টারপ্রাইজের মাসুদ।

তিনি বলেন, এ বছর ধানের দাম মণপ্রতি ৯০০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যা অন্যান্য বছর থাকে ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। এখন আবার মিল মালিকরা ধান কিনছেন ১ হাজার ৪০০ টাকা প্রতি মণ হিসেবে। তাই দাম কমানো একেবারেই সম্ভব নয়। কারণ, ক্ষতিতে কেউ অবশ্যই ব্যবসা করবেন না।
তবে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে দাম আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আগামী অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান আসার পর দামের কিছুটা শিথিলতা আসতে পারে বলে মনে করেন বসুন্ধরা রাইস এজেন্সির বাহার।
তিনি বলেন, ‘সরকার দাম কমানোর পদক্ষেপ নিয়ে এখন আর কোনো লাভ হবে না। কোরবানির ঈদের আগে দাম কম ছিল। কিন্তু ঈদ শেষ হতে না হতেই এভাবে দাম বাড়ার কারণ সিন্ডিকেট ছাড়া আর কি হতে পারে?’

‘এসিআই, প্রাণ, তীরসহ অন্য বড় বড় কোম্পানিগুলো দুই থেকে তিনমাসের চাল একসঙ্গে মজুদ করে রাখে সবসময়। তারা চাইলে দাম কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা, তারা বর্তমান বাজারদর থেকে কম দামে চাল কিনেছিল’।

আরও ৫০ হাজার টন চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে একটি থাই কোম্পানির কাছ থেকে ৪৩৮ ডলার দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্যাকেজ-৪ এর আওতায় এই চাল কেনা হবে। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে থাইল্যান্ডের কোম্পানি মেসার্স সিয়াম রাইস ট্রেডিং প্রতি টন ৪৩৮ মার্কিন ডলার দরে মোট ১৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় এই চাল সরবারহ করবে। এলসি খোলার ৪০ দিনের মধ্যে চাল সরবারহ করতে হবে। হাওরে আগাম বন্যায় ফসলহানির পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই দফার বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া রোগবালাইয়ের কারণেও এবার ধানের ফলন অনেক কম হয়েছে। হাওরে ফসলহানীর পর থেকে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে চালের সরকারি মজুদ তলানিতে নেমে আসায় বাজার কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। বাজার সামাল দিতে চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে দুই শতাংশে নামিয়ে আনে সরকার। সরকারি মজুদ বাড়াতে চলতি অর্থ বছরে সরকারিভাবে ১৫ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশে চাল রপ্তানিতে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে চালের দাম ফের বাড়তে শুরু করে। গরিবের মোটা চালের কেজিও ৫০ টাকায় পৌঁছায়। এই পরিস্থিতিতে সরকার মঙ্গলবার চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে ‘কিছু সমস্যা’ মেটানোর আশ্বাস পেয়ে ব্যবসায়ীরা চালের দাম কমিয়ে আনার ঘোষণা দেন।

 

চালের দাম কমানোর ঘোষণা ব্যবসায়ীদের

সরকারের কাছ থেকে ‘বেশ কয়েকটি সমস্যার সমাধানের’ আশ্বাস পেয়ে চালের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলাবার সচিবালয়ে সরকারের তিনজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিশেনের সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী বলেন, “কাল থেকে চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা করে কমে যাবে।”

চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে চালকল মালিক, আমদানিকারক, আড়তদার, পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এই সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।

সাংবদিকদের উপস্থিতেতে সোয়া দুই ঘণ্টা আলোচনার পর চাল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তোফায়েল বলেন, “বাধা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

চাল আমদানি, উৎপাদন ও সরবারহে আগামী তিন মাস চটের বস্তার পরিবর্তে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “যে যেভাবে আনতে পারেন চাল আনবেন, প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার দুই তিন মাসের জন্য রিল্যাক্স করে দিয়েছি। যেভাবে চাল আনতে পারেন আনেন, কেউ বাধা দেবে না।”

এছাড়া ভারত থেকে ট্রেনে করে রোহনপুর দিয়ে চাল আনার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তোফায়েল।

দুই দফা বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি চালের মজুদ তলানিতে নেমে আসার প্রেক্ষাপটে সরকার গত অর্থবছরের শেষ দিকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। সেইসঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি উৎসাহিত করতে ২৬ শতাংশ থেকে শুল্ক নামিয়ে আনা হয় দুই শতাংশে।

সরকারি-বেসরকারি পর্যায় মিলিয়ে গত আড়াই মাসে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি হলেও বাজারে চালের দাম বাড়ছে, যার পেছনে মিল মালিকদের কারসাজিকে দায়ী করে আসছে সরকার।

সরকারি হিসেবেই মোটা চালের দাম গত এক মাসে বেড়েছে ১৮ শতাংশ, এক বছরে বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এখন বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো মোটা চাল নেই।

ধারাবাহিকভাবে চালের দাম বৃদ্ধির মধ্যে মজুদদারি বন্ধে প্রশাসন গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাইস মিলে অভিযান শুরু করে। কুষ্টিয়ার খাজানগরে বাংলাদেশ চালকল মলিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদের চালকলে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হয়।

কিন্তু রশিদকে জরিমানা করার পর এই কদিনে মিনিকেট চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চারশ টাকার মতো বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যান্য চালের দাম।

চালকলগুলোতে অভিযান চালাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়ার প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, “এখন যেহেতু আপনাদের সাথে বৈঠক হল, তাই আমি সংশ্লিষ্টদের বলছি, এখন যাতে কোনো ব্যবসায়ী হয়রানীর শিকার না হয়।”

পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে চাল পরিবহনে বিভিন্ন সমস্যা দূর করতেও সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেন বাণিজ্য মন্ত্রী। তার এই বক্তব্যের পর সভাকক্ষে উপস্থিত বেশ কয়েকজন চাল ব্যবসায়ী বলেন, দুই এক দিনের মধ্যেই চালের দাম কমতে শুরু করবে।

বৈঠকের পর বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিশেনের সভাপতি আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “ভালো একটি বৈঠক হয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যেই চালের দাম কমতে শুরু করবে।”

 

মিয়ানমার থেকে এক লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত

মিয়ানমার থেকে ৪৪২ মার্কিন ডলার দরে এক লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক ছিল। এরপরই এক লাখ টন আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

কত দিনের মধ্যে এই চাল আসবে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কেবল সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পেলে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগবে। এরপর এলসি খোলা হবে। তারপর চাল আসবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের জন্য মিয়ানমার সরকারকে দায়ী করে দেশটি থেকে চাল আমদানি না করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে আসছিল গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন। দুই দফা বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি চালের মজুদ তলানিতে নেমে আসার প্রেক্ষাপটে সরকার গত অর্থবছরের শেষ দিকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। সেইসঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি উৎসাহিত করতে ২৬ শতাংশ থেকে শুল্ক নামিয়ে আনা হয় দুই শতাংশে।

