মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
১৬ এপ্রিল, ২০১৬ ১৬:৫৬:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+
ঘুম থেকে ডেকে তুলে পায়ে গুলি!
নওগাঁর বদলগাছীতে আবদুল জলিল মণ্ডল (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিয়ে হাতকড়া পুরিয়ে তার পায়ে গুলি করেছে পুলিশ। কেবল তাই নয়, তিন লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
 
গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে উপজেলার সাগরপুর (গোয়ালপাড়া) গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ী জলিল মণ্ডলসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
 
আটককৃত অন্যরা হলেন জলিল মণ্ডলের ছেলে মিঠুন মণ্ডল (২২) ও তাদের আত্মীয় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা (৪০)। গুলিবিদ্ধ জলিলকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
এ ঘটনায় আবদুল জলিল মণ্ডল, তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
 
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ রাতের অন্ধকারে গ্রামবাসীকে না জানিয়ে অভিযান চালানোর সময় গুলি করায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। গুলির শব্দ শুনে রাতে ডাকাত মনে করে এলাকার সবাই ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।’
 
তবে পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদে ওই বাড়িতে মাদক আছে জানতে পেরে পুলিশ রাতে অভিযান চালানোর সময় জলিলের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জলিল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় থানার চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
 
এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আবদুল জলিল মণ্ডলের নির্মাণাধীন বাড়ির টয়লেটের পাশে একটি স্থানে ডালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রতিবেশীরা এসে ডালিটি সরিয়ে ফেললে সেখানে রক্ত ও তিনটি গুলি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ওই বাড়িটিতে ভিড় করছিলেন।
 
প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, জলিল মাদক ব্যবসা করতেন। তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। গত ১৫ মার্চ রাজশাহী থেকে ফেরার পথে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানা-পুলিশ তাকে আটক করেছিল। তার কাছে কোনো মাদক না পেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার এক মাসের সাজা হয়। এক মাস কারাভোগের পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জলিল তার বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে নিজ বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে বদলগাছী থানা-পুলিশের একটি দল জলিলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে হাতকড়া পরিয়ে পায়ে গুলি করে। এরপর পুলিশ জলিলসহ তিনজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়।
 
প্রতিবেশী আবুল কাশেম, মামুন হোসেন ও হামিদ ইসলাম জানান, জলিল আগে মাদক ব্যবসা করতেন, তবে এখন করেন না।
 
বদলগাছী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম খান জানান, আবদুল জলিল ও তার লোকজনের হামলায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নুর ইসলাম, পুলিশ সদস্য মাহমুদুল হাসান, আতিকুর রহমান ও শাহিনুর আলম আহত হন। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুড়লে আবদুল জলিলের বাঁ পায়ে গুলি লাগে। পরে জলিলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২০ বোতল ফেনসিডিল ও একটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মাদক ব্যবসা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জলিল, তার ছেলে এবং আত্মীয়কে (৪২) আটক করা হয়েছে।
 
ওসি তিন লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক ব্যবসা ও পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। এর আগেও মাদক ব্যবসার অভিযোগে আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে এবং সম্প্রতি মাদক ব্যবসার অভিযোগে তার এক মাসের সাজাও হয়েছিল। 
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

দেশজুড়ে এর অারো খবর