বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬
ad
১২ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:১১:১৬
প্রিন্টঅ-অ+
হবিগঞ্জে জমে উঠেছে ভোট
তৃতীয় ধাপে আগামী ২৩ এপ্রিল বানিয়াচং উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। উপজেলার সর্বত্রই এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

এদিকে এ উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন স্বামী-স্ত্রী। ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার নির্বাচন করছেন কৃষকলীগ নেতা কামরুল ইসলাম এবং ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদে লড়ছেন তার স্ত্রী মোছা. ছালমা খাতুন। আটঘাট বেঁধে  তারা নেমেছেন প্রচারণায়। উভয়েই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই ইউনিয়নের গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় ও হাট-বাজারে প্রচার প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। প্রচারণার মাত্রা এত বেড়ে গেছে যেন মনে হচ্ছে কোনো উৎসব। প্রার্থী ও তার লোকজন ভোটারদের মন জয় করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। বুকে বুক মিলিয়ে, হাতে হাত দিয়ে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের সমর্থিত লোকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মসজিদে মসজিদে গিয়েও প্রার্থীরা দোয়া চাচ্ছেন।

ইউনিয়নে অবস্থিত হাট-বাজারে সুতো টানিয়ে পোস্টার ঝোলানোতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দলীয় প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েই নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ঠিক করছেন প্রচারণার কৌশল। বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনছেন। শুনাচ্ছেন উন্নয়নে ফুলঝুরি।

এ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই ৬ স্বতন্ত্র এবং বড় দুই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরাও। দলীয়, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিটি দোকানে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করছেন আর দোয়া ও ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের তৎপরতা ও ব্যস্ততা ততই বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি।

সাধারণ ভোটারদের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজই বেশি গুরুত্ব পাবে। গোষ্ঠী আর গ্রাম একত্রিত থাকলে এবং নিজের যদি ইমেজ থাকে তবে তাকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারবেনা। এখানে যোগ্যতার মাপকাঠিই বেশি বিবেচিত হবে।

কাগাপাশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে দলের ইমেজের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গোষ্ঠী এবং গ্রাম। গ্রাম, গোষ্ঠী এবং অঞ্চল ভিত্তিক নির্বাচন এটি। বিগত দিনেও এখানে এমন হয়েছে। গ্রাম, গোষ্ঠী এবং অঞ্চল একত্রিত হয়ে গেলে আর কোনো দলীয় প্রতীক এখানে কাজে আসবেনা। এছাড়া মানুষের সুখ, দুঃখে পাশে থাকা, নিজের এবং পরিবারের ইমেজও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
 
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

দেশজুড়ে এর অারো খবর