সরকারি-বেসরকারি পর্যায় মিলিয়ে গত আড়াই মাসে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি হলেও বাজারে চালের দাম বাড়ছে, যার পেছনে মিল মালিকদের কারসাজিকে দায়ী করে আসছে সরকার। সরকারি হিসেবেই মোটা চালের দাম গত এক মাসে বেড়েছে ১৮ শতাংশ, এক বছরে বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এখন বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো মোটা চাল নেই। বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) চালের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৩০ টাকা করেছে সরকার। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কামরুল বলেন, প্রথম দিনের চেয়ে সোমবার ওএমএস এ বিক্রি বেড়েছে, প্রতিটি ট্রাকের সামনে আগের দিনের চেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। কুষ্টিয়া ও বগুড়ায় বিভিন্ন মিলে অভিযান এবং ওএমএস চালুর ফলে আমরা লক্ষ্য করছি আজ বাজারে চালের দর একটু নিম্নমুখী। চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় সচিবালয়ে মিল মালিক, আমদানিকারক ও আড়তদারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন খাদ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

ওএমএস আতপ চালে অনীহা ক্রেতাদের

খাদ্য অধিদপ্তর স্বল্প দামে খোলা বাজারে বিক্রি শুরু করলেও আতপ চাল দেখে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এই অবস্থা দেখে ডিলাররাও আগ্রহ হারাচ্ছেন। প্রথম দিনে ঢাকায় ১০৯ জন ডিলার চাল-আটা সংগ্রহ করলেও সোমবার এই সংখ্যা ৯৪ জনে নেমে আসে। সারাদেশে ৬২৭টি ট্রাকে করে এমএসের চাল বিক্রি শুরু হয় রোববার। ঢাকা মহানগরীতে ১২০টি ট্রাকে তা বিক্রি হচ্ছে বলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান।

ঢাকায় চালের সঙ্গে আটাও বিক্রি হচ্ছে। তবে চালের দাম দ্বিগুণ করে ৩০ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। সোমবার কয়েকটি ট্রাকের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, চালের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না, তবে আটা বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা বলেন, আগে সিদ্ধ চাল যে দামে বিক্রি হত, এখন তার চেয়ে দ্বিগুণ দামে আতপ চাল কিনতে কেউই আগ্রহী হবে না। তবে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, আতপের মতো হলেও মানের দিক থেকে এটা সিদ্ধ চালের মতোই। মানুষ ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্থ হয়ে যাবে। বাজারে চালের দাম প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ৫৫ টাকায় পৌঁছায় শহরগুলোর সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য খোলাবাজারে চাল বিক্রির এই উদ্যোগ সরকারের। সোমবার দুপুরে আগারগাঁও বিএনপি বস্তি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওএমএসের ট্রাকে অলস সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতা। বস্তির বাসিন্দা, রিকশা চালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ ট্রাকের কাছে এসে চাল দেখে আবার চলে যাচ্ছেন।

‘ট্রাক সেলের’ কর্মী সাদ্দাম সাজী বলেন, এবার গুদাম থেকে আতপ চাল দেওয়ায় লোকজন কিনতে চাচ্ছে না। তারা বলছে, এই চাল ভাত খাওয়ার জন্য নয়, পিঠা তৈরির জন্য। দুপুর ২টা পর্যন্ত বিএনপি বস্তি এলাকায় ২০ বস্তা চালের মধ্যে বিক্রি হয়েছিল মাত্র তিন বস্তা। অথচ আটা বিক্রি হয় ৫ বস্তা। আটা কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখে ‘চাল কিনলে আটা দেওয়া হবে’ এমন শর্ত দিতে দেখা যায় সাদ্দামকে। প্রায় একই পরিস্থিতি দেখা যায় শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে ও ফার্মগেইট গ্রিন সুপার মার্কেটর সামনে বসা ওএমএসের ট্রাক সেলে। সকাল থেকে ট্রাক নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতাদের তেমন সাড়া ছিল না। শ্যামলীতে একজন ক্রেতা বলেন, সরকার কেন যে আতপ চাল দিতে গেল, তা বোধগম্য নয়। ঢাকায় কোথাও আতপ চাল সিদ্ধ করে ভাত খেতে শুনিনি। আগে সিদ্ধ চাল যেখানে ১৫ টাকা দিয়েছে সেখানে হঠাৎ করে দেওয়া হলে আতপ চাল, দামও করা হল দ্বিগুণ। এনিয়ে ক্রেতাদের আসলে তেমন উপকার হবে না। বেচা-বিক্রিই তার প্রমাণ। নিজের নাম পরিচয় জানাতে চাননি ৫ কেজি আটা কিনতে আসা এই ক্রেতা।

সংগ্রহে কেবল আতপ: ঢাকা জেলার এরিয়া রেশনিং কর্মকর্তা তৌফিক ই এলাহী বলেন, মজুদ পরিস্থিতিতে আতপ চালই বেশি। মিল মালিকদের কাছ থেকে যেই দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা গেছে, তা চলে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ অন্যান্য সরকারি রেশনিংয়ে। তারা আতপ চাল নিতে চাচ্ছে না। তাই খোলা বাজারে আতপ চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। এই আতপ চাল রান্না করলে সিদ্ধ চালের মতোই হবে বলে জানান তৌফিক। আমি নিজে এই চাল রান্না করেছি। দেশের ট্রাডিশনাল আতপ চালের মতো এগুলো নয়। এটা সিদ্ধ চালের কাছাকাছি মানের। কেউ একবার কিনে নিলে তার ‘ভুল’ ভেঙে যাবে বলে মনে করেন খাদ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা। তার ধারণা, মানুষ কিছু দিনের মধ্যে এই চালে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

খুলনায় আতপ চালে ক্রেতাদের অনীহা
খুলনায় ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার পর থেকে নির্ধারিত ২০টি পয়েন্টে চাল বিক্রি শুরু হয়। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ পাঁচকেজি করে চাল নিতে পারছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সিদ্ধ চালে অভ্যস্ত নগরবাসী ওএমএসের আতপ চালে অনীহা প্রকাশ করছেন। ওএমএস চাল নিয়ে প্রথমদিনে নগরবাসীর মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বরং তাদের মধ্যে আতপ চাল বিক্রি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে শোনা গেছে। প্রচন্ড রোদের মধ্যে মানুষ দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে চাল কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সামনের দু’একজন চাল নেওয়ার পরই ভিড় কমতে শুরু করে। যারা চাল না কিনে চলে যাচ্ছেন তারা জানিয়ে দেন, আতপ চাল কিনবেন না। নতুন বাজার রূপসা বেড়িবাঁধে চাল কিনতে আসা আব্দুল্লাহ নামের এক ক্রেতা বলেন, আমাদের আতপ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস নেই। তাই এ চাল কিনে কি করবো।

