মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬
ad
১১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:৩০:০৯
প্রিন্টঅ-অ+
বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চল দাবদাহে পুড়ছে
ছবি : সংগৃহীত
করতোয়া রিপোর্ট:
বগুড়াসহ গোটা উত্তরাঞ্চল দাবদাহে পুড়ছে। তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহে তপ্ত হয়ে উঠেছে ধরণী। প্রচন্ড গরমে জনজীবনে ত্রাহি অবস্থা।

বগুড়াতে গতকাল রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

জেলার আবহাওয়া অফিস জানায় উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জেলায় মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পাবার জন্য চাহিদা বেড়েছে তরমুজ, বেলসহ রসালো ফলের। রাস্তার ধারে আখের রস ও লেবু পানির কদরও বেড়েছে। গরম থেকে রক্ষা পাবার জন্য শীতল স্থানে থাকা, অতিরিক্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে গরমে জেলার কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

পাবনা প্রতিনিধি : তীব্র তাপদাহে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে পাবনার জনজীবন। রোদের তীব্রতায় হাসফাস করছে মানুষ। এই গরমে কাজ করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর আর শ্রমিকরা।

রোববার পাবনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরাঞ্চলে বইছে তীব্র তাপদাহ। এতে গরমের তীব্রতাও বেড়েছে কয়েকগুণ। উত্তরের জেলা পাবনায় তাপমাত্রা উঠানামা করছেন ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের মধ্যে। এতে দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। খুব প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। দুপুরের দিকে অনেকটা ফাঁকা হয়ে পড়ছে সড়ক। শরীরে ফোসকা পড়ার মতো গরমে হাসফাস করছে শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া দিনমজুর-শ্রমিকরা।

সদর উপজেলার ইসলামগাঁতি গ্রামের কৃষক আব্দুল বাসেত ও রহিম উদ্দিন জানান, খুবই গরম পড়ছে। মনে হয় মাথার উপর সূর্য চলে আসছে। খুব কষ্ট হচ্ছে মাঠে কাজ করতে। এখন গরীব মানুষ, কাজ না করলে খাবো কি। তাই গরমের মধ্যি কাজ করতে হচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম শামীম জানান, এই গরমে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেশি ভর্তি হচ্ছে। তাপদাহের হাত থেকে বাঁচতে বেশি করে পানি পান করতে হবে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরমান আলী জানান, গত ৩ এপ্রিল থেকে পাবনায় তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। রোববার পাবনার ঈশ্বরদীতে এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন অবস্থা চলতে থাকবে এপ্রিলের মধ্যভাগ পর্যন্ত। এ মাসের শেষের দিকে কালবৈশাখীর ঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল রোববারও ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহে মানুষের শরীর পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 চৈত্রের খরতাপে মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলেও অস্থিরতা নেমে এসেছে। গত তিনদিন ধরে প্রায় সমান তাপদাহে পুড়ছে রাজশাহী অঞ্চলের পথঘাট-প্রান্তর। গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহীতে তাপদাহ শুরু হয়েছে।

রোববারও রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করে। এর আগের দিন শনিবারেও একই তাপমাত্রা ছিল। রাজশাহীর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আশরাফুর ইসলাম জানান, গত সপ্তাহ থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন আসে। বুধবার থেকে আবার তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার থেকে মাঝাড়ি তাপপ্রবাহ চলছে।

এদিকে চৈত্রের তাপদাহে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে।
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত

দেশজুড়ে এর অারো খবর