মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • গ্রাম-বাংলার গরুরগাড়ি ঢেঁকি হুক্কা আর তেমন চোখে পড়ে না
১৩ এপ্রিল, ২০১৬ ১২:২৬:২৮
প্রিন্টঅ-অ+
গ্রাম-বাংলার গরুরগাড়ি ঢেঁকি হুক্কা আর তেমন চোখে পড়ে না
মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
বাংলা বর্ষবরণকে ঘিরে প্রতিবছর ঢাকঢোল পিটিয়ে পান্তা খাওয়াসহ চিরায়ত বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী নানান অনুষ্ঠান পালন করা হয়ে থাকে। এতকিছুর পরও গ্রাম-বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রধান প্রধান জিনিষগুলোর ব্যবহার বন্ধ হয়ে সেগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

গ্রাম-বাংলার ওইসব ঐতিহ্যবাহী জিনিষের মধ্যে গরু-মহিষের গাড়ী, কাঠের লাঙ্গল, ঢেঁকি ও হুক্কাসহ গ্রামীণ জীবনযাপনে ব্যবহৃত অন্যান্য অতিপরিচিত গৃহস্থালী সামগ্রীর কোন কোনটি বিলীন হয়ে গেছে, আবার কোনটি বিলীন হওয়ার পথে।

নিকট অতীতেও লক্ষ্য করা গেছে, গরু-মহিষের গাড়ী ছাড়া বিয়ের কনে ও বরযাত্রীদের যাতায়াত কল্পনাই করা যেত না। বিয়েতে গরু-মহিষের গাড়ীর ব্যবহার গ্রাম-বাংলার একটি অন্যতম ঐতিহ্যের বাহকে পরিণত হয়েছিল।

এ ছাড়াও হাটবাজারে নানান পণ্য বহনের জন্য এই গরু-মহিষের গাড়ীই সে সময় একমাত্র ভরসা ছিল গ্রাম-বাংলার মানুষের। সময়ের সাথে দ্রুত চলতে গিয়ে মানুষরা গরু-মহিষের গাড়ীর ব্যবহার বাদ দিয়ে এখন ওই একই কাজে ব্যবহার করছেন রিকসা, ভ্যান, মাইক্রো, কার, বাস, ট্রাকসহ ইঞ্জিনচালিত নানান বাহন।

একইভাবে জমি চাষাবাদের জন্য সে সময় কাঠের লাঙ্গলই ছিল কৃষকদের একমাত্র ভরসা। এখন কৃষকরা কাঠের লাঙ্গলের ওই স্থানটিতে পাওয়ার টিলারসহ যান্ত্রিক লাঙ্গলকে স্থান দিয়েছেন। ওই সময়গুলোতে গ্রাম-গঞ্জের মানুষেরা চাল ছাঁটাইয়ের কাজে ঢেঁকি ব্যবহার করলেও ঢেঁকির সে স্থানে এখন চলে এসেছে সব অত্যাধুনিক রাইসমিল।

আবার কৃষক-শ্রমিক তাদের ধুমপানের চাহিদা মেটাতে সে সময় হুক্কা ব্যবহার করলেও এখন বিড়ি-সিগারেট দিয়েই সে চাহিদা তারা পূরণ করছেন।

এভাবে দ্রুত বয়ে চলা সময়ের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে গ্রাম-বাংলার মানুষজন গৃহস্থালী কাজে ওইসব জিনিষের ব্যবহার বাদ দিয়ে দেয়ায় ঐতিহ্যবাহী গরু-মহিষের গাড়ী, ঢেঁকি ও হুক্কাসহ এসব নানান ঐতিহ্যের কোনটি এখন বিলীন হয়ে গেছে আবার কোনটি বিলীন হওয়ার পথে।
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

দেশজুড়ে এর অারো খবর