একটি মাছ কোম্পানির কর্মচারী আব্দুস সালাম বলেন, বেশির ভাগ এলাকার মানুষ এ চালের ভাত খায় না। কিন্তু এখানে সিদ্ধ চাল না থাকায় বাধ্য হয়ে আতপই নিতে হচ্ছে। সচেতন নগরবাসী অনেকে বলছেন, ওএমএসে আতপ চাল বিক্রি করে সরকার চালের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে না। ক্ষোভ আর আক্ষেপ নিয়ে অনেকে বলছেন, আতপ চালে ভালো পিঠা হয়। আতপ চাল কিনে  উপকার হবে রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রয়কারীদের। তবে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলছেন, চমৎকার সাড়া পাওয়া গেছে। আতপ চালটি মিনিকেট, বাসমতি চালের মতো। চালের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। উন্নতমানের চিকন চাল। হয়তো শতকরা দু’একজন ফিরে যাচ্ছে। তবে খুলনা, বাগেরহাট সাতক্ষীরা, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাটি এসব জেলার মানুষের আতপ চাল খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এদিকে চাল বিক্রিতে অনিয়ম রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি টিম মনিটরিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। জেলা খাদ্য অফিস জানিয়েছে, চাল বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর বাজারে চালের অতিরিক্ত দামে হতাশ সব শ্রেণীর মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার: এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চালের বাজারের সংকট চলছে। বর্তমানে চালের অতিরিক্ত মূল্যে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছেন সব শ্রেণীর ক্রেতা-বিক্রেতা। চালের দাম নিম্ন মধ্যবিত্ত ও খেঁটে খাওয়া মানুষদের ক্রয় সীমার বাহিরে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। বর্তমানে নিম্নমানের চালের মূল্যও প্রতিকেজি ৫০ ছাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আবার নতুন করে যোগ হয়েছে সহসায় চালের মূল্য না কমার বিষয়টি।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট শুক্রাবাদ এলাকার চালের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী প্রতিকেজি মোটা চাল (গুটি, স্বর্ণা, বিআর-২৮,পারিজা) বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা, যা কোরবানির ঈদের আগে ছিলো ৪৫-৪৬ টাকা। ১ নম্বর মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা, যা ঈদের আগে ছিলো ৫৪-৫৫ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, যা ঈদের আগে ছিলো ৫৮-৬০ টাকা। এ বিষয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এতো দিন ধরে চলা চালের বাজারের সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো কার্যকর ও সঠিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

 এ সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিলো জনগণের কাছে কম মূল্যের চাল পৌছে দেওয়া। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কম মূল্য দূরের কথা স্বাভাবিক মূল্যেই চাল পাওয়া যাচ্ছে না। কারওয়ান বাজারের চাল কিনতে আসা কামরুল হাসান বলেন, আমরা জানি দেশে বন্যা হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দিচ্ছে সরকার। তবে এমন অবস্থাও হয়নি যে চালের মূল্য কেজিপ্রতি ৭০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকার আসলে অবৈধ মজুত চাল উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বাজারের এ অবস্থা। মো. জাকির হোসেন রাজধানীতে রিকশা চালিয়ে জীবন-যাপন করেন। শুক্রাবাদ বাজারে চাল কিনতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ, সারা দিনের আয়ে সংসার চালানোই আমাদের জন্য কষ্ট হয়।

 তার উপরে আবার চালের বৃদ্ধি, আমরা বাঁচবো কী করে? চালের এ মূল্য বৃদ্ধি আমাদের জন্য এখন গলারকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সহসায়ই কমছে না চালের দাম। কারওয়ান বাজারে চালের খুচরা বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, চালের বাজার শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না। ক্রেতারা যেমন সংকটে আছেন আমরাদেরও একই অবস্থা। শুক্রাবাদ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মো. লিটন বলেন, দানব মুজদাররা এ সুযোগে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। মাঝখানে আমরা ও ক্রেতারা ফেঁসে যাচ্ছি। এ অবস্থা বেশি দিন চলতে থাকলে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।

চট্টগ্রামেও বাড়ছে চালের দাম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: শুধু চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার দুই দফায় কমিয়েছে আমদানি শুল্ককর। কিন্তু কাজের কাজ কী হলো? বরং গত দুইদিনে চালের মানভেদে বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা দাম বেড়েছে। ফলে শুল্ক কমের সুফল মিলছে না ভোক্তা পর্যায়ে। প্রতিদিনই হু হু করে বেড়ে চলেছে চালের দাম। দুদিন আগেও ৪৬ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ভারতীয় আতপ চাল বিক্রি হয়েছে ২০৮০ থেকে ২১০০ টাকায়। কিন্তু শুক্রবার এই চাল ২২৫০ থেকে ২৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। স্বর্ণা চাল কয়েকদিন আগে বিক্রি হয়েছে ২৪০০ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ টাকায়।

পাইকারি বাজারে মিনিকেট (আতপ) বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২৪০০ টাকায়। আগে ছিল ২৫০০ থেকে ২৬৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বর্তমানে চিনিগুঁড়া বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ টাকায়, আটাশ বিশি ২২০০ টাকা, দেশি পাইজাম (আতপ) ২১০০ টাকা ও নূর জাহান ২৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের বৃহত্তম চালের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। ব্যবসায়ীরা জানান, আগে চালের বুকিং দর টনপ্রতি ৩৯৫ থেকে ৪০০ ডলার ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে ৪০০ থেকে ৪৪০ ডলার হয়েছে। বুকিং দর বাড়ার বিষয়টি চালের দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া যে হারে চালের চাহিদা বেড়েছে সে হারে সরবরাহ বাড়েনি। রয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেটও। তাই দাম বাড়ছে বলে মত ব্যবসায়ীদের।

 

সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম বেড়েছে ২০ টাকা

গত সপ্তাহ অর্থাৎ ঈদের পরের সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর নিউমার্কেট, জিগাতলা, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে সবজির দামের এ চিত্র পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে তুলনায় প্রতি কেজি বেগুন ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা, শসা ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ১০ টাকা কমে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

করলা কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, শিম ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কচুর লতি ১০ টাকা ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতিটি ৫০ টাকা, গাজর ৬০, কাঁকরোল ৫০ টাকা, পুঁইশাক প্রতি আটি ২০ টাকা, লালশাক ১০ টাকা ও লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। এ ছাড়া ধনেপাতা আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা। আলু ২৫ টাকা কেজি।

এ ছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ২৫ টাকা কমে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, দেশি মুরগি ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পিস। লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা ও পাকিস্তানি লাল মুরগি আকার ভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাল নিয়ে চালবাজি হচ্ছে : খাদ্যমন্ত্রী

বন্যা ও রোগবালাইয়ের কারণে ফসলহানির পরেও এক কোটি ৯২ লাখ টন ধান ঘরে উঠেছিল জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের ভেতর এত চাল থাকলেও এনিয়ে চালবাজি ও রাজনীতি হচ্ছে। চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চাল নিয়ে রাজনীতি চলছে, চাল নিয়ে সমস্ত দেশকে একটা বিভ্রাটের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাল নিয়ে চালবাজি হচ্ছে, চাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা চাল নিয়ে এই চালবাজি করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা চালবাজি ও ষড়যন্ত্রের মধ্যে আছি। কারণ বাংলাদেশেই এক কোটি টন চাল আছে, তারপরেও এই অবস্থা। আমি মজুতদার, আড়ৎদার, মিল মালিকসহ সবার প্রতি আমি আহ্বান জানাব- এখনই ভালো হয়ে যান, সময় আছে। এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যান। আপনারা যেভাবে (চালের) দাম বাড়াচ্ছেন, যেভাবে সিন্ডিকেট করে দেশে চালবাজি শুরু করেছেন, চাল নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন, একটা বিভ্রাট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন তা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। এখনই শেষ সুযোগ আপনাদের ভালো হয়ে যান। হাওরে আগাম বন্যায় ফসলহানির পর দুই দফা বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফসল নষ্ট হয়েছে। বেশ কয়েক মাস আগে বেড়ে যাওয়া চালের দাম গত কয়েক দিনে আরও বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকির অভাবে চালের দাম বাড়ছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিগত কয়েক মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কোনো তৎপরতাও চোখে পড়েনি।

এবার এক কোটি ৯১ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল বলেন, বন্যা ও রোগবালাইয়ে দেশে ২০ লাখ টন ফসল নষ্ট হয়েছে। এরপর থেকে চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা চাল নিয়ে চালবাজি করছেন। এবার এক কোটি ৭০ লাখ টন বোরো ধান পাওয়ার কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এসব ধান আমাদের ঘরেই আছে, আরও ২২ লাখ টন আউশ ধান পেয়েছি। ফসলহানির পরেও ১ কোটি ৯২ লাখ টন ধান আমাদের ঘরে এসেছে। কাজেই সব ধান তো চলে যায়নি, চাল তো আছে। দেশে দিনে ৮৫ হাজার টন চাল লাগে জানিয়ে কামরুল বলেন, গত চার মাসে আমরা ১ কোটি ২ লাখ টন চাল খেয়েছি। আরও এক কোটি টন চাল দেশে আছে। হয় মিল মালিক, আড়ৎদার, না হয় ছোট-বড় ব্যবসায়ী- কারো না কারো বাড়িতে এসব চাল আছে। এরপরেও চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়ার পর বেসরকারিভাবে ভারত থেকে ছয় লাখ টন চাল এসেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চাল নিয়ে চালবাজি ও রাজনীতি হচ্ছে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে, সংকট সৃষ্টি ও সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভোক্তাদের সঙ্গে কৃষকদের কথাও চিন্তা করতে হবে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, চালের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়ে যাবে, এটা হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। বেসরকারিভাবে ১৭ লাখ টন চাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ৩৪ টাকা দরে সাড়ে ১২ লাখ টন বোরো চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও মাত্র আড়াই লাখ টন সংগ্রহ হওয়ায় চাল আমদানি করতে হচ্ছে। ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানি হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী কামরুল বলেন, ইতোমধ্যে ভিয়েতনামের এক লাখ ৫৪ হাজার টন চাল গোডাউনে ঢুকেছে। বাকি চাল খালাসের অপেক্ষায় সমুদ্রে আছে। কম্বোডিয়া থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানিতে চুক্তি হয়েছে। এলসি হয়েছে, তিন মাসের মধ্যে এসব চাল দেশে আসবে। মিয়ানমানের একটি প্রতিনিধি দল রোববার বাংলাদেশে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি তাদের সঙ্গে দুই লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি হবে। ভারত বাংলাদেশে চাল রপ্তানি তিন মাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ছড়িয়ে পড়া খবরের সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। সরকারি বিতরণ ব্যবস্থায় চালের কোনো সঙ্কট নেই দাবি করে কামরুল বলেন, আমদানির চাল এক ছটাকও বাইরে (বাজারে) যাচ্ছে না।

আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমার কাছে চালের যে মজুদ আছে তাতে (সরকারি বিতরণ ব্যবস্থায়) কোনো সমস্যা হবে না। গোডাউনে চাল থাকা না থাকার সঙ্গে মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই। আগামী রোববার থেকে সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি) চালু হবে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কতদিন পর্যন্ত চলবে তা বলতে পারছি না, যতদিন পর্যন্ত প্রয়োজন তত দিন বহাল থাকবে। আগের মতই ওএমএসে ১৫ টাকা কেজিতে চাল এবং ১৭ টাকা কেজিতে আটা বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মিল মালিক ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা এবং চাল আমদানিকারকদের ডেকেছেন জানিয়ে কামরুল বলেন, এই সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, র‌্যাব রশিদের মিলে হানা দিয়ে ৫০ হাজার টন চাল জব্দ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আছে। আমি আপনাদেরও সাহায্য চাই।

চালের দাম বৃদ্ধিতে কঠোর হুশিয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রীর

চালের দাম বাড়ার জন্য মিল মালিকদের দায়ী করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, চাল মজুতের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সরকারি অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের গোডাউনে চাল মজুতের প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে। বুধবার সচিবালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের দেশে চালের যে মিল আছে তারা একটা কারসাজি করছে। গুদামে মাকড়শা ধরেছে তাদের মজুদের জন্য।

হাওরে আগাম বন্যার ফসলহানির পর দুই দফা বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফসল নষ্ট হয়েছে। বেশ কয়েক মাস আগে বেড়ে যাওয়া চালের দাম গত কয়েক দিনে আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে চালের আমদানি শুল্ক ২৬ শতাংশ কমিয়ে দুই শতাংশে নামানো হয়েছে। সরকারিভাবেও গত আড়াই মাসে রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে; তারপরও চালের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। আমদানির পরও চালের দাম বাড়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকির অভাবকে দায়ী করে আসছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে গত কয়েক মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কোনো তৎপরতাও চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গোডাউনে যাচ্ছে। যাদের কাছে এ রকম মজুদ পাওয়া যাবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হবে। এদিকে ভারত আগামী আড়াই মাস বাংলাদেশে চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে বলে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে- সে বিষয়ে জানতে চাইলে তোফায়েল বলেন, এ ধরনের কিছু হলে আমরা সাথে সাথে আলোচনা করব। আমি মনে করি, চাল আমদানিতে কোনো সমস্যা হবে না।

চলতি অর্থবছরের ২ মাসে রফতানি আয় বেড়েছে

করতোয়া ডেস্ক: দেশে রফতানি আয়ের পালে হাওয়া লেগেছে। চলতি অর্থ বছরের (২০১৭-১৮ ) প্রথম দু’মাসেই (জুলাই-আগস্ট) রফতানি আয় বেড়েছে। এ সময় ৬১৪ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় দাঁড়িয়েছে ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয় ছিল ৫৮২ কোটি ২৯ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় বেড়েছে ৪৮.৮৬ কোটি ডলার।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। যা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিগত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) মোট রফতানি আয় হয়েছিল তিন হাজার ৪৬৫ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, দেশের মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। চলতি অর্থবছরে প্রথম দু’মাসে (জুলাই-আগস্ট) এ খাতে আয় হয়েছে ৫৫২ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে আয় ছিল ৪৮৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে পোশাক খাতে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। গত দুই মাসে তৈরি পোশাক খাতে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯৩ কোটি ৮২ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এ সময়ে ২৬৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের ওভেন পোশাক এবং ২৮৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের নিট পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় নিট পোশাকে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি নিট ও ওভেন পোশাক রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৪ ও ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে সক্ষমতা হারিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স পরিদর্শনের পর কিছু কারখানা আংশিক, সাময়িক ও পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ ও বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে অনেকের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কঠিন সঙ্কটের মুখে আছে পোশাক শিল্প। এরপরও পোশাক রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু আমরা দুশ্চিন্তায় আছি সামনের দিনগুলো নিয়ে। বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, পোশাক তৈরির উপকরণ বোঝাই জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাসের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পণ্য খালাস করতে না পারায় কন্টেইনার ভাড়া বাবদ বন্দর ও জাহাজ কোম্পানিকে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, টানা আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে বন্দরে জাহাজজট চলমান থাকার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে জাহাজীকরণ জটিলতা। রফতানি কন্টেইনার না নিয়েই জাহাজ বন্দর ছেড়ে যাচ্ছে। যা এর আগে কখনই ঘটেনি। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদেশি ক্রেতারাও সময় মতো পোশাক পাবে না।

ইপিবির তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মাছ রফতানিতেও যথেষ্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে মাত্র আট কোটি ৭০ লাখ ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ১২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। যা চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এ খাতে আয় ছিল ৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। সেই হিসাবে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৩৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এছাড়া গত দুই মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে নয় দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ২৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নয় দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। এ সময়ে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। যদিও তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। গত দুই মাসে এ খাতে মোট আয় হয়েছে এক কোটি ৬৭ লাখ ডলার। এছাড়া গত জুলাই-আগস্ট মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি আয়েও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে গত অর্থ বছরের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ সময়ে মোট ১৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।

 

 

৩৪৬৩ কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের

করতোয়া ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, রূপালীসহ ছয় ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৪৬৩ কর্মকর্তা নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোনালী ব্যাংকে ৩৬৩ জন, জনতা ব্যাংকে ১৯০ জন, রূপালী ব্যাংকে ৬৯৯ জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ১৮ জন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ১ হাজার ৭২২ জন, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ৪৫৫ জন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে (আইসিবি) ১৬ জনসহ মোট ৩ হাজার ৪৬৩ জন কর্মকর্তা (সাধারণ) নিয়োগ করা হবে। তবে পদের সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে।
আগ্রহী প্রার্থীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। চাকরি প্রার্থীদের বয়স ১ আগস্ট ২০১৭ তারিখে সর্বোচ্চ ৩০ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে।

 

এখনও জমেনি রাজধানীর গাবতলী পশুর হাট

কোরবানির ঈদের আর মাত্র ৬ দিন বাকি। কিন্তু এখনো জমে ওঠেনি রাজধানীর সবচেয়ে বড় গাবতলী পশুর হাট। এরইমধ্যে হাটে আনা পশুকে সেবা-যত আর গল্প করেই সময় কাটাচ্ছেন বেপারিরা। শনিবার গাবতলীর পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বেপারিরা তাদের পশুগুলো নিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন। তবে হাটের বর্ধিতাংশের তাঁবু টানানো ও গেটের সাজসজ্জার কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ও র্যা ব সদস্য মোতায়েনসহ ওয়াচ টাওয়ারও স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু কোরবানির ঈদ কাছাকাছি হলেও হাটে গরু কেনা-বেচায় উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়নি। মাঝে মাঝে দু’একটি গরুভর্তি ট্রাক আসছে। ক্রেতা কম থাকলেও দেশের পশ্চিমাঞ্চলের খামারিরা তাদের গরু-ছাগল নিয়ে এরইমধ্যে হাটে এসেছেন। তবে দেশের উত্তরবঙ্গে বন্যা ও রাস্তা খারাপ থাকায় অনেক বেপারি এখনো আসতে পারেননি।

মেহেরপুরের গাংনী থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী সাকেরুজ্জামান বলেন, তিনটি গরু এনেছি। সবগুলো আমার গোয়ালেরই। এক একটি গরু দুই লাখ টাকায় বিক্রি করবো। তবে দু’দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ক্রেতা দাম বলেননি। গরুগুলো আনতে ২০ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া খরচ হয়েছে। প্রতিদিনের আরও খরচতো রয়েছে। সবমিলি কপালে যে কি আছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। কুষ্টিয়া থেকে আসা আরিফ হোসেন নামের এক বেপারি জানান, শুক্রবার দু’টি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। একটি গরুও বিক্রি হয় নি। প্রতিবার এ সময় চাপ থাকলেও এবছর এখনও খালি। সুরুজ আলী নামের অপর এক ব্যবসায়ী ৬টি ছাগল নিয়ে পাবনা থেকে কোরবানির হাটে এসেছেন।

প্রতিটি ছাগল তিনি সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে চাইছেন। গাবতলীর হাটে আনা মহিষ ও ভেড়ার ক্রেতাও নেই বললেই চলে। বেপারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাড়িভাড়া বাদে পথে কোথাও চাঁদা দিতে হয়নি। তবে রাস্তার অবস্থা খারাপ। যে কারণে আসতে সময় বেশি লাগছে, ভাড়াও বেশি পড়ছে। এছাড়া রাজধানীতে এবার কোরবানির পশুতে যেনো পরিবেশ দূষণ না হয় সেজন্য সিটি করপোরেশনের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের কারণে নগরবাসী দেরিতে কোরবানির পশু কিনছেন বলেও জানা গেছে।

মিরপুরে বাসিন্দা ব্যবসায়ী ফয়সাল রহমান বলেন, আমার বাসার নিচে গরু রাখার জায়গা আছে। এবার সিটি করপোরেশন অন্যবারের চেয়ে বেশি কড়াকড়ি দেখাচ্ছে। তাই দেরিতে কোরবানির পশু কেনা হবে। ইজারাদাররা জানান, ঢাকার পশুর হাটগুলো জমজমাট হয় ঈদের এক সপ্তাহ আগ থেকে। কিন্তু এবার সারাদেশে বন্যা ও রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় এখনও বেপারির গরু হাটে আনতে পারেন নি। তাছাড়া এবার রাজধানীর পরিবেশ দূষণ কমাতে সিটি করপোরেশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই ঢাকাবাসী আরও পরে পশু কিনবেন।

 

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর মসলার বাজার গরম

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হতে শুরু করছে রাজধানীর গরম মসলার বাজার। এরইমধ্যে জিরা, লং ও এলাচের দাম বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার ১০ থেকে ২০ ভাগ। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ আমদানিকারকরা, আমদানি নির্ভর এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় আদা-রশুন ও পেয়াজের দাম কেজিতে ৫টাকা কমেছে। কোরবানির ঈদ, মানেই গরম মসলার গরম অবস্থা। সারা বছরের চাহিদার প্রায় অর্ধেকই, এ সময়ে। সুযোগ বুঝে, গরম মসলায় নিজেদের পকেট গরম করতে, ব্যবসায়ীরাও একটুও কার্পন্য করেননা।

 এক মাসের ব্যবধানে পেয়াজের দাম বেড়েছিল প্রায় দ্বিগুন। রাজধানীর বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম এখন ৫৫ টাকা আর আমদানীকৃত পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকা। কোরবানির ঈদের আগে এই দাম আর কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানালেন পাইকাররা। এ ছাড়া রসুন, আদার পাশাপাশি অনেক মসলার দামও বাড়তির দিকে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী হোসেন আহমেদ বলেন, এক মাস ধরে পেঁয়াজের দাম শুধু বেড়েই যাচ্ছে। এ ব্যবসায়ী আরো জানান, রাজধানীর বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম গত এক মাসে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।

 অন্যদিকে আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের দাম হয়েছে দ্বিগুণ। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। দেশের বন্যা পরিস্থিতি এবং ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় কোরবানির ঈদের আগে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন পাইকাররা। অন্যদিকে কিছুটা দাম বেড়ে আমদানীকৃত রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এ ছাড়া এখন আদার দামও বাড়তির দিকে।এ ছাড়া কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দারুচিনি, এলাচ ও জিরার দামও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানালেন পাইকাররা।

 

 

প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০, খাসি ২০ টাকা নির্ধারণ

ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে; পশু ও আকারভেদে এবার দাম ঠিক হয়েছে গতবারের মতই। ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়; ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৪০ থেকে ৪৫  টাকা। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকায় সংগ্রহ করা হবে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই দাম ঘোষণা করেন।

এই দাম লবণযুক্ত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য হবে, নাকি লবণ দেওয়ার আগে- সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের টানাপড়েনের মধ্যে মন্ত্রী বিষয়টি প্রচলিত নিয়ম-পদ্ধতি ও বাজারের উপরে ছেড়ে দেন। গত বছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ টাকায় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা এবার চামড়ার দাম গতবারের মতো রেখেছি। চামড়া শিল্প সাভারে স্থানান্তরের পর এমনিতে মালিকরা চাপে রয়েছেন। এ কারণের ভারতে বা অন্য দেশে দাম একটু বেশি হলেও আমরা গতবারের মতো রেখেছি।

ঢাকা জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল আলম অনুষ্ঠানে বলেন, ঢাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চামড়া স্থানান্তরে বিধি-নিষেধ রয়েছে। এর ফলে চামড়া সংরক্ষণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ধানমণ্ডি এলাকার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, এখানে কোথায় চামড়া সংরক্ষণ করা যাবে? স্থানীয় অধিবাসীরা এটা করতে দেয় না। বেরাইদ, সাভারের মত উপশহরে এটা সংরক্ষণ করা হয়। তাই জেলার ভেতরে যেন চামড়া স্থানান্তর করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি ভারতে চামড়া পাচার ঠেকাতে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন ব্রিজ ও ফেরিঘাটে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিলে মন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ প্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই সঙ্গে সীমান্তে অন্তত এক মাস বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিজিবি ও পুলিশের প্রতিনিধি পৃথকভাবে মন্ত্রীকে জানান, তারা এ বিষয়ে আলাদা সভা করেছেন। পাচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই তারা নেবেন। শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে বলেন, হাজারীবাগে ১৫৫টি ট্যানারি ছিল। সেগুলোর মধ্যে ৬৭টি সাভারে চালু হয়ে গেছে। এ মাসের মধ্যে ১০০ ট্যানারি চামড়া শিল্প নগরীতে চালু হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন। সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয় না বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে সচিব বলেন, আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন দুটি সিইটিপি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়। বাকি দুটো পরবর্তীতে চালু হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে চামড়া শিল্প নগরীতে পানি সংযোগের ব্যবস্থা হয়েছে। আর গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে যে নীতি নেওয়া হয়েছে, তাতে আবেদন করলে তারপর সংযোগ দেওয়া হবে। সেজন্য কিছু অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

তাতে কিছুটা সময় লাগবে। শিল্প সচিব বলেন, সাভারে যেসব আধুনিক কারিগরি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে, তাতে একটি আধুনিক চামড়া শিল্প নগরীতে পরিণত হবে। এখানকার কঠিন বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। পাঁচ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমরা ঢাকার ডিসির সঙ্গে কথা বলেছি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেরও সহযোগিতা চেয়েছি। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, জমির দলিল না পেলে তারা ব্যাংক ঋণ নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, আগে যে দামটা (জমির) ছিল আমরা সেটাই দিতে চাই। এখন সিইটিপির দামসহ আমাদের কাছে চাওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর চিঠি আমাদের কাছে আছে; যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সিইটিপির দাম সরকার পরিশোধ করবে। এ সময় শিল্প সচিব বলেন, এর সুরাহা করতে হলে একনেকের অনুমতি লাগবে। শিল্পমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন- এমন আশা প্রকাশ করে এ বিষয়ে নিজেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তোফায়েল।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল। আর এবার দেশের খামারগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। এই হিসেবে এবার ভারত থেকে গরু না এলেও সমস্যা হবে না বলে সরকার মনে করছে। 

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীর বাজারে আলু ছাড়া সব সবজির দাম চড়া

স্টাফ রিপোর্টার: বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারেও। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক বলে জানান ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার কারওয়ানবাজার ও মিরপুরসহ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে গেলে সবজির দাম বৃদ্ধির জন্য সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতিকে দায়ী করেন ব্যবসায়ীরা।

তবে সবজির ‘আগুন দাম’ উল্লেখ করে বন্যা পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের দাম বৃদ্ধির অজুহাত বলে অভিযোগ তোলেন ক্রেতারা। আলু ছাড়া প্রতিটি সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। খুচরা বাজারে এসে সেই সবজি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে।

খুচরা বাজারে করলা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা ও শসা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিচ লাউ ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০-৮০ টাকা এবং হালিপ্রতি কাঁচকলা ৫০ টাকা বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

পাকা টমেটো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার একবারেই বাইরে চলে গেছে, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়। শুধুমাত্র বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২৫ টাকা করে। শাকের দামেও ঊর্ধ্বগতি। প্রতি আঁটি লাউ শাক ২৫-৩০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা ও কঁচু শাক ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা মনসুর  বলেন, ‘সারা দেশে বন্যা হচ্ছে, পানিতে ডুবে আছে সবজির ক্ষেত।

 ঢাকায় সবজির গাড়ি আসতে পারছে না। এ অবস্থায়  দাম তো বাড়বেই’। সবজির দাম অস্বাভাবিক বেশি বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা মাসুদ রহমান। তিনি বলেন, ‘একবারে লাগামছাড়া দাম দেখছি সবজির। বন্যার কারণে এতো বাড়বে- এটি মেনে নেওয়া যায় না। নিম্ন আয়ের মানুষ দামের সঙ্গে পেরে উঠবেন না’। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

সাইজ ভেদে প্রতি কেজি রুই ১৭০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ টাকা, চিংড়ি বড় সাইজ ৬০০ টাকা, বড় কাতলা ২৫০ টাকা কেজি, পাবদা ৫০০ টাকা ও দেশি টেংরা মাছ ৩০০ টাকা এবং প্রতিটি ইলিশ ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারে মাছ কিনতে আসা মো. মানিক বলেন, ‘বাজারে প্রচুর মাছ দেখতে পাচ্ছি। দেশি মাছও অনেক এসেছে। দাম স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, নাগালের মধ্যেই আছে’।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চেয়ে উকিল নোটিস আইনজীবীর

এক মাসের মধ্যে তিন দফায় অস্বাভাবিক হারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চেয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন ও টিসিবির চেয়ারম্যানকে তিন দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘কনশাস কনজ্যুমার সোসাইটি’র পক্ষে বৃহস্পতিবার নোটিসটি পাঠিয়েছেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে তিন দফায় দুইশ শতাংশেরও বেশি দাম বেড়েছে। নিঃসন্দেহে এটি অস্বাভাবিক। বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলেও সরকারের কাছ থেকে দাম বৃদ্ধির কারণ জানা যায়নি।  এছাড়া পণ্যের দাম তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে উদাসীন।’ তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা না পেলে বা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান আইনজীবী শিহাব। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা টিসিবি ১৩ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় দাম বাড়িয়ে পেঁয়াজের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে  নোটিসে।

এতে দেখা যায়, গত ১৩ জুলাই টিসিবি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে ২৮-৩২ টাকা আর আমদানিকৃত প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ধরা হয় ২২ থেকে ২৫ টাকা। এর ২০ দিন পর অর্থাৎ ৮ আগস্ট প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে টিসিবি। অর্থাৎ, এই সময়ে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম বাড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা। এরপর মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট টিসিবি আবারও পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে। এবারও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়।

দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হয় ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। আর আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে নোটিসে। সে অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। তাছাড়া সর্বশেষ জুলাই মাসে আমদানি করা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার টন পেঁয়াজ, যা আগের মাসের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি।

এই বিভাগের আরো খবর

বন্যার সংকট মোকাবেলায় সরকার সক্ষম: অর্থমন্ত্রী

আকম্মিক বন্যা দেশের মানুষের সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বন্যার সংকট মোকাবেলায় সরকার সক্ষম। সরকার এমন এক অর্থনৈতিক অবস্থায় আছে। বুধবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে প্রাণ গ্রুপ ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে ঋণচুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বেড়ে গেছে। দেশ এখন অভাবে না থাকায় চাল আমদানিতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে পারছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

দেশি গরু-ছাগলেই মিটবে এবার কোরবানির চাহিদা

বর্তমানে দেশে যে সংখ্যক জবাই উপযোগী গরু, মহিষ ও ছাগল আছে, তা দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়, সেখানে এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। কোরবানির জন্য ‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশি’ গরু থাকায় এবার ভারত থেকে গরু আনা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আইনুল হক বলেন, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বনির্ভর। এসব প্রাণির উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এখন যে পরিমাণ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আছে তা-ই সাফিসিয়েন্ট। অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশজুড়ে সারা বছরে প্রায় দুই কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। এর প্রায় ৫০ ভাগ জবাই হয় কোরবানির ঈদের সময়। সে হিসাবে এক  কোটি ১৫ লাখের মতো গবাদিপশু দরকার হবে কোরবানির সময়, যা এখন দেশের খামারি ও গৃহস্থদের ঘরে রয়েছে। আইনুল হক জানান, বর্তমানে দেশে কোরবানি উপযোগী গবাদি পশুর মধ্যে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার গরু ও মহিষ রয়েছে এবং ছাগল-ভেড়া আছে ৭১ লাখ। সারা দেশের পাঁচ লাখ ২২ হাজার ২৮৯ জন খামারি এবং উপজেলা পর্যায়ে কৃষকের কাছে থাকা গবাদিপশুর তথ্য নিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমরা খামারি লেভেল থেকে হিসাব নিয়েছি। এছাড়া আমাদের প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী আছে, তারাও আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। এভাবেই এই সংখ্যা বের করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় দেশে গবাদিপশু পালন আগের চেয়ে বেড়েছে বলে খামারি ও কৃষকরা জানিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাজহাড গ্রামের খামারি মো. হাজ্জাজ আলী বলেন, গত  দুই বছর ভারত থেকে গরু কম আসায় কৃষকরা কিছুটা লাভবান হওয়ায় সবাই আরও উৎসাহী হয়েছে।

গরু প্রচুর বেড়েছে। শুধু আমাদের এলাকায় কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন খামারি এবার গরু পেলেছে। ভারতীয় গরু ঢুকলে লোকসানে পড়বেন শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, শুনেছি পুটখালী সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গরু ঢুকছে। গরু ঢোকা বন্ধ না করলে আমরা মার খাব। কুষ্টিয়া জেলায়ও কোরবানি উপলক্ষে গতবারের চেয়ে এবার বেশি গরু পালন করা হয়েছে বলে জানান সদর উপজেলার বাঘডাঙা গ্রামের কৃষক শেখ সিরাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় বড় খামারি নাই।

কিন্তু কৃষকরা একটা দুইটা করে গরু পালে। প্রায় সবার ঘরেই একাধিক গরু আছে। এবার আগের চেয়ে বেড়েছে। গত বছর সারা দেশে ৪০ লাখ গরু কোরবানি হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, এবার চাহিদার চেয়ে বেশি গবাদিপশু দেশেই রয়েছে, তাই ভারতীয় গরু আমদানির প্রয়োজন নেই। বর্তমান অবস্থায় ভারত থেকে যারা গরু আনবে তারাও লাভবান হবে না। কারণ চাহিদার চেয়ে গরু অনেক বেশি হয়ে গেলে দাম পড়ে যাবে। খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের মাংসের চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন খামারিদের সংগঠনের এই নেতা। তিনি বলেন, এখন আমরা একটা পরিবর্তনের মধ্যে আছি। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হলে কৃষকের পাশাপাশি বড় বড় বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগ করবে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক উৎপাদন শুরু হলে সরবরাহ বেড়ে মাংসের দামও কমে যাবে। ইমরান জানান, গত বছর নিজের খামারে সাড়ে তিনশ গরু মোটাতাজা করেছেন। এ বছর আছে সাড়ে পাঁচশ গরু।

ভারতের গরু এলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আইনুল হকও। তিনি বলেন, এটা হলে আমাদের খামারিরা একেবারে পথে বসবে। খামারিদের প্রায় ৯০ শতাংশই ঋণ করে গরু মোটাতাজা করছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

এ খাত দাঁড়াতে পারবে না। ভারতীয় গরু আনা ঠেকাতে পদক্ষেপ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ভারতীয় গরু আনা বন্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ বলেন,  তারপরও নানা ফাঁকফোকর দিয়ে কিছু গরু চলে আসে। এদের ঠেকানো কঠিন। তবে তা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। আমরা চাই না, বাইরে থেকে গরু আসুক, আমাদের খামারিরা মার খাক। তিনি শুক্রবার বলেন, ভারতের গরু আসার প্রয়োজন নেই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবের চেয়ে বাস্তবে দেশে জবাই উপযোগী গবাদিপশুর সংখ্যা বেশি। আমরা যে সংখ্যাটি বলছি তা আমাদের হিসাবের ভেতর যা আছে সেটা।

এর বাইরেও অনেক আছে। সব হিসাবের ভেতর আনা যায় না। বাস্তবে গবাদিপশুর সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। ফলে সারা বছরের মাংসের চাহিদাও আমাদের গরু দিয়েই মেটানো সম্ভব, ঘাটতি হওয়ার কথা না। ঘাটতি হলে তখন আমরা দেখব কী করা যায়। প্রতিমন্ত্রী ও খামারিরা একথা বললেও ঢাকা গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন মন্ডল বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় গরু ছাড়া সারা বছরের মাংসের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। মাংস ব্যবসায়ীদের ইন্ডিয়ান গরু দরকার। না হলে তারা টিকে থাকতে পারবে না। আগামী ২-৪ বছর ইন্ডিয়ান গরু ছাড়া আমাদের চলবে না। তবে আমরা যদি আস্তে আস্তে স্বনির্ভর হতে পারি তাহলে হয়ত আগামী ৮-১০ বছর পর ভারত থেকে আর গরু আনতে হবে না।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মিশর থেকে পেঁয়াজ আসছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজের দ্বিগুণ দরবৃদ্ধির মধ্যে সংকট মোকাবেলায় মিশর থেকে আমদানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তোফায়েল বলেন, আমদানিকারকরা মিশর থেকে পেঁয়াজ আনছে। পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বন্দরে আসার ২৪ ঘণ্টা থেকে দুই দিনের খালাসের বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন। খালাস হওয়ার পর বাজারে মাল আসলে কোনো সংকট হবে না। সপ্তাহখানেক আগেও ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৮ টাকায় মিললেও এখন তা গিয়ে ঠেকেছে ৫০ এর কোটায়।

হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বন্যায় আড়তে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া, সামনে কোরবানির ঈদ এবং ভারতের বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন সেটা উপলব্দি করতে হবে। বাংলাদেশে চার লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি আছে। এই চার লাখ টন ইমপোর্ট করে ঘাটতি মেটাই। এই আমদানি হয় ভারত থেকে, ভারতেও বন্যার কারণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। ব্যবসায়ীরা চিনি ও লবণসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগামীতে না বাড়ার আশ্বাস দিলেও পেঁয়াজ নিয়ে তারা কিছু বলেননি।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তোফায়েল বলেন, এটা আসলে তারা দিতে পারবেন না, এটি আমার কাছে বাস্তব সম্মত না। তারা নিজেরাই হিসেব দিয়েছেন ভারত থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসতে এখন ৪৮ থেকে ৫০ টাকা পড়ে। এখন পেঁয়াজ ছাড়া কোনো পণ্যের মজুদ বা সরবরাহে সমস্যা নেই বলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান। বন্যার কারণে দেশে মজুদ পেঁয়াজের প্রায় ৫০ শতাংশ পচে গেছে দাবি করে সভায় পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী মো. মাজেদ বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা খরচ পরে যাচ্ছে। মিশর থেকে পেঁয়াজ আনতে খরচ হয় ৩৬ টাকার মতো। তবে মিশর থেকে এখন পেঁয়াজ আমদানির পর ভারত ২০১৫ সালের মতো পণ্যটির দাম কমিয়ে দিলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। সে সময় ভারত তাদের স্টক ছেড়ে দিয়ে দাম কমিয়ে দিয়েছিল। বৈঠকে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা জানান, পাইকারিতে চিনি ৪৯ টাকা ৮৫ পয়সা দরে কেজি বিক্রি হলেও খুচরাতে তা প্যাকেট ৭০ টাকা এবং খুচরা ৬০ টাকা বিক্রি হয়।

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top